Tag: Assam news

Assam news

  • Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চারদিনের প্রতীক্ষার অবসান। অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর শুক্রবার ভোর থেকে পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল অসমের অন্যতম শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার। এদিন ভোরে দেবীর নিত্যপুজো সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নীলাচল পাহাড়ে শুরু হয় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়।

    অম্বুবাচী মহাযোগের নিবৃত্তি

    গত ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডে অম্বুবাচী মহাযোগের সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী টানা তিন দিন, অর্থাৎ ২৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে সাধারণ দর্শন ও পুজো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। ২৫ জুন রাতে অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান এবং নিত্যপূজা সম্পন্ন করে শুক্রবার সকাল থেকে আবার ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

    নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

    অম্বুবাচী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের ঢল নামে। অসমের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী, তপস্বী, অঘোরী, সন্ন্যাসী ও সাধারণ ভক্ত মা কামাখ্যার আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মন্দিরে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। এই সময় নীলাচল পাহাড় কার্যত এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধু-সন্ন্যাসীদের বিচিত্র বেশভূষা, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তদের ভিড় উৎসবের আবহকে আরও গাঢ় করে তোলে।

    কেন চারদিন বন্ধ থাকে কামাখ্যা মন্দির?

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময় ধরিত্রী বা বসুমতী রজস্বলা হন। সেই বিশ্বাসের কারণেই এই কয়েকদিন কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং দেবীর নিয়মিত পূজাও স্থগিত থাকে। শুধু কামাখ্যা মন্দিরই নয়, অসমের বহু মঠ, মন্দির এবং নামঘরেও এই সময় পূজা-অর্চনা করা হয় না। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। হালচাষ, জমি কোপানো বা মাটি খোঁড়ার মতো কাজ এই কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়। অসমের বহু মানুষ এই সময়কে ‘সাত’ বা ‘আমতি’ হিসেবে পালন করেন। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির দিন বাড়িঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া এবং শুচিতা পালনের পরেই আবার মন্দির ও নামঘরে নিয়মিত পূজা শুরু হয়।

    আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের বিশেষ বিশ্বাস

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচী মহাযোগের সময় মা কামাখ্যার আরাধনা করলে বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই কারণেই প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় কামাখ্যা ধামে এসে উপস্থিত হন। শক্তি উপাসকদের কাছে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

    রাজ্যপালের শুভেচ্ছা

    কামাখ্যা মন্দির পরিদর্শন করে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, “এই শুভ অনুষ্ঠানের উপলক্ষে আমি রাজ্যবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মা কামাখ্যার দর্শনে এসেছেন এবং তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুসংগঠিত ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “পবিত্র অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর আজ পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে গেল মা কামাখ্যা ধামের পবিত্র দ্বার। নীলাচল পাহাড়ে আবার অনুভূত হল আদ্যাশক্তির অপরিসীম মহিমা ও আধ্যাত্মিক শক্তির স্পন্দন। এই শুভক্ষণে মা কামাখ্যার শ্রীচরণে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি। কামাখ্যা ধাম অসমের ঐতিহ্যে নারীশক্তির কেন্দ্রীয় প্রতীক। গত কয়েকদিনে ৮ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এই অনন্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।”

    ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির এক মহামিলন

    অম্বুবাচী মহাযোগ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অসমের সংস্কৃতি, শাক্ত উপাসনা এবং নারীশক্তির প্রতীকী উদযাপন হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে নীলাচল পাহাড় সাক্ষী থাকল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহের। মন্দিরের দ্বার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের প্রার্থনা, আরতি এবং ‘জয় মা কামাখ্যা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কামাখ্যা ধাম।

  • IAF Jet Crashes: অসমে দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, হত ৫ সেনাকর্মী

    IAF Jet Crashes: অসমে দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, হত ৫ সেনাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রুটিন মহড়া চলাকালীন অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার এএন-৩২ পরিবহণ বিমান (IAF Jet Crashes)। শনিবার অসমের (Assam) জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বায়ুসেনার পাঁচ কর্মী। বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন বিমানের কো-পাইলট। চিকিৎসা চলছে তাঁর। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে দমকল ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দুর্ঘটনার পর বায়ুসেনার পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

    দুর্ঘটনায় হত ৫জনের পরিচয় (IAF Jet Crashes)

    দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে বায়ুসেনা। নিহতরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম। বায়ুসেনা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে, দিয়েছে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই একটি কোর্ট অফ ইনকোয়ারি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কী বললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী?

    এএন-৩২ বিমান মূলত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও এই বিমান উদ্ধার অভিযান চালায় এবং রসদ পৌঁছে দেয়। বিমানটি প্রায় সাড়ে ৭ টন পর্যন্ত জিনিসপত্র বহন করতে পারে। ক্ষমতা রাখে একসঙ্গে প্রায় ৫০ জন সেনাকর্মী পরিবহণেরও। জোরহাট বায়ুসেনা ঘাঁটি উত্তর-পূর্ব ভারতের (IAF Jet Crashes) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি। অসম-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অভিযান, রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত কার্যক্রমে এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে (Assam)। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “জোরহাটে বায়ুসেনার একটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি (IAF Jet Crashes)।”

     

LinkedIn
Share