Tag: Assam

Assam

  • Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    Asian Games 2026: এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেও নেপালকে সাহায্য ভারতের, গুয়াহাটিতে অনুশীলন নেপালি বক্সারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল ক্রীড়া সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসের আগে নেপালের বক্সিং দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে ভারত। স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার (SAI) গুয়াহাটি ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্সে (NCOE) দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমানের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিয়েছেন নেপালের বক্সাররা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে শুরু হতে চলেছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। তার আগে নেপাল বক্সিং ফেডারেশনের অনুরোধে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। সাত জন বক্সার এবং দুই জন কোচ নিয়ে নেপালের দলটি গত ১০ আগস্ট থেকে গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। শিবির শেষ করে এখান থেকেই সরাসরি জাপানের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা তাদের।

    নেপালের দলে ৭ বক্সার

    নেপাল দলের সাত বক্সার হলেন রামিশা শ্রেষ্ঠা, অস্মিতা দুওয়াল, কুসুম তামাং, চন্দ্র বাহাদুর থাপা, খগেন্দ্র রোকা মাগার, দান বাহাদুর দারলামি এবং রবিন নেপাল। তাঁরা বিভিন্ন বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সাই-এর কোচ নরেন্দ্র রানা, ত্রিদীপ বোরা এবং প্রণমিকা বোরার তত্ত্বাবধানে চলছে তাঁদের প্রশিক্ষণ। বক্সারদের টেকনিকের উন্নতি, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার জন্য মানসিকভাবে তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং মেঘালয়ের বক্সারদের সঙ্গে নেপালের খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও স্প্যারিংয়ের সুযোগ। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের বক্সিং স্টাইল ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নেপালের বক্সাররা। নেপালের বক্সার রামিশা শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, গুয়াহাটিতে কঠোর অনুশীলন এবং দক্ষ ভারতীয় বক্সারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসের আগে তাঁদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। তাঁর কথায়, “এখানে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত কঠোর হয়েছে। অসাধারণ ও দক্ষ বক্সারদের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি। ফলে এশিয়ান গেমসের জন্য আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও প্রস্তুত।” ভারতীয় খেলোয়াড় ও সাই-এর কর্মীদের আতিথেয়তারও প্রশংসা করেন তিনি।

    ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া সম্পর্ক

    সাই-এর গুয়াহাটির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর ডি কে মিত্তল বলেন, প্রথমবার নেপালের বক্সিং দল গুয়াহাটিতে প্রশিক্ষণ নিতে এসেছে। তাঁর আশা, এই শিবির থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা জাপানে নেপালের বক্সারদের ভাল ফল করতে সাহায্য করবে। তিনি জানান, শিবির চলাকালীন প্রায় পাঁচ দিনের একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছিল, যা ভারত ও নেপাল—দুই দেশের বক্সারদেরই উপকৃত করেছে। সাই (SAI)-এর উপর কোনও আর্থিক বোঝা না রেখেই এই শিবির পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াত, ভিসা, চিকিৎসা বিমা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করছে নেপাল বক্সিং ফেডারেশন। নেপালের বক্সারদের এই প্রশিক্ষণ শিবির শুধু এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতেই সাহায্য করছে না, ভারত ও নেপালের মধ্যে ক্রীড়া এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গুয়াহাটির গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে।

  • UCC: “২০২৯-এর আগে বিজেপি-এনডিএ শাসিত সব রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি”, বললেন শাহ

    UCC: “২০২৯-এর আগে বিজেপি-এনডিএ শাসিত সব রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-শাসিত ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালু করা হবে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। রবিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গত ১২ বছরের বিভিন্ন সাফল্য এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে (UCC) বিজেপির ২৫ বছরের যাত্রার কথাও তুলে ধরেন।

    মুম্বইয়ে ৩০ দিনের ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সূচনা করতে এসেছিলেন শাহ। ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার সরকারের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

    অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC)

    শাহ বলেন, ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হয়েছে। ২০২৯ সালের আগে এনডিএ-শাসিত সব রাজ্যই এই আইন কার্যকর করবে বলে তিনি আশাবাদী। উত্তরাখণ্ড ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন পাস করে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়। গত বছর গুজরাটেও এই আইন পাস হয়। ২০২৬ সালের মে মাসে অসম উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল পাস করে। সর্বশেষ এই তালিকায় যোগ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশও। জুলাই মাসে বিশেষ বৈঠকে রাজ্য মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতভাবে এই বিধি অনুমোদন করে।

    তবে গুজরাট, অসম ও মধ্যপ্রদেশের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড়ে এই বিধির খসড়া তৈরির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    শাহ বলেন, “তিন তালাক প্রথা বিলোপ করা হয়েছে, ফলে মুসলিম মহিলারা সমান অধিকার পেয়েছেন। একাধিক রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করেছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে বিজেপি-এনডিএ শাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে।” উল্লেখ্য, পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন ২০২৯ সালে হওয়ার কথা।

    দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা নিয়েও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মাধ্যমে দেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন (UCC) তিনি। তাঁর বক্তব্য, এক বছরে বেশ কয়েকটি রাজ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

    তিন বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান শাহ।

    জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শাহের বক্তব্য

    জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিলের সময় একটি গুলিও চালাতে হয়নি বা এক ফোঁটা রক্তও ঝরেনি। তাঁর দাবি, কাশ্মীর এখন সম্পূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে একীভূত।

    উত্তর-পূর্ব ভারত ও নকশাল সমস্যা নিয়েও সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন শাহ। তাঁর দাবি, পাঁচ দশকের নকশালবাদের অবসান ঘটানো হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৪টিরও বেশি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শাহ বলেন, “৯ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মসমর্পণ করেছেন এবং আজ আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতকে উন্নয়নের পথে নিয়ে গিয়েছি।”

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুরে’র মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সে’র নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালের ভিত্তিবর্ষ ব্যবহার করা হবে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের শরিক দল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছে।

    তিনি বলেন, “আমরা আমাদের শরিকদের সঙ্গে এবং মণিপুরের রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গেও এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করছি। যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, আমরা আপনাদের তা জানাব।”

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত

    মুম্বইয়ের মতো শহরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শাহ বলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য সরকার যে পদ্ধতি বা উপায় ব্যবহার করছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হবে না। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “আপনারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইছেন, কী কী উপায়ে তাঁদের শনাক্ত করা হবে তা প্রকাশ করে দিতে। তা হলে আমরা তাঁদের ধরব কী করে? তাঁরাও তো বিষয়টি জেনে যাবেন।”

    দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কারের বিষয়ে সরকারের অবস্থানও ফের স্পষ্ট করেন শাহ। তিনি বলেন, “আমি আবারও আমাদের সংকল্পের কথা বলছি—এই দেশের প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে একে একে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

    মাদকবিরোধী অভিযান

    মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সম্প্রতি ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’ শুরু করেছেন এবং এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি রাজ্যে যাবেন। আগের দিনই এক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। কর্মসূচিটি দেশের তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পুরো দিন ধরে একটি বৈঠকও হবে বলে জানান শাহ (Amit Shah)। তাঁর কথায়, “এই অভিযান অবশ্যই তৃণমূল স্তরে পৌঁছবে এবং (UCC) ভারত মাদকের বিরুদ্ধে জয়লাভ করবে।”

     

  • IVF: অসমে ইতিহাস, বিশ্বে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে দেশি ‘লখিমী’র বকনা বাছুরের জন্ম

    IVF: অসমে ইতিহাস, বিশ্বে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে দেশি ‘লখিমী’র বকনা বাছুরের জন্ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে প্রথম আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্ম হল দেশি ‘লখিমী’ জাতের গরুর। এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক সাফল্য এবং রাজ্যের (IVF) পশুপালন সংরক্ষণ, দুগ্ধ উৎপাদন ও জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, এই সাফল্যের মধ্যে ‘সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সৃজনে’র এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে। অসমের স্থানীয় জাত ‘লখিমী’র বিশ্বের প্রথম আইভিএফ বকনা বাছুরের জন্ম হয়েছে (Assam Lakhimi Breed) অসম পশুচিকিৎসা ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (IVF)

    তিনি বলেন, “আজ অসম এক ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে—সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সৃজনের এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে। অসমের স্থানীয় জাত লখিমীর বিশ্বের প্রথম আইভিএফ বকনা বাছুরের জন্ম হয়েছে অসম পশুচিকিৎসা ও মৎস্য বিশ্ববিদ্যালয়ে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই সাফল্য দেশি গবাদি পশুর জাত সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি রোগ নিয়ন্ত্রণের উন্নতি এবং দুধ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।

    এই ঐতিহাসিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানী ও পেশাদারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “এই সাফল্যের নেপথ্যে থাকা সমস্ত পশুচিকিৎসা বিজ্ঞানী ও পেশাদারদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁদের কাজ অসমের দুগ্ধশিল্পে নতুন যুগের সূচনা করার সম্ভাবনা রাখে। বাছুরটি আকারে ছোট হলেও, আমাদের রাজ্যে জৈবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে সে একটি বিশাল মাইলফলক বহন করছে।”

    এদিকে পশুপালন ও দুগ্ধশিল্পের পাশাপাশি জ্বালানি ক্ষেত্রেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে অসম। রাজ্যে ২০২৬ সালের অসম হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান, উৎপাদন এবং উর্ধ্বপ্রবাহ বাস্তুতন্ত্র উন্নয়ন নীতি কার্যকর করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই নীতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য পূরণের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    জ্বালানি ক্ষেত্রেও অসমের অবদান

    পুরী বলেন, “ভারতের পেট্রোলিয়াম শিল্পের জন্মভূমি অসম এখন আত্মনির্ভরতার পথে ভারতের জ্বালানি যাত্রার পরবর্তী অধ্যায়কে শক্তি জোগাতে প্রস্তুত।”

    এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য হিমন্তকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুরী বলেন, নতুন নীতি অসমে বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন আরও দ্রুততর করবে (IVF)।

    নতুন নীতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং আধুনিক অনুসন্ধান প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকে এই নীতি ১০ বছর কার্যকর থাকবে। তবে তার আগে নীতিটি সংশোধন, পরিবর্তিত নীতি দ্বারা প্রতিস্থাপন বা প্রত্যাহার করা হলে তা প্রযোজ্য হবে না।

    পুরীর বক্তব্যের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উদ্ভাবনের মাধ্যমে অসম তার হাইড্রোকার্বন-ভিত্তিক ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, “হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানে অসমের প্রথম উদ্যোগ নেওয়ার সুবিধা আমাদের অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই সুবিধার উপর নির্ভর করে বসে থাকতে চাই না। ধারাবাহিক উদ্ভাবনই আমাদের এগিয়ে রাখবে (Assam Lakhimi Breed)।”

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকশিত ভারতে’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে অবদান অব্যাহত রাখবে (IVF) অসম।

     

  • PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের (Distorted India Map) প্রতিবাদ করায় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের দেদার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ক্রীড়া সাফল্য উদ্‌যাপনের সময়ও দেশের মানচিত্রের গুরুত্বের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য লভলিনার এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবিবার নিজের বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

    ভারতের বিকৃত মানচিত্র (PM Modi)

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতেছিলেন অসমের লভলিনা। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজা করে তাঁকে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসার বিষয়টি জানতে চান মোদি। তিনি বলেন, “কী হয়েছিল, রেস্তরাঁর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?” হেসে লভলিনা জানান, গেমসে সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করছিলেন। সেখানেই তিনি ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র দেখতে পান। তাঁর কথায়, “স্যার, সেটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমরা সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলাম। কিন্তু ভারতের বিকৃত মানচিত্রটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমি তাঁদের বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম এবং তাঁরা পরে সেটি সংশোধনও করেন।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    লভলিনার এই সচেতনতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলেন এবং গেমস শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ও আপনি ওই মানচিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আমি সত্যি বলছি, ওই ভিডিওটি সাধারণ কোনও ঘটনা ছিল না। বহুদিন ধরে মানুষ একে মনে রাখবে।” ঘটনাটি সামনে আসে গ্লাসগোর ওই রেস্তরাঁয় প্রদর্শিত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত থাকার পর। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করার সময় বিষয়টি লভলিনার নজরে পড়ে। তিনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান। পরে কর্তৃপক্ষ মানচিত্রটি সংশোধন করতে সম্মত হয় (PM Modi)। গ্লাসগোতেই লভলিনা প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানুর সঙ্গে ভারতের পতাকাবাহকদের অন্যতম ছিলেন।

    কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্রীড়াবিদরা গেমসের আগে ও গেমস চলাকালীন (Distorted India Map) তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি পদকজয়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই থেকে ২ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পদক তালিকায় ভারত ছিল চতুর্থ স্থানে (PM Modi)। এদিকে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ভারতের পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কৃতিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, “যাঁরা খেলবেন, তাঁরাই এগিয়ে যাবেন। সব সময় ভারতের জন্য গলা মেলান। ভারত মাতা কি জয়!” ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের পদকসমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি খেলা এবারের সূচিতে ছিল না।

    বক্সিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য ভারতের

    গ্লাসগো থেকে ভারতের বক্সিং দল ফিরেছে মোট ১০টি পদক নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে (Distorted India Map) ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। সোনাজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি)। রুপো জিতেছেন যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর বেরওয়াল (৯০ কেজির বেশি)। ভারতের বক্সিং দলের সোনাজয়ী সাক্ষী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসের সমস্ত পদকজয়ীকে আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা খুবই আনন্দিত।” এবারের সাতটি সোনা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্যও এনে দিয়েছে।

    জুডোতেও ভারতের নজির

    জুডোতেও নিজেদের সেরা কমনওয়েলথ গেমস সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। গ্লাসগোয় ভারত ১২টি জুডো ইভেন্টে অংশ নিয়ে মোট চারটি পদক জিতেছে—দুটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় তিনটি পদক পেলেও, সেবার একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। ভারতের জুডো সাফল্যের অন্যতম প্রধান মুখ খেলো ইন্ডিয়ার ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং। তাঁরা জুডোয় কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। অস্মিতা প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। আর হর্ষ সিং প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারত (PM Modi) পেয়েছে ১০টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারতের গুলভীর সিং কমনওয়েলথ গেমসের এক আসরে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন (Distorted India Map)।গ্লাসগোর এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এমন সাফল্য আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

     

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম (Assam Floods)। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। এখনও পর্যন্ত সাতটি জেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। জলের তলায় চলে গিয়েছে শত শত গ্রাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৫৬টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার জেরে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুরও।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট

    বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শিবসাগর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে ২২ জন, করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও বন্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।

    ত্রাণ শিবিরে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় মোট ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে প্রায় ৪৯,০৬১ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলিও কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই রবিবার অসমের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন।

    ব্যাপক ক্ষতি কৃষিকাজে

    বন্যার জেরে অসমের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যোরহাটেও বন্যার প্রভাব মারাত্মক। এর আগে সেখানে ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    Himanta Biswa Sarma: অসমে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু বিভাজন কমানোর দাবি, হিমন্তর বার্তা ঘিরে নয়া সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের রাজনীতিতে বহু দশক ধরে অসমীয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্পর্ক ছিল সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত। ভাষা, অভিবাসন, জনসংখ্যার পরিবর্তন, নাগরিকত্ব এবং কর্মসংস্থানকে ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের ফলে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার (Himanta Biswa Sarma) নেতৃত্বে সেই সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে বলেই দাবি রাজ্যের শাসক শিবিরের। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তু এবং অনুপ্রবেশকারী মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরার রাজনৈতিক বার্তা এই পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবেই সামনে এসেছে।

    কী বলছে হিমন্তর সরকার (Himanta Biswa Sarma)

    সরকারের বক্তব্য, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে পূর্ব পাকিস্তান বা পরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুদের সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বেআইনি অভিবাসীদের এক শ্রেণিতে ফেলা উচিত নয়। এই অবস্থানকে সামনে রেখেই গত কয়েক বছরে অসমে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয়েছে। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমে আইডিয়া এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত সন্দেহভাজন ভোটারদের প্রসঙ্গে বলেন, “এখন বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। এক সময় এই সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ। ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, এবং আমি মনে করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি এও বলেন, “আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে একজনও বাঙালি হিন্দু নেই। এটাই সবচেয়ে ভালো খবর। সবার আধার হয়েছে। আগে যেখানে সাড়ে চার লাখের মতো মানুষ ছিলেন, এখন তা এক লাখেরও নীচে নেমে এসেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধগুলির নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।”

    যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    এই অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক সময় হিন্দু ও মুসলিম—দুই সম্প্রদায় মিলিয়ে এই সংখ্যা ছিল ১২ থেকে ১৪ লাখের মধ্যে। বর্তমানে তা কমে ৩.৫৪ লাখ হয়েছে এবং তার মধ্যে বাঙালি হিন্দুর সংখ্যা এক লাখেরও কম। তবে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (nrc) প্রকাশিত হলে প্রথমদিকে আবার কিছু মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বাঙালি হিন্দুরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় আবেদন করতে পারবেন। বিষয়টি কিছুটা জটিল হলেও, আমরা ধাপে ধাপে এর সমাধান করছি।” রাজ্য সরকারের অবস্থান অনুযায়ী, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (caa) নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি আইনি পথ তৈরি করেছে। সেই কারণেই বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের বিষয়টি বেআইনি অনুপ্রবেশের প্রশ্নের থেকে (Himanta Biswa Sarma) আলাদা করে দেখা উচিত বলেই দাবি সরকারের।

    নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ

    এই অবস্থানের পাশাপাশি অসম চুক্তিতে নির্ধারিত ২৪ মার্চ ১৯৭১-কে বেআইনি অনুপ্রবেশ চিহ্নিত করার গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা হিসেবেও বারবার তুলে ধরা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পঞ্জির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরে যাঁরা প্রকৃত অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পৃথক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে অসমীয়া হিন্দু এবং বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কমানোর চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। অসমের শাসক দল বিজেপির দাবি, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনকে ব্যবহার করলেও, বর্তমানে সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি (Himanta Biswa Sarma) হয়েছে নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ।

    গলেছে অসমীয়া-বাঙালি হিন্দু সম্পর্কের বরফ

    এই পরিবর্তনের প্রতিফলন বিভিন্ন জনসভায়ও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে পদ্ম শিবিরের তরফে। ২০২৫ সালের অগাস্টে শিলচরে হিমন্তর সভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। একইভাবে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর একাধিক সভায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। শাসক শিবিরের মতে, অসমে ভাষাগত বিভাজনের পরিবর্তে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর ঐক্যের বার্তাই এখন রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে নাগরিকত্ব, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ভিন্নমতও রয়েছে। ফলে এই ইস্যু এখনও জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে (Himanta Biswa Sarma)।

    অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য

    প্রসঙ্গত, অনেক আগেই হিমন্ত অনুপ্রবেশকারী ও উদ্বাস্তুদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্দু বাঙালিরা, যাঁরা নিজেদের ‘ধর্ম’ রক্ষার জন্য পৈতৃক সম্পত্তি এবং শত শত বছরের বংশানুক্রমিক সম্পদ খুইয়েছিলেন, তাঁরা অবশেষে তাঁদের বহু-প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বারবার আশ্বাস দিয়েছিলেন, কোনও হিন্দু বাঙালিকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দেওয়া হবে না বা হয়রানির শিকার হতে হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “হিন্দু বাঙালিদের বিদেশি হিসেবে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই, কারণ তাঁরা ১৯৭১ সালের আগেই এসেছেন। তাই অসমে সিএএর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।” ২০১৯ সালে অসমে যখন জাতীয় এনআরসির ত্রুটিপূর্ণ খসড়া প্রকাশিত হয়, এবং প্রায় ১২ লাখ হিন্দু বাঙালির নাম বাদ পড়ে তালিকা থেকে, তখনই হিমন্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই প্রক্রিয়াটি ছিল ‘মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ’। নতুন করে এনআরসি করার ডাকও দিয়েছিলেন অসমের পদ্ম-মুখ্যমন্ত্রী (Himanta Biswa Sarma)।

     

  • Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হতে চলেছে এক নয়া অধ্যায়ের। এই প্রথমবার রাজধানী নয়াদিল্লির বাইরে অসমের (Assam) গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত-জাপান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (Japan Summit)। জুলাই মাসেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অসম সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অংশ নেবেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Assam)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ আরও গতি পাবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে আন্তর্জাতিক স্তরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। ফলে গুয়াহাটিতে এই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে জাপান, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেই অনুমান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে অসমকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ যুবশক্তি এবং দ্রুত উন্নয়নশীল পরিকাঠামো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর

    জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পেলে পরিবহণ ব্যয় ও সময় কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে একটা বড় সমস্যার সমাধানে করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির এটি হবে প্রথম ভারত সফর। তাঁর সঙ্গে ভারতে আসবেন ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ শিল্পপতি ও কর্পোরেট প্রতিনিধি। প্রতিনিধি দলে থাকবেন সুজুকি মোটরের প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি, ইতোচু কর্পোরেশন এবং টয়োটা সুশোর শীর্ষ আধিকারিকরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে শুধু পরিকাঠামো নয়, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, সাপ্লাই চেন (Japan Summit) রেজিলিয়েন্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে (Assam)। এই বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে উৎপাদন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নয়া  বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিতে পারে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

    ইতিমধ্যেই জাপান অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক পরিকাঠামো, এবং যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরে ঘোষিত ‘বে অফ বেঙ্গল–নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেন কনসেপ্ট’ উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। এদিকে, টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ইউনিট, রিলায়েন্সের ডেটা সেন্টার এবং আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় শিল্প লগ্নি শুরু হয়েছে অসমে। ফলে জাপানি সংস্থাগুলির আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে (Assam)। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতে নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কৌশলগত মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে, এবং (Japan Summit) জাপান আত্মপ্রকাশ করবে এই অঞ্চলের (Assam) অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে।

     

  • IAF Jet Crashes: অসমে দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, হত ৫ সেনাকর্মী

    IAF Jet Crashes: অসমে দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, হত ৫ সেনাকর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রুটিন মহড়া চলাকালীন অবতরণের সময় দুর্ঘটনার কবলে ভারতীয় বায়ুসেনার এএন-৩২ পরিবহণ বিমান (IAF Jet Crashes)। শনিবার অসমের (Assam) জোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বায়ুসেনার পাঁচ কর্মী। বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন বিমানের কো-পাইলট। চিকিৎসা চলছে তাঁর। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে দমকল ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। দুর্ঘটনার পর বায়ুসেনার পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

    দুর্ঘটনায় হত ৫জনের পরিচয় (IAF Jet Crashes)

    দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে বায়ুসেনা। নিহতরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম। বায়ুসেনা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে, দিয়েছে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই একটি কোর্ট অফ ইনকোয়ারি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কী বললেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী?

    এএন-৩২ বিমান মূলত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পার্বত্য এলাকা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও এই বিমান উদ্ধার অভিযান চালায় এবং রসদ পৌঁছে দেয়। বিমানটি প্রায় সাড়ে ৭ টন পর্যন্ত জিনিসপত্র বহন করতে পারে। ক্ষমতা রাখে একসঙ্গে প্রায় ৫০ জন সেনাকর্মী পরিবহণেরও। জোরহাট বায়ুসেনা ঘাঁটি উত্তর-পূর্ব ভারতের (IAF Jet Crashes) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি। অসম-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক অভিযান, রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত কার্যক্রমে এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে (Assam)। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “জোরহাটে বায়ুসেনার একটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি (IAF Jet Crashes)।”

     

  • Himanta Biswa Sarma: অসমে ‘চাঁদের হাট’, টানা দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন হিমন্ত

    Himanta Biswa Sarma: অসমে ‘চাঁদের হাট’, টানা দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন হিমন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বারের জন্য অসমের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বিজেপির হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himanta Biswa Sarma)। আজ, মঙ্গলবার গুয়াহাটির খানাপাড়ায় আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-সহ বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর একাধিক শীর্ষ নেতা। হিমন্ত ছাড়াও এদিন শপথ নেন নয়া মন্ত্রিসভার আরও পাঁচ সদস্য। এঁরা হলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামেশ্বর তেলি, অসম গণ পরিষদের সভাপতি অতুল বরা, ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল নেতা চরণ বোরো এবং বিজেপির প্রবীণ নেত্রী অজন্তা নেওগ।

    ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া পোশাকে শপথ হিমন্তর (Himanta Biswa Sarma)

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনডিএ-শাসিত ২২টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপির জাতীয় নেতৃত্ব, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অসমের বৈষ্ণব মঠের ১৫ জন সত্রাধিকারও উপস্থিত ছিলেন হিমন্তের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। ঐতিহ্যবাহী অসমিয়া পোশাকে শপথ নেন হিমন্ত। আগেই বিজেপি বিধায়করা দল ও এনডিএ-র শরিক দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে নেতা নির্বাচিত করেন হিমন্তকে। পরে তিনি যান লোকভবনে (পূর্বতন রাজ্যপাল ভবন), সরকার গঠনের দাবি জানাতে। এদিন নেন শপথ (Himanta Biswa Sarma)।

    কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?

    এদিকে, হিমন্তের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গুয়াহাটিতে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। গুয়াহাটি পৌঁছে অসমবাসীকে (Assam) শুভেচ্ছা জানান তিনি। হিমন্তকে ‘বড় দাদা’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, “হিমন্তজি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।” অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অসম এবং ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার আসার পরে যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের রুখে দেওয়া হয়েছে, বাংলাও ঠিক সেই পথেই হাঁটবে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পেছনে অসমের বিজেপি নেতাদের বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন শুভেন্দু। তাঁর আশা, উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে ওড়িশা, বিহার, অসম এবং সিকিম – সব রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

    অসম বিধানসভার আসন সংখ্যা ১২৬। এর মধ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ পেয়েছে ১০২টি আসন। এর (Assam) মধ্যে আবার বিজেপি একাই পেয়েছে ৮২টি আসন। জোট শরিক অগপ এবং বিপিএফ ১০টি করে আসন পেয়েছে। কংগ্রেসের জোট জিতেছে ১৯টি কেন্দ্রে। আর তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে একটি মাত্র একটি কেন্দ্র (Himanta Biswa Sarma)।

     

LinkedIn
Share