Tag: assembly election

assembly election

  • West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও ধস নামল তৃণমূলে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। মঙ্গলবার (West Bengal Assembly Election) মেখলিগঞ্জের এই প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে পদ্মশিবিরে ভিড়েছেন আরও একজন, তিনি রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণও ঘোষণা করেছেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল বংশীবদনের সংগঠন। বর্তমানে বেশ কিছু ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ শুরু হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বংশীবদন এবার জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। মঙ্গলবার তিনি গিয়েছিলেন বিজেপির কার্যালয়েও।

    তৃণমূলকে তোপ অর্ঘ্যর (West Bengal Assembly Election)

    এদিকে, পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই তৃণমূলকে তোপ দাগেন অর্ঘ্য। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় ঘাসফুল আঁকা প্রতীকে দাঁড়িয়ে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তাঁকে টিকিট দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার পরেও অবশ্য তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়েননি। ছাড়লেন মঙ্গলবার এবং এদিনই তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। তৃণমূল ছাড়ার কারণে দর্শাতে গিয়ে অর্ঘ্য বলেন, “আমি আর দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দলের পাশে দাঁড়াতে পারি না। আমি আমার এলাকার মানুষের মুখোমুখি হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না।” প্রসঙ্গত, অর্ঘ্যর বাবা অমর রায় প্রধান ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। তিনি তিনবার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন। আটবার কোচবিহারের সাংসদও হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে ছেলে অর্ঘ্যকে নিয়ে বাম-সঙ্গ ছেড়ে অমর যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই অর্ঘ্যই এবার পদ্ম-শিবিরে।

    বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা রাজবংশী নেতার

    গেরুয়া ঝান্ডার তলায় তাঁর চলে আসা এবং রাজবংশী নেতা বংশীবদনের বিজেপিকে সমর্থনের কথা (BJP) ঘোষণা বদলে দিতে পারে উত্তরবঙ্গের যাবতীয় সমীকরণ। গত (West Bengal Assembly Election) লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেখানেই থাবা বসাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার দল। বংশীবদন বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছি যে আমাদের রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, রক্ষা করতে হবে আমাদের অধিকার। আমি বিজেপিকে আমার পূর্ণ সমর্থন দিতে এসেছি।” প্রসঙ্গত, এর আগে উত্তরপঙ্গের নেতা অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল বিজেপি। তার পর থেকে বেসুরো গাইতে থাকেন অনন্ত। এহেন পরিস্থিতিতে বংশীবদনের সমর্থনের আশ্বাস বিজেপিকে বাড়িতে অক্সিজেন জোগাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কারণ এবার রাজবংশীদের একটা বড় অংশের ভোটই পড়বে পদ্ম-প্রতীকে।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ

    বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পদ্ম-খাতায় নাম লেখান অর্ঘ্য এবং রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর (West Bengal Assembly Election)। উত্তরবঙ্গের এই দুই হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় যারপরনাই খুশি পদ্মশিবির। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে থাকাকালীন এই যোগদান তাঁকে উপহার স্বরূপ দেওয়া হল।” তিনি জানান, বংশীবদন রাজবংশী সমাজের উন্নয়নের (BJP) জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কিছু প্রস্তাব রেখেছন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বংশীবদন নিজে ভোটে লড়বেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন দলবদলের এই অনুষ্ঠানে বিজেপির ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি বাপ্পা মণ্ডলও। উত্তরবঙ্গের এই তিন নেতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জায়গা ছেড়ে, কোনও কিছু না চেয়ে, না পেয়ে ওঁরা বিজেপিতে যোগ দিলেন (West Bengal Assembly Election)।”

    ফ্যাক্টর যখন রাজবংশী ভোট

    উল্লেখ্য যে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে রাজবংশী ভোট বড় ফ্যাক্টর। এই রাজবংশী সম্প্রদায়েরই বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করছেন বংশীবদন। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি ছিলেন তৃণমূলের সঙ্গেই। অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাঁধে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। বংশীবদন বারবার দাবি করেছেন, মাথাভাঙা-সহ কয়েকটি বিধানসভা আসনে গত নির্বাচনগুলিতে যত ভোট পেয়েছে তৃণমূল, তা এসেছে তাঁর সংগঠনের জন্যই। তাই এবার আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন, রাজবংশী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাইস্কুলের অনুমোদনও। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর এই শর্ত পূরণ না হলে বিজেপিকে সমর্থন করবে তাঁর সংগঠন। সেই মতোই তিনি জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। বংশীবদন বলেন, “রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে (BJP)। কিন্তু রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এতদিন সম্ভব হয়নি (West Bengal Assembly Election)।”

     

  • West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি ধরে রাখতে বাংলায় খয়রাতির রাজনীতি আমদানি করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার জেরে (West Bengal Assembly Election) রাজকোষ শূন্য। তা সত্ত্বেও ফের নবান্নের দখল নিতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ওড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের আগে তিনি ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ইস্তাহারে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি নিছকই ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা (West Bengal Assembly Election)

    ভোটারদের বিভ্রান্ত করাতেই এই ‘বেওসা’। এই প্রতিশ্রুতিগুলি আসলে তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা। এটি বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোডম্যাপ নয়, বরং গত এক দশকে বাংলার বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘ঢপের চপ’। রাজ্যের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা। বর্তমানে জিএসডিপি (GSDP) ৩৮.৪ শতাংশের এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ৮.১৫ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াবে বলেই ধারণা অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাঁদের মতে, বাংলার খরচ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৩৮ টাকা চলে যায় ঋণ বাবদ নেওয়া টাকার সুদ দিতে। বর্তমানে বাংলায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ঘাড়ে ৮১ হাজার ১৬৫ টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূল্যহীন!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল “প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু সরকারি অনুদানকে পরিবারের মাসিক আয় নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, তার ওপর জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। চালের মতো অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সিন্ডিকেটের তোলাবাজি কিংবা “তৃণমূল ট্যাক্সে”র কারণে বাজারে জিনিসের দাম বর্তমানে ৭.০৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অঙ্কের হিসেবে জিনিসপত্রের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ওই বাড়তি ৫০০ টাকাকে কার্যত মূল্যহীন করে দিচ্ছে, বাংলার মুদ্রাস্ফীতিকে রাখছে জাতীয় গড়ের চেয়ে ঢের বেশি ওপরে।   রাজ্যের মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ লাখ টাকা। ২০১১ সালে দেশের গড় আয় ছিল ৯২ শতাংশ। সেটাই এখন কমে হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও এখন আয়ের দৌড়ে বাংলাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের ভেতরেও আয়ের পার্থক্য চোখ টাটাবে। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে মাথাপিছু আয় মাত্র ৮০,১৫২ টাকা, যা রাজ্যের গড়ের অর্ধেকও (৪৬.৮%) নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ কতটা অবহেলিত হয়েছে (West Bengal Assembly Election)।

    দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও অন্তঃসার শূন্য

    ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে “দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও। ২০২১-এ তৃণমূলের “সুস্থ বাংলা”র প্রতিশ্রুতি আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতায় কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শিবিরের প্রতিশ্রুতি (Mamata Banerjee) দেওয়া বাতুলতার শামিল মাত্র। ২০২৪-এর সমীক্ষায় বাংলার ‘মহিলাদের ঝুঁকি সূচক’ ৮.২/১০—যা পূর্ব ভারতে সর্বোচ্চ। নারীর শারীরিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তা আজ কেবলই ‘গালগল্প’। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  ৩৪৯ জন সার্জেন, ৩২০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৯৭ জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। ফলে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য খসাতে হচ্ছে মোট আয়ের ৬২ শতাংশ। নিজের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ঢাক পেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে। হিসেব বলছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষকে ৫ লাখ টাকার ওই বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।

    “বাংলার যুবসাথী”র আসল পরিচয়

    ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে “বাংলার যুবসাথী”র কথাও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ২৫ লাখ বেকারের চাকরির। পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতিও। তার বদলে বেকারদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে মাসিক খয়রাতির ১৫০০ টাকা। যার অর্থ হল, একজন শিক্ষিত বেকারকে ফি দিন মাত্র ৫০ টাকা করে দেওয়া। “যুবসাথী” প্রকল্প আসলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৃণমূলের চরম ব্যর্থতারই কবুলনামা। ২০১৫ থেকে ’২৩ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ১৮,৪৫০টি ক্ষুদ্র শিল্প। কাজ হারিয়েছেন ৩০.০৪ লাখ মানুষ। সিন্ডিকেটের জুলুমে ৬,৬৮৮টি কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। বড় কোনও আইটি (IT) বিনিয়োগ নেই। তাই ২৩ লাখ নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থী আজ দিশেহারা। ৫ লাখ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ৪০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ (DA) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। আরজি করের ভাঙা লিফটে রোগীর মৃত্যু এবং মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রভাবে কেনা মেয়াদ-উত্তীর্ণ স্যালাইনে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু এ রাজ্যে ঘুন ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই প্রমাণ (West Bengal Assembly Election)।

    “বাংলার শিক্ষায়তন”

    ইস্তাহারের ৪ নম্বরে রয়েছে “বাংলার শিক্ষায়তন” (Mamata Banerjee)। একুশের “শিক্ষিত বাংলা”র স্লোগান দেওয়া সরকার যখন শিক্ষক পদকে নিলামে তোলে, তখন পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলা তার সাজে না। এসএসসি (SSC) কেলেঙ্কারিতে বিক্রি হয়েছে ২৬,০০০ চাকরি। ৩,৮০০টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, সেখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে ১৮,০০০ ভুতুড়ে শিক্ষককে। বিদেশি ছাত্রদের কাছে বাংলা এখন আর গন্তব্য নয়। ২০২৬-এর ইকনোমিক সার্ভে অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও গুণমানের অভাব স্পষ্ট। স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৬৩.৫ শতাংশ। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে রাজ্যের ৯ লাখ পড়ুয়াকে।

    সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবল

    একুশের “সুখী কৃষক” প্রতিশ্রুতিও আজ সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবলে। ১০,০০০ কোটি টাকার পিডিএস (PDS) কেলেঙ্কারির জেরে কালোবাজারে পাচার হয়েছে ২০-৪০ শতাংশ শস্য। ইলিশের উৎপাদন ১৬,৫০০ টন থেকে কমে হয়েছে ৬,৮০০ টন। আলুর উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা হলেও, চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ৫৪০ টাকা। রাজনৈতিক অহংকারের জেরে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্প থেকে  বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যের ৪২ লাখ চাষিকে। ৪০ শতাংশ ভাগচাষি ও ভূমিহীন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাননি। তাই মহাজনদের ৬০ শতাংশ সুদের ঋণে ডুবছেন তাঁরা (West Bengal Assembly Election)। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও তলানিতে। এমএসএমই (MSME) রফতানিতে বাংলার অবদান মাত্রই ৪ শতাংশ (Mamata Banerjee)। বিনিয়োগকারীরা যেখানে রাজ্য ছাড়ছেন, সেখানে ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’র দাবি আদতেই  একটি প্রহসন। ইজ অফ ডুইং বিজনেসে বাংলা ১৪তম। জমি বিবাদের জেরে দেউচা-পাঁচামির মতো বড় প্রকল্প রয়েছে থমকে। সরাসরি বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। ভারতের নয়া বিনিয়োগের মাত্রই ৩ শতাংশ আসে বাংলায়।

    তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম

    সকলের জন্য আবাসনের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলেরইস্তাহারে। এই আবাসন প্রকল্পই এখন তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ আবাসন থেকে ৯,৪০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পিএম আবাস যোজনায় ১৭ লাখ ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে নেতাদের অট্টালিকা বানাতে ১.২ লাখ টাকা করে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-এর স্কিমে ২৮ লাখ যোগ্য পরিবার ঘর পায়নি। দরিদ্ররা আজও ঘুমোন প্লাস্টিকের নীচে (West Bengal Assembly Election)। বার্ধক্যভাতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও ফাঁপা। বস্তুত, দেউলিয়া রাজকোষ নিয়ে বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি আসলে রাজ্যের চরম আর্থিক সঙ্কট লুকোনোর চেষ্টা। দলিত ও আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে সাজা দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অতি নগণ্য (Mamata Banerjee)। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিলেও, হিন্দু পুরোহিতদের এক দশক ধরে এ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির ফলে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অনুদান দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

    পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পরিহাস!

    পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও নিছকই পরিহাস। গ্রামীণ বাংলার মানুষের কাছে এই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা মাধুরী। জল জীবন মিশনে ২৪,৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার দরুন খরচ হয়েছে মাত্রই ১৩,০২৭ কোটি টাকা। ফলে ১১,৬১৭ কোটি টাকার এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ১৭০ কোটি টাকার জল প্রকল্পের কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রকৃত পরিকাঠামো তৈরি না করে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (West Bengal Assembly Election)। প্রশাসনিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০২১ সালে তৃণমূল ঢালাও “সুশাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে ভৌগোলিক পুনর্গঠন আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নয়, বরং এটি তোলাবাজি সিন্ডিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি সরকারের নরম মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে (Mamata Banerjee)। ২০২৩ সালের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫টি পুরসভায় ১,৫০০টি অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। ওই চাকরি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ১০ লক্ষ টাকায়। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন নতুন পুরসভা বা প্রশাসনিক এলাকা তৈরি করা আসলে দুর্নীতির নতুন রাস্তা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ আসলে কোনও উন্নয়নের নীল নকশা নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার এক রঙিন প্রলেপ মাত্র (West Bengal Assembly Election)।

     

  • Assembly Election 2026: একঝাঁক জেলখাটাদের ফের প্রার্থী করল তৃণমূল! জানেন কারা কারা টিকিট পেলেন?

    Assembly Election 2026: একঝাঁক জেলখাটাদের ফের প্রার্থী করল তৃণমূল! জানেন কারা কারা টিকিট পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেউ জেল খেটেছেন সারদা দুর্নীতিতে! কেউ জেল খেটেছেন চাকরি দুর্নীতিতে! আবার কেউ জেলে গিয়েছিলেন রেশন দুর্নীতিতে এরকম একঝাঁক প্রভাবশালী জেলখাটাদের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফের প্রার্থী করল তৃণমূল। রেশন দুর্নীতি হোক কিংবা নিয়োগ দুর্নীতি, একাধিক মামলায় নাম জড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিধায়কদের। নিয়োগ মামলায় নাম জড়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। নাম জড়িয়েছিল বিদায়ী বিধায়ক পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর। অপরদিকে, রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। নিয়োগ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন বড়ঞাঁর প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ। এদের অনেকেই জেল খেটে এসেছেন।

    প্রার্থী কুনাল ঘোষ

    বেলেঘাটা থেকে কুনাল ঘোষকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ২০১৩ সালে সারদা চিটফান্ডে কাণ্ডে জেলে গিয়েছিল কুনাল ঘোষ৷ প্রায় ৩৪ মাস জেলে ছিলেন কুনাল ঘোষ। ২০১৬ সালে জামিনে মুক্ত হয় কুনাল ঘোষ৷ আজ যে তৃণমূল দলের হয়ে প্রার্থী হচ্ছেন কুনাল ঘোষ সেই তৃণমূল সরকারের পুলিশই গ্রেফতার করেছিল কুনালকে। তার আগে কান্নাকাটি করল কুনাল বলেছিলেন ‘মমতা দি পুলিশ পাঠিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যাক’৷ সে ভিডিও এখনও ভাইরাল সোশালে৷ সে সময় মমতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছিল কুনাল।

    প্রার্থী মদন মিত্র

    মদন মিত্রকে কামারহাটিতে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সারদা চিটফান্ড কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে ২০১৪ সালে জেলে যান মদন মিত্র। প্রায় ২ বছর জেলে থাকার পর ২০১৬ সালে জামিনে মুক্তি পান মদন৷ মদন মিত্রকে জেরার পর গ্রেফতার করেছিো সিবিআই৷

    প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

    জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে হাবড়া থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েক শ কোটি টাকার রেশন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। খাদ্য দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়ার আগে বনমন্ত্রকেরও দায়িত্ব সামলেছেন জ্যোতিপ্রিয়। ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতি মামলায় জেল হয় জ্যোতিপ্রিয়র। ২০২৫ সালে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন, তারপরই তাকে প্রার্থী করল তৃণমূল কংগ্রেস।

    প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম

    ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতা বন্দর থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ফিরহাদ হাকিমের ঘুস নেওয়ার ভিডিও এখনও সোশাল মিডিয়াতে জ্বলজ্বল করছে৷ নারদা কেসে ঘুস নেওয়ার অপরাধে অভিযুক্ত ফিরহাদ। ২০২১ সালে জেলেও যান ফিরহাদ, কিছুদিন পর জামিন পান। তারপর বুক ঠুঁকে তৃণমূলের সরকারের হয়ে কলকাতার মেয়র হন ফিরহাদ৷ এবার তিনি কলকাতা বন্দরের প্রার্থী।

    দুর্নীতিমুক্ত বাংলা চায় বিজেপি

    বাংলার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি দুর্নীতিমুক্ত বাংলা, স্থায়ী উন্নয়ন, শিল্প সবকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে জেলখাটা, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রার্থীদের আবারও টিকিট দিয়ে নিজেদের মানসিকতা স্পষ্ট করছে তৃণমূল। এঁরা বাইচান্স জিতে ফিরলে ঠিক সেটাই করবে যেটা এত বছর ধরে বাংলায় করে এসেছে৷ বাংলার উন্নয়ন এঁদের কাছে গৌণ। দুর্নীতি থেকে বাঁচতে তাই এবার বিজেপিকে জেতানোই বাংলার মানুষের একমাত্র উপায়।

  • Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    Assembly Election 2026: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল কমিশনের, এক ধাক্কায় সরানো হল ২ এডিজি, ১২ সুপারকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল। এবার নির্বাচন কমিশন (Assembly Election 2026) এক ধাক্কায় বদল করে দিল রাজ্যের ১২ জন পুলিশ সুপারকে (Election Commission)। সরানো হয়েছে কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কেও। সরানো হয়েছে চার পুলিশ কমশনারেটের কমিশনার, এডিজি পদমর্যাদার দু’জনকেও। ইন্দিরার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাওকে। বদলে দেওয়া হল রাজ্যের ১২ পুলিশ জেলার সুপারকেও।

    এসপি বদল (Assembly Election 2026)

    বীরভূমের পুলিশ সুপার করা হয়েছে সূর্যপ্রতাপ যাদবকে। তিনি ২০১১ ব্যাচের আইপিএস। এই জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন আমনদীপ। কোচবিহারের এসপি সন্দীপ কাররাকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস জসপ্রীত সিংকে। বারাসত পুলিশ জেলার নয়া এসপি হলেন ২০১২ ব্যাচের আইপিএস মিস পুষ্পা। এখানে ছিলেন প্রিয়ব্রত রায়। এক সময় কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) ছিলেন প্রিয়ব্রত। সরানো হয়েছে ডয়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারকেও। বিশপ সরকারকে সরিয়ে এই পদে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) ঈশানী পালকে। ইসলামপুর পুলিশ জেলার সুপার জোবি থমাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১৪ ব্যাচের আইপিএস রাকেশ সিংকে। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এসপি ধৃতিমান সরকারকে সরিয়ে বসানো হয়েছে ২০১৩ ব্যাচের আইপিএস সচিনকে।

    কাকে, কোথায় সরানো হল

    বেলডাঙায় অশান্তির পর সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল সানি রাজকে। পাঠানো হয়েছিল এসবিতে। মঙ্গলবার কমিশন তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন হুগলি (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার করে। বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার আরিশ বিলালকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৭ ব্যাচের আইপিএস অলকানন্দা ভাওয়ালকে। মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অনুপম সিংকে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পারিজাত বিশ্বাসকে সরিয়ে ওই পদে বসানো হয়েছে ২০১২ ব্যাচের আইপিএস অংশুমান সাহাকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ ঢালিকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১৫ ব্যাচের আইপিএস পাপিয়া সুলতানাকে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমানকে সরিয়ে বসানো হল ২০১৬ ব্যাচের আইপিএস সুরিন্দর সিংকে। পুলিশ সুপার ছাড়াও বদল করা হয়েছে দু’জায়গার এডিজিকেও। দক্ষিণবঙ্গের নয়া এডিজি হয়েছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস রাজেশকুমার সিং (Election Commission)। আগে এই পদে ছিলেন রাজীব মিশ্র। উত্তরবঙ্গের এডিজি করা হয়েছে ১৯৯৭ ব্যাচের আইপিএস কে জয়রামনকে (Assembly Election 2026)। ওই পদে ছিলেন সুকেশ জৈন।

    পুলিশ কমিশনারও বদল

    চার কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারও বদল করা হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন প্রণব কুমার। সুনীল কুমার চৌধুরীকে সরিয়ে বসানো হয়েছে তাঁকে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের নয়া সিপি হয়েছেন অখিলেশ চতুর্বেদী। এই পদে ছিলেন আকাশ মাঘারিয়া। ব্যারাকপুরের নয়া সিপি হয়েছেন অমিতকুমার সিং। আগে ছিলেন প্রবীণ ত্রিপাঠী। সুশীলকুমার যাদবকে বসানো হয়েছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সিপি পদে। আগে এই পদে ছিলেন কোটেশ্বর রাও।প্রসঙ্গত, সোমবারই রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

    মমতার চিঠির পাল্টা বদলির নির্দেশ

    এদিকে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই বা রাজ্যের মতামত না নিয়েই পুলিশ-প্রশাসনে রদবদলে যারপরনাই ক্ষুব্ধ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এজন্য তিনি সোমবার রাতে চিঠি দেন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। চিঠিতে তিনি লেখেন, আগে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের তরফে রাজ্যের কাছে তিনজনের একটি প্যানেল চেয়ে পাঠানো হত। সেই তালিকা থেকেই কমিশন একজনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার সেই প্রচলিত রীতি মেনে চলা হয়নি। কমিশনের কাছে মুখ্যমন্ত্রীর আর্জি, ভবিষ্যতে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হোক এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি অনুসরণ করা হোক (Assembly Election 2026)। মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠি লেখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে চলে এল কমিশনের তরফে নতুন বদলির নির্দেশ (Election Commission)।

     

  • PM Modi Mega Rally: ১৪ মার্চ ঐতিহাসিক ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেবেন মোদি

    PM Modi Mega Rally: ১৪ মার্চ ঐতিহাসিক ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেবেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। আর এই নির্বাচনী লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সমাবেশের মাধ্যমেই বঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দিতে চাইছে বিজেপি। গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ কতটা পিছিয়ে পড়েছে সেই খতিয়ান তুলে ধরবেন মোদি। একদিকে দুর্নীতির পাহাড় এবং অপরদিকে নারী নির্যাতন এই ইস্যুতে চরম আক্রমণ করবে বিজেপি। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্রিগেড সভা (PM Modi Mega Rally) শাসক দল তৃণমূলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার এক বড় হাতিয়ার।

    রথযাত্রার মহামিলন (PM Modi Mega Rally)

    রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলার পাঁচটি ভিন্ন প্রান্ত থেকে যে পাঁচটি ‘পরিবর্তন রথ’ যাত্রা শুরু হয়েছে। এবার সেগুলির গন্তব্য ব্রিগেড। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—রাজ্যের প্রতিটি কোণ ছুঁয়ে আসা এই পাঁচটি রথ ১৪ মার্চ সকালেই কলকাতায় এসে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi Mega Rally) উপস্থিতিতে এই পাঁচটি রথ একসঙ্গে ব্রিগেডে মিলিত হওয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনের ডাককে আরও জোরালো করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

    ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক

    রাজ্য বিজেপি সূত্রের খবর, ব্রিগেডের এই জনসভাটি হবে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। এর আগে গত লোকসভা নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Mega Rally) একাধিক জনসভা করেছিলেন, তবে বিধানসভা ভোটের আগে এই ব্রিগেড সমাবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মনে করা হচ্ছে, এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবেন এবং ‘আসল পরিবর্তন’-এর ডাক দেবেন।

    পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত

    বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার এই পাঁচটি রথ রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র পরিক্রমা করে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ এবং আশীর্বাদ সংগ্রহ করেছে। ব্রিগেডের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi Mega Rally) যখন ভাষণ দেবেন, তখন এই পাঁচটি রথ হবে জনসমর্থনের প্রতীকী প্রতিফলন। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই এই সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ব্রিগেড সমাবেশের মূল লক্ষ্য হল, রাজ্যের প্রতিটি জেলা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ব্রিগেডে নিয়ে আসা। বিশেষ করে গ্রামবাংলার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে বুথ স্তর পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতাদের মতে, ব্রিগেডের জনসমাগমই প্রমাণ করে দেবে যে বাংলার মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই মুখ

    রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যখন তাদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছে, তখন পাল্টা বিজেপিও প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi Mega Rally) স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের উন্নয়নের খতিয়ানকে হাতিয়ার করছে। ১৪ মার্চের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো ইস্যুগুলোতে রাজ্য সরকারকে নিশানা করতে পারেন।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের এই জনসভা শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী সভা নয়, বরং এটি বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির এক বড় প্রদর্শন হতে চলেছে। মার্চ মাসের এই সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোট ঘোষণার প্রাক্কালে রাজ্যজুড়ে একটি জোরালো হাওয়া তৈরি করা যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi Mega Rally) এই সফরের পর বিজেপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় হেভিওয়েট নেতারাও দফায় দফায় রাজ্যে প্রচারে আসবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, ১৪ মার্চের ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক আঙ্গিনা।

    পোস্টার ফ্লেক্সে প্রচার তুঙ্গে

    মোদির (PM Modi Mega Rally) সমাবেশকে ঘিরে আগামী ১৪ মার্চের এই মেগা র‍্যালি সফল করতে কোমড় বেঁধে নেমেছে বঙ্গ বিজেপি। প্রতিটি জেলা থেকে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বাসে করেও কয়েক লক্ষ কর্মীকে কলকাতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মোদির এই ব্রিগেড সভাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে পোস্টার ও ফ্লেক্সের দাপট।

    ২০২১ সালের কথা মাথায় রেখে ২৬ সালের রণনীতি স্থির

    ইতিমধ্যে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় (PM Modi Mega Rally) অংশ গ্রহণ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় হেভিওয়েট নেতারা। যেমন- কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্করসিং ধামী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, বিপব দেব, ভুপেন্দ্র সিং, অর্জুন মুন্ডা সহ আরও অনেকে। ২০২১ সালের কথা মাথায় রেখে ২৬ সালের রণনীতি স্থির হবে। সংগঠন এবার যথেষ্ট শক্তিশালী। টিকিট বিতরণের ক্ষেত্র নেওয়া হবে একাধিক পদক্ষেপ। প্রত্যেক জেলায় প্রতিটি আসনের তরফে তিন জন করে নাম প্রস্তাব করা হবে। এরপর নির্বাচন বিষয়ক কমিটির ভিত্তিতে দেওয়া হবে। জেলা স্তরের রিপোর্ট এবং কেন্দ্রীয় স্তরের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে প্রার্থী তালিকা। ইতিমধ্যে সল্টলেকের অফিসে শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, বিপ্লব দেব এবং ভুপেন্দ্র সিং যাদব ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন।

  • Cooch Behar: কোচবিহারে বিজেপির রথযাত্রা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, খাগড়াবাড়িতে রথ ভাঙচুর! কাঠগড়ায় তৃণমূল

    Cooch Behar: কোচবিহারে বিজেপির রথযাত্রা ঘিরে তুমুল উত্তেজনা, খাগড়াবাড়িতে রথ ভাঙচুর! কাঠগড়ায় তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের (Cooch Behar) খাগড়াবাড়ি এলাকা। বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা বা রথযাত্রাকে (BJP Ratha Yatra) কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, বুধবার রাতে তাদের রথ লক্ষ্য করে ভাঙচুর চালিয়েছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা।

    স্পর্শকাতর এলাকা (Cooch Behar)!

    বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা সায়নদীপ গোস্বামী ও তাঁর অনুগামীরা বুধবার রাতে অতর্কিতে রথের (BJP Ratha Yatra) ওপর হামলা চালায়। উল্লেখ্য, খাগড়াবাড়ির (Cooch Behar) যে অংশে এই উত্তেজনা ছড়িয়েছে, সেখানেই কিছুদিন আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এলাকাটি অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর, তাই বিরোধীদের কাজকর্মকে বারবার টার্গেট করে গণতান্ত্রিক অধিকারকে নস্যাৎ করছে বলে বিজেপির অভিযোগ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই খাগড়াবাড়ি এলাকায় পরিবেশ থমথমে। রাস্তার দু’ধারে লাঠি ও বাঁশ হাতে দু’পক্ষের প্রচুর কর্মী-সমর্থক জড়ো হয়েছে। যে কোনও সময় বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক চাপানউতোর

    বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “তৃণমূল ধারাবাহিকভাবে কোচবিহার (Cooch Behar) এই অঞ্চলে সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা করছে। অনুপ্রবেশকারীদের মদত নিয়ে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, “কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তারই প্রতিফলন হতে পারে এই ঘটনা।” তবে প্রশাসনিক ভাবে এলাকার আইন শৃঙ্খলা যে বিঘ্নিত হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভোটের মুখে কোচবিহারের এই অশান্তি প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। পুলিশ বর্তমানে কড়া নজরদারিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদের শীতলকুচি (Cooch Behar) থেকে এই রথযাত্রার সূচনা করার কথা ছিল। সেই উদ্দেশ্যে রথটি কোচবিহারের জেলা কার্যালয় থেকে পুণ্ডিবাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় মহিষবাথান এলাকায় আক্রমণের মুখে পড়ে। স্থানীয়দের অবশ্য অভিযোগ, একটি বোলেরো গাড়িতে আসা ৭-৮ জন দুষ্কৃতী হঠাৎ রথটি থামিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বিজেপির দাবি, স্থানীয় তৃণমূল যুব নেতা সায়নদীপ গোস্বামীর নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অবিলম্বে এই তৃণমূল নেতার গ্রেফতারি চান।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    ঘটনার প্রতিবাদে বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায়ের নেতৃত্বে কর্মীরা পুণ্ডিবাড়ি মোড়ে (Cooch Behar) পথ অবরোধ করে। সুকুমারবাবু বলেন, “তৃণমূল কাপুরুষের মতো অন্ধকারে হামলা চালিয়েছে। ক্ষমতা থাকলে সামনে এসে লড়াই করুক।” ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে ক্ষতিগ্রস্ত রথটি পুনরায় জেলা কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্ধারিত সূচি মেনেই রথ শীতলকুচি যাবে।

    তৃণমূলের পাল্টা দাবি

    হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কোচবিহার (Cooch Behar) জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। তাঁর দাবি, “স্রেফ প্রচারের আলোয় থাকার জন্যই বিজেপি নিজেরা গাড়ি ভাঙচুর করে তৃণমূলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ থাকতে পারে, যার দায় তৃণমূলের নয়।”

    দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা

    ঘটনার খবর পেয়ে পুণ্ডিবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় দু’পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। গত ১ মার্চ থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন কোচবিহার (Cooch Behar) থেকে পরিবর্তন যাত্রার (BJP Ratha Yatra) সূচনা করেছেন। রাজ্যে একসঙ্গে ৯টি জায়গা থেকে এই রথ বের হয়েছে। কোচবিহারে এই রকম ভাবে রথযাত্রার উপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়েছে রাজ্যজুড়ে।

  • PM Modi: বঙ্গে আসন্ন নির্বাচন, রাজ্যবাসীকে বাংলায় খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, দিলেন ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক

    PM Modi: বঙ্গে আসন্ন নির্বাচন, রাজ্যবাসীকে বাংলায় খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, দিলেন ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করবে বিজেপি। এরপর ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) জনসভা থেকে বিধানসভা ভোটের ভেরি বাজাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, রাজনাথ সিং, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, শিবরাজ সিং চৌহান, নিতিন গড়করি, স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েটরা রাজ্যে আসবেন (Assembly Polls)। এহেন আবহেই বঙ্গবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই চিঠিতে রাজ্যের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দি এবং বাংলা ভাষায় লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্ন দেখেন এমন প্রত্যেকেই কষ্ট পাচ্ছেন।

    রাজ্যের ভবিষ্যৎ (PM Modi)

    চিঠিতে তিনি বলেছেন, আগামী মাসগুলিতে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এই সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর নির্ভর করে। রাজ্যকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে তাঁর সংকল্পের কথা ফের একবার মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যবাসীকে উন্নয়ন যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিটি মা কালীর প্রশংসা দিয়ে শুরু করেছেন। তিনি লিখেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি দেশকে অনেক মহান ব্যক্তিত্ব দিয়েছে। ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার জনকল্যাণ ও সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষক, যুবক, মহিলা এবং দরিদ্রদের জন্য চালু করা প্রকল্পগুলি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। জন-ধন-যোজনার আওতায় লাখ লাখ মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন (Assembly Polls)। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং শিল্পকে ঋণের সুবিধা দিয়েছে, সুযোগ বৃদ্ধি করেছে কর্মসংস্থানের (PM Modi)।”

    উন্নত বাংলার প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি বাংলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। বাংলার মা ও বোনেরা নিরাপদ নন। অবৈধ অভিবাসন এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসা রাজ্যকে কলঙ্কিত করেছে। সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি, হিংসা এবং অরাজকতার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে রাজ্য। ভুয়ো ভোটাররা আস্তানা গেড়েছে। এই অবৈধ অভিবাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে আমাদের, অনুসরণ করতে হবে সুশাসন। ওই চিঠিতেই প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়নে শীর্ষস্থান দখল করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি এবং তোষণমূলক রাজনীতি রাজ্যের অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুবসমাজের অভিবাসন এবং বিনিয়োগের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    মহান ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ

    ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, মহান ব্যক্তিত্বদের আশীর্বাদপ্রাপ্ত বাংলার ভূমির একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তিনি রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্রদের জন্য আবাসন এবং মহিলাদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন (Assembly Polls)।

    ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’

    চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের মধ্যে রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য।” প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমার স্বপ্নের সোনার বাংলার নারী, পুরুষ ও শিশুরা চরম বঞ্চনার শিকার। তাঁদের কষ্ট, যন্ত্রণা, বঞ্চনা আমার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করছে।” তিনি জানান, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে সমৃদ্ধ ও উন্নত রাজ্যে রূপান্তরিত করার শপথ নিয়েছেন। তাঁর বার্তা, “উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পথে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে (PM Modi)।”

    বিকশিত বাংলা গড়ার অঙ্গীকার

    চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত বাংলা গড়ার অঙ্গীকারও করেন। বলেন, রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান ও জনজীবন উন্নয়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজ্যের মানুষের সিদ্ধান্তের ওপরেই। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যা গুরুতর আকার নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সমস্যা রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “নারী-সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি (Assembly Polls)। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করছে মানুষের বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের ওপর (PM Modi)।”

     

  • BJP in Bengal: সাইলেন্ট পিরিয়ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করতে হবে উঠোন-বৈঠক, বিজেপি বিধায়কদের নির্দেশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

    BJP in Bengal: সাইলেন্ট পিরিয়ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করতে হবে উঠোন-বৈঠক, বিজেপি বিধায়কদের নির্দেশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সমস্ত বুথ ভিত্তিক জনসংযোগ শেষ করতে হবে। বঙ্গ বিজেপির বিধায়কদের (BJP in Bengal) পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে সম্পূর্ণ জনসংযোগের কাজ। সামনেই নির্বাচন তাই গেরুয়া শিবির বিধায়কদের সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্বাচনকে মাথায় রেখে বিজেপির সাফ কথা, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে (Assembly Election) বুথ ভিত্তিক জনসংযোগ চালাতে হবে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি করে বুথে টহল দিতে হবে। বাড়ির উঠোনে উঠোনে বৈঠক করতে হবে।

    নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি ইস্যু অস্ত্র বিজেপির (BJP in Bengal)

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) বিজ্ঞপ্তি এখনও ঘোষণা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলি নিজের নিজের প্রচার শুরু করে দিয়েছে। বিজেপি (BJP in Bengal) এখন থেকেই বুথ ভিত্তিক প্রচার শুরু করেছে। ভোটের আগেই নিজের নিজের প্রচার নিয়ে সকল দল এখন ময়দানে নেমে পড়েছে। বিজেপি শাসল শিবিরকে নারী সুরক্ষা, দুর্নীতি ইস্যুতে আক্রমণ করছে। ওপর দিকে তৃণমূল নিজেদের ১৫ বছরের ভালো কাজ গুনছে। ভোটের আবহে নরমে-গরমে ক্রমেই পারদ চড়ছে।

    সাইলেন্ট পিরিয়ডে বাড়ির উঠোনে বৈঠক

    রাজ্যে এখন মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, মাধ্যমিক শেষ হলে আবার উচ্চ মাধ্যমিক শুরু হবে। ফলে পরীক্ষার আবহে বড় বড় প্রচারের দিককে কিছুটা হালকা করে সাইলেন্ট পিরিয়ডে বাড়ির উঠোনে বৈঠক করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এখন মাইক বাজিয়ে জনসভা করাটা ঠিক নয় তাই সময়কে কাজে লাগিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সময় এবং অবসরকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি বেশি মানুষের দরজায় কীভাবে পৌঁছানো যায়, সেই রণনীতি ঠিক করেছে বিজেপি (BJP in Bengal)।

    মানুষের সুবিধা, অসুবিধার কথা শুনতে হবে

    বাংলার বিজেপি (BJP in Bengal) বিধায়কদের (Assembly Election) কেন্দ্র নেতৃত্ব সাফ নির্দেশ দিয়েছে, চলতি মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে বুথ ভিত্তিক জনসংযোগের কাজ শেষ করতে হবে। প্রতিটি পাঁচটি করে বুথ এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হবে। মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। একই ভাবে এলাকার মন্দিরে মন্দিরে ঘুরতে হবে। দলের নিচু তলার কর্মীদের সঙ্গে করতে হবে ভোজন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। মানুষের সুবিধা, অসুবিধার কথা শুনতে হবে। এলাকায় এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে উঠোনে বৈঠক শুরু করতে হবে।

    পরামর্শ বাক্স এবং পরামর্শ ফর্ম নেবে বিজেপি

    বুথে বুথে এই জনসংযোগের সময়ে পরামর্শ বাক্স এবং পরামর্শ ফর্ম সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে বিধায়কদের। এবারের বিজেপির সংকল্পপত্র কেমন হওয়া উচিত, তাতে কী কী ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত, সেগুলি সরাসরি জনতার মতামত নেওয়ার জন্য বিজেপি এই বাক্সে জমা নিয়ে দেবেন। দুবরাজপুরের বিধায়ক (Assembly Election) অনুপ সাহার কথায়, ‘‘এ বার আমাদের সঙ্কল্পপত্রে শুধু রাজ্যভিত্তিক পরিকল্পনা থাকবে না। বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় সমস্যা সমাধানের কথা বা স্থানীয় চাহিদা পূরণের কথাও থাকবে। তাই বুথে বুথে যখন ঘুরব, তখন সেখানকার বাসিন্দারা একেবারে পাড়া স্তরের সমস্যা বা চাহিদার কথাও ফর্ম পূরণ করে জানাতে পারবেন।’’

    ইতিমধ্যে বিজেপি (BJP in Bengal) প্রত্যকে এলাকায় স্থানীয় সমস্যা এবং স্থানীয় অভাবের ভিত্তিতে চার্জশিট প্রকাশ করা হচ্ছে। একইভাবে বিজেপি ক্ষমতায় আসলে কী কী করবে সেই বিষয়ে সংকল্প পত্র প্রকাশের কথাও বলা হয়েছে।

  • BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এই আবহে নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ বা ইস্তাহার (Sankalp Patra) তৈরিতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করল রাজ্য বিজেপি। গতানুগতিকভাবে দলের গুটি কয়েক নেতার ঘরে বসে ইস্তাহার তৈরির প্রথা ভেঙে, এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিয়ে ইস্তাহার গড়ার সিদ্ধান্ত নিল পদ্ম শিবির। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    মানুষের কথা শুনে সংকল্প পত্র

    এবার নির্বাচনী সংকল্পপত্রে (BJP Sankalpa Patra) মানুষের সমস্যা ও চাহিদার কথাই তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। সেজন্য বড় পদক্ষেপ করল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের কোণায় কোণায় মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার উদ্যোগ নেওয়া হল। একইসঙ্গে একটি নম্বরও জানানো হল রাজ্য বিজেপির তরফে। যে নম্বরে ফোন করে যে কেউ নিজের পরামর্শ জানাতে পারবেন। মানুষের সেই সব পরামর্শ গ্রহণ করেই নির্বাচনী সংকল্পপত্র তৈরি করা হবে বলে শনিবার জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি (Shamik Bhattacharya) এদিন জানান, ‘এই সরকারের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুক্তি যখন নিশ্চিত, তখন আপনারাও আপনাদের পরামর্শ দিন।’ মানুষের দাবি ও সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার জন্য রাজ্যজুড়ে ১০০০টি জায়গায় ড্রপ বক্স বসানো হচ্ছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ড্রপ বক্সে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন।

    কেন এই অভিনব পদক্ষেপ

    পাশাপাশি, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে বিজেপি। মতামত জানানোর জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু (Toll Free Number) করা হয়েছে, নম্বরটি হল— ৯৭২৭২৯৪২৯৪। এছাড়াও কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইমেল মারফতও যে কেউ তাঁদের পরামর্শ পাঠাতে পারবেন। বিজেপির লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো। রাজ্যে ভারী শিল্প আনতে এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শিল্পপতিদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় ১০ হাজার চিঠি লিখছে দল। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনও দলের সরকার না হয়ে যাতে মানুষের সরকার হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ফেব্রুয়ারির মাসের শেষেই আমরা এই সংকল্পপত্র নিয়ে মানুষের কাছে যাব।’ তিনি আরও বলেন, “অতীতে বাংলায় দেখা গিয়েছে, ইস্তাহার নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত প্রকাশ হত। দলের কয়েকজন মুষ্টিমেয় এই ইস্তাহার করে।” কোনও দলের সরকার না হয়ে, যাতে মানুষের সরকার হয়, সেজন্য সংকল্প পত্রে মানুষের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে মত শমীকের।

  • Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইভিএম, ভি ভি প্যাটের পর এবার গণনা কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। চলতি বছর রাজ্যে যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026) হতে চলেছে তার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (ECI)। সেই মোতাবেক রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০টি গণনা কেন্দ্রকে চূড়ান্ত করতে পেরেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতর। বুধবার এই তালিকাই পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে। কমিশনের তরফে চূড়ান্ত শিলমোহর পড়লেই রাজ্যের এই গণনা কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রই নয়, কোন গণনা কেন্দ্রে কত রাউন্ড গণনা হবে তারও তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য (Assembly Election 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই রাজ্যে আসবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ফুল বেঞ্চ ঘুরে যাওয়ার পরেই অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই সব কাজ সেরে রাখছে। ইতিমধ্যেই ইভিএম, ভিভিপ্যাট থেকে শুরু করে বুথের সংখ্যা একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ছিল কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা চূড়ান্ত করার। এবার সেই সংখ্যাও চূড়ান্ত করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর পাঠাতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। সেখানে শিলমোহর পড়লেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সব রকম পদক্ষেপ করতে শুরু করবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর এই সংখ্যা বাড়তেও পারে (Assembly Election 2026)। তবে সাম্প্রতিক অতীতে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যে প্যারামিটার ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্যারামিটার ভেঙে নয়া মানচিত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভেতরে এবার থাকবে দু’টি করে ক্যামেরা, বুথের বাইরে একটি।

    নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা

    বাকি বুথগুলিতে ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেখানেও থাকবে প্রতি ক্ষেত্রে একটি করে ক্যামেরা, এর সঙ্গে থাকবে মোবাইল ভ্যান যার মাথায় লাগানো থাকবে একটি করে ক্যামেরা, আর এইসব ক্যামেরায় ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। যে পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে, তাতে এই বিধানসভা নির্বাচন সম্ভবত এক দফায়ই হতে চলেছে। আর সেই কারণেই রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গেলেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে এখনও প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আছে (ECI)। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিগত দিনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না করে নতুন আর এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানান, কমিশনের লক্ষ্য এবার একদিকে যেমন এক দফায় নির্বাচন করা, তেমনি অন্যদিকে রক্তপাতহীন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে মানুষকে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়া।

    স্পর্শকাতর, অতি-স্পর্শকাতর বুথ

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিস্তর বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের মধ্যে দিয়েই উঠে এসেছে স্পর্শকাতর থেকে শুরু করে অতি-স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার বুথের সামগ্রিক চিত্র। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর প্রতি বুথে যেমন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তেমনই এলাকায়ও টহলদারের কাজে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও নজরদারির কাজ চালাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীই। অর্থাৎ ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবার একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে চলেছে, তেমনি অন্যদিকে বিগত দিনের ইতিহাস মুছে ফেলে রাজ্যে নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, আদতে এই স্পর্শকাতর এবং অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেড়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে এবার রাজ্যে বুথের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ছুঁতে চলেছে (Assembly Election 2026)।

     

LinkedIn
Share