Tag: Atmanirbhar Bharat

Atmanirbhar Bharat

  • Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের (Jan Aushadhi Kendras) মাধ্যমে দেশের মানুষের ওষুধ কেনার খরচে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান (India) কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৪৯। দেশের ৭৮৪টি জেলার মধ্যে ৭৭৬টিতে ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ২০০৮ সালে স্বল্পমূল্যে মান-নিয়ন্ত্রিত জেনেরিক ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও, প্রথম দিকে এর অগ্রগতি ছিল ধীর। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প হিসেবে নতুনভাবে চালু হওয়ার পর দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হয়। ২০২১ সালের জুন মাসে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৩৬। ২০২৪ সালে তা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই বছরে বার্ষিক ওষুধ বিক্রি এক হাজার কোটি টাকার গণ্ডিও অতিক্রম করে। ২০২৫ সালের জুনে কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার, ৯১২ এবং তখন পর্যন্ত নাগরিকদের মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেরও কম সময়ে আরও তিন হাজারের বেশি নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা ২০ হাজার পেরিয়েছে এবং মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকায়।

    সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে বড় স্বস্তি (Jan Aushadhi Kendras)

    সরকারের দাবি, জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের দাম বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ-সহ নানা রোগের চিকিৎসায় মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে ব্র্যান্ডেড ওষুধের দোকান তুলনামূলক কম এবং চিকিৎসার খরচ পারিবারিক বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে দাবি সরকারের (Jan Aushadhi Kendras)।

    ওষুধের পাশাপাশি দাম কম অস্ত্রোপচার সামগ্রীরও

    বর্তমানে জন ঔষধি প্রকল্পে ২ হাজার ১১০ ধরনের ওষুধ এবং ৩১৫ ধরনের অস্ত্রোপচার-সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, অ্যালার্জি, পরিপাকতন্ত্রের রোগ থেকে শুরু করে পুষ্টি-সম্পূরক—প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধই এখন এই প্রকল্পের আওতায় মেলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় পরিচালকদের ২০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধ সবসময় মজুত রাখার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ১০০টি সর্বাধিক বিক্রিত ও বাজারে সর্বাধিক ব্যবহৃত আরও ১০০টি ওষুধও।

    মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি

    কম দামের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে (India) সংশয় রয়েছে, তা দূর করতে সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির শংসাপত্রপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকেই ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচ বাজারে আসার আগে জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি বোর্ড অনুমোদিত পরীক্ষাগারে মান যাচাই করা হয়। প্রকল্প পরিচালনাকারী ভারতীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যুরো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করে এবং কোথাও ঘাটতি ধরা পড়লে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় (Jan Aushadhi Kendras)।

    নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ

    জন ঔষধি কেন্দ্রগুলি সরাসরি সরকার পরিচালনা করে না। ব্যক্তি উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমিতি, ট্রাস্ট এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি অনলাইনে আবেদন করে এই কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় পরিচালকরা বিক্রির ওপর নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মাসিক প্রণোদনাও পান। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হিমালয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, প্রাক্তন সেনাকর্মী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির উদ্যোক্তাদের জন্য আসবাবপত্র ও কম্পিউটার কেনার উদ্দেশ্যে এককালীন ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতির সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে (Jan Aushadhi Kendras)। এ ছাড়া, মাত্র ১ টাকা দামে বিক্রি হওয়া জন ঔষধি সুবিধা স্যানিটারি ন্যাপকিন ইতিমধ্যেই ১০০ কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মহিলাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী সহজলভ্য হয়েছে, অন্যদিকে ওষুধ বিক্রির কেন্দ্রগুলির আয়ও বেড়েছে।

    সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

    দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওষুধ পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় গুদাম এবং চারটি আঞ্চলিক গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন পরিবেশকের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রায় ৪০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধের মজুত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। চাহিদার পূর্বাভাস নির্ধারণেও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে জন ঔষধি সুগম মোবাইল অ্যাপ। ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে নিকটতম কেন্দ্রের অবস্থান, ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের দামের তুলনা এবং ওষুধের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতার খবর জানা যায় (Jan Aushadhi Kendras)।

    সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে প্রচার

    শুধু ওষুধ বিক্রিই নয়, জেনেরিক ওষুধ সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যুরো, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, মাইগভ এবং মাই ভারত-এর সহযোগিতায় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার, সামাজিক মাধ্যম, প্রচারফলক ও বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে (India)। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট এবং টেলিফোনের মাধ্যমেও নাগরিকদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ ‘জন ঔষধি সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিবির, সচেতনতা র‍্যালি, ফার্মেসি কলেজে সেমিনার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ৭ মার্চ পালিত হয় ‘জন ঔষধি দিবস’।

    রাজ্যভিত্তিক বিস্তার

    জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ২ হাজার ৬০০-রও বেশি কেন্দ্র রয়েছে। এর পরে রয়েছে বিহার, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের মতো প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন জন ঔষধি কেন্দ্র চালু হয়েছে। ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়ও মানুষ এখন ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত উৎসের পরিবর্তে এই কেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভর করছেন। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশে ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করা। বর্তমানে মাত্র আটটি জেলায় এখনও কেন্দ্র খোলা বাকি রয়েছে। সেখানেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (Jan Aushadhi Kendras)। কেন্দ্রের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প একটি সীমিত পরিসরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পমূল্যের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই (India) দাবি সরকারের।

     

  • Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে (Shivaji Maharaj) শুধু একজন ঐতিহাসিক যোদ্ধা বা মারাঠা সাম্রাজ্যের (Samrajya Diwas) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এক প্রবন্ধে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত তিনশো বছরে ভারত যে কয়েকজন অনন্য সাধারণ শাসক দেখেছে, তাঁদের মধ্যে শিবাজি মহারাজ অন্যতম। লেখাটিতে তাঁর জীবন, প্রশাসন, সামরিক কৌশল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান সমাজের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা (Samrajya Diwas)

    প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, শিবাজির আবির্ভাবের বহু আগেই মহারাষ্ট্রের বহু সাধু-সন্ত তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। লেখকের দাবি, মুঘল শাসনের সময় হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শিবাজি হিন্দু সমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন এবং ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মানুষের মানসিক দাসত্ব ভেঙে দেওয়া। বহু স্থানীয় হিন্দু শাসক বিদেশি সুলতানদের অধীনে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও, শিবাজি স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখান। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্ম ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

    শিবাজি এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক

    ওই প্রবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, মুঘল আমলে নারী নির্যাতন, প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং একের পর এক হিন্দু মন্দির ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রেক্ষাপটে শিবাজির সংগ্রামকে সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। সেখানে (Samrajya Diwas) শিবাজিকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুযায়ী নতুন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করেন, দুর্গকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির সম্ভাব্য সামুদ্রিক হুমকি উপলব্ধি করে শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেন। লেখকের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর ভিত্তি নির্মাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখায় বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনে ফার্সির পরিবর্তে সংস্কৃত ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং রাজধর্ম পালনের নীতিকেও আদর্শ শাসনের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রসঙ্গে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির কাছে ভূমি কেবল কর আদায়ের ক্ষেত্র ছিল না, বরং তা ছিল পবিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তিনি বিভিন্ন মন্দির সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গোয়ার সপ্তকোটেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলম এবং তামিলনাড়ুর সমুদ্রতীরবর্তী কয়েকটি মন্দির পুনর্নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল (Samrajya Diwas) গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধে বাবরের সময় অযোধ্যার রামজন্মভূমি, আওরঙ্গজেবের আমলে কাশী বিশ্বনাথ ও মথুরার মন্দির ধ্বংসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শিবাজি সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনকে রাষ্ট্ররক্ষার অংশ হিসেবে দেখতেন। এই অংশে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্ধৃতিরও উল্লেখ রয়েছে (Shivaji Maharaj)।

    জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা

    লেখাটিতে সমকালীন সমাজের জন্যও একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিজস্ব ইতিহাস পুনর্লিখন ও গবেষণার প্রসার, শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয় সভ্যতার অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া, মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী কাঠামো সংরক্ষণ, সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুবসমাজকে রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির শাসনব্যবস্থা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত (Samrajya Diwas) করেছিল। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। লেখকের মতে, বর্তমান সমাজেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

    সনাতন ধর্মের আদর্শে দীক্ষিত শিবাজি

    সবশেষে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, শিবাজির জীবন ও আদর্শ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্র গঠন, সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রবন্ধের উপসংহারে শিবাজিকে সনাতন ধর্মের আদর্শে পরিচালিত এক দূরদর্শী শাসক হিসেবে (Shivaji Maharaj) উল্লেখ করে তাঁর চিন্তাধারাকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে (Samrajya Diwas) অভিহিত করা হয়েছে।

     

  • Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    Amit Shah: “হেডগেওয়ারের ‘নেশন ফার্স্ট’ দর্শন আজও ভারতের অগ্রগতির ভিত্তি”, বললেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএসের (RSS) প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বালিরাম হেডগেওয়ারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “হেডগেওয়ারের (Amit Shah) ‘নেশন ফার্স্ট’, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বদেশি ভাবনায় গড়ে ওঠা সংগঠিত সমাজের ধারণা আজও ভারতের অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।” এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা পরম পূজ্য ড. হেডগেওয়ারজির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।”

    হেডগেওয়ারের অবদান (Amit Shah)

    হেডগেওয়ারের অবদানের কথা স্মরণ করে শাহ বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি জাতি গঠন ও সামাজিক ঐক্যের লক্ষ্য নিয়ে তিনি আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।” তাঁর মতে, হেডগেওয়ার ‘নেশন ফার্স্ট’ এবং সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের আদর্শ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী ও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্র গঠনের। শাহ বলেন, “হেডগেওয়ার এমন একটি সংগঠিত সমাজের কল্পনা করেছিলেন, যা অস্পৃশ্যতা ও সামাজিক বৈষম্যমুক্ত হবে এবং আত্মবিশ্বাস ও স্বনির্ভরতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকবে। তাঁর সেই স্বদেশি-ভিত্তিক চিন্তাধারাই বর্তমানে ভারতের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে”।

    কী বললেন শাহ?

    হেডগেওয়ারের জীবন ও আদর্শের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “দেশমাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদনের এক অক্ষয় উৎস হল তাঁর জীবন (Amit Shah)।” এদিকে, এদিনই মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার ইচলকরঞ্জিতে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, “এক সময় ভারতে একটি গুলিও তৈরি হত (RSS) না। আজ আমরা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছি, এবং আত্মনির্ভর ভারতের শক্তি নিয়ে বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়ে আছি।” তিনি জানান, মোদি সরকারের আমলে আধুনিক এবং আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীকে (Amit Shah)।

     

  • Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    Peacekeeper Agniveg: ১৮০ কিমি দূরে শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করবে ‘শান্তিরক্ষী’! ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি ‘অগ্নিবেগ’ আত্মঘাতী ড্রোন, বাড়ল দূরপাল্লার নিখুঁত হামলার ক্ষমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতায় বড়সড় সংযোজন ঘটল। দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা এসএমপিপি-এর তৈরি ১০৬টি ‘পিসকিপার’ (ভারতে নাম ‘অগ্নিবেগ’) জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই সরবরাহের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নির্ভুল হামলার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীকে মোট ১০৬টি সিস্টেম সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত ইউনিট। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক লয়টারিং মিউনিশন ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মত।

    নকশা বেলারুশের, উৎপাদন ভারতে

    ২০২৫ সালে বেলারুশ এবং ভারতের মধ্যে প্রায় ১০০টি ‘পিসকিপার’ কামিকাজে ড্রোন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে ক্রেতা ছিল এসএমপিপি এবং বিক্রেতা ছিল বেলারুশের রাষ্ট্রায়ত্ত বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থা বেলস্পেৎসনেশটেকনিকা। প্রযুক্তি হস্তান্তর (Transfer of Technology) চুক্তির আওতায় এসএমপিপি ইতিমধ্যেই কামিকাজে ড্রোনের মিউনিশন (অস্ত্র) অংশের উৎপাদন দেশীয়ভাবে শুরু করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। অর্ডারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোনের বিভিন্ন উপাদান, এমনকি জেট ইঞ্জিন মোটর উৎপাদনের প্রযুক্তিও ভারতে স্থানান্তর করা হবে। সূত্রের খবর, এসএমপিপি ইতিমধ্যেই এই কামিকাজে ড্রোনের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণও প্রস্তাব করেছে, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম।

    কী এই ‘পিসকিপার’?

    ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ একটি টার্বোজেট ইঞ্জিনচালিত কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা শত্রু ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হামলা চালাতে সক্ষম। প্রচলিত নজরদারি ড্রোনের মতো এটি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফিরে আসে না। বরং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেই নিজেকে ধ্বংস করে দেয়। এই কারণেই একে ‘কামিকাজে ড্রোন’ বা ‘সুইসাইড ড্রোন’ বলা হয়। বিশেষভাবে ডিজাইন করা এই ড্রোন শত্রুপক্ষের উচ্চমূল্যের সামরিক কাঠামো, কমান্ড সেন্টার, রেডার স্টেশন, গোলাবারুদ ডিপো কিংবা সাঁজোয়া যানকে নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

    ১৮০ কিলোমিটার দূরে নিখুঁত আঘাত

    অগ্নিবেগ ড্রোনের অন্যতম বড় শক্তি তার দীর্ঘ পাল্লা। এটি প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত অভিযান চালাতে পারে। অর্থাৎ সীমান্তের অনেক ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ শত্রু লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর। শুধু পাল্লাই নয়, গতি এবং নির্ভুলতার দিক থেকেও এটি অত্যন্ত উন্নত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫০ কিলোমিটার বেগে উড়তে সক্ষম এই ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রোবাব্যল’ (CEP) ৫ মিটারেরও কম। সহজ ভাষায়, নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু থেকে এর বিচ্যুতি অত্যন্ত কম, ফলে অত্যন্ত নির্ভুল হামলা সম্ভব হয়।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধক্ষেত্রেও কার্যকর

    বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রশক্তিই নয়, ইলেকট্রনিক যুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শত্রুপক্ষ প্রায়ই জ্যামিং এবং স্পুফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনের যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ব্যাহত করার চেষ্টা করে। তবে ‘পিসকিপার’ বা অগ্নিবেগ-কে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এই ধরনের ইলেকট্রনিক বাধা অতিক্রম করেও মিশন সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ড্রোনটি আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিবেশেও সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

    অগ্নিবেগ ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● আঘাত হানার পাল্লা: সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার
    • ● সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার
    • ● নির্ভুলতা: সিইপি- ৫ মিটারের কম
    • ● ইঞ্জিন: দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত টার্বোজেট ইঞ্জিন
    • ● অপারেশন: স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল হামলা
    • ● সক্ষমতা: জ্যামিং ও স্পুফিং প্রতিরোধী

    সেনাবাহিনীর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবচালিত যুদ্ধবিমান বা সেনাদের সরাসরি ঝুঁকিতে না ফেলে শত্রু লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সেই ক্ষেত্রে অগ্নিবেগ ড্রোন ভারতীয় সেনাকে কম খরচে, দ্রুত এবং নির্ভুল আঘাত হানার নতুন ক্ষমতা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত সংঘাত বা উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধে এই ধরনের কামিকাজে ড্রোন শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করতে, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর বড় সাফল্য

    দেশীয় সংস্থা এসএমপিপি-র তৈরি এই ড্রোনের সফল সরবরাহ ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নতমানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, ‘অগ্নিবেগ’ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ভারতীয় সেনার হাতে ১০৬টি এই অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোনের অন্তর্ভুক্তি শুধু সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতাই বাড়াবে না, পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা মহলের বিশেষজ্ঞরা।

  • Union Cabinet: ‘সারফেস কয়লা/লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প প্রসার স্কিমে’ বরাদ্দ ৩৭,৫০০ কোটি টাকা

    Union Cabinet: ‘সারফেস কয়লা/লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প প্রসার স্কিমে’ বরাদ্দ ৩৭,৫০০ কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে ব্যাহত হয়েছে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা। এমতাবস্থায় ভারতের জ্বালানি স্বনির্ভরতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (Union Cabinet) বুধবার অনুমোদন করল ৩৭,৫০০ কোটি টাকার “সারফেস কয়লা/লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্প প্রসার স্কিম”। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ভারতের বিপুল পরিমাণ (Coal Lignite Gasification Scheme) কয়লা ও লিগনাইট ভান্ডার কাজে লাগিয়ে দেশীয়ভাবে সিনগ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন টন কয়লার গ্যাসিফিকেশন করা এবং আমদানি করা এলএনজি, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ও মিথানলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো।

    এই স্কিমের সুবিধা (Union Cabinet)

    এই স্কিমের আওতায় নয়া সারফেস কয়লা ও লিগনাইট গ্যাসিফিকেশন প্রকল্পগুলিকে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎসাহ দেওয়া হবে। প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতির খরচের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য করা হবে। প্রকল্পের অগ্রগতির বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে যুক্ত চারটি সমান কিস্তিতে এই সাহায্য দেওয়া হবে। অংশগ্রহণে ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি প্রকল্পের জন্য সর্বোচ্চ ৫,০০০ কোটি টাকা, একটি পণ্যের জন্য (সিন্থেটিক ন্যাচারাল গ্যাস ও ইউরিয়া বাদে) ৯,০০০ কোটি টাকা এবং একটি কর্পোরেট গোষ্ঠীর জন্য ১২,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাহায্য দেওয়া যাবে। সরকার “প্রোডাকশন অব সিনগ্যাস লিডিং টু কোল গ্যাসিফিকেশন” উপ-ক্ষেত্রের অধীনে নন-রেগুলেটেড সেক্টর লিংকেজ অকশন কাঠামোয় কয়লা সংযোগের মেয়াদ ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা দেবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ এবং দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    “আত্মনির্ভর ভারত”

    সরকার এই সিদ্ধান্তকে জ্বালানি ক্ষেত্রে “আত্মনির্ভর ভারতে”র দিকে একটি বড় পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে। ভারতের কাছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কয়লা ভান্ডার থাকলেও, বর্তমানে দেশটি তার এলএনজির ৫০ শতাংশের বেশি, প্রায় সমস্ত অ্যামোনিয়া এবং ৮০-৯০ শতাংশ মিথানল আমদানি করে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই বিকল্পযোগ্য পণ্যগুলির মোট আমদানি ব্যয় প্রায় ২.৭৭ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন-ইরান সংঘাতের ফলে এ বছরের শুরুতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভারতের এই দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে। এই অবরোধের জেরে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশকে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলে ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে বিকল্প সরবরাহের জন্য হিমশিম খেতে হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় (Union Cabinet) বেড়েছে এবং সার ও পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কৃষক ও শিল্পক্ষেত্রের ওপর।

    কয়লাকে সিনগ্যাসে রূপান্তর

    দেশীয় কয়লাকে সিনগ্যাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে, যা থেকে সিন্থেটিক ন্যাচারাল গ্যাস, ইউরিয়া, মিথানল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উৎপাদন করা যায়, এই প্রকল্প অর্থনীতিকে ভবিষ্যতের এমনতর ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেবে। ভারতের কাছে প্রায় ৪০১ বিলিয়ন টন কয়লা এবং প্রায় ৪৭ বিলিয়ন টন লিগনাইট মজুত রয়েছে। তাই ভারত গ্যাসিফিকেশন আমদানি নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। সরকারের অনুমান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২.৫-৩ লাখ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, কয়লাভিত্তিক অঞ্চলে প্রায় ৫০,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ৭৫ মিলিয়ন টন কয়লার গ্যাসিফিকেশন থেকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার বছরে প্রায় ৬,৩০০ কোটি টাকা আয় করবে। বাড়বে জিএসটি আদায়ের (Coal Lignite Gasification Scheme) পরিমাণও।

    ন্যাশনাল কোল গ্যাসিফিকেশন মিশন

    এই পদক্ষেপটি ২০২১ সালে চালু হওয়া ন্যাশনাল কোল গ্যাসিফিকেশন মিশন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত ৮,৫০০ কোটি টাকার পূর্ববর্তী স্কিমের ধারাবাহিকতা, যার অধীনে ইতিমধ্যেই আটটি প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল দু’মাসেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সীমিত থাকায় কমে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি। নয়াদিল্লিকে রাশিয়া ও অন্যান্য দূরবর্তী দেশ থেকে পরিবহণ খরচ বাবদ বেশি টাকা খরচ করে তেল কিনতে হচ্ছে (Union Cabinet)।

    নয়া গ্যাসিফিকেশন কর্মসূচির সুবিধা

    নয়া গ্যাসিফিকেশন কর্মসূচি শুধু দীর্ঘমেয়াদে এই আমদানির বিকল্প তৈরি করবে না, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের দরকষাকষির ক্ষমতাও বাড়াবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি হ্রাস ও “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন (Coal Lignite Gasification Scheme)।

     

  • Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    সুশান্ত দাস

    ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় এখন এক বিরাট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। শুরুতে এটি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কিন্তু কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয়— ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট (ICD) এবং সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”—প্রমাণ করছে যে আজকের ভারত আর শুধুমাত্র উন্নত প্ল্যাটফর্ম কেনায় আগ্রহী নয়। বরং যুদ্ধক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে চাইছে।

    কেন রাফাল এফ-৪ চুক্তি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই স্কোয়াড্রন ঘাটতি-র সমস্যায় ভুগছে। চিন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী সামরিক চাপের মধ্যে দ্রুত আধুনিকীকরণ ভারতের জন্য জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১১৪টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে—

    • ● বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো
    • ● উচ্চমানের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা
    • ● দেশীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া-কে এগিয়ে নেওয়া

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—

    • ● ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে সরাসরি সরবরাহ করা হবে।
    • ● ৬০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৯৬টি বিমান ভারতে তৈরি
    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল (HAL), টাটা (Tata) ও ফরাসি ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সাফরান (Safran)-এর শিল্প অংশীদারিত্ব
    • ● ভারতে নির্মিত জেটগুলিতে ৫০-৬০% দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে।
    • ● এটি সফল হলে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ শিল্পব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হত।

    মূল বিরোধ: ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি হস্তান্তর (ICD)

    এমআরএফএ চুক্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিমানের সোর্স কোড। এই সোর্স কোড হল যে কোনও যুদ্ধবিমানের মস্তিষ্ক। তবে, ফ্রান্স প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল যে সোর্স কোড তারা কখনই হস্তান্তর করবে না। ভারত তা মেনে নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। আলোচনার সময় নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, সোর্স কোড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, রাফালের আইসিডি অ্যাক্সেস দেওয়া হোক। আইসিডি মূলত একটি প্রযুক্তিগত নকশাপত্র, যা নির্ধারণ করে—

    • ● অস্ত্র সংযোজন কাঠামো
    • ● সেন্সর যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মিশন কম্পিউটার সংযোগব্যবস্থা
    • ● এভিওনিক্স তথ্য প্রবাহ

    ভারত আইসিডি চায় কারণ এটি ছাড়া দেশীয় অস্ত্র স্বাধীনভাবে সংযোজন করা সম্ভব নয়। ভারত যে দেশীয় সিস্টেমগুলি সংযোজন করতে চায়—

    • ● অ্যাস্ট্রা (Astra) দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● রুদ্রম (Rudram) অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড অস্ত্র (SAAW)
    • ● ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)
    • ● দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা
    • ● ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশীয় বীরূপাক্ষ রেডার (Virupaksha Radar)

    ভারত জানে যে, আইসিডি না থাকলে প্রতিটি সংযোজনের জন্য রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসোর অনুমোদন লাগবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের একাধিক সমস্যা হবে। যেমন—

    • ● অভিযানগত বিলম্ব হবে।
    • ● পুনরাবৃত্ত ব্যয় বৃদ্ধি হবে।
    • ● সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
    • ● যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থেকে যাবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বভৌমত্ব-র প্রশ্ন।

    কেন ফ্রান্স প্রযুক্তিতে আপস করতে চাইছে না?

    কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্রান্স বেঁকে বসে। ফ্রান্সের অনীহার মূলত তিনটি কারণ হল—

    প্রথমত, স্পেকট্রা (SPECTRA) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার গোপনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাফালের সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতা হল স্পেক্ট্রা। এটি নিয়ন্ত্রণ করে—

    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
    • ● রেডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● জ্যামিং ব্যবস্থা
    • ● প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • ● টিকে থাকার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

    ফ্রান্স মনে করে, এই জায়গায় প্রবেশাধিকার দিলে—

    • ● নিজস্ব মেধাস্বত্ব ফাঁস হতে পারে।
    • ● যুদ্ধনীতি প্রকাশ পেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, অনভিপ্রেত রফতানির নজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, ভারতকে যদি বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রেতারাও একই দাবি তুলতে পারে। এতে ফরাসি রপ্তানি মডেল দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, রুশ প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। ভারত ব্রহ্মোস সংযোজন করতে চায়, যা ভারত-রাশিয়া যৌথ ব্যবস্থার অংশ। ফ্রান্স আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে রুশ প্রকৌশল নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি স্পষ্টভাবে বদলেছে। আগে দেশের লক্ষ্য ছিল— কেবলমাত্র উন্নত বিদেশি প্ল্যাটফর্ম (সামরিক অস্ত্র, সামরিক যান) কেনা। কিন্তু, ২০২৬ সালে ভারতের লক্ষ্য হল—

    • ● সার্বভৌম জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন ও আপগ্রেড ক্ষমতা
    • ● স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পব্যবস্থা

    ভারত বুঝেছে, আমদানিকৃত প্ল্যাটফর্ম তখনই কৌশলগত সম্পদ যখন—

    • ● সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ থাকে
    • ● অস্ত্র সংযোজন স্বাধীন হয়
    • ● বিদেশি অনুমোদন-নির্ভরতা না থাকে

    ২০১৬ সালের ৩৬টা রাফাল চুক্তি থেকে ভারতের শিক্ষা হয়েছে যে, সীমিত প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকৃত কৌশলগত স্বনির্ভরতা দেয় না। ফলে নয়াদিল্লি এখন শুধু সংযোজন লাইন নয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব চাইছে। তবে, ভারতের এই দাবিও খারিজ করে ফ্রান্স। যার পরেই, ভারতের তরফে ফ্রান্স ও দাসোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”।

    চুক্তি ভেস্তে গেলে কী হতে পারে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাফাল চুক্তি না হলে ভারত কী করবে? এক্ষেত্রে ভারতের হাতে যে যে বিকল্প থাকবে, সেগুলি হল—

    প্রথমত, তেজস মার্ক ২ (Tejas Mk2) যুদ্ধবিমানের গতি বৃদ্ধি করতে পারে। রাফাল চুক্তি ভেঙে গেলে তেজস মার্ক ২-তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়বে। এতে সুবিধা হবে—

    • ● পূর্ণ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
    • ● দেশীয় সংযোজন
    • ● জীবনচক্র সার্বভৌমত্ব

    অসুবিধাও আছে। যেগুলি হল—

    • ● উন্নয়নে বিলম্ব
    • ● সক্ষমতা পরিপক্বতার ঝুঁকি

    দ্বিতীয়ত, ভারত অ্যামকা (AMCA) কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি করতে পারে। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম যুদ্ধবিমান প্রকল্প। রাফাল ব্যর্থ হলে অ্যামকা আরও কৌশলগত অগ্রাধিকার পাবে।

    তৃতীয়ত, রাশিয়া বিকল্প হিসেবে ফিরে আসা। রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই সু-৫৭ই (Su-57E) নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

    রাশিয়ার সুবিধা—

    • ● গভীরতর প্রযুক্তি হস্তান্তর
    • ● স্থানীয় উৎপাদনে নমনীয়তা

    ঝুঁকি—

    • ● মার্কিন ক্যাটসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা
    • ● ভূরাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

    ফ্রান্সের জন্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কত বড়?

    অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তি বাতিল হলে, বড় সমস্যায় পড়ে যাবে ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে এই চুক্তি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। ১১৪টি বিমানের অর্ডার মানে—

    • ● দাসো-র উৎপাদন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
    • ● সরবরাহকারী শিল্পব্যবস্থার স্থায়িত্ব কমবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি হ্রাস পাবে ফ্রান্সের
    • ● ১৮ থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়াবে ফ্রান্স, যা সেদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
    • ● ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক অংশিদারিত্বে যেতে চাইবে না অন্যান্য দেশ।

    ফ্রান্স ভালোই জানে যে, চুক্তি হারালে দেশের রফতানি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে, উৎপাদন লাইনে চাপ বাড়বে। তা সত্ত্বেও কিন্তু প্যারিস সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বে আপস করতেও অনিচ্ছুক। ফলে ফ্রান্স একটি ধন্দে পড়ে গিয়েছে। একদিকে, প্রযুক্তি সুরক্ষা অন্যদিকে রফতানি টিকিয়ে রাখা। কয়েক দিন আগে, রাফাল এফ-৫ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেখানেও কারণ একই। প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে অপট্রনিক্সের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে। যা ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে। এবার একই ধরনের পরিস্থিতি এখন ভারতের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমিরশাহি এবং ভারতের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করে অন্যান্য দেশও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সের সঙ্গে অনুরূপ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আগে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার ও নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে।

    বৃহত্তর কৌশলগত তাৎপর্য

    ভারত-ফ্রান্সের এই বিরোধ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তি আর শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ক্রয় নয়। নতুন যুগের সামরিক শক্তি নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। যেমন—

    • ● সফটওয়্যার মালিকানা
    • ● ডিজিটাল স্থাপত্য নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন সক্ষমতা
    • ● ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন

    ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। তা হল— “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্থানীয় সংযোজন প্রকৃত দেশীয়করণ নয়।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন। অস্ত্র সংযোজন এবং সফটওয়্যারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, সবচেয়ে উন্নত প্ল্যাটফর্মও সক্ষমতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি শুধু রাফাল চুক্তি নয়, ভবিষ্যতের পশ্চিমি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্যও একটি মানদণ্ড।

    টার্নিং পয়েন্ট…

    রাফাল এফ-৪ আলোচনা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ভারত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ক্রয়ের চেয়ে অভিযানগত সার্বভৌমত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স মূল প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতে চায়, আর ভারত বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ স্থাপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। তা হল— ফ্রান্স কি ভারতকে যথেষ্ট ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রস্তুত, নাকি সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিশ্বের অন্যতম বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ভেস্তে যাবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে—এই আলোচনা শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, বরং একবিংশ শতকের প্রতিরক্ষা শিল্পে সার্বভৌমত্ব বনাম নির্ভরতার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে।

  • কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের (Congress) ভোট চুরির অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শুক্রবার তিনি বলেন, “গত কয়েক দশক ধরে দলটি মানুষের সমর্থন হারাচ্ছে এবং মিলেনিয়ালরা বিরোধী দলকে শিক্ষা দিয়েছে, এবার জেন জেডও প্রস্তুত”। ‘রাইজিং ভারত সামিটে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতৃত্বাধীন সরকারকেও নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই রাজ্য সরকারগুলি কেন্দ্রের কিছু কল্যাণমূলক প্রকল্প আটকে দিয়েছে।

    “শার্টলেস প্রতিবাদ” নিয়ে তোপ (PM Modi)

    এআই সামিট চলাকালীন ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ প্রতিবাদ নিয়ে তিনি কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “বিরোধী দল বিদেশি অতিথিদের সামনে শুধু পোশাকই খোলেনি, নিজেদের মতাদর্শগত দেউলিয়াপনাও প্রকাশ করেছে।” তাঁর অভিযোগ, আদর্শের নামে কংগ্রেস এখন শুধু বিরোধিতার টুলকিটে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার মিত্ররা কখনও সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করেনি। গরিব মানুষের কষ্ট নিয়ে তাদের কোনও উদ্বেগ নেই (PM Modi)। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে আজ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় সারা দেশে দরিদ্রদের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। তামিলনাড়ুতে প্রায় ৯.৫ লক্ষ বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে ৩ লক্ষ বাড়ির নির্মাণ আটকে রয়েছে। “কেন? ডিএমকে সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেন?”

    ইন্ডি জোট

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হবে চলতি বছরের প্রথমার্ধে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে কংগ্রেসের সঙ্গে ইন্ডি জোটের অংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের প্রতিবাদে মানুষের ক্ষোভ বাড়ায় কংগ্রেস মহাত্মা গান্ধীকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে। এআই সামিট ছিল দেশের গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু দেশের প্রাচীনতম দল সেই অনুষ্ঠান কলঙ্কিত করতে চেয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, “পাপ ঢাকতে হলে কংগ্রেস (Congress) বাপুকে সামনে আনে, আর কৃতিত্ব নিতে হলে একটি পরিবারের নাম করে।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “কংগ্রেসের ভোট কেউ চুরি করছে না, বরং মানুষ আর তাদের যোগ্য মনে করছে না। ১৯৮৪-র পর থেকেই কংগ্রেসের ভোট কমতে শুরু করেছে। এখন মাত্র চারটি রাজ্যে তাদের ৫০-এর বেশি বিধায়ক রয়েছে।” এর পরেই তিনি বলেন, “প্রথমে মিলেনিয়ালরা শিক্ষা দিয়েছে, এখন জেন জেডও প্রস্তুত।” ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জাতি গঠন স্বল্পমেয়াদি চিন্তায় হয় না, এর জন্য প্রয়োজন বড় দৃষ্টি, ধৈর্য ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

    কংগ্রেসকে তোপ

    গণতন্ত্রে বিরোধিতা মানে অন্ধ বিরোধিতা নয়, বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস সব ভালো কাজেরই বিরোধিতা করে, যেমন নতুন সংসদ ভবন নির্মাণ বা অশোক স্তম্ভের সিংহ প্রতীক (PM Modi)।” তিনি জানান, বিদেশি জাহাজে পণ্য পরিবহণে বছরে ৬ লাখ কোটি টাকা, সার আমদানিতে ২.২৫ লাখ কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ১১ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই অর্থ আত্মনির্ভরতার পথে আগে বিনিয়োগ করা হলে দেশ আরও শক্তিশালী হত। তিনি বলেন, “দেশীয় জাহাজ ও বন্দর পরিকাঠামো শক্তিশালী করা হচ্ছে, সারের উৎপাদন বাড়াতে নয়া কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে, ন্যানো ইউরিয়া, ইথানল মিশ্রণ, গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন, সৌর শক্তি ও ইলেকট্রিক মোবিলিটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে (Congress)।” প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারতে উৎপাদন বাড়ালে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমদানি নয়, রফতানির কথা বলবে। দূরদর্শিতার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রমই ২০৪৭ সালের আত্মনির্ভর ও সমৃদ্ধ ভারতের ভিত্তি।”

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্ক

    তিনি জানান, তাঁর সরকার ভারতকে বিশ্বের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিনে পরিণত করছে এবং উন্নত দেশগুলি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী।ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে জনধন-আধার-মোবাইল ‘ত্রয়ী’ এবং ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ২৪ লাখ কোটি টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “ভারত এখন সৌর শক্তিতে অগ্রণী, রেলব্যবস্থা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মেট্রো নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ভারত শুধু অনুসারী নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণেও অংশীদার। দেশের নিজস্ব এআই স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।” তিনি জানান, কৃষিখাতে ২৮ লাখ কোটি টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে এবং পিএম-কিষান প্রকল্পে ৪ লাখ কোটিরও বেশি টাকা সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটাই সঠিক সময়। আমাদের রুটিন কাজ নয়, বিশ্বমানের কাজ করতে হবে (Congress)।”

     

  • Asia Power Index 2025: ‘আত্মনির্ভরতা’-তেই বাজিমাত! ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে’ তৃতীয় ভারত, কোথায় পাকিস্তান?

    Asia Power Index 2025: ‘আত্মনির্ভরতা’-তেই বাজিমাত! ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে’ তৃতীয় ভারত, কোথায় পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক শক্তির দৌড়ে বিশ্ব তালিকায় আরও একধাপ উঠে এল ভারত। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার লোই ইন্সটিটিউটের তরফে এবছরের ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৫’ (Asia Power Index 2025) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, শক্তির তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। এই তালিকায় বর্তমানে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শুধুমাত্র আমেরিকা এবং চিন। এর পাশাপাশি ‘মেজর পাওয়ার’ তালিকাভুক্ত হয়েছে ভারত। এই তালিকায় প্রথম দশের মধ্যেও জায়গা পায়নি পাকিস্তান। তালিকায় অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশের স্থান ১৬ নম্বরে।

    কীভাবে তৈরি হয় এই ইনডেক্স

    অস্ট্রেলিয়ার একটি বিখ্যাত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লোই ইনস্টিটিউট তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। আটটি বিষয়ের ১৩১টি সূচকের উপর নির্ভর করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তারা। আটটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে সামরিক ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, সম্পর্ক, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব। সাতাশটি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। সেই তালিকায় প্রথমে রয়েছে আমেরিকা। লোই ইনস্টিটিউটের মতে, ১০০-র মধ্যে আমেরিকা পেয়েছে ৮১.৭। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিন পেয়েছে ৭৩.৭। আগের বারের চেয়ে চিনের পয়েন্ট বেড়েছে ১। আর এরপরই উঠে এসেছে ভারত। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত পেয়েছে ৪০। চতুর্থ স্থানে রয়েছে জাপান। আর পঞ্চম স্থানে রাশিয়া রয়েছে। ২০১৯ সালের পর রাশিয়ার অবস্থান উপরে উঠে এল। আর এই তালিকায় পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র ১৪.৫ পয়েন্ট।

    মেজর পাওয়ার ভারত

    এশিয়ায় সামরিক শক্তির দিক দিয়ে কোন দেশ এগিয়ে প্রতিবছর তার তালিকা প্রকাশ করে ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স’। কোনও দেশের সামরিক ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক শক্তি, কূটনৈতিক প্রভাব, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্পদের উপর ভিত্তি করে নম্বর দেওয়া হয়। এশিয়াতে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে বিশ্বের এমন দেশগুলিকেও ধরা হয় এই তালিকায়। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, এশিয়ার মধ্যে ভারত লাগাতার নিজের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। ২০২৫ সালে এই নিরিখে ভারতের স্কোর হয়েছে ৪০.০০। যার ভিত্তিতে তালিকায় মেজর পাওয়ার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। আগামী দিনে সেটাও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি

    অর্থনীতি থেকে সামরিক শক্তি, ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে ভারত। জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শত্রু দেশের সীমানায় ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতেও দু-বার ভাবে না। আবার কোভিড কালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার নতুন নজির গড়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বার্তার গুরুত্ব বেড়েছে। আর এই সবের ফলেই এশিয়ায় শক্তিশালী দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। করোনার মতো মহামারীর পর থেকে ভারতের অর্থনীতি দ্রুত উন্নত হয়েছে। এছাড়াও, বিশ্বব্যাপী ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলিতে ভারত উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। এর পাশাপাশি, সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাও শক্তিশালী হয়েছে।

    ভারতের আধিপত্য

    কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে ভারতের অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপানউতোর চলছে। আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মোকাবিলা করতে দেশবাসীকে ভারতীয় পণ্য আরও বেশি করে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মুহূর্তে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। খুব শীঘ্রই ভারত এক ধাপ উপরে উঠে আসবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে ভারত। এখন শুধু নিজের সেনাবাহিনীর জন্যই সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে না, রফতানিও বাড়িয়েছে। বিশ্বের দরবারে ভারতের সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে। যেকোনও হামলার মোকাবিলা করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি আরও বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় শত্রু দেশে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কয়েকমাস আগে অপারেশন সিঁদুরে সেটা ফের করে দেখিয়েছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ায় ক্রমশ আধিপত্য বিস্তার করছে ভারত।

    এক নম্বর, তবু পয়েন্ট কমেছে

    অন্যদিকে, এই তালিকায় এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে চিন। আমেরিকার পর সুপার পাওয়ার হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। যদিও ২০১৮ সালে এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স চালু হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে নিচে এসেছে আমেরিকার স্কোর। বিশ্লেষকদের অনুমান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাঁর গৃহিত নীতিগুলির জেরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চিন লাগাতারভাবে আমেরিকার সঙ্গে নিজেদের স্কোরের ব্যবধান কমিয়ে আনছে। ২০১৯ সালের পর এশিয়ায় রাশিয়া তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। মস্কোর ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উপস্থিতি মূলত চিন এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের জন্য দায়ী। ২০২৪ সালে রাশিয়াকে পিছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়া উপরে উঠে এলেও এবার রুশ ফের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে এবার নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে জাপানও। লোই ইনস্টিটিউটের একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারত ভবিষ্যতে একটি প্রধান এশীয় শক্তি হিসেবে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারে। এদিকে, এই তালিকায় প্রথম দশেও স্থান পায়নি। পাকিস্তান। ভারতের এই পড়শি দেশ রয়েছে ১৬ নম্বর স্থানে।

     

     

     

  • Lanza-N Radar: ঘুম উড়বে শত্রুর! ভারতের হাতে এল বিশ্বের সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    Lanza-N Radar: ঘুম উড়বে শত্রুর! ভারতের হাতে এল বিশ্বের সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় বিরাট লাফ ভারতের। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর দুরন্ত প্রতিফলন। আকাশপথে শত্রুর হামলা ঠেকাতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) হাতে এল বিশ্বের অন্যতম সেরা থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার (3D-ASR) সিস্টেম।

    ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে লাগল ‘ল্যাঞ্জা-এন’

    পোশাকি নাম ‘ল্যাঞ্জা-এন’ (Lanza-N Radar)। ভারতীয় নৌসেনার জন্য স্পেনের সংস্থা ‘ইন্দ্রা-ল্যাঞ্জা’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতেই এই সর্বাধুনিক আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করেছে দেশীয় কোম্পানি ‘টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড’ (টিএএসএল)। ইতিমধ্যেই প্রথম রেডার সিস্টেমটি নৌসেনার (Indian Navy) একটি রণতরীতে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্রমশ, এধরনের আরও ১৯টি থ্রিডি এয়ার সার্ভিল্যান্স রেডার সিস্টেম মোতায়েন করা হবে দেশের যুদ্ধজাহাজগুলিতে।

    কর্নাটকে টাটার কারখানায় তৈরি হচ্ছে

    জানা গিয়েছে, এটি ল্যাঞ্জা-এন আসলে ইন্দ্রার তৈরি ল্যাঞ্জা থ্রিডি রেডারেরই নৌ-সংস্করণ। প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে কর্নাটকে টাটার কারখানাতে এই রেডারগুলি তৈরি হচ্ছে। এই প্রথম স্পেনের বাইরে ল্যাঞ্জা-এন রেডার (Lanza-N Radar) কাজ করতে চলেছে। ২০২০ সালে হওয়া প্রায় ১৪ কোটি ডলারের (প্রায় ১২৮০ কোটি টাকা) চুক্তির আওতায় অবশেষে এটি মাঠে নামছে। কর্নাটকে টাটার কারখানায় এই রেডারগুলি তৈরি করবে। টিএএসএল জানিয়েছে, প্রথম কমিশনিংয়ের পর, ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) ফ্রিগেট, ডেস্ট্রয়ার এবং বিমানবাহী রণতরীতে অতিরিক্ত এই রেডার সিস্টেমকে জুড়ে ফেলা হবে।

    বিশ্বের সেরা এয়ার ডিফেন্স রেডারগুলির অন্যতম

    বিশ্বের সেরা দূরপাল্লার এয়ার ডিফেন্স এবং ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী রেডারগুলির মধ্যে এই রেডারের (Lanza-N Radar) স্থান একেবারে উপরের দিকে। এটি ত্রিমাত্রিক মডিউলে কাজ করে। ফলে, আকাশ ও ভূপৃষ্ঠের উভয় লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে পারে। রেডারটির সীমা প্রায় ৪৭০ কিমি। এটি ড্রোন, সুপারসনিক যুদ্ধবিমান, বিকিরণ-রোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নজর রাখতে পারে। পাশাপাশি নৌ প্ল্যাটফর্মও সনাক্ত করতে পারে এই রেডার। যে কারণে, দূরপাল্লার নজরদারির ক্ষেত্রেও যেমন এর জুড়ি মেলা ভার।

    ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের জয়জয়কার

    বর্তমানে দেশে তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সংখ্যা বেড়েই চলেছে ভারতে। কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের ফলে, বিদেশি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলি ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে তৈরি করছে একাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। সেই ক্ষেত্রে এই বড় সাফল্য পেল টিএএসএল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Atmanirbhar Bharat) স্লোগানের অন্যতম ফসল এই ত্রিমাত্রিক রেডার। টিএএসএল-এর তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই কৃতিত্ব অর্জন ভারতের প্রতিরক্ষা আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্থানীয়করণের সঙ্গে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও অ্যাসেম্বলির ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।”

  • Agni-5: শত্রুর বুকে কাঁপুনি! অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের, কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?

    Agni-5: শত্রুর বুকে কাঁপুনি! অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের, কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের সামরিক শক্তি দেখাল ভারত। বুধবার সফলভাবে দেশের সেরা ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ‘অগ্নি-৫’ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালানো হল। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ‘ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ অগ্নি-৫ পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

    ভারতের সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র

    ওড়িশার চাঁদিপুরের এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে অগ্নি-৫ সফলভাবে পরীক্ষা করে ভারত। এই ক্ষেপণাস্ত্র চিনের রাজধানী বেজিং‌ঙে আঘাত হানতে পারে! আমেরিকা, চিন, রাশিয়া, ফ্রান্স ও উত্তর কোরিয়া ছাড়া আর কোনও দেশের হাতে এই পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নেই। বর্তমানে, এটিই হল ভারতের সবচেয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের রেঞ্জ ৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই মিসাইলটিকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে ডিআরডিও। পরীক্ষার সময় ভারত মহাসাগরে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ, শক্তিশালী রেডার দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, দিশা, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত সহ রিয়েল-টাইম ফ্লাইট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই পরীক্ষায় সব কার্যকরী ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে। পরীক্ষার তত্ত্বাবধানে ছিল বাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড। এই বাহিনীই ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য কৌশলগত অস্ত্রের দায়িত্বে থাকে। আকাশের বুক চিরে এই ক্ষেপণাস্ত্রের যাওয়ার দৃশ্য দিঘা, এমনকী বাংলাদেশ থেকেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য চলতি মাসের গোড়ার দিকেই ভারত মহাসাগরে ৪,৭৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিমানবাহিনীর জন্য নোটাম জারি করেছিল কেন্দ্র। অসামরিক বিমান ও সামুদ্রিক যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লাইভ-ফায়ার পরীক্ষার সময় যেসব এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে তা চিহ্নিত করতে নোটাম জারি করা হয়।

    অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব

    ৫০ টন ওজনের প্রায় সাড়ে ১৭ মিটার লম্বা এবং ২ মিটার চওড়া অগ্নি-৫ একটি থ্রি-স্টেজ সলিড-ফুয়েল চালিত ক্ষেপণাস্ত্র। মাল্টিপল ইন্ডিপেন্ডেন্টলি টার্গেটেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকেল (MIRV) প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই ক্ষেপণাস্ত্র। অর্থাৎ, একবার উৎক্ষেপণ করা হলে, এটি একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে পারে। অগ্নি-৫ এর দেড় টন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র বহন করার ক্ষমতা রয়েছে। এখানেই শেষ নয়। রি-এন্ট্রির সময় এর গতি হয় ম্যাক ২৪। অর্থাৎ, শব্দের গতির ২৪ গুণ। ফলে, একে রোখা কার্যত অসাধ্য। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ক্যানিস্টার প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই কারণেই এটি সহজেই যেকোনও জায়গায় পরিবহণ করা যেতে পারে। এমনকী, রেলে করেও নিয়ে যাওয়া যায়। যে কারণে ‘অগ্নি ৫’ ক্ষেপণাস্ত্রকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ বলে মনে করা হয়।

    আত্মনির্ভর ভারতের উদ্যোগ

    ভারতের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া আদতে তার প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ অভিযান এবং আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে এ ধরনের উৎক্ষেপণ বারবার প্রমাণ করেছে যে, ভারত শুধু প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে নয়, সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও দ্রুত এগোচ্ছে। শুধুমাত্র চলতি বছরেই ভারত ১০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র বা সিস্টেম পরীক্ষা চালিয়েছে। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম প্রলয় কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং জুলাই মাসে আকাশ প্রাইম ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা।

LinkedIn
Share