Tag: Australia

Australia

  • India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    India: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সুরক্ষায় আমেরিকা-সহ ১১ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, জানালেন মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুরুত্বপূর্ণ খনিজের (Critical Minerals) নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতা আরও জোরদার করেছে ভারত (India)। অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে নয়াদিল্লি। ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে এ কথা জানান বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে ভারত ধারাবাহিকভাবে দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের যৌথ উদ্যোগে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    কী বললেন মন্ত্রী (India)

    মন্ত্রীর কথায়, “পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি, অর্ধপরিবাহী উৎপাদন, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলিতে নির্ভরযোগ্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ক্রমাগত দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও বিভিন্ন দেশের সমন্বিত সহযোগিতা জোরদার করার কাজ করছে।” তিনি জানান, খনিজ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, উচ্চমানের খনিজের দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহ বজায় রাখতে টেকসই পদ্ধতির প্রসারের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ভারত অংশীদার দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলির সঙ্গে কাজ করছে। মার্ঘেরিটা বলেন, “নির্ভরযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, জার্মানি, পেরু, জাপান, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, মঙ্গোলিয়া এবং আমেরিকার মতো দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।”

    জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন

    বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে জানান তিনি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন খনিজ নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের উত্তরসূরি হিসেবে গঠিত দায়িত্বশীল ভূ-কৌশলগত সম্পৃক্ততা মঞ্চ এবং চতুর্দেশীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাঠামোর উদ্যোগগুলিতে ভারত অংশ নিচ্ছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরও সুসংহত করা। ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে স্থিতিস্থাপক ও বহুমুখী খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সম্পূর্ণ সরবরাহ-শৃঙ্খল জুড়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি বিনিময় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে। দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশন চালু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, আকরিক থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান পৃথকীকরণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পণ্য থেকে খনিজ পুনরুদ্ধার—পুরো প্রক্রিয়াটিকেই শক্তিশালী করার (India) লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপ

    মন্ত্রী আরও জানান, “বর্জ্য থেকে খনিজ পুনর্ব্যবহার, প্রযুক্তি বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সংক্রান্ত সহযোগিতামূলক গবেষণার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খনিজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।” জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ মিশনের অধীনে বর্জ্য ও বাতিল ধাতব সামগ্রীর মতো দ্বিতীয় পর্যায়ের উৎস থেকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণের জন্য পুনর্ব্যবহার ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আর্থিক উৎসাহমূলক প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর (Critical Minerals) ফলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের পুনরুদ্ধার ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র (India)।

     

  • RBI: আগামী বছর থেকেই ভারতে চালু ১০, ২০ টাকার পলিমার নোট! প্রস্তুতি শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

    RBI: আগামী বছর থেকেই ভারতে চালু ১০, ২০ টাকার পলিমার নোট! প্রস্তুতি শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর থেকেই ভারতে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে পারে ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোটের (Polymer Currency Notes)। এই লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থাকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক প্রথম পর্যায়ে ১০ ও ২০ টাকার নোট নিয়ে পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। এই পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে অন্যান্য মূল্যমানের নোটও চালু করা হতে পারে। সফল হলে ২০২৭ সাল থেকেই দেশজুড়ে বড় পরিসরে পলিমার নোট চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত অস্বচ্ছ পলিমার শিট সরবরাহের জন্য বৈশ্বিক আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে।

    বৈশ্বিক দরপত্র আহ্বান (RBI)

    প্রস্তাবিত ক্রয়ের পরিমাণ প্রায় ৬৮ হাজার রিম পলিমার শিট। এর মধ্যে ৩৪ হাজার রিম করে দু’টি মূল্যমানের নোটের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিটি রিমে ৫০০টি শিট থাকবে। এই পলিমার শিটে স্বচ্ছ জানালা-সহ প্রতিকৃতি, ধাতব সংখ্যা, চৌম্বকীয় লুকোনো সুতো, ছায়া-চিত্র এবং দীপ্তিময় নকশার মতো উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এগুলি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিকিউরিটি প্রিন্টিং অ্যান্ড মিন্টিং কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মুদ্রণকেন্দ্রে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈশ্বিক দরপত্রই পলিমার নোটের পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ অগাস্ট। দরপত্রের নথিতে জানানো হয়েছে, বর্তমান কেনাকাটা শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মূল্যমানের নোটের জন্য বিরাট পরিমাণে পলিমার শিট কেনা হতে পারে।

    কঠোর নিরাপত্তা বিধি

    এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তা বিধিও রাখা হয়েছে। দরদাতাদের নিশ্চিত করতে হবে, চিন বা পাকিস্তানে তাদের যে কোনও কার্যক্রম ভারতের প্রকল্প থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে। এছাড়া ওই দুই দেশ থেকে কোনও কাঁচামাল আনা যাবে না এবং চিন বা পাকিস্তানে আগে কাজ করেছেন এমন (RBI) কোনও কর্মীকেও এই প্রকল্পে নিয়োগ করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে এমন দেশের সংস্থাগুলিকে অংশগ্রহণের জন্য শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার বিভাগের নিবন্ধন কমিটির অনুমোদনও থাকতে হবে। আবেদনকারী সংস্থার অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কোনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা ব্যাঙ্কনোট মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পলিমার শিট সরবরাহের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি মোট প্রস্তাবিত চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০ হাজার ৪০০ রিম সরবরাহ করার ক্ষমতাও থাকতে হবে। আবেদনকারীদের পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের জন্য পলিমার শিটের নমুনা জমা দিতে হবে এবং লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ওই উপাদানে কোনও প্রাণিজ চর্বি বা ডিএনএ নেই।

    পলিমার নোট চালুর সুবিধা

    যদিও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রকল্পে কোন মূল্যমানের নোট ব্যবহার করা হবে তা ঘোষণা করেনি। তবে জুন মাসে মুদ্রানীতি ঘোষণার পর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছিলেন, পলিমার নোট চালুর প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, “পলিমার নোট চালুর সুবিধা এবং বাস্তবসম্মত দিকগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” অস্ট্রেলিয়া ১৯৮৮ সালে প্রথম পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালু করে। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনের নোট ব্যবহার করা হয়। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট বেশি টেকসই, জাল করা কঠিন এবং (Currency Notes) দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট মুদ্রণের খরচ (RBI) কমানোর পাশাপাশি কমতে পারে পরিবেশের ওপর প্রভাবও।

     

  • Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    Global Diplomacy: কূটনৈতিক তৎপরতায় এগিয়ে মোদি, ‘শীতঘুমে’ বেজিং, চিনের হলটা কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের (China) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কূটনৈতিক (Global Diplomacy) কার্যকলাপের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন আক্ষরিক অর্থেই দিনরাত এক করে এশিয়া, ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মোট ১৩টি দেশ সফর করে ভারতের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে আরও জোরদার করেছেন, তখন ওই একই সময়ে জিনপিং গিয়েছেন মাত্র একবার বিদেশ সফরে। এই অস্বাভাবিক ব্যবধানকে ঘিরে চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, সামরিক নেতৃত্ব এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উঠতে শুরু করেছে হাজারো প্রশ্ন।

    জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর (Global Diplomacy)

    জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত জিনপিংয়ের একমাত্র বিদেশ সফর ছিল ৮ থেকে ১০ জুন, উত্তর কোরিয়ায়। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর বাইরে তিনি বিদেশ সফরে না গিয়ে বেজিংয়েই ছিলেন, এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। অতীতে বিশ্বজুড়ে সক্রিয় কূটনৈতিক সফরের জন্য পরিচিত জিনপিংয়ের এই অতি-সীমিত বিদেশ সফর জন্ম দিয়েছে নানা জল্পনার। অথচ, ওই সময় পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মালয়েশিয়া ও ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। মে মাসে সফর করেন ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার পাঁচ দেশ। জুনে গিয়েছিলেন ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায়। এই মাসেরই শেষের দিকে সফর করেন সেশেলস। জুলাইয়ে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর ইন্দো-প্যাসিফিক সফরসূচি।

    একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে চিন

    এর মধ্যে সব চেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় চার দশক পরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করেন, যা ওই অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বেরই প্রতিফলন বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের (China)। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক বৈপরীত্য এমন একটা সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন চিন একইসঙ্গে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সবচেয়ে বেশি চর্চায় রয়েছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএতে চলা ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান। গত অক্টোবরে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছিল, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের সিদ্ধান্তে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ন’জন শীর্ষ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে এই নির্দেশটি দেওয়া হয়, কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ প্লেনামের ঠিক আগে আগে, যেখানে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের পঞ্চদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাঠামো অনুমোদিত হয়েছিল (Global Diplomacy)।

    গোপন টিউমার

    অপসারিত আধিকারিকদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল হে ওয়েইদং, যিনি কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত উত্থান ঘটে তাঁর। সামরিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করেছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে হে জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দিলে শুরু হয় গুঞ্জন। পরে তাঁকে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামরিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। পিএলএর সরকারি মুখপত্রে তাঁকে এবং অন্য অপসারিত কর্তাদের “অবিশ্বস্ত” ও “গোপন টিউমার” বলে উল্লেখ করা হয়। শুদ্ধি অভিযান সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরও ন’জন প্রবীণ সামরিক প্রতিনিধিকে জাতীয় গণ কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চার মাস পরে স্থায়ী কমিটি আরও ছ’জন পদস্থ সামরিক কর্তাকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন জেনারেল শু শুয়েচিয়াং, জেনারেল লি ফেংবিয়াও, জেনারেল গো পুশিয়াও, ওয়াং কাংপিং, ঝাং মিংহুয়া এবং ইন হংসিং। বিমানবাহিনী, স্থলবাহিনী, সাইবার বাহিনী, সরঞ্জাম উন্নয়ন বিভাগ এবং পূর্ব ও পশ্চিম থিয়েটার কমান্ড—সব ক্ষেত্রেই এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে (Global Diplomacy)।

    আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিত!

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, অপসারিত অনেক কর্তাকেই জিনপিং নিজে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। ফলে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অভিযান কেবল দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নয়, বরং সামরিক নেতৃত্বের ভেতরে আস্থার সঙ্কটের ইঙ্গিতও হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা দখলের প্রচেষ্টার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি। যদিও গত কয়েক বছরে একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্তার হঠাৎ অন্তর্ধান, বরখাস্ত এবং দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী চিন গ্যাংয়ের অন্তর্ধান, প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফুর অপসারণ, রকেট বাহিনীর একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং সাম্প্রতিক সামরিক শুদ্ধি অভিযান সেই জল্পনাকে আরও একবার উসকে দিয়েছে (Global Diplomacy)। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক মতবিরোধ সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না। বরং হঠাৎ পদচ্যুতি, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান এবং প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ইঙ্গিত মিলতে পারে। গত এক দশকে জিনপিং নিজেই পার্টি, সরকার ও সেনাবাহিনীতে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে লোকজন নিয়োগ করেছেন। ফলে তাঁর নিজের বেছে নেওয়া কর্তাদের বিরুদ্ধেই ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একটা বড় অংশ (China)।

    নানা সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতি

    এদিকে, চিনের অর্থনীতিও নানা সমস্যা জর্জরিত। একসময় দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সম্পত্তি খাত। বড় বড় নির্মাণ সংস্থার ধসের পর সেই খাত এখনও সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। জমি বিক্রি থেকে স্থানীয় প্রশাসনের আয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পরিকাঠামো প্রকল্পেও। ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়া, তরুণদের বেকারত্ব, বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এবং মূল্যপতনের চাপ চিনের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকায় শিল্প উৎপাদন ধরে রাখতে রফতানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র হয়েছে (Global Diplomacy)।

    কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব

    অন্যদিকে, বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা উৎপাদনের বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। “চায়না প্লাস ওয়ান” কৌশলের ফলে চিনের উৎপাদনভিত্তিক আধিপত্যও আগের মতো অটুট নেই। পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে যাওয়া এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত তার কূটনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, সেমিকন্ডাক্টর, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি—এসব ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (China)। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইন্দোনেশিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যে নয়াদিল্লির গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    জল্পনা জল্পনাই

    তবে জিনপিংয়ের সীমিত বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যত জল্পনাই থাকুক না কেন, শুধুমাত্র বিদেশ সফর কম হওয়াকেই তাঁর রাজনৈতিক দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এখনও পর্যন্ত অভ্যুত্থান বা ক্ষমতা হারানোর কোনও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সামরিক শুদ্ধি অভিযান, ধারাবাহিক প্রশাসনিক রদবদল, অর্থনৈতিক চাপ এবং সীমিত আন্তর্জাতিক সফর—সব মিলিয়ে চিনের নেতৃত্ব যে একটি জটিল সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে খুব একটা দ্বিমত নেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের। একই সময়ে ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান ভূমিকার (Global Diplomacy) দিকটিকেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে (China)।

     

  • PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    PM Modi in Australia: মোদির ঐতিহাসিক সাফল্য! শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে ভারতকে ইউরেনিয়াম দিতে রাজি অস্ট্রেলিয়া, স্বাক্ষরিত একাধিক চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in Australia)। মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে খনিজ (Critical Minerals), বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ-কে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি ও পারমাণবিক সহযোগিতা

    সূত্রের খবর, জ্বালানি ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত-অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিভিল নিউক্লিয়ার এগ্রিমেন্ট-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত হওয়ায় এবার শান্তিপূর্ণ কাজে ভারতের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে খুলে গেল। ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ভারত অস্ট্রেলিয়ার থেকে এলএনজি (LNG), কয়লা এবং ডিজেল আমদানিও বাড়াবে।

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তি

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানান, অস্ট্রেলিয়া শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ভারতকে ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্যে নতুন গতি আনবে। মেলবোর্নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত শুধু ঘনিষ্ঠ অংশীদারই নয়, বরং একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইউরেনিয়াম চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে অস্ট্রেলীয় ইউরেনিয়াম। দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নিঃসরণও কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উৎস আরও বহুমুখী হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সময় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে। ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার।

    শুধু জ্বালানি নয়, কৌশলগত বার্তাও

    ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার খনিজসম্পদ খাতের জন্যও এটি নতুন বাজার সৃষ্টি করবে। বাণিজ্যে চিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিল্লিকেই নতুন বাজার হিসেবে বেছে নিল ক্যানবেরা। ২০১৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সরবরাহ করা জ্বালানি যাতে শুধু শান্তিপূর্ণ কাজে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এর ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য। ভারত ও অস্ট্রেলিয়া উভয়ই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরেনিয়াম চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তায় বড় অগ্রগতি

    প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করতে তৎপর দুই দেশই। সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্স ইনোভেশন করিডর গড়ে তোলা হবে। সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের সহযোগিতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছ। সূত্রের খবর, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে মেরিটাইম সিকিউরিটি রোডম্যাপ তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক নজরদারি ও উপকূলীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষে একজন ভারতীয় সেনা আধিকারিককে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স কলেজে নিয়োগ করা হতে পারে। দুই দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জয়েন্ট ডিক্লারেশন অন ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কোঅপারেশন ঘোষণা করেছে, যা ২০০৯ সালের নিরাপত্তা ঘোষণার নবীকরণ। এর মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক শিল্প, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতা আরও বাড়বে। ভারতের কোস্ট গার্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মেরিটাইম বর্ডার কমান্ড-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও সরবরাহ শৃঙ্খল

    এছাড়াও ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিটিক্যাল মিনারেল করিডর গড়ে তোলা হবে। সূত্রের খবর, ভারত-অস্ট্রেলিয়া PACTS চুক্তির আওতায় সাইবার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তি-সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বাড়াতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডাকে নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্বে সম্মতি জানানো হয়েছে। ভারতের গগনযান কর্মসূচিকে সমর্থন করতে কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জে একটি অস্থায়ী স্পেস ট্র্যাকিং টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশই পরিচ্ছন্ন শক্তি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরত

    অস্ট্রেলিয়া ভারতের হাতে তিনটি মূল্যবান প্রত্নবস্তু ফিরিয়ে দিয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে তামিলনাড়ুর ১১-১২ শতকের গ্রানাইটের নন্দী মূর্তি, ১১ শতকের ভদ্রকালীর ত্রিশূল এবং ১২ শতকের ষড়ানন কার্তিকেয়ের বাসাল্ট মূর্তি। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ফিল্ম স্কুলের মধ্যে চলচ্চিত্র শিক্ষা, যৌথ কর্মশালা, গবেষণা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন গতি

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ইকোনমিক কর্পোরেশন অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ECTA)-এর ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানান। এই সফরে অনুষ্ঠিত সিইও ফোরামে- প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে সবুজ হাইড্রোজেন, সৌর প্যানেল, বায়ু শক্তি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন ও অবকাঠামো ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। গান্ধীনগরের পণ্ডিত দীনদয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় রুফটপ সোলার ট্রেনিং অ্যাকাডেমি চালু হচ্ছে যেখানে ২,০০০ মহিলা ও যুবক-যুবতীকে সৌর প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাই—ছ’দিনের সফরে (Six Day Tour) যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এই সফরকে ভারতের পূর্বমুখী নীতির অংশ হিসেবে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু সফর (PM Modi)

    সফরের প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ৬ থেকে ৮ জুলাই সেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ-সহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মোস অতিধ্বনিত গতির ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি এবং সাবমেরিন প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে একাধিক সূত্রের খবর। ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পর এটি মোদির (PM Modi) প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফর। একই সঙ্গে এটি ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরকালে তিনি জাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রামবানান মন্দির দর্শন করবেন। প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ

    ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ২০২২ সালের পর দুই নেতার এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত বিশের জোট শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি (Six Day Tour) হবে মোদির তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। ২০২০ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

    আপ্লুত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মোদির সফরের কথা ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আমার বন্ধু নরেন্দ্র মোদিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগত জানাতে পেরে আমি সম্মানিত।” তিনি এও বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।” দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে (Six Day Tour)। পাশাপাশি ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহীদের ফোরামের যৌথ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি

    অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তিনি দেশটির গভর্নর-জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশেও ভাষণ দেবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ৯ জুলাই মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে “মেলবোর্ন মিটস মোদি” নামে একটি বড় কমিউনিটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে (PM Modi)। সফরের শেষ ধাপে ১০ থেকে ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সফর করবেন নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রায় চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধী পা রেখেছিলেন এই দ্বীপরাষ্ট্রে।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    অকল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে। ভারতের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই তিন দেশের সফর পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলি এবং জাপানের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে নিয়ে গঠিত (Six Day Tour) চার দেশের নিরাপত্তাভিত্তিক জোটও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলেই (PM Modi) অনুমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Asia Power Index 2025: ‘আত্মনির্ভরতা’-তেই বাজিমাত! ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে’ তৃতীয় ভারত, কোথায় পাকিস্তান?

    Asia Power Index 2025: ‘আত্মনির্ভরতা’-তেই বাজিমাত! ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্সে’ তৃতীয় ভারত, কোথায় পাকিস্তান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামরিক শক্তির দৌড়ে বিশ্ব তালিকায় আরও একধাপ উঠে এল ভারত। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার লোই ইন্সটিটিউটের তরফে এবছরের ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৫’ (Asia Power Index 2025) তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, শক্তির তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত। এই তালিকায় বর্তমানে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে শুধুমাত্র আমেরিকা এবং চিন। এর পাশাপাশি ‘মেজর পাওয়ার’ তালিকাভুক্ত হয়েছে ভারত। এই তালিকায় প্রথম দশের মধ্যেও জায়গা পায়নি পাকিস্তান। তালিকায় অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশের স্থান ১৬ নম্বরে।

    কীভাবে তৈরি হয় এই ইনডেক্স

    অস্ট্রেলিয়ার একটি বিখ্যাত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লোই ইনস্টিটিউট তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। আটটি বিষয়ের ১৩১টি সূচকের উপর নির্ভর করে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তারা। আটটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে সামরিক ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক ক্ষমতা, সম্পর্ক, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব। সাতাশটি দেশ এই তালিকায় রয়েছে। সেই তালিকায় প্রথমে রয়েছে আমেরিকা। লোই ইনস্টিটিউটের মতে, ১০০-র মধ্যে আমেরিকা পেয়েছে ৮১.৭। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিন পেয়েছে ৭৩.৭। আগের বারের চেয়ে চিনের পয়েন্ট বেড়েছে ১। আর এরপরই উঠে এসেছে ভারত। তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত পেয়েছে ৪০। চতুর্থ স্থানে রয়েছে জাপান। আর পঞ্চম স্থানে রাশিয়া রয়েছে। ২০১৯ সালের পর রাশিয়ার অবস্থান উপরে উঠে এল। আর এই তালিকায় পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র ১৪.৫ পয়েন্ট।

    মেজর পাওয়ার ভারত

    এশিয়ায় সামরিক শক্তির দিক দিয়ে কোন দেশ এগিয়ে প্রতিবছর তার তালিকা প্রকাশ করে ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স’। কোনও দেশের সামরিক ক্ষমতা, প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক শক্তি, কূটনৈতিক প্রভাব, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্পদের উপর ভিত্তি করে নম্বর দেওয়া হয়। এশিয়াতে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে বিশ্বের এমন দেশগুলিকেও ধরা হয় এই তালিকায়। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, এশিয়ার মধ্যে ভারত লাগাতার নিজের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বাড়িয়ে চলেছে। ২০২৫ সালে এই নিরিখে ভারতের স্কোর হয়েছে ৪০.০০। যার ভিত্তিতে তালিকায় মেজর পাওয়ার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। আগামী দিনে সেটাও ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি

    অর্থনীতি থেকে সামরিক শক্তি, ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে ভারত। জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শত্রু দেশের সীমানায় ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতেও দু-বার ভাবে না। আবার কোভিড কালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিয়ে মানবিকতার নতুন নজির গড়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বার্তার গুরুত্ব বেড়েছে। আর এই সবের ফলেই এশিয়ায় শক্তিশালী দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গিয়েছে ভারত। করোনার মতো মহামারীর পর থেকে ভারতের অর্থনীতি দ্রুত উন্নত হয়েছে। এছাড়াও, বিশ্বব্যাপী ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কগুলিতে ভারত উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। এর পাশাপাশি, সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাও শক্তিশালী হয়েছে।

    ভারতের আধিপত্য

    কোভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে ভারতের অর্থনীতির দ্রুত বৃদ্ধি হয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপানউতোর চলছে। আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মোকাবিলা করতে দেশবাসীকে ভারতীয় পণ্য আরও বেশি করে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মুহূর্তে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারত। খুব শীঘ্রই ভারত এক ধাপ উপরে উঠে আসবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে ভারত। এখন শুধু নিজের সেনাবাহিনীর জন্যই সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে না, রফতানিও বাড়িয়েছে। বিশ্বের দরবারে ভারতের সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ছে। যেকোনও হামলার মোকাবিলা করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শক্তি আরও বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গি হামলার মোকাবিলায় শত্রু দেশে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। কয়েকমাস আগে অপারেশন সিঁদুরে সেটা ফের করে দেখিয়েছে ভারতীয় সেনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এশিয়ায় ক্রমশ আধিপত্য বিস্তার করছে ভারত।

    এক নম্বর, তবু পয়েন্ট কমেছে

    অন্যদিকে, এই তালিকায় এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছে চিন। আমেরিকার পর সুপার পাওয়ার হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। যদিও ২০১৮ সালে এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স চালু হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে নিচে এসেছে আমেরিকার স্কোর। বিশ্লেষকদের অনুমান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাঁর গৃহিত নীতিগুলির জেরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চিন লাগাতারভাবে আমেরিকার সঙ্গে নিজেদের স্কোরের ব্যবধান কমিয়ে আনছে। ২০১৯ সালের পর এশিয়ায় রাশিয়া তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। মস্কোর ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উপস্থিতি মূলত চিন এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে তার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের জন্য দায়ী। ২০২৪ সালে রাশিয়াকে পিছনে ফেলে অস্ট্রেলিয়া উপরে উঠে এলেও এবার রুশ ফের পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য ভাবে এবার নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে জাপানও। লোই ইনস্টিটিউটের একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারত ভবিষ্যতে একটি প্রধান এশীয় শক্তি হিসেবে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারে। এদিকে, এই তালিকায় প্রথম দশেও স্থান পায়নি। পাকিস্তান। ভারতের এই পড়শি দেশ রয়েছে ১৬ নম্বর স্থানে।

     

     

     

  • Australian Report: পাকিস্তানের মাথায় ঝুলছে মৃত্যুর খাঁড়া, হাতল রয়েছে ভারতের হাতে!

    Australian Report: পাকিস্তানের মাথায় ঝুলছে মৃত্যুর খাঁড়া, হাতল রয়েছে ভারতের হাতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘুম ছুটেছে পাকিস্তানের! ভারতের সঙ্গে বৈরিতার ফল যে ভালো হবে না, উল্টে পরিণতি যে হবে ভয়ঙ্কর, ইতিমধ্যেই তা টের পেয়ে গিয়েছেন পাক সেনকর্তারা। অস্ট্রেলিয়ার (Australian Report) সিডনি থেকে প্রকাশিত নয়া এক রিপোর্টে প্রকাশিত একটি তথ্য থেকে (India) তামাম বিশ্ব জেনে গিয়েছে, বর্তমানে পাকিস্তানের টিকে থাকাটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ভারতের দয়ার ওপর।

    ‘ইকোলজিক্যাল থ্রেট রিপোর্ট ২০২৫’ (Australian Report)

    এবার ফেরা যাক মূল খবরে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যা পিস তার ‘ইকোলজিক্যাল থ্রেট রিপোর্ট ২০২৫’-এ একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। তার পরেই ঘুম ছুটে গিয়েছে পাকিস্তানের। ওই রিপোর্টে পাকিস্তান সম্পর্কে যে বক্তব্যটি এসেছে, তাতে বলা হয়েছে, ভারত এখন এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যার সাহায্যে সিন্ধু নদের প্রবাহ বদলে দেওয়া সম্ভব, এবং এটি ঠেকানোর ক্ষমতা পাকিস্তানের নেই। উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়ার ওই প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানিত থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির একটি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আর পাঁচটি সাধারণ অ্যাকাডেমিক কোনও গবেষণা রিপোর্ট নয়। এটি পাকিস্তানের মাথার ওপর ঝুলে থাকা মৃত্যুদণ্ডের খাঁড়া, যার হাতল ধরা রয়েছে ভারতের হাতে। ইসলামাবাদের এই সঙ্কটটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ হতে পারে না। দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নৃশংস জঙ্গি হামলায় খুন হন ২৬ জন হিন্দু ভারতীয়। তার পরেই পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর চালায় ভারত। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনা। এর পাশাপাশি ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের জলসম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত যে ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি, তাও স্থগিত করে দেয় নয়াদিল্লি।

    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত

    সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় প্রমাদ গোণে পাকিস্তান। কারণ পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিজমি সম্পূর্ণভাবে সিন্ধু নদ থেকে সরবরাহ করা জলের ওপর নির্ভরশীল (Australian Report)। এই জল প্রবাহিত হয় ভারতের দিক থেকেই। পাকিস্তানের ঘনবসতিপূর্ণ সমতলভূমি, যেখানে কোটি কোটি মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করে বেঁচে রয়েছেন (India), তা পুরোপুরি এমন নদীগুলির জলের ওপর নির্ভরশীল, যেগুলি কোনও চুক্তি ভঙ্গ না করেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে ভারত। যদিও জঙ্গিদের মদত দেওয়ায় এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কোনও পদক্ষেপ না করায় জলচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিসের রিপোর্টে প্রকাশ্যে চলে এসেছে পাকিস্তানের দুর্বলতা। জানা গিয়েছে, ভারতের এই প্রতিবেশী শত্রু দেশটির কাছে মাত্র ৩০ দিনের জল সংরক্ষণের ক্ষমতা রয়েছে। এই পর্বে নদীর প্রবাহে কোনও বাধা সৃষ্টি হলে ভয়ঙ্কর জলসঙ্কটে পড়বে পাকিস্তান। যার জেরে পাকিস্তান মুখোমুখি হতে পারে

    ভালভ ঘুরিয়ে দিলেই কেল্লাফতে

    দুর্ভিক্ষ এবং অর্থনৈতিক অধঃপতনের (Australian Report)। স্থানীয় লোকজনও এলাকা ছেড়ে ভিড় করতে পারেন শহরে গিয়ে। যা বিশ্বের যে কোনও দেশের পক্ষেই হতে পারে বিপর্যয়ের একটি বড় কারণ। পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে গিয়ে ভারতকে খুব বেশি ‘নীচে’ নামতে হবে না। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, শুধু গ্রীষ্মকাল বা কৃষি মরশুমের মতো সঙ্কটপূর্ণ সময়ে বাঁধ পরিচালনায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে পাকিস্তানের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে গেলে দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই ভারতের। প্রয়োজন নেই মিসাইল খরচেরও। সীমান্তে সেনা পাঠিয়ে অকারণে উত্তেজনা বাড়ানোরও প্রয়োজন নেই। পাকিস্তানের (India) অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিতে প্রয়োজন শুধু চাষের সময় স্রেফ বাঁধের কয়েকটি ভালভ ঘুরিয়ে দেওয়া (Australian Report)।

    ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’

    রিপোর্টে দেখানো হয়েছে, এই পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। ভারত যখন সিন্ধু জল-বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে, তখন তারা পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও পরামর্শ ছাড়াই চেনাব নদীর জল ছেড়ে দেয়। শুরুতে নদীর কিছু অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে গিয়েছিল। পরে যখন ভারত হঠাৎ করে লকগেট খুলে দেয়, তখন কাদামাটি-মেশানো তীব্র স্রোত ধেয়ে আসে পাকিস্তানের দিকে। অসহায়ভাবে তা দেখতে হয় পাকিস্তানের নাগরিকদের। অস্ট্রেলিয়ার ওই সংস্থার রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির ওপর যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলি কোনও বিশাল জলাধার নয়। আদতে সেগুলি ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ প্রকল্প, যা স্থায়ীভাবে আটকে রাখতে পারে না জলপ্রবাহ। পাকিস্তানের চিন্তার কারণ হল, জল ছাড়ার জন্য লকগেট কখন খোলা হবে, বন্ধই বা করা হবে কখন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার রশি রয়েছে ভারতের হাতে। জল কখন ছাড়বে, কতক্ষণ ধরে জলপ্রবাহ বইবে, এসবই ঠিক করে ভারত। কারণ জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি রয়েছে নয়াদিল্লির হাতেই। প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালের জলচুক্তি অনুযায়ী, ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাব – পশ্চিমাঞ্চলীয় এই তিন নদীর জল পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেবে (India)। আর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে পূর্বের তিন নদী-বিয়াস, রাভি ও শতদ্রু। চুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ভারতের আর সেই বাধ্যবাধকতা নেই। শীতের মরশুমে যার চড়া মাশুল গুণতে হতে পারে পাকিস্তানকে (Australian Report)।

    পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা

    এমনিতেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা শোচনীয়। শাসকরা সুখে রইলেও, আম-পাকিস্তানবাসীর অবস্থা করুণ। এই দিক থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসবাদকে। জঙ্গিদের নিয়মিত রসদ এবং মদত জুগিয়ে মজিয়ে রেখেছে পাকস্তানের যুব সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশকে। সেই কারণেই পাকিস্তানের বাজেটে জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তার চেয়ে ঢের বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হয় প্রতিরক্ষা খাতে। তাই প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত লোকজন সুখে থাকলেও, পেটে ভিজে গামছা দিয়ে দিন গুজরান করেন পাকিস্তানের একটা বড় অংশের মানুষ। তার পরেও ইসলামাবাদের (পাকিস্তানের রাজধানী) ধারণা ছিল যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও জেহাদি প্রক্সিগুলির কারণে তারাই কৌশলগত দিক থেকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে। পাকিস্তানের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা ভাবতেই পারেননি যে, হাতে না মেরেও ভারত পাকিস্তানকে মারতে পারে আক্ষরিক অর্থেই ভাতে। জলসম্পদ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে ভারত যে দীর্ঘমেয়াদি লগ্নি করে চলেছে, তা বুঝতেই পারেনি (Australian Report) পাকিস্তান।

    সবচেয়ে শক্তিশালী অ–সামরিক অস্ত্র

    ভারত বাঁধ তৈরি করেছে। গড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ভারত এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব। সন্ত্রাসের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা পাকিস্তান বুঝতেই পারেনি যে ভারতের হাতে সে তুলে দিয়েছে সবচেয়ে শক্তিশালী অ–সামরিক অস্ত্রটি। এখন, অপারেশন সিঁদুর ও সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত হওয়ার পর পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছে ভয়ঙ্কর বাস্তবতার। এই বাস্তবতাটি হল ভারত একটিও গুলি না ছুড়ে ভেঙে ফেলতে পারে পাকিস্তানের নড়বড়ে (India) অর্থনীতির মেরুদণ্ড। চোখের সামনে সব কিছু ঘটতে দেখলেও, হাত গুটিয়েই বসে থাকতে হবে ইসলামাবাদকে (Australian Report)।

  • Australia: অস্ট্রেলিয়াতে স্বাধীনতা দিবস পালনে বাধা খালিস্তানপন্থীদের, পিছু হটল ভারতীয়দের দাপটে

    Australia: অস্ট্রেলিয়াতে স্বাধীনতা দিবস পালনে বাধা খালিস্তানপন্থীদের, পিছু হটল ভারতীয়দের দাপটে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার (Australia) মেলবোর্নে অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেটে ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের উদযাপনের সময় খালিস্তানপন্থীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শুক্রবার সকালে মেলবোর্নের প্রবাসী ভারতীয়রা কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য। কিন্তু সেই সময় আচমকাই বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানপন্থীরা সেখানে জড়ো হয়। তবে তাদের দেখে ভারতীয়রা স্লোগান তোলেন এবং দেশাত্মবোধক গান গাইতে থাকেন এবং সুশৃঙ্খলভাবে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেন।

    পিছু হটে খালিস্তানপন্থীরা (Australia)

    একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে ভারতীয়রা যখন দেশাত্মবোধক গান গাইছেন, তখন খালিস্তানপন্থীরা হট্টগোল সৃষ্টি করছে। একটি অস্ট্রেলিয়ান (Australia) সংবাদমাধ্যমে লেখা হয়েছে, মেলবোর্নে ভারতীয় কনস্যুলেটের বাইরে খালিস্তানি গুন্ডারা গোলমাল সৃষ্টি করে। তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ভারতবিরোধী স্লোগান তুলতে থাকে। কিন্তু খালি গলায় তাদের সেই স্লোগান শোনা যায়নি, কারণ লাউডস্পিকারে ভারতীয়রা দেশাত্মবোধক গান গাইতে থাকেন। এরপরে এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পিছু হটে এবং শেষে সঠিকভাবে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    ভারত মাতা কি জয় স্লোগান প্রবাসী ভারতীয়দের

    তিরঙ্গা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ভারতীয়রা (Australia) “ভারত মাতা কি জয়”, “বন্দেমাতরম” প্রভৃতি ধ্বনি দেন। প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমাগত বাড়ছে বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানপন্থীদের (Khalistani) প্রভাব এবং তাদের কার্যকলাপ। সম্প্রতি মেলবোর্নের স্বামীনারায়ণ মন্দির এবং দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁতে ঘৃণামূলক গ্রাফিতি দেখা গেছে। অন্যদিকে সম্প্রতি অ্যাডিলেডে সামান্য গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ২৩ বছর বয়সি এক ভারতীয় যুবককে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে।

    অস্ট্রেলিয়াতে বাড়ছে খালিস্তানি কার্যকলাপ (Australia)

    শুধু তাই নয়, গত বছর যখন ভারতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল, সেই সময় ডিসেম্বর মাসে চলছিল চতুর্থ টেস্ট। তখনই খালিস্তানপন্থীরা ভারতীয় ক্রিকেট দলের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং তাদের গালিগালাজ করে। জানা যায়, ওই খালিস্তান সমর্থকরা তখন টিকিট ছাড়াই স্টেডিয়ামে ঢুকে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়। ৭৯তম স্বাধীনতা দিবসেও তারা একইরকম প্রয়াস চালায়। তবে উপস্থিত ভারতীয়দের সামনে তারা টিকতে পারেনি (Khalistani)।

  • Australia: মেলবোর্নের স্বামীনারায়ণ মন্দির এবং দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁয় আঁকা হল বর্ণবিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি

    Australia: মেলবোর্নের স্বামীনারায়ণ মন্দির এবং দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁয় আঁকা হল বর্ণবিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) এক ভারতীয় ছাত্রের উপর নৃশংস হামলার ঠিক একদিন পরেই মেলবোর্নের স্বামীনারায়ণ মন্দির এবং দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁয় রাতে ঘৃণামূলক ও বর্ণবিদ্বেষমূলক গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে—এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া শাখার হিন্দু কাউন্সিলের সভাপতি মকরন্দ ভগবত বলেন, “আমাদের এই মন্দির শান্তি, ভক্তি এবং ঐক্যের প্রতীক। সেখানে এ ধরনের চিত্র দেখে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থানে আক্রমণ নয়, আমাদের অস্তিত্ব ও বিশ্বাসের উপর আঘাত (Indians)।”

    পার্কিং-এ বচসা থেকে ভারতীয়কে মারধর (Australia)

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার (Australia) অ্যাডিলেডে পার্কিংকে কেন্দ্র করে বচসা শুরু হয় এবং সেখানেই ২৩ বছর বয়সি এক ভারতীয় যুবক চরমপ্রীত সিং-এর উপর হামলা হয়। চরমপ্রীত নিজেই জানিয়েছেন, তিনি তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গাড়িতে বসে ছিলেন, সেই সময় একদল ব্যক্তি এসে বর্ণবিদ্বেষমূলক ভাষা ব্যবহার করে এবং তাঁর মুখে ঘুষি মারে। এই আঘাতে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। ঘটনার পর পুলিশ ২০ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ওই ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে—সেখানে দেখা যাচ্ছে আক্রমণকারীরা ধাতব বক্সার দিয়ে মারছে এবং ভারতীয়দের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করছে।

    বর্ণবিদ্বেষী হামলা ২০০৯-১০ থেকেই চলছে

    এ নিয়ে চরমপ্রীত সিং বলেছেন, “সবকিছু বদলানো যায়, কিন্তু গায়ের রং তো পাল্টানো যায় না।” প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) ভারতীয়দের উপর এ ধরনের হামলা নতুন নয়। ২০০৯-১০ সালেও একাধিক ভারতীয় ছাত্রের উপর বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা (Indians) হয়েছিল। সেই সময় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। মেলবোর্ন, সিডনি সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় যুবকদের ট্রেনে, রাস্তায়, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আক্রান্ত হতে দেখা গিয়েছিল। তারপর থেকে বহু সময় পেরিয়ে গেলেও, অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) ভারতীয়দের উপর হামলা যে আজও বন্ধ হয়নি, তা ফের একবার প্রমাণিত হল।

  • WTC Final 2025: ২৭ বছরে ‘শাপমোচন’! অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা

    WTC Final 2025: ২৭ বছরে ‘শাপমোচন’! অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ১৯৯৯! বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে জুটেছিল চোকার্স তকমা। সেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই তা মুছল দক্ষিণ আফ্রিকা। অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, জ্যাক কালিস, এবি ডিভিলিয়ার্সেরা যা পারেননি, তা করলেন টেম্বা বাভুমা, এডেন মার্করাম, কাগিসো রাবাডারা। ২৭ বছর পর আরও এক বার আইসিসি ট্রফি জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। নির্বাসন কাটিয়ে ফেরার সাড়ে তিন দশক পর টেস্ট ক্রিকেটের সিংহাসনে বসল তারা। ১৯৯৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর কোনও আইসিসি ট্রফি ঘরে তুলল প্রোটিয়ারা।

    মার্করাম-বাভুমার লড়াকু ইনিংস

    এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে জয়ের জন্য ২৮২ রানের লক্ষ্য দেয়। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ২১২ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ রান করে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস ১৩৮ রানেই সব উইকেট হারায়। প্রথম ইনিংসের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া ৭৪ রানের লিড পেলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ফিরে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায়। এখান থেকে ক্রিজ ধরে রাখেন এইডেন মার্করাম এবং অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। তৃতীয় উইকেটে দুজনের মধ্যে ১৪৭ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পথ তৈরি করে দেয়। মার্করাম ১০১ বলে ১১টি চারের সাহায্যে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। বাভুমা ৬৬ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন। তারপর এই জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। লর্ডসে ইতিহাস গড়ে এই প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জিতলো দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারালো প্রোটিয়ারা। ব্যর্থ হল না বাভুমা এবং মার্করামের লড়াই। দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নজির গড়লেন টেম্বা বাভুমা। জয়ের নিরিখে অপরাজিত থেকে দলকে চ্যাম্পিয়ন করলেন তিনি। বাভুমার নেতৃত্বে ফাইনাল সহ ১০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে ৯টি জয় ও ১টি ড্র করেছে প্রোটিয়ারা।

    বহু অপেক্ষার ফল

    দ্বিতীয় ইনিংসে কামিন্স, স্টার্ক, হেজলউডদের তেমন সুযোগ দিলেন না বাভুমা ও মার্করাম। উল্টে যত সময় গড়াল তত কাঁধ ঝুঁলে গেল কামিন্সদের। নইলে কেন এত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লেন অসি অধিনায়ক। যেখানে উইকেট তোলা ছাড়া গতি নেই সেখানে বাউন্ডারিতে ফিল্ডার রাখলেন। বোঝা গেল, দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পথে বিলম্ব করা ছাড়া আর কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর। হার মেনে নিয়েই বোধহয় চতুর্থ দিন খেলতে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। তাদের শরীরী ভাষা সেটাই বুঝিয়ে দিচ্ছিল। তাই কামিন্স, স্টার্কেরা একক দক্ষতায় উইকেট তুললেও তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় আটকাতে পারলেন না। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে সন্তানকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়েছিলেন ডিভিলিয়ার্স, মুখে তৃপ্তির হাসি প্রাক্তন অধিনায়ক গ্রেমি স্মিথের। বোঝা যাচ্ছিল এই জয় যে তাদের কাছে বহু অপেক্ষার ফল। অধরা মাধুরী স্পর্শ করার আনন্দ।

LinkedIn
Share