Tag: Ayatollah Ali Khamenei

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

  • Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল ইজরায়েল (Israel)। ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তাঁকেই দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও ছকেছিল তেল আভিভ (ইজরায়েলের রাজধানী)। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেই এমনই দাবি করা হয়েছে (Ahmadinejad Intelligence Asset)।

    ইজরায়েলের ছক! (Israel)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রথম দিকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে তাঁকে গোপনে সরিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মোসাদের সদস্যরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদ স্বয়ং ওই উদ্ধার অভিযানে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, এবং আস্থা হারিয়েছিলেন ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের ইজরায়েলি পরিকল্পনার সাফল্যে। ফলে গোটা পরিকল্পনাটাই ভেস্তে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। সম্মেলনটি ছিল আসলে ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের আড়াল। সেই সময় মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজেও বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    আহমাদিনেজাদ-রহস্য

    গত বছরের জুন মাসে আবারও বুদাপেস্ট সফরে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইরানি রক্ষীরা পরে জানান, ওই সফরে অন্তত দু’বার তিনি তাঁদের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। আহমাদিনেজাদ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিদেশ সফর এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করেছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা (Israel)। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের থাকার ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের পিউজো গাড়ি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যায়। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের বক্তব্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের সদস্যরা।

    ভূখণ্ড দখলের ছক!

    এরপর তাঁকে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। একই সময়ে ইরানের সরকার উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানি কুর্দি বিরোধী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভূখণ্ড দখল এবং পরে তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কীভাবে আহমাদিনেজাদ নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এর কিছুদিন পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের যাত্রায় খানিকক্ষণের জন্য প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল আহমাদিনেজাদকে। তিনি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছিলেন, এবং কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ইরানের চার প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন আহমাদিনেজাদ, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠদের কাছে আহমাদিনেজাদ (নাকি) জানিয়েছিলেন, বিদেশি সমর্থনে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। শাসন পরিবর্তনের পর তিনি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে (Israel)। তবে এই সব অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোসাদ কিংবা আহমাদিনেজাদের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে (Ahmadinejad Intelligence Asset) কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তাই জানা যায়নি, সত্যটা ঠিক কী।

     

  • Khamenei: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ইরানে গিয়ে কী লিখলেন ভারতের প্রতিনিধিরা?

    Khamenei: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের শ্রদ্ধাঞ্জলি, ইরানে গিয়ে কী লিখলেন ভারতের প্রতিনিধিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের (Iran) প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ সৈয়দ আলি খামেনেইয়ের (Khamenei) শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারতের তরফে শ্রদ্ধা জানালেন কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা এবং বিহারের রাজ্যপাল অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন। তেহরানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তাঁরা ভারত সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় মার্গেরিটা জানান, বিহারের রাজ্যপালের সঙ্গে তিনি তেহরানে খামেনেইয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। ভারত সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি (Khamenei)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত সম্পর্ক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি, দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের ইমাম খোমেনির মোসাল্লা নমাজ প্রাঙ্গণে আজ, ৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে বিদায়ী অনুষ্ঠান। চলবে ৫ জুলাই পর্যন্ত। ৬ জুলাই তেহরানে বের হবে শোকযাত্রা।

    শোকবইয়ে স্বাক্ষর ভারতের

    ৭ জুলাই ইরানের কোম শহরে আর একটি শোকযাত্রা হবে। ৯ জুলাই মাশহাদে হবে চূড়ান্ত শেষকৃত্য। পরে ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে খামেনেইকে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম (Khamenei)। এর আগে, ৫ মার্চ নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে গিয়ে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে খামেনেইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি ভারতের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের (Iran) দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেছেন এবং খামেনেইয়ের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন (Khamenei)।

     

  • Iran Israel War: ইজরায়েলি হানায় ইরানে ব্যাপক বিস্ফোরণ, কালচে রংয়ের বৃষ্টিতে ভিজল তেহরান

    Iran Israel War: ইজরায়েলি হানায় ইরানে ব্যাপক বিস্ফোরণ, কালচে রংয়ের বৃষ্টিতে ভিজল তেহরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের বিমান হামলায় কেঁপে উঠল ইরানের রাজধানী তেহরান (Iran Israel War)। বিশাল বিস্ফোরণ, সঙ্গে চোখ ধাঁধানো আলো এবং কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ায় ভরে উঠল রাজধানীর আকাশ (Tehran)। তেহরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সিইও জানান, এতে চারজন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে দু’জন ট্যাংকার চালকও ছিলেন।

    তেল ডিপোয় হামলা (Iran Israel War)

    যুদ্ধবিমানগুলি তেহরান ও এর আশপাশের একাধিক তেল ডিপোয় হামলা চালায়। এতে ব্যাপক আগুন লাগে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় শহরের আকাশ, যা পাশের শহর কারাজ থেকেও দেখা যাচ্ছিল। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে আগুনের গোলা, দীর্ঘ ধোঁয়ার স্তম্ভ এবং রাতের আকাশে জ্বলতে থাকা আগুন দেখা যায়। বিস্ফোরণে শহরের বিভিন্ন অংশ কেঁপে ওঠে। কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি আগুন ধরে যাওয়ায় সড়কের ধারে আগুন জ্বলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা একে ‘আগুনের নদী’ বলে বর্ণনা করেছেন, যা শহরের রাস্তায় প্রবাহিত হচ্ছিল। আক্রান্ত প্রধান ডিপোগুলোর মধ্যে ছিল শহরান ও আঘদাসিয়েহ, পাশাপাশি একটি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহণ কেন্দ্রও। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি পরিষেবা কর্মীরা সারা রাত কাজ করেন। সিএনএনের প্রতিবেদক ফ্রেডেরিক প্লাইটগেন এক ভিডিওতে জানান, হামলার পর শহরে কালচে রঙের বৃষ্টি পড়ছিল। অনুমান, এটি তেল ও জ্বলন্ত সংরক্ষণাগারের ধোঁয়া-ধূলির সঙ্গে মিশে থাকা বৃষ্টির জল।

    ইরানি কর্তাদের বক্তব্য

    ইরানি কর্তারা জানান, তেহরান ও আশপাশে অন্তত পাঁচটি তেল সংস্থায় হামলা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি সংরক্ষণ ডিপো এবং একটি পেট্রোলিয়াম পরিবহণ কেন্দ্র। পরবর্তীকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের সময় জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। আগুনের ধোঁয়ায় রবিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর আকাশে ঘন কালো কুয়াশার মতো স্তর দেখা গিয়েছে এবং বাতাসে পোড়া জ্বালানির গন্ধ ছড়িয়ে ছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। ইরানের আধিকারিকরা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।  তাঁদের দাবি, দেশের জ্বালানি মজুত নিরাপদেই রয়েছে (Iran Israel War)। ফ্রান্স২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইজরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে তাদের বিমান বাহিনী তেহরানের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে হামলা চালিয়েছে, যাতে সেগুলি ইরানের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করতে না পারে (Tehran)।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কবার্তা

    ইজরায়েল তাদের ফারসি ভাষার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি সতর্কবার্তা দেয়। এতে বলা হয়, ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ যদি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেইনির উত্তরসূরি নির্বাচনের বৈঠক করে, তাহলে তা টার্গেট করা হতে পারে। বার্তায় বলা হয়, “এটি একটি সতর্কবার্তা। যারা উত্তরসূরি নির্বাচন বৈঠকে অংশ নিতে চান, তাঁদের আমরা সতর্ক করছি—আমরা আপনাদের টার্গেট করতে দ্বিধা করব না। এটি একটি সতর্কবার্তা।” ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ ইতিমধ্যেই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানা গিয়েছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি (Iran Israel War)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সর্বশেষ ইরান-বিরোধী যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে, যেখানে আয়াতুল্লাহ খামেইনি এবং ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তাদের হত্যা করা হয়।

    বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অঙ্গীকার

    ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কয়েক মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ইরান প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে আগামী দিনে আরও উন্নত ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে (Tehran)।” তিনি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেন, “বর্তমান গতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অন্তত ছ’মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে (Iran Israel War)।” এই আঞ্চলিক সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইজরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর অবস্থান ও বেইরুটের কেন্দ্রস্থলকে টার্গেট করা হয়েছে। একটি হোটেলে চারজন-সহ গত সপ্তাহে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৯৪ জন। এদিকে, সৌদি আরব জানিয়ে দিয়েছে, রিয়াধের কূটনৈতিক এলাকায় লক্ষ্য করে পাঠানো ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। কুয়েত এবং বাহরাইনও যথাক্রমে জ্বালানি ট্যাংক ও একটি লবণাক্ত জল বিশুদ্ধকরণ প্লান্টে ইরানি ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে।

    ইরানে হামলার পরিসংখ্যান

    ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ইজরায়েল ইরানের ওপর প্রায় ৩,৪০০টি হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ রাতের হামলায় তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ১৬টি সামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক তেল ডিপোয় হামলার ফলে রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে (Tehran)। হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় কুয়েত সতর্কতামূলকভাবে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর কথা ঘোষণা করেছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,২০০ জন অসামরিক নাগরিক নিহত এবং প্রায় ১০,০০০ জন জখম হয়েছেন (Iran Israel War)।

     

  • Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

    Iran-US Conflict : ‘আর হামলা নয়’… প্রতিবেশীদের সঙ্গে শত্রুতা নেই, হঠাৎ সুর নরম ইরানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়ার সর্বত্র। ইজরায়েল-আমেরিকার (Iran-US Conflict) যৌথ অভিযানের প্রত্যাঘাত স্বরূপ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে হামলা চালায় তেহরান। সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত থেকে ওমান, বাহরিন… মুহুর্মুহু ইরানি মিসাইলে কেঁপে উঠেছে। তবে, এবার থেকে আর প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না ইরান। প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জানালেন, ইরানের উপর মার্কিন বা ইজরায়েলি হামলায় মদত না দিলে আর কোনও প্রতিবেশী দেশকে তাঁরা আক্রমণ করবেন না। তবে একই সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পেজেশকিয়ান।

    হঠাৎ কেন সুর নরম

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন,“আমি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে ক্ষমা চাইছি। অন্য দেশগুলির উপর আক্রমণের কোনও ইচ্ছা ছিল না আমাদের।” এরপর তাদের উপর আর কোনও হামলা না হলে, তাহলেও তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সঙ্গে ইরানের শত্রুতা নেই। শনিবার যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কখন যুদ্ধ শেষ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। গত শনিবার মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রাথমিক ভাবে একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করেছিল তেহরান। প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের সেই কাউন্সিলের হাতেই আপাতত রয়েছে দেশ চালানোর ভার। পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সেই অন্তর্বর্তী কাউন্সিল প্রতিবেশীদের আর আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি

    মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটি আক্রমণ করছিল তেহরান। অনেক দেশ এই আচরণের সমালোচনা করেছে। বলা হয়েছে, অযথা শান্তিপূর্ণ দেশগুলিকে যুদ্ধে টেনে আনছে ইরান। তবে তেহরানও সিদ্ধান্তে এত দিন অনড় ছিল। তাদের দাবি, এই পরিস্থিতির জন্য আমেরিকা এবং ইজরায়েল দায়ী। কারণ, যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। অবশেষে তেহরান কিছুটা সুর নরম করল। পেজেশকিয়ানের দাবি, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর ইরান অযথা কোনও প্রতিবেশীর উপর হামলা চালাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।

    ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন। ইরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন তিনি। তবে, পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনওভাবেই তাঁরা আত্মসমর্পণ করবে না। পেজেশকিয়ান জানান, এই ধরনের প্রত্যাশা অবাস্তব। ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন তাঁদের স্বপ্নই থেকে যাবে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ আক্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান কোনওভাবেই যুক্তরাষ্ট্র বা ইজরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তাঁর কথায়, শত্রুরা যদি মনে করে ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে, সেই আশা তাদের কবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিলেও ইরান এখনও কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।

  • PM Modi’s Oil Diplomacy: মার্কিন ৩০ দিনের ছাড়ে রুশ তেল কেনা, মোদির ‘কৌশলগত তেল কূটনীতির’ সাফল্য দাবি বিজেপির

    PM Modi’s Oil Diplomacy: মার্কিন ৩০ দিনের ছাড়ে রুশ তেল কেনা, মোদির ‘কৌশলগত তেল কূটনীতির’ সাফল্য দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে। মার্কিন এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির “কৌশলগত তেল কূটনীতির” (PM Modi’s Oil Diplomacy) বড় সাফল্য বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শুক্রবার বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেন, “যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ এগোচ্ছে, তখন রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস ভারতের কৌশলগত সংযম ও স্পষ্টতার সঙ্গে নেওয়া সিদ্ধান্ত দেখতে পারে না।”

    ৩০ দিনের অস্থায়ী ছাড়

    মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাস উৎপাদন রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের একটি অস্থায়ী ছাড় দিচ্ছে।” বেসেন্ট আরও বলেন, “ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আমরা আশা করি নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের তেল কেনাও বাড়াবে। ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা তা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।” তিনি জানান, এই ছাড়টি ইচ্ছাকৃতভাবে স্বল্পমেয়াদি রাখা হয়েছে এবং এটি মূলত সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের চালান সংক্রান্ত লেনদেনের অনুমতি দেয়, ফলে রাশিয়ার সরকার এতে বড় ধরনের আর্থিক লাভ পাবে না।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, “রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস ‘তেলের ঘাটতি’ নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। এই সিদ্ধান্ত তাদের মুখে বড় ধাক্কা। ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল কিনছে এবং সরবরাহে কোনও বিঘ্ন ঘটেনি।” একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বিজেপি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত তাদের মুখে “ডিম ছুঁড়ে মারার” মতো। ভান্ডারি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান থেকে তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশেষ ছাড় চেয়েছিল।

  • IRIS Lavan at Kochi: ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দিল ভারত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোচি বন্দরে নোঙর করেছে ‘আইরিস লাভান’

    IRIS Lavan at Kochi: ইরানি জাহাজকে আশ্রয় দিল ভারত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোচি বন্দরে নোঙর করেছে ‘আইরিস লাভান’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের কোচিতে (Kerala Kochi) নোঙর করেছে ইরানি জাহাজ (Iranian Warship) আইরিস লাভান (IRIS Lavan at Kochi)। ওই জাহাজটির ১৮০জন নাবিক এখন কোচিতে ভারতীয় নৌসেনার (Indian Navy) অতিথিশালায় রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ফ্রিগেট (ছোট যুদ্ধজাহাজ) ‘আইআরআইএস ডেনা’কে টর্পেডো ছুড়ে ডুবিয়ে দেওয়ার আবহে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কোচিতে আইরিস লাভানকে নোঙর করার অনুমোদন দেয় ভারত। প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণেই ওই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    তেহরানের অনুরোধে অনুমতি

    সরকারি সূত্রের খবর, কোচিতে ইরানের জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার আগে নৌসেনা দফতর সরাসরি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি চায় নৌবাহিনী। নয়াদিল্লি ইরানের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের প্রোটোকল মেনেই ইরানের জাহাজটিকে আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এর সঙ্গে আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই।

    ‘আইআরআইএস ডেনা’ র উপর হামলা

    বুধবার ভোরে ভারত মহাসাগরের বুকে ইরানি রণতরী ‘ডেনা’-র উপরে হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। টর্পেডো ছুড়ে ইরানের যুদ্ধজাহাজকে ধ্বংস করে দেয় তারা। ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় গিয়েছিল ডেনা। মার্কিন টর্পেডোর হামলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিহত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গিয়েছে ৩২ জনকে। কিন্তু এখনও প্রায় ৬০ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবারের ওই হামলাটি হয়েছিল শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে। শ্রীলঙ্কার নৌসেনাই ওই যুদ্ধজাহাজে উদ্ধারকাজ শুরু করে। সেই যুদ্ধজাহাজের উদ্ধারকাজে ভারতীয় নৌসেনাও রণতরী পাঠিয়েছিল। যে ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁরা এখন ভর্তি রয়েছেন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে বন্দর শহর গলের এক হাসপাতালে।

    আমেরিকার চাপ শ্রীলঙ্কাকে

    অন্যদিকে, আইরিস বুশের (Iris Bushehr) নামে একটি ইরানি জাহাজকে তাদের বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দেশেনায়কে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন ইরানের জাহাজটিকে ত্রিঙ্কোমালি বন্দরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। জাহাজটির ২০৮ জন নাবিক নিরাপদে আছেন। সূত্রের খবর, শ্রীলঙ্কার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কূটনৈতিক মহলে চর্চা হচ্ছে। পাঁচ দিন আগে আইরিস ডেনা (Irish Dena Warship) নামে ইরানের একটি জাহাজকে মার্কিন সাবমেরিন ধ্বংস করে। জাহাজের উদ্ধার হওয়া নাবিকদের আশ্রয় দেয় শ্রীলঙ্কা। আমেরিকা এরপর কলম্বোর উপর চাপ তৈরি করেছে ওই নাবিকদের ইরানের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। মার্কিন সেনারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি এখনও আমেরিকাকে সম্মতি দেননি।

  • Iran-Israel Conflict: যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বদলা! মার্কিন তেলবাহী জাহাজে মিসাইল ছুড়ল ইরান

    Iran-Israel Conflict: যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার বদলা! মার্কিন তেলবাহী জাহাজে মিসাইল ছুড়ল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টর্পেডো দেগে ইরানের (Iran-Israel Conflict) যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়েছে আমেরিকা। এর বদলা নেবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। বুধবারের ওই যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরান আমেরিকার একটি তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) ক্ষেপণাস্ত্র দেগেছে বলে দাবি। পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে আমেরিকার একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’। ইরানের দাবি, হামলার পরে আগুন ধরে গিয়েছে ওই জাহাজে। তবে এই হামলার বিষয়ে আমেরিকার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। জানা যায়নি ওই ট্যাঙ্কারে কত জন ছিলেন, সেটিতে করে কী ধরনের পণ্য নিয়ে আসা হচ্ছিল।

    ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা

    ভারত মহাসাগরে বুধবার রাতে মার্কিন একটি সাবমেরিন ইরানের ফ্রিগেট আইরিশ ডেনা (IRIS Dena)-কে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয় বলে খবর। জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনম থেকে নৌ মহড়া শেষে ইরানে ফিরছিল। শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা হয়। হামলায় অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া ৬০ জনের বেশি নাবিক এখনও নিখোঁজ। জাহাজটির কমান্ডারসহ প্রায় ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, টর্পেডো আঘাতের পর জাহাজটির পেছনের অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের শক্তিশালী মার্ক-৪৮ (Mark-48) টর্পেডো ব্যবহার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনও মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডো ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের জাহাজ ডুবিয়েছে।

    “কঠিন মূল্য দিতে হবে”: ইরানের হুঁশিয়ারি

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলাকে “নির্মম নৌ সন্ত্রাস” বলে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি হিসেবে থাকা ফ্রিগেট ডেনা আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনও সতর্কতা ছাড়াই আক্রমণের শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার জন্য কঠিন মূল্য দেবে।”

    পারস্য উপসাগরে পাল্টা হামলার দাবি

    এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) দাবি করে, তারা পারস্য উপসাগরে একটি মার্কিন তেলবাহী জাহাজে (Attack On US Tanker) হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তারা জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ রুট হওয়ায় এই ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা ড্রোন-মিসাইল আক্রমণে গত কয়েক দিনে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে খবর। এছাড়া মার্কিন সেনাবাহিনীর ৬ জন সদস্যও নিহত হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে ইজরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

    নিখোঁজ ভারতীয় নাবিক

    মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ওমানের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় রাজস্থানের নাগৌর জেলার এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হয়ে গেছেন। পরিবারের দাবি, হামলার পর থেকেই তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ নাবিকের নাম দলীপ সিং। তিনি রাজস্থানের নাগৌর জেলার খিনওয়াতানা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২২ জানুয়ারি ‘স্কাইলাইট’ সংস্থার পরিচালিত ওই তেলবাহী ট্যাঙ্কারে কাজে যোগ দেন তিনি। ১ মার্চ সকালে ওমানের খাসাব বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণে জাহাজের সামনের অংশে বড়সড় ক্ষতি হয়। সেই সময় দলীপ সিং জাহাজের ফরোয়ার্ড সেকশনে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিহারের বাসিন্দা আশিস কুমার। হামলার পর আশিসের দেহ উদ্ধার করা হলেও দলীপ সিং এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই দেবেন্দ্র সিং।

    এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে

    দেবেন্দ্র জানান, জাহাজের অধিকাংশ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও আশিস কুমার এবং দলীপ সিং-সহ তিনজন নিখোঁজ হয়ে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছিল দলীপের। জানা গেছে, নাগৌরেরই আর এক নাবিক সুনীল কুমার ওই জাহাজে কর্মরত ছিলেন। তিনি দলীপ সিংয়ের ডিউটি শুরুর আগেই নিজের শিফট শেষ করেছিলেন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় ৩৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে প্রায় এক হাজারের বেশি ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

    ভারতীয় নাবিকদের পাশে কেন্দ্র

    সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক একটি বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে। এই দল ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার কাজ করবে। বিদেশ মন্ত্রকও একটি কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় প্রায় এক কোটি ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল, মার্কিন ঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন ও সৌদি আরবসহ একাধিক উপসাগরীয় দেশে হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Israel: মোদি তেল আভিভ ছাড়ার পরেই ইরানে হানার ছক কষা হয়, সাফ জানালেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত

    Israel: মোদি তেল আভিভ ছাড়ার পরেই ইরানে হানার ছক কষা হয়, সাফ জানালেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে কাজে লাগানো হয়েছে “অপারেশনাল সুযোগ”। অন্তত ইজরায়েলের (Israel) তরফে এমনই দাবি করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল যৌথ হামলা চালায় ইরানে। ইজরায়েলি আধিকারিকরা একেই অপারেশনাল সুযোগ বলে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুযোগটি তৈরি হয় কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) তেল আভিভ সফর শেষ হওয়ার পর। ভারতে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সংবাদ মাধ্যমে জানান, মোদির সফরের সময় তেহরানের বিরুদ্ধে আসন্ন সামরিক অভিযানের কোনও পূর্বাভাস ছিল না। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তাই মোদি থাকার সময় ইজরায়েলের ইরান হানার ছক কষা হয়েছিল বলে যে দাবি কংগ্রেস করছে, সেটা খারিজ করে দিলেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত। প্রসঙ্গত, গত দু’দিন ধরে কংগ্রেস এ নিয়ে আক্রমণ করেছে মোদিকে।

    অপারেশনাল সুযোগ (Israel)

    তিনি বলেন, “এটি ছিল একটি অপারেশনাল সুযোগ, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলে যাওয়ার পর সৃষ্টি হয়। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় আমরা আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছিলাম, কিন্তু যে বিষয়টি তখনও আমরা জানতাম না, তা শেয়ার করা সম্ভব হয়নি।” আজার আরও জানান, মোদির সফর শেষ হওয়ার পর প্রায় দু’দিন সময় লাগে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত রূপ নিতে। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইজরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার তরফে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালায়। হামলা করা হয় রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক শহরে। “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে পরিচিত এই অভিযানটি স্থগিত হয়ে থাকা পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে এবং তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ পুনরায় শুরু করেছে—এমন অভিযোগের পর পরিচালিত হয়। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা আঘাত হানে। এর কয়েকটি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই, আবুধাবি, কাতার ও বাহরাইন (Israel)।

    ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

    তেহরান তাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধ এড়াতে আলোচনার চেষ্টা করার জন্য ইরানের অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” আজার জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা ও সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে ইজরায়েল বহু বছর ধরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের এমন গোয়েন্দা সক্ষমতা তৈরি (PM Modi) করতে হয়েছে যাতে আমরা ইরানের শাসনব্যবস্থা ও তাদের সামরিক কাঠামোকে বুঝতে পারি—তারা পরবর্তী পদক্ষেপ কী নিতে পারে, কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তারা কোথায় অবস্থান করছে এবং কোন সক্ষমতাগুলি ইজরায়েলের জন্য হুমকির সৃষ্টি করছে।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার প্রযুক্তি উন্নয়নে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রতিরক্ষা ঢাল শক্তিশালী করতে ইজরায়েল বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এই হুমকি শুধু ইরান থেকেই নয়, বরং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির কাছ থেকেও আসে (Israel)।” দু’দিনের ইজরায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সম্পর্ককে বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করতে রাজি হন (PM Modi)।

     

  • Iran’s New Supreme Leader: আয়াতোল্লার উত্তরাধিকারী ছেলে মোজতবা, বংশানুক্রমিক শাসন কি মানবে ইরান?

    Iran’s New Supreme Leader: আয়াতোল্লার উত্তরাধিকারী ছেলে মোজতবা, বংশানুক্রমিক শাসন কি মানবে ইরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা আলি খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলায় নিহত, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর হাতেই ইরানের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই হলেন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের (Ali Khamenei) মেজো ছেলে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। ইরাক-ইরান যুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। অর্থাৎ সামনে থেকে দেশের হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দফতরের কাজকর্মও দেখভাল করতেন।

    সর্বোচ্চ নেতা পদটি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতা পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাষ্ট্রের সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এছাড়া প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (Islamic Revolutionary Guard Corps) উপরও তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অ্যাসেম্বলির আলেমদের উপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে মোজতবাকে নির্বাচিত করতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের সরকারি মহল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোজতবা খামেনেইকে একজন মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় আলেম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এতদিন আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করলেও এবার সরাসরি রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন।

    বংশানুক্রমিক শাসনের বিরোধী, তাহলে কেন?

    ইরান নিজেকে বরাবরই বংশানুক্রমিক শাসনের বিরোধী বলে দাবি করে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইতিহাস বলছে, রাজতন্ত্রের বিরোধিতায় ইরানে বিপ্লব ঘটে এবং সেখান থেকে প্রথমে রুহোল্লা খোমেনেই এবং পরবর্তীতেল তাঁর সহযোগী আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হাতে শাসনভার ওঠে। কিন্তু মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক ঘোষণার অর্থ বংশানুক্রমিক শাসন কায়েমে সিলমোহর দেওয়া, যা রাজতন্ত্রেরই নামান্তর মাত্র বলে মত আয়াতোল্লা খামেনেই বিরোধীদের। তাই মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

    রেভলিউশনারি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোজতবা

    ইরানের সর্বোচ্চ শাসক পদে আসীন হওয়া অর্থ দেশের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা। প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি, সশস্ত্র বাহিনী এবং রেভলিউশনারি বাহিনীর প্রধান হওয়াও। আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে ইরানে রেভলিউশনারি বাহিনীর উত্থান। কিন্তু আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হাতে খোলনলচেই বদলে যায় তাদের। পশ্চিমি শক্তি, পশ্চিমি সংস্কৃতির বিরোধিতায় রেভলিউশনারি বাহিনীর ক্ষমতাবৃদ্ধি করেন তিনি। ইরানের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতেও তাদের বিরাট প্রভাব। এই রেভলিউশনারি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোজতবাও। ১৯৬৯ সালে মাশাদে জন্ম মোজতবার। ২০১৯ সালে মোজতবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ। অভিযোগ ওঠে, সরকারি পদে না থেকেও, নির্বাচিত না হয়েও, বাবার জায়গায় নিজের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

LinkedIn
Share