Tag: Balochistan Liberation Army

Balochistan Liberation Army

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

  • Balochistan: চতুর্মুখী সঙ্কটে পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ-গণবিক্ষোভ আর সীমান্ত সংঘাতে জেরবার ইসলামাবাদ

    Balochistan: চতুর্মুখী সঙ্কটে পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ-গণবিক্ষোভ আর সীমান্ত সংঘাতে জেরবার ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভূতপূর্ব এক অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রের অন্তত চারটি ভিন্ন প্রান্তে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। একদিকে যেমন বেড়েছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির রক্তক্ষয়ী তৎপরতা, তেমনই অন্যদিকে ধেয়ে আসছে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের তীব্র গণবিক্ষোভের ঢেউ। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে তৈরি হওয়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে দেশের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক শক্তির চরম পরীক্ষা নিচ্ছে এই চতুর্মুখী সঙ্কট।

    গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স (Balochistan)

    গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পাকিস্তানে হিংসা ও জঙ্গি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর দেশটিতে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১,১৩৯ জনের, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালের জুন মাসে হামলার সংখ্যা সামান্য কমলেও, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, কেবল জুন মাসেই ১১৮টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৪৮ জন জখম হয়েছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সন্ত্রাসবাদের কোনও যৌক্তিকতা না থাকলেও, আজকের এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির উত্থান আসলে পাকিস্তানের গত কয়েক দশকের নিজস্ব ভুল নীতিরই ফসল। আঞ্চলিক স্বার্থে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার যে কৌশল ইসলামাবাদ নিয়েছিল, তা এখন ব্যুমেরাং হয়ে দেশের অভ্যন্তরেই বড়সড় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করেছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে পাক নাগরিকদের মধ্যেও।

    বালুচিস্তানে দ্বিমুখী যুদ্ধ

    পাকিস্তানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বালুচিস্তান। এই বিস্তীর্ণ প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদকে চরমভাবে শোষণ করছে, অথচ স্থানীয় মানুষদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। গুম এবং রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখানে আরও উসকে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুনকে। বর্তমানে সেখানে একদিকে চলছে স্বাধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, অন্যদিকে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। গত জুলাই মাসে বালুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি বাঁধের কাছে একটি পুলিশ পোস্টে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র জঙ্গিরা হামলা চালায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলায় দু’জন স্টেশন হাউস অফিসার-সহ ন’জন পুলিশ কর্মী নিহত হন। পরে আরও ১৮ জনকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর ঠিক দু’দিন পরে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র যোদ্ধারা লাসবেলা জেলায় পাক সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল বেশ কয়েকজন সেনা কর্মীর। কোয়েটার কাছে অন্য একটি হামলায় চারজন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের প্রায় ৪০ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান।

    ইসলামাবাদের মাথাব্যথা

    ইসলামাবাদের বড় চিন্তার বিষয় হল, বালুচিস্তানে তাদের একই সঙ্গে দু’টি ভিন্ন আদর্শের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। বিএলএ লড়ছে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবিতে, যার মূল ভিত্তি বালুচ জাতীয়তাবাদ। আর, টিটিপির লক্ষ্য হল পুরো পাকিস্তানে তাদের নিজস্ব চরমপন্থী ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই বছর বিএলএর রণকৌশলে বড় বদল দেখা গিয়েছে। তারা দেশের ১০টিরও বেশি শহরে হামলা চালিয়ে পুলিশ স্টেশন, রেললাইন, ব্যাঙ্ক ও সরকারি ভবন ধ্বংস করেছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়ায় ড্রোনের ব্যবহার

    একদিকে যখন বালুচিস্তান জ্বলছে, তখন খাইবার পাখতুনখোয়া বা কেপি প্রদেশেও অব্যাহত টিটিপির হামলা। উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান, বান্নু, বাজাউর, খাইবার এবং ডেরা ইসমাইল খানের মতো উপজাতীয় অঞ্চলে নিত্যদিন চলছে বোমা বিস্ফোরণ, অতর্কিত হামলা এবং টার্গেট কিলিং। সম্প্রতি আপার দির এবং বান্নুতে পৃথক হামলায় তিন পুলিশ কর্মী নিহত এবং প্রায় ২০ জন জখম হয়েছেন। কৌশল বদলে টিটিপি এখন পুলিশ স্টেশন এবং নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার জন্য বাণিজ্যিক ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান আর প্রথাগত জঙ্গি দমনের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন ড্রোন হামলা, সীমান্ত পারের জঙ্গি চলাচল, গোয়েন্দা যুদ্ধ এবং অনলাইন প্রোপাগান্ডার এক জটিল মিশ্রণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ২০২২ সালের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর, বারবার সামরিক অভিযান চালিয়েও, টিটিপির নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে পারেনি পাকিস্তান। পরন্তু বালুচিস্তানে টিটিপির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, কেপি এবং বালুচিস্তানের সংঘাতগুলি এখন একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে তীব্র গণবিক্ষোভ

    উপজাতীয় এবং সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে যখন সশস্ত্র লড়াই চলছে, তখন পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বে সেখানে মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া বিল, আটার দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানের অন্য প্রান্তে বসবাসকারী জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তুদের জন্য প্রাদেশিক পরিষদে সংরক্ষিত ১২টি আসন নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই আসনগুলির মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং স্থানীয়দের কণ্ঠরোধ করে।

    এই আন্দোলনের জবাবে পাক প্রশাসন কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ, গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আন্দোলন থামানো যায়নি। জুলাই মাসের সংঘর্ষে অন্তত ন’জন নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত পরিকল্পিত বিক্ষোভ মিছিল ঠেকাতে প্রায় ৪,০০০ রেঞ্জার্স, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বহু এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

    বন্ধু থেকে শত্রু আফগানিস্তান

    ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান সরকার আনন্দের সঙ্গে তাদের স্বাগত জানিয়েছিল। ইসলামাবাদ আশা করেছিল, কাবুলের নতুন সরকার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবে। কিন্তু ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে পাকিস্তানের সেই আশা চুরমার হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তান এখন সরাসরি অভিযোগ করছে, আফগান তালেবান তাদের মাটিতে টিটিপির শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও তালেবান অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা বলে দাবি করেছে। এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ওপর হামলার পর, পাক বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার প্রদেশে বিমান ও স্থল অভিযান চালায়। ইসলামাবাদ দাবি করে তারা জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বহু সাধারণ আফগান নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এর জবাবে আফগান তালেবানও চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সামরিক টার্গেটে ড্রোন ও বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলস্বরূপ, ডুরান্ড লাইন এখন আর কেবল আন্তর্জাতিক সীমান্ত নয়, বরং একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

    সঙ্কট কি দেশের ভাঙন ডেকে আনবে?

    এই চারটি সঙ্কট একই সময়ে ঘটায় আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কযুক্ত মনে হলেও, এদের লক্ষ্য ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিএলএ চায় স্বাধীনতা, টিটিপি চায় শরিয়া শাসন, জেএএসি চায় অর্থনৈতিক স্বস্তি ও রাজনৈতিক অধিকার, আর আফগান তালেবান ব্যস্ত তাদের নিজস্ব শাসন কায়েম করতে। তবে এই গোষ্ঠীগুলির লক্ষ্য যা-ই হোক না কেন, এরা প্রত্যেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কাঠামোর দুর্বলতাকে বেআব্রু করে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন, দেশের দু’টি প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অত্যন্ত সক্রিয় এবং দেশের পরিস্থিতি দিন দিন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রাক্তন আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ সম্প্রতি পাকিস্তানে নতুন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পর, দেশটির ভেঙে যাওয়ার তত্ত্ব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সীমানা বদলে যাওয়ার মতো কোনও জোরালো প্রমাণ নেই। কারণ প্রতিটি আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং দাবি আলাদা। তা সত্ত্বেও, এটি মানতেই হবে যে পাকিস্তান তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই বহুমুখী চাপ সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক শক্তি কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।

     

  • Balochistan: সুরাব শহরের দখল তাদের হাতে, দাবি বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির

    Balochistan: সুরাব শহরের দখল তাদের হাতে, দাবি বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালোচিস্তান (Balochistan) প্রদেশের সুরাব শহরের নিয়ন্ত্রণ নিল বিদ্রোহীরা। এমনটাই দাবি বিদ্রোহীদের। সমাজমাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে সরকারি ভবনের দখল নিচ্ছে বিদ্রোহীরা। বিএলএ বা বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি ঘোষণা করেছে যে শহরে পুলিশ স্টেশন, প্রধান ব্যাংক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস সহ পুরো সুরাব শহরকেই তারা দখল করেছে। বালোচ কমান্ডাররা দাবি করেছেন যে তাদের দাপটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনী পিছু হঠে। অভিযানের সময় একজন স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) হত্যার দায়ও তারা নিয়েছে (Balochistan Liberation Army)। পুলিশ কর্মীদের কাছ থেকে অস্ত্রও তারা কেড়ে নিয়েছে বলে দাবি তাদের।

    কী বললেন বিদ্রোহীদের মুখপাত্র জয়ন্দ বালুচ (Balochistan)

    সুরাব শহরকে দখলের পরেই বিবৃতি সামনে আসে বিএলএ মুখপাত্র জয়ন্দ বালুচের। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যোদ্ধারা সুরাবের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরগুলির নিয়ন্ত্রণ করছে। এর পাশাপাশি কোয়টা ও করাচির যে জাতীয় সড়ক, সেই সড়কের চেকপোস্টগুলি এবং টহলদারি ব্যবস্থাও তারা নিয়ন্ত্রণ করছে।’’

    শুক্রবার সন্ধ্যাতে চলে হামলা (Balochistan)

    প্রসঙ্গত, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গোটা শহর। পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সড়ক যেগুলি রয়েছে, সেগুলিকেও তারা সিল করে দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যাতে বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহীরা জমা হতে থাকে এবং বিভিন্ন সরকারি অফিস গুলিতে হামলা শুরু করে। পাকিস্তানের সরকারি আধিকারিকরা যদিও এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।

    জোর করে বালোচিস্তান দখল করে পাকিস্তান (Balochistan)

    বালোচিস্তান (Balochistan) হল পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। আফগানিস্তান, ইরান এবং আরব সাগরের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক গ্যাস, তামা, সোনা, কয়লা এবং ইউরেনিয়াম সহ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগের সময় এই প্রদেশ আধা-স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য ছিল। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান জোরপূর্বক এই অঞ্চলটি দখল করে। সেই থেকেই শুরু বিদ্রোহ।বর্তমানে ভারত-পাক যুদ্ধের আবহে তা আরও ভয়ঙ্কর আকার ধরাণ করে। পাকিস্তানি সেনা ও সরকার কোনওভাবেই নিয়্ন্ত্রণ করতে পারছে না বিদ্রোহীদের।

  • Balochistan: স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে উত্তাল বালোচিস্তান, ফের প্রচারের আলোয় হিংলাজ মাতার মন্দির

    Balochistan: স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে উত্তাল বালোচিস্তান, ফের প্রচারের আলোয় হিংলাজ মাতার মন্দির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে উত্তাল হয়েছে পাকিস্তানের বালোচিস্তান (Balochistan)। এই আবহে ফের একবার প্রচারের আলোয় উঠে এসেছে হিংলাজ মাতার মন্দির এবং কাটাস রাজ মন্দির। বালোচিস্তানের বিদ্রোহীরা তাঁদের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে একপ্রকার পাকিস্তানের সেনা ও সরকারকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন। পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন বালোচিস্তানের হাজার হাজার মানুষ। বালোচিস্তানের এই দুই প্রাচীন মন্দিরের সঙ্গেই ভারতের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক এক পুরনো সম্পর্ক রয়েছে।

    বালোচিস্তানের লাসবেলা জেলায় অবস্থিত হল হিংলাজ মাতার মন্দির

    পাকিস্তানের বালোচিস্তানের (Balochistan) লাসবেলা জেলায় অবস্থিত হল হিংলাজ মাতার মন্দির। এই মন্দির হিন্দুদের একান্ন শক্তি পীঠের অন্যতম বলে মানা হয়। হিংলাজ মাতার মন্দির হিংলাজ শক্তিপীঠ নামে পরিচিত। হিন্দু ধর্ম অনুসারে বালোচিস্তানের এই শক্তি পীঠেই মাতা সতীর মস্তক পড়েছিল। এমনটাই ভক্তদের বিশ্বাস। হিঙ্গল নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দির হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান। এই মন্দির সিন্ধি এবং বালোচিস্তানে বসবাসরত হিন্দু সমাজের কাছে অত্যন্ত ভক্তির জায়গা। শুধু তাই নয়, বালোচিস্তানে (Balochistan) বসবাসরত মুসলমানদের একাংশের কাছেও হিংলাজ মাতার মন্দির নানি পীর বলে পরিচিত।

    পাঞ্জাব প্রদেশের চকোয়ালে অবস্থিত হল কাটাস রাজ শিব মন্দির

    একইভাবে পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাব প্রদেশের চকোয়ালে অবস্থিত হল কাটাস রাজ শিব মন্দির। ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলে পরিচিত এই মন্দির ফের একবার প্রচারের আলো উঠে এসেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দির ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। এখানেই সতীদাহের সময় ভগবান শিবের অশ্রু পড়েছিল। এই স্থানে রয়েছে একটি পবিত্র জলাশয়। শুধু তাই নয়, কাটাস রাজ শিব মন্দিরের অন্য গুরুত্বও রয়েছে বলে জানাচ্ছেন ঐতিহাসিকরা। প্রাচীন ভারতবর্ষে এই মন্দিরই হিন্দু ধর্মের শিক্ষা এবং দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল বিশ্বাস করা হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, পাণ্ডবরা তাঁদের অজ্ঞাতবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। শুধু তাই নয়, আদি গুরু শংকরাচার্য এই মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। কাটাস রাজ শিব মন্দিরের গঠনে হিন্দু এবং বৌদ্ধ রীতির মিশ্রণ দেখা যায়। পাকিস্তানে হিন্দুদের (Balochistan) জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে আজও রয়ে গিয়েছে। যদিও দেশভাগের পরবর্তীকালে এই মন্দিরে পুজো না করতে দেওয়ার অনেক অভিযোগ সামনে এসেছে।

  • Balochistan: বালোচিস্তানে গণবিদ্রোহ! ভারতকে রক্তাক্ত করার নীতিই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে পাকিস্তানে

    Balochistan: বালোচিস্তানে গণবিদ্রোহ! ভারতকে রক্তাক্ত করার নীতিই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে পাকিস্তানে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিজের পাপের ফল ভোগ করছে পাকিস্তান (Pakistan)! বিগত কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানের একটাই নীতি, সেটা হল ভারতকে আঘাত করা এবং রক্তাক্ত করা। পাকিস্তান এই নীতিকে বাস্তবায়িত করতে সন্ত্রাসকে তোষণ করছে। জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে। সে দেশে প্রকাশ্যেই সদর দফতর খুলে বসে আছে জঙ্গি সংগঠনগুলো। তাও সেনাবাহিনীর নাকের ডগায়। বিগত কয়েক দশক ধরেই এই জঙ্গিদের ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ চালাচ্ছে পাকিস্তান। ভারতের দুই সীমান্তবর্তী রাজ্য জম্মু-কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবে ধর্মীয় তথা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উস্কানি দেওয়ার লক্ষ্যে এই কাজ করে আসছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসের মদতদাতা পাকিস্তান যখন ভারতে আঘাত হানার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন তারা কখনও ফিরে দেখেনি তাদের নিজের বাড়ির উঠোনেই বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুন জ্বলে উঠছে। আয়তনের দিক থেকে পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ হল বালোচিস্তান। এই প্রদেশের গণবিদ্রোহে বর্তমানে পাকিস্তানের সেনা ও সরকার একেবারে বিপর্যস্ত। সে দেশের সরকারের কাছে এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বালোচিস্তানের গণবিদ্রোহ (Balochistan)।

    ১৯৪৮ সালে জোর করে বালোচিস্তান (Balochistan) দখল করে পাকিস্তান

    ১৯৪৮ সালের বালোচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হয়ে ওঠে। একপ্রকার জোর করে বালোচিস্তানকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সে সময়ে বালোচিস্তান প্রদেশের বেশ কিছু প্রভাবশালী উপজাতি নেতা ছিলেন, যাঁরা তাদের এই প্রদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে চেয়েছিলেন। তবে, তাঁদের সেই চাওয়া এবং দাবিকে কোনও মূল্যই দেয়নি পাকিস্তানের (Pakistan) তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা। এক প্রকার জোর করে বালোচিস্তানের ওপরে নিজেদের কর্তৃত্ব চাপায় পাকিস্তান সরকার। বালোচিস্তান (Balochistan) যেন প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এক ভূমি। কী নেই এখানে! গ্যাস, কয়লা, তামা, সোনা সমস্ত কিছুই। প্রদেশের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, পাকিস্তান কখনও এই প্রদেশকে তার প্রাপ্যটুকু দেয়নি। তার মূল্য দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চনা করা হয়েছে প্রদেশের মানুষদের সঙ্গে। তাঁরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পিছিয়ে গিয়েছে বালোচিস্তান। কোনও উন্নয়ন পৌঁছায়নি প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ এই প্রদেশে।

    পাকিস্তানি সেনার করুণ অবস্থা সামনে এসেছে গণবিদ্রোহে (Balochistan)

    খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধশালী এই অঞ্চলের জনগণের ক্ষোভ তাই পুঞ্জীভূত হতে থাকে। পাকিস্তান সম্পদ সমৃদ্ধ বালোচিস্তানকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনা করায় সেখানকার মানুষজন হাতে অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়। তাঁরা বলতে থাকেন, ইসলামাবাদ বিগত কয়েক দশক ধরে যে গৃহীত নীতি অনুসরণ করে চলেছে তা বালোচিস্তানের বিরুদ্ধে গিয়েছে। তার বিরুদ্ধেই তারা এই অস্ত্র হাতে নিয়েছে। ভারতকে রক্তাক্ত করতে গিয়ে পাকিস্তান এখন নিজের দেশেই পিছু হঠছে। বালোচ বিদ্রোহীদের হাতে পাকিস্তানের সেনাকেও যেন অসহায় লাগছে। পাকিস্তানি সেনার কনভয়গুলিতে লাগাতার আক্রমণ, বোমা হামলা, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা, অতর্কিত হামলা- এই সমস্ত কিছুতেই অসহায় হতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানকে। কড়া হাতে বিদ্রোহ দমন করতে চেয়েছে ইসলামাবাদ। তবে উলটে বালোচ বিদ্রোহীরা যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি, বালোচিস্তানের প্রায় ৫১ জায়গায় পাক সেনার উপরে ৭১টি হামলা চালিয়েছে তারা। বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির সঙ্গে রয়েছে গোটা প্রদেশের জনসমর্থন। অনেক চেষ্টা করেও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বিদ্রোহীদের।

    ২০০০ সাল থেকে বালোচ বিদ্রোহীরা সেনা ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে থাকে

    দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার বালোচিস্তানের মানুষদের প্রতি পাকিস্তান সরকারের এমন বঞ্চনা, বিদ্রোহে পরিণত হয় ২০০০ সালে। ওই বছরেই বালোচিস্তানের বিদ্রোহীরা তাদের নিকটবর্তী স্থানগুলির সেনাঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায়। এরপর ২০০৬ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বালোচিস্তান উপজাতি গোষ্ঠীর নবাব আকবর বুগদিকে হত্যা করে। এতেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলতে শুরু করে। বিদ্রোহ দমনের নামে তারপর থেকেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী শয়ে শয়ে যোদ্ধাকে হত্যা করতে থাকে। তাঁদেরকে নির্যাতন করতে থাকে। বিদ্রোহীদের অপহরণ করতে থাকে পাকিস্তানি সেনা। সেনাবাহিনীর এমন কর্মকাণ্ডে বালোচিস্তান মানুষদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ২০২৫ সালে যা ভয়ঙ্কর জায়গায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বালোচিস্তান।

    প্রতীকী স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন বালোচ নেতারা, সমাজমাধ্যমে ভাইরাল জাতীয় পতাকা

    পাকিস্তান সরকারের এমন সন্ত্রাসের অভিযোগে বালোচিস্তান নেতারা বিগত কয়েক দশক ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাটি উল্লেখ করে আসছেন। তাঁরা বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চের দৃষ্টিও আকর্ষণ করছেন। পাকিস্তান থেকে ইতিমধ্যে স্বাধীনতার কথা ঘোষণা করেছেন তাঁরা। সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁদের প্রস্তাবিত জাতীয় পতাকা। এর পাশাপাশি স্বাধীন বালোচিস্তান রাষ্ট্রের মানচিত্রও দেখা গিয়েছে। বালোচিস্তান প্রজাতন্ত্র নামে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি। এ নিয়ে বালোচিস্তানের অন্যতম নেতা তথা লেখক মীর ইয়ার বালুচ বলেন, ‘‘পাকিস্তান অধিকৃত বালোচিস্তানের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। বালোচিস্তান (Balochistan) পাকিস্তানের অংশ নয়।’’ নিজের সমাজ মাধ্যমের পোস্টে মীর ইয়ার বালুচ রাষ্ট্রসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বালোচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়ার জন্য। ১৯৪৮ সালের পাকিস্তান জোর করে বালোচিস্তান দখল করার পর থেকেই এই সমস্যা চলছে বলেও জানিয়েছেন মীর ইয়ার বালুচ। তাঁর মতে, ‘‘এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে গ্যাস-খনিজ এই সমস্ত কিছুই ইসলামাবাদ লুট করছে। বালোচিস্তানের স্থানীয় জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ওই কারণে পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ হিসেবেই রয়ে গিয়েছে বালোচিস্তান।’’ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বালোচিস্তানের পতাকা ও মানচিত্র হাতে সাধারণ মানুষের ছবিও পোস্ট করতে দেখা গিয়েছে মীর ইয়ার বালুচকে।

    বালোচিস্তানের জনগণ চালাচ্ছে একটি Government in Exile! সরকারের মহিলা প্রধানমন্ত্রী নাইলা কাদরি

    সাবেক বালোচিস্তানের একটা বড় অংশ যেমন পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত, আরও দুটি অংশ ঢুকে আছে, আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে! তবে এখন পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশের নাম বালোচিস্তান, পাকিস্তানের মোট আয়তনের ৪৩ শতাংশ। এক লাখ একত্রিশ হাজার ৫৪৫ বর্গ মাইল! ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট থেকে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বালোচিস্তানের পার্লামেন্ট পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিরোধিতা করে! কিন্তু ১৯৪৮ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বালোচিস্তান জবরদখল করে! তবে অনেক বছর ধরেই বালোচিস্তানের জনগণ চালাচ্ছে একটি Government in Exile! সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন মহিলা! তাঁর নাম নাইলা কাদরি! যাঁকে ইতিমধ্যেই বিতারিত করা হয়েছে দেশ থেকে! এই বালোচ নেত্রী পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারিত্ব থেকে মুক্তির জন্য জাতিসংঘ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থনও চেয়েছেন। পেশায় অধ্যাপিকা নইলা কাদরি বিশ্বাস করেন, একমাত্র সনাতনী ভারতের সঙ্গে পুরান সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আছে বালোচবাসীর! বালোচবাসীর মধ্যে হিন্দু আছেন শিখ আছেন মুসলিম আছেন, সকলে বালোচ পরিচয়ে আছেন! ধর্মের পরিচয়ে নেই! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বালোচিস্তান, যা একসময় একটি স্বাধীন দেশ ছিল, তা এখন পাকিস্তানের অবৈধ দখলে রয়েছে!

  • Suicide Attack in Pakistan: পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৫ চিনা নাগরিক সহ ৬

    Suicide Attack in Pakistan: পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৫ চিনা নাগরিক সহ ৬

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার জোড়া জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান। পরপর বিস্ফোরণে (Suicide Attack in Pakistan) নিহত ৫ চিনা নাগরিক সহ ৬। প্রথম হামলাটি হয় মঙ্গলবার ভোরে, পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌ-বিমান ঘাঁটিতে। টুবর্ট বিমান ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা চালায় ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’। অন্যদিকে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেলার দিকে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে, একটি কনভয়ের ওপরে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনাতেই নিহত হন ৫ চিনা নাগরিক এবং তাঁদের পাকিস্তানি গাড়ি চালক।

    মঙ্গলবার ভোরের হামলা

    মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌ-বিমান ঘাঁটিতে এই হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষজন। তবে এটা নতুন কিছু নয়। চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার হামলা (Suicide Attack in Pakistan) হল টুবর্ট নৌ-বিমান ঘাঁটিতে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে এ নিয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটল ৩ বার। মঙ্গলবার ভোরের এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’। এই হামলায় চারটি হেলিকপ্টার ও তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। একাধিক গাড়িকেও নিশানা করা হয়। হামলায় নিহত হয়েছেন ১২ জন পাক সেনা, এমনটাই দাবি ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’র। আহতদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, প্রথমে বালুচ বিদ্রোহীরা বিমান ঘাঁটিতে ঢোকার চেষ্টা করতেই নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা দেয়। তখনই শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের তীব্র গুলির লড়াই। গোলাগুলিতে চারজন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    মঙ্গলবার বেলায় আত্মঘাতী হামলা

    অন্যদিকে, বেলার দিকে আত্মঘাতী (Suicide Attack in Pakistan) বোমা হামলার ঘটনাটি ঘটে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে। এখানে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ করছেন চিনা ইঞ্জিনিয়াররা এবং পাকিস্তানে নির্মাণ শ্রমিকরা। আগেও এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এখানে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার চিনা ইঞ্জিনিয়ারদের কনভয়ের ওপরে আচমকাই হামলা চালানো হয়। ২০২১ সালেও এই প্রকল্পে হামলার জেরে দুই পাকিস্তানি শিশু সহ নয়জন চিনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকদের বহনকারী একটি বাসকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় জঙ্গিরা।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  •  Iran-Pakistan: পাকিস্তানে ঢুকে ফের জঙ্গি-নিধন অভিযান ইরানের, জবাব দেবে ইসলামাবাদ?

     Iran-Pakistan: পাকিস্তানে ঢুকে ফের জঙ্গি-নিধন অভিযান ইরানের, জবাব দেবে ইসলামাবাদ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জইশ আল-আদল সন্ত্রাসীদের খতম করল ইরান (Iran-Pakistan)। দুই দেশ একে অপরের উপর বিমান হামলা চালানোর এক মাস পরে এই ঘটনা ঘটেছে। ইরানের সেনাবাহিনী পাকিস্তানে থাকা এই জঙ্গি গোষ্ঠীর উপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। 

    ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে খবর (Iran-Pakistan)

    ইরানের (Iran-Pakistan) সরকারি সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ জানিয়েছে, “ইরানের সামরিক বাহিনী, জইশ আল-আদল জঙ্গি গোষ্ঠীর কমান্ডার ইসমাইল শাহবখশ এবং তার কয়েকজন সঙ্গীকে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হত্যা করেছে।” আবার আল আরাবিয়া নিউজ সূত্রে জানা গিয়েছে, “২০১২ সালে গঠিত হয় জাইশ আল-আদল সংগঠন। পরবর্তী সময়ে ইরান সরকার সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে আল-আদলকে ঘোষণা করে। এই জঙ্গি সংগঠন হল একটি সুন্নি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। মূলত ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশে এরা সক্রিয়। গত কয়েক বছর ধরে এই সংগঠন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর অসংখ্য হামলা চালিয়েছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে সিস্তান-বালুচিস্তানের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছিল। সেখানে কমপক্ষে ১১ জন ইরানি পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছিলেন।”

    ইরান-পাকিস্তান সম্পর্ক

    গত মাসে ইরান-পাকিস্তান (Iran-Pakistan) একে অপরের জঙ্গি অধ্যুষিত অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পরে উভয় রাষ্ট্র পারস্পরিকভাবে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে প্রসারিত করতে সম্মত হয়েছিল। এই বিষয়ে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী জলিল আব্বাস জিলানি এবং ইরানের পক্ষ থেকে হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান পাকিস্তানের বিদেশ দফতরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চুক্তিটির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে জিলানি বলেছেন, “উভয় দেশ নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিকে দ্রুত সমাধান করতে পারবে। দুই দেশ তাদের নিজ নিজ এলাকায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে এবং একে অপরের উদ্বেগ দূর করতে সম্মত হবে।” তার একমাসের মাথায় ফের পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি-নিধন করল ইরান। এবার পাকিস্তান কী প্রত্যুত্তর দেয় সেটাই দেখার।

    উভয় পক্ষ একে অপরকে হামলা করেছে

    গত ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে পাকিস্তানে জইশ আল-আদলের মূল দফতরে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইরান। এই হামলায় দুই শিশু নিহত হয় এবং একই সঙ্গে তিনজন মেয়ে আহত হয়েছিল বলে দাবি করে পাকিস্তান। এর পরই পাকিস্তান ১৭ জানুয়ারি ইরান থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে পাকিস্তানে থাকা ইরানি রাষ্ট্রদূতকে ফেরত যাওয়ার কথা বলে। ঘটনায় উভয় দেশের (Iran-Pakistan) সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর ১৮ জানুয়ারি পাকিস্তান প্রতিশোধমূলক আক্রমণ হিসাবে ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়। ইসলামাবাদ জানিয়েছিল যে, এই হামলা ছিল বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি এবং বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট নামক সন্ত্রাসী  সংগঠনের উপর।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Balochistan: চিন-পাকিস্তানের ৬টি মোবাইল টাওয়ারে আগুন বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের

    Balochistan: চিন-পাকিস্তানের ৬টি মোবাইল টাওয়ারে আগুন বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন (China) এবং পাকিস্তানের (Pakistan) বিভিন্ন কোম্পানির ৬টি মোবাইল টাওয়ারে আগুন লাগিয়ে দিল বালুচিস্তান (Balochistan) লিবারেশন ফ্রন্ট। টাওয়ারগুলি ছিল বালুচিস্তান প্রদেশের কেচা জেলার তহশিল দস্ত এলাকায়। বুধবার এমনই দাবি করেছে বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট। বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট পাকিস্তানি মোবাইল কোম্পানি ইউফোন এবং চিনা কোম্পানি জংয়ের মোবাইল টাওয়ারে হামলাও চালিয়েছে। এই টাওয়ারগুলি রয়েছে কেচা জেলার দস্ত ক্যাম্বেল, জান মহম্মদ বাজার, প্রিন্ট বাজার এবং জরিনবাগ এলাকায়। বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের দাবি, ওই টাওয়ারগুলির সমস্ত মেশিনারি জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। চিন পাকিস্তান ইকনোমিক করিডরে থাকা ইউফোনের একটি টাওয়ার এবং সাংগাই বাজার এলাকায় জং কোম্পানির একটি মোবাইল টাওয়ারও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের।

    বালুচিস্তান (Balochistan)…

    বালুচিস্তানের (Balochistan) বিভিন্ন এলাকায় যৌথভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে চিন ও পাকিস্তান। গোয়েন্দা ও সৈন্যদের স্বার্থেই এটা করতে চাইছে দুই প্রতিবেশী দেশ। বালুচিস্তানের বাসিন্দাদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্যও ওই টাওয়ারগুলি ব্যবহার করা হয়। চিন পাকিস্তান ইকনোমিক করিডর রক্ষা করা ও মোবাইল টাওয়ারগুলি বসানোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বালুচিস্তান ও বালুচদের উন্নতি প্রকল্পেই এই টাওয়ারগুলি বসানো হয়েছিল। প্রশাসন এও প্রচার করেছিল, এলাকায় লুঠতরাজ রুখতে এবং বালুচবাসীর সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই বসানো হয়েছিল টাওয়ার।

    আরও পড়ুুন: জনসংখ্যার নিরিখে চিনকে টপকে গেল ভারত, বলছে রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট

    ২০২১ সালের জুন মাসেও বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট দাবি করেছিল, এলাকায় মোবাইল টাওয়ার বসাতে যাওয়ায় মার্গেটস চোখবি ওয়াধা কোম্পানি মোবাইল টাওয়ারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল তাদের যোদ্ধারা। ধরে নিয়ে গিয়েছিল ওই মোবাইল কোম্পানির ৬ জন সদস্যকেও। বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্র আজাদ বালুচ জানিয়েছিলেন তাঁরা যাঁদের ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন গুল শাহ খান, আবদুল আদি এবং কোয়েট্টার বাসিন্দা মেহরাজ, জোব কুইলা সইফুল্লা, কোয়েট্টারই মহম্মদ ইউসুফ, গুজরাটের আমানত আলি এবং কুইলা সফিউল্লার রহমতউল্লা। বালুচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট এও জানিয়েছিল দখলিকৃত বালুচিস্তানে (Balochistan) চিন এবং পাকিস্তানের কোনও কোম্পানি যেন মোবাইল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা না করে। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মোবাইল টাওয়ার বসাচ্ছে চিন। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, তারই প্রতিশোধ নিতে এদিন জ্বালিয়ে দেওয়া হল ৬টি মোবাইল টাওয়ার।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Karachi Blast: “শারি জান, তোমার জন্য আমি গর্বিত”, করাচির মহিলা আত্মঘাতী জঙ্গিকে টুইটে ‘শ্রদ্ধা’ চিকিৎসক স্বামীর

    Karachi Blast: “শারি জান, তোমার জন্য আমি গর্বিত”, করাচির মহিলা আত্মঘাতী জঙ্গিকে টুইটে ‘শ্রদ্ধা’ চিকিৎসক স্বামীর

    মাধ্য়ম নিউজ ডেস্ক: স্ত্রী আত্মঘাতী জঙ্গি (suicide bomber)। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিস্ফোরণ (Karachi Blast) ঘটিয়ে তিন চিনা নাগরিককে হত্যা করেছে। স্ত্রীর সেই কাজকে শুধু সমর্থন করাই নয়, এই কাজে অত্যন্ত গর্বিত অনুভব করে টুইটে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন আত্মঘাতী মহিলা জঙ্গির স্বামী! যিনি কিনা পেশায় আবার দন্ত-চিকিৎসকও বটে! আর স্ত্রী? উচ্চশিক্ষিতা শুধু নয়, পেশায় শিক্ষিকা। একইসঙ্গে দুই সন্তানের মা। করাচি বিস্ফোরণের মূল কাণ্ডারীর এই প্রোফাইল প্রকাশ্যে আসার পর সকলেই চমকে উঠছেন। বলছেন, এ-ও কী সম্ভব!

    মঙ্গলবার করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Karachi University) ভিতরে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কাছে একটি ভ্যানগাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় তিন চিনা-সহ কমপক্ষে চারজনের। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা। আহত হন আরও অনেকে। মৃতেরা হলেন – কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের অধিকরতা হুয়াং গুইপিং, ডিং মুপেঙ্গ, চেন সা এবং পাকিস্তানের চালক খালিদ।

    হামলার দায় স্বীকার করে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (Balochistan Liberation Army)। গোষ্ঠীর তরফে জানানো হয়, বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে মাজিদ ব্রিগেড ইউনিট। আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য মানববোমা হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছিল শারি বালোচ (Shaari Baloch) ওরফে ব্রামশকে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বোরখা পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের মুখে দাঁড়িয়ে এক মহিলা। চিনা নাগরিকদের নিয়ে সাদা একটা ভ্যান বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে যাওয়ার মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটে।

    [tw]


    [/tw]

    পাক সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, তিরিশ বছর বয়সী এই মহিলা উচ্চশিক্ষিত। দুই সন্তানের মা শারি বালুচিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করার পর আলামা ইকবাল ওপেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল নিয়ে পড়াশোনা করে। ২০১৪ সালে বিএড করে শারি। ২০১৮-তে এমএড। বালুচিস্তানের কেচ জেলায় একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করছিল এই মহিলা। বিয়ে হয়েছিল দন্ত চিকিৎসকের সঙ্গে। তাদের এক ছেলে এক মেয়ে। এক জনের বয়স আট, অন্য জনের পাঁচ।

    ছাত্রাবস্থায় বালোচ স্টুডেন্টস’ অর্গানাইজেশন-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল শারি। বছর দুয়েক আগে সংগঠনের আত্মঘাতী স্কোয়াড মজিদ ব্রিগেডে যোগ দেয় সে। সেখানে যোগদানের পর থেকেই পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখে। সূত্রের খবর, সে এই সংগঠনের মাজিদ ব্রিগেডের অংশ ছিল। এই ব্রিগেডের প্রধান উদ্দেশ্য হল, চিনা নাগরিকদের টার্গেট করা। 

    কীভাবে একজন শিক্ষিকা শেষ পর্যন্ত জঙ্গি দলে নাম লেখাল তা বিস্ময়ের উদ্রেক করছে। জানা গিয়েছে, লিবারেশন আর্মিতে যোগদানের সময় হামলাকারী মহিলার প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার দুই সন্তান। সন্তান থাকার কারণে তাঁকে যোগদান করতে বারণ করা হয়, কিন্তু সেই সময় সে কোনও কথা শোনেনি। বরং লিবারেশন আর্মিতে যোগদান করার পর থেকেই সে নিজেকে করাচি হামলার জন্য প্রস্তুত করতে থাকে।

    [tw]


    [/tw]

    শারিকে অন্য কোনও স্কোয়াড বেছে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বিএলএ-র তরফে। কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করে। বরং আত্মঘাতী স্কোয়াডেই যে সে যোগ দিতে ইচ্ছুক, সে কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে জানিয়েছিল। বিএলএ-র আত্মঘাতী স্কোয়াড মজিদ ব্রিগেডের নিয়ম অনুযায়ী শারিকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল।

    ফলে গত দু’বছর ধরে মজিদ ব্রিগেডের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে কাজ করে শারি। এই সময়ের মধ্যে আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিল। মাস ছয়েক আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে শারি জানায়, আত্মঘাতী হামলার জন্য সে পুরোপুরি প্রস্তুত। তার পরই তাকে সরাসরি আত্মঘাতী স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    তবে সবচেয়ে অবাক করছে হাবিতান বাশির বালোচ (Habitan Bashir Baloch) নামে তার স্বামীর টুইট (Twitter)। স্ত্রীর জন্য গর্ব অনুভব করার পাশাপাশি পেশায় ডাক্তার ওই ব্যক্তি তার পোস্টে লিখেছে, ”শারি জান, তোমার নিঃস্বার্থ বলিদান আমাকে নির্বাক করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে। আমাদের দুই সন্তান মাহরোচ ও মীর হাসান বড় হয়ে যখন জানতে পারবে তার মা ছিল একজন ‘মহান’ মহিলা, তখন তারা গর্ব অনুভব করবে। তুমি আমাদের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থেকে যাবে।”

    [tw]


    [/tw]

LinkedIn
Share