Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Iran-Israel Conflict: “সক্রিয় সরকার, মিসাইলের শব্দের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম” মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয়রা

    Iran-Israel Conflict: “সক্রিয় সরকার, মিসাইলের শব্দের মধ্যেই সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম” মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে জানালেন ভারতীয়রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে উদ্বেগের মধ্যে থাকা বহু ভারতীয় নাগরিক ধীরে ধীরে দেশে ফিরছেন। ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আল খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei) নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। এর জেরে গোটা অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দুবাই, যেখানে বিশ্বের ব্যস্ততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর একটি অবস্থিত, সেই শহরও ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকাশসীমা আংশিক বন্ধ থাকায় বহু ফ্লাইট (Iran-Israel Conflict) বাতিল হয়েছে এবং হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েন।

    দুবাই থেকে ফিরছেন ভারতীয়রা

    সংঘাতের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে আটকে পড়েছিলেন বহু ভারতীয়। সোমবার (২ মার্চ) থেকে তাঁদের অনেকেই বিশেষ ও বিকল্প বিমানে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। দুবাই থেকে ইন্দোরে ফিরে আসা ব্যবসায়ী প্রভীন কক্কর জানান, “ওখানে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও সামগ্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার ভালো কাজ করছে।” একদল বিজেপি নেতাও দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। তাঁদের মধ্যে বিশাল প্যাটেল বলেন, “মিসাইল প্রতিহত করার শব্দ শোনা যেত, তখন কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হতো। তবে আমিরাত সরকার সতর্ক ছিল। সেখানে থাকা সব ভারতীয়রই দেখভাল করা হয়েছে।” সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া ভিডিও বার্তায় বিজেপি নেতা সঞ্জয় শুক্লাও একই কথা বলেন। তাঁর কথায়, “প্রথম দু’দিন পরিস্থিতি বেশ খারাপ মনে হচ্ছিল। দুবাইতেও হামলার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ও মার্কিন বাহিনী তা প্রতিহত করে। আমরা নিয়মিত সতর্কবার্তা পাচ্ছিলাম।”

    দিল্লিতে নামতেই স্বস্তি

    দুবাই থেকে দিল্লিতে ফেরা সুনীল গুপ্ত জানান, “আমি খুবই চিন্তায় ছিলাম। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হইনি। চারদিকে যা ঘটছিল, তা দেখে খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। শুধু বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম।” অন্যদিকে, ওমানের মাস্কাট থেকে ফেরা সুহেল আহমেদ জানান, বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ লাইন, বিভ্রান্তি—পরিবার নিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন। অনেকের টাকাও ফুরিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় দ্রুত ছাড়পত্র ও ভালো ব্যবস্থাপনা দরকার।”

    মিসাইল দেখামাত্রই ব্যবস্থা

    জানা গিয়েছে দুবাইয়ের বিমানবন্দর আংশিক চালু হয়েছে। যদিও যাত্রীদের জানানো হয়েছে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে তবেই বিমানবন্দরে যেতে। মঙ্গলবার ওমান থেকে ফিরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। তাঁর বলছেন দেশের মটিয়ে পা দিয়ে তাঁর যারপরনাই নিশ্চিন্ত বোধ করছেন। ওমানের রাজধানী মাস্কাট থেকে ভারতে ফের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছে সংবাদ সংস্থা আইএএনএস। ফিরে আসা যাত্রীদের মধ্যে অনিশা আগরওয়াল নামের একজন বলেন, “ওখানে মিসাইল দেখামাত্রই ব্যবস্থা নিচ্ছিল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। আমরা সে সব দেখে ভয়ে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদিও দুবাইয়ের সরকার কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে যথা সম্ভব ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে মিসাইল ও সেই মিসাইল ধংসের কারণে কান ফাটানো আওয়াজ আমরা পেয়েছি। যে কারণে আমাদের সঙ্গে থাক বাচ্চাদের বেশ সমস্যা হচ্ছিল।”

    রণাঙ্গনের মাঝে আটকে

    পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে এয়ার ইন্ডিয়া আংশিকভাবে বিমান পরিষেবা চালু করে। তাতে একটি বিমানে দুবাই থেকে দেশে ফিরতে পেরেছেন অন্তত ১৫০ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, বলিউড নায়িকা ইশা গুপ্তা। দুবাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামা পীযুষ পল্লভ, নীতা শর্মা, সঞ্জীবরা জানাচ্ছেন, “ফোনে ক্রমাগত অ্যালার্ট আসছিল। মাঝেমধ্যে সাইরেনের শব্দে বুঝতে পারছিলাম, মিসাইল ছোড়া হয়েছে, কোথাও ধ্বংসলীলা চলছে। শুধু ভাবছিলাম, কখন এই অবস্থা থেকে বেরব। আপনার পকেটে যথেষ্ট অর্থ না থাকলে এই পরিস্থিতি সামলানো কঠিন।” সেলিব্রেটি থেকে সাধারণ পর্যটক রণাঙ্গনের মাঝে আটকে ছিলেন সবাই। স্বদেশে ফিরেও আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাদের। যেমন অভিজ্ঞতা হল, সেই রেশ কাটাতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।

    ফ্লাইট পরিস্থিতি

    কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত ভারতীয় এয়ারলাইন্সের ১,২২১টি এবং বিদেশি সংস্থার ৩৮৮টি বিমান বাতিল হয়েছে। বর্তমানে বিকল্প রুট ব্যবহার করে ধাপে ধাপে দীর্ঘ ও অতিদীর্ঘ দূরত্বের বিমান পরিষেবা চালু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ২৪টি ভারতীয় বিমান পরিচালিত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় এমিরেটস ও ইতিহাদের ৯টি ফ্লাইট উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) অতিরিক্ত ৫৮টি ফ্লাইট চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ইন্ডিগো এবং ২৩টি এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস পরিচালনা করবে।

    সক্রিয় কেন্দ্রের মোদি সরকার

    আরব দুনিয়ায় বাড়তে থাকা উত্তেজনা (Iran-Israel Tension) ও সংঘাতের মধ্যে গালফ অঞ্চলে (Gulf region) আটকে পড়া ভারতীয়দের (stranded Indian nationals) দেশে ফেরাতে সবরকম ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। পরিবর্তিত আকাশপথ পরিস্থিতি নজরে রেখে ভারত সরকার গালফে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যও তাদের বাসিন্দাদের সাহায্যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে বিমান পরিষেবা এবং দেশে ফিরছেন উদ্বিগ্ন ভারতীয় নাগরিকরা।

    ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (Prahlad Joshi) বলেন, গালফ অঞ্চলে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তাঁর কথায়, “যেখানে যেখানে ভারতীয়রা বিপদে পড়েছে, কেন্দ্র সবসময়ই তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছে। ইউক্রেন (Ukraine) থেকেও আমরা নিজের নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছিলাম। ভারতীয়দের সুরক্ষা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

  • Iran’s New Supreme Leader: আয়াতোল্লার উত্তরাধিকারী ছেলে মোজতবা, বংশানুক্রমিক শাসন কি মানবে ইরান?

    Iran’s New Supreme Leader: আয়াতোল্লার উত্তরাধিকারী ছেলে মোজতবা, বংশানুক্রমিক শাসন কি মানবে ইরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক মোজতবা আলি খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের হামলায় নিহত, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবা। বাবার মৃত্যুর পর তাঁর হাতেই ইরানের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনেই হলেন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের (Ali Khamenei) মেজো ছেলে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। ইরাক-ইরান যুদ্ধেও অংশ নেন তিনি। অর্থাৎ সামনে থেকে দেশের হয়ে লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দফতরের কাজকর্মও দেখভাল করতেন।

    সর্বোচ্চ নেতা পদটি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতা পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাষ্ট্রের সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তদাতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। এছাড়া প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (Islamic Revolutionary Guard Corps) উপরও তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর অ্যাসেম্বলির আলেমদের উপর ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে মোজতবাকে নির্বাচিত করতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এ বিষয়ে ইরানের সরকারি মহল থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোজতবা খামেনেইকে একজন মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় আলেম হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এতদিন আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করলেও এবার সরাসরি রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হলেন।

    বংশানুক্রমিক শাসনের বিরোধী, তাহলে কেন?

    ইরান নিজেকে বরাবরই বংশানুক্রমিক শাসনের বিরোধী বলে দাবি করে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পিতা থেকে পুত্রের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। ইতিহাস বলছে, রাজতন্ত্রের বিরোধিতায় ইরানে বিপ্লব ঘটে এবং সেখান থেকে প্রথমে রুহোল্লা খোমেনেই এবং পরবর্তীতেল তাঁর সহযোগী আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হাতে শাসনভার ওঠে। কিন্তু মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক ঘোষণার অর্থ বংশানুক্রমিক শাসন কায়েমে সিলমোহর দেওয়া, যা রাজতন্ত্রেরই নামান্তর মাত্র বলে মত আয়াতোল্লা খামেনেই বিরোধীদের। তাই মোজতবাকে সর্বোচ্চ শাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্তে ইরানের সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

    রেভলিউশনারি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোজতবা

    ইরানের সর্বোচ্চ শাসক পদে আসীন হওয়া অর্থ দেশের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠা। প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার পাশাপাশি, সশস্ত্র বাহিনী এবং রেভলিউশনারি বাহিনীর প্রধান হওয়াও। আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে ইরানে রেভলিউশনারি বাহিনীর উত্থান। কিন্তু আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের হাতে খোলনলচেই বদলে যায় তাদের। পশ্চিমি শক্তি, পশ্চিমি সংস্কৃতির বিরোধিতায় রেভলিউশনারি বাহিনীর ক্ষমতাবৃদ্ধি করেন তিনি। ইরানের রাজনীতি এবং অর্থনীতিতেও তাদের বিরাট প্রভাব। এই রেভলিউশনারি বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মোজতবাও। ১৯৬৯ সালে মাশাদে জন্ম মোজতবার। ২০১৯ সালে মোজতবার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপায় আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ। অভিযোগ ওঠে, সরকারি পদে না থেকেও, নির্বাচিত না হয়েও, বাবার জায়গায় নিজের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

  • Throat Infection: বসন্তে বাড়ছে গলার সংক্রমণ! ঘরোয়া উপাদানেই লুকিয়ে রয়েছে ‘দাওয়াই’?

    Throat Infection: বসন্তে বাড়ছে গলার সংক্রমণ! ঘরোয়া উপাদানেই লুকিয়ে রয়েছে ‘দাওয়াই’?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বসন্তের রঙে সেজে উঠেছে পরিবেশ! পলাশ ফুল আর রঙিন মরশুমে তবে ভোগান্তি কমেনি। বরং বসন্তে হঠাৎ করেই বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। তাই বাতাসে ভাইরাসের দাপট বেড়েছে। তাই সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে। স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সব বয়সেই কাশি আর গলার ব্যথায় কাবু। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাশি, গলা ব্যথা, গলায় অস্বস্তি ভাবের নেপথ্যে থাকছে ভাইরাস ঘটিত সংক্রমন। ভাইরাসের জেরেই আপার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্টে সংক্রমণ ঘটছে। অর্থাৎ, শ্বাসনালীর ওপরের অংশে সংক্রমণ ঘটছে। আর তার ফলেই গলা ব্যথা, কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। আর এই গলা ব্যথার জেরে অনেকেই জ্বরে ভুগছেন।

    কেন বসন্তে গলার সংক্রমণ বাড়ে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার হঠাৎ বদলের জেরেই এই ধরনের সংক্রমণ ঘটে। বাতাসে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তবে এর পাশপাশি বছরের এই সময়ে আবহাওয়া খুবই শুষ্ক হয়ে যায়। তাই বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। যার জেরে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকিও দেখা যায়। শ্বাসনালীর সংক্রামণের পাশপাশি ফুসফুসের সংক্রমণের ফলেও কাশি, গলা ব্যথার মতো ভোগান্তি দেখা দিতে পারে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করেই তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটেছে। হঠাৎ গরম ভাব। আর অনেক স্কুল পড়ুয়াই এই সময়ে আইসক্রিম বা ঠান্ডা নরম পানীয়, ঠান্ডা সরবত খাওয়া শুরু করেছে। যা শ্বাসনালীর সংক্রামণের অন্যতম কারণ। হঠাৎ, এই তাপমাত্রার দাপট শরীরের মানিয়ে নিতে সময় লাগছে। তার মধ্যে হঠাৎ করেই আইসক্রিম বা ঠাণ্ডা সরবত জাতীয় পানীয় বেশি পরিমাণে খেলে, বিপদ বাড়ে। আবার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় অনেকেই সাময়িক আরাম পেতে এসি চালাচ্ছেন। যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। শীত শেষের এই সময়ে শরীরকে পরিবর্তিত আবহাওয়া মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দিতে হয়। হঠাৎ করেই কৃত্রিম অতিরিক্ত ঠান্ডা আর বাইরের গরম, শরীর সহ্য করতে পারে না। তখন নানান রোগে আক্রান্ত হয়।

    কোন ঘরোয়া উপাদান গলার ‘দাওয়াই’ হতে পারে?

    • ● মধু: বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মধু গলার জন্য বিশেষ উপকারি। এই আবহাওয়ায় নিয়মিত এক চামচ মধু সরাসরি খেলে বা এক চামচ মধু লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের জন্য এই উপকরণ সাহায্য করবে। কারণ মধুতে থাকে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান। তাই মধু গলার সংক্রমণে রেহাই দেয়।
    • ● আদা: বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত উপকরণ হলো আদা। একাধিক রান্নায় এই আদা ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তে গলার ভোগান্তি কমাতে, কাশির দাপট কমাতে আদা বিশেষ সাহায্য করবে। আদা কুচি করে খেলে খুসখুসে কাশির ভোগান্তি কমে। আবার শিশুরা আদা দিয়ে ফোটানো গরম জল খেতে পারে। বয়স্কেরা আদা দিয়ে তৈরি চা দিনে একাধিক বার খেলে গলায় আরাম পাবেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আদা প্রদাহ দান করে। তাই যেকোনো সংক্রমণে আদা বিশেষ উপকারি।
    • তুলসী: ভাইরাস ঘটিত রোগের দাপট কমাতে তুলসী পাতা বিশেষ সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই থেকে চারটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলে ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণের দাপট কমে।
    • ● হলুদ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে এই আবহাওয়ায় শরীর সুস্থ রাখতে রান্নায় হলুদ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হলুদ অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই হলুদ মেশানো রান্না খেলে শরীরে বাড়তি উপকার হয়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • India vs Afghanistan: ভারত সফরে আসছে আফগানিস্তান, ফের জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে রো–কো জুটিকে

    India vs Afghanistan: ভারত সফরে আসছে আফগানিস্তান, ফের জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে রো–কো জুটিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের হয়ে টি–২০ আর টেস্ট খেলেন না বিরাট ও রোহিত। অংশ নেন শুধু একদিনের ক্রিকেটে। তাই এখন খেলা নেই দুই তারকার। টি–২০ বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ দেখছেন মাঠের বাইরে বসেই। কিন্তু তিন মাস পরেই আবার দেশের জার্সিতে দেখা যাবে দুই তারকাকে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। সেখানে এই জুটিকে ফের দেখতে পাওয়া যাবে ভারতীয় দলের জার্সিতে। বিসিসিআই সোমবার আফগানিস্তান সিরিজের সূচি ঘোষনা করে।

    ভারত সফরে আফগানিস্তান

    জুন মাসে ভারত সফরে আসছে আফগানিস্তান। একটি টেস্ট ও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে তারা। সেখানেই খেলবেন রোহিত, কোহলি। প্রথমে টেস্ট ম্যাচ। ৬ জুন থেকে নিউ চণ্ডীগড়ে হবে সেই খেলা। দেশের জার্সিতে ফিরবেন টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিলও। টি–২০ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়ায় আপাতত তিনিও মাঠের বাইরে। অর্থাৎ, দুই নয়, তিন তারকার প্রত্যাবর্তন হবে দেশের জার্সিতে। ১৪ জুন প্রথম একদিনের ম্যাচ। খেলা হবে ধর্মশালায়। ১৭ জুন লখনউ ও ২০ জুন চেন্নাইয়ে বাকি দু’টি ম্যাচ হবে। এই তিনটি ম্যাচে খেলবেন রোহিত, কোহলি। সেখানেও অধিনায়ক হিসাবে দেখা যাবে শুভমানকে।

    রো-কো জুটির বিশ্বকাপের প্রস্তুতি

    ভারতের জার্সিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একদিনের সিরিজ খেলেছিলেন রোহিত ও কোহলি। তার পর পাঁচ মাসের বিরতি পাচ্ছেন তাঁরা। কোহলি লন্ডনে স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। যদিও আইপিএলের প্রস্তুতি নিতে আবার দেশে ফিরেছেন তিনি। রোহিত এবারের টি–২০ বিশ্বকাপে আইসিসির দূত। বিভিন্ন মাঠে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের আগে সূর্যকুমার যাদবদের ডাগ আউটেও গিয়েছিলেন তিনি। ২০২৭ সালে একদিনের বিশ্বকাপ রয়েছে। রোহিত, কোহলি দু’জনেরই লক্ষ্য সেখানে খেলা। কিন্তু তার জন্য তাঁদের ধারাবাহিকভাবে রান করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। গত কয়েকটি সিরিজে তাঁরা রানও পেয়েছেন। রোহিতের থেকেও কোহলি অনেক বেশি সফল। বেশ কয়েকটি শতরান করেছেন। ফিটনেসেও সমস্যা নেই তাঁদের। বিরাট দারুণ ব্যাট করলেও, রোহিত সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ফেরা জরুরী হিটম্যানের। আর সে কারণেই এই সিরিজ খুব গুরুত্বপূর্ণ তাঁর কাছে।

  • Dol Utsav 2026: কোন দেবতার পায়ে দেবেন কোন রঙের আবির? দোল খেলার আগে জেনে নিন রঙ-মাহাত্ম্য

    Dol Utsav 2026: কোন দেবতার পায়ে দেবেন কোন রঙের আবির? দোল খেলার আগে জেনে নিন রঙ-মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় দোল উৎসব (Dol Utsav 2026)। সারা বছর এই রঙিন আবির নিয়ে উত্‍সবে মেতে থাকার আনন্দে সামিল হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকেন হিন্দুরা (Hindu Festival)। তবে হোলি মানেই শুধু নানা রঙের খেলা (Holi Colours Significance) নয়, ঈশ্বরের আরাধনা ও মাহাত্ম্য রয়েছে এর মধ্যে। শুধু হোলিকা দহন নয়, রঙের উত্‍সব শুরু হয় ভগবানের চরণ আবির দিয়ে। ছোটবেলায় বড়দের পায়ে আবির দিয়ে, ভগবানের পায়ে আবির দিয়ে তবেই রঙ খেলার অনুমতি পাওয়া যেত। সেই রীতি শুধু সংস্কৃতির জন্য নয়, হিন্দু ধর্মের ঐতিহ্যও বটে। হোলির দিনে কোন দেবতাকে কোন রঙ দিয়ে নিবেদন করা উচিত, তা অনেকেরই অজানা।

    কোন রঙে তুষ্ট কোন দেব-দেবী

    সনাতন ঐতিহ্যে, যে কোনও শুভ কাজ শুরু হয় ভগবান শ্রীগণেশের পুজো দিয়ে। সেই মতো গণেশকেও প্রথমে আবির গিয়ে হোলি উদযাপন করা উচিত। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, সিঁদুর হল গণপতির খুব প্রিয়। তাই হোলির দিন গণেশ পুজোয় সিঁদুর বা কমলা রঙ ব্যবহার করুন। বৈষ্ণব তে, শ্রীহরি বা বিষ্ণুর ভক্ত হোন তাহলে ভগবান রাম, কৃষ্ণ বা নরসিংহের পুজো করেন তাহলে হোলির দিন দেবতাদের পছন্দের হলুদ রঙের আবির দিয়ে বিশেষ পুজো করে থাকতে পারেন। শিবের ভক্তদের জন্যও রয়েছে নির্দিষ্ট রঙ। হোলির শুরুতে যদি ভোলেনাথকে রঙ দিয়ে পুজো করতে চান তাহলে অবশ্যই লাল বা নীল রঙ ব্যবহার করতে পারেন। সনাতন ধর্ম মতে, শক্তির পুজোয় লাল রঙের কাপড়, ফুল ও রঙ বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে লাল রঙ ভগবান হনুমানজির সঙ্গেও সম্পর্কিত। এইভাবে, হোলিতে কালী বা হনুমানজির বন্দনা করার সময় অবশ্যই লাল রঙের আবির বা রঙ নিবেদন করুন।

    কোন রঙ কিসের প্রতীক

    • বিশ্বাস করা হয়, হোলিতে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী ও হনুমানজিকে লাল রঙের নিবেদন করলে আশীর্বাদ বর্ষিত হয়। লাল রঙ উর্বরতা, বিবাহ এবং প্রেমের প্রতিনিধিত্ব করে। লাল রঙ দিয়ে দোল খেললে মঙ্গলের কৃপা পাওয়া যায়। এই রঙ মনকে শান্ত করে।
    • হলুদ রঙ তৃপ্তি এবং সুস্থতার প্রতীক। এই রঙ ভগবান বিষ্ণুর প্রিয়। রঙটি জ্ঞান, শিক্ষা, আনন্দ এবং শান্তির সঙ্গেও জড়িত। হলুদ রঙ হল শ্রীকৃষ্ণের প্রিয়। প্রেমিক প্রেমিকারা এই রঙ দোল খেলতে পারেন। যাঁরা সোনা-রুপোর ব্যবসা করেন, তাঁদের জন্যও হলুদ রঙ দিয়ে দোল খেলা শুভ। সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার দিক দিয়েও হলুদ রঙ শুভ।
    • সবুজ রঙ প্রকৃতি এবং এর সৌন্দর্যের প্রতীক। সতেজতা, বীরত্ব, ফসল কাটা এবং নতুন শুরুকে প্রতিনিধিত্ব করে এই রঙ। সবুজ রঙ সমৃদ্ধি ও পজ়িটিভ এনার্জির প্রতীক। এই রঙ দিয়ে দোল খেললে কারোর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা কেটে যায়। ব্যবসায়ী, শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের সবুজ রঙ দিয়ে দোল খেলা ভালো। এর ফলে বুধের অবস্থান ভালো হয়।
    • হোলির আরেকটি জনপ্রিয় রঙ হল কমলা। এটি সূর্যের রঙ বলেও মনে করা হয় এবং এটি একটি নতুন দিনের ভোর এবং আলোর বিস্তারের সঙ্গে জড়িত। কমলা রঙ শক্তি ও জ্ঞানের প্রতীক। এই রঙ মনের শক্তি, প্রেম ও সুখ বাড়ায়। মন কোনও কারণে অশান্ত থাকলে কমলা রঙ দিয়ে দোল খেলুন।
    • বেগুনি রঙ আত্মবিশ্বাস ও সমতার প্রতীক। হীনমন্যতা থেকে মুক্তি পেতে এই রঙ দিয়ে দোল খেলা ভালো।
    • আবার, গোলাপী রঙ মনের শক্তি বাড়ায়। এই রঙ প্রেম গাঢ় করতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে, নীল রঙ দিয়ে দোল খেললে শনিদেবের কৃপা লাভ করবেন।
  • Dol Utsav 2026: দোলের মিষ্টিমুখ মানেই মট-ফুটকড়াই, জানেন এই মিঠাইয়ের উৎস কোথায়?

    Dol Utsav 2026: দোলের মিষ্টিমুখ মানেই মট-ফুটকড়াই, জানেন এই মিঠাইয়ের উৎস কোথায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিছু দিন আগ অবধিও দোলের মিষ্টি (Dol Utsav 2026) মানেই ছিল মট। এখন যদিও অনেক রকম মিষ্টির (Dol Utsav Traditional Sweets) সমাগম হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতিতে। কিন্তু আগে বাঙালির দোল মট ছাড়া অপূর্ণ থাকত। সঙ্গে থাকত ফুটকড়াই ও তার সঙ্গে সাদা মুড়কি। দেবতার পায়ে ‘আবির’ দিয়ে পরিবারের সকল বয়স্কদের পায়ে আবির মাখিয়ে শুরু হত বাঙালির দোল উৎসব। দুদিন ধরেই চলত সেই দোল।

    মট মূলত পর্তুগিজ মিষ্টি!

    মট আদতে চিনির মণ্ড। চিনিকে গলিয়ে বিভিন্ন ছাঁচে, বিভিন্ন আকার দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। মোমবাতি, ফুল, পাখি-সহ বিভিন্ন আকারের হয়। বিভিন্ন রঙও দেওয়া হয় এই মিষ্টিতে। রঙ খেলার ফাঁকে একে অপরের মুখে মট ও ফুটকড়াই গুঁজে দেওয়া ছিল বাংলার রেওয়াজ। একটি বড় থালায় প্রচুর মট সাজানো থাকত আর পাশে থাকত ফুটকড়াই। দোল খেলার সময়ে এগুলি ছিল আবশ্যিক। কিন্তু জানেন কি, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিকভাবে (Dol Utsav 2026) মিশে যাওয়া এই মিষ্টি আদেও বাঙালি সংস্কৃতির অংশই ছিল না। মটের ইতিহাস বেশ পুরনো। মট মূলত পর্তুগিজ মিষ্টি। হুগলির ব্যান্ডেল চার্চে প্রথম এই মিষ্টি প্রভু যিশুর প্রসাদী থালায় দেওয়া হত। পরে বাঙালি ময়রারা মটকে আপন করে নেন। তাকে গোলাপি, হলুদ, লাল নানান রঙে রাঙিয়ে দোলের (Dol Utsav Traditional Sweets) অঙ্গ করে তোলেন।

    কীভাবে তৈরি হয় মট

    চিনির কড়া পাক দিয়ে সেই সান্দ্র তরল কাঠের ছাঁচে (Dol Utsav 2026) জমিয়ে বা ফুটো পাত্রের ভিতর দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা ফেলে এই মট প্রস্তুত করা হয়। এটি ৫-৬ সেন্টিমিটার উঁচু একটি শুকনো ও অত্যন্ত পরিচিত মিষ্টি (Dol Utsav Traditional Sweets)। এই মট তৈরির এই ধারা আজও বর্তমান রেখেছেন হাওড়ার উনসানি শিউলি পাড়ার স্বপন মণ্ডল ও তাঁর পরিবার। কিন্তু এখন এই মিষ্টিগুলি শুধুই নস্ট্যালজিয়া। অনেকে জানেনও না মট-ফুটকড়াই-কদমা-সাদা মুড়কির নাম। দোকানে অনেক খুঁজলে তবেই মিলবে নানা আকৃতির মট। অবশ্য স্বাস্থ্যের কথা ভেবেও অনেকে মিষ্টি খান না। যাই হোক বছরের এই একটা দিনে সেই মট, কদমা, ফুটকড়াই দেবতার প্রসাদ হয়ে কোনওক্রমে বেঁচে আছে বাঙালির নসট্যালজিয়ায়।

  • Chandra Grahan 2026: রাতের আকাশে ‘ব্লাড মুন’! দোলে বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, দেখতে পাবেন কলকাতাবাসীও

    Chandra Grahan 2026: রাতের আকাশে ‘ব্লাড মুন’! দোলে বছরের প্রথম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, দেখতে পাবেন কলকাতাবাসীও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দোল উৎসবে ২০২৬ সালে রয়েছে চন্দ্রগ্রহণের কালো ছায়া। আর এই গ্রহণ এবার ভারত থেকে দেখা যাবে। শুধু তাই নয়। কলকাতার আকাশ থেকেও এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণই হবে বছরের দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ শুরু হবে দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে এবং শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। মোট ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট ধরে চলেছে গ্রহণ । পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে, যখন চাঁদ সম্পূর্ণভাবে পৃথিবীর ছায়ায় প্রবেশ করবে। আগামী ৩ মার্চ আকাশে দেখা যাবে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।

    কখন কোথায় দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ

    ৩ মার্চ সন্ধ্যায় কলকাতার আকাশ থেকেও দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। কলকাতায় সন্ধ্যা ৬ টায় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। নয়া দিল্লিতে সন্ধ্যা ৬.২৬ মিনিটে, লখনউতে সন্ধ্যা ৬.১৮ মিনিটে,ভুবনেশ্বরে সন্ধ্যা ৬ টা ০৫ মিনিটে, পাটনায় সন্ধ্যা ৬. ১২ মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ। জয়পুরে দেখা যাবে সন্ধ্যা ৬ টা ২৮ মিনিটে, ভোপালে সন্ধ্যা ৬ টা ২৪ মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ। মুম্বইতে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে, আমেদাবাদে ৬.৩৫ মিনিটে, পুনেতে ৬.৩২ মিনিটে এই গ্রহণ দেখা যাবে। বলা হচ্ছে, উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি থেকে খুব ভালোভাবে দেখা যাবে এই গ্রহণ। গুয়াহাটিতে বিকেল ৫ টা ৪৫ মিনিট, ডিব্রুগড়ে বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিট, ইটানগরে বিকেল ৫ টা ৩৫ মিনিট, শিলংয়ে ৫ টা ৪০ মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ।

    ‘ব্লাড মুন’-এর বিরল দৃশ্য

    গ্রহণের সময় উজ্জ্বল সাদা চাঁদ খানিকটা লাল বর্ণ ধারণ করে। অনেকেই একে ‘ব্লাড মুন’ বলে থাকেন। তাও দেখা যাবে আকাশে।

    গ্রহণ শুরু – দুপুর ২:১৬টোয়
    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শুরু – বিকেল ৪:৩৪ টেয়
    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ – বিকেল ৫:০৪ টায়
    পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ শেষ – বিকেল ৫:৩৩ টায়
    গ্রহণ শেষ – সন্ধ্যা ৬:৪৮ টায়

    সূতক-কালে কী করবেন

    জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ ভারতে সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান হবে। পরিষ্কার আকাশ থাকলে খালি চোখেই গ্রহণ দেখা যাবে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণের সূতককাল গ্রহণ শুরুর প্রায় ৯ ঘণ্টা আগে শুরু হয়। সেই হিসেবে সূতক শুরু হবে ৩ মার্চ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে সূতকের সমাপ্তি ঘটবে। যেহেতু এই গ্রহণ ভারতে দেখা যাবে, তাই সূতকের নিয়ম এখানে প্রযোজ্য হবে। সূতক ও গ্রহণের সময় কিছু নিয়ম মানার কথা বলা হয়েছে। এই সময় খাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, যদিও শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। সূঁচ, কাঁচি বা ধারালো জিনিস ব্যবহার, নতুন বা শুভ কাজ শুরু, মন্দিরে প্রবেশ ও মূর্তি স্পর্শ নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়। পাশাপাশি ঘুমানো, ভ্রমণ ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রহণের সময় ভগবানের নাম জপ করা, যেমন ‘ওম নমঃ শিবায়’ বা ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ পাঠ করা শুভ বলে মনে করা হয়। খাবারে আগে থেকেই তুলসী পাতা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। রামায়ণ, গীতা বা হনুমান চালিসা পাঠ করাও এই সময় পুণ্যদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রহণের আগে ও পরে স্নান করার রীতি রয়েছে। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই স্নান করে ঘর ও মন্দিরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করা হয়।পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্ন, বস্ত্র বা অর্থ দান করাও শুভ বলে মনে করা হয়।

  • Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Holi 2026: বসন্তের রঙিন উৎসবে অসাবধান হলেই বিপদ! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আজ দোল। কাল হোলি। দুদিন রঙের উৎসব। কচিকাঁচা থেকে বয়স্ক, সকলেই মেতে উঠবেন দোলের উৎসবে। বসন্তের উৎসবে রং লাগানো, আড্ডা, খাওয়া-দাওয়ার মাঝে তাল কাটতে পারে অসাবধানতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দোল উৎসব উদযাপনের সময় কয়েকটি দিকে বিশেষ নজরদারি জরুরি। তবেই সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপন সম্ভব। না হলেই বাড়বে বিপদ। বিশেষত শিশুদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল?

    দোল উৎসবে অসাবধানতা থেকে সবচেয়ে বেশি বিপদ হয় চামড়ার। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বছর দোলের পরে অনেকেই চামড়ায় নানান রকমের লাল দাগ, চুলকানির মতো সমস্যা নিয়ে ভোগেন। অনেকের নানান রকমের অ্যালার্জি হয়‌। তাই রং ব্যবহারের সময় সচেতনতা জরুরি। রং খেলার সময় সবচেয়ে বেশি চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। বিশেষত শিশুরা রং খেলায় অংশ নিলে, কোনো ভাবেই যাতে তাদের চোখে রং না ঢোকে সে দিকে নজর দিতে হবে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, চোখে বিশেষত কর্ণিয়ায় রং লাগলে, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে। কনজাংটিভাইটিসের মতো চোখের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। রঙের উৎসবে অসাবধানতার জেরে অনেকেই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শুকনো রং নাকে-মুখে ঢুকে অনেক সময়েই হাঁপানির সমস্যা তৈরি করে। রং মেশানো জল কানে ঢুকলে, কানের ভিতরে সংক্রমণ তৈরি হতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    সুস্থ ভাবে উৎসব উদযাপনের কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, উদযাপনের সময় সতর্ক ও সচেতন থাকলেই সমস্ত হয়রানি আটকানো সহজ। তাঁরা জানাচ্ছেন—

    • ● রং কেনার সময় ভেষজ রং কেনা উচিত। ফুলের পাঁপড়ি দিয়ে তৈরি রং অ্যালার্জি এবং অন্যান্য চামড়ার অসুখের ঝুঁকি কমায়‌
    • ● শিশুদের রং খেলার সময় নজরদারি জরুরি। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিশুরা দোল উৎসব পালন করলে বড় দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ হয়।
    • ● এখন দোল উপলক্ষে শিশুদের জন্য নানান মজাদার সানগ্লাস বাজারে দেদার পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো পরে রঙিন উৎসব পালন করলে চোখে রং যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
    • ● রঙ উৎসব পালনের আগে ত্বকে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাতে রঙ সহজেই মুছে ফেলা যায়। চামড়ার বড় ক্ষতি হয় না।
    • ● যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে, বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের, রঙ খেলার সময় বাড়তি যত্ন জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।
  • Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    Israel Strikes on Iran: ইরানে ইজরায়েলি হামলার জেরে ভারতে হিংসার আশঙ্কা! সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেইনির মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ)। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ছিটেফোঁটা বিক্ষোভের আশঙ্কায় রাজ্যগুলিকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ‘আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।’

    শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে বিক্ষোভ

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেইনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। শিয়া সংগঠনগুলির উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, কর্নাটক এবং দিল্লি-সহ বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যগুলির মুখ্যসচিব ও ডিজির কাছে কাছে পাঠানো এক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, ইরানপন্থী ও বিরোধী উভয় গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও জমায়েতের ওপর নজর রাখতে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর

    বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলির সামনে প্রতিবাদ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এছাড়া ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়া হতে পারে’ এমন ইরানপন্থী কট্টরপন্থী ধর্মীয় বক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ইরানপন্থী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানপন্থী ছাত্র সংগঠন ও সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনগুলির কার্যকলাপের দিকেও নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সম্ভাব্য হুমকির আশঙ্কা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে, শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন যেমন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা ভারতে মার্কিন ও ইজরায়েলি দূতাবাস-কনস্যুলেট, তাদের কর্মী, প্রতিনিধি দল, ব্যবসায়ী, পর্যটনকেন্দ্র, পশ্চিমের দেশগুলির নাগরিকদের যাতায়াতের স্থান, সিনাগগ, চাবাড হাউস ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মানুষদের জমায়েতের স্থানগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। একইভাবে ইরানের দূতাবাস, কনস্যুলেট ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলিও নিশানায় থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যগুলিকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে এমন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো এবং বিস্ফোরক বা আইইডি-র উপস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    Modi on Iran Israel War: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে শান্তির আহ্বান! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সদা সতর্ক ভারত (Modi on Iran Israel War)। রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি)-র বৈঠক আয়োজন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসার বিষয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বলে খবর। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রবিবার রাতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ৷ অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার উপর তিনি বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত এই হানাহানি বন্ধ করার কথাও বলেন ৷ প্রধানমন্ত্রী মোদি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৷ এই অঞ্চলে উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

    ভারতীয়দের নিরাপদে উদ্ধার নিয়ে আলোচনা

    ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলায় উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য রবিবার রাতেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) একটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মন্ত্রিসভা কমিটি সমস্ত বিভাগকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়ার কথা বলেছে ৷ দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার উপরও জোর দিয়েছে ভারত ৷ দু’দিনের সফরে গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু সফর সেরে রবিবার রাতে দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় দিল্লিতে ফিরেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে যোগ দেন মোদি। সূত্রের দাবি, রবিবার রাতের বৈঠকে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি

    ইরান এবং ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলভাগ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ ধরেই রফতানি করা হয়। আর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। তা ছাড়া, ভারত অভ্যন্তরীণ জ্বালানি-চাহিদা পূরণে ৮০ শতাংশ তেল অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে তেল কেনে ভারত। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় নিয়েও রবিবার রাতের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

    মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বিবৃতি

    সরকারি এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য সিসিএস বৈঠক হয়েছে ৷ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অঞ্চলে বৃহৎ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিটি ৷” বৈঠকে এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী সাধারণ ভারতীয় পর্যটক, শিক্ষার্থীদের অসুবিধা, সেইসঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর কী কী প্রভাব পড়বে তা নিয়েও পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সিসিএস সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে এই ঘটনাবলীর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শত্রুতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতিতে ফিরে আসার গুরুত্বের উপরও জোর দিয়েছে কমিটি ৷” সিসিএস সভায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস, প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি উপস্থিত ছিলেন।

    দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা

    এছাড়াও ইরানের দুবাই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi on West Asia Crisis)৷ রবিবার রাতে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন৷ জানান যে, এই কঠিন সময়ে সংহতির সঙ্গে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পাশে থাকবে। নরেন্দ্র মোদি দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা প্রদানের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, নয়াদিল্লি উত্তেজনা হ্রাস, আঞ্চলিক শান্তি, সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করে। এক্স পোস্টে মোদি লেখেন, “সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট, আমার ভাই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই হামলায় প্রাণহানির জন্য সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে ভারত সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে থাকবে৷ সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমরা উত্তেজনা কমানো, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা সমর্থন করি।”

    বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। পালটা হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার রাতেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা পরিষদের (ক্যাবিনেট কমিটি অফ সিকিয়োরিটি) জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানো, যুদ্ধে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ইত্যাদি একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মোদি। সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বেগ তাও তাঁকে জানানো হয়েছে ৷ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে ৷”

    ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বাস বিদেশমন্ত্রকের

    সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসরত এবং বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়েছে। সামরিক উত্তেজনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার আকাশপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুবাই, দোহা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শতাধিক ভারতীয় যাত্রী আটকে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষ ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বর্তমানে ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বাস, পড়াশোনা ও কাজ করেন এবং ইজরায়েলে রয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয়। উপসাগরীয় ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মোট প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয় বসবাস করেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলি সেখানকার ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়া-সহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভারত সফলভাবে তার নাগরিকদের উদ্ধার করেছে বলেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

LinkedIn
Share