Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • T-20 World Cup 2026: আহত হর্ষিতের জায়গায় দেড় বছর জাতীয় টি২০ দলে ব্রাত্য সিরাজ! বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে নামছে ভারত

    T-20 World Cup 2026: আহত হর্ষিতের জায়গায় দেড় বছর জাতীয় টি২০ দলে ব্রাত্য সিরাজ! বিশ্বজয়ের মুকুট ধরে রাখার লক্ষ্যে নামছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগেই বড় বিপত্তি ভারতীয় শিবিরে। হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন তরুণ জোরে বোলার হর্ষিত রানা (Harshit Rana Injury)। শুক্রবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হর্ষিতের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ মহম্মদ সিরাজকে (Mohammed Siraj)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে জসপ্রীত বুমরাকে ঘিরে।

    বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনা

    জানা গিয়েছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হওয়ায় শনিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা উদ্বোধনী ম্যাচে বুমরাকে বিশ্রাম দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এই পরিস্থিতিতে ভারতের হাতে কার্যত থাকছে মাত্র ১৩ জন সম্পূর্ণ ফিট ক্রিকেটার। চোটের কারণে অলরাউন্ডার ওয়াশিংটন সুন্দর এখনও দলে যোগ দিতে পারেননি। ফলে এদিন প্রথম একাদশে মহম্মদ সিরাজের খেলার সম্ভাবনাই প্রবল। শেষ মুহূর্তে ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সিরাজ। ব্যাটিং বিভাগেও কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইনিংস ওপেন করবেন ঈশান কিষাণ ও অভিষেক শর্মা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে ওপেনার হিসেবে ৫৩ রান করেছিলেন ঈশান।

    দেড় বছর পর দসে সিরাজ

    গত বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে বল করার সময় ডান পায়ের হাঁটুতে চোট পান হর্ষিত। হর্ষিতের চোটের পর বিকল্প হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম ভাবা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখল অজিত আগরকরের নির্বাচক কমিটি। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পরিষ্কার করে দেন, “আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যে বোলিংয়ে ধার বাড়াতে পারে। রান করার জন্য আটজন ব্যাটারই যথেষ্ট।” মজার বিষয় হলো, কোচ গৌতম গম্ভীরের পরিকল্পনায় সাদা বলের ক্রিকেটে সিরাজ অনেকটা ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ের পর তিনি আর কোনও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেননি। প্রায় দেড় বছর পর সরাসরি বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে হায়দরাবাদের এই ‘মিঁয়াভাই’-এর। ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬টি উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে সিরাজের ঝুলিতে।

    দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে

    শনিবার ভারতের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে নামবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামা যুক্তরাষ্ট্রের দলে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা থেকে উঠে আসা একঝাঁক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। মার্কিন দলে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের মধ্যে রয়েছেন অধিনায়ক মৌনক প্যাটেল, স্পিনার হারমিত সিং, ব্যাটার শুভম রঞ্জনে, যশদীপ সিং, সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি, মিলিন্দ কুমার, সাইতেজা মুক্কামাল্লা এবং অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার সৌরভ নেত্রাভালকর। হারমিত, শুভম ও নেত্রাভালকর এই তিনজনই উঠে এসেছেন মুম্বই থেকে। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারতীয় দলের কাছে এবার বড় চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখা এবং তৃতীয়বার ট্রফি জেতা। ন’টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি, কিংবা আয়োজক হিসেবে ট্রফি জিততে পারেনি। তবে এই ভারতীয় দল বর্তমানে অন্যরকম ফর্মে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের জুনে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর ভারত ৪১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ৩৩টি জিতেছে।

  • India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    India-US Trade Deal: নজরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, তৈরি হবে কর্মসংস্থান, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এবং আমেরিকার অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির (India-US Trade Deal) ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য আগের থেকে অনেকাংশেই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। হবে নতুন কর্মসংস্থান। এমনকী কৃষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের মার্কিন বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। শনিবারই ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রশাসনের তরফে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’দেশের সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    যৌথ বিবৃতিতে কী বলা হল

    ভারত ও আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিতে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘পারস্পরিক ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য’ ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভারত সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৃহত্তর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি বা বিটিএ (BTA) নিয়ে চলা আলোচনায় দু’দেশের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় হল। এই চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। ভারতের পণ্যে ১৮ শতাংশ শুল্কে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র, ভবিষ্যতে আরও ছাড় বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি । ভারতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এই অন্তর্বর্তী চুক্তি আমাদের অংশীদারিত্বে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে উঠবে। পারস্পরিক স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রতি উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটাবে এই চুক্তি।” দু’দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এই অন্তবর্তী চুক্তি ভারসাম্য রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে এই চুক্তির সূত্রপাত করবেন, তাও এই বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চুক্তি কাঠামো অনুযায়ী ভারত আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিলোপ করবে। ভারতের উপর চাপানো বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্কও আমেরিকার বিলোপ করবে, তা নেমে আসবে ১৮ শতাংশে। যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ভারত আমেরিকা থেকে পশুখাদ্য আমদানি করবে। পশুখাদ্যের মধ্যে সয়াবিন, ভুট্টা, গম, বার্লি, মাছের মতো বহু উপাদান অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

    দেশবাসীর কত লাভ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোক্তা, এমএসএমই, স্টার্টআপ ইনোভেটর এবং মৎস্যজীবীদের নতুন সুযোগ এনে দেবে। শুধু তাই নয়, এই চুক্তির জন্য প্রচুর চাকরি হবে। তার ফলে যুব সমাজ-মহিলারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও আমেরিকার জন্য দারুণ খবর! আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মতি হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের পরিশ্রমী কৃষক, উদ্যোগপতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME), স্টার্টআপ উদ্ভাবক, মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।

    বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ

    মোদি বলেন, ভারত ও আমেরিকা উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এই বাণিজ্য কাঠামো দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। পাশাপাশি, এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, “একটি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পথে, আমরা ভবিষ্যতমুখী বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা আমাদের জনগণকে ক্ষমতায়িত করবে এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে কৃষক, উদ্যোগপতি ও নতুন স্টার্টআপগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

    ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার

    এই চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ভারতের রফতানি বৃদ্ধি পাবে ৩০ ট্রিলিয়ান ডলার। তাঁর আরও বিশ্বাস এই রফতানি বৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প এবং কৃষকদের বেশি লাভ হবে। যার ফলে সারা দেশে কোটি কোটি চাকরি তৈরি হতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমেরিকার সঙ্গে অন্তবর্তী বাণিজ্য চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও তৈরি করে ফেলেছে ভারত। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে মহিলা ও যুবকদের জন্য। তাঁর দাবি, এই কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত পালটা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাবে। এর ফলে টেক্সটাইল ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং নির্দিষ্ট কিছু যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বড় সুযোগ তৈরি হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন

    যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দরজা মার্কিন শ্রমিক ও উৎপাদকদের জন্য খুলে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, এতে সমস্ত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমবে। তিনি আরও বলেন, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কেরই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে উভয় দেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-কে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যের লক্ষ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

    চুক্তির মূল শর্তগুলি

    এই চুক্তি-কাঠামোর আওতায় ভারত মার্কিন শিল্পপণ্য এবং একাধিক কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিডিজি, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বিভিন্ন বাদাম, ফল, সয়াবিন তেল, মদ ও স্পিরিট। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ পালটা শুল্ক আরোপ করবে। এর মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, প্লাস্টিক, রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।চুক্তি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরে এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় রফতানির উপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে আরোপিত কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারত বিশেষ শুল্ক কোটার সুবিধা পাবে। জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান নিয়েও আলোচনা চলবে।

    ‘রুলস অব অরিজিন’- যৌথ বাণিজ্যের নানা নিয়ম

    ভারত-আমেরিকা যৌথ বাণিজ্যে দু’দেশ একে অপরকে অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার দেবে। ‘রুলস অব অরিজিন’-এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে সব নিয়ম। ভারত মার্কিন চিকিৎসা যন্ত্র, তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য আমদানির প্রক্রিয়া এবং কৃষিপণ্য সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি মান ও সার্টিফিকেশন সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হবে, যাতে নিয়ম মেনে চলা সহজ হয়। ভবিষ্যতে যদি কোনও পক্ষ শুল্ক পরিবর্তন করে, তবে অন্য পক্ষও তার প্রতিশ্রুতি সমন্বয় করতে পারবে। বৃহত্তর বিটিএ-র আওতায় বাজারে প্রবেশাধিকার আরও বাড়াতে আলোচনা চলবে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ আলোচনায় ভারতীয় রফতানির উপর শুল্ক কমানোর অনুরোধও বিবেচনা করবে। বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার অংশ হিসেবে দু’দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি সমন্বয় করবে। বিনিয়োগ পর্যালোচনা ও রফতানি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বাড়াবে দুই দেশ। ভারত আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের শক্তি, বিমান, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য ও কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি জিপিইউ ও ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম-সহ প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বৈষম্যমূলক নীতি তুলে নেওয়া এবং বিটিএ-র আওতায় পারস্পরিকভাবে লাভজনক ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ একমত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই কাঠামো শীঘ্রই কার্যকর করা হবে এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও চলতে থাকবে।

     

     

     

     

  • India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    India Rejects Pakistan Claim: “অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে পাকিস্তান”, ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ইসলামাবাদের এক শিয়া মসজিদে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গে নয়াদিল্লির যোগ নিয়ে পাকিস্তানের তোলা অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” ও “অর্থহীন” বলে খারিজ করল ভারত।

    কী বলেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক?

    মর্মান্তিক বিস্ফোরণে প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করলেও, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) পাকিস্তানের “ঘরে তৈরি সমস্যাগুলি” নিয়ে সমালোচনা করে। প্রকাশিত বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “আজ ইসলামাবাদের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া বোমা হামলা নিন্দনীয় এবং এতে যে প্রাণহানি হয়েছে, ভারত তার জন্য শোক প্রকাশ করছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দুঃখজনক যে, নিজেদের ঘরে বিদ্যমান সমস্যাগুলির গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করার বদলে পাকিস্তান অন্যদের দোষারোপ করে নিজেকেই বিভ্রান্ত করছে।” পাকিস্তানের এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “ভারত এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে, যা যেমন ভিত্তিহীন, তেমনই অর্থহীন।”

    ইসলামাবাদ বিস্ফোরণ নিয়ে পাকিস্তানের দাবি

    ভারতের এই প্রতিক্রিয়া আসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বক্তব্যের পর, যিনি কোনও প্রমাণ না দিয়েই দাবি করেন যে এই হামলার সঙ্গে ভারত ও আফগানিস্তানের যোগ রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে আসিফ বলেন, হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী আফগানিস্তানে যাতায়াত করেছে—এটি প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে আঁতাত প্রকাশ পাচ্ছে।” সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ইসলামাবাদে শুক্রবারের নামাজ চলাকালীন এক শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় অবস্থিত খাদিজা আল-কুবরা মসজিদ তথা ইমামবারগাহে (ইমামবাড়া) ঘটে।

    আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া

    ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার সঙ্গে আফগানিস্তানের যোগ থাকার পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাবুলও। তারা এই অভিযোগকে আগাম সিদ্ধান্তমূলক এবং প্রমাণবিহীন বলে উল্লেখ করেছে বলে আফগান সংবাদসংস্থা খামা প্রেস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার জানিয়েছে। তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র এনায়াতুল্লাহ খোয়ারাজমি বলেন, “পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অতীতেও বালোচিস্তানে হামলাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঘটনার জন্য কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই আফগানিস্তানকে দায়ী করেছেন।”

    খোয়ারাজমি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর এত দ্রুত কীভাবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বাহ্যিক যোগসূত্রের কথা বলতে পারে, অথচ আগেভাগে এই ধরনের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যাকে আড়াল করতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে জানান, আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাকে সমর্থন করে না এবং নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ইসলামিক ও মানবিক নীতির পরিপন্থী বলে মনে করে। আফগান মুখপাত্র পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দোষ চাপানোর রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং এর পরিবর্তে গঠনমূলক আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

  • U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    U-19 World Cup 2026: ‘‘ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে’’, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ী ছোটদের বড় প্রশংসা আপ্লুত মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব-ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য কেন? তা ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন বৈভব সূর্যবংশী, আয়ুষ মাত্রেরা। এই নিয়ে ছ’বার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ (U-19 World Cup 2026) জিতল ভারত। শুধু তাই নয়, গত তিন বছরে পাঁচটি বিশ্বকাপ জিতল তারা। এর আগে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল দু’বার বিশ্বকাপ জিতেছে। মেয়েদের দল গত বছর এক দিনের বিশ্বকাপ জিতেছে। ছেলেরা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে। এ বার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলও বিশ্বকাপ জিতল।

    আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী মোদি

    আনন্দ হোক বা দুঃখ সবসময় রোহিত শর্মাদের পাশে থেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রেরণা দিয়েছেন হরমনপ্রীতদের। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের পর বৈভব সূর্যবংশী এবং তাঁর সতীর্থদের প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড করেন সূর্যবংশী। তাঁর এই পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “ভারতের ক্রিকেট প্রতিভা চকচক করছে। বিশ্বকাপ দেশে নিয়ে ফেরার জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ ভারতীয় দলকে নিয়ে গর্বিত। গোটা টুর্নামেন্টে দল দারুণ খেলেছে। দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছে। এই জয় তরুণ ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। ভবিষ্যতের জন্য প্লেয়ারদের শুভেচ্ছা রইল।” জয় হোক বা পরাজয় পাশে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনের বিশ্বকাপ হারার পরও রোহিত, কোহলি, শামি, সিরাজদের চোখের জল মুছিয়ে আগামীর স্বপ্ন দেখতে বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ফল একবছর পর বিশ্বচ্যম্পিয়ন রোহিত-কোহলিরা।

    কেন বিসিসিআই সেরা

    পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ, পিসিবি বা বিসিবি বারবার বলে বিসিসিআই-এর দাপটের কথা। আবার তারা বুঝল এর পিছনের আসল ইউএসপি-হল ভারতীয় ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স আর প্রশাসকদের পরিকল্পনা। এক সময় ভারতের অনূর্ধ্ব ১৯ দলটা বেশ খারাপ খেলছিল। কিছুতেই সব ঠিকঠাক হচ্ছিল না। তখনই বোর্ডের কর্তা এবং বিশেষজ্ঞেরা খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন, এই দলটা শুধুই আইসিসি-র প্রতিযোগিতা খেলছে। সে ভাবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগই পাচ্ছে না। তার পরেই অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনে তৎপর হয় বোর্ড। গত বছর এশিয়া কাপের আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে টেস্ট এবং এক দিনের সিরিজ খেলেছে এই দল। তার পর এশিয়া কাপ জিতেছে। বিশ্বকাপে খেলতে আসার আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ খেলেছে। ফলে তৈরি হয়ে নেওয়ার যাবতীয় সুযোগ পেয়েছে তারা। এতে লাভ হয়েছে দু’টি। ক্রিকেটবিশ্বের বাকি দলগুলিকে চিনে নেওয়া ছাড়াও, দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে একটি বন্ধন তৈরি হয়ে গিয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন ম্যাচে। কোনও ক্রিকেটার ব্যর্থ হলে বাকিরা চাপ সামলে দিয়েছেন। ব্যাটিং থেকে বোলিং, সব বিভাগেই একই চিত্র।

    ভারতের নয়া সূর্য-উদয়

    যুবরাজ সিং থেকে মহম্মদ কাইফ, বিরাট কোহলি থেকে শুভমান গিল— অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটে একাধিক তারকার উত্থান হয়েছে। ভারতের নয়া সূর্য হল বৈভব সূর্যবংশী। তার ব্যাটে ভর করেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংসটাই ফারাক গড়ে দিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ৪১১ তুলেছিল ভারতীয় দল। ১০০ রানে ইংলিশ টিমকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হাতে তুললেন আয়ুষ মাত্রে। শুক্রবারের নজর একাই কেড়ে নিয়েছে বৈভব। ফাইনালের মতো মঞ্চে যে কোনও দল, যে কোনও ক্রিকেটার চাপে থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারারেতে বৈভবের খেলা দেখে মনে হল, চাপ শব্দটাই তার অভিধানে নেই। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, বোলার যিনিই হোন, তার ব্যাট চলতে শুরু করলে বিপক্ষের ক্রিকেটারদের কপালে দুঃখ রয়েছে। শুক্রবার সেটাই টের পেলেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারেরা। বৈভব ফর্মে থাকলে কী হতে পারে, সেটা বুঝে গেলেন তাঁরা। ফাইনালে ৮০ বলে ১৭৫ রান! ১৫টি চার এবং ১৫টি ছয়। যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই এমন পারফরম্যান্স স্বপ্ন। বৈভব সেটাই বাস্তবে করে দেখিয়েছে। চলতি প্রতিযোগিতা আমেরিকা বাদে প্রতিটি ম্যাচেই ভাল রান পেয়েছে সে। তিনটি অর্ধশতরান রয়েছে। তবে ফাইনালের পারফরম্যান্স বাকি সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈভব সূর্যবংশীই ভারতের পরবর্তী বড় তারকা। আইপিএল ও সিনিয়র টিম ইন্ডিয়ার দরজা তাঁর জন্য আর খুব দূরে নয়। মাত্র ১৫ বছরেই বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন দাপট ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা দিল ভারতীয় ক্রিকেটকে।

    হাফডজন সাফল্য ভারতের

    এর আগে পাঁচবার যুব বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। এ বারেরটা ধরলে হাফডজন সাফল্য। ট্রফি জেতার পর কোচ ঋষিকেশ কানিতকর বলেছেন, “অসাধারণ অনুভূতি। জিম্বাবোয়েতে এর আগে খেলেছি। কিন্তু এ বারের আসাটা অন্যরকম। ছেলেগুলোর জন্য গর্ব হচ্ছে। ইংল্যান্ড লড়াই করেছিল। কিন্তু আমাদের টিম শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে। অবশ্যই ট্রফির জন্য খেলেছি। তবে একঝাঁক ছেলের উন্নতিটা সব কিছুর আগে।” ভারতীয় দলের একমাত্র বাঙালি ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু বলেছেন, “একটা সময় চাপ অনুভব করছিলাম। তবে ধৈর্য রেখেছিলাম। বোলারদের পাশে থেকেছি আমরা। বোলাররা কিন্তু দারুণ বোলিং করেছে। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জিতলাম। আমরা সেলিব্রেট করব। গত দুটো বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম করেছি। তার ফল হাতেনাতে মিলল। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলাম। সে দিক থেকে বলতে পারেন, আমরা বদলা নিলাম। আবার ট্রফি জিতলাম। সূর্যবংশী শুরুতেই দারুণ ব্যাটিং করে ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলেছে।”

    গুরুদক্ষিণা বৈভবের

    ৮০ বলে ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর বৈভব সূর্যবংশী যে ছোটদের বিশ্বকাপ ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল না। ১৪ বছরের ব্যাটার বিশ্বকাপেরও সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেল। ছোটদের বিশ্বমঞ্চে সেরার পুরস্কার বৈভব উৎসর্গ করল দলের কোচদের। দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পর বৈভব জানিয়ে দিল, রান না পেলেও নিজের দক্ষতার উপর আস্থা হারায়নি। ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার নেওয়ার পর বৈভব বলল, ‘‘এই আনন্দ, অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। আমরা সকলে গত সাত-আট মাস ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমাদের কোচেরা এই দীর্ঘ সময় আমাদের পাশে ছিলেন। সব সময় আমাদের খেয়াল রেখেছেন। কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, জানতে চেয়েছেন। আমার এই পুরস্কারটা দলের কোচদেরই উৎসর্গ করছি।’’ বিশ্বজয়ের মাঠে দাঁড়িয়েই গুরুদক্ষিণা দিল বৈভব।

  • Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    Agni-3 Missile Test: সফল অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা, চিন-পাকিস্তানকে কোন বার্তা দিল ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR) থেকে মাঝারি-পাল্লার অগ্নি-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) চালিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।

    যাচাই হলো সব প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও অপারেশনাল প্রস্তুতি

    এই পরীক্ষা পরিচালিত হয় স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (SFC)-এর তত্ত্বাবধানে, যা দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের দায়িত্বে রয়েছে। এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের দ্বারা পরিচালিত এই উৎক্ষেপণে সব অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে যাচাই হয়েছে।” বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই পরীক্ষা ভারতের প্রতিরোধমূলক কৌশলের (India Nuclear Deterrence) বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ

    অগ্নি-৩ একটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (IRBM), যার আঘাত হানার ক্ষমতা প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিলোমিটার। এর ফলে প্রতিপক্ষ দেশের গভীরে অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ভারতের রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নি সিরিজের অন্যান্য উন্নত ও অধিক পাল্লার সংস্করণের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা হয়েছে, তবুও অগ্নি-৩ এখনও ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অংশ হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০১১ সাল থেকে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের পরিষেবায় রয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত।

    রমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা

    অগ্নি-৩ (Agni-3 Missile Test) একটি দুই-ধাপের, কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র, যা সর্বোচ্চ ১,৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড (বিস্ফোরক) বহনে সক্ষম। এটি মূলত পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোটন ক্ষমতার ওয়ারহেড বহন করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬.৭ মিটার এবং ব্যাস ২ মিটার। এর উৎক্ষেপণ ওজন প্রায় ৪৮,৩০০ কিলোগ্রাম। প্রথম ধাপের জ্বালানি শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপ সক্রিয় হয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্ধারিত পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, যা উড়ানের সময় স্থিতিশীলতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে।

    “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” বজায় রাখা

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, অগ্নি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রে স্ট্র্যাপডাউন ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছে, যা জিপিএস-এর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিটার সার্কুলার এরর প্রোবাব্যেল (CEP) নির্ভুলতা প্রদান করে। এর প্রথম ধাপটি মারেজিং স্টিল দিয়ে তৈরি মোটর কেস এবং দ্বিতীয় ধাপে কার্বন-ফাইবার মোটর কেস ব্যবহার করা হয়েছে। উভয় ধাপেই থ্রাস্ট ভেক্টর কন্ট্রোল সিস্টেম সংযুক্ত থাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিরক্ষা কর্তারা জানিয়েছেন, এদিনের পরীক্ষা (Agni-3 Missile Test) ভারতের যাচাইকৃত কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার তালিকাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে দেশের “বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা” (India Nuclear Deterrence) বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

  • Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    Bird Flu Alert: দেশে এভিয়ান ফ্লু-র হানা! কয়েক’শো কাকের মৃত্যুর পরেই সতর্কতা জারি, কীভাবে ছড়ায় এই সংক্রমণ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    কোথাও রাস্তার পাশে, আবার কোথাও আবর্জনার স্তূপের মাঝেই পড়ে রয়েছে নিথর দেহ! চেন্নাই শহর জুড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় কয়েক’শো কাকের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কাকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলেই জানা গিয়েছে। বিপদ বাড়াচ্ছে মানব দেহের সংক্রমণের (Bird Flu Alert)। তাই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    কাকের মৃত্যু কোন বিপদের ইঙ্গিত করছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এইচ৫এন১ ভাইরাসের (H5N1 Virus) জেরেই কাকের মৃত্যু হচ্ছে। আর এই ভাইরাস ক্ষতিকারক। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাকের মৃত্যু নতুন সংক্রমণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস পাখির শরীরে সংক্রামিত হয়। আর মৃত পাখির দেহ থেকেই এই রোগ সংক্রমণ অন্য প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে‌ পড়ে। কাকের শরীরেই এই রোগ আটকে থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই ভাইরাস অন্যান্য পাখিদের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত পায়রা, হাঁস, মুরগির শরীরে এই ভাইরাস সহজেই সংক্রামিত হয়।

    মানব দেহে কি এই রোগ ছড়াতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানব দেহেও এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমণ ঘটতে পারে। মৃত পাখির দেহ স্পর্শ করলে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রিতে কর্মরত ব্যক্তিদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাছাড়া যারা বর্জ্য পরিষ্কার করেন, তাঁদের ও সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আক্রান্ত পাখির শরীরের লালা ও রস থেকেই মূলত এই ভাইরাস সংক্রামিত হয়। তাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত অসুস্থ কিংবা মৃত পাখি স্পর্শ করলে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত (Bird Flu Alert) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে কোন সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যে কোনও সংক্রামক রোগ আটকানোর প্রধান উপায় হলো আগাম সতর্কতা। তাই এই ভাইরাস রুখতেও সতর্কতা জরুরি।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলট্রি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা (Bird Flu Alert) অবলম্বন করতে হবে। হাতে গ্লাভস পরা এবং মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোনও ফার্মে একাধিক পাখির মৃত্যু হলে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মৃত পাখিকে স্পর্শ করার আগে মাস্ক ও গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। তারপরে সেই কর্মীর হাত ও পা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্ন করা জরুরি। যাতে ভাইরাস সংক্রমণ না হতে পারে।

    আক্রান্ত হলে কি সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় (Bird Flu Alert) হলে দ্রুত সেরে ওঠা সম্ভব। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই রোগী দেরিতে আসেন। রোগ নির্ণয় করতে অনেকটা সময় চলে যায়। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। তারজন্য প্রথম পর্বেই রোগ নির্ণয় জরুরি। এলাকায় পাখির মৃত্যু হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে সঠিক তথ্য থাকা জরুরি। জ্বর, গলা ব্যথা, মাথার যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই উপসর্গ সহ একাধিক রোগী দেখা দিলে প্রশাসনের আগাম সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীদের দ্রুত শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত হতে হবে। তবেই সংক্রামিত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন।

    রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা নয়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও ভাইরাসঘটিত অসুখ (Avian Flu Alert) সম্পর্কে নানান ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়ে। যা সংক্রমণ আটকানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই রোগ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা যাতে না ছড়ায় প্রশাসনকে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এইচ৫এন১ ভাইরাস (H5N1 Virus) সংক্রমিত হলেই চিকেন খাওয়া যাবে না। এমন ধারণা ভুল। যেকোনও প্রাণীজ প্রোটিন সব সময় ভালোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ রান্না করে খাওয়া উচিত। তাই হাঁস কিংবা মুরগীর মাংস খাওয়ার সময় ঠিকমতো সম্পূর্ণ রান্না করা জরুরি।‌ রান্না মাংস থেকে রোগ ছড়ায় না। ফার্মে কাজ করলেই এই রোগে আক্রান্ত হবে, এমন ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মানলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    Islamabad Bomb Blast: ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩১, আহত শতাধিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার তারলাই ইমামবাড়ায় শুক্রবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জুম্মার নামাজের জন্য স্থানীয় মুসলিমরা ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন। সেই সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে।

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণ…

    ইমামবাড়া হল শিয়া মুসলমানদের ধর্মীয় শোকানুষ্ঠানের স্থান, যেখানে কারবালার ঘটনার স্মরণে তারা সমবেত হন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিকেলের সময় উপাসনালয়ের প্রধান ফটকে এক আত্মঘাতী জঙ্গী বিস্ফোরণ ঘটায়। নিরাপত্তা কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রবেশপথে দায়িত্বরত প্রহরীরা হামলাকারীকে আটকাতে সক্ষম হন এবং তাকে মূল হলের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেন, যেখানে উপাসকেরা সমবেত ছিলেন। তা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় ফটকের কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আশপাশের ভবনের জানালা ভেঙে যায় এবং রাস্তার ওপর চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। এবং উদ্ধারকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

    শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা…

    বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ঘটনার পর ইসলামাবাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ শহরজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ শুরু করা হয় এবং আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এক পুলিশ কর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে কতজন নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” পাকিস্তানের সংবাদপত্র দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের পিআইএমএস ও পলিক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক আহত রোগী সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    দায় স্বীকার করেনি কোনও গোষ্ঠী…

    এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং হতাহতের সরকারি সংখ্যা প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই বোমা হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মাত্র কয়েক দিন আগে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বালুচিস্তান প্রদেশে এক সপ্তাহব্যাপী অভিযান শেষ করেছে। ওই অভিযানে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (BLA) সঙ্গে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক মানুষ নিহত হয় বলে জানা গেছে। এই গোষ্ঠীটি একযোগে একাধিক জেলায় সমন্বিত হামলা চালায়, সাময়িকভাবে কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেয় এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করে আক্রমণ চালায়।

    ছয় মাসে দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণ…

    গত ছয় মাসের মধ্যে ইসলামাবাদে এটি দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণের ঘটনা। এর আগে গত নভেম্বরে ইসলামাবাদ জেলা আদালত চত্বরে একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনাকেও আত্মঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গত বছরের ওই বিস্ফোরণটি জেলা আদালতের প্রবেশপথের কাছে একটি পার্ক করা গাড়িতে ঘটে, যখন সেখানে কর্মব্যস্ত সময় চলছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে এর প্রভাব ছয় কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়। এতে আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    আগেরবার আফগানিস্তানকে দায়ী করেছিল পাকিস্তান

    সে সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ হামলার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে বলেন, দেশটি কার্যত “যুদ্ধাবস্থায়” রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লেখেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় রয়েছি। যারা মনে করেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী শুধু আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত বা বেলুচিস্তানে লড়াই করছে, তাদের জন্য ইসলামাবাদ জেলা আদালতের আত্মঘাতী হামলাই সতর্কবার্তা। এটি পুরো পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধ, যেখানে সেনাবাহিনী প্রতিদিন জনগণের নিরাপত্তার জন্য আত্মত্যাগ করছে।” উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় এক মাস পরই ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

  • Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    Gadchiroli Encounter: গড়চিরোলিতে মাওদমন অভিযানে খতম ৩ মাওবাদী, নিহত এক ‘সি-৬০’ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছত্তিশগড় সফরের ঠিক আগে মহারাষ্ট্র–ছত্তিশগড় সীমান্তের গড়চিরোলি (Gadchiroli Encounter) জেলায় চলমান নকশাল-বিরোধী অভিযানে (Anti-Naxal Operation) তিন মাওবাদী খতম হয়েছে। ওই অভিযানে আহত এক সি-৬০ জওয়ানও মারা গেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এলাকা থেকে এক পুরুষ মাওবাদীর দেহ উদ্ধার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল ও একটি এসএলআর বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আরও এক পুরুষ ও এক মহিলা মাওবাদীর দেহ উদ্ধার হয়। তবে তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

    নিহত এক জওয়ান, আহত আরও এক

    আহত জওয়ান দীপক চিন্না মাদাভি (৩৮), যিনি আহেরির বাসিন্দা, তাঁকে শুক্রবার ভোরে অবুঝমাড় জঙ্গলের ভেতর থেকে এয়ারলিফট করে ভামরাগড়ের নিকটবর্তী সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অন্যদিকে, আরেক জওয়ান জোগা মাদাভি, যিনি কিষ্ট্যাপল্লির বাসিন্দা, বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকেও উদ্ধার করে এয়ারলিফটের মাধ্যমে ভামরাগড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের দাবি, বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং শীঘ্রই তাকে গড়চিরোলিতে স্থানান্তর করা হবে।

    গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান

    এ বিষয়ে গড়চিরোলির পুলিশ সুপার নীলোৎপল বলেন, “নারায়ণপুর সীমান্তবর্তী অবুঝমাড় এলাকায় গত তিন দিন ধরে অবশিষ্ট মাওবাদী ক্যাডারদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়ার পর এই নকশাল-বিরোধী অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় ১০ নম্বর কোম্পানির মাও-ক্যাডারের সঙ্গে ছত্তিশগড়ের একটি অজ্ঞাত মাওবাদী গোষ্ঠীর সদস্যদের উপস্থিতির কথা পুলিশ জানতে পারে। এর পরেই অভিযান শুরু হয় নারায়ণপুর–গড়চিরোলি জেলা সীমান্তের কাছে, ফোদেওয়াদা গ্রামের কয়েক কিলোমিটার দূরে। এতে ভামরাগড়ের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে ১৪টি সি-৬০ ইউনিট অংশ নেয়।

    মঙ্গলবার নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য গুলির লড়াই হয়। তল্লাশি অভিযানে দুটি মাওবাদী ক্যাম্প ধ্বংস করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ মাওবাদ-সম্পর্কিত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ঘন জঙ্গলের সুযোগ নিয়ে মাওবাদীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার সকালে অভিযান আরও জোরদার করতে চারটি অতিরিক্ত সি-৬০ ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) একটি কুইক অ্যাকশন টিম মোতায়েন করা হয়। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।

    ছত্তিশগড়ে তিনদিনের সফরে শাহ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের সফরে ছত্তিশগড় যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি রাজ্যে বিদ্যমান মাওবাদ-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ বা বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সম্পূর্ণ নির্মূল করার কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে এই সফরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী অমিত শাহ ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রায়পুরে পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

    মাও-গড়ে শাহি বৈঠক

    ছত্তিশগড় বিশেষ করে বস্তার অঞ্চল মাওবাদ হিংসায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত রাজ্যগুলির অন্যতম হওয়ায়, কেন্দ্রের জোরদার মাওদমন অভিযান প্রেক্ষিতে এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রায়পুরে বামপন্থী চরমপন্থা (LWE) সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক, রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে চলমান মাও-বিরোধী অভিযানের অগ্রগতি, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রভাবিত জেলাগুলিতে উন্নয়নমূলক উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

  • Repo Rate Unchanged: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

    Repo Rate Unchanged: রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাজেট-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত (Repo Rate Unchanged) রাখার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তিনদিন ধরে চলা মুদ্রানীতি কমিটির (RBI MPC Meet) বৈঠকের শেষে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখে ৫.২৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সুদ কমানোর ধারায় আপাতত বিরতি পড়ল। তিন দিনের মুদ্রানীতি বৈঠক শেষে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কমিটি তাদের ‘নিউট্রাল’ বা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সর্বসম্মতভাবে রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    গত এক বছরে চার বার রেট কমেছে

    ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে ধারাবাহিক চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমিয়েছে আরবিআই। এর ফলে রেপো রেট ৬.৫ শতাংশ থেকে নেমে বর্তমান ৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ ডিসেম্বর বৈঠকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমানো হয়েছিল। তার আগে বছরের প্রথমার্ধে টানা তিন দফা কাটের ফলে জুনের মধ্যে রেপো রেট ৫.৫ শতাংশে নেমে আসে। এই নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবৃদ্ধিমুখী কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এবং সদ্য ঘোষিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে। ওই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নেমেছে।

    মিলে গেল অর্থনীতিবিদদের পূ্র্বাভাস

    বৈঠকের আগে অর্থনীতিবিদদের একাধিক সমীক্ষায় অনুমান করা হয়েছিল যে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এই দফায় সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আপাতত সুদ কমানোর চক্র শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বড় আকারে শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ও বন্ড বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরবিআই প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার থেকে বিক্রি করে। এর ফলে টাকার মূল্যে পতন দেখা যায় এবং রেকর্ড পরিমাণে সরকারি ঋণগ্রহণের ফলে চাপের মুখে থাকা বন্ড বাজার আরও চাপে পড়ে।

    মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসে সংশোধন

    মুদ্রানীতি কমিটি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে। উপভোক্তা মূল্য সূচক বা কাস্টোমার প্রাইস ইন্ডেক্স (CPI) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতির অনুমান ২.০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৪.০ শতাংশ এবং ৪.২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করে যথাক্রমে ৬.৯ শতাংশ এবং ৭.০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) ৫ শতাংশ হারে অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (MSF) রেট এবং ব্যাঙ্ক রেটও আগের মতোই ৫.৫ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে।

  • Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্যান্সার (Cancer) রোগ নির্ণয় আর তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া জুড়ে শুধুই রোগী থাকেন না। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া জুড়ে থাকেন তাঁর পরিবার। ক্যান্সার শুধুই একজন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে না। বরং ক্যান্সারের প্রকোপ সমাজ জুড়ে। তাই ক্যান্সার রুখতেও সামাজিক ঐক্য (Social Unity in Cancer Prevention) জরুরি। একা নয়। ক্যান্সার রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে (World Cancer Day) এই কথাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)। ভারত সহ বিশ্বের একধিক দেশে ক্যান্সারের দাপট বাড়ছে। বয়সের সীমারেখায় এই রোগ আটকে নেই। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফুসফুস, লিভার কিংবা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্ত ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে তরুণ প্রজন্মের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফুসফুস, গলার ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, মহিলাদের মধ্যে স্তন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের প্রকোপ মারাত্মক। বিশেষত খুব কম বয়সি মহিলারা অর্থাৎ তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বহু মহিলা স্তন ক্যান্সার কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা খুবই উদ্বেগজনক। তাই ক্যান্সার রুখতে (Fight Against Cancer) সার্বিক সক্রিয়তা জরুরি। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনে বাড়তি গুরুত্ব কেন?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, ক্যান্সার রুখতে হলে শুধুই আক্রান্তের চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক পরিবর্তন (Social Action)। বিশ্ব জুড়ে বাড়তে থাকা ক্যান্সারের দাপট রুখতে তাই দুই দিকে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে যেমন আক্রান্তের চিকিৎসা জরুরি। তাঁর পরিবারের পাশে থাকা প্রয়োজন। তেমনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। গত কয়েক দশকে বিশ্ব জুড়ে স্থূলতার সমস্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। লিভার, কিডনি, অগ্নাশয় কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারের কারণ হয়ে উঠছে এই স্থূলতা। দেহের ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার লিভার, পাকস্থলী, অগ্নাশয়ের ওপরেও খারাপ প্রভাব পড়ে‌। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে। তাই ওজন নিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা জরুরি (Fight Against Cancer)। স্কুল স্তর থেকেই ওজন নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত শারীরিক কসরত করা দরকার। খাদ্যাভ্যাসেও নজরদারি প্রয়োজন। এগুলো সামাজিক শিক্ষা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া খারাপ অভ্যাস, অনিয়মিতভাবে খাওয়া উচিত নয়, নিয়মিত শারীরিক কসরত করার অভ্যাস থাকা জরুরি, এই সবগুলোই সব সময় আলোচনায় থাকা প্রয়োজন। যাতে মানুষ‌ এই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। তাহলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি (Fight Against Cancer) অনেকটা কমবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকে ‘উদযাপন’ কিংবা ‘প্রমোশন’-র পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকেই উদযাপনের মাপকাঠি করার কথাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কু-অভ্যাস ত্যাগ

    ওজনের পাশপাশি ধুমপানের মতো খারাপ অভ্যাস নিয়েও সামাজিক সচেতনতা (Fight Against Cancer) জরুরি। মদ্যপান, ধুমপানের অভ্যাস কখনোই কোনো আনন্দ উদযাপনের অংশ নয়। বরং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। ফুসফুস, গলা রং, মুখ , লিভার সহ একাধিক ক্যান্সারের কারণ। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা (Cancer Awareness) জরুরি। তাই আক্রান্তের পাশে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার রুখতে সামাজিক জোটবদ্ধ সচেতনতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    ভারতে কোন কোন ক্যান্সার বিপজ্জনক? কোন ক্যান্সার আটকানো সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত কয়েক বছরে অগ্নাশয়, লিভার রং, ফুসফুসের ক্যান্সার মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তবে সতর্কতাকে হাতিয়ার করে এই ক্যান্সার আক্রান্তের পরিসংখ্যান পরিবর্তন সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ক্যান্সার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লিভার, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান। এই দুই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্ত। এই আসক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গলা ও মুখের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ ধূমপানে অভ্যস্ত। লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীরা মদ্যপানে আসক্ত। তাই এই দুই অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের বোঝা (Fight Against Cancer) কমবে।

    সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার

    এছাড়া পরিবেশ দূষণ নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে কলকাতা, দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড়‌ শহরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তরফেও আরও বেশি সক্রিয়তা জরুরি। সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা থাকলে তবেই দূষণ রোধ সম্ভব। বায়ুদূষণ ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই দিকেও নজরদারি জরুরি। তাছাড়া ঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ক্যান্সারের জটিলতা এড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সার অনেক সময়েই দেরিতে নির্ণয় হয়। তাই জটিলতা বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (Cancer Awareness) থাকা প্রয়োজন। তাহলে এই দেশে এই রোগ আটকানো (Fight Against Cancer) আরও সহজ হবে।

     

LinkedIn
Share