Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Shaheen Shahid: ফরিদাবাদকাণ্ডে ধৃত চিকিৎসক শাহিন জইশের মহিলা ব্রিগেডের ভারতীয় শাখার প্রধান!

    Shaheen Shahid: ফরিদাবাদকাণ্ডে ধৃত চিকিৎসক শাহিন জইশের মহিলা ব্রিগেডের ভারতীয় শাখার প্রধান!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মহিলা চিকিৎসক শাহিন শাহিদকে (Dr Shaheena Shahid arrested) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, লখনউ-এর ওই চিকিৎসক পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ-এর (JeM) মহিলা সংগঠনের ভারতীয় শাখার প্রধান মুখ।

    জইশ-এর মহিলা ব্রিগেড গঠন

    পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে অপারেশন সিঁদুরে জইশের কোমর ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই অভিযানে মৃত্যু হয় মাসুদ আজাহারের পরিবারের ১১ সদস্যের। এর ঠিক পরই ভারতের বিরুদ্ধে বদলা নিতে মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়ার নেতৃত্বে নয়া মহিলা ব্রিগেড তৈরির ঘোষণা করে জইশ। ভাওয়ালপুরের মার্কাজ-উসমান-ও-আলি থেকেই এই সংগঠন তৈরি করা শুরু করে জইশ। নতুন এই মহিলা ব্রিগেডের নাম জামাত-উল-মোমিনাত। যার মাথায় বসানো হয় মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়াকে। সূত্রানুসারে, শাহিন শাহিদকেই দেওয়া হয়েছিল এই ব্রিগেডের ভারতীয় শাখার দায়িত্ব। লখনউয়ের লালবাগের বাসিন্দা ছিল শাহিন। তার গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল। সে চিকিৎসক আল-ফালা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করত।

    শাহিন শাহিদ কে?

    দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, শাহিন শাহিদ ছিল জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের অধীনে। সাদিয়া ‘জমাত উল-মোমিনাত’ নামে (JeM’s women’s wing, Jamaat ul-Mominaat) সংগঠনের মহিলা শাখাকে নেতৃত্ব দেয়। এই শাখাটি তৈরি করা হয় পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে, যেখানে মহিলাদের সংগঠনে নিয়োগের কাজ শুরু হয় গত অক্টোবর মাস থেকেই। জইশ সদস্যদের স্ত্রী ও দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের এই সংগঠনে নেওয়া হচ্ছিল। সাদিয়ার স্বামী ইউসুফ আজদার ছিল কান্দাহার বিমান অপহরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। অপারেশন সিঁদুরে সে খতম হয়। অনুমান করা হচ্ছে, আপাতত জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে এই মহিলা ব্রিগেড নিজেদের জাল ছড়াতে শুরু করেছে। তবে সে জাল বেশিদূর অগ্রসর হওয়ার আগেই মাসুদের ‘জেনানা জেহাদি’দের সন্ত্রাসকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে কোমর বাঁধছে তদন্তকারীরা।

    শাহিনের বাড়ি উত্তরপ্রদেশে

    পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শাহিন শাহিদের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের লালবাগে। আগে একটি বারবিকিউ রেস্তরাঁয় কাজ করত। পরে আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সেখানে থেকেই সংগঠনের হয়ে কাজ শুরু করত বলে পুলিশ জানায়। ফরিদাবাদে (Faridabad Explosive) যখন বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়, তখন পুলিশের হাতে আসে শাহিনের নাম।

    সীমান্তের ওপারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ

    সূত্রের দাবি, জেইএম প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার-ই নাকি এই দায়িত্ব দিয়েছিল শাহিনকে। তদন্তকারীরা বিশ্বাস করছেন, শাহিন সীমান্তের ওপারের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখত এবং সামাজিক মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী মহিলাদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করছিল। ধর্মশিক্ষার পাশাপাশি, জিহাদ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ রাখা হয় সিলেবাসে। সাদিয়ার পাশাপাশি, আর এক বোন সামাইরা আজহারকেও ওই আনলাইন কোর্স চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুলওয়ামার হামলাকালী উমর ফারুখের স্ত্রী আফরিরা ফারুখও জইশের মহিলা শাখায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যায়। আইসিস, এলটিটিই-র মতো মেয়েদের ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী বাহিনী তৈরি করাই লক্ষ্য তাদের।

    উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আরও মহিলা সদস্য তৈরি করা

    এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, এদিকে ফরিদাবাদ থেকে যে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করার পর গ্রেফতার করা হয়েছে মুজাম্মিল গনি ওরফে মুসাইব নামে সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে। তার ভাড়াবাড়ির দু’টি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক। উল্লেখ্য, সোমবার লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন। দিল্লির কোতোয়ালি থানা UAPA-এর ১৬, ১৮ ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মুজাম্মিলকে জেরা করেই উঠে আসে শাহিনের নাম। পরে পুলিশ তাঁর মারুতি সুইফট গাড়িতে (HR 51) তল্লাশি চালিয়ে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, শাহিন শাহিদ ভারতে থেকে জইশের মহিলা শাখা গঠনের কাজ করছিলেন। সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আরও মহিলা সদস্য তৈরি করা এবং ছোট ছোট ইউনিট গঠন করা।

  • Delhi Blast: বিশ্বকে চমকাতে ভারতের বুকে বিস্ফোরণ! নেপথ্যে কি সেই আমেরিকার হাত?

    Delhi Blast: বিশ্বকে চমকাতে ভারতের বুকে বিস্ফোরণ! নেপথ্যে কি সেই আমেরিকার হাত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুব শীঘ্রই ভারত (Delhi Blast) সফরে আসার কথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Delhi Red Fort Explosion)। নতুন বছরের প্রথম দিকেই নয়াদিল্লি আসার কথা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুরও। ভারতের এই দুই বন্ধু রাষ্ট্রনেতার সফরের ঠিক আগে আগেই খোদ দিল্লির বুকে জঙ্গিদের এই বিস্ফোরণ ঠিক কীসের ইঙ্গিত, উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির হাতে একে একে ধরা পড়ছে মডিউলের মাস্টারমাইন্ডরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তার জেরেই তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় জঙ্গিরা।

    উদ্ধার বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক (Delhi Red Fort Explosion)

    সোমবার সকালেই দিল্লির উপকণ্ঠে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একটি দল হরিয়ানার ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এর ঠিক পরেই সোমবারই সন্ধ্যায় জঙ্গিদের বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দিল্লি। এই দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট। সূত্রের দাবি, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ায় ভবিষ্যতের সিরিয়াল বিস্ফোরণ করার ছক ফাঁস হয়ে যায়। সেই কারণেই জঙ্গিরা তড়িঘড়ি করে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়। জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি হরিয়ানার। সেটি তৈরি হয়েছিল ২০১৩ সালে। কেনা হয়েছিল জনৈক মহম্মদ সলমনের নামে।

    সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না!

    ফি বারই জঙ্গি হামলার পরে বামেরা একটি তত্ত্ব বাজারে ছড়িয়ে দেন, সন্ত্রাসের কোনও ধর্ম হয় না এবং দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের টাকার জন্য সন্ত্রাসের কাজে লাগানো হয়, এই জাতীয় নানা তত্ত্ব। কিন্তু গত কয়েকদিনে তদন্তকারীরা ফরিদাবাদ জঙ্গি মডিউলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, দুই কাশ্মীরি চিকিৎসক ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ আদিল রাথেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদের বাসিন্দা শাকিলের সহযোগী মহিলা চিকিৎসক-শিক্ষক তথা জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা ব্রিগেড ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর ভারতীয় শাখার প্রধান শাহিন শাহিদকে। উঠে আসে আরও এক চিকিৎসক মহম্মদ উমরের নাম। সে ছিল পলাতক। সে-ই হল এই আত্মঘাতী জঙ্গি উমর। তদন্তকারীদের অনুমান, সঙ্গীরা গ্রেফতার হতেই উমর ভয় পেয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটায় লালকেল্লার কাছে (Delhi Red Fort Explosion)। এ থেকে স্পষ্ট যে, এরা তিনজনেই উচ্চ শিক্ষিত, পেশায় চিকিৎসক। এই বিস্ফোরণের পেছনেই বা কারা? এই জঙ্গিরা তো হাতের পুতুল। জেনে নেওয়া যাক, তাদের Delhi Blast) টিকিটা কোথায় বাঁধা।

    পুতিন-নেতানিয়াহু

    বছর শেষ হওয়ার আগেই ভারতে সফরে আসার কথা পুতিনের। আসার কথা নেতানিয়াহুরও। ইজরায়েলকে দুর্বল করতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গঠনের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে ইসলামাবাদ ওই কৌশল বাস্তবায়িত করতে পদক্ষেপ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ‘অপারেশন সিঁদুরে’র পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিফ মুনির বারবার ভারতকে পরমাণু আক্রমণের হুমকি দিয়ে আসছেন। এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইজরায়েল ও ভারত নিজেদের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে তৎপর বলে মনে করা হচ্ছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর, চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইজরায়েল থেকে নয়াদিল্লিতে আসার কথা ইহুদি নেতানিয়াহুর। এই সফরে সন্ত্রাস দমনে ভারতের সঙ্গে তাঁর একাধিক অত্যাধুনিক সামরিক সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ভারতের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ

    এদিকে, ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট পুতিনও ভারত সফরের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। ক্রেমলিন সূত্রে খবর, এই সফরটি (Delhi Blast) সম্ভবত এই ডিসেম্বরেই হতে চলেছে। এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ করে তুলতে যথেষ্ট উদ্যোগী পুতিনও। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের অগাস্ট মাসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মস্কো সফরে গিয়েছিলেন। তখনই পুতিনের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা হয়। ডিসেম্বরের ৫ থেকে ৬ তারিখের মধ্যে তিনি নয়াদিল্লি আসবেন বলে অনুমান। ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাংহাই সামিটেও মুখোমুখি হয়েছিলেন পুতিন। সেখানে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনাও হয় (Delhi Red Fort Explosion)। উল্লেখ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনায় ভারতের সঙ্গে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    পড়শি দেশে পুতুল সরকার

    পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ, ভারতের এই দুই পড়শি দেশেই পুতুল সরকার বসিয়েছে আমেরিকা। বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূস কিংবা পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের সুতো রয়েছে আমেরিকার হাতে। ভারতেও পুতুল সরকার বানাতে চায় আমেরিকা। এশিয়া মহাদেশ কিংবা তামাম বিশ্বে ভারত বিশ্বশক্তি হয়ে উঠুক, এটা কখনওই চায়নি আমেরিকা। সেই কারণেই গত লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হারাতে কোমর কষে নেমে পড়েছিল মার্কিন প্রশাসন। যদিও, তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভারতের শক্তিশালী নেতৃত্বের কারণেই কোনওভাবেই আমেরিকা কব্জা করতে পারছে না এশিয়ার এই শক্তিধর দেশটিকে। তার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে চলতি বছর (Delhi Blast) অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ হীরে, সোনা ও তেল আমদানি করেছে ভারত। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অগাস্ট মাসেই রাশিয়ার হীরে রফতানি বেড়ে হয়েছে ৩১.৩ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। নানা সময় ভারত প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বার্তা দিয়েছে যে, আমেরিকার কথায় ভারতের বৈদেশিক নীতি ঠিক হবে না (Delhi Red Fort Explosion)। নয়াদিল্লি তার বিদেশ নীতি ঠিক করবে ভারতবাসীর ভালো-মন্দের কথা ভেবেই। এখানেই উঠছে সেই অমোঘ প্রশ্ন, রাশিয়া এবং ইজরায়েলের রাষ্ট্রনেতাদের সফরের আগে আমেরিকার মদতে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের দিয়ে এই সিরিয়াল বিস্ফোরণের ছক কষা হয়নি তো?

    সন্ত্রাসের ইন্সট্রুমেন্ট

    নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে সব সন্ত্রাসবাদী হামলায় পাকিস্তান হচ্ছে সন্ত্রাসের একটা ইন্সট্রুমেন্ট। আর তাকে পরিচালনা করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ভারতের (Delhi Blast) অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। সূত্রের খবর, দিল্লি বিস্ফোরণে যে গাড়িটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটির মালিক দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক ওমর মহম্মদ। অর্থাৎ গাড়িটি হাতবদল হয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয় দুই চিকিৎসক-জঙ্গিকে। তাতেই ঘাবড়ে গিয়েই উমর তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Delhi Red Fort Explosion)।

    আমেরিকা এবং আমেরিকা

    সূত্রের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি ছিল সিরিয়াল বিস্ফোরণ হওয়ার কথা। কিন্তু ষড়যন্ত্রের অন্যতম দুই চাঁই ধরা পড়ে যেতেই তাড়াতাড়ি ঘটিয়ে দেওয়া হয় বিস্ফোরণ। এই বিস্ফোরণে যে পাকভূম ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পাকিস্তান সন্ত্রাসের একটা টুল মাত্র। এই টুল ব্যবহার করে কে? উত্তরটিও সকলেরই জানা! আমেরিকা। সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলেছে আমেরিকা। ইসলামাবাদের সেনাপ্রধান আসিফ মুনির আমেরিকায় গিয়ে ভারতকে হুমকি দিচ্ছেন। পাকিস্তানের এই সেনাপ্রধানের সঙ্গে ভোজ সেরেছেন মিস্টার প্রেসিডেন্ট! আমেরিকা তো বটেই, বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসেও যা বিরলতম ঘটনা বলেই দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের। এঁদের একটা বড় অংশেরই দাবি, এর আগে কোনও দেশের সেনা প্রধানের সম্মানে ভোজের আয়োজন করেননি আমেরিকার কোনও প্রেসিডেন্ট, যা করে দেখিয়েছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ট্রাম্পই আবার ভারতের (Delhi Blast) প্রধানমন্ত্রীকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করছিলেন। বন্ধুর বুকে ছুরি মারতেই কি আস্তিনে লুকানো বাঘনখ বের করছে আমেরিকা? চিনের পাশাপাশি ভারতও যাতে এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দেশ হয়ে আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হতে না পারে, তাই কি নয়াদিল্লিকে এভাবে অস্থির করে তুলতে চাইছে সিআইএ? কোটি টাকার এই প্রশ্নটাই এখন ঘোরাফেরা করছে ভারতের রাজনীতির আকাশে (Delhi Red Fort Explosion)।

  • Delhi Blast: পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের তীব্র সমালোচনা, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে সরব হাসিনা

    Delhi Blast: পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের তীব্র সমালোচনা, দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে সরব হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে জঙ্গি হামলায় নিরপরাধ মানুষকে হত্যার তীব্র নিন্দা করলেন আওয়ামি লিগ চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।‌ এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিহতদের স্মরণে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্তদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন তিনি। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আধুনিক বিশ্বে উগ্র-জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের কোনও‌‌ জায়গা নেই। এই উগ্রবাদী জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র ব্যবস্থার মূলে আঘাত করে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    নয়াদিল্লির লালকেল্লায় ১০ নভেম্বরের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার নিন্দা করে শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে বলেন, “নয়াদিল্লিতে সংঘটিত এই নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক বিশ্বে চরমপন্থী সন্ত্রাসের কোনও স্থান নেই। এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ, মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ভিতকেই নাড়িয়ে দিতে চায়।” বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও বলেন, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের নেটওয়ার্ক বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত করেছে এবং ভারতকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে হামলা চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এই জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো পাকিস্তান থেকে শিকড় গেড়ে সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আক্রমণ চালিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে।”

    ভারতের পাশে

    বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমাদের এই সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামি লিগ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সন্ত্রাসবিরোধী এই ন্যায়সঙ্গত লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছে।” ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আজকের সভ্য বিশ্বে এমন ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো স্থান নেই এবং এর কোনও ক্ষমাও হতে পারে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেখানেই সন্ত্রাসবাদের শিকড় থাকুক না কেন, তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে হবে। যারা বাংলাদেশে বা অন্য কোথাও এসব জঙ্গিগোষ্ঠীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তারা মানবতার শত্রু—আমরা তাদের কঠোরভাবে নিন্দা জানাই।”

  • Modi Rajnath on Delhi Blast: ‘‘ষড়যন্ত্রকারীদের রেয়াত করা হবে না’’ দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে হুঁশিয়ারি মোদি-রাজনাথের, প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় পাকিস্তানে জারি হাই-অ্যালার্ট

    Modi Rajnath on Delhi Blast: ‘‘ষড়যন্ত্রকারীদের রেয়াত করা হবে না’’ দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে হুঁশিয়ারি মোদি-রাজনাথের, প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় পাকিস্তানে জারি হাই-অ্যালার্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘ষড়যন্ত্রকারীদের রেয়াত করা হবে না। দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’’ দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের আশ্বাস, ‘‘জড়িত দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।’’

    ‘‘ষড়যন্ত্রকারীদের রেয়াত করা হবে না’’: প্রধানমন্ত্রী

    দিল্লি বিস্ফোরণের আবহে বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে ভুটানে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে দিল্লি বিস্ফেরণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কড়া ভাষায় বলেন, ‘‘ষড়যন্ত্রকারীদের রেয়াত করা হবে না।’’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ আমি খুব ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এখানে এসেছি। গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনাটি সকলকে শোকাহত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কষ্ট আমি বুঝতে পারি। আজ পুরো দেশ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। গত রাতভর আমি এই ঘটনার তদন্তকারী সকল সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। আমাদের তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের গভীরে পৌঁছাবে। এর পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনায় দায়ী সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে।’’ পাশাপাশি, নিহতদের পরিজনদের প্রতি আরও একবার সমবেদনা জানিয়েছেন মোদি। বলেন, এই দুঃসময়ে গোটা দেশ তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। একইসঙ্গে এও জানান, নিরাপত্তা ও আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত করে। দ্রুত তদন্তের নিষ্পত্তি করে।

    ‘‘দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে’’: রাজনাথ

    ষড়যন্ত্রকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংও। তিনিও জানিয়ে দেন, গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত দোষীদের কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কোনও অবস্থাতেই তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’’ একইসঙ্গে ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে বিস্ফোরণে মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান রাজনাথ। “গতকাল দিল্লিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাদের সকলের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এই গভীর শোকের মুহূর্তে আমি প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন শোকাহত পরিবারগুলিকে শক্তি ও সান্ত্বনা দেন।”

    সিঁদুর আতঙ্কে নোটাম জারি পাকিস্তানের

    এদিকে, লালকেল্লা বিস্ফোরণের পরেই সিঁদুর আতঙ্কে নোটাম জারি করে দিয়েছে পাকিস্তান। গত এপ্রিল মাসে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি শিবির। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি একধিক বায়ু সেনাঘাঁটি।ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি। তবে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে ভারতের মাটিতে কোনও রকম জঙ্গি হামলা হলে, তা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে, এবার দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের পর ফের সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছে পাকিস্তান। পাক আকাশ সীমায় হাই অ্যালার্ট জারি করেছে ইসলামাবাদ! সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের স্থল, বায়ু এবং নৌসেনাকেও বিশেষ সতর্ক থাকতে বলেছে সেদেশের সরকার।

    পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তে জারি উচ্চ সতর্কতা

    সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ৬টা ৫৫ মিনিট নাগাদ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। জখম হন আরও অনেকে। দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ তো বটেই, পাশাপাশি একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সি তদন্ত করছে। ঘটনার পর পরই লালকেল্লার সামনে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) দল। এ ছাড়াও, এনএসজি এবং ফরেন্সিক দলও জড়িত এই ঘটনার তদন্তে। এই বিস্ফোরণ যে নাশকতার জেরেই ঘটেছে, তা স্পষ্ট হয়ে যায় তদন্ত এগোতেই। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপাল সীমান্তে জারি হয় উচ্চ সতর্কতা। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিএসএফ ইতিমধ্যেই পঞ্জাবে জোরদার টহলদারি শুরু করেছে সীমান্তে। রাজস্থান সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বিভিন্ন আউটপোস্টে। নেপাল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াতকারী প্রত্যেককে খুটিয়ে খুটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

  • Delhi Blast: চার হাত ঘুরে অভিশপ্ত গাড়ি পৌঁছয় জঙ্গি উমরের কাছে! দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে পুলওয়ামা যোগ?

    Delhi Blast: চার হাত ঘুরে অভিশপ্ত গাড়ি পৌঁছয় জঙ্গি উমরের কাছে! দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে পুলওয়ামা যোগ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে (Delhi Blast) তদন্তে বড় অগ্রগতি। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যে হুন্ডাই আই ২০ গাড়িটি বিস্ফোরণের উৎস ছিল, সেটি কাশ্মীরের পুলওয়ামার এক বাসিন্দা কিনেছিলেন। গাড়িটি একাধিকবার হাত বদল হয়ে উমর মহম্মদের কাছে যায়। এই উমরই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, বলে মনে করছে পুলিশ। প্রকাশ্যে এসেছে দিল্লি বিস্ফোরণের মূল পাণ্ডার প্রথম ছবিও। উল্লেখ্য, বিস্ফোরণের এই ঘটনায় ইতিমধ্য়ে প্রাণ গিয়েছে ১১ জনের। আহত প্রায় ২০ জন। দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে মঙ্গলবার সকালে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। স্বরাষ্ট্রসচিব, আইবি-র ডিরেক্টর, এনআইএ-এর ডিজির সঙ্গে বৈঠক। বৈঠকে রয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

    প্রকাশ্যে এল উমরের ছবি

    সোমবার রাতে দিল্লিতে (Red Fort blast) যে গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেই গাড়ির বর্তমান মালিক উমর মহম্মদ নামে এক ব্যক্তি। তার ছবিই ধরা পড়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, দিল্লিজুড়ে সোমবার ব্যাপক ধরপাকড়ের জেরে খানিকটা আতঙ্কিত হয়েই সন্ধেয় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে এই উমরের মৃত্যু হয়েছে নাকি সে গা ঢাকা দিয়েছে-সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। সিসিটিভি ফুটেজেই গাড়ির চালকের আসনে থাকা উমরের ছবি স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। হুন্ডাই আই-২০ গাড়ির মধ্যে রাখা ডিটোনেটর থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিস্ফোরক রাখার কাজ করেছে ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক উমর, এমনটাই অনুমান। যদিও বিস্ফোরণের ঠিক আগের মুহূর্তে দেখা যায়, গাড়ির চালকের আসনে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি রয়েছেন। মাঝপথে উমর নেমে গিয়ে অন্য কেউ চালকের আসনে বসেছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়। ফলে দিল্লির বিস্ফোরণে উমরের মৃত্যু হয়েছে একথাও স্পষ্ট করে বলা যায় না। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন, দুই সঙ্গীকে নিয়ে আত্মঘাতী হামলার ছক ছিল উমরের।

    কে এই উমর

    উমর ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জন্মগ্রহণ করে। সে আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন। সে ডঃ আদিল আহমদ রদর ও ডঃ মুজাম্মিল শাকিলের কাছের সহযোগী ছিল। সোমবার এই দুই ডাক্তারকে ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসী চক্রের জন্য গ্রেফতার করা হয়।

    গাড়ির পুলওয়ামা যোগ

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই যে আই ২০ গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়, তার এর নম্বর ছিল এইচআর ২৬ ৭৬২৪। নম্বরপ্লেট দেখে চিহ্নিত করা হয় গাড়ির মালিককে। জানা যায়, গাড়িটি হরিয়ানার। হরিয়ানার গুরুগ্রামে নর্থ আরটিও-তে রেজিস্টার্ড করা ছিল। রেজিস্ট্রেশন ছিল হরিয়ানার বাসিন্দা মহম্মদ সলমনের নামে। তাকে সোমবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়। যদিও সূত্রের দাবি, সলমন পুলিশকে জানিয়েছে, গাড়িটি সে বিক্রি দেয়। জানা যায়, গাড়িটি নাদিম নামে এক ব্যক্তিকে বিক্রি করা হয়। এরপর নদিম সেই গাড়িটি বিক্রি করে দেয় ফারিদাবাদের কার ডিলার রয়্যাল কার জোনের কাছে। তারপর পুলওয়ামার বাসিন্দা তারিক কিনে নেয় সেটি। তারপর গাড়িটি আবার হাত বদল হয়ে যায় পুলওয়ামার চিকিৎসক উমরের কাছে যায়। তারিককে পুলওয়ামার সামবুরা থেকে আটক করে পুলিশ। যদিও আরসি ছিল না তারিকের নামে। সূত্রের খবর, তারিক এটা ২০১৫ সালে উমরকে বিক্রি করে দেয়। পুলিশ এখন তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

    কোথায় কোথায় দেখা গিয়েছে গাড়িটিকে

    বিস্ফোরণের (Delhi Blast) কয়েক ঘণ্টা পরেই দিল্লি পুলিশ গুরগাঁওয়ের এক বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, যার নামে আগে ওই গাড়িটি রেজিস্টার ছিল। তদন্তকারীদের তিনি জানিয়েছেন, বহু আগেই গাড়িটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপরই পুলিশ রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিস (আরটিও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে মালিকানা হস্তান্তরের নথি খতিয়ে দেখে। তদন্তে জানা যায়, গাড়িটি একাধিকবার হাতবদল হয়ে শেষ পর্যন্ত পুলওয়ামার ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়। এছাড়া, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সোমবার বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি লালকেল্লা সংলগ্ন পার্কিং এলাকায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পার্ক করা ছিল। সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গাড়িটি দুপুর ৩টা ১৯ মিনিটে পার্কিং লটে প্রবেশ করছে এবং ৬টা ৪৮ মিনিটে সেখান থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। “গাড়িটি যখন পার্কিং থেকে বেরোয়, তখন আশপাশে যানজট ছিল,” বলেন এক তদন্তকারী।

    গাড়িটির সম্পূর্ণ গতিপথ পর্যবেক্ষণ

    গাড়িটিকে দরিয়াগঞ্জ, লালকেল্লা এলাকা, কাশ্মীরি গেট, এবং সোনেহরি মসজিদ সংলগ্ন জায়গাতেও দেখা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, এক ব্যক্তি গাড়ির চালকের আসনে বসে পার্কিং স্লিপ সংগ্রহ করছেন। তবে দিল্লি পুলিশ কমিশনার সতীশ গোলচা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটিতে একাধিক ব্যক্তি ছিলেন। যদিও ফুটেজে আপাতত একজনকেই দেখা যাচ্ছে, তবে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন পরে আর কেউ গাড়িতে ওঠেন কি না। বিস্ফোরণের (Red Fort blast) ঘটনার তদন্তে যুক্ত রয়েছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল, ক্রাইম ব্রাঞ্চ, এবং ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। এক আধিকারিক বলেন, “আমরা আশপাশের রাস্তা ও টোল প্লাজার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, যাতে গাড়িটির সম্পূর্ণ গতিপথ কি ছিল তা জানা যায়।”

  • Bihar Polls: ভোটদানের নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, বিহারে শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ

    Bihar Polls: ভোটদানের নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, বিহারে শুরু দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Polls) দ্বিতীয় তথা চূড়ান্ত দফার ভোটগ্রহণ শুরু হল মঙ্গলবার সকালে। মোট ১২২টি আসনে ভোট হচ্ছে আজ, যার মধ্যে রয়েছে মিথিলা, কোসি অঞ্চল, পশ্চিম বিহার, মগধ, আঙ্গিকা ও সীমাঞ্চল এলাকার বিধানসভা কেন্দ্রগুলি। তালিকায় রয়েছে পূর্ব এবং পশ্চিম চম্পারন, সীতামারি, মধুবনী, কিষানগঞ্জের মতো নেপাল সীমান্তবর্তী বিধানসভা কেন্দ্রগুলিও। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১৩০২ জন। ভোটার সংখ্যা সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। সোমবার দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পর, রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ভোটগ্রহণ চলছে। প্রতিটি বুথে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী। সকাল থেকে বিভিন্ন বুথে সাধারণ ভোটারদের লাইন দেখা গিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    দ্বিতীয় দফার ভোটের (Bihar Polls) সকালে বিহারবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘আমি সকল ভোটারকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে ভোটদানের নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ নতুন ভোটারদের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘যারা প্রথম বারের মতো ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যেন নিজেরা ভোট দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও ভোটদানে অনুপ্রাণিত করেন।’ বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর নেতা উমেশ সিং কুশওয়া (Umesh Singh Kushwaha) মঙ্গলবার রাজ্যের ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন —“আমি ১২২টি কেন্দ্রের সমস্ত ভোটারদের অনুরোধ করছি, ন্যায় ও উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিন। বিহারের ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-কে আরও গতি দিন এবং আপনাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।”

    নিরাপত্তার ঘেরাটোপে চলছে ভোট গ্রহণ

    দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য বিহারে (Bihar Polls) চার লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের ভোটে মোট ৮৪৯১টি ভোটগ্রহণকেন্দ্রকে বিহার পুলিশ স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে। ওই ভোটগ্রহণকেন্দ্রগুলিতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিহার সীমানা লাগোয়া জেলাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশও। বিহারের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ঝাড়খণ্ড সীমানায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিহার সীমানা লাগোয়া ১০ জেলায় ঝাড়খণ্ড পুলিশ ৪৩টি চেকপোস্ট বসিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া ২০ জেলার এই ভোটপর্বে প্রায় ১,৬৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, ১০০ কোম্পানি বিহার স্পেশাল আর্মড ফোর্স এবং প্রায় ৪.৫ লক্ষ পুলিশ ও সরকারি কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়াও এটিএস, এসটিএফ এবং কুইক রেসপন্স টিমগুলিও সক্রিয় থাকবে।

    সীমাঞ্চলে ভোট বেশি

    সীমান্ত সুরক্ষায় এসএসবি (SSB)-এর ২১০ কোম্পানি মোতায়েন রয়েছে এবং আরও ২৩ কোম্পানি ভোট-পরবর্তী ইভিএম নিরাপত্তা রক্ষায় থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। মডেল কোড চালু হওয়ার পর থেকে এসএসবি বাজেয়াপ্ত করেছে প্রায় ৭.৩৪ কোটি টাকার মাদক, নগদ, রুপো ও অন্যান্য মূল্যবান দ্রব্য। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। প্রায় ৩.৭ কোটি ভোটার রাজ্যের ৪৫,৩৯৯টি বুথে ভোট দেবেন। ভোটগণনা হবে আগামী ১৪ নভেম্বর। অতীতে সীমাঞ্চল অঞ্চলে সবসময়ই ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা গেছে। এবারও রাজনৈতিক মহলের নজর, সেই প্রবণতা কি বজায় থাকবে, নাকি বদল আসবে। গত ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে ৬৪.৬৬ শতাংশ ভোটদান হয়, যা ২০২০ সালের নির্বাচনের (৫৭.২৯%) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রথম দফায় ১৮ জেলায় ১২১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল।

    কার, কত প্রার্থী

     এই দফায় বিজেপি ৫৩টি, জেডিইউ ৪৪টি, এলজেপি (আরভি) ১৫টি, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা ৬টি এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের মধ্যে আরজেডি ৭১টি, কংগ্রেস ৩৭টি, ভিআইপি ৮টি, সিপিআই(এমএল) ৬টি, সিপিআই ৪টি এবং সিপিএম ১টি আসনে লড়ছে। মোট ৩.৭ কোটি ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১.৯৫ কোটি, মহিলা ভোটার ১.৭৫ কোটি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯৪৩ জন। প্রার্থীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশই উচ্চবিত্ত শ্রেণির, মোট ৫৬২ জন প্রার্থীর সম্পত্তি এক কোটি টাকার বেশি। সর্বাধিক সম্পত্তির মালিক ভিআইপি প্রার্থী রণকৌশল প্রতাপ সিং (লৌরিয়া)- ৩৬৮ কোটি টাকার সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব (Bijendra Prasad Yadav) — জেডিইউ-র বর্ষীয়ান নেতা ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সবচেয়ে প্রবীণ সদস্য। তিনি অষ্টমবারের মতো সুপৌল আসনটি ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন।

    বিহারে ‘পিঙ্ক বুথ’

    বিহারের (Bihar Polls) কাটিহার কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে পিঙ্ক বুথ। মূলত নির্বাচনী ক্ষেত্রেও নারীশক্তি তুলে ধরতে এই উদ্য়োগ নিয়ে থাকে কমিশন। এই বুথের কাজে রয়েছে শুধুই মেয়েদের অবদান। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে তিনটি মহিলা ভোটকেন্দ্র এবং ২৩টি মডেল ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলার সমস্ত ভোটকেন্দ্রে লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

  • Delhi Blast: দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি কাশ্মীরি চিকিৎসক উমর, যুক্ত ছিল ফরিদাবাদ মডিউলের সঙ্গে!

    Delhi Blast: দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি কাশ্মীরি চিকিৎসক উমর, যুক্ত ছিল ফরিদাবাদ মডিউলের সঙ্গে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমাবার সন্ধ্যায় লাল কেল্লার কাছে ঘটে যায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। শক্তিশালী গাড়ি বিস্ফোরণে ঝরে গিয়েছে অন্তত ১১টি প্রাণ। আহত বহু। এই ঘটনার পরই, দ্রুত তদন্তে নামে একাধিক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সি। এরই মধ্যে হামলার আগের মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা থেকে বিরাট সূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, সাদা রঙের ওই ‘হুন্ডাই আই২০’ গাড়িটি দুপুর ৩টে ১৯ মিনিটে লালকেল্লার অদূরে সুনহেরি মসজিদ কাছে একটি পার্কিংয়ে প্রবেশ করেছিল। সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত গাড়িটি সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরে ওই পার্কিং থেকে বেরোয় গাড়িটি। পার্কিং থেকে বার হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার কাছে গাড়িটিতে বিস্ফোরণ হয়।

    সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে

    এর কিছুক্ষণ আগে তোলা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভিড়ের মধ্যে দিয়ে একটি আই-২০ গাড়ি যাচ্ছে। কালো মাস্ক পরা ব্যক্তি, যাকে গাড়ির ভেতরে চালকের আসনে বসে থাকতে দেখা গেছে, তাকে জঙ্গি মহম্মদ উমর বলে মনে করা হচ্ছে। সন্দেহজনক গাড়ির এই ফুটেজটি বিস্ফোরণের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে রাস্তাটি যখন খুব ব্যস্ত ছিল, তখন একটি সাদা আই-২০ গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। গাড়িটি যানজটের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। ফুটেজ অনুসারে, গাড়িটি যে চালাচ্ছিল তার মুখ কালো মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল।

    ‘হোয়াইট কলার টেরর’

    সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে কয়েকদিন আগেই প্রথম জম্মু-কাশ্মীরের এক ডাক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর তদন্ত যত এগিয়েছে তত উঠে এসেছে একের পর এক ডাক্তার যোগ। বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই এই লালকেল্লা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে বাজেয়াপ্ত হয় প্রায় ৩ হাজার কেজি বিস্ফোরক! প্রথমে মুজাম্মিল শাকিল নামে এক চিকিৎসকের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে সাড়ে তিনশো কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। এরপর ওই চিকিৎসকের আর একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আড়াই হাজার কেজির বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার করে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে জানা যায়। গোয়েন্দাদের তখনই সন্দেহ ছিল, দেশের বিরাট এলাকা জুড়ে ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসবাদের বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছে জঙ্গি মডিউলগুলি, যাদের অংশ এই ডাক্তাররা।

    ফরিদাবাদ জঙ্গি মডিউল

    এই ঘটনায় গোয়েন্দারা গ্রেফতার করে তিন চিকিৎসককে। গত কয়েকদিনে তদন্তকারীরা ফরিদাবাদ জঙ্গি মডিউলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, দুই কাশ্মীরি চিকিৎসক ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল এবং ডাঃ আদিল রাথেরকে গ্রেফতার করে, সেই সঙ্গে মোট ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করে। মুজাম্মিলের সহযোগী ফরিদাবাদ নিবাসী শাহীন শাহিদ নামে এক কাশ্মীরি মহিলা চিকিৎসককের হদিশ মেলে। তাঁর গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একে-৪৭ রাইফেল। পরে লখনউ থেকে ওই মহিলা চিকিৎসককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই চক্রের তদন্তে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করে কাশ্মীর পুলিশ। ধৃতেরা হল আরিফ নিসর দার, ইয়াসির-উল-আসরফ, মকসুদ আহমেদ দার, ইরফান আহমেদ, জামির আহমেদ।

    আত্মঘাতী চালকের পরিচয়

    কিন্তু, পলাতক ছিল আরও এক কাশ্মীরি চিকিৎসক। সে-ই হল এই আত্মঘাতী জঙ্গি মহম্মদ উমর। তদন্তকারীদের অনুমান, সঙ্গীরা গ্রেফতার হতেই ডাঃ উমর মহম্মদ আতঙ্কিত হয়ে লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। পেশায় চিকিৎসক উমরই গাড়িটি চালিয়ে নিয়ে যান এবং দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে তিনিই হামলার পরিকল্পনা করেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু, সোমবার ফরিদাবাদ থেকে দু’জন গ্রেফতার হওয়ার পর, ভয়ে তড়িঘড়ি বিস্ফোরণ ঘটানো হয় লালকেল্লার কাছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সহযোগীদের সঙ্গে মিলে গাড়িতে ডিটোনেটর রাখেন উমরই। বিস্ফোরণ ঘটাতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ভেবেচিন্তেই ভিড় জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছিল বলেও মনে করা হচ্ছে।

  • Hafiz Saeed: বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতে হামলার ছক হাফিজের! কী বলছে গোয়েন্দা রিপোর্ট

    Hafiz Saeed: বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতে হামলার ছক হাফিজের! কী বলছে গোয়েন্দা রিপোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ভারতের উপর জঙ্গি হামলার ছক কষছেন হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed)। ভারতবাসীকে ফের একবার বিপদে ফলতে তৎপর ২৬/১১-র মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড। এবার নাকি নতুন করে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন এই কুখ্যাত জঙ্গি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এর জন্য বাংলাদেশে নতুন নতুন ঘাঁটি তৈরির কাজ চালাচ্ছেন হাফিজ সইদ। হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে ভারত বিদ্বেষ। বাড়ছে ইসলামিক উগ্রবাদীদের দাপট। এই আবহে হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিরা ভারতে হামলার ছক করছে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে।

    বাংলাদেশের দিক দিয়ে ভারতে হামলার প্রস্তুতি

    গত ৩০ অক্টোবর পাকিস্তানের খইরপুর তামেওয়ালিতে এক বিশাল জনসভার ভিডিও রেকর্ডিং গোয়েন্দাদের কাছে এসেছে। যাতে দেখা গিয়েছে, লস্করের শীর্ষ এক কমান্ডার সইফুল্লা সইফ বিরাট বিপজ্জনক তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন। সইফুল্লা উসকানি দেওয়ার সুরে বলেন, হাফিজ সইদ (Hafiz Saeed) হাত গুটিয়ে বসে নেই। বাংলাদেশের দিক দিয়ে ভারতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তাঁর আর দাবি, লস্কর-ই-তৈবার চর ইতিমধ্যেই পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশের অতীত নাম) সক্রিয় হয়ে রয়েছে। তারা ভারতকে অপারেশন সিঁদুরের জবাব দিতে তৈরি বলে দাবি করেন শীর্ষ লস্কর কমান্ডার।

    ভারতবিরোধী কাজে বাংলাদেশের যুবকরা

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, হাফিজ ‘জিহাদের’ পরিকল্পনা করছে। ভারতবিরোধী কাজে সে তাতাচ্ছে বাংলাদেশের স্থানীয় যুবকদের। তাদের মনে মৌলবাদী ভাবনা ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আরও একটি তথ্যে জানা গিয়েছে, সইদ তাঁর এক অতি ঘনিষ্ঠকে সম্প্রতি বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। যিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মসজিদ-মোক্তবে গিয়ে স্থানীয় যুবকদের কট্টরপন্থী আদর্শ জেহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। আর এসবই ভারতের গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন একটি ভিডিও মারফৎ। সেখানে সইফকে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রকাশ্যে মানুষকে উস্কে দিতে দেখা যাচ্ছে।ভিডিওতে এই অনুষ্ঠানে শিশুদেরও দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ তাদের টার্গেট শৈশব থেকেই তাদের ভারবিরোধী করে তোলা। ভারতের বিরুদ্ধে ‘জিহাদের’জন্য মন তৈরি করে দেওয়া।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশংসা

    সাইফুল্লাহর বক্তৃতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রশংসা শোনা গিয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ৯-১০ মে রাতের পর পাকিস্তান জবাব দিয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশও পাকিস্তানের কাছাকাছি চলে আসার দাবি করেছে সাইফুল্লাহ। সাইফুল্লাহর দাবি এখন, আমেরিকা তাদের সঙ্গে আছে। বাংলাদেশও আবার পাকিস্তানের কাছাকাছি আসছে। এই ভাবে জোটবদ্ধ হয়ে ভারতে পর্যুদস্ত করার হুঙ্কার ছাড়ে সে। তখনই সাইফুল্লাহ দাবি করে, ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি নতুন অপারেশন থিয়েটার তৈরি হয়েছে। সেটাকেই কাজে লাগাতে চাইছে লস্কর-ই-তৈবা। আরও একটি তথ্যে জানা গিয়েছে, সইদ তাঁর এক অতি ঘনিষ্ঠকে সম্প্রতি বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন। যিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় মসজিদ-মোক্তবে গিয়ে স্থানীয় যুবকদের কট্টরপন্থী আদর্শ জেহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।

    ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ডাক

    শুধু ভারত নয়, আমেরিকা সহ একাধিক দেশের মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় হাফিজ সইদের নাম রয়েছে। হাফিজ সইদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে একাধিকবার পাকিস্তানের হাতে তথ্যপ্রমাণও তুলে দিয়েছে ভারত। কিন্তু, এব্যাপারে পাকিস্তানের তরফে কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাই আজও নিশ্চিন্তে পাকিস্তানে বসেই ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে হাফিজ সইদ। ভিডিওতে সাফ স্পষ্ট হয়েছে যে, সইফ খোলাখুলি ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ডাক দেন। এই কাজে পাকিস্তানি জঙ্গিরা যে কিশোর-নাবালকদের তালিম দিচ্ছে তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ ওই জনসভায় প্রচুর সংখ্যায় অপরিণত বালক ও কিশোর উপস্থিত ছিল।

    বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার হাফিজের

    এখন প্রশ্ন হল, ঠিক কীভাবে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারতে আক্রমণের ছক করছে হাফিজ সইদ? গতবছর শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হয়। গদিচ্যুত হন তিনি। সেনার নির্দেশে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। তারপর থেকেই বাংলাদেশে শুরু হয়ে যায় অরাজকতা। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেন মহম্মদ ইউনূস। এরপর থেকে সেই দেশে জামাতের মতো কট্টরপন্থী দলের প্রভাব বাড়তে থাকে। শুরু হয় জিহাদি শিক্ষা। আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এই অভ্যুত্থানের পিছনে পাকিস্তানের বিরাট হাত ছিল। এমনকী আমেরিকাও হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে সাহায্য করেছে। আর এমন অভিযোগ হাসিনা নিজেও করেছেন। মাথায় রাখতে হবে, সরকার বদলের পর থেকেই বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। সেখানে জিহাদের শিক্ষাই প্রধান হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে। আর এটাই ছিল পাক সরকার সহ হাফিজ সইদের প্রথম প্ল্যান। আর সেই কাজে তারা আপাতত সাফল্য পেয়েছে। পাক সেনায় হাফিজ সইদের বিরাট কদর। আর সেই জায়গাটাকে ব্যবহার করেই বাংলাদেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে এই জঙ্গি নেতা। সেই কারণে পাক আর্মির আধিকারিকরা মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশে আসছে। তারা ভারতের বিপক্ষে ঘুঁটি সাজাচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

     

     

     

     

     

     

  • White Collar Terror: ‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর মুখ চিকিৎসকরা! ৪ গ্রেফতারি তুলে দিল বড় প্রশ্ন

    White Collar Terror: ‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর মুখ চিকিৎসকরা! ৪ গ্রেফতারি তুলে দিল বড় প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত চার দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার চার চিকিৎসক। না, কোনও চিকিৎসা-সংক্রান্ত গাফিলতি বা দুর্নীতি নয়, একেবারে সরাসরি জঙ্গি-যোগের অভিযোগে! সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে বিপুল বিস্ফোরক, ডেটোনেটর সহ বোমা বানানোর যাবতীয় উপকরণ এবং এক-৪৭ সহ একাধিক অ্যাসল্ট রাইফেল। এই গ্রেফতারির ঘটনাপ্রবাহ দেশের চিকিৎসক মহলে তো বটেই, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্তরেও উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে। এতদিন ভারতে নাশকতা কার্যকলাপের বিস্তারে সাধারণ নাগরিকদের ‘স্লিপার সেল’ ও ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ হিসেবে নিয়োগ করত পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলি। কিন্তু, এখন একবারে সাদা কোট পরা ও গলায় স্টেথো ঝোলানো চিকিৎসকদের এই কাজে নিয়োগ শুরু করেছে তারা। অর্থাৎ, পদস্থ পেশাদারদের ব্রেনওয়াশ করে তাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে এদেশে নাশতকামূলক কার্যকলাপ ছড়িয়ে দিতে। এরই পোশাকী নাম ‘হোয়াইট কলার টেরর’।

    হোয়াইট কালার টেরর-এর মুখ!

    সীমান্তপারের জঙ্গি নেতা ও ভারত-বিরোধী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট ডিপ-স্টেট নেটওয়ার্কের নেওয়া এই পন্থা এদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এই ৪ চিকিৎসক পাকিস্তান ও বিদেশি রাষ্ট্রের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। এমনকি, জৈশ-ই-মহম্মদ, আইসিস ও আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সংস্পর্শে এসেছিল এই চিকিৎসকরা। আর শুধু কি এই চারজনই? নাকি আরও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে? এখনও যারা গ্রেফতার হয়নি! যারা এখনও দেশের কোথাও না কোথাও মিশে গিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছে! এই চিন্তা দুঁদে গোয়েন্দাদেরও এখন একটা বড় প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে করিয়ে দিয়েছে। সেটা হল— ‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর মুখ কি এখন চিকিৎসকরা?

    গ্রেফতার হয়েছে যারা…

    উত্তরপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার আদিল রাথের

    চিকিৎসক-জঙ্গি যোগ তদন্তের প্রথম গ্রেফতার হওয়া ডাক্তারের নাম আদিল আহমেদ রাথের। জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের (জিএমসি) প্রাক্তন সিনিয়র আবাসিক ডাক্তার আদিলের ব্যক্তিগত লকার থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। অনন্তনাগের কাজিগুন্ডের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সি আদিল আহমেদ রাথের গত বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত জিএমসি অনন্তনাগে কর্মরত ছিল।

    পুলিশ জানিয়েছে যে, রাথেরের সঙ্গে জৈশ-ই-মহম্মদ এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের যোগসূত্র ছিল। ২৭ অক্টোবর শ্রীনগরে জৈশ-সমর্থন পোস্টার দেখা যাওয়ার পর এই আবিষ্কার হয়। সিসিটিভি ফুটেজে রাথেরের কার্যকলাপ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তাকে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে ট্র্যাক করা হয় এবং ৬ নভেম্বর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ) এর অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

    গুজরাট থেকে গ্রেফতার আহমেদ সৈয়দ

    হায়দরাবাদের ৩৫ বছর বয়সি চিকিৎসক আহমেদ মহিউদ্দিন সৈয়দকে ৭ নভেম্বর গুজরাট এটিএস গ্রেফতার করে। চিনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এমবিবিএস ডাক্তার সৈয়দ ক্যাস্টর (রেড়ি) বীজ থেকে প্রাপ্ত প্রাণঘাতী প্রোটিন রাইসিন তৈরি করছিল এবং দিল্লির আজাদপুর মান্ডি, আহমেদাবাদের নারোদা ফলের বাজার এবং লখনউতে আরএসএস অফিস সহ জনাকীর্ণ জনসমাগমস্থলে কয়েক মাস ধরে নজরদারি চালিয়েছিল। দুটি গ্লক পিস্তল, একটি বেরেটা, ৩০টি তাজা কার্তুজ এবং চার লিটার ক্যাস্টর অয়েল সহ আমেদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সৈয়দকে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সৈয়দ আইসিস-খোরাসান প্রদেশের আবু খাদিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তার বিরুদ্ধে ইউএপিএ, অস্ত্র আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    হরিয়ানা থেকে গ্রেফতার মুজমিল শাকিল

    তৃতীয় চিকিৎসক যাকে গ্রেফতার করা হয়, সে হল মুজামিল শাকিল। আদিলের মতো মুজমিলও কাশ্মীরি চিকিৎসক। আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ডাঃ মুজামিল শাকিলকে ৯ নভেম্বর দিল্লির কাছে ফরিদাবাদ থেকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং হরিয়ানা পুলিশের একটি যৌথ দল গ্রেফতার করে। মুজমিলের বাড়িতে হানা দিয়ে সেখান থেকে ১২টি স্যুটকেসে মজুদ করা ৩৬০ কিলোগ্রাম সন্দেহভাজন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করেছে, যা প্রায়শই ইম্প্রোভাইজড বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ফরিদাবাদ পুলিশ কমিশনার সতেন্দ্র কুমার গুপ্তা বলেন, শাকিলের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র ছিল এবং সেও আগে শ্রীনগরে জেএম-সমর্থক পোস্টার পোস্ট করেছিল। রাথারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    হরিয়ানা থেকে এক মহিলা চিকিৎসক গ্রেফতার

    মুজমিলের পাশাপাশি, ওই অভিযানে পুলিশ এক মহিলা চিকিৎসককেও গ্রেফতার করে। তার গাড়ির ডিকি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহিলা চিকিৎসকের সুইফ্ট গাড়ি থেকে একটি অ্যাসল্ট রাইফেল এবং অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে যা মহিলা ডাক্তারের সঙ্গে যুক্ত। গাড়ি থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে ছিল একটি একে-৪৭ তিনটি ম্যাগাজিন সহ, একটি পিস্তল লাইভ রাউন্ড সহ, দুটি খালি কার্তুজ এবং দুটি অতিরিক্ত ম্যাগাজিন।

  • Indian Army: চিন-বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে ঠেকাতে ‘চিকেন্স নেক’-এর কাছে ভারতীয় সেনার তিনটি নয়া ঘাঁটি

    Indian Army: চিন-বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে ঠেকাতে ‘চিকেন্স নেক’-এর কাছে ভারতীয় সেনার তিনটি নয়া ঘাঁটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ, পাকিস্তান এমনকী চিনকেও মোক্ষম জবাব দিল ভারত (Indian Army)। সীমান্তে নীরবে শক্তি প্রদর্শন করল দিল্লি। যে ‘চিকেন্স নেক’ (Chicken’s Neck)-র দিকে অনেকদিন ধরে কুনজর, সেই অঞ্চলেই ভারতের তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরি হয়ে গেল। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, অসমের ধুবড়ি এবং বিহারের কিষানগঞ্জ- এই তিনটি জায়গায় নতুন ব্যাটেলিয়ান অফিস বা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হল। সেনার ভাষায় এই ঘাঁটি গুলিকে বলা হয়, “গ্যারিসন” (Garrison)। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবেন। এগুলি ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসেবে কাজ করবে।

    চিকেন্স নেক করিডর থেকে ঘাঁটিগুলির দূরত্ব

    সাম্প্রতিককালে বহু ইউটিউবার দাবি করেছেন, বাংলাদেশের ৬০ কিমি এলাকা নাকি ভারত দখল করেছে। যে রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে এই দাবি করা হচ্ছে, সেটি প্রকাশিত হয় গ্লোবাল গভারনেন্স নামক একটি ওয়েবসাইটে। সেখানে বলা হয়, চিকেন্স নেক অঞ্চলে ভারতীয় সেনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের পরিসর বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু, বাস্তবে চিকেন্স নেক (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর ভারতের অংশ। সেখানে সেনা কোনও এলাকা দখল করেনি। বাংলাদেশের কোনও এলাকাও দখল করেনি সেনা। এই আবহে চিকেন্স নেক অঞ্চলে নতুন তিনটি সেনা ঘাঁটি গড়ল ভারত। উল্লেখ্য, চিকেন্স নেক করিডর থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২–২৪০ কিলোমিটার, চোপড়ার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জের দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটার। আবার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেও এই ঘাঁটি গুলির গড় দূরত্ব খুব একটা বেশ নয়। ফোর্ট উইলিয়াম সূত্রের খবর, ভারী যুদ্ধাস্ত্র সহ ব্যাটালিয়নকে বাংলাদেশ সীমান্তের ধারে কাছে রাখতেই এই গ্যারিসন তৈরি করা হয়েছে।

    কেন এই সিদ্ধান্ত ভারতের

    একদিকে চিনের কৌশলী সামরিক বিস্তার, অন্যদিকে বাংলাদেশের ভিতরে আইএসআই-এর কার্যকলাপ বৃদ্ধি- দুই বিষয়ই সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছে সামরিক গোয়েন্দাদের। অনুপ্রবেশের পাশাপাশি অন্য বিপদের শঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। আর সেখানেই “চিকেন্স নেক করিডর” (Chicken’s Neck) অংশটি যে ভারত বিরোধী বা শত্রু শক্তিগুলির অন্যতম পাখির চোখ, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সামরিক বিশারদদের কাছে। সামরিক গোয়েন্দাদের কাছেও শিলিগুড়ির ঠিক ওপারে থাকা অর্থাৎ বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে থাকা মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক তথ্য আসছে। সেই কারণে অত্যন্ত নীরবে এবং দৃঢ়ভাবে সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে ভারতীয় সেনা। ভারতীয় সেনা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সেখানে থাকা ভারতীয় সেনার কাছে অস্ত্র, সাঁজোয়া গাড়ি পৌঁছেছে। পৌঁছে গিয়েছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে শুরু করে অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এছাড়াও অত্যাধুনিক মোবাইল জ্যামিং সিস্টেমও মোতায়েন করা হচ্ছে এই ঘাঁটিগুলিতে।

    ভারতের সামরিক কৌশল

    আগামী কয়েক মাসে ভারতের (Indian Army) সামরিক অনুশীলন চলার কথা উত্তরপূর্ব জুড়ে। ইতিমধ্যেই, উত্তরপূর্ব ভারত জুড়ে নোটাম জারি করা হল বায়ুসেনা অনুশীলনের জন্য। নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে ৬টি বিভিন্ন তারিখের জন্য। ভারতীয় সেনার এই ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে পদ্মপারেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সেখানে ইতিমধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে ভারতীয় সেনা যে কোনও মূহূর্তে সীমান্ত টপকে সে দেশে ঢুকে পড়তে পারে। চোপড়া থেকে শিলিগুড়ি করিডরের (Siliguri Corridor) দূরত্ব মাত্র ৫২ কিলোমিটার। আবার বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে এর দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর ব্রহ্মাস্ত্র কোর। ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চল কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আরসি তিওয়ারি সম্প্রতি অসমের ধুবড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া সেনাঘাঁটি পরিদর্শন করেন।

    ভারতে ভীত বাংলাদেশ

    ভারতীয় সেনার (Indian Army) এই তৎপরতায় কিছুটা হলেও ভীত বাংলাদেশ। তারা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি লালমনিরহাট সংস্কারে হাত দিয়েছে। এই কাজে তাদের সাহায্য করছে চিন। সূত্রে খবর, লালমনিরহাটে তৈরি হবে হ্যাঙার। থাকবে যুদ্ধবিমান। চিনের থেকে বাংলাদেশ কিনেছে ১০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সিজে-১০। লালমনিরহাটের ছাউনিতে ওই বিমানগুলিকে রাখা হবে। ভারতীয় সেনার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, এই তিন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনার আচমকা তৎপরতা বৃদ্ধির কারণ চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের মাখামাখি। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বদলে যাওয়া পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সেনার উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় সেনা আর চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি হয়নি। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের টার্গেট এখন এই শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor)। তার একার পক্ষে এই এলাকা দখল করা সম্ভব হবে না অনুমান করে তিনি চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তবে সেনাকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ ভুল করেও যদি চিন আর পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চিকেন্স নেক (Chicken’s Neck) কব্জা করার চেষ্টা করে, তাহলে ভারতীয় সেনা (Indian Army) পাল্টা জবাব দেবে। যমুনা ভবনের বাসিন্দা এবং উত্তরপাড়ার যাবতীয় ছক ভেস্তে দেওয়ার মতো রসদ সীমান্তে মজুত করা আছে।

LinkedIn
Share