Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Anti Hindu: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হলেন ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি

    Anti Hindu: নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হলেন ‘হিন্দু বিদ্বেষী’ ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। তিনি রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টিস স্লিওয়া এবং নিউ ইয়র্কের প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাস্ত করেন। মামদানি হলেন নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র (Anti Hindu)। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া বছর চৌত্রিশের এই ব্যক্তি কুইন্স স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য এবং ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া মোট ভোটের মাত্র ৭ শতাংশের সামান্য কিছু বেশি পেয়েছেন। আর ৪০ শতাংশের একটু বেশি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন কুয়োমো। চলতি বছরের জুন মাসে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কুয়োমোকে পরাজিত করেছিলেন মামদানি।

    মামদানির ঐতিহাসিক জয় (Anti Hindu)

    মামদানির এই ঐতিহাসিক জয়ের খবর এল এমন একটা সময়, যখন দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভার্জিনিয়ার প্রথম নারী গভর্নরের নির্বাচনও। ডেমোক্র্যাটরা আরও পাঁচটি কংগ্রেশনাল আসনও দখল করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে প্রায় ২০ লাখ নিউ ইয়র্কবাসী ভোট দেন। ১৯৬৯ সালের পর থেকে এটি শহরের মেয়র নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোটারের অংশগ্রহণ। মামদানি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র (Zohran Mamdani)। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহর ও আর্থিক কেন্দ্রের প্রথম আফ্রিকায় জন্ম, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী মেয়রও।

    হাউজিং কাউন্সিলর

    সংবাদ মাধ্যমে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন তাঁর অনুরাগীরা। ১ জানুয়ারি শপথ নেবেন তিনি (Anti Hindu)। উগান্ডার কাম্পালায় অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন মামদানি। বেড়ে ওঠা ম্যানহাটনে। সেখানকার একটি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি। স্নাতক হন নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপর তিনি হাউজিং কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। ভাড়াটিয়া অধিকার এবং আবাসন ব্যয়সাধ্যতার সমস্যাগুলির ওপর কাজ করেন তিনি। মামদানি মীরা নায়ারের ছেলে। এই মীরা নায়ারই নির্মাণ করেছিলেন ‘মনসুন ওয়েডিং’ এবং ‘সালাম বম্বে’র মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র। মামদানির বাবা মাহমুদ মামদানি উগান্ডার শিক্ষাবিদ। তিনি উপনিবেশবাদ এবং আফ্রিকান গবেষণা সম্পর্কিত পাণ্ডিত্যের জন্য পরিচিত। তিনিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত।

    মামদানির পোস্ট

    জয়ের খবর পাওয়ার পর মামদানি এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেট্রো রেলের দরজা খুলছে, আর দেওয়ালে লেখা, ‘জোহরান ফর নিউ ইয়র্ক সিটি’। মুহূর্তে ভাইরাল হয় ভিডিওটি। মামদানি বলেন, “এই শহর সবার। আমরা এক সঙ্গে ন্যায় ও সহানুভূতির পথে এগিয়ে যাব। নিউ ইয়র্ক এখন নতুন দিগন্তের দিকে হাঁটছে।”

    হিন্দু বিদ্বেষ

    রাজনীতির জগতে পা রাখার আগে মামদানি ছিলেন নিতান্তই এক অচেনা মুখ। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এবং হিন্দু-বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জেরে দ্রুতই তিনি চলে আসেন খবরের শিরোনামে। ২০২২ সালের (Zohran Mamdani) অগাস্টের একটি ভিডিওয় দেখা যায়, তিনি একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মিছিলে থাকা লোকজন লাগাতার হিন্দুদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর স্লোগান দিচ্ছিল। ঘটনাটি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। অযোধ্যায় রাম মন্দির উদ্বোধনকে তিনি একটি ‘মসজিদ ধ্বংসের উদযাপন’ এবং ‘নির্যাতনের অস্ত্র’ আখ্যা দেন (Anti Hindu)।

    মামদানির বিতর্কিত মন্তব্য

    মামদানি গত বছর নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠাকে ‘হিন্দুত্বের চরমপন্থা’ বলে দাবি করেছিলেন। তিনি এও বলেছিলেন, “গুজরাট দাঙ্গার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুসলমানদের হত্যায় সাহায্য করেছিলেন।” মোদির সমর্থক হিন্দুদের তিনি ‘ফ্যাসিবাদী’ও আখ্যা দেন। মে মাসে নিউ ইয়র্ক ফোকাস আয়োজিত এক জনসভায় মামদানি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে অভিহিত করেন। তাঁকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তুলনাও করেন (Anti Hindu)। তিনি ‘গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদার’ মতো ইহুদি-বিরোধী গণহত্যামূলক স্লোগানকেও সমর্থন করেন।

    ইহুদি-বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ

    হিন্দু-বিরোধী সংগঠন ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)’ এবং অন্যান্য ইহুদি-বিরোধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের কালিও লেগেছে তাঁর গায়ে। ফোবর্সের তথ্য অনুযায়ী, মামদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ২ থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অনুমান। এর বেশিরভাগই সম্পত্তি উগান্ডায় পারিবারিক মালিকানাধীন জমি থেকে। এর মূল্য দেড় থেকে আড়াই লাখ ডলারের মধ্যে। নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবে তাঁর বার্ষিক বেতন ১.৪২ লাখ ডলার (Zohran Mamdani)।

    ট্রাম্পের হুমকি

    মামদানির জয়ের পর শুরু হয়েছে বিতর্ক। রিপালিকান শিবির থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘চরমপন্থী ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতির প্রতীক’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। নির্বাচনের দিন সকালেই ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “যদি মামদানি জেতেন, তবে আমি নিউইয়র্ক শহরকে ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত অর্থ সাহায্য বন্ধ করে দেব (Anti Hindu)।”

    এখন ট্রাম্প কী ব্যবস্থা নেন, সেটাই দেখার।

  • Manipur: মণিপুরে ‘অপারেশন খানপি’, খতম ৪ কুকি জঙ্গি

    Manipur: মণিপুরে ‘অপারেশন খানপি’, খতম ৪ কুকি জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে খতম চার কুকি জঙ্গি। মণিপুরের (Manipur) চূড়াচাঁদপুর জেলার ঘটনা। সোমবার ভোরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলস গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান শুরু করে। ‘অপারেশন খানপি’ নামের এই অভিযান চালানো হয় জেলা সদর থেকে পশ্চিমে প্রায় ৮০ কিমি দূরের খানপি গ্রামে। অভিযান শুরু হয় ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ। সেই সময় নিষিদ্ধ সংগঠন ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (Kuki Terrorists)-র জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুটতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে তীব্র সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মির চার জঙ্গি নিকেশ হয়। ওই দলের বাকি জঙ্গিরা গা ঢাকা দেয় পাশের জঙ্গলে। ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি একটি নন-সাসপেনশন অফ অপারেশনস গোষ্ঠী, যারা সম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি হিংসার ঘটনায় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম প্রধানকে হত্যা, সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া এবং এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা। আধিকারিকরা জানান, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল সংগঠনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা দমন করা এবং স্থানীয় জনগণের ওপর সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করা।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জারি করা একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “৪ নভেম্বর ২০২৫ সালের সকালে গোয়েন্দা-তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের সময় জঙ্গিরা বিনা উসকানিতে একটি সেনা কনভয়ের ওপর গুলি চালায়। পাল্টা অভিযানে চার সশস্ত্র জঙ্গিকে নির্মূল করা হয়েছে।” জানা গিয়েছে, ওই গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় চিরুনি ও ঘেরাও অভিযান চলছে। কোনও জঙ্গি যেন পালাতে না পারে, তাই এই তল্লাশি (Manipur)।

    প্রসঙ্গত, কুকি-জো গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অপারেশন স্থগিত (SOO) চুক্তির অংশ হলেও, ইউনাইটেড কুকি ন্যাশনাল আর্মি (Kuki Terrorists) এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।  তাই তাদের কাজকর্মই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই অভিযান মণিপুরের সংঘাতে দীর্ণ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ (Manipur)।

  • Bangladesh Crisis: ইসলামী চরমপন্থীদের কাছে ফের মাথা নত ইউনূসের, বাংলাদেশে বন্ধ সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ

    Bangladesh Crisis: ইসলামী চরমপন্থীদের কাছে ফের মাথা নত ইউনূসের, বাংলাদেশে বন্ধ সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে মৌলবাদীদের কবলে ঠেলে দিচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দিন দিন মৌলবাদীদের দাপাদাপি বেড়েই চলেছে পড়শি দেশটিতে (Bangladesh Crisis)। যে দেশ একসময় কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান নিয়ে গর্ব করত, সেই দেশেই এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষকের নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পদ বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আখতার খান জানান, “অগাস্টে প্রকাশিত নিয়মে চারটি শ্রেণির পদ ছিল, তবে সংশোধিত নিয়মে দুটি পদ রাখা হয়েছে। সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষকের পদ নতুন নিয়মে নেই।”

    মৌলবাদীদের দাবির কাছে নতি স্বীকার

    বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি চরমপন্থী ইসলামী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীত শিক্ষকের পরিবর্তে আলেম নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল। জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, “সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও জাতির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” আরেক নেতা মুজিবুর রহমান দাওরায়ে হাদিস ও ফাজিল ডিগ্রিধারী আলেমদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আহ্বান জানান। এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ও খেলাফত মজলিশসহ বিভিন্ন সংগঠন সঙ্গীত শিক্ষা ‘নাস্তিকতা’ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে। আইএবির আমির সায়েদ রেজাউল করিম হুমকি দেন, ইসলামী আলেম নিয়োগ না হলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত

    উগ্রবাদীদের হুঙ্কারে এরপরই গুটিয়ে যান নোবেল জয়ী ইউনূস। ইসলামী মৌলবাদীদের আপত্তি থাকায় এবার বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কুলে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষার প্রশিক্ষনের দেওয়ার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেল। মুছে দেওয়া হল নিয়োগ – বিজ্ঞপ্তি। প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হল ইউনূস প্রশাসনকে। সংশোধিত বিধিমালায় সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগের বিষয়টি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাসুদ আখতার খান জানান, গত অগাস্টে জারি করা বিধিমালায় ৪ টি শ্রেণীর পদ থাকলেও, নতুন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে দুটি শ্রেণীই রাখা হয়েছে। সেখানে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষকের পদ রাখা হয়নি। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, আখতার খান কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    ইউনুসের ইসলামপন্থী তোষণ নীতি

    কোরান ও হাদিসের বিভিন্ন উদ্ধৃতি অনুযায়ী ইসলামে সঙ্গীত হারাম বলে বিবেচিত। ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে ইসলামপন্থার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি প্রথমে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় বৈধতা দেন, পরে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-এর নেতা জাসিমউদ্দিন রহমানিকে মুক্তি দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেন ইউনুস। আওয়ামি লিগ ও তার ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে তিনি ইসলামপন্থীদের আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেন।

    মৌলবাদ ও নারীবিদ্বেষের উত্থান

    বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis) কিছুই আর ঠিকঠাক নেই, ইসলামী মৌলবাদ সেখানে ক্রমশ প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূস সরকারের এই পদক্ষেপ ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের সময় সীমিত পরিসরের সংগঠনগুলি এখন প্রকাশ্যে সক্রিয় এবং সরকারের উপর নীতিগত চাপ প্রয়োগ করছে। এই একই সংগঠনগুলি সম্প্রতি ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে, যাকে তারা ‘চরমপন্থী সংগঠন’ বলে অভিহিত করেছে। তদুপরি, তারা নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে হিংসার হুমকি দিয়েছে। জুলাই ২০২৫-এ বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দেয় যে মহিলা কর্মীরা ছোট পোশাক, ছোট হাতা জামা বা লেগিংস পরতে পারবেন না। নির্দেশনায় হিজাব পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। নারী অধিকার রক্ষা কর্মীরা একে “তালেবানি নির্দেশনা” বলে নিন্দা জানান। একই বছর ইসলামী দল ‘জমায়াত-চরমোনাই’ ঘোষণা দেয়, তারা নির্বাচনে জিতলে বাংলাদেশকে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধিকার কমিশন বিলুপ্তির দাবি তোলেন মৌলবাদীরা।

    বাংলাদেশ অন্ধকারের পথে

    মহম্মদ ইউনুসের শাসনামলে বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis) ধর্মীয় উগ্রতা, নারীর ওপর সহিংসতা, ও সাংস্কৃতিক দমন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিপরীতে, আজকের বাংলাদেশ ক্রমশ তালেবানি রূপ নিচ্ছে—যেখানে সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইউনূসের এহেন সিদ্ধান্তে অবাক হচ্ছেন না। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার এই ধরনের সিদ্ধান্তই নিয়ে চলেছে মসনদে বসার পর থেকে। এর আগে দেখা গিয়েছে, মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ও কওমি ওলামা পরিষদের কোপ পড়েছিল লালন স্মরণোৎসবে। লালনের মতাদর্শ সঠিক নয় ও ইসলাম বিরোধী এরকম দাবি তুলে প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে দেওয়া হয় অনুষ্ঠানটি। এইভাবে দিন দিন মৌলবাদীদের দাপাদাপি বেড়েই চলেছে। ফলে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করায় অবাক হওয়ার কিছু নেই ‘নতুন’ বাংলাদেশে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

     

     

     

     

     

     

  • Guru Nanak Jayanti 2025: “চারটি বেদই সত্য, সেগুলিকে সঠিকভাবে বোঝা ও অনুশীলন করাই প্রকৃত জ্ঞান” , বলেছিলেন গুরু নানক

    Guru Nanak Jayanti 2025: “চারটি বেদই সত্য, সেগুলিকে সঠিকভাবে বোঝা ও অনুশীলন করাই প্রকৃত জ্ঞান” , বলেছিলেন গুরু নানক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম ধর্মগুরু গুরু নানক দেব ১৪৬৯ সালে কার্তিক পূর্ণিমার দিনে জন্মগ্রহণ করেন। তাই প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় গুরু নানক জয়ন্তী (Guru Nanak Jayanti 2025) পালিত হয়। চলতি বছর ৫ নভেম্বর নানক জয়ন্তী পালিত হবে। শিখ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এই তিথিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রকাশ উৎসব ও গুরু পর্ব বলা হয়ে থাকে। শিখ ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণিমার দুদিন আগে থেকে উৎসবে মেতে ওঠেন। গুরু নানক দেব জি ভারতীয় সমাজে এক নতুন আলোর দিশা দেখিয়েছিলেন—সত্য, করুণা ও প্রজ্ঞার মিশ্রণে গড়ে ওঠা মানবতার পথ। তাঁর উপদেশ ও জীবনদর্শন আজও সমাজ সংস্কারের প্রেরণাস্বরূপ। গুরু নানক জয়ন্তী উপলক্ষে সমগ্র দেশজুড়ে তাঁর শিক্ষার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

    প্রকাশ উৎসবের মাহাত্ম্য

    সারা বছরের পবিত্র পূর্ণিমার মধ্যে অন্যতম হল কার্তিক পূর্ণিমা। এদিন যা দান-পুণ্য করা হয় তা বিশেষ ফলদায়ী। এ দিন দীপদানেরও বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কার্তিক পূর্ণিমার দুদিন আগে থেকে প্রকাশ উৎসবের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথম দিন অখণ্ড পাঠ করা হয়। এ সময় গুরুদ্বারা ফুল ও আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়। প্রধান দিন অমৃত বেলায় এই উৎসব শুরু হবে। সকালে ভজন করার পর কাহিনি পাঠ এবং কীর্তন করা হয়ে থাকে। প্রার্থনার পর লঙ্গর বা ভান্ডারা করা হয়। লঙ্গরের পর কথা ও কীর্তনের পাঠ জারী রাখা হয়। রাতে গুরবাণী গায়নের পর উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। গুরু নানক জয়ন্তীর শুভ দিনে শিখ সম্প্রদায়ভুক্তরা নানান স্থানে লঙ্গরের আয়োজন করেন। এখানে শুদ্ধ ও নিরামিষ খাবার যেমন কড়ি, চাল, লুচি, আলু, ডাল রুটি এবং পায়েস খাওয়ানো হয়।

    গুরু নানকের পথ

    গুরু নানক দেব জি (Guru Nanak Jayanti 2025) সেই সময়ের ভারতীয় সমাজে ছড়িয়ে পড়া কুসংস্কার, ধর্মীয় ভণ্ডামি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তবে তিনি কখনওই প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান বা বেদ-বেদান্তের বিরোধিতা করেননি। বরং, তিনি বলেন—“চারে বেদ হো এ সচি আর, পড়হ গুনা তনহ চার বি চার।” অর্থাৎ, চারটি বেদই সত্য, কিন্তু সেগুলিকে সঠিকভাবে বোঝা ও অনুশীলন করাই প্রকৃত জ্ঞান। মাত্র নয় বছর বয়সে, তাঁর ‘জানেও’ (পবিত্র সুতো) অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অস্বীকার করেন তিনি। সমাজে তখন অনেকেই এই ধর্মীয় রীতি পালন করলেও মননে ও আচরণে বৈষম্য ও অন্যায় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গুরু নানক জি বলেন— “দইয়া কাপাহ সন্তোখু সূত্রু, জতু গণ্ডী সত্যু ভাটু।” অর্থাৎ, করুণা হবে সুতোর তুলো, সন্তোষ হবে সুতো, আর সত্য হবে তার পাক। এই উপমার মাধ্যমে তিনি প্রকৃত ধার্মিকতার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

    মানবতার পতাকা তুলে ধরেন

    গুরু নানকের সময়ে সমাজ ছিল অস্থির—দেশে বিদেশি আক্রমণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুকুলগুলির ধ্বংস, এবং সমাজের পথপ্রদর্শকদের বিভ্রান্তি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। এই কঠিন সময়েই গুরু নানক দেব জি মানবতার পতাকা উঁচিয়ে ধরেন। ভ্রান্তাচারীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা জ্ঞানী বা সন্ন্যাসীর বেশে সমাজবিমুখ হয়েছে, তারা আসলে কোনো উপকার করছে না। বিখ্যাত ভক্ত ভাই গুরদাস জি গুরু নানক দেব জির আবির্ভাব নিয়ে লিখেছিলেন— “সতগুরু নানক প্রগটিয়া, মিটি ধুন্ধ জগ চানন হোয়া।” অর্থাৎ, অন্ধকারে মোড়া সমাজে সত্যগুরু নানকের আবির্ভাবে আলো ছড়িয়ে পড়েছিল।

    নানকের উপদেশ প্রচার

    গুরু নানক (Guru Nanak Jayanti 2025) তাঁর নিজের উপদেশ প্রচারের জন্য তিনি কার্তারপুরে একটি নতুন নগর স্থাপন করেন এবং সেখানে ‘লঙ্গর’ প্রথার সূচনা করেন—যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ, জাতির মানুষ একসঙ্গে বসে আহার করেন। এটি ছিল সমতার এক অনন্য প্রতীক। আচল বাতালায় যোগীদের সঙ্গে বিতর্কে তিনি গার্হস্থ্য জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গার্হস্থ্য জীবন ত্যাগ নয়, বরং সেবার ও ন্যায়ের মাধ্যমে ঈশ্বরসাধনা সম্ভব। ‘জপজি সাহিব’-এ গুরু নানক দেব জি কর্মফল তত্ত্বের সহজ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন—
    “চঙ্গাইয়াইয়া বুরাইয়াইয়া ভিতর ধরম হদুর, করমি আপো আপণী কে নেডে কে দূর।” অর্থাৎ, মানুষ নিজের কর্মফলের দ্বারাই ঈশ্বরের নিকট বা দূরে হয়।

    সৎজনের সেবা ও ঈশ্বর স্মরণ

    গুরু নানক জি (Guru Nanak Jayanti 2025) চার পুরুষার্থ—ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ—সম্পর্কেও বলেছেন যে, সৎজনের সেবা ও ঈশ্বরস্মরণই এদের অর্জনের পথ। গুরু নানক দেব জি সত্যিই ভারতীয় জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সহজ ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, এমনকি আরব দেশ পর্যন্ত তাঁর বার্তা পৌঁছে গিয়েছিল। তাঁর শিক্ষায় আজও সমাজে সত্য, করুণা ও মানবতার আলো জ্বলছে। উন্নত সমাজ গঠনে, গুরু নানক দেবের মূল্যবোধ ও আদর্শ গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করে। গুরু নানক জি’র, সত্য,ন্যায় বিচার এবং সহানুভূতির বার্তা সমাজকে সাফল্যের শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে গুরু নানক জি সততার সঙ্গে জীবন যাপন ও সম্পদের সমবন্টন নীতির প্রচারক ছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে তাঁর পথ গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

     

  • Rash Purnima 2025: আজ কার্তিক পূর্ণিমা, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রাস উৎসব ও দেব দীপাবলি

    Rash Purnima 2025: আজ কার্তিক পূর্ণিমা, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রাস উৎসব ও দেব দীপাবলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাসযাত্রা (Rash Purnima 2025) মূলত বৈষ্ণবদের উৎসব। জয়দেবের ‘গীতগবিন্দম্‌, চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’, মালাধর বসুর ‘শ্রীকৃষ্ণবিজয়’ কাব্যে রাসের কথা বলা হয়েছে। বৃন্দাবন রাস, বসন্ত রাস খুব উল্লেখযোগ্য। এই বৈষ্ণব ভাবনায় শ্রীকৃষ্ণপ্রেম এবং প্রকৃতিস্বরূপ রাধা (Radha-Krishna) সাধনাই হল রাস। এই উৎসবের কথা বিভিন্ন পুরাণেও রয়েছে। শারদ রাস এবং বসন্ত রাস-দুটিই বৈষ্ণবদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।

    আজ, বুধবার, বাংলা তথা দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রাসযাত্রা। একইসঙ্গে, এ বছর রাস পূর্ণিমা বা কার্তিক পূর্ণিমার সঙ্গে একইদিনে পড়ছে গুরু নানকের জন্মতিথির (Guru Nanak Birthday) দিন। রাস পূর্ণিমা বাংলার আপামার বাঙালির কাছে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলায় শ্রীচৈতন্যদেবের রাস উৎসব পালনের কথা জানা যায়। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সময়ের পরবর্তী সময়ে রাস পূর্ণিমা আরও জাঁকজমক ভাবে পালন করা হয়। কার্তিক পূর্ণিমার তিথিতে অন্যদিকে দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে দেব দীপাবলি (Dev Deepavali)। দেবতাদের দীপাবলি উৎসবে সেজে উঠেছে বারাণসী (Varanasi)। সন্ধ্য়ায় কাশীর অর্ধচন্দ্রাকৃতি গঙ্গারঘাটগুলিকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করতে ৫ নভেম্বর ১০ লক্ষের বেশি প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে। কাশীধাম জুড়ে রাতভর পালিত হবে দেব দীপাবলি।

    পঞ্জিকা মতে রাস পূর্ণিমার তিথি কখন?

    বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুসারে, পূর্ণিমা লেগেছে ৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে, বাংলা ১৮ কার্তিক এবং পূর্ণিমা তিথি শেষ হচ্ছে ৫ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। আবার গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে, পূর্ণিমা শুরু হয়েছে ৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার রাত রাত ৯টা ২২ মিনিটে। তিথি শেষ হচ্ছে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে। উভয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, উদয়া তিথি ধরে আজ, বুধবার, ৫ নভেম্বর, বাংলায় ১৮ কার্তিক শ্রীরাধা-শ্রীকৃষ্ণের প্রেম উৎসব রাসযাত্রা (Rash Purnima 2025) পালিত হবে।

    রাসের তাৎপর্য কী (Rash Purnima 2025)?

    প্রেমভাব বৈষ্ণব ভাবনার একটি প্রধান ভাব। রাস শব্দ এসেছে রস থেকে। রসের বিরাট ব্যাপ্তি। আনন্দ আস্বাদনই মূল কথা রাসের। বৈষ্ণব রসশাস্ত্রে পঞ্চম রস, শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য মধুর রস সম্পর্কে বিস্তৃত ভাবে বলা হয়েছে। বৃন্দাবনদাসের ‘শ্রীশ্রীচৈতন্যভাগবত’ এবং কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’-কাব্যে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে রস বা লীলা সম্পর্কে। রাস মানেই মিলন (Rash Purnima 2025)। কৃষ্ণ প্রেমের ক্ষুদ্র আত্মা পরমাত্মায় মিলনের বাসনাই রাসের মূল ভরকেন্দ্র। পূর্ণ অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহাভাবের একমাত্র অধিকারিণী শ্রীরাধারানি। কৃষ্ণ হলেন জগতের আসল পুরুষ, বাকি মানবসামজ প্রকৃতিতুল্য। তাই সকল গোপিনী এবং নরনারী রাধাভাব বা মঞ্জরী ভাবনায় ভাবিত হন। এই পরম জ্ঞানের কথা জানানোর জন্যই কৃষ্ণের বৃহৎ লীলা বা রাসের প্রকাশ।

    মুক্তির পথ দেখান কৃষ্ণস্বরূপ জ্ঞান

    কৃষ্ণপ্রেমে মুগ্ধ হয়ে গোপিনীরা সংসার ত্যাগ করে বৃন্দাবনে চলে যান। সেখানে গিয়ে সকলে কৃষ্ণপ্রেমে সমবেত হন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের সংসারে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু গোপিনীরা মানতে অস্বীকার করেন। শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের এই ভাবনায় মনে অহংকার ভাব এলে রাধাকে নিয়ে চলে যান। পরে গোপিনীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। অহংকার ভুলে গিয়ে কৃষ্ণপ্রেমে স্তব পাঠ শুরু করেন। এদিকে তাঁদের স্তবে কৃষ্ণ সন্তুষ্ট হলে কৃষ্ণ ফিরে আসেন। এরপর গোপিনীদের জীবন সম্পর্কে গভীর তত্ত্বকথার উপদেশ দেন। প্রত্যক গোপিনীর মনোবাঞ্ছা পূরণ করে জাগতিক দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির পথ দর্শান। এই কৃষ্ণ (Rash Purnima 2025) হলেন প্রকৃত জ্ঞানের আধার। আর জগতস্বরূপ জ্ঞান হলেন স্বয়ং রাধা। সকল গোপিনীরা হলেন রাধা শক্তির প্রকাশ মাত্র।

    বাংলাজুড়ে রাস-উৎসব

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাস (Rash Purnima 2025) বাংলা, মথুরা, বৃন্দাবন, ওড়িশা, অসম, মণিপুর, পূর্ববঙ্গের বেশ কিছু জায়গায় ব্যাপক ভাবে দেখা যায়। তবে মূল আরাধ্য রাধাকৃষ্ণ হলেও অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন দেবদেবীর পুজো করতে দেখা যায়। যেমন-কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে রাস হয় এবং এক মাস মেলা বসে এখানে। এই মেলা বিরাট বিখ্যাত। এখানে রাসে দুর্গাপুজো, কালীপুজোও করতে দেখা যায়। আবার নবদ্বীপ, শান্তিপুর, ফুলিয়া, বর্ধমানের বেশ কিছু বৈষ্ণবপাট বাড়ি, সমাজবাড়ি এবং আখড়ায় মাটির মূর্তিতে রাধাকৃষ্ণের পুজো হয়। গৌর-নিতাই, পঞ্চতত্ত্বের নামে চলে নাম-সংকীর্তন এবং নগর পরিক্রমা। শ্রীচৈতন্যের স্মৃতি বিজড়িত জায়াগায় পালন হয় বিশেষ পুজো। কীর্তন, পদাবলী, পালাগান এবং রাসের সখীদের অষ্টকলা প্রদর্শন মূল আকর্ষণ থাকে। পিছিয়ে নেই পশ্চিমের জেলা পুরুলিয়া। পুরুলিয়ার রাসমেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এবং এটি রাস পূর্ণিমার পাঁচ দিন পর থেকে শুরু হয়।

    কার্তিক পূর্ণিমা, দেব দীপাবলি ও ত্রিপুরী পূর্ণিমা

    রাস পূর্ণিমাকে (Rash Purnima 2025) অনেকে কার্তিক পূর্ণিমা বলে থাকেন। কার্তিক পুজো ঘিরে কাটোয়া ও তার সংলগ্ন নানান এলাকা খ্যাত। কাটোয়া এবং হুগলি জেলার চুঁচুড়া-বাঁশবেড়িয়া অঞ্চলে কার্তিক পুজো খুব বিখ্যাত। এই পুজো ঘিরে বহু মানুষের ভিড় হয় এলাকায়। কার্তিক পুজো পালিত হয় কার্তিক পূর্ণিমায়। এই সময়ে সূর্য ওঠার আগে স্নান করলে শুভকর্ম ফল হয়। অশ্বমেধ যজ্ঞের সমান পুণ্যলাভ হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে দেবলোকে দীপাবলি (Dev Deepavali) পালন করা হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। দেবতাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে মর্ত্যেও এ দিন প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে। বিশেষ করে এ দিন বেনারস ও হরিদ্বারের গঙ্গার ঘাট আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হয়। হাজার হাজার মানুষ গঙ্গার ঘাটের শোভা দেখতে বেনারস ও হরিদ্বারে ভিড় করেন। অন্য পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই রাস পূর্ণিমায় ভগবান শিব ত্রিপুরাসুর নামে এক রাক্ষসকে বধ করেছিলেন। তাই এই পূর্ণিমা ত্রিপুরী বা ত্রিপুরারি পূর্ণিমা নামেও অনেক জায়গায় পরিচিত। ভগবান শ্রীবিষ্ণু (Radha-Krishna) এই দিনে মৎস্য অবতার ধারণ করেছিলেন।

  • SSC: অযোগ্যদের নিয়োগ ‘কবুল’, ৩ হাজার ৫১২ জনের নামের তালিকা প্রকাশ এসএসসির

    SSC: অযোগ্যদের নিয়োগ ‘কবুল’, ৩ হাজার ৫১২ জনের নামের তালিকা প্রকাশ এসএসসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডির অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। সব মিলিয়ে ওই তালিকায় নাম রয়েছে ৩ হাজার ৫১২ জনের (Tainted Staff)। সোমবার সন্ধে ৭টার পর এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

    অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ (SSC)

    এদিনই এসএসসির তরফে প্রকাশ করা হয় গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডির জন্য আলাদা অযোগ্যদের তালিকা। এসএসসির তরফে প্রকাশিত ওই তালিকায় গ্রুপ-সিতে ১ হাজার ১৬৩ জন এবং গ্রুপ-ডিতে ২ হাজার ৩৪৯ জন অযোগ্যের নাম রয়েছে। এঁদের মধ্যে গ্রুপ-সিতে ওএমআর শিটে জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছিলেন ৭৮৩ জন। সুপারিশপত্র ছাড়া চাকরি পেয়েছিলেন ৫৭ জন অযোগ্য। গ্রুপ-ডির তালিকায় দাগি রয়েছেন ১ হাজার ৭৪১ জন। ওএমআর শিটে জালিয়াতির পাশাপাশি র‌্যাঙ্ক জাম্পেরও অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। অযোগ্যদের নাম ও রোল নম্বর দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি। এদিনের তালিকায় যাঁদের নাম প্রকাশিত হয়েছে, তাঁরা আর স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডির নয়া নিয়োগ পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি

    প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর গত অগাস্ট মাসে অযোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেছিল এসএসসি। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৮০৪জনের নাম ছিল ওই তালিকায়। এবার গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডির অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করল এসএসসি (SSC)। এই তালিকা প্রকাশ করে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্তদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল কমিশন। শীর্ষ আদালতের রায়ে গত ৩ এপ্রিল চাকরি খুইয়েছিলেন ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। পুরানো প্যানেল বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এজন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সময়ও। সেই সব নিয়ম মেনেই আপাতত চলছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। এবার পালা শিক্ষাকর্মী নিয়োগের। এই মর্মে ১০ অক্টোবরহ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছিল এসএসসি। আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে সোমবার থেকে, চলবে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে এতে অংশ নিতে পারবেন না দাগিরা।

    উল্লেখ্য, এই দাগিদের (Tainted Staff) তালিকায় রয়েছেন কোচবিহারের তৃণমূল যুব সভাপতি, বাঁকুড়ার তৃণমূল বুথ সভাপতি, শিলিগুড়ির যুব তৃণমূল নেতা, দুর্গাপুরের তৃণমূল শ্রমিক নেতার ছেলে। তৃণমূল কর্মী কিংবা তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনের নামও ওই তালিকায় রয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর (SSC)।

  • AI Startup: এআইয়ের কোম্পানি খুলে বিশাল রোজগার দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূতের

    AI Startup: এআইয়ের কোম্পানি খুলে বিশাল রোজগার দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের তামাম বিশ্বের নজর কাড়ল দুই (Youngest Self Made Billionaires) ভারতীয় বংশোদ্ভূত। মাত্র বাইশ বছরের তিন তরুণ তৈরি করে ফেলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI Startup) আস্ত একটা কোম্পানি, নাম মেরকর। এই কোম্পানিই ৩৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করার পর বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিলিয়নিয়ারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই কোম্পানির তিন সহ-প্রতিষ্ঠাতা হলেন আদর্শ হিরেমঠ, সূর্য মিধা এবং ব্রেনডন ফুডি। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠাতা ২২ শতাংশের মালিক হওয়ায় বর্তমানে মেরকরের মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তাঁরা ছাড়িয়ে গিয়েছেন মেটা সিইও মার্ক জুকারবার্গকেও। এই জুকারবার্গই ২০০৮ সালে ২৩ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ‘ফোবর্স বিলিয়নিয়ার্সে’র তালিকায় ঢুকে পড়েছিলেন।

    মেরকরের সাফল্য (AI Startup)

    মেরকরের এই সাফল্য এই তিন তরুণ উদ্যোগীকে প্রযুক্তির দুনিয়ার সর্বকনিষ্ঠ এবং সব চেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, জেন-জেড উদ্ভাবকরা বদলে দিয়েছে এআই উদ্যোক্তা জগৎকে। হিরেমঠ এবং মিধা দু’জনেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। তাঁরা বেড়ে উঠেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফর্নিয়ার সান হোসেতে। পড়াশোনা করেছেন বেলারমাইন কলেজ প্রিপারেটরি নামে একটি বেসরকারি স্কুলে। এই স্কুলটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য পরিচিত। এই দু’জনই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন যখন তাঁরা হাইস্কুলে এক বছরে তিনটি প্রধান জাতীয় নীতি-বিতর্ক চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেন।

    সিলিকন ভ্যালির সঙ্গে সম্পর্ক

    জানা গিয়েছে, এই তিন (AI Startup) প্রতিষ্ঠাতাই সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত। কারণ, তাঁদের বাবা-মায়েরা শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিতে প্রযুক্তিবিদ এবং সফটওয়্যার উন্নয়ন–সংক্রান্ত বিভিন্ন পদে কাজ করেছিলেন। শৈশব থেকেই উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা পরিবেশে বেড়ে ওঠা, তাঁদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি গঠন করেছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। মেরকরের লক্ষ্য হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বৈশ্বিক শ্রম–সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার পদ্ধতিকে আমূল বদলে দেওয়া। এই স্টার্টআপের প্রযুক্তি দক্ষ পেশাদারদের এমন এআই সিস্টেমের সঙ্গে (Youngest Self Made Billionaires) যুক্ত করে, যা কর্মী নিয়োগ, কাজ বণ্টন এবং টাস্ক ম্যানেজমেন্টকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারে। যার ফলে বদলে যেতে পারে ডিজিটাল-নির্ভর অর্থনীতিতে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের ছবিটাই (AI Startup)।

     

  • ICC Women’s World Cup: হচ্ছে না বিজয় মিছিল! বুধেই বিশ্বজয়ীদের সঙ্গে চা-য়ে পে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    ICC Women’s World Cup: হচ্ছে না বিজয় মিছিল! বুধেই বিশ্বজয়ীদের সঙ্গে চা-য়ে পে চর্চায় প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজয়ী (ICC Women’s World Cup) ভারতীয় দলের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। দক্ষিণ আফিকাকে হারিয়ে বিশ্বজয়ের পর ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলকে (Indian Women Cricket Team) শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঐতিহাসিক জয় ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নদের যে অনুপ্রেরণা জোগাবে, সে কথা লেখেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, বুধবার ৫ নভেম্বর হরমনপ্রীতদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তিনি।

    দলকে অভিনন্দন

    বুধবার নয়াদিল্লিতে বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। সোমবার এক অনুষ্ঠানে আবারও ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি প্রথমে ভারতের অসাধারণ জয়ের কথা বলব। এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা ভারত। এটা ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্বকাপ জয়। ভারতীয় দলকে অভিনন্দন। তোমাদের জন্য গর্বিত।” দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বজয়ের স্বাদ পেয়েছেন হরমনপ্রীতরা। ঐতিহাসিক এই সাফল্যে এখন সেলিব্রেশনের মুডে অসমুদ্রহিমাচল। গোটা দলের জন্য ৫১ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। তবে কোনও বিজয় প্যারেডের কথা জানানো হয়নি।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত

    এর আগে ২০২৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ (2024 ICC Men’s T20 World Cup) জয়ের পর ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দলের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার তিনি মহিলা দলের সঙ্গে দেখা করছেন। ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল সিনিয়র পর্যায়ে প্রথমবার যে কোনও ফর্ম্যাটে বিশ্বকাপ জেতায় সারা দেশ উচ্ছ্বসিত। প্রধানমন্ত্রীও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে পোস্টের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। এবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের অভিনন্দন জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিসিসিআই (BCCI) কর্তারাও এই সাক্ষাতে থাকতে পারেন। বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে মহিলা দলের সদস্যদের সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। অনুষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত হবে।

    কেন নেই বিজয় শোভাযাত্রা

    দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) এবার কোনো বিজয় শোভাযাত্রা আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, লজিস্টিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। এ বছরের শুরুতে বেঙ্গালুরুর এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইপিএল শিরোপা উদযাপনকালে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদদলনের ঘটনায় কয়েকজন প্রাণ হারান। সেই অভিজ্ঞতার পর বড় জনসমাবেশ এড়িয়ে সতর্ক পথে হাঁটছে বোর্ড। পুরো দেশ যেখানে এই ঐতিহাসিক জয়ে আনন্দে ভাসছে, সেখানে শোভাযাত্রা না হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে খানিক হতাশা দেখা দিয়েছে।

    বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ৫১ কোটি টাকার ঘোষণা

    বিসিসিআই সোমবার ঘোষণা করেছে, খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও নির্বাচক কমিটির জন্য মোট ৫১ কোটি টাকার নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) থেকেও ভারতীয় দল পাবে ৪০ কোটি টাকার পুরস্কার — যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক এবং আগের ৫০ ওভারের আসরে অস্ট্রেলিয়া পাওয়া পুরস্কারের তুলনায় ২৯৭ শতাংশ বেশি। এছাড়াও সুরাটের শিল্পপতি ও রাজ্যসভা সাংসদ গোবিন্দ ঢোলাকিয়া (চেয়ারম্যান, শ্রী রামকৃষ্ণ এক্সপোর্টস প্রা. লি.) ঘোষণা করেছেন, তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়কে হাতে তৈরি হীরার গয়না উপহার দেবেন এবং তাঁদের বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ (solar panel) স্থাপন করবেন। ঢোলাকিয়া বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লাকে চিঠি লিখে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

    বিভিন্ন রাজ্যএর তরফে নানা পুরস্কার

    রাজ্য ও সংস্থার তরফেও পুরস্কার। হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু শিমলার কন্যা ও পেসার রেনুকা ঠাকুরকে ১ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব একই পরিমাণ অর্থ প্রদান করবেন খেলোয়াড় ক্রান্তি গৌদ-কে। পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (PCA) জানিয়েছে, অধিনায়ক হরমানপ্রীত কৌর ও অলরাউন্ডার অমনজোত কৌর-কে ১১ লক্ষ করে টাকা দেওয়া হবে, আর ফিল্ডিং কোচ মুনীশ বালিকে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শীঘ্রই এই তিনজনকে সম্মান জানাতে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও আয়োজন করবে পিসিএ। বিভিন্ন ক্রিকেটারদের সঙ্গে কর্পোরেট সংস্থার চুক্তির পরিমাণও বেড়ে গিয়েছে। বিশ্বকাপ জেতার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হরমনপ্রীতের সঙ্গে চুক্তি করেছে একটি নির্মাণ সংস্থা। হরমনপ্রীতকে ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর’ করেছে তারা। স্মৃতি ইতিমধ্যেই অনেক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞাপনের জন্য প্রচুর সংস্থা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা শুরু করেছে

     

     

     

     

     

  • Fake Birth Certificate Factory: পঞ্চায়েতের অন্দরে জাল শংসাপত্রের রমরমা কারবার, কড়ি ফেললেই মিলছে ‘কাগজ’!

    Fake Birth Certificate Factory: পঞ্চায়েতের অন্দরে জাল শংসাপত্রের রমরমা কারবার, কড়ি ফেললেই মিলছে ‘কাগজ’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা জমানায় প্রকাশ্যে এল বিরাট আন্তঃসীমান্ত পরিচয় জালিয়াতি চক্রের (Fake Birth Certificate Factory) হদিশ। ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ভিতকেই নাড়িয়ে দিয়েছে এই জালিয়াতি চক্র। ‘বাংলাদেশি বার্থ সার্টিফিকেট কেলেঙ্কারি’ নামে পরিচিত এই ঘটনায় জড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম (Bangladeshis)। অভিযোগ, কেবল ২০২৪ সালেই এখান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৩,৫০০-এরও বেশি জাল বার্থ সার্টিফিকেট।

    প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি (Fake Birth Certificate Factory)

    বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়ার এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এই কেলেঙ্কারির কথা প্রকাশ্যে আসার পরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা, তাদের নজরদারির শিথিলতা এবং অনুপ্রবেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ নিয়েও। একসময় সুন্দরবনের একটি দ্বীপে অবস্থিত এই নিরিবিলি পঞ্চায়েতটি এখন কুখ্যাত হয়ে উঠেছে ‘ভারতের জাল বার্থ সার্টিফিকেটের রাজধানী’ হিসেবে।পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসটি রয়েছে স্থানীয় জেটি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথের দূরত্বে। এই পঞ্চায়েত ভবনেরই বেগুনি-সবুজ দেওয়ালের আড়ালে তদন্তকারীরা সন্ধান পেয়েছেন একটি সুচারুভাবে পরিচালিত জালিয়াতি চক্রের। প্রশাসনিক উদাসীনতা এবং রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশ্রয়ের জেরে বছরের পর বছর ধরে বিকশিত হয়েছে এই চক্র (Fake Birth Certificate Factory)।

    হাজার হাজার ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট

    চলতি বছর একটি সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, পাসপোর্ট চক্রের সূত্র প্রথমে পুলিশকে পাঠানখালিতে নিয়ে যায়। সেখানে দেখা যায় মাত্র ৪ হাজার পরিবারের এই ছোট্ট গ্রামপঞ্চায়েত ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হাজার হাজার ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে। এখন এই চক্র আরও আধুনিক রূপে ফিরে এসেছে। সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করে বিদেশিদের জন্য জাল ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করছে। এই তদন্তের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হলেন গৌতম সর্দার। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এই কর্মী পাঠানখালি পঞ্চায়েত অফিসের অস্থায়ী কর্মী। ২০১৯ সালে বছরে মাত্র ৩,৫০০ টাকা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। অভিযোগ, তিনি ‘জন্ম-মৃত্যু তথ্য’ (রাজ্যের সরকারি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) পোর্টালে অ্যাক্সেসের অপব্যবহার করেন। তিনি নাকি গ্রাম প্রধানের লগইন তথ্য হ্যাক করে ওটিপি নিজের মোবাইল নম্বরে ঘুরিয়ে নিতেন (Bangladeshis)। ৭ জুন গ্রেফতার করা হয় সর্দারকে। অভিযোগ, তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য হাজার হাজার জাল জন্ম শংসাপত্র তৈরি করেছেন। এই সার্টিফিকেটগুলির অনেকগুলিই পরে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ও ভোটার আইডি পেতে। কলকাতা পুলিশ ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সর্দারের অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক লেনদেনের হদিশও পেয়েছে (Fake Birth Certificate Factory)। এ থেকে স্পষ্ট, পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের সঙ্গে এই চক্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের গভীর যোগসাজশ রয়েছে।

    বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে সাহায্য

    অবশ্য এর আগেও খবরের শিরোনামে এসেছে পাঠানখালি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছিল, এই একই পঞ্চায়েত শত শত ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করে বাংলাদেশিদের ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে সাহায্য করেছিল। সেই সময় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছিল। এত সবের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কাঠামোগত সংস্কার বা ডিজিটাল অডিট ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। যে ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকা জরুরি ছিল, সেটিই পরিণত হয়েছে জালিয়াতির আঁতুড়ঘরে, বিশেষত সীমান্ত-লাগোয়া জেলাগুলিতে। এই জেলাগুলিই তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যেই পঞ্চায়েতের মধ্যেই চলছে জালিয়াতির রমরমা কারবার!

    #বাংলাদেশিবার্থসার্টিফিকেটস্ক্যাম

    এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এক্স হ্যান্ডেলে কিরীট লিখেছেন, “#বাংলাদেশিবার্থসার্টিফিকেটস্ক্যাম – শুধু ২০২৪ সালেই পাঠানখালি পঞ্চায়েত থেকে ৩,৫০০-এরও বেশি ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েছে বাংলাদেশিদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন কি বেআইনি অভিবাসীদের জন্য বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিকে পাসপোর্ট কারখানায় (Bangladeshis) পরিণত করছে?” কিরীট-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতা এই চক্রের শেকড় খুঁজতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের এই সংস্থাগুলি তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ মূল অপারেটিভদের রক্ষা করছে (Fake Birth Certificate Factory)।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, “এটি কোনও দফতরের কর্মী কিংবা আধিকারিকের ভুল নয়, এটি ভারতের নিরাপত্তা কাঠামোকে ইচ্ছাকৃত ও পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা। ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট থেকে জাল পাসপোর্ট – এই পথ দিয়ে বৈধতা পাওয়া প্রতিটি অনুপ্রবেশকারী শেষমেশ পরিণত হচ্ছে রাজনৈতিক হাতিয়ারে।” বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঝুঁকিপূর্ণ ও ফাঁক-ফোকরযুক্ত সীমান্ত থাকায় অনুপ্রবেশের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত একটি ইস্যু। এনআরসি–সিএএ বিতর্কও সবচেয়ে তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছে এই বাংলায়। এটি এমন একটি রাজ্য, যেখানে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়েই তৈরি করে নেওয়া যায় দলিলভিত্তিক নাগরিকত্ব। আর তার পৃষ্ঠপোষকরা এসআইআর-এনআরসি কিংবা সিএএর বিরুদ্ধে চিৎকার করেন গলার রগ ফুলিয়ে (Fake Birth Certificate Factory)।

    কথায় বলে না, চোরের মায়ের বড় গলা!

  • Nuclear Testing in India: চিন-পাকিস্তানকে ঠেকাতে ‘হাইড্রোজেন বোমা’ পরীক্ষা করা দরকার ভারতের, কিন্তু বাধা কোথায়?

    Nuclear Testing in India: চিন-পাকিস্তানকে ঠেকাতে ‘হাইড্রোজেন বোমা’ পরীক্ষা করা দরকার ভারতের, কিন্তু বাধা কোথায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩৩ বছর পর আবার, পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার ঘোষণা করেছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও চিনের দ্রুত অস্ত্রভাণ্ডার বৃদ্ধির মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। চিনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার পর ট্রাম্প আরও বলেন, উপযুক্ত সময়ে এই পরীক্ষা শুরু করা হবে। তাঁর দাবি, আমেরিকা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তিধর দেশ, দ্বিতীয় স্থানে রাশিয়া এবং অনেক দূরে চিন। ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। ভারতের এক প্রাক্তন সরকারি উপদেষ্টা বলেন, “এখন হয়তো ভারতেরও সময় এসেছে থার্মোনিউক্লিয়ার বা হাইড্রোজেন বোমার পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করার।” তার মতে, ১৯৯৮ সালে ভারতের যে থার্মোনিউক্লিয়ার পরীক্ষা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ সফল হয়নি, তাই চিনের ক্রমবর্ধমান পরীক্ষা নিরীক্ষার জবাবে নয়াদিল্লি নতুন পরীক্ষার পথে যেতে পারে।

    কেন এই পথে আমেরিকা

    মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক রুশ দীর্ঘপাল্লার পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও চিনের দ্রুত বিস্তৃত অস্ত্রভাণ্ডারের জবাব হিসেবেই আমেরিকা আণবিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেজিং সম্প্রতি একটি অ-পরমাণু থার্মোনিউক্লিয়ার (তাপ-পরমাণু) যন্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন ভারসাম্য তৈরি করছে। ১৯৯২ সালে নেভাডায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল—যেটি ছিল তাদের ১,০৫৪তম পরীক্ষা। এভাবে দীর্ঘ তিন দশক পর দেশটি নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টার ধারাকে উল্টে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের ভাষায়, “কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে” এই পদক্ষেপ জরুরি। ট্রাম্প বলেন, চিনের পারমাণবিক কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমেরিকার সমকক্ষ হয়ে উঠবে। আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাসের নীতি অনুসরণ করে আসছে, কিন্তু ট্রাম্প এখন তা পরিবর্তন করেছেন। চিন শেষবার ১৯৯৬ সালে এবং রাশিয়া ১৯৯০ সালে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা করেছিল।

    কী করবে ভারত

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক স্তরে চেষ্টা করেও ভারত ও পাকিস্তানকে থামানো যায়নি—দুই দেশই ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়। তাই, যদি আমেরিকা নিজেই পরীক্ষা পুনরায় শুরু করে, তবে ভারতীয় নিরাপত্তা ভাবনায় পরিবর্তন আসা অবশ্যম্ভাবী। ভারতের অভ্যন্তরে বিশেষজ্ঞ ও কৌশলবিদরা বলছেন, নতুন এক বৈশ্বিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, ভারতের নতুন পরীক্ষা পাকিস্তানকে পাল্টা পদক্ষেপে উসকে দিতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা সময়ের দাবি। চিন তার পারমাণবিক অস্ত্রের ভান্ডার ১,০০০-এ উন্নীত করার জন্য কাজ করছে। দেশটি একটি অ-পারমাণবিক হাইড্রোজেন বোমাও পরীক্ষা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চিনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভারতের এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা করা উচিত।

    চিনকে আটকাতে পরমাণু পরীক্ষায় ভারত!

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু ট্রাম্প উত্তেজনাপূর্ণ বিশ্ব পরিস্থিতি এবং চিনের পারমাণবিক অস্ত্রের কথা উল্লেখ করছেন, তাই ভারতও “পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি”-র কথা বলে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ অ্যাশলে টেলিস তিন বছর আগে ভারতকে চিনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ অর্জনের জন্য হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অ্যাশলি জে. টেলিস ২০২২ সালে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ভবিষ্যতে এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। টেলিসের মতে, ১৯৯৮ সালে ভারত হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, চিনের সঙ্গে ভারতের শত্রুতা বাড়লে, ভারতকে একদিন হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা করতে বাধ্য হতে হবে। উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ চিন পাকিস্তানকে প্রকাশ্যে সাহায্য করেছিল। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত যুদ্ধের জন্য চিন প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিন যে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করছে, তা আমেরিকার পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হতে পারে। তাই বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতের হাইড্রোজেন বোমা উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

    পারমাণবিক অস্ত্রের সমীকরণ

    বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বে নয়টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রধারী। তাদের হাতে মোট প্রায় ১৩,০০০ পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে—যা ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার ৬০,০০০-এর তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যে আমেরিকা ও রাশিয়া অধিকাংশ ওয়ারহেডের মালিক, আর চিন দ্রুত তাদের মজুত বাড়াচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের হাতে আনুমানিক কয়েকশ’ অস্ত্র রয়েছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন অধ্যায় খুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় শক্তিগুলোর এমন পদক্ষেপ প্রায়শই আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ পাল্টে দেয়—আর এবার ভারতের সামনে প্রশ্ন, “এই প্রতিযোগিতায় সে কি পিছিয়ে থাকবে, নাকি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখবে?”

LinkedIn
Share