Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Durga Puja 2025: নবদুর্গার অষ্টম রূপ, মহাষ্টমীতে পূজিতা হন দেবী মহাগৌরী, জানুন মাহাত্ম্য

    Durga Puja 2025: নবদুর্গার অষ্টম রূপ, মহাষ্টমীতে পূজিতা হন দেবী মহাগৌরী, জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের (Durga Puja 2025) সূচনা হয়। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্ল প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় নবরাত্রি (Navaratri 2025)। যা চলে দুর্গা নবমী পর্যন্ত। এই নবরাত্রিতে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন রূপে পূজিতা হন। নবদুর্গার (Nabadurga) এই নয়টি রূপ হল— দেবী শৈলপুত্রী, দেবী ব্রহ্মচারিণী, দেবী চন্দ্রঘণ্টা, দেবী কুষ্মাণ্ডা, দেবী স্কন্দমাতা, দেবী কাত্যায়নী, দেবী কালরাত্রি , দেবী মহাগৌরী (Devi Mahagauri) এবং দেবী সিদ্ধিদাত্রী।

    পুরাণ অনুযায়ী…

    সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে নবরাত্রি, চলছে বাঙালির সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025)। নবরাত্রির অষ্টম দিনে পূজিতা হন মাতা মহাগৌরী। একটি পুরাণ অনুযায়ী, দেবী মহাগৌরী চতুর্ভূজা। উপরের ডান হাতে রয়েছে ত্রিশূল এবং উপরের বাম হাতে একটি ডমরু। নীচের হাত দুটি অভয়া এবং বরামুদ্রার ভঙ্গিমায় থাকে। দেবী মহাগৌরীর এই রূপে দেবীর বাহন হল একটি ষাঁড়। দুর্গার এই রূপটিকে তাঁর গাত্রবর্ণের কারণে মহাগৌরী বলা হয়। পৌরাণিক মত অনুযায়ী, দেবী শৈলপুত্রী (নবরাত্রির প্রথম দিনে এই মাতা পূজিতা হন) ১৬ বছর বয়সে অসামান্য সুন্দরী এবং গৌরবর্ণা ছিলেন। এর ফলে তিনি দেবী মহাগৌরী (Devi Mahagauri) হিসেবে পরিচিত হন। তাঁকে শঙ্খ, চাঁদ এবং সাদা ফুলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। স্নিগ্ধতা, শুভ্রতার প্রতীক মানা হয় তাঁকে।

    আরও একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, কালী রূপে দেবী পার্বতীর গাত্রবর্ণ সম্পূর্ণ কৃষ্ণ বর্ণে পরিবর্তিত হয়েছিল। নিজের পূর্ববর্তী বর্ণ ফিরে পেতে দেবী পার্বতী ব্রহ্মার তপস্যায় ব্রতী হয়েছিলেন‌। একাকী গভীর অরণ্য মাঝে, রোদ, ঝড়, বৃষ্টি, হিংস্র জন্তুদের আক্রমণ-এসমস্ত কিছু উপেক্ষা করেই দেবী পার্বতী তপস্যা করছিলেন। অবশেষে ব্রহ্মা প্রসন্ন হয়ে আবির্ভূত হন এবং দেবী পার্বতীকে বরদান করেন যে মানস সরোবরে স্নান করলেই তিনি পূর্বের বর্ণ ফিরে পাবেন। ব্রহ্মার কথামতো মানস সরোবরে স্নান করার পরেই দেবী পার্বতী তাঁর নিজের পূর্বের গাত্রবর্ণ ফিরে পান, অর্থাৎ পুনরায় গৌরবর্ণা হয়ে ওঠেন। এই গৌরবর্ণা দেবী পার্বতী তখন মহাগৌরী নামে প্রসিদ্ধ হন। অন্য একটি পুরাণ অনুযায়ী, হিমায়লকন্যা (Devi Mahagauri) দেবী পার্বতী ছিলেন গৌরবর্ণা।

    নম্রতা, শুদ্ধতা, পবিত্রতার প্রতীক রূপে পূজিতা হন দেবী মহাগৌরী

    শিবকে স্বামী রূপে, পতি রূপে পাওয়ার জন্য মহর্ষি নারদের পরামর্শ মতো তিনি গভীর তপস্যা শুরু করেন (Durga Puja 2025)। গভীর অরণ্যে, সমস্ত আরাম, সুখ ত্যাগ করে ব্যাপক কৃচ্ছসাধনের মধ্যে দিয়ে এই তপস্যা চলতে থাকল বছরের পর বছর ধরে। সূর্যের তাপ, শীতের হিমেল হাওয়া, বৃষ্টি এবং ব্যাপক ঝড়ের মধ্যেও তপস্যায় ছেদ পড়ল না। কথিত আছে, এই সময় মাতার সমস্ত অঙ্গ ধূলিকণা, মাটি, গাছের পাতা দিয়ে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। গৌরবর্ণা মাতার সমস্ত শরীরের উপর একটি কৃষ্ণ বর্ণের আস্তরণ বা ত্বক তৈরি হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে, ভগবান শিব দেবীর তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে দেবী পার্বতীর সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং মাতাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁকেই (ভগবান শিবকে) দেবী পার্বতী (Durga Puja 2025) স্বামী রূপে, পতি রূপে লাভ করবেন। এরপর গঙ্গার পবিত্র জলরাশির দ্বারা ভগবান শিব, দেবী পার্বতীকে স্নান করিয়েছিলেন। তপস্যারত অবস্থায় মাতার শরীরে যে ময়লার আবরণ তৈরি হয়েছিল, যার জন্য দেবী গৌরবর্ণা থেকে কৃষ্ণবর্ণা হয়ে গিয়েছিলেন। মহাদেব শিব তাঁকে স্নান করানোর পর দেবী পূর্বের মতো পুনরায় গৌরবর্ণা হয়ে ওঠেন। গৌরবর্ণা এই দেবীই মহাগৌরী (Devi Mahagauri) নামে পরিচিত। যিনি নম্রতা, শুদ্ধতা, পবিত্রতার প্রতীক রূপে পূজিতা হন।

    মহাগৌরীর বন্দনা মন্ত্র

    দেবী মহাগৌরীর বিষয়ে আরও কথিত রয়েছে যে, একদিন দেবী, গৌরী রূপে আট বছরের বালিকা সেজে শিবের সামনে নৃত্য করে তাঁকে আনন্দিত করছিলেন। এরপরে শিব তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে দেবী পার্বতী নিজের রূপ প্রকাশ করেন।
    শ্বেত বৃষ সমারূঢ়া শ্বেতাম্বর ধরা শুচিঃ,
    মহাগৌরী শুভং দধান্মহোদৈ ব প্রমোদ্দা।
    যা দেবী সর্বভূতেষু মা মহাগৌরী রূপেন সংস্থিতা।
    নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥

    এই বৈদিক মন্ত্রের দ্বারাই মূলত দেবী মহাগৌরীর বন্দনা করা হয়‌ মহাষ্টমীর দিনে। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, দেবী সমস্ত অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেন এবং তাঁর আশীর্বাদে জীবন সম্পূর্ণভাবে সুখময় ও প্রেমময় হয়ে ওঠে। উজ্জ্বল সৌন্দর্যের প্রতীক এই দেবী অষ্টমীতে ভক্তদের দ্বারা আরাধিত হন। তাঁর নৈবেদ্যতে নারকেল রাখার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস রয়েছে, দেবীর আশীর্বাদ স্বরূপ (Durga Puja 2025) ভক্তদের ভালো বিবাহ হয়।

    সিঁদুর, মেহেন্দি, কাজল, টিপ, চুড়ি, পায়ের আংটি, চিরুনি, আলতা, আয়না, পায়ের পাতা, সুগন্ধি, কানের দুল, নাকের পিন, নেকলেস, লাল চুনরি, মহাভার, চুলের পিন ইত্যাদি দ্বারা মায়ের পুজো সম্পন্ন হয়। সবজির তরকারি এবং হালুয়া দিয়ে দেবী মহাগৌরীকে (Devi Mahagauri) ভোগ নিবেদন করা হয়।

  • PoK Protest: বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার বার্তা?

    PoK Protest: বিক্ষোভের আগুনে জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর, পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার বার্তা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আক্রমণ করার প্রয়োজনও পড়বে না। ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবি তুলছেন সেখানকার মানুষই।’ গত সপ্তাগেই এই কথাগুলি মরক্কোয় গিয়ে বলেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর কথা যে কতটা সত্য, তার প্রমাণ মিলল হাতেনাতে। গণআন্দোলনের সুর এবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরেও! পাক সরকারের (PoK Protest) বিরুদ্ধে রাগে ফুঁসছেন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটা সবথেকে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি আজ, সোমবার এলাকা জুড়ে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করেছে। ‘শাটার ডাউন’ ও ‘হুইল জ্যাম’-র ডাক দিয়েছে। অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে বলেই জানিয়েছে তারা।

    সাধারণ মানুষের অধিকারের লড়াই

    সোমবার পিওকে জুড়ে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করেছে। মোট ৩৮টি দাবি রয়েছে তাদের। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সাধারণ মানুষদের সংগঠন ‘আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’র। এর মধ্যে অন্যতম পাকিস্তানে বসবাসকারী কাশ্মিরী রিফিউজিদের জন্য কাশ্মীর (PoK Protest) বিধানসভায় সংরক্ষিত ১২টি আসনের অবলুপ্তি। পাশাপাশি ময়দার দাম কমানো, বিদ্যুতের উপরে ন্যায্য ট্যারিফ বসানোর দাবিও করা হয়েছে। সেখানকার মানুষজনের অভিযোগ, পিওকে-তে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। একাধিকবার সরকারকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। চরমে দুর্নীতিও। বাধ্য হয়েই তাই ধর্মঘট, চাক্কা জ্যামের মতো পদক্ষেপ করতে হয়েছে। আন্দোলনকারীদের নেতা শওকত নওয়াজ মীর বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন প্রতিষ্ঠানবিরোধী নয়। তা শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্য অধিকার আদায়ের লড়াই।’

    পাকিস্তানের হাত থেকে নিষ্কৃতির দাবি

    উত্তেজনার আশঙ্কায় ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই বিপুল নিরাপত্তা মোতায়েন করেছে। মধ্য রাত থেকেই ইন্টারনেট কেটে দিয়েছে পাক প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের রুখতে সেনার গাড়ি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের শহরগুলিতে টহল দিচ্ছে। পাঞ্জাব প্রদেশ থেকেও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই পাকিস্তানের হাত থেকে নিষ্কৃতি চেয়ে সরব হয়েছে পিওকে। চলতি মাসেই মরোক্কোতে গিয়ে পিওকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছিলেন, ‘পিওকে ভারতের। পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে নিজের অংশ করতে কোনও আগ্রাসনের প্রয়োজন নেই। সেই অংশ একদিন নিজেই বলবে, আমরা ভারতের অংশ। স্থানীয়রাই স্বাধীনতার দাবি তুলেছে।’ পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে রাজনাথের কথা মিলে যাচ্ছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।

  • India vs Pakistan: “খেলার মাঠে অপারেশন সিঁদুর” ভারতের জয়ে মোদির ট্যুইট! সূর্যরা বয়কট করায় ট্রফি নিয়ে পালালেন নকভি

    India vs Pakistan: “খেলার মাঠে অপারেশন সিঁদুর” ভারতের জয়ে মোদির ট্যুইট! সূর্যরা বয়কট করায় ট্রফি নিয়ে পালালেন নকভি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধ-জয়ের আনন্দ! ঘড়িতে তখন রাত ১২টা। পুজোর কলকাতায় মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল। তবে মাঝেই মাঝেই প্রতিমা থেকে চোখ সরছে মোবাইল স্ক্রিনে। চলছে ভারত-পাক এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025)  ফাইনাল। তিলক বর্মার ছয়, শান্ত-ধীর ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরও আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। উচ্ছ্বসিত আসমুদ্র হিমাচল। পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচের তিনটিতে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন ভারত (India vs Pakistan)। যোগ্যদের সম্মান দিতে জানে না পাকিস্তান। একইভাবে বিতর্ক জিইয়ে রেখে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ট্রফি ও মেডেল নিয়ে চলে গেলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তাতে কী? রেকর্ড বলছে, বাস্তব বলছে ভারত চ্যাম্পিয়ন। রবিবার পাকবধ করে এশিয়াসেরা হওয়ার পরেই সেকথা টুইট করে মনে করালেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখলেন, “এবার খেলার মাঠ অপারেশন সিঁদুর।”

    খেলার মাঠ অপারেশন সিঁদুর

    পহেলগাঁওয়ে পাক জঙ্গিদের হামলায় একাধিক ভারতীয় নারীর সিঁথির সিঁদুর মুছেছিল। যুদ্ধের ময়দানে তার বদলাও নিয়েছিল ভারত। এবার খেলার মাঠে দেবীপক্ষে প্রতিশোধ নিল সূর্যকুমার যাদবের টিম ইন্ডিয়া। রবিবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে জয়ী হয়েছে ভারত। এরপরেই এক্স হ্যান্ডেলে সংক্ষিপ্ত টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি লিখেছেন, ‘‘খেলার মাঠেও ‘অপারেশন সিঁদুর’, ফলাফল একই, ভারত জিতল! আমাদের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানাই।” উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলায় ২৫ পর্যটক-সহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। বদলা নিতে ৭ মে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা। এর জেরে ধ্বংস হয় পাকিস্তান (India vs Pakistan) এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি। এর পরেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। চার দিন পর সংঘর্ষবিরতি হলেও এখনও উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। বারবার বাইশ গজে দুই দলের ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাসে চোখে পড়েছে সেই ছবি।

    ভারতের জয়ের তিলক

    এদিন এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025)  ফাইনালে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুরুটা খারাপ করেনি পাকিস্তান। ওপেনিং জুটিতে উঠে যায় ৮৪ রান। সাহিবজাদা ফারহান করেন ৫৭ রান। ফখর জামান ৪৬ রান করেন। তবে ভারতীয় স্পিনারদের আসতেই খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। প্রথম তিনজনের পর আর কেউ দুই সংখ্যায় পৌঁছয়নি। ১১৩ রানে ২ উইকেট থেকে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় পাক বাহিনী। কুলদীপ যাদব পান ৪ উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। সেখান থেকে তিলক বর্মা প্রথমে সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে ৫৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন। এরপর শিবম দুবের সঙ্গে জুটি গড়ে ভারতকে জয়ের পথে নিয়ে যান। দুবে আউট হলেও দমানো যায়নি তিলককে। ৬৯ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

    এশিয়ায় সেরা, টানা ম্যাচ জয়ের রেকর্ড

    ফের পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ল ভারত (India vs Pakistan)। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (T20I) ফরম্যাটে রান তাড়া করে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা নয়টি ম্যাচ জিতল ভারত। এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে কোনও ম্যাচে হারেনি ‘মেন ইন ব্লু’। এটি বিশ্বরেকর্ড – একশো শতাংশ জয়ের হারে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয় পাওয়ার রেকর্ড গড়ল ভারত। শুধু এখানেই থেমে থাকেনি টিম ইন্ডিয়া। এশিয়া কাপ ২০২৫-এ আরেকটি মাইলফলক ছুঁয়েছে তারা। এশিয়া কাপে টানা ৫০টি ম্যাচ জয়ের নজির গড়ল ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য ও এশিয়া কাপে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করে দিচ্ছে – ভারতীয় দল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে কতটা দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ।

    ট্রফি নিয়ে নাটক নকভির

    পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ (Asia Cup 2025) জিতেও ট্রফি পেল না ভারতীয় দল। অভিযোগ, ট্রফি এবং ভারতীয় ক্রিকেটারদের মেডেল নিয়ে নিজের হোটেলের ঘরে চলে গিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তথা এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। এই ঘটনায় হতবাক ভরতীয় ক্রিকেট দল। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানালেন, এমন ঘটনা তিনি জীবনে দেখেননি। এশিয়া কাপ জিতে ট্রফি ছাড়াই উল্লাস করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফেরা। ২০২৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপ জিতে রোহিত শর্মা যে কায়দায় ট্রফি তুলেছিলেন, সেই একই কায়দায় উল্লাস করলেন সূর্যেরা। পার্থক্য একটাই। সেবার রোহিতের হাতে ট্রফি ছিল। এবার কল্পনায় ট্রফি তুললেন সূর্য। পরে সাংবাদিক বৈঠকে এসে সেই বিষয়ে মুখ খুললেন সূর্য। তিনি বললেন, “চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি পাচ্ছে না, ক্রিকেট খেলা শুরু করার পর থেকে জীবনে এমন ঘটনা আমি দেখিনি। তবে আমার মতে দলের ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফেরাই আসল ট্রফি। সকলে বলছেন, ভারত এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন। এটাই আসল কথা।”

    ভারতের জাতীয় সঙ্গীতকে অসম্মান, জবাব বুমরার

    ফাইনাল (Asia Cup 2025) শুরুর আগে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার সময় খোশগল্প করছিলেন পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার হ্যারিস ও শাহিন শাহ আফ্রিদি। ক্রিকেটের নিয়মে রয়েছে, অন্য দেশের জাতীয় সঙ্গীতের সময়ও সোজা হয়ে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। গল্প করা যাবে না। কিন্তু পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার সেটাই করেন। তার জন্য দু’জনের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সমর্থকদের অভিযোগ, ভারতের জাতীয় সঙ্গীতকে অসম্মান করেছেন তাঁরা। হ্যারিস ও শাহিনের শাস্তির দাবিও উঠেছে। ফাইনালে হ্যারিসকে বোল্ড করে তাঁকে জবাব দেন জসপ্রীত বুমরা। তিনিও ‘প্লেন ক্র্যাশ’ উল্লাস করেন।

    সেনা-ছাউনিতে উল্লাস

    গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে (India vs Pakistan) হারিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর জন্য ভারতীয় সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন সূর্য। এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের জয় টেলিভিশনে দেখেছেন সেনা বাহিনীর জওয়ানেরা। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাঁদের উল্লাসের ছবিও দেখা গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। টুর্নামেন্ট জিতে নিজের প্রতিটা ম্যাচ ফি ভারতীয় সেনাকে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অভিযোগ, সূর্যকুমারেরা ট্রফি নিতে অস্বীকার করায় এশিয়া কাপের ট্রফি ও ভারতীয় ক্রিকেটারদের মেডেল নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন নকভি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “যেহেতু ভরত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি রয়েছে তাই আমরা এমন কারও কাছ থেকে পুরস্কার নেব না, যিনি পাকিস্তানের মন্ত্রী। নীতিগত ভাবে এই সিদ্ধান্ত আমরা আগেই নিয়েছিলাম। তার মানে এই নয় যে ভদ্রলোক ট্রফি ও মেডেল নিয়ে পালিয়ে যাবেন। এই ঘটনা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আশা করছি ভদ্রলোক দ্রুত ট্রফি ও মেডেল ভারতকে ফেরত দিয়ে দেবেন।”

  • Durga Puja 2025: নবপত্রিকা আসলে নবদুর্গার প্রতীক! মহাসপ্তমীর প্রাতে সপ্তসিন্ধুর জলে হয় দেবীর মহাস্নান

    Durga Puja 2025: নবপত্রিকা আসলে নবদুর্গার প্রতীক! মহাসপ্তমীর প্রাতে সপ্তসিন্ধুর জলে হয় দেবীর মহাস্নান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহা সপ্তমীর (Maha Saptami) সকালে জলাশয় থেকে ঘটে করে নিয়ে আসা হয় জল। সেই জলেই হয় দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা। এই ঘটের সঙ্গেই স্নান করিয়ে নিয়ে আসা হয় নবপত্রিকাকে। নবপত্রিকা স্নান লোকমুখে কলাবউ (Kola Bou) স্নান হিসেবেই বেশি পরিচিত। সপ্তমীর (Durga Puja 2025) সকালে হয় নবপত্রিকার মহাস্নান। এদিন অষ্ট কলসের জলে স্নান করানো হয় দেবী দুর্গার প্রতীক নবপত্রিকাকে (Nabapatrika)। শাস্ত্রবিদদের মতে, এক সময় যখন দেবী প্রতিমার রূপকল্পনা হয়নি, তখন মানুষ দুর্গাপুজো করতেন নবপত্রিকা বসিয়ে। পরে মূর্তি কল্পনা হওয়ার পর তৈরি হয় মূর্তির। তার পর থেকে মহামায়ার সঙ্গে পুজো পেয়ে আসছেন নবপত্রিকাও (Nabapatrika)।

    অষ্ট কলসে থাকে বিভিন্ন তীর্থের জল

    অষ্ট কলসে থাকে বিভিন্ন তীর্থের (Durga Puja 2025) জল। সপ্তসিন্ধুর জলে হয় দেবীর মহাস্নান (Maha Snan)। এই সপ্তসিন্ধু হল গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, সরস্বতী, নর্মদা, সিন্ধু এবং কাবেরী। এছাড়াও প্রয়োজন হয় আত্রেয়ী, সরযূ, ভারতী, কৌশিকা, ভোগবতী, মন্দাকিনী, গণ্ডকী এবং শ্বেত গঙ্গা নদীর জল। দেবীকে গরম জল এবং সুগন্ধী জলে স্নান করানোর রীতিও রয়েছে। এই স্নান শাস্ত্র মতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই যে আটটি কলসে করে দেবীকে স্নান করানো হবে, তার প্রতিটি কলসের জল দেবীর গায়ে ঢালার সময় আলাদা আলাদা বাজনা বাজানোর রীতি রয়েছে। অনেকে মনে করেন, যেহেতু নবপত্রিকা (Nabapatrika) মহামায়ারই একটি অংশ, তাই তাঁর স্নানের জল খুবই পবিত্র। অনেকে এই জল পান করেন দীর্ঘায়ু লাভের আশায়। নবপত্রিকা যেহেতু নানা দেবীর প্রতীক, তাই তাঁর এই স্নানজল অনেকে মাথায় ছড়ান। কারণ, লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর স্নানজল তাঁকে প্রাকৃতিক এবং দৈবিক নানা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে।

    কলা বউ আসলে কে

    দেবী দুর্গার (Durga Puja 2024) পরে যিনি সচরাচর লোকের চোখে পড়েন, তিনি হলেন কলাবউ। সাধারণ মানুষ ভাবেন, তিনি গণেশের স্ত্রী। আসলে কিন্তু তা নয়। কারণ, নবপত্রিকা থাকেন গণেশের ডান দিকে। হিন্দু মতে, স্ত্রী থাকবেন পুরুষের বাম পাশে। অর্থাৎ নবপত্রিকার সঙ্গে গণেশের কোনও সম্পর্কই নেই। তবে “কলা বউ” আসলে কার বউ? এক কথায় উত্তর হবে, শিব জায়া অর্থাৎ শিবের বউ। “কলা বউ” আসলে মা দুর্গার বৃক্ষ রূপ। তাই তিনি গণেশের স্ত্রী নন, বরং মা। এ প্রসঙ্গে জানা দরকার যে “কলা বউ” প্রচলিত নাম হলেও এটি ন’টি উদ্ভিদের সমষ্টি বা সমাহার। তাই “কলা বউ”-এর আসল নাম “নবপত্রিকা”।

    নবপত্রিকার (Nabapatrika) ৯ গাছ

    এই ন’টি উদ্ভিদের বর্ণনা রয়েছে এই শ্লোকটিতে-রম্ভা কচ্চী হরিদ্রাচ জয়ন্তী বিল্ব দাড়িমৌ। অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা। রম্ভা (কলা), কচ্চী (কচু), হরিদ্রা (হলুদ), জয়ন্তী, বিল্ব (বেল), দাড়িম্ব (ডালিম), অশোক, মানকচু ও ধান গাছ। কলা-দেবী রম্ভার প্রতীক, কচু-দেবী কালিকার প্রতীক, হলুদ-দেবী দুর্গার প্রতীক, জয়ন্তী-দেবী কার্তিকীর প্রতীক, বেল-শিবের প্রতীক, বেদানা-রক্তদন্তিকার প্রতীক, অশোক-শোকরহিতার প্রতীক, অপরাজিতা-চামুণ্ডার প্রতীক এবং ধান-লক্ষ্মীর প্রতীক। নবপত্রিকায় একটি পাতা যুক্ত কলাগাছের সঙ্গে অপর আটটি উদ্ভিদকে শ্বেত অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। তার পরে পরানো হয় শাড়ি-সিঁদুর।

    কেন কলা বউ পুজো করা হয়?

    অতি প্রাচীন কাল থেকেই প্রকৃতি পুজো (Durga Puja 2024) ভারতীয় উপমহাদেশের রীতি। অগ্নি, জল, বায়ু, মাটি, পাহাড়, গাছ, নদী সব কিছুতেই ঈশ্বর বিরাজমান, এই ধারণা থেকেই “নবপত্রিকা” বা “কলা বউ”-এর পুজো। উদ্ভিদ প্রকৃতির সজীব অংশ। খাদ্যশস্য, নিঃশ্বাসের বাতাস, জীবনদায়ী ওষুধ-এ সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে উদ্ভিদ। ভক্তদের কল্যাণকারী মা দুর্গা তাই অধিষ্ঠাত্রীদেবী নবপত্রিকার এই উদ্ভিদগুলিতে। তিনি সর্বত্র বিরাজমান। নবপত্রিকা মা দুর্গার বৃক্ষ রূপ হিসেবে পরিচিত। মহা সপ্তমীর সকালে “নবপত্রিকা”-র পুজোতে মন্ত্র পাঠ করা হয় “নবপত্রিকাবাসিন্যৈ নবদুর্গায়ৈ নমঃ” যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় – নবপত্রিকা বাসিনী নবদুর্গা।

    নবপত্রিকার সঙ্গে দুর্গাপুজোর সম্পর্ক

    নবপত্রিকার সঙ্গে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2024) সম্পর্ক নিয়ে পণ্ডিত মহলে নানা মত রয়েছে। মার্কণ্ডেয় পুরাণে নবপত্রিকার কোনও বিধান নেই। আবার কালিকা পুরাণে সপ্তমীতে “পত্রিকা” পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র কর্তৃক নবপত্রিকা পুজোর কথা আছে। “বাঁধিল পত্রিকা নববৃক্ষের বিলাস”। পণ্ডিতদের মত অনুযায়ী, সম্ভবত শবর সম্প্রদায় কোনও এক সময়ে ন’টি উদ্ভিদের মাধ্যমে মা দুর্গার পুজো করতেন। সেই থেকেই হয়তো “নবপত্রিকা” বা “কলা বউ” পুজো হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় রীতিনীতির বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন ১৯৬১ সালের অ্যাকাডেমিক পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক শশিভূষণ দাশগুপ্ত। নবপত্রিকা পুজোর বিষয়ে তিনি তাঁর “ভারতের শক্তি সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য গ্রন্থের” ২৫-২৬ পাতায় লিখছেন, “বলা বাহুল্য এসবই হল পৌরাণিক দুর্গা দেবীর সঙ্গে এই শস্য দেবীকে (পড়ুন “নবপত্রিকা”) সর্বাংশে মিলিয়ে নেওয়ার এক সচেতন চেষ্টা। এই শস্য দেবী, মাতা পৃথিবীরই রূপভেদ। সুতরাং আমাদের জ্ঞাতে অজ্ঞাতে দুর্গা পুজোর ভিতরে এখনও সেই আদিমাতা পৃথিবীর পুজো, অনেক খানি মিশিয়া আছে “। যুগ যুগ ধরে হওয়া সেই প্রথা ও ঐতিহ্যকে এখনও ধরে রেখেছেন সকলে।

  • Durga Puja 2025: নবদুর্গার সপ্তম রূপ, মহাসপ্তমীতে পূজিতা হন দেবী কালরাত্রি, জানুন মাহাত্ম্য

    Durga Puja 2025: নবদুর্গার সপ্তম রূপ, মহাসপ্তমীতে পূজিতা হন দেবী কালরাত্রি, জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের (Durga Puja 2025) সূচনা হয়। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্ল প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় নবরাত্রি (Navaratri 2025)। যা চলে দুর্গা নবমী পর্যন্ত। এই নবরাত্রিতে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন রূপে পূজিতা হন। নবদুর্গার (Nabadurga) এই নয়টি রূপ হল— দেবী শৈলপুত্রী, দেবী ব্রহ্মচারিণী, দেবী চন্দ্রঘণ্টা, দেবী কুষ্মাণ্ডা, দেবী স্কন্দমাতা, দেবী কাত্যায়নী, দেবী কালরাত্রি (Devi Kalratri), দেবী মহাগৌরী এবং দেবী সিদ্ধিদাত্রী।

    নবরাত্রির সপ্তম দিনে আরাধিত হন দেবী কালরাত্রি (Devi Kalratri)। বাংলাতে প্রচলিত দুর্গাপুজোর মহাসপ্তমীর (Durga Puja 2025) দেবী তিনি। দেবী কালরাত্রি ভীষণ দর্শনা, এলোকেশী। তাঁর চারটি হাত। ওপরের ডান হাতে আশীর্বাদ, নীচের ডান হাতে অভয় মুদ্রা। বাঁ দিকে ওপরের হাতে খড়্গ এবং নীচের বাম হাতে রয়েছে লোহার কাঁটা। দেবী ত্রিনয়নী এবং তাঁর চোখগুলি গোলাকার। দেবীর গলায় রয়েছে বজ্রের মালা। এই দেবীর বাহন গাধা এবং তাঁর নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ভয়ঙ্কর অগ্নিশিখা নির্গত হয় বলে কথিত আছে। দেবী কালরাত্রি সম্পর্কে অজস্র পৌরাণিক আখ্যান রয়েছে। তিনি চণ্ড-মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর অপর নাম তাই চামুণ্ডা।

    শুম্ভ ও নিশুম্ভের কাহিনি…

    দেবী মাহাত্ম্যতে উল্লেখ রয়েছে, শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামক দুই দানব ছিল। তারা প্রজাপতি ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করল। খুশি হয়ে প্রজাপতি ব্রহ্মা বর দিতে আবির্ভূত হলেন। দুই দানব বর চাইল যে কোনও পুরুষ যেন তাদের বধ করতে না পারেন। ব্রহ্মা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত বর প্রদান করলেন। দুই অসুর চরম অত্যাচার শুরু করল দেবতাদের ওপর। এই দুজনের সঙ্গে যোগ দিলেন চণ্ড-মুণ্ড নামের আরও দুই অসুর। তাঁদের সঙ্গে এল রক্তবীজ। যাঁর প্রতিটি রক্তবিন্দু মাটিতে পড়লে দ্বিতীয় রক্তবীজ তৈরি হবে। এমনটাই বরদান ছিল তাঁর ওপর প্রজাপতি ব্রহ্মার। এই সমস্ত অসুরদের অত্যাচারে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। অসুরদের ওপর ব্রহ্মার বরদান সম্পর্কেও দেবতারা অবগত ছিলেন। মুনি-ঋষিদের যজ্ঞ পণ্ড করা, ঋষি কন্যাদের নানা ভাবে লাঞ্ছিত করা এসব কাজ তো চলছিলই। অসুরদের এমন আক্রমণে দেবতারা অবশেষে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হলেন। নিজেদের স্বর্গরাজ্য থেকে তাঁরা বিতাড়িত হলেন।

    দেবী পার্বতীর কালরাত্রি হয়ে ওঠার কাহিনি

    দেবতারা হিমালয়ের কোলে শুরু করলেন দেবীর (Devi Kalratri) স্তব। পুরাণে কথিত রয়েছে, এমন সময় সেখান দিয়ে শিবজায়া দেবী পার্বতী গঙ্গাস্নানের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। দেবী তাদের স্তব শুনে বললেন, হে দেববৃন্দ, আপনারা এখানে কার স্তব করছেন? সেই সময় ভগবতী পার্বতীর শরীর থেকে একই রকম দেখতে আর এক জন দেবী বেরিয়ে এলেন। আবির্ভূত হয়ে নব দেবী (Durga Puja 2025) বললেন, দেবতারা আমার স্তব করছেন। এই দেবীই আদ্যাশক্তি জগত মাতা অম্বিকা মহামায়া। তিনি দেবী পার্বতীর কোষ থেকে সৃষ্টি হয়েছেন বলে তার এক নাম কৌশিকী। কথিত আছে, এরপর নাকি দেবী পার্বতী কৃষ্ণবর্ণা হয়ে যান। যাঁকে আমরা কালরাত্রি বলি। ইনি দেবী কালিকা নামেও পরিচিত।

    পুরাণে আরও উল্লেখিত আছে, দেবী একদিন হিমালয়ে সিংহপৃষ্ঠে বসে মধু পান করছিলেন। এমন সময় চণ্ড আর মুণ্ড নামক দুই দানব দেবীকে দেখতে পেলেন। চণ্ড-মুণ্ড একথা গিয়ে শুম্ভ-নিশুম্ভকে জানালেন। শুম্ভ-নিশুম্ভ সেই দেবীর রূপ বর্ণনা শুনে দেবীকে লাভ করার জন্য আকুল হলেন। সুগ্রীব নামক এক অসুর দেবীর কাছে গেলেন শুম্ভ-নিশুম্ভের দূত হিসেবে। সুগ্রীব হিমালয়ে সেই পর্বত চূড়ায় গিয়ে দেবীকে শুম্ভ-নিশুম্ভের পরাক্রম, ঐশ্বর্যের কথা বলে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। দেবী একথা শুনে হেসে বললেন, আমার প্রতিজ্ঞাটি শোনো। যিনি আমাকে যুদ্ধে জয় করবেন, তিনিই আমার স্বামী হবেন।

    দেবী কালরাত্রির আবির্ভাব

    এরপর শুম্ভ-নিশুম্ভের সেনাপতি ধুম্রলোচন ষাট হাজার সেনা নিয়ে গেলেন দেবীকে পরাজিত করতে। দেবীর তেজে ধুম্রলোচন ভস্মীভূত হলেন। দেবীর সিংহবাহিনী অসুর সেনাকে ধ্বংস করে দিল। শুম্ভ-নিশুম্ভ এরপর চণ্ড-মুণ্ডকে পাঠালেন। চণ্ড-মুণ্ড বহু সেনা, অশ্ব, রথ, হাতি নিয়ে যুদ্ধে এলেন। তাঁরা হিমালয়ের চূড়ায় হাস্যরত দেবী অম্বিকাকে দেখতে পেলেন। এরপর দেবী চণ্ডিকা তাঁদের দেখে ভীষণ ক্রুদ্ধা হলেন। ক্রোধে তাঁর মুখমণ্ডল কৃষ্ণবর্ণা হলেন। তখন দেবীর কপাল থেকে এক ভীষণ দর্শনা দেবী প্রকট হলেন। সেই দেবী কালিকা বা কালরাত্রি। অতি ভীষণা, ভয়ঙ্করী, কোটর গতা, আরক্ত চক্ষু বিশিষ্টা।

    সেই ভয়ঙ্করা দেবী ভীষণ হুঙ্কার দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করলেন। কতগুলি অসুরকে দেবী তাঁর চরণ ভারে পিষে বধ করলেন। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ভাবে দেবী অসুরদের ধ্বংস করে ফেললেন। এরপর দেবী তাঁর খড়গ তুলে ‘হং’ শব্দ করে চণ্ডের দিকে ধেয়ে গেলেন। দেবী চণ্ডের চুলের মুঠি ধরে খড়গ দ্বারা এক কোপে চণ্ডের শিরোচ্ছেদ করে ফেললেন। চণ্ড অসুর বধ হল। চণ্ড নিহত হয়েছে দেখে ক্রোধে মুণ্ড দেবীর দিকে ধেয়ে গেলেন। দেবী তাঁর রক্তাক্ত খড়গ দিয়ে আর এক কোপে মুণ্ডের শিরোচ্ছেদ করলেন। চণ্ড-মুণ্ড বধ হতে দেখেই দেবতারা আনন্দে দেবীর জয়ধ্বনি দিতে থাকলেন‌।

    দেবী মাহাত্ম্য (Durga Puja 2025) অনুযায়ী, চণ্ড আর মুণ্ডের ছিন্ন মস্তক নিয়ে দেবী, মহামায়ার কাছে এসে বিকট হেসে বললেন, “এই যুদ্ধরূপ যজ্ঞে আমি আপনাকে চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই মহাপশুর মস্তক উপহার দিলাম। এখন আপনি নিজেই শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করবেন।” দেবী অম্বিকা তখন বললেন, “হে দেবী, যেহেতু তুমি চণ্ড ও মুণ্ডের বধ করে মাথা দুটি আমার নিকট নিয়ে এসেছ। সেজন্য আজ থেকে তুমি জগতে ‘চামুণ্ডা’ নামে বিখ্যাত হবে।” দেবী কালরাত্রি শুভফলের দেবী (Durga Puja 2025) বলেও অনেকে মনে করেন। তাই দেবীর আরেক নাম হল শুভঙ্করী। দেবী কালরাত্রির (Devi Kalratri) আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত কুপ্রভাব বিনষ্ট হয় বলে ভক্তদের ধারণা। মাতার নৈবেদ্যতে গুড় নিবেদন করলে তিনি প্রসন্না হন বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

  • Durga Puja 2025: জড়িত মনুষ্য জাতির ভবিষ্যৎ! এ বছর দেবীর আগমন কীসে, গমনই বা কীসে? কেন তা তাৎপর্যপূর্ণ?

    Durga Puja 2025: জড়িত মনুষ্য জাতির ভবিষ্যৎ! এ বছর দেবীর আগমন কীসে, গমনই বা কীসে? কেন তা তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর কয়েকদিনের অপেক্ষা। তার পরেই, মর্ত্যে আসছেন মা দুর্গা৷ বাঙালি মাতবে তার শ্রেষ্ঠ উৎসবে৷ দেবী দুর্গার বাহন যতই সিংহ হোক না কেন, মর্ত্যে তিনি তাঁর অন্য চার বাহনের একটিতে চেপে আসেন এবং অন্যটিতে ফেরেন। দেবীর চার বাহন হল গজ (হাতি), দোলা, ঘোটক (ঘোড়া) এবং নৌকা। এই চার বাহনের মধ্যে গজ শান্তি এবং সমৃদ্ধি আনে। অর্থাৎ শুভ ইঙ্গিত দেয়। অন্য দিকে, ঘোটক ছত্রভঙ্গ, যুদ্ধ, অশান্তির ইঙ্গিত বয়ে আনে। নৌকায় দেবীর আগমন বা গমন ঘটলে বন্যা হতে পারে বলে মনে করা হয়। যদিও আর একটি মত অনুযায়ী, ভালো বৃষ্টির কারণে পৃথিবী শস্য শ্যামলা হয় দেবী নৌকায় এলে বা ফিরে গেলে। মড়ক, মহামারির ইঙ্গিত দেয় দোলা।

    সপ্তমীতে দেবীর আগমন, দশমীতে গমন

    শাস্ত্র মতে, বলা হয় সপ্তমীতে দেবী দুর্গার আগমন এবং দশমীতে গমন। ফলে, পঞ্জিকা খুলে দুর্গাপুজোর তারিখ খোঁজার পাশাপাশি সকলেই দেখতে চান, এই বছর দেবীর কীসে আগমন, কীসে গমন। মানুষের বিশ্বাস, দেবীর আগমন ও গমনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মনুষ্য জাতির ভবিষ্যৎ। এবছর কিন্তু মা দুর্গার আগমন থেকে গমন হতে চলেছে একেবারেই আলাদা। আর এর প্রভাব এখন থেকেই বলে দিচ্ছে অনেক কিছু। কারণ, মা দুর্গার আগমন এবং গমনে নির্ভর করে গোটা বছরটা পৃথিবীবাসীর কেমন কাটবে।

    কী বলছে শাস্ত্র?

    সাধারণত, প্রতি বছর সপ্তমী ও দশমী কী বার পড়ছে তার ওপর নির্ভর করে দেবীর কিসে আগমন এবং গমন। শাস্ত্রে কথিত, “রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া, ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ, গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং নৌকায়াং বুধবাসরে।” অর্থাৎ সপ্তমী বা দশমী যদি রবিবার এবং সোমবার হয়, তাহলে দুর্গার আগমন ও গমন হবে গজে অর্থাৎ হাতিতে। এর ফল- “গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা।” শনি বা মঙ্গলবারে সপ্তমী বা দশমী পড়লে দেবীর আগমন ও গমন হবে, ঘোটকে অর্থাৎ ঘোড়ায়। এর ফল- “ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে”। ঘোটক বা ঘোড়া যেমন ছটফটে কেমনই ঘোটকে আগমন ও গমনে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হয়। এর ফল, অরাজকতা, গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক উত্থান-পতন।সপ্তমী বা দশমী যদি বৃহস্পতি ও শুক্রবারে হয় তাহলে দেবীর আগমন ও গমন হবে দোলায়। এর ফল- “দোলায়াং মরকং ভবেৎ”। দোলায় আগমন ও গমন সবচেয়ে অশুভ। দোলা পৃথিবীকে দুলিয়ে দিয়ে যায়। বুধবারে সপ্তমী বা দশমী হয় তবে দেবী দুর্গার যান হবে নৌকা। অর্থাৎ আগমন ও গমন হবে, নৌকায়। এর ফল- “শস্যবৃদ্ধিস্তুথাজলম”। এর ফলে প্রবল বন্যা, ঝড়, অতিবৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে দ্বিগুণ শস্যবৃদ্ধি আশা করা হয়।

    দেবীর আগমন কীসে…

    চলতি বছরে মা দুর্গার গজে আগমন৷ গজ অর্থাৎ হাতি। এই গজই দেবীর সবচেয়ে সেরা বাহন। শাস্ত্রমতে, গজে দেবীর আগমনের ফলাফল শুভ। দেবীর আগমন গজে হলে মর্ত্যলোক সুখ শান্তিতে ভরে ওঠে৷ ধরাধামে আসে সমৃদ্ধি। বলা হয় এর ফলাফল হয় শস্যশ্যামলা বসুন্ধরা। ধরাধামে আসে সমৃদ্ধি। বলা হয়, এরফলে পূর্ণ হয় ভক্তদের মনের ইচ্ছা। কথিত রয়েছে, পরিশ্রমের সুফল মেলে গজে দেবীর আগমন হলে। বর্ষণের দিক থেকেও অতিবৃষ্টি বা অনবৃষ্টি হয় না। ফলত, বর্ষণও থাকে ঠিকঠাক।

    দেবীর গমন কীসে…

    অন্যদিকে, এ বছর, দেবীর গমন ঘটবে দোলায়। অর্থাৎ উমার কৈলাসে ফেরা এ বার পালকিতে। শাস্ত্রমতে বলা হয়, ‘দোলায়াং মকরং ভবেৎ’, এর অর্থ, দোলা বা পালকিতে দেবী দুর্গার আগমন বা গমন হলে তার ফল মহামারী, ভূমিকম্প, অতিমৃত্যু। এরই সঙ্গে এর আরও ফলাফল রয়েছে। আর তা হল দুর্ভোগ ও দুর্যোগ। ফলত, দোলায় দেবীর গহমকে শুভ হিসাবে দেখা হচ্ছে না। যেহেতু বিজয়া দশমী বৃহস্পতিবার পড়েছে, তাই ২০২৫ সালে দেবীর গমন দোলায়।

  • Durga Puja 2025: প্রথম দুর্গাপুজো কে করেছিলেন? মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    Durga Puja 2025: প্রথম দুর্গাপুজো কে করেছিলেন? মর্ত্যে মহামায়ার আরাধনা শুরু কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর (Durga Puja 2025) ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। দেবী দশভুজা চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মর্তে আসেন। মর্ত্যবাসী তাঁকে নিজের মেয়ের মতো মনে করেই বরণ করে নেন। কিন্তু আমাদের অনেকের মনেই যে প্রশ্ন জাগে, তা হল, কবে এই দুর্গাপুজোর (First Durga Puja) প্রচলন হয়েছিল? এর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে পুরাণের (Puranas) দিকে। কারণ বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্থই এসবের উত্তর বের করার মূল রাস্তা। এছাড়া এ ব্যাপারে আর নির্ভর করার মতো তেমন কিছু নেই।

    প্রথম দুর্গাপুজো করেছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ

    ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ (Hindu Mythology) অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রথম দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025) করেছিলেন। তিনি পুজো করেছিলেন বৈকুণ্ঠের মহারাস মণ্ডলে। ওই শাস্ত্রের প্রমাণ বাক্যটি হল, প্রথমে পূজিতা সা চ কৃষ্ণেন পরমাত্মনা। শ্রীকৃষ্ণের পরে দুর্গাপুজো করেছিলেন স্বয়ং ব্রহ্মা। মহামায়ার পুজো করেছিলেন স্বয়ং মহাদেবও। ত্রিপুরাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে তিনি পুজো করেছিলেন দেবী দুর্গার (First Durga Puja)। মহাদেবীর আরাধনা করেছিলেন দেবরাজ ইন্দ্রও। তার অনেক পরে মর্ত্যে শুরু হয় মহামায়ার আরাধনা।

    দেবী ভাগবত পুরাণ কী বলছে?

    দেবী ভাগবত পুরাণ (Hindu Mythology) মতে, ব্রহ্মার মানসপুত্র মনু প্রথম পৃথিবীতে দুর্গাপুজো (First Durga Puja) প্রচলন করেন। শ্রীশ্রী চণ্ডী অনুযায়ী, রাজা সুরথ রাজ্য লাভের আশায় দেবী দুর্গার পুজো করেন। বাল্মীকি রামায়ণে দুর্গাপুজোর কোনও বর্ণনা নেই। তবে কৃত্তিবাস ওঝা রচিত রামায়ণে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2025) উল্লেখ রয়েছে। বাসন্ত কালে দুর্গার পুজো করেছিলেন রাবণও। মৈথিলি কবি বিদ্যাপতি দুর্গা ভক্তি তরঙ্গিনীতে দুর্গাপুজোর উল্লেখ রয়েছে।

    আরও নানা মত

    কারও কারও মতে, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের শেষ দিকে দিনাজপুরের জমিদার প্রথম দুর্গাপুজো (First Durga Puja) করেন। কারও কারও মতে আবার ষোড়শ শতকে রাজশাহী তাহেরপুর এলাকার রাজা কংস নারাযণ প্রথম দুর্গাপুজো করেন মর্তে। কোচবিহারে ১৫১০ সালে দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025) করেন রাজসিংহ। কেউ কেউ মনে করেন, ১৬০৬ সালে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন নদিয়ার ভবনানন্দ মজুমদার। কলকাতার বরিশাল রায় চৌধুরী পরিবার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন বলেও মনে করেন অনেকে। আবার কারও কারও মতে, ১৬১০ সালে প্রথম দুর্গাপুজো করেছিল কলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরীর পরিবার। তাঁরা মহিষমর্দিনী দুর্গার পুজো করেননি। ওই পরিবারে দেবীর আগমন (Durga Puja 2025) ঘটেছিল ছেলেমেয়ে সহ।

  • Durga Puja 2025: নবদুর্গার ষষ্ঠ রূপ, মহাষষ্ঠীতে পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী, জানুন মাহাত্ম্য

    Durga Puja 2025: নবদুর্গার ষষ্ঠ রূপ, মহাষষ্ঠীতে পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী, জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহালয়ার অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের (Durga Puja 2025) সূচনা হয়। পরের দিন, অর্থাৎ শুক্ল প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় নবরাত্রি (Navaratri 2025)। যা চলে দুর্গা নবমী পর্যন্ত। এই নবরাত্রিতে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন রূপে পূজিতা হন। নবদুর্গার (Nabadurga) এই নয়টি রূপ হল— দেবী শৈলপুত্রী, দেবী ব্রহ্মচারিণী, দেবী চন্দ্রঘণ্টা, দেবী কুষ্মাণ্ডা, দেবী স্কন্দমাতা, দেবী কাত্যায়নী (Devi Katyayani), দেবী কালরাত্রি, দেবী মহাগৌরী এবং দেবী সিদ্ধিদাত্রী।

    ঋষি কাত্যায়নের কন্যা কাত্যায়নী

    হিমালয়ের কোলে ঘন অরণ্য ঘেরা এক ঋষির আশ্রম। কাত্য গোত্রধারী ওই ঋষির নাম কাত্যায়ন। দীর্ঘদিন তিনি মাতা অম্বিকাকে নিজের কন্যা রূপে পাওয়ার জন্য তপস্যায় রত ছিলেন। পুরাণে কথিত আছে, দেবী তাঁর এই তপস্যায় প্রসন্ন হয়েছিলেন এবং তাঁকে এরূপ বর দিয়েছিলেন যে, যখন দেবতাদের প্রয়োজন হবে, তখন তিনি তাঁর কন্যা রূপে অবতীর্ণ হবেন। বামন পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুরের কাছে স্বর্গরাজ্য হারিয়ে বিতাড়িত দেবতারা শরণাপন্ন হয়েছিলেন ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের (Brahma-Vishnu-Maheswar)। মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে এই ত্রিদেবের তেজ থেকে উদ্ভব হয় অষ্টাদশ ভূজা এক নারীমূর্তির, ইনিই মাতা কাত্যায়নী। নবরাত্রির মহাষষ্ঠীর (Mahasasthi) দিন আরাধিতা হন দেবী কাত্যায়নী। মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে সমস্ত দেবগণ নিজেদের অস্ত্র দ্বারা সাজাতে শুরু করলেন দেবী কাত্যায়নীকে (Devi Katyayani)। শিব দিলেন তাঁর ত্রিশূল, ভগবান বিষ্ণু প্রদান করলেন তাঁর সুদর্শন চক্র, অগ্নি দিলেন শক্তি, বায়ু দিলেন ধনুক, সূর্য দিলেন তীরভরা তূণীর, ইন্দ্র দিলেন বজ্র, কুবের দিলেন গদা, ব্রহ্মা দিলেন অক্ষমালা ও কমণ্ডলু, কাল দিলেন খড়্গ ও ঢাল এবং বিশ্বকর্মা দিলেন কুঠার ও অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এইভাবে সমস্ত দেবতা তাঁদের অস্ত্র তুলে দিলেন দেবীর হাতে মহিষাসুর বধের নিমিত্তে।

    মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর যুদ্ধ

    পুরাণে কথিত আছে, এরপর দেবী (Durga Puja 2025) গেলেন মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। মহিষাসুরের দু’জন চর দেবীকে দেখে মহিষাসুরের নিকটে গিয়ে তাঁর রূপ বর্ণনা করলেন। দেবীর রূপে মুগ্ধ মহিষাসুর দেবীকে লাভ করতে চাইলেন। দেবী কাত্যায়নী তখন শর্ত দিলেন যে, তাঁকে লাভ করার পূর্বে যুদ্ধে পরাস্ত করতে হবে। শুরু হল মহিষাসুরের সঙ্গে দেবী কাত্যায়নীর এক প্রবল যুদ্ধ। দেবী কাত্যায়নী ছিলেন তাঁর বাহন সিংহের ওপর সওয়ার, অন্যদিকে মহিষাসুর ছিলেন মহিষের রূপে। পুরাণে আরও উল্লেখ রয়েছে, যুদ্ধ চলাকালীন দেবী কাত্যায়নী (Devi Katyayani) পা দিয়ে তীব্র আঘাত করেন ওই ছদ্মবেশী মহিষকে। আঘাতে মহিষাসুর ধরাতলে পতিত হলে, মাতা কাত্যায়নী তাকে ত্রিশূল দ্বারা বধ করেন। এভাবেই দেবী কাত্যায়নী হয়ে ওঠেন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ (Mahisasurmardini)। যে মহিষাসুরমর্দিনীকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর সম্পন্ন হয় দুর্গাপুজো (Durga Puja 2025)। যে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তব প্রত্যেক মহালয়ার ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে আমরা শুনতে পাই। পুরাণ অনুযায়ী, দেবতারা যুদ্ধ শেষে মাতার কাত্যায়নীর উদ্দেশে পুষ্পবৃষ্টি করেন। রম্ভাপুত্র মহিষাসুরের অত্যাচারে যে দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন, তাঁরাই আবার স্বর্গরাজ্যের অধিকার ফিরে পেলেন মাতা কাত্যায়নীর কৃপায়।

    দেবী কাত্যায়নী যোদ্ধাদেবী, ঠিক মাতা চণ্ডী বা ভদ্রকালীর মতোই

    বামন পুরাণে উল্লেখিত এই আখ্যান বরাহ পুরাণ এবং দেবী ভাগবত পুরাণেও একইভাবে উল্লেখ করা আছে। অন্যদিকে কালিকা পুরাণ অনুযায়ী, দেবী কাত্যায়নী তিনবার মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন (Durga Puja 2025)। আদি সৃষ্টিকল্পে অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। দ্বিতীয় সৃষ্টিকল্পে ষোড়শভুজা ভদ্রকালী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। আবার তৃতীয় সৃষ্টিকল্পে দশভূজা দেবী দুর্গা রূপে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। মহিষাসুর তৃতীয়বার বধ হওয়ার পর দেবীর আশীর্বাদে তিনি চিরতরে দেবীর পদতলে স্থান পান। বেদের অন্য একটি আখ্যান অনুযায়ী, কাত্যায়নী ও মৈত্রেয়ী ছিলেন শতপথ ব্রাহ্মণের রচয়িতা ঋষি যাজ্ঞবল্ক্যের দুই স্ত্রীর নাম। শাক্তরা মনে করেন, দেবী কাত্যায়নী (Devi Katyayani) যোদ্ধাদেবী ঠিক মাতা চণ্ডী বা ভদ্রকালীর মতোই। মহর্ষি পতঞ্জলি রচিত ‘মহাভাষ্য’ গ্রন্থে মাতা কাত্যায়নীকে সৃষ্টির আদি শক্তিরূপে বর্ণনা করা হয়েছে।

    দেবী কাত্যায়নীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় তৈত্তিরীয় আরণ্যক গ্রন্থে

    দেবী কাত্যায়নীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় তৈত্তিরীয় আরণ্যক গ্রন্থে। মার্কন্ডেয় রচিত ‘দেবী মাহাত্ম্যে’ দেবী কাত্যায়নীর দিব্যলীলার বর্ণনা রয়েছে, এর পাশাপাশি, ভাগবত পুরাণেও দেবী কাত্যায়নীর লীলা বর্ণিত হয়েছে। আবার বৈষ্ণবদের ভাগবত পুরাণেও মাতা কাত্যায়নীর পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায় (Durga Puja 2025)। ভাগবত পুরাণে এটি কাত্যায়নী ব্রত নামেই পরিচিত। ব্রজের গোপীরা শ্রী কৃষ্ণকে পতি রুপে পেতে এই ব্রত উদযাপন করত। মাঘ মাস জুড়ে এই ব্রত চলত। যমুনা নদীর তীরে দেবী কাত্যায়নীর মাটির মূর্তি তৈরী করে দীপ, ফল, চন্দন, ধূপ দ্বারা মায়ের আরাধনা করার পরম্পরা ছিল উত্তর ভারতে। আবার একই ভাবে মকর সংক্রান্তিতে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল উৎসবে মাতা কাত্যায়নীর পুজো চালু রয়েছে।

    রোগ-ভয়-ব্যাধি সমস্ত কিছু মাতা হরণ করে নেন বলেই ভক্তদের ধারণা

    দেবী কাত্যায়নীর (Devi Katyayani) স্বরূপ শৌর্য, তেজ এবং পরাক্রমের প্রতীক বলেই বিবেচিত হয়। পুরাকালে দেবী কাত্যায়নী যেমন মহিষাসুরকে বধ করে আসুরিক শক্তি তথা অশুভ শক্তির বিনাশ করেছিলেন, ঠিক একইভাবে ভক্তদের জীবন থেকে সমস্ত অশুভ শক্তিকে তিনি বিনষ্ট করেন এবং আসুরিক যা কিছু প্রবৃত্তি সেটাও তিনি ধ্বংস করেন বলেই বিশ্বাস রয়েছে ভক্তদের। মাতার এই রূপের উপাসনা করলে সমস্ত অশুভ প্রভাব থেকে নিজেকে মুক্ত করা যায়, জীবনের সমস্ত বাধাবিঘ্ন দূর হয়, রোগ, ভয়, ব্যাধি সমস্ত কিছু মাতা হরণ করে নেন বলেই ভক্তদের ধারণা। মাতা কাত্যায়নীর ভক্তরা নৈবেদ্যতে মায়েরা উদ্দেশ্যে মধু নিবেদন করেন। এতে মা সন্তুষ্ট হন।

  • Assembly Election 2026: ছাব্বিশের ভোটে বাংলার দায়িত্বে ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব! কেন এই দুজনকে বাছল বিজেপি?

    Assembly Election 2026: ছাব্বিশের ভোটে বাংলার দায়িত্বে ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব! কেন এই দুজনকে বাছল বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে নয়া দায়িত্ব ভাগ করে দিল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী দায়িত্বে কেন্দ্রের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে করা হল রাজ্য নির্বাচনী ইনচার্জ। তাঁর সঙ্গে সহ-ইনচার্জ হিসেবে থাকবেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ বিপ্লবকুমার দেব। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণা থেকেই পরিষ্কার শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারদের মতো রাজ্যের নেতাদের জন্য কৌশল ঠিক করে দেবেন ভূপেন্দ্র যাদবরা।

    ভূপেন্দ্র যাদবের ট্র্যাক রেকর্ড

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। সেই কারণেই এত তাড়াতাড়ি ভূপেন্দ্র যাদবের নাম ঘোষণা করা হল। নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই তাঁকেই বাংলার মতো দুর্জয় ঘাঁটির দায়িত্ব দেওয়া হল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভূপেন্দ্রকে বাংলায় দায়িত্ব দেওয়ার পিছনে রয়েছে তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড। ২০২০ সালে তিনি একই দায়িত্বে ছিলেন বিহারের। সেখানে তিনি চমকপ্রদ ফল এনে দেন। বিজেপি এনডিএ জোটের মধ্যে এককভাবে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর আগেও একাধিক রাজ্যের ভোটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ বারবার দিয়েছেন ভূপেন্দ্র। এর আগে রাজস্থান, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের মতো চ্যালেঞ্জিং রাজ্যের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। সেই সব জায়গায় দলের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা, নবীন-প্রবীণের দ্বন্দ্ব মেটানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ করেছেন।

    কেন বিপ্লব দেবকেও দায়িত্ব? 

    বাংলার একেবারে লাগোয়া রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেই ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি। দিল্লির কার্যকর্তা থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, তারপর লোকসভায় বিজেপির সদস্য। একটি মানুষের রাজনীতি ও সাংগঠনিক দক্ষতা কতটা ভালো, এই প্রোফাইলেই তার ইঙ্গিত মেলে। ভোট রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও সংগঠন সামলানোর মিশেল। ত্রিপুরার রাজনীতিতে বিপ্লব দেবের এন্ট্রি ২০১৫ সালে। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে বলা যায় বিজেপির টার্নিং পয়েন্ট। শুধু বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সঙ্গেই নয়, সিপিএম এর নেতা ও পরিবারের সঙ্গেও নিজে গিয়ে দেখা করতে শুরু করলেন। যাকে বলা যায়, একেবারে মাঠে নেমে রাজনীতি। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা। ত্রিপুরার মানুষের মন বোঝার চেষ্টা। ২০১৬ সালে ত্রিপুরায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হন বিপ্লব। তারপর মাত্র দু’বছরেই ত্রিপুরায় পরিবর্তন। ৬০ আসনের বিধানসভার ত্রিপুরায় ৩৬টি আসন নিয়ে জিতল বিজেপি। ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান। বিপ্লব দেব হলে ত্রিপুরার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। যেন এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। বিপ্লব দেবের এই বহুমুখী দক্ষতাকেই পশ্চিমবঙ্গে কাজে লাগাতে চাইছেন অমিত শাহ। একই সঙ্গে প্লাস পয়েন্ট হল, বিপ্লব দেব বাংলাও একেবারেই সরগর। ফলে হিন্দিভাষী তকমা জুটবে না। আসলে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখছে, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ত্রিপুরার অনেক মিল রয়েছে।

  • Election Commission: বঙ্গের ভোটার তালিকাভুক্ত ৫০ শতাংশ শতায়ু ভোটার মৃত! কী করবে রাজ্যের সিইও দফতর?

    Election Commission: বঙ্গের ভোটার তালিকাভুক্ত ৫০ শতাংশ শতায়ু ভোটার মৃত! কী করবে রাজ্যের সিইও দফতর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। বাংলাতে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী শীঘ্রই চালু হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই বর্তমান ভোটার তালিকায় শতায়ু ভোটারদের ক্ষেত্রে বড় গরমিল ধরা পড়ল। রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম থাকা শতায়ু ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই মৃত! রাজ্যজুড়ে শতায়ু ভোটারদের নিয়ে একটি বিশেষ সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় প্রায় ১৩ হাজার নাম পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা শতায়ু পার করেছেন। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার, ঝাড়গ্রাম–সহ বিভিন্ন জেলায় রয়েছেন এই শতায়ু ভোটাররা। ভোটার তালিকায় কারও বয়স ১০০, কারও আবার ১০৬। কোচবিহারের শীতলকুচি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে ১১৪ বছর বয়সি ভোটারও রয়েছেন।

    ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা ঘিরে প্রশ্ন

    সূত্রের খবর, ২০২৪ লোকসভার ভোটার তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ১২ হাজার ৪৯৪ শতায়ু ভোটার রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষা বা যাচাইকরণের পর দেখা গিয়েছে তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ২১২ জন শতায়ু মৃত অথচ তাদের নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে। বছরে চার বার ভোটার তালিকার রিভিশন বা যাচাইয়ের কাজ করা হলেও রাজ্যের ভোটার তালিকা যাচাইকরণের ক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও, বিএলও এমনকি ডিইও-দের ভুমিকা নিয়েও ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শতায়ু ভোটারদের এই পরিসংখ্যান। বিষয়টি একেবারেই সুনজরে দেখছে না রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

    ৮৫ বছর থেকে ১০০ বছর ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ

    বঙ্গে এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারি করার আগেই এবার ৮৫ উর্ধ্ব বয়সি ভোটারদের নিয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ করতে চায় রাজ্য সিইও দফতর। যেহেতু ৮৫ বছর ঊর্ধ্ব ভোটাররা বাড়ি থেকেই ভোট দান করেন, কমিশনের পরিভাষায় যাকে হোম ভোটিং বলা হয়। সে কারণে ৮৫ বছর থেকে ১০০ বছর এই বয়সি ভোটারদের কতজন বর্তমান ভোটার তালিকার সাপেক্ষে জীবিত আছেন তা নিয়ে ফের একবার পরীক্ষা করতে চায় রাজ্য সিইও দফতর। রাজ্যে এসআইআর নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই এই সমীক্ষা বা যাচাইয়ের নির্দেশ দিতে পারেন রাজ্যের সিইও দফতর। বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেশজুড়ে শতায়ু ভোটারদের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি বিশেষ সমীক্ষা বা যাচাই করণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে গোটা দেশের সিইও-দের নিয়ে বৈঠকে এই যাচাইকরনের আভাস আগেই দিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তদনুযায়ী রাজ্যে রাজ্যে বর্তমান ভোটার তালিকার সাপেক্ষে শতায়ু ভোটারদের নিয়ে সমীক্ষার কাজ করা হয়। বঙ্গের বাস্তব চিত্র হল, বর্তমান ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত শতায়ু ভোটারদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মৃত হলেও তাদের নাম এখনো ভোটার তালিকায় রয়ে গিয়েছে।

    নির্বাচন কর্মীদের আরও সতর্ক ও সজাগ করা প্রয়োজন

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বক্তব্য রাজ্যে ভোটার তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে ইআরও, এইআরও বা বিএলও-দের দায়িত্ব পালনে যে খামতি থেকে যাচ্ছে এই ধরনের তথ্য তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই ব্যাপারে নির্বাচন কর্মীদের আরও সতর্ক ও সজাগ করা প্রয়োজন। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের শতায়ু ভোটারদের প্রত্যেকের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা জীবিত না মৃত তার লিখিত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়লে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই প্রত্যেক ইআরও–কে শতায়ু ভোটারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের স্বাক্ষর–সহ লিখিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। এই রিপোর্টই সিইও দফতর সরাসরি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেবে।

LinkedIn
Share