Tag: bangla khobor

bangla khobor

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

  • Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    Mamata Banerjee: মমতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, ছোড়া হল কাদা-জুতো! ‘মরে যেতাম’- বলছেন ভয়ে কাতর মমতা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এতদিন যে নেত্রীকে চোখে হারাতেন সাধারণ মানুষ, যে নেত্রীকে বসিয়েছিলেন শীর্ষ আসনে, আজ তাঁরই কনভয়ে লক্ষ্য করে ছোড়া হল জুতো-কাদা! উঠল চোর স্লোগানও। সত্যিই তো ভাবতেই অবাক লাগে। আসলে কী বলুন তো? এত বছরের দীর্ঘ তৃণমূল শাসনে যে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে, যেভাবে রাজ্যের জনগণকে দিনের পর দিন শোষণ করে এসেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাধের নেতারা, আজ তারই পরিণাম হয়তো ভোগ করছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কতদিনই বা আর চাপা থাকতে পারে? এবার আসা যাক মূল কথায়।

    ডিমের পর এবার ‘কাদা-থেরাপি’?

    রবিবার হালিশহরে (Halisahar) পুলিশি হেফাজতে নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মমতা।সেখানে ‘কালীঘাট তৃণমূল সুপ্রিমো’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেখা মাত্রই ধেয়ে আসে জনরোষ। বীজপুর থানা এলাকার হালিশহরে পৌঁছনো মাত্রই সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূল নেত্রীকে। তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ছোড়া হয় কাদা-জুতো। গাড়ির কাচে কাদা লেপে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। দেওয়া হয় চোর স্লোগান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই এলাকাকে রাজনৈতিক স্বার্থে উত্তপ্ত করতেই সেখানে যান মমতা (Mamata Banerjee)।

    আমরা সবাই মরে যেতাম!

    সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের চিরাচরিত ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি নেত্রী। উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাথা ফেটে যেত, আমরা সবাই মরে যেতাম! পুলিশের সামনে এমন হামলা আগে কখনও দেখিনি। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল। পুলিশ শুধুমাত্র বিজেপিকেই সুরক্ষা দেয়।”

    কল্যাণের অভিযোগ

    উল্লেখ্য এদিন তাঁর সঙ্গে ঘটনাস্থলে (Halisahar) উপস্থিত ছিলেন দোলা সেন (Dola Sen) এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বাইরে থেকে বিজেপির লোকজনকে জোগাড় করেছেন মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আইসি। আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে অনবরত অশালীন গালিগালাজ করা হয়। বড় বড় ইট ছুড়ে মারা হয়। গাড়িটির অবস্থা দেখলেই বোঝা যাবে- পুরো গাড়িতে ইট মারতে মারতেই ধাওয়া করা হয়েছে।”

    তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু

    ঘটনার সূত্রপাত হালিশহর (Halisahar) থানার লকআপে বিরজু কেয়ট নামে এক তৃণমূল কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। নিহত বিরজুর স্ত্রী জেনি শর্মা কেয়ট নদিয়ার কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর। কয়েক দিন আগে হালিশহরের এক মহিলার দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিরজুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক প্রতারণা এবং বেআইনি অস্ত্র আইনের মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে ব্যারাকপুর আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর শনিবার সকালে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি পুলিশের। তড়িঘড়ি তাকে কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন বিরজুকে। যদিও পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ বিরজুর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, থানা হেফাজতে বেধড়ক মারধরের ফলেই মৃত্যু হয়েছে বিরজুর। যদিও মারধর ও পুলিশি নির্যাতনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। এদিন এই বিরজুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলে মমতা(Mamata Banerjee)।

    মমতাকে দেখতেই ক্ষোভের বন্যা

    এদিন মমতা (Mamata Banerjee) ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। নেত্রীর কনভয় আটকে চারদিক থেকে দেওয়া হয় চোর স্লোগান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। হালিশহরের (Halisahar) এই ঘটনা নিছক একটি রাজনৈতিক বিক্ষোভের ছবি নয়, বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। এক সময় যাঁর সভায় মানুষের ঢল নামত, সেই নেত্রীর কনভয় ঘিরেই উঠল চোর স্লোগান, ছোড়া হল কাদা-জুতো। ফলে হালিশহরের (Halisahar) এই বিক্ষোভ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর সকলের।

  • Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মসজিদের গেটেই আচমকা মৃত্যু! পাকিস্তানের ইসলামাবাদে (Islamabad) নমাজ পড়তে গিয়ে আচমকাই মৃত্যু হল লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) শীর্ষ কমান্ডার ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz)। কুবা মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। মসজিদের গেটের কাছে আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু (Lashkar Commander Death) হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    মৃত্যুর (Lashkar Commander Death) আগে কোথায় গিয়েছিলেন?

    ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz) মসজিদে পৌঁছনোর আগে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে খাবারের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না? সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    লস্করের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz)। জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের জন্য সাহায্য ও সহায়তার ব্যবস্থা করার দায়িত্বে থাকা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অর্থাৎ সংগঠনের অন্দরে তাঁর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

    ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ নিশানায় লস্কর?

    ক্বারি সইদের রহস্যমৃত্যুর (Lashkar Commander Death) খবরের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক দাবি। লস্করের (Lashkar-e-Taiba) সদস্য রিজওয়ান হানিফ একটি ভিডিয়োয় দাবি করেছেন, গত তিন থেকে চার বছরে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের প্রায় ৩০ জন সদস্যকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা’ হত্যা করেছে।

    একাধিক জায়গায় হত্যা

    রিজওয়ানের দাবি, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদে লস্কর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের বহু সদস্যকে টার্গেট করা হয়েছে।

    মুম্বই হামলার (Mumbai Terror Attack) সঙ্গে জড়িত সংগঠন

    লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) সেই জঙ্গি সংগঠন, যার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের। রাষ্ট্রসংঘ ২০০৫ সালে আল-কায়দা ও তালিবানের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে লস্কর-ই-তৈবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

    প্রথমবার প্রকাশ্যে এমন দাবি

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত কোনও সদস্যের মুখে পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে সংগঠনের সদস্যদের ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ হাতে ধারাবাহিক হত্যার দাবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই লস্করের এক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু—দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

    মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

    অচেনা রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া, কয়েক ঘণ্টা পরে মসজিদের গেটে আচমকা মৃত্যু (Lashkar Commander Death)—তার উপর সংগঠনের সদস্যদের একের পর এক ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হামলায় নিহত হওয়ার দাবি। ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz) মৃত্যু তাই নিছক একটি আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির (Pakistan Terrorism) অন্দরমহলে কী চলছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রহস্যের জট খুলবে কবে, এখন সেটাই দেখার।

  • Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় ক্রিকেট খেলাকে ভবিষ্যৎহীন পেশা মনে করতেন বাবা। ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই ছেলের জেদ, পরিশ্রম আর প্রতিভাই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেটের দরজায়। জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লার আকিব নবি গড়লেন ইতিহাস। ছোটবেলায় ক্রিকেট তারকা আকিব নবিকে (Auqib Nabi) তাঁর ভাইপো বিলাল আহমদ দার একদিন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘এত ক্রিকেট তারকার সঙ্গে খেলো, তাঁদের সঙ্গে সেলফি তোলো না কেন?’’ আকিবের উত্তর ছিল, ‘‘একদিন এমন জায়গায় পৌঁছব, যখন ওরাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইবে।’’ বছর কয়েক পর সেই কথাই সত্যি হয়েছে।

    কাশ্মীর থেকে প্রথম টেস্টে ডাক (India Test Team)

    বছর ঊনত্রিশের অলরাউন্ডার আকিব নবি (Auqib Nabi) হলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ভারতীয় টেস্ট দলে (India Test Team) ডাক পেলেন। জসপ্রীত বুমরাহর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সিরিজ শুরু ১৫ অগাস্ট। সংঘাত, দীর্ঘ শীত, তুষারপাত এবং সীমিত পরিকাঠামোর কারণে জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেটের পথ বরাবরই কঠিন। ১৯৫৭ সালে BCCI-র সঙ্গে যুক্ত হলেও বর্তমানে গোটা অঞ্চলে মাত্র দু’টি বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে, দুটিরই সুযোগ-সুবিধা সীমিত।

    ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন বাবা

    বারামুল্লা জেলার একটি ছোট গ্রামে বড় হয়েছেন আকিব (Auqib Nabi)। তাঁর বাবা গুলাম নবি দার পেশায় স্কুল শিক্ষক। শুরুতে তিনি ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করতেন এবং ছেলেকে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে বলতেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি আকিবের অদম্য আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত বাবা মত বদলান। তিনি বুঝতে পারেন, নিজের পছন্দের পথে ছেলেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    অনুশীলনের জন্য পাড়ি ৭০ কিমি

    ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট পরিকাঠামোর অভাবে আকিবকে (Auqib Nabi) প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরে নিয়মিত অনুশীলন করতে যেতে হতো। প্রথম ক্রিকেট ট্রায়ালে যাওয়ার সময় তাঁর নিজের একজোড়া স্পাইক জুতোটুকুও ছিল না। শৈশবের বন্ধু জুনেইদ দার জানান, তাঁদের এলাকায় পেশাদার ক্রিকেটের ধারণাই প্রায় ছিল না। পরিকাঠামোও ছিল অপ্রতুল। কিন্তু আকিব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট নিয়ে ভীষণ একাগ্র ছিলেন। ভাইপো বিলালের কথায়, আকিব প্রতিদিন ভোরে জিমে যেতেন এবং তারপর সারাদিন অনুশীলন করতেন। প্রায় ১০ বছর ধরে এই রুটিন বজায় রেখেছিলেন তিনি।

    রঞ্জিতে শুরু সাফল্য

    ২০২০ সালে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় আকিবের। অভিষেকেই ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ২০২৪-২৫ মরশুমে ৪৪টি উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা পেসার হন। তবে এত সাফল্যের পরেও জাতীয় স্তরে তাঁর পরিচিতি সেভাবে তৈরি হয়নি। বাবা গুলাম নবি বলেন, ভালো খেলেও স্বীকৃতি না পাওয়াটা কষ্টের ছিল। তবুও তিনি ছেলের সময় আসবে বলেই বিশ্বাস রেখেছিলেন।

    ৬০ উইকেটে বদলে গেল ভাগ্য

    পরের মরশুমে আকিব (Auqib Nabi) করেন তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। মাত্র ১০ ম্যাচে ৬০টি উইকেট নিয়ে রঞ্জি ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জম্মু-কাশ্মীর ৬৭ বছর পরে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতে। এই পারফরম্যান্সের পর ৮.৪ কোটি টাকার আইপিএল চুক্তি পান দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে। আইপিএলে সুযোগ খুব বেশি না পেলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসে।

    পারভেজের গর্ব

    জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তথা আকিবের (Auqib Nabi) দীর্ঘদিনের অধিনায়ক পারভেজ রসুল বলেন, আকিবের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা। রসুলের নিজেরও টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল। তাই আকিবের টেস্ট ডাককে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীরের বহু ক্রিকেটারের যে স্বপ্ন ছিল, নবির হাত ধরে তা বাস্তব হয়েছে।

    নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা

    রসুলের কথায়, অন্য জায়গার তুলনায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে ভারতীয় দলে পৌঁছনোর চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সীমিত পরিকাঠামো, কম সুযোগ, দীর্ঘ শীত ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আকিব নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। তাঁর এই সাফল্য কাশ্মীরের নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করেন রসুল। তাঁর মতে, কোথা থেকে এসেছেন বা কী বাধার মুখে পড়েছেন, তা নয়- পরিশ্রম, মানসিক শক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব।

    বাবার গর্ব

    আজ বারামুল্লায় গুলাম নবি যেখানেই যান, মানুষ তাঁকে চিনে ফেলেন। অনেকে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘‘ইনি আকিবের বাবা।’’ যে বাবা একসময় ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করে ছেলেকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন, আজ সেই ছেলের ইতিহাস গড়ার সাক্ষী হয়ে তাঁর একটাই অনুভূতি- অপরিসীম গর্ব।

  • LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ১৬ অগাস্টের মধ্যে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই (LPG e-KYC) সম্পূর্ণ না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার (LPG Cylinder) কেনার সুযোগ হারাতে পারেন গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদেরও ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে কলকাতায় বর্তমানে ৯৬৮ টাকায় পাওয়া ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হতে পারে অনেক বেশি টাকা।

    ১৬ অগাস্টের মধ্যেই পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক

    রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করার জন্য সতর্ক করছে। জানানো হয়েছে, ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়ার অধিকার থাকবে না। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বন্ধ থাকতে পারে। বাড়িতে বসেই এই পরিচয় যাচাই করা যাবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে অথবা বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমেও পরিচয় যাচাই করানো যাবে।

    কলকাতায় এখন ৯৬৮ টাকা ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার

    বর্তমানে কলকাতায় (Kolkata) ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৯৬৮ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে এই ঘরোয়া দাম আর প্রযোজ্য হবে না বলেই জানানো হয়েছে। গ্যাস সরবরাহকারীদের বক্তব্য, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরাসরি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী সংগঠনের সহ-সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকরা নিশ্চিতভাবেই নির্ধারিত ঘরোয়া দামে সিলিন্ডার পাবেন না। ফলে তাঁদের বেশি দাম দিতে হতে পারে।

    ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের জন্যও সতর্কবার্তা

    শুধু সিলিন্ডারের দাম নয়, পরিচয় যাচাই না করলে রান্নার গ্যাসের (LPG Cylinder) ভর্তুকিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বর্তমানে ভর্তুকি পান, তাঁদের ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করা জরুরি। কলকাতায় বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতি ঘরোয়া সিলিন্ডারে ভর্তুকির পরিমাণ ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা। অন্যদিকে, উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে আর্থিক চাপ আরও বেশি হতে পারে।

    কত টাকা লাগতে পারে?

    কলকাতায় বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সা। তেল সংস্থাগুলি যদি পরিচয় যাচাই না করা ঘরোয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক হারে দাম নেয়, তাহলে ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার টাকারও বেশি খরচ হতে পারে। যদিও পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের জন্য ঠিক কত দাম নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

    কতজনের পরিচয় যাচাই হয়েছে?

    তেল সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা-সহ মোট প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রাহক আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করেছেন। অর্থাৎ, এখনও একটি বড় অংশের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই বাকি রয়েছে।

    কীভাবে করবেন পরিচয় যাচাই?

    গ্রাহকরা তিনভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন- বাড়িতে বসে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে। নিজের গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে। সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় বা সমস্যার আশঙ্কা এড়াতে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    শেষ তারিখের আগে কাজ না সারলেই বাড়তে পারে খরচ

    অর্থাৎ, রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য এখন সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৬ অগাস্টের পর আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই না করা থাকলে ৯৬৮ টাকার ঘরোয়া সিলিন্ডার আর সেই দামে নাও মিলতে পারে। ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভর্তুকিও। বাণিজ্যিক হারে দাম নেওয়া হলে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের খরচ ২ হাজার টাকার গণ্ডিও পেরিয়ে যেতে পারে। তাই শেষ দিনের অপেক্ষা না করে এখনই আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করুন, নইলে রান্নার গ্যাসের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হতে পারে।

  • CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে (JSSC CGL Paper Leak) সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী, পরীক্ষার ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই উত্তর ছড়িয়ে পড়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট সামনে আসার পর রাজ্য সরকার তা কার্যত সরিয়ে রেখে দ্বিতীয়বার তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই দ্বিতীয় তদন্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ খারিজ করে পরীক্ষাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়।

    কীভাবে ছড়িয়েছিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর?

    সিআইডির (CID) প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা দিয়ে সেই উত্তর নিয়েছিলেন, তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে উত্তর সরবরাহ করা হয়েছিল। তদন্তে হজারিবাগ, জামশেদপুর, পটনা, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা এবং এমনকী নেপালের নামও উঠে এসেছে। অর্থাৎ, শুধু ঝাড়খণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই চক্রের কার্যকলাপ- এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সিআইডির(CID) রিপোর্টে।

    ইন্টারনেট বন্ধ করেও আটকানো যায়নি ফাঁস

    এর আগে প্রশ্নফাঁসের (JSSC CGL Paper Leak) অভিযোগের জেরে জেএসএসসির পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পুনরায় যাতে প্রশ্নফাঁস না হয়, সেই আশঙ্কায় পরীক্ষার সময় গোটা ঝাড়খণ্ডে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রশ্নফাঁস চক্রকে আটকানো যায়নি বলে অভিযোগ। এক পরীক্ষার্থীর দাবি, এবার সরাসরি প্রশ্ন নয়, তাঁদের কাছে উত্তরও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ইন্টারনেট না থাকায় ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করেও উত্তর জানানো হয়েছিল। ফোনে উত্তর বলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

    ‘প্রশ্ন নয়, উত্তর পেয়েছিলাম’

    পরীক্ষার্থী জিৎ কুমারের দাবি, তাঁদের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হয়নি, পাঠানো হয়েছিল উত্তর। তাঁর কথায়, পরীক্ষার পর তাঁরা জানতে পারেন যে হাতে পাওয়া উত্তরগুলি সঠিক ছিল। এ সংক্রান্ত প্রমাণ আদালতেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জিৎ কুমার এবং আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থী রাঁচির আদালতে মামলাও করেছেন। তাঁদের কাছে থাকা উত্তরগুলির ফটোকপিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, কেউ কেউ উত্তরগুলি লিখে রেখেছিলেন এবং পরে বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে সেগুলির মিল খুঁজে পান।

    সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের ছবি ঘিরে রহস্য

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি ছবির কথা উঠে এসেছে। ছবিটিতে সময় দেখা যাচ্ছে সকাল ৭টা ২৩ মিনিট, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। অর্থাৎ, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ওই ছবি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছবিটির অবস্থান হিসেবে জামশেদপুরের বিষ্ণুপুর এলাকার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে। এই ছবিই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    সিআইডির (CID) রিপোর্টে কী বলা হয়েছিল?

    রাজ্য সিআইডি ২০২৫ সালের মার্চে তদন্ত শেষ করে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, মোট ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর ফাঁস হয়েছিল। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপরই রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্টটি কার্যত সরিয়ে রেখে নতুন করে তদন্তের জন্য দ্বিতীয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

    দ্বিতীয় তদন্তে মিলল না প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ!

    দ্বিতীয় বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তের ফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষাকেও ক্লিনচিট দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আর তেমন অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরব থাকা পড়ুয়াদের ক্ষোভ থামেনি।

    জেএসএসসির পর জেপিএসসি, ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

    এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায়ও একই ধরনের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপর রাজ্যজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হয় বড়সড় আন্দোলন।

    ১৬ দিন ধরে আন্দোলনে পড়ুয়ারা

    ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতোর নেতৃত্বে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যেই সেই আন্দোলন ১৬ দিনে পড়েছে। সরকারের সঙ্গে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের একাধিক দফায় বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

    ‘পড়ুয়াদের দাবি যুক্তিসঙ্গত’

    পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় থাকা ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী দীপিকা সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়ারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাঁদের দাবিগুলিও যুক্তিসঙ্গত। সরকার সেই বিষয়গুলি সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে এজন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ফলে ২০২৪ সালের জেএসএসসি প্রশ্নফাঁসের পুরনো অভিযোগ, সিআইডির (CID) বিস্ফোরক রিপোর্ট এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া ক্লিনচিট- সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে।

  • Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে পাঁচ বালোচ ছাত্রকে (Baloch Students) জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে। বালোচ ছাত্রদের সংগঠন বালোচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি (Baloch Students Action Committee) জানিয়েছে, ৫ অগাস্ট গভীর রাতে করাচির (Karachi) গুলশান-ই-ইকবাল এলাকার একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সংগঠনটির।

    কারা নিখোঁজ? (Baloch Students)

    বিএসএসি (Baloch Students Action Committee)-র বিবৃতি অনুযায়ী, নিখোঁজ পাঁচ ছাত্র হলেন- আজহার বালোচ ও গওস বখশ বালোচ, দু’জনেই জনৈক হায়াতের ছেলে, শাহিদের ছেলে শেহজাদ বালোচ, আজিমের ছেলে আনিস বালোচ এবং মহম্মদ আমিনের ছেলে ওয়াসিম বালোচ। আজহার গওয়াদরের বাসিন্দা এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর ভাই গওস বখশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছেন। গওয়াদরের বাসিন্দা শেহজাদ পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। নওশকির বাসিন্দা আনিস দর্শন নিয়ে পড়ছেন। আর কালাতের বাসিন্দা ওয়াসিম পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

    গভীর রাতে আবাসনে অভিযান

    বিএসএসির দাবি, ৫ অগাস্ট রাত প্রায় ২টোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের সদস্যরা গুলশান-ই-ইকবালের ওই আবাসনে ঢোকেন। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে ছাত্রদের শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখানোর পর তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র-সহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ওই পাঁচ ছাত্র কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে বিএসএসি।

    আগে আরও দুই ছাত্র নিখোঁজ

    বিএসএসি জানিয়েছে, এই পাঁচজনের আগেও আরও দুই বালোচ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Karachi University) এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচ। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্য ছাত্র জুবেইর বালোচ নূর মহম্মদের ছেলে। তিনি হাব ডিগ্রি কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। চতুর্থ তফশিলের একটি মামলায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় হাব এলাকা থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে বিএসএসির দাবি, মোট সাত বালোচ ছাত্র বর্তমানে নিখোঁজ।

    ‘শিক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়েও নিরাপদ নন’

    বালোচ ছাত্রদের (Baloch Students) সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের এলাকা ছেড়ে করাচিতে আসা ছাত্রদেরই বারবার নিশানা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান- কোনও জায়গাই তাঁদের জন্য নিরাপদ থাকছে না বলে দাবি সংগঠনটির। বিএসএসি বলেছে, এই ধরনের ঘটনার ফলে শুধু ছাত্রদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তাঁদের পরিবারও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছে। সংগঠনটির দাবি, অবিলম্বে বালোচ ছাত্রদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, সাতজনকেই নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

    বালোচ (Baloch) ইয়াকজেহতি কমিটির নেত্রী সাবিহা বালোচের দাবি, বালোচ ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলির মধ্যে ভয় ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর এক বালোচ নেত্রী সামি দীন বালোচ জানিয়েছেন, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে ছয়জনই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচও রয়েছেন। তাঁর দাবি, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই খলিলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রদের নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত, নিখোঁজ করে দেওয়ার কেন্দ্র নয়। কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতে হাজির করা উচিত। অভিযোগ না থাকলে অবিলম্বে তাঁদের খুঁজে বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

    মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

    হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অব বালোচিস্তানও সাত ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ছাত্রদের অবস্থান জানাতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বৈধ অভিযোগ থাকলে আইন মেনে আদালতে হাজির করতে হবে। তা না হলে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ, পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    নিখোঁজ বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার

    এরই মধ্যে বালোচিস্তানে (Balochistan) আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া এক বৃদ্ধের দেহ লাসবেলা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হাইবাতান। তিনি মালো মাররির ছেলে এবং বেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৯ জুলাই বেলা ক্রস এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে হাব-সাকরান সড়কের গরিবাবাদ এলাকার কাছে রাস্তার ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেহে নির্যাতনের চিহ্ন এবং গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

    বালোচিস্তানে বাড়ছে উদ্বেগ

    বালোচিস্তানে (Balochistan) জোর করে নিখোঁজ করে দেওয়া ব্যক্তিদের পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের অভিযোগ নতুন নয়। পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। করাচিতে সাত বালোচ ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং লাসবেলায় এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে সেই উদ্বেগই সামনে এনেছে।

  • UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    UPI: ইউপিআই-তে চার্জ আসছে? কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জন্য বড় আপডেট, কী জানাল সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আপনি ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করেন? তাহলে এই খবর আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথ খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। সংসদে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই (UPI) লেনদেনে চার্জ বসানোর আইনি ক্ষমতা পেতে পারে সরকার। তবে এখনই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা কাটার কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেমন চলছে, তেমনই ইউপিআই (UPI) পরিষেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে। গুগল পে (Google Pay), ফোনপে (PhonePe), পেটিএম (Paytm) বা অন্য কোনও UPI অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনও ট্রানজেকশন ফি দিতে হবে না। Taxation and Other Laws (Amendment) Bill, 2026- এর মাধ্যমে এই আইনি পরিবর্তনের রাস্তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি Payment and Settlement Systems Act, 2007-এ সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। তাহলে কি ইউপিআই-তে (UPI) চার্জ আসছে? কার কাছ থেকে নেওয়া হবে? সাধারণ ব্যবহারকারীদের উপর কতটা প্রভাব পড়বে? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৫টি বিষয়।

    কাল থেকেই ইউপিআই (UPI) পেমেন্টে টাকা কাটা শুরু হবে?

    এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে উত্তর হল- না। বিল পাস হলেও আগামিকাল থেকে বা এখনই ইউপিআই (UPI) লেনদেনে কোনও চার্জ চালু হচ্ছে না। এই বিল শুধুমাত্র সরকারকে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে চার্জ চালুর আইনি ক্ষমতা দেবে। ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত ইউপিআই দিয়ে আগের মতোই বিনামূল্যে টাকা পাঠানো ও পেমেন্ট করা যাবে।

    টাকা দেবে কারা?

    সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইউপিআই (UPI)-তে কোনও ফি চালু হলেও তা সরাসরি গ্রাহকদের উপর চাপানো হবে না। প্রস্তাবিত এই চার্জের নাম এমডিআর (Merchant Discount Rate)। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এই চার্জ প্রযোজ্য হবে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, দোকানদার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা বড় সংস্থাগুলি ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করলে তাদের উপর এই চার্জ বসতে পারে। আপনি যদি ইউপিআই (UPI) দিয়ে বাজারের জিনিস কেনেন, বিদ্যুতের বিল দেন, রেস্তরাঁয় টাকা মেটান বা ক্যাব বুক করেন- তাহলে সাধারণ গ্রাহক হিসেবে সরাসরি কোনও চার্জ দেওয়ার কথা নয়।

    হঠাৎ কেন এমডিআর চালু?

    কেন্দ্রের যুক্তি, ইউপিআই (UPI) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ব্যাঙ্ক ও ফিনটেক সংস্থাগুলিকে নিয়মিত পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে ইউপিআই (UPI) লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ থেকে ব্যাঙ্ক বা পেমেন্ট সংস্থাগুলির কোনও সরাসরি আয় নেই। ফলে ভবিষ্যতে পরিষেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি আনার জন্য এমডিআর (Merchant Discount Rate)-এর মতো চার্জের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) কী বললেন?

    ইউপিআই (UPI)-তে চার্জ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগের জবাবে তিনি জানান, ইউপিআই সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠিক নয়। অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) স্পষ্ট করে বলেন, এমডিআর (MDR) শুধুমাত্র মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নয়। তিনি আরও জানান, ইউপিআই এবং Services Steering Committee, যার নেতৃত্বে রয়েছে এনপিসিআই (NPCI), এখনও এমডিআর চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    ইউপিআই-তে কত শতাংশ চার্জ বসতে পারে?

    এই মুহূর্তে সরকার কোনও নির্দিষ্ট এমডিআর হার ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য কিছু প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে বড় ব্যবসায়ীদের উপর ০.৩ শতাংশ থেকে ০.৫ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর বসানো হতে পারে। যেসব মার্চেন্টের বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ১.৫ কোটি টাকার বেশি, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। আরেকটি প্রস্তাবে লেনদেনের অঙ্কের বদলে ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে চার্জ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ চার্জের একটি সীমাও বেঁধে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

    কার উপর পড়বে সবচেয়ে বেশি প্রভাব?

    যদি ভবিষ্যতে ইউপিআই (UPI)-তে এমডিআর (Merchant Discount Rate) চালু হয়, তাহলে বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেশি। ছোট দোকানদার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকদের উপর চাপ কম রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে কার্ড পেমেন্টের ক্ষেত্রেও মার্চেন্টদের এমডিআর (Merchant Discount Rate) দিতে হয়। ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত প্রায় ১.৫ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ থাকতে পারে। ডেবিট কার্ডে তুলনামূলক কম চার্জ নেওয়া হয়।

    তাহলে ইউপিআই ব্যবহারকারীদের এখন কী চিন্তা করা উচিত?

    না, এখনই নয়। ইউপিআই (UPI) এখনও সম্পূর্ণ বিনামূল্যের পরিষেবা। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোনও ট্রানজেকশন চার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে যদি এমডিআর চালু হয়ও, তার বোঝা মূলত মার্চেন্টদের উপর পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। সুতরাং, আপাতত নিশ্চিন্তে ইউপিআই ব্যবহার করুন। চার্জ চালু হবে কি না, তা নির্ভর করবে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

  • Rabindranath Tagore: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ ২২ শ্রাবণে স্মরণ বিশ্বকবিকে, স্মৃতির আকাশে আজও অমর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    Rabindranath Tagore: ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য…’ ২২ শ্রাবণে স্মরণ বিশ্বকবিকে, স্মৃতির আকাশে আজও অমর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন প্রতি বছর ২২ শ্রাবণে (22 Shravan) একটু অন্যরকম হয়। আকাশে জমে থাকা মেঘ, টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, ভেজা কদমফুলের গন্ধ- সবকিছু মিলিয়ে যেন বাংলার বাতাসে ভেসে ওঠে এক পরিচিত সুর। কোথাও বাজে আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ…”, কোথাও আবার মনের অজান্তেই উচ্চারিত হয়- চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”। ২২ শ্রাবণ তাই কেবল একটি তারিখ নয়। এটি বাঙালির স্মৃতির দিন, আত্মপরিচয়ের দিন, সংস্কৃতির সামনে মাথা নত করার দিন। এই দিনেই, ১৯৪১ সালের ৭ অগাস্ট, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন ও সাংস্কৃতিক চিন্তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। তাঁর ভাবনা শুধু বাংলা ভাষার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, গড়ে দিয়েছে আধুনিক ভারতের মনন ও সাংস্কৃতিক চেতনাকেও। তাঁর লেখার মাধ্যমে বিশ্ব চিনেছিল ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আধ্যাত্মিকতা ও দর্শনের গভীরতাকে। তিনি আজও আছেন আমাদের ভাষায়, ভাবনায়, গানে, কবিতায়, প্রেমে, প্রতিবাদে, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসায় এবং মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাসে।

    অনুপ্রেরণার ২২ শ্রাবণ (22 Shravan)

    আজ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) প্রয়াণ দিবসে গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করছে গোটা দেশ। তিনি শুধু বাংলা সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাননি, আধুনিক ভারতীয় সাহিত্য, দর্শন এবং সাংস্কৃতিক চিন্তার অন্যতম নির্মাতা হিসেবেও ইতিহাসে নিজের নাম অমর করে গিয়েছেন। স্বাধীনতা, মানবতা, ভয়হীন চিন্তা এবং বিশ্বমানবতার যে বীজ তিনি রোপণ করেছিলেন, তার ছায়াতেই আজও আশ্রয় খোঁজে কোটি কোটি মানুষ। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন আজও নতুন প্রজন্মকে আলোর পথ দেখায়। ২২ শ্রাবণ তাই অনুপ্রেরণার দিনও।

    জোড়াসাঁকো থেকে বিশ্বমঞ্চ

    ১৮৬১ সালের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম নেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। এক অভিজাত পরিবারে জন্ম হলেও তাঁর মন পড়ে থাকত প্রকৃতির কোলে, মানুষের জীবনে, সমাজের পরিবর্তনের স্বপ্নে। শৈশব থেকেই ছিল সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর আকর্ষণ। অল্প বয়সেই লেখা শুরু। তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠলেন এমন এক স্রষ্টা, যাঁর পরিচয় শুধু কবি শব্দে সীমাবদ্ধ রাখা অন্যায়। তিনি ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, গীতিকার, সুরকার, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক এবং চিত্রশিল্পী। বাংলা ভাষা তাঁর হাতে শুধু সমৃদ্ধই হয়নি, বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ আসনেও পৌঁছে গিয়েছে।

    যে কলমে সৃষ্টি হয়েছে বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) সাহিত্যকে কোনও একটি ধারায় বাঁধা যায় না। তাঁর কলমে যেমন প্রেম আছে, তেমনি প্রতিবাদ; যেমন প্রকৃতি আছে, তেমনি মানুষের অন্তর্জগত; যেমন দেশপ্রেম আছে, তেমনি বিশ্বমানবতার আহ্বান। তাঁর লেখা ‘গীতাঞ্জলি’, ‘সোনার তরী’, ‘মানসী’, ‘বলাকা’, ‘গীতিমাল্য’-  বাংলা কাব্যসাহিত্যের ইতিহাসে আজও মাইলফলক। উপন্যাসে গোরা, ঘরে বাইরে, চোখের বালি, যোগাযোগ, শেষের কবিতা শুধু সাহিত্য নয়, সমাজ, রাজনীতি, জাতীয়তাবোধ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং মানুষের আত্মসঙ্কটকে নতুন দৃষ্টিতে দেখিয়েছে। ছোটগল্পে কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার, সমাপ্তি, ক্ষুধিত পাষাণ আজও বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদের মধ্যে গণ্য হয়। নাটকে ডাকঘর, রক্তকরবী, রাজা, অচলায়তন মানুষের মুক্তি, প্রশ্ন করার অধিকার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। শিশুদের জন্যও তিনি লিখেছেন অজস্র ছড়া, কবিতা ও গল্প। আবার তাঁর প্রবন্ধে উঠে এসেছে শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, সভ্যতা এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা।

    ‘গীতাঞ্জলি’

    তাঁর সাহিত্যজীবনের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ‘গীতাঞ্জলি’। ১৯১৩ সালে এই কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত হন। তিনিই প্রথম এশীয়, যিনি এই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, সমগ্র ভারতবর্ষকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক মানচিত্রে নতুন মর্যাদা এনে দেয়।

    বিশ্বভারতীর জন্ম

    কবিগুরুর অবদান শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা এমন হওয়া উচিত যা মানুষের সৃজনশীলতা, স্বাধীন চিন্তা এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনবোধ গড়ে তোলে। এই দর্শন থেকেই শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। আজও বিশ্বভারতী তাঁর সামগ্রিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং বিশ্বমানবতার আদর্শ বহন করে চলেছে।

    সুরে, দর্শনে, মানবতায় রবীন্দ্রনাথ

    দুই হাজারেরও বেশি গান লিখেছেন কবিগুরু। যা আজ রবীন্দ্রসঙ্গীত নামে শুধু একটি সঙ্গীতধারা নয়, বাঙালির জীবনযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু, প্রেম থেকে বিচ্ছেদ, পূজা থেকে প্রকৃতি, দেশপ্রেম থেকে আত্মঅন্বেষণ- মানুষের জীবনের এমন কোনও অনুভূতি নেই, যার জন্য তিনি একটি গান রেখে যাননি। সময় বদলেছে, পৃথিবী বদলেছে। প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। কিন্তু মানুষের আনন্দ, বেদনা, ভালোবাসা, একাকীত্ব, প্রশ্ন আর স্বপ্ন বদলায়নি। সেই কারণেই আজও বাঙালির মনে বারবার ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। তাই আজও ভোর শুরু হয়- “আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে…” দিয়ে। বর্ষার দিনে ভেসে আসে— “আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে…”। ভালোবাসার মুহূর্তে বাজে— “আমার পরান যাহা চায়…”। আবার দুঃসময়ে সাহস জোগায়— “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে…”। তাঁর প্রতিটি লেখা যেন আজও নতুন করে আমাদের প্রশ্ন করে- আমরা কি সত্যিই মুক্ত? আমরা কি সত্যিই মানবিক?

    জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্ঠা

    সঙ্গীত ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর সৃষ্টির অন্যতম গৌরব, ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।

    আজও পথ দেখায় বিশ্বকবির দর্শন

    কবিগুরুর সাহিত্য বারবার মানবমর্যাদা, স্বাধীনতা ও নৈতিক সাহসের কথাই বলেছে। তাঁর অমর পঙ্‌ক্তি—

    • “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”

    শুধু একটি কবিতার লাইন নয়, এটি এক মুক্ত সমাজের স্বপ্ন। আজও এই বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই সম্ভব, যখন মানুষ ভয়, কুসংস্কার, সংকীর্ণতা ও অজ্ঞতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবে।

    যতদিন বাংলা থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথও থাকবেন

    • “মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুরই রূপ,
      দুঃখ হয় হে দুঃখের কূপ।”

    হয়তো সেই কারণেই তিনি মৃত্যুকেও ভয় পাননি। তিনি জানতেন, শরীর একদিন থেমে যাবে, কিন্তু সৃষ্টি থেমে থাকে না। আজ ২২ শ্রাবণে (22 Shravan) যখন বৃষ্টি নীরবে ঝরে পড়ে, তখন মনে হয়, প্রকৃতিও যেন তার শ্রেষ্ঠ কবিকে স্মরণ করছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) আছেন বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষরে, প্রতিটি রবীন্দ্রসঙ্গীতে, প্রতিটি শিশুর প্রথম কবিতায়, প্রতিটি প্রেমপত্রে, প্রতিটি স্বাধীন চিন্তায়, প্রতিটি প্রতিবাদে। তিনি আছেন শান্তিনিকেতনের ছায়াঘেরা পথের ধুলোয়, কাশফুলের দোলায়, বর্ষার গানে, শরতের আকাশে, বসন্তের পলাশে। তিনি আছেন বাঙালির অস্তিত্বে। তাই ২২ শ্রাবণ কোনও সমাপ্তির দিন নয়। এটি এক অনন্ত আলোর সামনে মাথা নত করার দিন। কারণ মানুষ চলে যান, কিন্তু মহামানবেরা তাঁদের সৃষ্টির মধ্যেই যুগের পর যুগ বেঁচে থাকেন। যতদিন বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে, যতদিন মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখবে, যতদিন পৃথিবী মানবতার আলো খুঁজবে- ততদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) অমর হয়ে থাকবেন আমাদের মনে।

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

LinkedIn
Share