Tag: Bangladesh Crisis

  • Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    Bangladesh Crisis: বাংলাদেশে আবারও গণপিটুনির ঘটনা, রাজবাড়ীতে হিন্দু যুবক অমৃত মণ্ডল নিহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ফের হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করা হল। এবার ঘটনাস্থল রাজবাড়ি। মৃত যুবকের নাম অমৃত মণ্ডল। তিনি এলাকায় সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। বুধবার রাত এগারোটা নাগাদ পাংশা উপজেলার হোসেনডাঙ্গা পুরাতন বাজার এলাকায় ২৯ বছরের ওই যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কয়েকদিন আগেই ময়মনসিংহের ভালুকায় ২৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকেও খুন করেছিল মৌলবাদীরা। সেই রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এল।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিধন চলছেই

    পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অমৃত মণ্ডলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছিল, যার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী, অমৃত মণ্ডল স্থানীয় একটি গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যা ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল। তিনি রাজবাড়ী জেলার হোসেনডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অক্ষয় মণ্ডলের ছেলে। প্রসঙ্গত, মহম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার সবথেকে বেশি বেড়েছে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পরই সেখানে কার্যত হিন্দু নিধন শুরু হয়। বহু সংখ্যালঘুর বাড়িতে অত্য়াচার করে মৌলবাদীরা, লুটপাট চালায়। মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছিল। সম্প্রতি পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে খুন করেছিল উগ্রপন্থীরা। সেই ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

    ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে এবং ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখনও কোনও গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি বাংলাদেশে দ্বিতীয় গণপিটুনির ঘটনা। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানায় কর্মরত দীপু চন্দ্র দাসকে ইসলাম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে মারধর করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর তার মরদেহের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণের অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার জন্ম দেয়। পরপর দুটি ঘটনায় দেশে গণপিটুনি ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।

  • Osman Hadi Killed: হাদি হত্যার রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মৃতের ভাই ওমর

    Osman Hadi Killed: হাদি হত্যার রহস্যের পর্দা ফাঁস করলেন মৃতের ভাই ওমর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই ভরদুপুরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রকাশ্যে গুলি করা হয় বাংলাদেশি ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদিকে (Osman Hadi Killed)। এর পর সিঙ্গাপুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর কয়েক দিন পর তাঁর ভাইয়ের অভিযোগ, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের একটি গোষ্ঠী আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিল (Yunus Regime)।

    হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি (Osman Hadi Killed)

    ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যু হয় তাঁর। হাদির হত্যাকাণ্ডের জেরে ফের হিংসা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বাংলাদেশে। উত্তেজিত জনতা একাধিক প্রথম শ্রেণির সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা চালায়। হাদির ভাই শরিফ ওমর হাদি ঢাকার শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন। আর এখন এই ঘটনাকে ইস্যু করে নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছেন!”

    ওমরের অভিযোগ

    ওমর বলেন, “ওসমান চেয়েছিলেন ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং নির্বাচনী পরিবেশে কোনও ধরনের বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া যাবে না।” তিনি বলেন, “খুনিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুন, যাতে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি তদন্তের ফল আমাদের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। যদি ওসমান হাদির মৃত্যুর ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে আপনাকেও (ইউনূসকে) একদিন বাংলাদেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হবে।” ওমরের অভিযোগ, তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি কোনও সংস্থা বা কোনও বিদেশি প্রভুর কাছে মাথা নত করেননি (Osman Hadi Killed)।

    ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের দাবি করেন, ওসমানের হত্যাকাণ্ড জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের লক্ষ্যে করা একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্রে’র অংশ। তাঁর অভিযোগ, দেশের ভেতরে সক্রিয় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং ‘ফ্যাসিস্ট সহযোগীরা’ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। জাবের আরও দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের মাধ্যমে সরকার যেন খুনিদের জনসমক্ষে হাজির করে। অন্যথায়, তারা আন্দোলন আরও তীব্র করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিক্ষোভকারীরা জানান, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন (Osman Hadi Killed)।

    ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার কথা ২৫ ডিসেম্বর। তাঁরা কোনও কর্মসূচি পালন করবেন না। ওমরদের আশা, তারেক রহমান তাঁদের আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতি জানাবেন (Yunus Regime)।”

  • Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    Hindu Minorities: বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন, কড়া প্রতিক্রিয়া আমেরিকা- রাশিয়া-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ক্রমেই বাড়ছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের (Hindu Minorities) ওপর নৃশংস অপরাধের ঘটনা। বর্তমানে পদ্মাপারের এই দেশের রাশ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহম্মদ ইউনূস (Bangladesh)। তাঁর জমানায় এই জাতীয় ঘটনা কার্যত নির্বিঘ্নে চলতে থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে অমানবিক কার্যকলাপের অভিযোগে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনূস প্রশাসন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনপ্রণেতারা নিরপরাধ এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনির ঘটনার কড়া নিন্দে করেছেন। ঢাকায় অবস্থিত রুশ দূতাবাস ইউনূস সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান থেকে অঞ্চলটি বিচ্ছিন্ন করে ‘বাংলাদেশ’ নামের নতুন রাষ্ট্র গঠনের জন্য ভারত ও রাশিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, তা ভোলার নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই কঠোর স্মরণবার্তাগুলি বাংলাদেশের পক্ষে এক সতর্কবার্তাস্বরূপ। দেশটি বর্তমানে রাজনৈতিক হিংসা, গণপিটুনি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড এবং উগ্র ইসলামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত নানা চরমপন্থী নৃশংসতায় ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছে।

    মার্কিন সাংসদের তোপ (Hindu Minorities)

    হিংসার এই ধারা ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা জেনিফার রাজকুমার। নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিনিধি ও নাগরিক অধিকার আইনজীবী জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ঘটে চলা এক ভয়াবহ লাগাতার হিংসার ইঙ্গিত দেয়।” বিশ্ববাসীর কাছে তাঁর আহ্বান, মানবাধিকার, সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। জেনিফার বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু (Hindu Minorities) সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে চলা হিংসার ঘটনায় আমি গভীরভাবে বিচলিত। সাম্প্রতিক সময়ে এর ভয়াবহ উদাহরণ হল বাংলাদেশি হিন্দু দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা। একটি জনতা তাঁকে মারধর করে, আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং তাঁর দেহ একটি হাইওয়েতে ফেলে রেখে গেল!” তিনি বলেন, “এই ঘটনা বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন (Bangladesh) ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার এক উদ্বেগজনক ধারার অংশ। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি হিংসা ঘটনা ঘটেছে এবং ১৫০টিরও বেশি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।” জেনিফার বলেন, “বিশ্বের উচিত বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। বাংলাদেশের হিন্দুদের যে ভয়, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা আমাদেরও ভাগ করে নিতে হবে।”

    কানাডার নিশানায় বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর লাগাতার নৃশসংতার সমালোচনা করেছেন কানাডার কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ শুভ মজুমদারও। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো ‘পগরোম’ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।” বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে হিন্দুদের  (Hindu Minorities) বিরুদ্ধে সংঘটিত সব লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও জঘন্য অপরাধের জন্য জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে শুভ লেখেন, “এমন সময়ে আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-সহ সব সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে পগরোম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানাতে হবে এবং ইউনূস সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি বলেন, “মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পক্ষে আমাদের নিরলসভাবে কথা বলতেই হবে। এতে চরমপন্থাকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের নামে যারা যুক্তি দেখায়, বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ গণমাধ্যমের কিছু অংশ এবং হিংসা ও ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিতে না পেরে সমতুল্যতার মোহে আচ্ছন্ন রাষ্ট্রসংঘ যতই অস্বস্তিতে পড়ুক না কেন, তা আমাদের করতেই হবে।”

    বাংলাদেশে শেকড় গেড়েছে ধর্মীয় চরমপন্থা

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশে (Bangladesh) যে ধর্মীয় চরমপন্থা শেকড় গেড়েছে, তাকেই কটাক্ষ করেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতার পর থেকে বাংলাদেশে হাজার হাজার হিংসার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।” কানাডার সাংসদ বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যখন একদিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার নিন্দা করছে এবং গ্রেফতারির কথা ঘোষণা করছে, তখনও নিপীড়নের এই ধারাবাহিকতা থামেনি। স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে উগ্রপন্থী শক্তিগুলি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সংখ্যালঘুদের ওপর অপরাধ বন্ধে এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া সমালোচনাও(Hindu Minorities) করেন তিনি।

    সরব কানাডার আরও এক সাংসদও

    কানাডার আর এক সাংসদ মেলিসা ল্যান্টসম্যানও বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরা ক্রমবর্ধমান হিংসার শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গণহামলা, যৌন নির্যাতন, মন্দির ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি।” তিনি জানান, ২০২৪ সালেই বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে ২০০০-এরও বেশি সহিংস ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মেলিসা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সময় থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।”

    রুশ হাই কমিশনের কড়া বার্তা

    বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত রুশ হাই কমিশনও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলাদেশের মুক্তিতে ভারতের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা বাংলাদেশকে কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে ভারত ও রাশিয়ার ত্যাগের ফলেই বাংলাদেশের(Bangladesh) জন্ম হয়েছে। তাই ঢাকা যেন দেরি না করে নয়াদিল্লির সঙ্গে উত্তেজনা কমায় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভারত ও রাশিয়ার ভূমিকার কথা কখনও ভুলে না যায় (Hindu Minorities)।”

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে বাংলাদেশকে সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যে নিত্য হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার যে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে রুশ রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশে জড়িয়ে পড়া উত্তেজনা দ্রুত কমানোর আহ্বান জানান। রুশ রাষ্ট্রদূত বলেন, “১৯৭১ সালের যুদ্ধে ভারত, বাংলাদেশ(Bangladesh) ও রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল। সাম্প্রতিক উত্তেজনা যত দ্রুত সম্ভব কমাতে হবে। কারণ তা ভারত বা বাংলাদেশ, কোনও দেশেরই স্বার্থে নয় (Hindu Minorities)।”

  • Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি পেশায় ছিলেন ঢাকার (Bangladesh) পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির এক অতি সাধারণ কর্মী। ধর্মে হিন্দু। বছর পঁচিশের এই দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) রোজগারেই চলত দাসেদের সংসার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে খুন করে দীপুকে। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলাদেশিদের একাংশ। বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দের ঝড়।

    তুমুল উত্তেজনা (Dipu Chandra Das)

    বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি কারখানার ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে ছড়ায় তুমুল উত্তেজনা। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দীপুকে আক্রমণ করে। মারধর করে নির্মমভাবে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ভালুকা মডেল থানার তদন্তকারী আধিকারিক আবদুল মালেক জানান, হত্যার পর জনতা ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের পাশে দীপুর মরদেহ ফেলে দিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কের দু’পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবারের ঘটনার নিন্দে করেছে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নতুন বাংলাদেশের মধ্যে এই ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

    রবিলাল দাসের বক্তব্য

    দীপুর বাবা রবিলাল দাস জানান, তাঁর পরিবার প্রথম ঘটনাটির কথা জানতে পারেন (Bangladesh) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমরা ফেসবুকে দেখেছিলাম। ফেসবুক থেকেই নানা কথা কানে আসতে শুরু করে। তারপর আরও মানুষ বলতে থাকে। শেষে একজন এসে আমায় বলল, আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে, ভীষণভাবে মারা হয়েছে (Dipu Chandra Das)। তারপর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে আমার কাকা এসে জানাল যে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। তাকে একটি গাছে বেঁধে রেখেছে।” তিনি জানান, এরপর সেই জনতা তাঁর ছেলের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পোড়া ধড় আর মাথা একসঙ্গে বেঁধে বাইরে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা যে কী নৃশংস, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কথাগুলি বলেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন সদ্য সন্তান হারানো বাবা। পরে নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে রবিলাল জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস পাননি। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনওরকম আশ্বাস দেয়নি। কেউ কিছুই বলেওনি (Dipu Chandra Das)।”

    গ্রেফতার ৭

    এদিকে, দীপুকে নৃশংসভাবে মারধর ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গ্রেফতার করেছে (Bangladesh) সাতজনকে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় র‍্যাব-১৪ পরিচালিত একাধিক অভিযানের পর এদের গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল মহম্মদ লিমন সরকার, মহম্মদ তারেক হোসেন, মহম্মদ মানিক মিঞা, এরশাদ আলি, নিজুমউদ্দিন, মহম্মদ আলমগির হোসেন এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন। বিশিষ্ট লেখিকা তথা মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং পুলিশের হেফাজতে থাকার পরেও তাঁকে কার্যত ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

    তসলিমার বক্তব্য

    এক্স হ্যান্ডেলে তসলিমা লেখেন, দীপু চন্দ্র দাস ছিলেন একজন দরিদ্র শ্রমিক। তাঁর এক মুসলিম সহকর্মী তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দীপুকে শাস্তি দিতে চেয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য (Bangladesh) করার মিথ্যে অভিযোগ তোলে (Dipu Chandra Das)। যার জেরে শুরু হয় উন্মত্ত জনতার হিংসা। এতেই সব শেষ হয়ে যায়।” তাঁর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা দীপুর ওপর হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে তাঁকে মারধর করে। পরে পুলিশ দীপুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং তাঁকে পুলিশি সুরক্ষায় রাখা হয়। দীপুর পরিবারের অবস্থার কথা তুলে ধরে তসলিমা জানান, দীপু ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করতেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইতিহাস ত্যাগকে স্মরণ করে। কিন্তু আজ যে মাটি একদিন ভারতীয়দের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছিল, সেই মাটিই এখন নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে কলুষিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।” তিনি বলেন, “আমাদের বীর সৈনিকরা শুধু একটি যুদ্ধ লড়েননি, তাঁরা আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভূখণ্ডের লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করতে প্রায় ৩,৯০০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ বলি দিয়েছিলেন (Bangladesh)। জখম হয়েছিলেন ১০ হাজারেরও বেশি সৈনিক। অন্যরা যাতে শান্তিতে বাঁচতে পারে, তাই আমরা আমাদের জীবন দিয়েছিলাম (Dipu Chandra Das)।”

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দু নির্যাতন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack) চলছেই। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই নিপীড়ন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণগুলির গভীরতা ও ব্যাপ্তিকে উপেক্ষা করেছে (Roundup Week)। কারণ এর পেছনে রয়েছে ভয়াবহ হিন্দু-বিদ্বেষমূলক মানসিকতা। জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবের ওপর আক্রমণ, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই হিন্দুরা এখন তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ ও অভূতপূর্ব হিন্দু-বিদ্বেষের মুখোমুখি। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক গত ২৩ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই সপ্তাহে কী কী ঘটনা ঘটেছে দেশ এবং বিদেশে।

    উত্তরাখণ্ডে নারীর ধর্মান্তর (Hindus Under Attack)

    প্রথমে দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে বাংলাদেশের নাগরিক মামুন হাসানকে অবৈধভাবে অবস্থান, নথি জালিয়াতি এবং রীনা চৌহান নামে এক নারীর ধর্মান্তর ও পরবর্তী বিবাহের পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।   উত্তরপ্রদেশে জুনাইদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আর্যন রাজপুত নামে ভুয়ো পরিচয়ে একটি ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল তৈরি করে এক হিন্দু নাবালিকাকে প্রলোভন দেখায়, যৌন নির্যাতনও করে। এডাপাডাভুরে স্কুটারে থাকা চারজন যুবকের একটি দল সোমবার সন্ধ্যায় ২২ বছর বয়সী অখিলেশের ওপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন, পরে গ্রেফতার করা হয় আরও একজনকে।

    ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে হিন্দু মেয়েকে প্রলোভন

    ইউপির সীতাপুর জেলার খৈরাবাদ এলাকার পণ্ডিত পুরওয়ার বাসিন্দা নাজিম। সে পেশায় ট্রাক চালক। অভিযোগ, সে অজয় নামে ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম পরিচয় ব্যবহার করে নিজের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে এক হিন্দু মেয়েকে প্রলোভন দেখায়। পরে তাকে নিয়ে পালিয়েও যায়। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে (Roundup Week)। ২৫ নভেম্বর অযোধ্যায় রাম মন্দিরে ধ্বজারোহন উপলক্ষে (Hindus Under Attack) এক বিরাট অনুষ্ঠান হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মন্দিরের চূড়ায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেন। প্রত্যাশিতভাবেই, পাকিস্তান, কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং ভারতের ‘ওয়োক’ মহলের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা ও সমালোচনা করা হয়েছে। কালাবুরগী শহরের রামনগর এলাকায় রিং রোডে ঘটে যাওয়া এক উদ্বেগজনক ঘটনায় রোহিত এবং অনিল নামে দুই ব্যক্তি একটি লরি থামিয়ে তাতে অবৈধভাবে গবাদি পশু বহনের সন্দেহে নথি পরীক্ষা করতে চান। অভিযোগ, তাঁরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তাঁদের ওপর সহিংস হামলা চালানো হয়।

    বাংলাদেশের ছবিটাও বিশেষ বদলায়নি। এখানে প্রায় ১৫০ বছরের পুরানো ‘সুন্দরী মিত্র বাড়ি দুর্গা মন্দির’, যা সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল ছিল, রাতারাতি ভেঙে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ, এটি বেআইনি জমি দখল করতেই করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

  • Islamist Extremists: এবার লালন ফকিরের পবিত্র মাজার ভেঙে ফেলার হুমকি বাংলাদেশের মৌলবাদীদের

    Islamist Extremists: এবার লালন ফকিরের পবিত্র মাজার ভেঙে ফেলার হুমকি বাংলাদেশের মৌলবাদীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূস জমানায় অব্যাহত মন্দির-উপাসনাস্থল ভাঙচুরের ঘটনা (Islamist Extremists)। অন্তর্বর্তী এই সরকারের আমলেই বাউল শিল্পীদের ব্যাপক হয়রান করা হয় বলে অভিযোগ (Lalon Fakir)। গ্রেফতারও করা হয় অনেককে। এ সবের পর এবার বাংলাদেশের কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি হুমকি দিয়েছে উনিশ শতকের সাধক-কবি ও আধ্যাত্মিক নেতা ফকির লালন শাহের পবিত্র মাজার ভেঙে ফেলার। লালন তাঁর সাম্যবাদী ও মানবতাবাদী দর্শনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।

    লালনের মাজার ভেঙে ফেলার হুমকি (Islamist Extremists)

    বাংলাদেশের সাংবাদিক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত এক উগ্রপন্থী সদস্যকে লালনের মাজার ভেঙে ফেলার হুমকি দিতে শোনা গিয়েছে। সেখানে তিনি মাজারটিকে ‘অ-ইসলামিক’ বলে দাবি করেছেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তি বলেন, “লালনের কবর হল শিরকের প্রতীক, এবং ইমান রক্ষার জন্য এটি ভেঙে ফেলা জরুরি।” ওই মৌলবীর অভিযোগ, মাজারটি এখন মদ ও গাঁজা খাওয়ার জায়গায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, যদি এটি বন্ধ করা না হয়, তবে তাঁরা গণআন্দোলন শুরু করবেন এবং কবরটি ভেঙে ফেলবেন।

    লালনের মাজার

    বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক হৃদয়ভূমি নামে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলার ছৌড়িয়া গ্রামে রয়েছে লালনের এই মাজার। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ লালন মেলা উপলক্ষে সমবেত হন এখানে। এখানে বাউল শিল্পীরা ঐক্য ও অতীন্দ্রিয়তার বার্তা বহনকারী তাঁর কালজয়ী বাউল গান পরিবেশন করেন (Islamist Extremists)। প্রসঙ্গত, এই হুমকিটি এসেছে বাউল শিল্পীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে, যাঁরা সুফি, বৈষ্ণব এবং আদিবাসী ঐতিহ্যের মিশ্রণে লালনের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন। ইউনেসকো কর্তৃক ‘মানবজাতির অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত বাউল গানের পরিবেশনা ২০২৪ সালের অগাস্টে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে পড়ছে, যেখানে উগ্রপন্থীরা এগুলিকে ‘ধর্মবিরোধী’ এবং প্রচলিত ইসলামী ধারণার জন্য ‘হুমকি’ আখ্যা দিচ্ছে (Lalon Fakir)।

    বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা

    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে বাউল শিল্পীদের ওপর আক্রমণের বেশ কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এর শুরু ১৯ নভেম্বর, যখন ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বিশিষ্ট বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরপরই ‘তাওহিদি জনতা’ ও ‘আলেম-উলামা’ ব্যানারে পরিচালিত সহিংস মুসলিম দলগুলি আদালত চত্বরে আবুলের ওপর হামলার চেষ্টা করে (Islamist Extremists)। আবুলের গ্রেফতারের প্রতিবাদে যখন অন্য বাউল শিল্পীরা পথে নামেন, তখন তাঁদেরও বিভিন্ন স্থানে মৌলবাদীরা আক্রমণ করে। বাউল শিল্পীদের জবাই করার প্রকাশ্য আহ্বানও জানানো হয়। ২৬ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলায়, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার জন্য কুখ্যাত ইসলামি সংগঠন তাওহিদি জনতার সদস্যরা বাউল শিল্পীদের এক সমাবেশে হামলা চালায়, পাথর ছোড়ে এবং ‘জবাই করার’ স্লোগান দেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় শিল্পীরা হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে পাশের জলাশয়ে ঝাঁপ (Lalon Fakir) দিচ্ছেন, এবং বেশ কয়েকজন গুরুতরভাবে জখমও হন (Islamist Extremists)।

    “একটা দুইটা বাউল ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর”

    ২৩ নভেম্বর ধানমন্ডিতে গ্রেফতার হওয়া বাউল নেতা আবুলের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে যোগ দেওয়া লোকজনকে লাঠি ও ইট দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। হামলার হাত থেকে বাঁচতে চার বাউল শিল্পী রাস্তার পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। হামলাকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। পরে জখম অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। মানিকগঞ্জের রাস্তা তখন মুখরিত হচ্ছিল “একটা দুইটা বাউল ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর” স্লোগানে। সেদিন ধর্মীয় মৌলবাদীরা বাউল শিল্পীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে মিছিল করছিল। এ মাসের শুরুতেও একই ধরনের গ্রেফতারি অভিযান বাউল সমাজকে নাড়িয়ে দেয়। জয়পুরহাট ও দিনাজপুরে আরও কয়েকজন শিল্পীকে আটক করা হয়। অভিযোগ, তাঁরা অশ্লীল হিসেবে চিহ্নিত নারীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন (Islamist Extremists)।

    হীরক রাজার তথ্য

    বাংলাদেশ বাউল ও লোকশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সর্দার হীরক রাজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে লালন স্মরণে অনুষ্ঠিত বহু অনুষ্ঠান-সহ ৩০০টিরও বেশি সঙ্গীত সমাবেশ হুমকির কারণে বাতিল করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার সুফি গায়ক জামাল অগাস্টে এক সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ করে বলেন, “দশক ধরে আমরা ভয়হীনভাবে গান গেয়েছি। কিন্তু এখন ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছে।” বাউল গায়করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি। কিন্তু ইউনূস সরকারের অধীনে তাঁরা এখন আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন।

    এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লালন শাহ নামের এক শিল্পী। আধুনিক কোনও শিক্ষা ছাড়াই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বাউল শিল্পী হিসেবে। শৈশবে এক মুসলিম ফকির তাঁকে আশ্রয় দেন। পরবর্তী কালে তিনি (Lalon Fakir) কুষ্টিয়ায় লালন আখড়া প্রতিষ্ঠা করেন—যা ধর্ম ও সম্প্রদায়ের বাঁধন অতিক্রমকারী এক আধ্যাত্মিক চর্চার কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। সেই আখড়াই এখন হুমকির মুখে (Islamist Extremists)।

  • Bharat Bangladesh Relation: ‘‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত’’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিল্লির

    Bharat Bangladesh Relation: ‘‘বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত’’, হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত চায়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। সোমবার ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’-এর তরফে সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর এই ইস্যুতে মুখ খুলল ভারত। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ (Bharat Bangladesh Relation) আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ভারতের নজরে রয়েছে। পাশাপাশি নয়াদিল্লি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেখানকার সব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সুষ্ঠু যোগাযোগ রাখবে দিল্লি।

    কী বলল ভারতের বিদেশমন্ত্রক

    জুলাই অভ্যুত্থানে দেশছাড়া হওয়ার পর থেকে মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে অসংখ্য মামলা হয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। গুরুতর মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে জুলাই বিপ্লবী ছাত্রদের উপর গুলি চালানো তথা মানবতাবিরোধী অপরাধ, আয়নাঘর সংক্রান্ত অভিযোগ ইত্যাদি। সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপরই সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় হাসিনাকে। বাংলাদেশ আদালতে রায় ঘোষণার পর বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা ভারতের নজরে রয়েছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। নয়াদিল্লি চায় বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। সেই লক্ষ্যে নয়াদিল্লি সব পক্ষের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে যোগাযোগ রাখবে।’

    ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি

    বর্তমানে ভারতে (Bharat Bangladesh Relation) রয়েছেন আওয়ামি লিগ নেত্রী হাসিনা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, হাসিনাকে ফেরাতে চেয়ে ভারতের কাছে আবারও চিঠি দেবেন তাঁরা। তবে বিচারের সম্মুখীন হতে ভারত তাঁকে আদৌ বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী আদালতের রায়ে প্রত্যর্পণ করানোর মতো অপরাধ করে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক দেশ অপর দেশের হাতে তুলে দেবে। ২০১৩ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন কেন্দ্রে মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। অন্য দিকে, ঢাকার মসনদে হাসিনাই।

    কখন প্রত্যর্পণ হবে না

    চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, অপরাধটির যদি রাজনৈতিক চরিত্র থাকে, তা হলে প্রত্যর্পণ করা হবে না। খুন, গুম করা এবং অত্যাচার (যেগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি হাসিনা অভিযুক্ত) রাজনৈতিক অপরাধের তালিকায় রাখা হবে না বলেও চুক্তিতে বলা হয়েছে। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে, বিচারের নেপথ্যে যদি সৎ কোনও উদ্দেশ্য না-থাকে, তা হলে ভারত বা বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করবে না। হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না-করার জন্য এই যুক্তিগুলি খাড়া করতে পারে ভারত। হাসিনা নিজেও বারবারই তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। বিচারের নামে প্রহসনের অভিযোগও তুলেছেন।

    ভারত হাসিনাকে প্রত্যর্পণে বাধ্য নয়

    বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মধ্যে থাকা বেশ কয়েকটি শর্তের জন্যই ভারত (Bharat Bangladesh Relation) হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয় বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ নিয়ে চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সোমবারের রায়ের পর বাংলাদেশে হাসিনার প্রাণসংশয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, যদি কোনও দেশে কারও জীবনের ঝুঁকি থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আশ্রয় দেওয়া দেশ তাঁকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য নয়। হাসিনার ক্ষেত্রেও এই আইনের কথা তুলে ধরতে পারে ভারত। তাই নানা নিয়ম অনুসারেই ভারত হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করতে বাধ্য নয়। এই প্রসঙ্গে আইনগত দিকও রয়েছে। হাসিনা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু দেশে না-থাকার জন্য হাসিনাকে যদি তা করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে তা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    ভারতের বিবৃতি স্পষ্টবার্তা

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে মামুন রাজসাক্ষী। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে (Bharat Bangladesh Relation) অবস্থান করছেন। মৃত্যুদণ্ডের পরই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের প্রত্যর্পণের আর্জি জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ২ জনকে হস্তান্তরের আর্জি জানায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান জানায় দিল্লি। ইউনুসের শাসনে গোটা বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার হাওয়া তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনা সরকার ছিল ভারতের বন্ধু। তবে, ভারতের বিবৃতি স্পষ্টবার্তা যে কোনও পক্ষপাত নয়, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের পাশাপাশি কূটনৈতিক স্বার্থে সে দেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সমানভাবে যোগাযোগ রাখবে ভারত। অর্থাৎ, ইউনুসের বাংলাদেশ আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করলেও ভারত সেই দলকে যেমন গুরুত্ব দেবে একইভাবে বিএনপি-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেবে ভারত। পাশাপাশি এটাও ইউনুস প্রশাসনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ভারত সমর্থন করে না। গণতান্ত্রিক পথে আওয়ামি লিগকে বাকি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

  • Bangladesh Crisis: জ্বলছে বাংলাদেশ, ককটেল বোমা, গাড়িতে আগুন! আজ হাসিনার রায় ঘোষণা

    Bangladesh Crisis: জ্বলছে বাংলাদেশ, ককটেল বোমা, গাড়িতে আগুন! আজ হাসিনার রায় ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis)। আজ, সোমবার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা মামলায় রায় ঘোষিত হবে। রায় শোনাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তার আগের রাতে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে বাংলাদেশে। রবিবার রাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার বাড়ির কাছে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণ হয়েছে ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টি -র কার্যালয়ের সামনেও।কে বা কারা এই ককটেল হামলা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    বাংলাদেশ জুড়ে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি

    রবিবার থেকে দু’দিন ব্যাপী বাংলাদেশ জুড়ে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ডেকেছে হাসিনার দল আওয়ামি লীগ। বর্তমানে এই দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। শুরু হয়েছে ধরপাকড়ও। এরই মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটতে শুরু করেছে। দফায় দফায় অশান্তির খবর আসছে বাং। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাড়ি, বাস, সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এমনকি, অ্যাম্বুল্যান্সেও ককটেল হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রবিবার সন্ধ্যায় দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা পুলিশ। বলা হয়েছে, কোথাও কাউকে মানুষ, গাড়ি বা পুলিশের উপর অগ্নিসংযোগ বা ককটেল ছুড়তে দেখলেই গুলি করতে হবে। কিন্তু তার পরেও একাধিক জায়গা থেকে এই ধরনের হামলার খবর এসেছে।

    সকাল ১১টা থেকে রায়দান প্রক্রিয়া শুরু

    গত বছর ৫ অগাস্ট হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের চাপে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ইস্তফা দেন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও। সেই থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। জুলাই মাসে বাংলাদেশের ছাত্রযুবদের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে হাসিনার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সংক্রান্ত মামলায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির রায় ঘোষণা করবেন। আজ প্রথম মামলার রায়দান। সকাল ১১টা থেকে রায়দান প্রক্রিয়া শুরু হবে। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে হাসিনার বিরুদ্ধে রায়দান।

    রায়দানের বিরোধিতা বাংলাদেশ জুড়ে

    শুধু শেখ হাসিনা নন, এই মামলায় বাকি দুইজন অভিযুক্ত হলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। যদিও প্রাক্তন পুলিশকর্তা এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছেন। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের সাজার দাবি করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল দেশ ছাড়ার পরই। আজ আদালত কী রায় দেয়, তার দিকেই নজর। তবে তার আগে থেকেই জ্বলছে বাংলাদেশ। রবিবার, রাতভর বিক্ষোভ, হামলা চলে। এমনকী বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাড়ির সামনেও ককটেল বোমা ছোড়া হয়। শ্যামপুর, গাবতলী, মহাখালী সহ একাধিক জায়গায় ককটেল বোমা ছোড়া হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। ককটেল বোমায় আহত হয়েছেন কয়েকজন।

    গুলি চালানোর নির্দেশ ইউনূসের

    রোষ আছড়ে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্ট মহম্মদ ইউনূসের তৈরি করা গ্রামীণ ব্যাঙ্কের উপরও। একাধিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। গাছ কেটে রাস্তা অবরোধও করা হয়। ছাত্রলিগও রাস্তায় নেমে মশাল মিছিল করেছে ঢাকা-বরিশালে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। পুলিশ ও সেনাও পথে নামানো হয়েছে। যদি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করা হয় বা সরকারি দফতরে হামলা করা হয়, তাহলে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

  • Bangladesh Crisis: ইসলামী চরমপন্থীদের কাছে ফের মাথা নত ইউনূসের, বাংলাদেশে বন্ধ সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ

    Bangladesh Crisis: ইসলামী চরমপন্থীদের কাছে ফের মাথা নত ইউনূসের, বাংলাদেশে বন্ধ সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশকে মৌলবাদীদের কবলে ঠেলে দিচ্ছে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দিন দিন মৌলবাদীদের দাপাদাপি বেড়েই চলেছে পড়শি দেশটিতে (Bangladesh Crisis)। যে দেশ একসময় কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান নিয়ে গর্ব করত, সেই দেশেই এখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত শিক্ষকের নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী, সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পদ বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আখতার খান জানান, “অগাস্টে প্রকাশিত নিয়মে চারটি শ্রেণির পদ ছিল, তবে সংশোধিত নিয়মে দুটি পদ রাখা হয়েছে। সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষকের পদ নতুন নিয়মে নেই।”

    মৌলবাদীদের দাবির কাছে নতি স্বীকার

    বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি চরমপন্থী ইসলামী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গীত শিক্ষকের পরিবর্তে আলেম নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল। জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, “সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষক নিয়োগ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও জাতির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” আরেক নেতা মুজিবুর রহমান দাওরায়ে হাদিস ও ফাজিল ডিগ্রিধারী আলেমদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের আহ্বান জানান। এরপর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) ও খেলাফত মজলিশসহ বিভিন্ন সংগঠন সঙ্গীত শিক্ষা ‘নাস্তিকতা’ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে। আইএবির আমির সায়েদ রেজাউল করিম হুমকি দেন, ইসলামী আলেম নিয়োগ না হলে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত

    উগ্রবাদীদের হুঙ্কারে এরপরই গুটিয়ে যান নোবেল জয়ী ইউনূস। ইসলামী মৌলবাদীদের আপত্তি থাকায় এবার বাংলাদেশের প্রাথমিক স্কুলে সঙ্গীত ও শারীরশিক্ষার প্রশিক্ষনের দেওয়ার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল হয়ে গেল। মুছে দেওয়া হল নিয়োগ – বিজ্ঞপ্তি। প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হল ইউনূস প্রশাসনকে। সংশোধিত বিধিমালায় সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগের বিষয়টি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাসুদ আখতার খান জানান, গত অগাস্টে জারি করা বিধিমালায় ৪ টি শ্রেণীর পদ থাকলেও, নতুন সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে দুটি শ্রেণীই রাখা হয়েছে। সেখানে সঙ্গীত ও শারীরিক শিক্ষার সহকারী শিক্ষকের পদ রাখা হয়নি। ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির চাপের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে, আখতার খান কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    ইউনুসের ইসলামপন্থী তোষণ নীতি

    কোরান ও হাদিসের বিভিন্ন উদ্ধৃতি অনুযায়ী ইসলামে সঙ্গীত হারাম বলে বিবেচিত। ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে ইসলামপন্থার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি প্রথমে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী পুনরায় বৈধতা দেন, পরে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’-এর নেতা জাসিমউদ্দিন রহমানিকে মুক্তি দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাগুলোকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে মন্তব্য করেন ইউনুস। আওয়ামি লিগ ও তার ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে তিনি ইসলামপন্থীদের আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দেন।

    মৌলবাদ ও নারীবিদ্বেষের উত্থান

    বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis) কিছুই আর ঠিকঠাক নেই, ইসলামী মৌলবাদ সেখানে ক্রমশ প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউনূস সরকারের এই পদক্ষেপ ধর্মীয় মৌলবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের সময় সীমিত পরিসরের সংগঠনগুলি এখন প্রকাশ্যে সক্রিয় এবং সরকারের উপর নীতিগত চাপ প্রয়োগ করছে। এই একই সংগঠনগুলি সম্প্রতি ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে, যাকে তারা ‘চরমপন্থী সংগঠন’ বলে অভিহিত করেছে। তদুপরি, তারা নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে হিংসার হুমকি দিয়েছে। জুলাই ২০২৫-এ বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দেয় যে মহিলা কর্মীরা ছোট পোশাক, ছোট হাতা জামা বা লেগিংস পরতে পারবেন না। নির্দেশনায় হিজাব পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। নারী অধিকার রক্ষা কর্মীরা একে “তালেবানি নির্দেশনা” বলে নিন্দা জানান। একই বছর ইসলামী দল ‘জমায়াত-চরমোনাই’ ঘোষণা দেয়, তারা নির্বাচনে জিতলে বাংলাদেশকে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী অধিকার কমিশন বিলুপ্তির দাবি তোলেন মৌলবাদীরা।

    বাংলাদেশ অন্ধকারের পথে

    মহম্মদ ইউনুসের শাসনামলে বাংলাদেশে (Bangladesh Crisis) ধর্মীয় উগ্রতা, নারীর ওপর সহিংসতা, ও সাংস্কৃতিক দমন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিপরীতে, আজকের বাংলাদেশ ক্রমশ তালেবানি রূপ নিচ্ছে—যেখানে সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইউনূসের এহেন সিদ্ধান্তে অবাক হচ্ছেন না। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার এই ধরনের সিদ্ধান্তই নিয়ে চলেছে মসনদে বসার পর থেকে। এর আগে দেখা গিয়েছে, মৌলবাদী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ও কওমি ওলামা পরিষদের কোপ পড়েছিল লালন স্মরণোৎসবে। লালনের মতাদর্শ সঠিক নয় ও ইসলাম বিরোধী এরকম দাবি তুলে প্রশাসনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও বন্ধ করে দেওয়া হয় অনুষ্ঠানটি। এইভাবে দিন দিন মৌলবাদীদের দাপাদাপি বেড়েই চলেছে। ফলে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল করায় অবাক হওয়ার কিছু নেই ‘নতুন’ বাংলাদেশে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

     

     

     

     

     

     

  • Bangladesh Crisis: ভুয়ো অভিযোগ তৈরি করে হিন্দু ও ইসকনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত! বাংলাদেশে ইমাম অপহরণের মিথ্যা নাটকের পর্দাফাঁস

    Bangladesh Crisis: ভুয়ো অভিযোগ তৈরি করে হিন্দু ও ইসকনের বিরুদ্ধে চক্রান্ত! বাংলাদেশে ইমাম অপহরণের মিথ্যা নাটকের পর্দাফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভুয়ো অভিযোগ তৈরি করে ইসকন ও হিন্দুদের (Hindus in Bangladesh) বিরুদ্ধে চক্রান্ত হাতে-নাতে ধরল বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) পুলিশই। পদ্মা পারে সনাতনীদের বার বার মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। হিন্দু তথা ইসকনকে (ISKCON in Bangladesh) নিশানা করা হয় নানা আছিলায়। যদিও সত্য বেশি দিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। ফের তার প্রমাণ মিলল। মুফতি মুহিবুল্লাহ মিয়াজি (৬০) নামের এক ইমাম সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, যে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর সকালে টঙ্গির টিএন্ডটি কলোনির জামে মসজিদ থেকে অজ্ঞাত চার-পাঁচজন তাঁকে অপহরণ করে। তারা তাঁর চোখ বেঁধে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে পঞ্চগড়ের এক স্থানে হাতে পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অপহরণকারীরা তাঁকে জোর করে ইসকন-কে সমর্থন এবং “অখণ্ড ভারত” স্লোগান উচ্চারণ করিয়েছিল। যদিও সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে বাংলাদশের পুলিশই প্রমাণ করে দিল এই ঘটনা পুরোপুরি সাজানো।

    ইমামকে অপহরণের মিথ্যা নাটক 

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) গাজীপুর মেট্রোপলিটন থানার পুলিশরা জানায়, ইমামকে অপহরণের ঘটনা সাজানো। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ইমাম মুহিবুল্লাহ অপহরণের পেছনে ইসকন জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে তিনি নিজে শ্যামলী পরিবহণের বাসের টিকিট কেটে পঞ্চগড় গিয়েছেন। পুলিশ জানায়, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রহস্য উদঘাটন করেছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় ইমাম মুহিবুল্লাহর বাসের সহযাত্রী এবং বাসের সুপারভাইজারও পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। ইতিমধ্যে ইমাম মুহিবউল্লাহ পুলিশের কাছে প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করেছেন। এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুহিব্বুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টঙ্গি পূর্ব থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ব্রিফিং দেওয়া হয়নি, তবে সূত্র জানায়—জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুহিব্বুল্লাহ স্বীকার করেছেন যে ঘটনাটি তাঁর নিজের ইচ্ছাতেই ঘটেছে।

    ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবি

    গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৭টা নাগাদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাধীন হেলিপ্যাড বাজার এলাকায় শিকল বাঁধা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমামকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন জানান, শরীরে কোনও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি; শুধু ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। ইমামের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশে অচিরেই শুরু হয় ইসকনকে বদনাম করার অপপ্রয়াস। দেশব্যাপী কিছু ইসলামী সংগঠন প্রতিবাদ-মিছিল আয়োজন করে। ইসকনকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে।

     মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা 

    হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজোড়া অশান্তির আবহে সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতনের একের পর এক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযোগ, দেশের নানা প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর চালানো হয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতেও। ইউনূস-পরিচালিত অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে অভিযোগ। তবে ইউনূস সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও ধর্মীয় অধিকার সুনিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন বার বার। কিন্তু বরাবর বাংলাদেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন হিন্দু সংখ্যালঘুরা। সনাতনী ও ইসকনের উপর অত্যাচার চলেছে। মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। ইমামকে অপহরণের ঘটনা ফের তারই প্রমাণ দিল।

    শান্তি, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি- ইসকনের আদর্শ

    ইমামকে অপহরণের এই ঘটনাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-কে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আচমকা উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ (Bangladesh Crisis) । রাজধানী ঢাকা-সহ গোটা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করল ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠন। ইসকন নেতারা তখনই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর পিছনে বড় রকমের চক্রান্ত রয়েছে। বাংলাদেশে ইসকন শাখার সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গুজব ছড়িয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের, বিশেষত ইসকনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।’ তাঁর দাবি, ইসকন হচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক, অরাজনৈতিক, অহিংস, ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্থা। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো, গীতার আদর্শ প্রচার, নৈতিকতা, সমাজসেবা, শান্তি, সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসার। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ইসকন ভক্তদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তা ছাড়া, কোনও হিন্দু ব্যক্তি বিশেষ আইনবিরোধী কোনও ঘটনায় যুক্ত হলেই তাকে ঢালাও ভাবে ‘ইসকন সদস্য’ বলে প্রচার করা হচ্ছে। তারপরে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তোলা হচ্ছে। যা পরিকল্পিত নীল নকশার অংশ। চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী সরকারের কাছে এ সব গুজব, মিথ্যা, অপপ্রচার ও হুমকির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘ইসকন দেশের সরকার, আইন, সংবিধান ও প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

LinkedIn
Share