Tag: Bangladesh unrest

  • Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্রমেই বাড়ছে হিন্দু খুনের ঘটনা। রবিবার রাতে এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। এ নিয়ে দেশে (Hindu Rickshaw Puller Killed) সাম্প্রতিক হিংসায় বলি হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২। উল্লেখ্য, ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। জানা গিয়েছে, সমীর ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

    ফের হিন্দু খুন (Bangladesh)

    পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একটি উপজেলা হাসপাতালের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনাটি ডাকাতি ও খুনের। তদন্ত চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দিন কয়েক আগেই নরসিংদী জেলার এক হিন্দু মুদি দোকানির দোকানে হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায়ও তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার জেরে আরও দুই হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে জয় মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান। অভিযোগ, মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে বিবাদের পর তিনি বিষ খান। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, কিস্তি বাবদ ৫০০ টাকা না (Hindu Rickshaw Puller Killed) দেওয়ায় দোকানদার আমিরুল ইসলাম তাঁকে মারধর, অপমান ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন (Bangladesh)।

    আরও হিন্দু খুন

    এদিকে, উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক এলাকায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে মিঠুন সরকার নামে বছর পঁচিশের এক হিন্দু যুবক একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এক হিন্দু স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং কুড়িগ্রাম জেলার এক হিন্দু ডেপুটি কমিশনারকে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ভয় দেখানো হয়েছে (Bangladesh)। তবে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনার নিন্দা করলেও, বারবার দাবি করেছে যে এই ঘটনাগুলি সাম্প্রদায়িক নয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা ব্যতিক্রমী মাত্র (Hindu Rickshaw Puller Killed)। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (Bangladesh)।

    ইউনূসের বাংলাদেশে হিন্দু-নিধন যজ্ঞ

    • ১) ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২) ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩ ও ৪) ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ৫) ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ৬) ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ৭) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ৮) ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৯) ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ১০) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ১১) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
  • Border Security Force: বাংলাদেশে অস্থিরতার জেরে সীমান্তে হাই অ্যালার্ট, চিকেন’স নেকে ১২ ফুট উঁচু নতুন বেড়া বসাল বিএসএফ

    Border Security Force: বাংলাদেশে অস্থিরতার জেরে সীমান্তে হাই অ্যালার্ট, চিকেন’স নেকে ১২ ফুট উঁচু নতুন বেড়া বসাল বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে (India-Bangladesh Border) উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মোদি সরকার। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন’স নেক (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (Border Security Force) প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে নতুন নকশার সীমান্ত বেড়া (নিউ ডিজাইন ফেন্সিং বা এনডিএফ) স্থাপন করেছে।

    বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষভাবে সংবেদনশীল সীমান্ত অংশগুলিতে ১২ ফুট উচ্চতার নতুন ধরনের বেড়া বসানো হয়েছে, যা কাটা ও টপকানো অত্যন্ত কঠিন। এই বেড়া কাটতে কয়েক মিনিট সময় লাগে, ফলে অনুপ্রবেশ ও পাচার কার্যকলাপ কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এলাকা আধিপত্য কৌশলে পরিবর্তন

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকা আধিপত্যের লক্ষ্যে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনায় বড়সড় বদল এনেছে। নতুন কৌশলের আওতায় সীমান্তের (India-Bangladesh Border) কাছে গবাদিপশু সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে পাচার চক্রের মূল শিকড়ে আঘাত হানতে বিএসএফ দলগুলি ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান চালাচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি।

    অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়া পদক্ষেপ

    সাম্প্রতিককালে ভুলবশত অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ (Border Security Force)। পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পটভূমি যাচাইয়ের পর তাঁদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের আঙুলের ছাপ ও ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে, যাতে কোনও অপরাধমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

    পাচারবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফ (Border Security Force) প্রায় ৮৫ কোটি টাকার পাচারকৃত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, সোনা, রুপো, বন্যপ্রাণীর অংশ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য। এই সময়ে ৪৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক (পাচারকারী ও দালালসহ), ১৫২ জন ভারতীয় এবং ১১ জন অন্যান্য ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ১৮৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আগামী দিনের পরিকল্পনা

    বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনে সীমান্তে (India-Bangladesh Border) বেড়ার আওতা আরও বাড়ানো হবে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। যে কোনও পরিস্থিতিতে চিকেন’স নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

  • Bangladesh Burning: হাতিয়ার হাদি-হত্যা! ভারত-বিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি ভোটের আগে মৌলবাদকে ইন্ধন? নেপথ্যে কারা?

    Bangladesh Burning: হাতিয়ার হাদি-হত্যা! ভারত-বিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি ভোটের আগে মৌলবাদকে ইন্ধন? নেপথ্যে কারা?

    সুশান্ত দাস

     

    ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ফের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। এবার কট্টরপন্থী তরুণ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে ভোটের মুখে ফের ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানির আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে পদ্মাপারের দেশে। গত ১২ তারিখ খুব কাছ থেকে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে ঢাকায় গুলি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার, সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান হাদি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত উত্তাল হয়ে ওঠে।

    বৃহস্পতিবার রাতভর সে দেশের একাধিক জায়গায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দফতরে হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ধানমণ্ডিতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপেই ফের চালানো হয় হামলা, ধরানো হয় আগুন। পরে ধানমন্ডিতেই প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সন্‌জীদা খাতুন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এ ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেখান থেকে হারমোনিয়ান সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র চুরি করে নিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। রাজশাহীতে আওয়ামি লিগের পার্টি অফিসে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনাও সামনে এসেছে।

    এরই মধ্যে, কট্টরপন্থীরা এই হত্যার ঘটনার নেপথ্যে শেখ হাসিনা ও ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ করে তোলে। বাংলাদেশি কট্টরপন্থীদের দাবি, হাদিকে গুলি করা ফয়সল করিম নাকি ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ নেই। তবে এই সুযোগে ভারত বিদ্বেষের ঝড় উঠেছে সেই দেশে। ফলে, প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে ভারত-বিরোধী হাওয়া তোলার জন্যই কি হাদিকে হত্যা করা হল? হাদি যে ভারত ও হাসিনা-বিরোধী ছিলেন, তা সর্বজনবিদিত। ফলে, তাঁকে হত্যা করে গোটা দায় শেখ হাসিনা-আওয়ামি লিগ ও ভারতের ওপর চাপিয়ে দিলে কার সবথেকে বেশি লাভবান হবে? তাহলে, হাদির হত্যা কি একটা বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র? নাকি ভোটে প্রভাব ফেলতে এটা সুপরিকল্পিত জামাতি-কৌশল?

    ভারত-বিরোধী চক্রান্তের আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তার হাতে গরম প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবার রাতেই। জুলাই মাসের মতোই, ফের ভারতকে টার্গেট করার অপচেষ্টায় ফের সক্রিয় কট্টরপন্থী আন্দোলনকারীরা। আর তাদের কথায় রাস্তায় নেমে পড়েছে এক শ্রেণি দিকভ্রান্ত, উন্মত্ত বাংলাদেশি জনতা। বিভিন্ন শহরে ভারতীয় উপ দূতাবাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন থেকে শুরু করে ইট-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। কোথাও ভারতকে নিশানা করে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজশাহীতে ভারতীয় উপ দূতাবাসের অফিসে হামলার চেষ্টা করে ইসলামি কট্টরপন্থীরা। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় উপ দূতাবাসকে লক্ষ্য করে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে। হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এমনকী প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়। বলে, ‘‘প্রয়োজনে আমরা রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেব।’’ চট্টগ্রামেও ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায় কট্টরপন্থীরা। সেখানেও হামলার চেষ্টাও করে তারা।

    শুধু এই নয়। গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী একটা প্রচার চালানো হচ্ছে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। ফের, ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস ও উপ-দূতাবাসে হামলা চালানোর ডাক দেওয়া হচ্ছে। সব রাগ যেন গিয়ে পড়েছে ভারতের উপরেই। গত বুধবারই ঢাকার গুলশনে ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্দেশে মিছিল করে বিক্ষোভকারীরা। এই বিক্ষোভের ঠিক আগে ভারতীয় কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দিল্লিতে তলব করে ভারত। দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছিল বিদেশমন্ত্রক। সেখানে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত। ইতিমধ্যেই ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীতে যে কারণে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি (আইভিএসি) বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচটি আইভিএসি সেন্টার রয়েছে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্ব সিলেটে অবস্থিত। এদের মধ্যে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভিএসি হল সমস্ত ভারতীয় ভিসা পরিষেবা পাওয়ার প্রধান কেন্দ্র।

    অর্থাৎ, ইঙ্গিত পরিষ্কার। ভারতের ক্ষতিসাধন। ভারতকে বদনাম। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এই গোটা ঘটনায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে? ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবশ্যই পাকিস্তানের নাম এই তালিকার সবার ওপরে থাকবে। বিশেষ করে, হাসিনার পতনের পর, সেদেশে পাক সেনা ও আইএসআই-এর প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের কট্টরপন্থী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীরাও বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, কট্টরপন্থী বাংলাদেশিদের আরও উস্কে দিয়ে, তাদের মনে ভারত-বিদ্বেষের বিষ ভরে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। এর জন্য, যদি এক-দুটো প্রাণের বলি চড়াতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ৭১-এর হার কখনই মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। বিশেষ করে বাংলাদেশের আলাদা হওয়াটা। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই রাগ পুষে রেখেছে। হাসিনা-পতনের পর, তাদের কাছে নতুন সুযোগ এসেছে অচিরে বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব-পাকিস্তানে পরিণত করার (যাতে তারা অনেকটাই সফল)। হতে পারে হাদি-হত্যা এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তালিকায় পিছিয়ে নেই চিন-আমেরিকাও। তাদের উদ্দেশ্য ভারতের উন্নতি রোখা। ভারতের বিরুদ্ধে ‘ডিপ-স্টেট’ কার্যকলাপ করা। এক কথায় বাংলাদেশকে গাজায় পরিণত করে, ভারতকে এই দিকে আটকে রাখা, যাতে ভারত অর্থনৈতিকভাব সুপারপাওয়ার হওয়ার দিকে মনোনিবেশ না করতে পারে।

    এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশির দশক থেকেই বলে আসছি, বিনা যুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মৌলবাদ ও চরমপন্থা মানবসভ্যতার জন্য ক্যান্সারের মতো। এই ক্ষত থেকে মুক্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশে শুধু মুক্তমনা মানুষ নয়, যাঁরা ধর্মীয় আগ্রাসনে বিশ্বাস করেন না, কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকেন না, তাঁরাও আজ আক্রান্ত। এই ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়বে। ইউরোপেও তা বাড়ছে, কানাডার দিকেই তাকান। এই ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে ভারতবাসী রুখে দাঁড়াবে।”

    তবে, বিশ্লেষকদের আর একটি অংশের মতে, হাদি হত্যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বদলের চেষ্টাও হতে পারে। তাঁদের মতে, সামনে নির্বাচন। তাই দেশে মৌলবাদ-ঝড় তুলতে হাদিকে মারার ছক করা হতে পারে। এক্ষেত্রে, সবচেয়ে লাভবান হওয়ার কথা কট্টরপন্থী জামায়তে ইসলামির (বাংলাদেশে যারা জামাত বলেই পরিচিত)। এই বিশ্লেষকদের মতে, এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। একদিকে, হাদি-হত্যাকে হাতিয়ার করে ভারত-বিরোধী আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া দেশে। আর সেই আগুনের আঁচে আসন্ন ভোটে পদ্মাপারের দেশকে নিজেদের কায়েমে আনা যাবে। ফলে, জামাতের পক্ষে সব সম্ভব, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Bangladesh Crisis: ভোটের আগে নীতি নির্ধারণে জামাত! বাংলাদেশে কি চালু হবে শরিয়া আইন?

    Bangladesh Crisis: ভোটের আগে নীতি নির্ধারণে জামাত! বাংলাদেশে কি চালু হবে শরিয়া আইন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh Crisis) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতৃত্বে রয়েছেন মহম্মদ ইউনূস (Md Yunus)। এই সরকারই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনের আগে জামাত-ই-ইসলামিকে নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় অনেকেই মনে করছেন নির্বাচনী প্রক্রিয়া গভীরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে। মৌলবাদী বিভিন্ন ইসলামি গোষ্ঠী দেশে শরিয়া আইন কার্যকর করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা দেশকে ইসলামিক স্টেটে পরিণত করার জোরালো দাবিও তুলেছে।

    জামাতের প্রভাব (Bangladesh Crisis)

    জামাতের প্রভাব বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসনে গোপন থাকছে না। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক নীতির ওপর দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশ থেকে এটা স্পষ্ট যে তাদের অ্যাজেন্ডা সরকারিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। জামাতের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে প্রাথমিক পর্যায়ে নাচের শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে তারা দাবি করেছে, বিদ্যালয়গুলিতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।

    জামাতের যুক্তি

    জামাতের সাধারণ সম্পাদক মিঞা গোলাম পরওয়ার এই নির্দেশের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “ধর্মীয় শিক্ষকের পরিবর্তে সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষক নিয়োগ মেনে নেওয়া হবে না। সঙ্গীত বা নৃত্য শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। যদি কোনও পরিবারের এই ধরনের কার্যকলাপে তীব্র আগ্রহ থাকে, তাহলে তারা নিজেরাই বেসরকারি শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু সকল সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা অপরিহার্য।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের তরুণরা একটি নৈতিক সংকটের মুখোমুখি এবং কেবল ধর্মীয় শিক্ষাই মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” উল্লেখ্য, এই ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে আফগানিস্তানে তালিবান নীতির ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে (Md Yunus)।

    হিংসায় ইন্ধন

    তীব্র আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। তারপর থেকে সে দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি। রিপোর্টে জানা গিয়েছে, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর মাত্র প্রথম সপ্তাহেই সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর ২০০টিরও বেশি হামলা হয়েছে। জামাতের (Bangladesh Crisis) ছাত্র সংগঠন, ইসলামি ছাত্রের সঙ্গে যুক্ত ক্যাডাররাই হিংসায় ইন্ধন জুগিয়েছে এবং সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। পরবর্তীকালে হিন্দুদের ওপর এই হিংসা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। জামাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জেলবন্দি উগ্রপন্থী ও অপরাধীদের মুক্তি এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির ওপর সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় দেশের অগ্রগতি থমকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, নীতি পুলিশের বাড়বাড়ন্ত এবং নারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে তালিবানীকরণের প্রাথমিক প্রমাণ (Md Yunus)।

    পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে

    নিষেধাজ্ঞার জেরে আগামী বছরের নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে থাকছে না আওয়ামি লিগ। তাই বেগম খালেদা জিয়ার দল বিএনপির জয় একপ্রকার নিশ্চিত। তবে, যদি কোনও কারণে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে জামাতের সঙ্গে জোট গঠন করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনও পথ খোলা থাকবে না। এই ধরনের পরিস্থিতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে। শেখ হাসিনার আমলে নয়াদিল্লি ও ঢাকা শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতায় জড়িত ছিল। কিন্তু ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে (Bangladesh Crisis)। ভারতীয় কর্তারা পড়শি দেশের এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পাকিস্তানের আইএসআই দ্বারা প্রভাবিত বিএনপি-জামাত জোট অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

    ইসলামিকরণের পরিকল্পিত প্রচেষ্টার সংকেত

    জামাতের বর্তমান আক্রমণাত্মক মনোভাব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে ইসলামিকরণের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার সংকেত (Md Yunus) বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সাতের দশক থেকে দলটি পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সঙ্গে মিলিত হয়ে ইসলামি অ্যাজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কাজ করে আসছে বলে খবর। বর্তমানে নির্বাচনের প্রচারেও একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করা হচ্ছে ঠিকই, তবে আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ করা, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ এবং নিয়ম-নীতি প্রণয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে জামাত।

    বাংলাদেশে লাগু হবে তালিবানি শাসন!

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই বাংলাদেশে লাগু হবে তালিবানি শাসন। যে শাসনের জেরে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-চাকরি ছেড়ে ঘরবন্দি হতে হয়েছে আফগানিস্তানের মহিলাদের। ত্যাগ করতে হয়েছে নাচ-গানের মতো বিনোদনের বিভিন্ন মাধ্যমের মোহ। তালিবান শাসিত (Md Yunus) আফগানিস্তানে মহিলারা কার্যত পরিণত হয়েছেন ক্রীতদাসীতে। যেখানে তাঁদের নিজেদের ইচ্ছের কোনও দাম নেই, মর্যাদার তো প্রশ্নই নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে, সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ঘরবাড়ির নীচে চাপা পড়ে যাওয়া পুরুষদের উদ্ধার করা হলেও, মহিলাদের উদ্ধার করা হয়নি। স্রেফ মহিলা হওয়ায় তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কোনও পুরুষ সদস্যও (Bangladesh Crisis)।

    বাংলাদেশের মহিলাদেরও কি সেই হাল হবে?

  • Bangladesh Crisis: সনাতন ধর্মের অবমাননা! উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিক্ষোভ হিন্দু পড়ুয়াদের

    Bangladesh Crisis: সনাতন ধর্মের অবমাননা! উত্তাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিক্ষোভ হিন্দু পড়ুয়াদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সনাতন ধর্ম (Sanatan Dharma) অবমাননার অভিযোগে প্রতিবাদ করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Dhaka University) হিন্দু পড়ুয়ারা (Hindu students)। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় লাগোয় রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু-ছাত্রছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সম্মিলিত সনাতন নাগরিক জোটের সদস্যরা। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের (Bangladesh Crisis) রেজিস্ট্রার পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

    বিতর্কের সূত্রপাত সোশ্যাল সাইটের পোস্ট

    বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র আবু সায়েমের একটি ফেসবুক পোস্ট (face book post)। তাতে সে হিন্দু ধর্মকে অবমাননা (insult to Hindu dharma) করে আপত্তিজনক কথাবার্তা লেখে। জাকি আহম্মেদ নামে আর এক ছাত্র হিন্দুদের হত্যা (call for killing) করার ডাক দেয়। ওই দুই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে পথে নামে হিন্দু ছাত্ররা। তারা স্লোগান দেয়, ‘মানি না, মানব না, ধর্মের অবমাননা’। তাদের দাবি, ‘এক দুই তিন চার চাই সায়েমের বহিষ্কার’।

    ছাত্রদের ৩ দফা দাবি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ছাত্র সৌরভ বালাই এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা এ দেশের নাগরিক। আমরা চাই যেন নাগরিকের সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারি।’ তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ বন্ধ করতে সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। এক ছাত্রী বলেন, যে ধরনের পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তা কোনও সংখ্যালঘু দিলে অনেক আগেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়ে দিত। অভিযুক্ত সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের বলেই প্রশাসন হাত গুটিয়ে আছে। আর এক ছাত্রী বোটানি বিভাগের সুমি বিশ্বাস দাবি করেন, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। রেজিস্ট্রারের কাছে হিন্দু পড়ুয়ারা যে দাবিপত্র পেশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ম অবমাননার ঘটনা নির্মূল করতে হবে। অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে পাকাপাকিভাবে বহিষ্কারের পাশাপাশি হিন্দু ছাত্ররা শিক্ষকদের বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বাংলা, সংস্কৃত বিভাগে সাহিত্য সমালোচনার ক্লাসে শিক্ষকদের অনেকেই হিন্দু ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা, অবমাননামূলক মন্তব্য করে থাকেন। শিক্ষকদেরও সতর্ক করতে বলেছে হিন্দু ছাত্ররা।

    ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

    এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দফতর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ প্রদানের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সান্টু বড়ুয়া, সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের অতিরিক্ত পরিচালক মোস্তাক আহমেদ। এ ছাড়া বাকি তিনজন হলেন সহকারী প্রক্টর মুহা. রফিকুল ইসলাম, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশিস পাল এবং প্রাধ্যক্ষ স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন।

LinkedIn
Share