Tag: Bangladesh

Bangladesh

  • Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    Hilsa: উলটপূরাণ! প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ, ওপার বাংলায় যাচ্ছে ৭০০ টন ‘রুপোলি শস্য’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ইলিশ (Hilsa) বাণিজ্যের চেনা ছবিটাই যেন বদলে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারত যে পরিমাণ ইলিশ আমদানি করেছিল, তার চার গুণেরও বেশি ইলিশ এবার বাংলাদেশে রফতানি করতে চলেছে ভারত। চলতি বছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬৫০ থেকে ৭০০ টন পর্যন্ত ইলিশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    গত দু’মাসে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে ঢুকেছে। চলতি সপ্তাহান্তের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরু থেকেই এই রফতানি শুরু হয়েছে।

    অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে (Hilsa)

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশ এসেছে গুজরাট থেকে। সেগুলি ভারুচ বন্দর দিয়ে পাঠানো হয়েছে। কিছু ইলিশ আবার হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজার হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। প্রায় সমস্ত রফতানিই করেছেন হাওড়ার ব্যবসায়ীরা।

    হাওড়া পাইকারি মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার বলেন, “আমরা সাধারণত বাংলাদেশে বোয়াল, রুই, পার্শে ও ট্যাংরা-সহ বিভিন্ন ধরনের মাছ রফতানি করি। সেখানে ইলিশের জোগান কম থাকায় এই প্রথম ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করেছি। গুজরাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আসার পর তার কিছুটা বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিই। বাংলাদেশের বাজারে সেই ইলিশ ভালো সাড়া পায়। পরে আরও ইলিশ রফতানি শুরু করি। এখনও পর্যন্ত ৫০০ টন ইলিশ রফতানি করেছি। দু’দিন আগে গুজরাটে আরও ৫০০ টন ইলিশের বড়সড় জোগান এসেছে। তার মধ্যে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টন বাংলাদেশে পাঠাব আশা করছি।”

    গুজরাটের ইলিশে ডিম বা মাছের ডিমের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কলকাতায় এই ইলিশের চাহিদা সীমিত। তবে এই বৈশিষ্ট্যই বাংলাদেশি ক্রেতাদের কাছে গুজরাতের ইলিশকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মাছ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে এই ইলিশের ডিম সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। পরে তা ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রফতানি করা হয়। ওই দেশগুলিতে প্রচুর বাংলাদেশি বসবাস করেন।

    কী বলছেন বাংলাদেশের আমদানিকারী 

    বাংলাদেশের এক আমদানিকারী বলেন, “ইলিশের ডিম বের করে নেওয়ার পর মাছের মাংস শুকিয়ে নুন দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। তাজা ইলিশের মতো করে এই মাছ খাওয়া হয় না।”

    পেট্রাপোলের ছাড়পত্রের কাজের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে যাওয়া অধিকাংশ ইলিশের ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে দেড় কিলোগ্রামের মধ্যে। গুণমানের উপর নির্ভর করে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে রয়েছে (Hilsa)।

    পেট্রাপোল ছাড়পত্রকর্মী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “মাছগুলির প্রয়োজনীয় খাদ্যমান পরীক্ষা করা হয়। প্রাণী কোয়ারেন্টাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শংসাপত্র নেওয়া হয়। পণ্য পাঠানোর আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া মেনে চলা হয়।”

    ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা প্রদীপ দে-র মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের ইলিশের উৎপাদন, প্রাপ্যতা এবং ক্রেতাদের চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের প্রতিফলন এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

    প্রদীপ বলেন, “ইলিশের বিপরীতমুখী বাণিজ্যপ্রবাহ দেখাচ্ছে যে, দেশের অভ্যন্তরে মাছের পর্যাপ্ত জোগান, গুণমান এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা হলে ভারত প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহকারী হিসেবে উঠে আসতে পারে।”

    পদ্মা-মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবি

    এদিকে বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের রফতানি চললেও বাংলাদেশ থেকে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে আনার দাবিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মাছ আমদানিকারী সমিতির সম্পাদক ও সৈয়দ মকসুদ আনোয়ার অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান এবং ভারতীয় হাইকমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ ভারতে রফতানির বিষয়টি তুলে ধরেন তাঁরা।

    মকসুদ বলেন, “আমরা রফতানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ঠিক করে দেওয়ার অনুরোধ করেছি। তবে (Bangladesh) কোনও সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানাইনি। কারণ নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে বরাদ্দ করা ইলিশের (Hilsa) সামান্য অংশই ভারতে পৌঁছতে পারে।”

     

  • Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    Bangladesh: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা বাংলাদেশের, পর্যালোচনায় ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে চায় বাংলাদেশ। অতীতের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে পিছনে ফেলে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের (Bangladesh) বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন, বহুপাক্ষিক মঞ্চের পরিবর্তে সরাসরি (BRICS Summit) দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে চায় বাংলাদেশ।

    এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এল, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী নয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকার শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, এসব চুক্তির কোনগুলি বহাল থাকবে, কোনগুলি সংশোধন করা হবে এবং কোনগুলি বাতিল করা হতে পারে, তা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    ভারতের সঙ্গে ‘নতুন সম্পর্ক’ চায় ঢাকা (Bangladesh)

    হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও বাংলাদেশের উচিত নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা।

    তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন সম্পর্কের দিকে এগোতে চাই। এই সম্পর্ক বহুপাক্ষিক মঞ্চের মাধ্যমে নয়, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারতকে নিয়ে এই অতিরিক্ত মোহ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ভারত অন্য সব দেশের মতোই একটি দেশ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা উচিত।”

    ভারতকেন্দ্রিক অতিরিক্ত মনোযোগ বোঝাতে তিনি বলেন, “ভারতে প্রাতরাশ, ভারতে মধ্যাহ্নভোজ, ভারতে নৈশভোজ—তা হলে নিজের দেশের খাবার খাবেন কখন?”

    হুমায়ুন কবির আরও জানান, শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসন কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক “অস্বস্তিকর” হয়ে উঠেছিল। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সরাসরি আলোচনার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগোতে চায় (Bangladesh)।

    ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে ঘিরে টানাপোড়েন

    সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের এই বার্তার ঠিক আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ভারতীয় পক্ষের আমন্ত্রণ ছিল বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগের চেয়ারম্যান হিসেবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকেই দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য পৃথক আমন্ত্রণও ছিল (BRICS Summit)।

    দু’দিনের ব্রিকস সম্মেলন রবিবার শেষ হয়েছে। সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ভারতের সঙ্গে ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা

    এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছিলেন, হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার।

    তিনি বলেন, “আমরা ১০১টি সমঝোতা স্মারক-সহ চুক্তিগুলি পর্যালোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানতে পারবেন (Bangladesh)।”

    চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রসঙ্গও ওঠে। নূরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে এমন কিছু ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি জাহাজ বন্দরে এলে বিদেশি জাহাজ সুবিধা পেত। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন বা বাতিল করার কথাও জানান তিনি।

    তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

    হাসিনা প্রসঙ্গ এখনও সম্পর্কে বড় বাধা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে (Bangladesh)।

    এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ঢাকা অতীতের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পরিবর্তে সরাসরি যোগাযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে যেতে চাইছে।

    ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন তারেক

    এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে থাকবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

    সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তারেকের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হতে পারে কি না, সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সময় এই ধরনের বৈঠক অনেক ক্ষেত্রেই শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয় (BRICS Summit)।

    তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখা। পার্শ্ববৈঠকগুলির বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে (Bangladesh)।

    সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনকে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন এবং ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবার সম্পর্ক পুনর্গঠনের স্পষ্ট বার্তা এল। তবে সেই নতুন সম্পর্কের ভিত্তি হবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং (BRICS Summit) দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা (Bangladesh)।

     

  • Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    Bangladesh Bengali Hindus:  চিন্ময় প্রভুর ঘটনায় নীরবতা কেন, প্রশ্ন উঠল বাঙালি সংহতি-ধর্মনিরপেক্ষতার মানদণ্ড নিয়েও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালি পরিচয় কি সত্যিই ধর্মের ঊর্ধ্বে, নাকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেই সংহতিও হয়ে ওঠে বেছে নেওয়া? বাংলাদেশে (Bangladesh Bengali Hindus) হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যিনি চিন্ময় প্রভু নামেই পরিচিত, তাঁর গ্রেফতারি ও তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এমনই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে, যাঁরা নিয়মিত বাঙালি পরিচয়, মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে সরব হন, তাঁদের একাংশের নীরবতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।

    চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারি (Bangladesh Bengali Hindus)

    চিন্ময় প্রভু বাংলাদেশের এক হিন্দু সন্ন্যাসী। তাঁর গ্রেফতারিকে ঘিরে বহু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে (Bengali Prem)। রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অবস্থান যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা, আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার এবং হিংসা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত—এটাই হওয়া উচিত মূল প্রশ্ন। চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে তৈরি হওয়া মানবিক পরিস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

    বছর একাত্তরের সন্ধ্যা রানি ধর চট্টগ্রামে তাঁর ছেলের আশ্রমে মারা যান। জেলে থাকা ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি তাঁর। একজন মায়ের কারাবন্দি সন্তানকে না দেখে মৃত্যুবরণ করার ঘটনায় অন্তত মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ পাওয়া উচিত ছিল বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কিন্তু ওই ঘটনায় যথেষ্ট প্রতিবাদ হয়নি বলেই খবর। যাঁরা নিয়মিত মানবতাবাদ, সংখ্যালঘু অধিকার এবং বাঙালির বিবেক নিয়ে ‘বক্তৃমে’ করেন, তাঁদের সুরও কেন চড়ল না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

    দুর্গাপুজোর সময় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক কিংবা বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয় নিয়ে আলোচনা হলে সমাজের বিভিন্ন অংশে প্রবল আবেগ দেখা যায়। কিন্তু হিন্দু ধর্মীয় স্থান বা দুর্গাপ্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলে সেই প্রতিক্রিয়া অনেক সময় তুলনামূলকভাবে সতর্ক বা শর্তসাপেক্ষ হয়ে পড়ে বলেই অভিযোগ।

    ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন

    এখানেই ধর্মনিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি সামনে আসে। ধর্মনিরপেক্ষতা যদি সত্যিই সর্বজনীন হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির ধর্ম দেখে তাঁর পক্ষে দাঁড়ানোর মাত্রা বদলানো উচিত নয়। কোনও মুসলিম আক্রান্ত হলে যেমন প্রতিবাদ করা উচিত, কোনও খ্রিস্টান নিপীড়িত হলেও তেমনই প্রতিবাদ করা উচিত। একইভাবে কোনও বৌদ্ধ বা হিন্দু আক্রান্ত হলেও সমান দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলা জরুরি। তা না হলে সর্বজনীন মানবতাবাদের বদলে বেছে নেওয়া সহানুভূতির চর্চা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠবেই।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ভাষার ব্যবহার নিয়েও একই ধরনের দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ‘গেরুয়া সন্ত্রাসবাদ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে হিন্দু বা জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদকে যুক্ত করার প্রবণতার সমালোচনা করা হয়েছে। বস্তুত, সন্ত্রাসবাদের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ, অপরাধী এবং তার মতাদর্শের ভিত্তিতে; কোনও সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।

    একইভাবে, ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের প্রসঙ্গ উঠলে যেমন বলা হয় যে সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই এবং কোনও জঙ্গির অপরাধের জন্য সাধারণ মুসলিমদের দায়ী করা যায় না, একই নীতি হিন্দুদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। কোনও ব্যক্তি হিন্দুধর্মের নামে অপরাধ করলেই তার দায় গোটা হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চাপানো যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়, তেমনই কোনও সন্ত্রাসবাদীর দাবি করা ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে গোটা মুসলিম সমাজকে দায়ী করাও (Bengali Prem) অনুচিত।

    হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্ন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসকারী কোনও হিন্দুর নিরাপত্তার প্রশ্নকে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের প্রেক্ষাপটে বিচার করাও ঠিক নয়। সংখ্যালঘু পরিচয় সর্বদা সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। সেই কারণে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং অধিকারও একটি স্বতন্ত্র মানবাধিকার প্রশ্ন (Bangladesh Bengali Hindus)।

    এই প্রসঙ্গেই তথাকথিত ‘জাগ্রত উদারপন্থা’র দ্বিচারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংখ্যালঘুর অধিকার, বিভিন্ন পরিচয়ের আন্তঃসম্পর্ক এবং সামাজিক ন্যায়ের পক্ষে যাঁরা সরব, তাঁদের একাংশের প্রতিবাদ কেন কখনও কখনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত বয়ানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—সেই প্রশ্নও উঠেছে। লেখাটির বক্তব্য, অন্যায়ের শিকার ব্যক্তি কোন পরিচয়ের মানুষ তার ওপর যদি প্রতিবাদের মাত্রা নির্ভর করে, তাহলে তা ন্যায়বিচার নয়, বরং মতাদর্শের প্রকাশ।

    বাংলাদেশকে বাঙালিদের কাছে কোনও সাংস্কৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড হিসেবেও দেখা যায় না। বাংলার সভ্যতা ও ইতিহাসের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর যোগ রয়েছে। ঢাকেশ্বরী মন্দির সেই ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। মাস্টারদা সূর্য সেন, অনন্ত সিংহের মতো বিপ্লবীরাও দুই বাংলার অভিন্ন ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ। কিন্তু ঐতিহ্যকে শুধু বক্তৃতা ও স্মরণানুষ্ঠানে উদ্‌যাপন করলেই তার সুরক্ষা হয় না। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারীরা কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তাঁদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত—তার মধ্যেও ঐতিহ্যের প্রকৃত মূল্য প্রতিফলিত হয়।

    হিন্দুদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা দাবি করা হচ্ছে না বলেই লেখাটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। দাবি হল সমান অধিকার ও সম মর্যাদার। চিন্ময় প্রভু বাঙালি, তিনি সন্ন্যাসী এবং তিনি হিন্দু—এই পরিচয়গুলির কোনওটিই পরস্পরবিরোধী নয় (Bangladesh Bengali Hindus)।

    তাই বাঙালি বুদ্ধিজীবির প্রকৃত পরীক্ষা কেবল বাঙালি সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপন করার মধ্যে নয়। বরং সেই সময়ে একজন বাঙালি হিন্দুর পাশে দাঁড়াতে পারার মধ্যেই তার প্রকৃত পরীক্ষা, যখন সেই অবস্থান প্রচলিত বা পছন্দের রাজনৈতিক বয়ানের সঙ্গে সংঘাতে যেতে পারে।

    ‘বাঙালি-প্রেম’

    মতামতভিত্তিক একটি লেখায় বলা হয়েছে, “আমাদের সহমর্মিতার যদি শর্ত থাকে, তবে তা সহমর্মিতা নয়। আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার যদি পছন্দের মানুষ থাকে, তবে তা ধর্মনিরপেক্ষতা নয়। আর কোনও বাঙালি হিন্দু হলেই যদি বাংলার প্রতি আমাদের ভালোবাসা হারিয়ে যায়, তাহলে ‘বাঙালি-প্রেম’ বলতে (Bengali Prem) আমরা আসলে কী বুঝি, সেই প্রশ্ন নিজেদেরই করা উচিত।”

    মনে রাখতে হবে, অন্যায় চোখের সামনে ঘটলেও নীরব থাকাটা নিরপেক্ষতা নয়, বরং সেই নীরবতাও একটি (Bangladesh Bengali Hindus) অবস্থান।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল এবং বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই (Roundup Week) করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটির দাবি, হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের মধ্যে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যৌন হিংসার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    মুর্শিদাবাদে যুবক খুনের অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুর্শিদাবাদের সুজিত মণ্ডলকে খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে জানি শেখ, সামাউল হক এবং তাজকিরা বিবির বিরুদ্ধে। পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে অর্থনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাক্কার বাসিন্দা সামাউল একটি পোশাকের দোকান চালান এবং এর আগে একটি বিড়ি কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই সুজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ, সুজিত সামাউলকে কয়েক হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ

    স্বঘোষিত নারীবাদী চিন্ময়ী শ্রীপাদার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বরলক্ষ্মী ব্রতের সময় তিনি হিন্দু মহিলাদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    এর পর জন্মাষ্টমীর সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি জানান, তারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    নেপালে বন্যাত্রাণে ধর্মভিত্তিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    নেপালের বন্যাকবলিতদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ত্রাণ ক্যাথলিক ত্রাণ পরিষেবা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী কারিতাস নেপালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই ত্রাণ বণ্টনের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেই সাহায্য শুধুই মানবিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও তা ব্যবহৃত হতে পারে।

    ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই

    বছর তিয়াত্তরের ভক্ত বাসাই জয়রামনের কয়েক দশকের আন্দোলনের পর একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    জয়রামনের বক্তব্য, গত ৪৫ বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বহুবার আবেদন করেও এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

    সুক্র তীর্থম নামে পরিচিত ওই জলাধারটি এলাকার প্রায় ১,৪৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই জলাধারে স্নান করে দেবতার পুজো করলে মানসিক অসুস্থতা নিরাময় হয়।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার বলুরওয়া গ্রামে একটি মাঠে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেন।

    খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। তাঁদের আসার পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভিঠা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।

    ধর্মান্তরের চাপে মৃত্যুর অভিযোগ

    অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় নূকরাজু পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বছর আটত্রিশের সৌজন্যার নামে লেখা পাঁচ পাতার একটি আত্মহত্যার নোট প্রকাশ্যে আসার পর দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তাঁর ছেলেকে হুমকি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌজন্যা, তাঁর বাবা নূকরাজু, মা মীনা এবং নাতি রিয়ানশ রাজামহেন্দ্রবরমের সড়ক-রেল সেতু থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।

    কর্নাটকে মহিলার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

    কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার চক্কাহল্লি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চৈত্রা নামে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন চৈত্রা এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। তাঁর সঙ্গে সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নন্দী হিলস থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের দানস্বরূপ ঘণ্টা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    একটি মন্দিরের দানস্বরূপ পাওয়া ঘণ্টা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে পরিবহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় মন্দিরের ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হলেও, ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যত থেমে গিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নথিতে উল্লিখিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আবু বকর নামে এক দরদাতার মাধ্যমে ঘণ্টাগুলি পরিবহণ ও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত থেকে আবু বকরের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে প্রতিবেদনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে গণহামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সাময়িক মুক্তি

    বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাঁর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর কারাগারে থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি আবেগঘন ভিডিওর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম করার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পিছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দু উৎসব নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত কিছু দেশেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায়।

    এই ধরনের বৈষম্য আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, উপরিতলে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে (Roundup Week) অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে অনুরূপ বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োগ করা হয়, সেই তুলনামূলক ছবি বিবেচনা করলে উঠতে পারে বৈষম্যের প্রশ্ন।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।

    গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড

    আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ

    কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

    তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ

    তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ

    ‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।

    বাংলাদেশ

    প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।

    নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

    ২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।

     

  • Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান, সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। মুজিব কন্যা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হলেও আদালতের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সি আওয়ামি লিগ নেত্রী। তবে একইসঙ্গে শেখ হাসিনার দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনও পূর্বনির্ধারিত রায়ের ভিত্তিতে বিচার হলে তা ন্যায়বিচার হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    ‘বাংলাদেশ আমার দেশ, দায়িত্বও আমার’

    বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা (Hasina on Returning Bangladesh) বলেন, বাংলাদেশই তাঁর দেশ এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছি। আমার মা, ভাই এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে বাংলাদেশের মাটিতেই হত্যা করা হয়েছিল। আমার শিকড় সেখানে, আমার মানুষ সেখানে, আমার দায়িত্বও সেখানে।’’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, এমন সময়ে দেশের বাইরে থেকে তিনি রাজনীতি করতে চান না। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘‘আমি ফিরতে চাই। এই কঠিন সময়ে আমি আমার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি আদালতের মুখোমুখি হতে এবং নিজের পক্ষে সওয়াল করতে প্রস্তুত। কিন্তু বিচার মানে পূর্বনির্ধারিত রায় নয়।’’

    ক্ষমতা দখল নয়, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দাবি

    দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ক্ষমতা পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগের সমর্থকদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকেই নিতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ভারতের বন্ধুত্বকে তিনি সবসময়ই মূল্য দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। ভারত তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। হাসিনার বক্তব্য, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং প্রত্যর্পণের বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঠিক হবে।

    মৃত্যুদণ্ড নিয়েও ‘ভয় নেই’

    নিজের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া কোনও মৃত্যুদণ্ডকে সত্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজের বক্তব্য পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসিনার কথায়, ‘‘আদালতে আমাকে হাজির হতে দিন। আমাকে প্রমাণ পেশ করতে দিন। আমার আইনজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। সাক্ষীদের জেরা করতে দিন। প্রমাণকেই কথা বলতে দিন।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আদালত, আইন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ‘আমার বিরুদ্ধে ১৯ বার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা’

    বাংলাদেশে ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত বলেও জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার দাবি, তাঁর জীবনে ১৯ বার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হত্যার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ২০০৪ সালের আগস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সেই হামলার লক্ষ্য ছিল তাঁকে এবং আওয়ামি লিগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। তিনি বলেন, ‘‘আমি কারাবাস, সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং বারবার হুমকির মুখোমুখি হয়েছি। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই সবকিছু হতে পারে না। মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে যা আসবে, তার মুখোমুখি হওয়াই আমি বেছে নেব।’’

    নিজের সরকারের কাজের সাফাই

    নিজের দীর্ঘ শাসনকালের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণই তাঁর সরকারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, ভূমিহীনদের জন্য ঘর ও জীবিকার ব্যবস্থা, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। হাসিনার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল।

    আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়নের’ অভিযোগ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামি লিগের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হামলা ও ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামি লিগের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিককে এমনভাবে দেখা হচ্ছে যেন নিজেদের দেশেই তাঁদের কোনও রাজনৈতিক অধিকার নেই। তবে আওয়ামি লিগ বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাসিনার কথায়, ‘‘আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ছেড়ে যাব না। আওয়ামি লিগ মানুষের কাছে ফিরে আসবে, কারণ আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্যই।’’ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েও আদালতে নিজের বক্তব্য রাখার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে।

     

     

     

     

     

  • Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিজের দেশে ফিরতে চান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তে নয়, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দেশে ফিরতে চান। ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই হাসিনা ভারতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দেশে ফেরার ইচ্ছা, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।

    হাসিনার সাফ কথা (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি। তিনি কেন এতে আপত্তি করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাব। আমি কি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার নিজের মানুষের কাছে ফিরতেই হবে।”

    হাসিনার উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লি থেকে ৫ অগাস্ট তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় বাংলাদেশ ও ভারত তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    এমনকি তারেকের ভারত সফরের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকেও শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। ভারত ইতিমধ্যেই তারেককে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ যোগাযোগমূলক অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

    বিএনপি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

    হাসিনা অবশ্য বিএনপি সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি সরকার ভারতে বসে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের বিরোধিতা করলেও অতীতে তারেক নিজেই লন্ডনে থাকাকালীন বিএনপির বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে বসবাসের সময় রাজনীতিতে অংশ নেবেন না বলে অঙ্গীকার করার পরেও, তারেক বিএনপির ভার্চুয়াল রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থান এবং অতীতের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সত্য কথা বলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থান ঘটলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহার করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি হয় (Sheikh Hasina)।

    সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ

    হাসিনা বলেন, “সত্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থানের সুযোগ দেওয়া হলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন বোধ করলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করা হলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দেশে যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Tarique Rahman)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই সময়েই দেশের জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে হাসিনা সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

    যুদ্ধবিমান কেনায় প্রশ্ন

    তিনি বলেন, “এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য এত অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন আপনারা বিএনপি সরকারকেও করুন।”

    বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে “আর একটি পাকিস্তানে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে (Sheikh Hasina)।

    হাসিনা আরও বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে (Sheikh Hasina)।”

    হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর দেশে ফেরা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই তিনটি বিষয়ই আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    তবে হাসিনার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্নটিকে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্য কোনও নেতার বিদেশ সফরের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত এবং সেই কারণেই তিনি ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন (Tarique Rahman)।

    হাসিনার বার্তা

    এদিকে, তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, উগ্রপন্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার—এই সব প্রশ্নকে সামনে রেখে হাসিনা বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর বক্তব্যে একটি বার্তা রয়েছে। সেটি হল, দুই দেশের সম্পর্কের স্থায়িত্ব কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে না, বরং গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলিও তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত (Sheikh Hasina)।

     

  • Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু (Bangladesh Hindu Crisis) ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁদপুর জেলায়। গত ২৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি আত্মগোপন করেছে, নাকি নিখোঁজের পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা চালাতেন পিন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে প্রিয়ম দশম শ্রেণির ছাত্র। দুই ছেলেই কিশোর এবং পড়াশোনা করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঋণের চাপে ছিলেন ব্যবসায়ী?

    পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পিন্টু। ব্যবসার জন্য নেওয়া ঋণের চাপও বাড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পিন্টুর আত্মীয় এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে জানিয়েছেন, চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে গোটা পরিবার। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে পিন্টু মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিন্টু সোনা ভরাট এবং বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সোনার গয়না বন্ধক রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ব্যবসার নামে একাধিক সমবায় সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু। ফলে তাঁর উপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

    গ্রাহকদের সোনা ও টাকা আটকে

    পিন্টু দাসের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছেন তাঁর ব্যবসার গ্রাহকরাও। বহু মানুষ তাঁর কাছে সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি ২৯.১৬ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে গয়না ছাড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করে পিন্টুর কাছে গেলে তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন তিনি জানতে পারেন, পিন্টু ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আরও দুই গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম এবং শুভঙ্কর মজুমদারও পিন্টুর কাছে সোনা বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। জাহিদুলের দাবি, তিনি ১২ আনা সোনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুভঙ্কর জানিয়েছে, সে ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখেছিল।

    একাধিকবার বদলেছিলেন ব্যবসার জায়গা

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মদিনা মার্কেটে ব্যবসা শুরু করার আগে পিন্টু একাধিকবার তাঁর ব্যবসার জায়গা পরিবর্তন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ চালু করেন তিনি। পিন্টুর আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও থাকেন বলে জানা গিয়েছে। আত্মীয় এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিন্টু, তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে—কেউই এখন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নেই। ২৬ আগস্ট থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর মাসতুতো বোন উপমা দে অভিযোগ করেছেন মোটা টাকা তোলা চেয়ে পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শাসক দল বিএনপির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তে পুলিশ

    চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা সম্প্রতি পেয়েছে। এরপরই চারজনকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি কী কারণে তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই চাঁদপুরের এই ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি যে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনও হুমকি, ঋণের চাপ বা অন্য কোনও ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না। চারজনেরই বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পিন্টুর ব্যবসার গ্রাহকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে নিখোঁজ চারজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা ও আটকে থাকা টাকাও।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    চারদিন আগে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলার রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে নিজের বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে দাবি করে তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক সহিংসতার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।

  • Hindu Family Killed: বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক-সহ হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে খুন

    Hindu Family Killed: বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক-সহ হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুরে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে (Hindu Family Killed) পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বছর বারোর ছেলে। শনিবার রাতে রংপুর শহরের কামালকাছনা মাচুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে চারজনের দেহ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে কান্তি চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।

    বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে দেহ উদ্ধার (Hindu Family Killed)

    রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের জানান, বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    গণপতির দেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। প্রতিলতা ও তাঁর মেয়ের দেহ মেলে তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলের দেহ উদ্ধার হয় একটি খাটের নীচ থেকে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু সময় ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখা না যাওয়া এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে, উদ্ধার করে দেহ।

    বৃহস্পতিবার রাতে শেষ কথা হয় পরিবারের সঙ্গে

    প্রতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট রাতে তিনি তাঁর দিদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলেছিলেন।

    তিনি জানান, শনিবার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে গণপতির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তখনই সন্দেহ হওয়ায় পূজা বাংলাদেশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাঁকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে পুলিশ আসে (Hindu Family Killed)।

    অবসর নেওয়ার পরেও চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন গণপতি

    গণপতি গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। এর পর তিনি রংপুর সমবায় বাজারে একটি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন।

    তাঁর মেয়ে কান্তি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল।

    তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি

    পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর কারণ জানতে বাড়ি থেকে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় মূল ফটকটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্তারা ঘটনাস্থল থেকে নথি সংগ্রহ করছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আপাতত একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতি কিংবা পারিবারিক কোনও ঘটনা।

    রংপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুমিত চৌধুরী জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ডাকাতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

    দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    হিন্দু পরিবারকে ঘিরে হামলার উদ্বেগের মধ্যেই ঘটনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা ও হিংসার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। সেই প্রেক্ষাপটে রংপুরের এই ঘটনা নতুন করে নজর কেড়েছে।

    তবে এই ঘটনায় পরিবারের হিন্দু পরিচয়ের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করতে (Bangladesh) পারেননি। একইভাবে চারজনের মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণও এখনও স্পষ্ট নয় (Hindu Family Killed)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার অভিযোগ, দেখে নিন সাপ্তাহিক ঘটনাপঞ্জি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা (Hindus Under Attack), ধর্মীয় বিদ্বেষ, মন্দির অপবিত্র করা, জমি দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত (Roundup Week)। ১৬ থেকে ২২ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের প্রবণতা ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    মন্দিরের জমিতে গির্জা নির্মাণ! (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের রায়চূরের বিচালি ক্যাম্প এলাকায় অঞ্জনেয় মন্দিরের জন্য নির্ধারিত একটি জমিতে গির্জা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ১২ অগাস্ট একটি গির্জার কাছে অঞ্জনেয়ের মূর্তি স্থাপনের পর সংঘর্ষের ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

    স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য নির্ধারিত জমি কীভাবে অন্য ধর্মীয় স্থাপনার কাজে ব্যবহার করা হল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা জমির মূল নথি ও বরাদ্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। সংঘর্ষে পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনায় দু’জন জখম হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচালি ও বিচালি ক্যাম্প এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    উত্তরপ্রদেশে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের বলরামপুর জেলার গ্যাসড়ি থানার ঠাকুরপুর গ্রামে পেশায় শ্রমিক রাম সানেহিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জনৈক আকবর আলি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

    পুলিশের দাবি, চোর সন্দেহে রামকে ধরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মূল অভিযুক্ত আকবর ও এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রাম সানেহিকে লাঠি দিয়ে মারতে দেখা যায়।

    সাংলিতে দম্পতির ওপর হামলা, মহিলার মৃত্যু

    মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলার এমআইডিসি কুপওয়াড় এলাকায় প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। চাণক্য চকের কাছে বিঘ্নহর্তা শান্তি কলোনিতে হামলার ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় বছর আটত্রিশের মনীষা মোহন কেশরকরের। তাঁর স্বামী মোহন নাগাপ্পা কেশরকর গুরুতর জখম হন। হামলায় অভিযুক্ত জনৈক ফরিদ আবদুল শেখ।

    মুরুগনকে ঘিরে ইতিহাস ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

    তামিল সমাজে মুরুগন-উপাসনার ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুরুগন-উপাসনার প্রাচীন ধারায় বৈদিক আচার ও স্থানীয় গ্রামীণ ধর্মাচরণ পাশাপাশি চলেছে এবং ঐতিহাসিকভাবে এই দুই ধারার মধ্যে বিরোধ ছিল না।

    তবে তামিল সমাজে প্রায় পাঁচ দশক ধরে এমন একটি মত প্রচলিত রয়েছে যে মুরুগন মূলত দ্রাবিড় লোকদেবতা বা কোনও ঐতিহাসিক পূর্বপুরুষের স্মৃতি থেকে উদ্ভূত এবং পরে তাঁকে সংস্কৃতভিত্তিক কার্তিকেয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। প্রতিবেদনে এই মতের প্রমাণযোগ্য ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, মুরুগনকে খ্রিস্টধর্মে রূপান্তরের উপযোগী একটি চরিত্র হিসেবে তুলে ধরার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সঙ্গে এই ব্যাখ্যার সম্পর্ক রয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বন্দে মাতরম নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান

    কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি বিকে হরিপ্রসাদ জানিয়েছেন, সরকারি কোনও আইনি বিধান চালু হলেও দলীয় কর্মসূচিতে কংগ্রেস ঐতিহ্য অনুযায়ী বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাইবে।

    প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ১৮৯৬ সাল থেকে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বন্দে মাতরমের দুই স্তবক গাওয়ার রীতি চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে। তিনি বলেছেন, “ওরা আমাদের জেলে পাঠাক বা ফাঁসি দিক, আমরা বন্দে মাতরমের ওই দুই অনুচ্ছেদই গাইব।”

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী স্তবকগুলিতে হিন্দু দেবীদের উদ্দেশে প্রার্থনা থাকায় কংগ্রেসের একটি অংশ তা নিয়ে আপত্তি জানায়।

    বন্দে মাতরম নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্য

    অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরও বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী অংশে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ থাকায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসীদের কাছে তা গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।

    এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এড়ানোর জন্য কেন হিন্দু ধর্মীয় প্রতীক ও অভিব্যক্তিকে বারবার পরিবর্তন করার দাবি ওঠে।

    চট্টগ্রাম সম্মেলন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

    লখনউভিত্তিক অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের এক মুখপাত্র চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ও আল-কায়দার সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থীদের উপস্থিতির কথাও বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সেখানে ইসলামিকরণ, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং বাংলাদেশি হিন্দুদের উৎখাতের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। যদিও এই গুরুতর দাবিগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    কর্নাটকে মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করার অভিযোগ

    কর্নাটকের হাভেরি জেলার শিগগাঁও শহরে অঞ্জনেয় মন্দির চত্বরে প্রস্রাব করে এক ব্যক্তি (Roundup Week)। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ঘটনায় পুলিশ শনাক্ত করে মহম্মদ জাফর নামে একজনকে।

    ঘটনাটি ২০ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ঘটে বলে পুলিশের বক্তব্য। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয় (Hindus Under Attack)।

    বিদ্যারত্ন স্লোগান নিয়ে কলেজে বিতর্ক

    কর্নাটকের বিদার জেলার শাহীন পিইউ কলেজে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পর “ভারত মাতা কি জয়” এবং “বন্দে মাতরম” স্লোগান দেওয়ায় ছাত্রদের থামিয়ে সতর্ক করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে।

    ছাত্র সাগর গৌলির বাবা হিরোবা গৌলির অভিযোগের ভিত্তিতে চিটগুপ্পা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মীয় অভিযোগকে কেন্দ্র করে হামলা, নারী নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের অভিযোগও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসের পদ্ধতি ও বর্তমান তথ্যের সঙ্গে তার সামঞ্জস্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন (Roundup Week)।

    ভারত প্রবেশ ও ধর্মান্তর নিয়ে প্রচারের অভিযোগ

    বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ধর্মীয় বক্তা মো আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতে প্রবেশ, শিলিগুড়ি-দার্জিলিং অঞ্চলে বৃহৎ পরিসরে হিন্দুদের ধর্মান্তর এবং অসম ও ত্রিপুরার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংগঠিত যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরির ইচ্ছা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার একটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর ফলোয়ারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    সীমান্ত থেকে ভারতীয় কৃষককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ভারতীয় চা-চাষিকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    নিহত বা নিখোঁজ নন, ওই কৃষক দীপঙ্কর গোপরকে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ আটক করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মুক্তির সঙ্গে তামিজ উদ্দিন নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মুক্তির দাবিকে যুক্ত করা হয়েছে। তামিজ উদ্দিন সীমান্তের বেড়া কেটে ভারতে প্রবেশের পর সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে আটক হয় এবং আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ।

    বিষয়টি নিয়ে তিন দফা ফ্ল্যাগ মিটিং হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে,হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা, রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। কিছু ইসলামপ্রধান দেশে হিন্দুবিদ্বেষ প্রকাশ্য হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম ধরনের বৈষম্য দেখা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ করার নীতিকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের মতে, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকা উচিত।

    বস্তুত, প্রতিবেদনে হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের অভিযোগগুলিকে নথিবদ্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত (Roundup Week), তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

LinkedIn
Share