Tag: Bangladeshi Immigrants

  • CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত চৌকি (আউটপোস্ট) তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই মোট ১৪২.৭৯ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দিয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফ আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের ফলে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াল ১৪২.৭৯ একর।”

    কোন জেলায় কত জমি দেওয়া হয়েছে

    মুখ্যমন্ত্রী জেলা-ভিত্তিক জমির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী—

    • ● কোচবিহার – ২২.৯৫ একর
    • ● জলপাইগুড়ি – ৩৫.১৬৫ একর
    • ● দার্জিলিং – ৮.৮১৫ একর
    • ● উত্তর দিনাজপুর – ২.৮৪ একর
    • ● দক্ষিণ দিনাজপুর – ২০.১৭০১ একর
    • ● মালদা – ১০.৯০ একর
    • ● মুর্শিদাবাদ – ৩৮.৮০৫ একর
    • ● নদিয়া – ০.৫৫ একর
    • ● উত্তর ২৪ পরগনা – ২.৬ একর

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে মোট ৫০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর হওয়াকে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে “গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন” বলে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলির একটি

    গত ১১ মে নতুন সরকার গঠনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি আটকে রেখেছিল, যার ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমান সরকার দ্রুত প্রশাসনিক জট কাটিয়ে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে। সরকারের মতে, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অবস্থান

    এর আগে, এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টও তৃণমূল পরিচালিত বিগত রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার জমি অধিগ্রহণের টাকা দিলেও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়নি। আদালত (তৎকালীন) রাজ্য সরকারের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যুগ্ম অধিকর্তার উপর ব্যক্তিগতভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

    ফাঁসিদেওয়ায় শুরু বেড়া নির্মাণের কাজ

    এরই মধ্যে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার পর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, বহু বছর ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই কাজ আটকে ছিল। নতুন সরকারের হস্তক্ষেপের পর সেই জট কাটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

    রাজ্যের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি

    এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির জেরে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ওই আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বর্তমান সরকারের অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশিদের দাবি, আইনি জটিলতা ও পুলিশি অভিযানের ভয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বাড়ির মালিকরা এখন সতর্ক। যে সমস্ত বাড়ি বা বস্তি এলাকায় এই বাংলাদেশিরা এতদিন ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন, ভারতীয় বাড়ির মালিকরা আইনি ঝামেলার ভয়ে তাঁদের আর আশ্রয় দিতে চাইছেন না।

    ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন পেতাম’’ বলছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা!

    হাওড়ায় মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং স্থানীয়ভাবে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই তিনি দেশে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এখানে এখন অনেক সমস্যা চলছে। কাজ পাচ্ছি না, কেউ থাকতে দিচ্ছে না। দুই-তিন বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলাম। আধার বা রেশন কার্ড কিছুই ছিল না।” তিনি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে মোট দশজন এসেছিলেন, তবে বর্তমানে তিনিই একমাত্র ফিরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা মণিরুল শেখ বলেন, ‘‘চব্বিশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু ছাব্বিশে সালে ভোট হল না। বাতিল হয়ে গেল। কিন্তু, আমার স্ত্রীর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড হয়েছে৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন সমস্ত কিছুই পেতাম। এবার সরকার পরিবর্তন হল। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের তারা থাকতে দেবে না। কারণ আমরা অনুপ্রবেশকারী। আমাদের এখন ভালোভাবে দেশে ফেরত পাঠালেই খুশি।’’

    জেলাগুলিতে তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর সমস্ত জেলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও এখনও দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি— এমন বিদেশিদের জন্য বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়।
    ২৩ মে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) নির্দেশিকা মেনে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা সহ অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের শনাক্তকরণ, আটক, পুনর্বাসন এবং প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সূত্রে দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের উপর এর প্রভাব পড়ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে অল আউট খেলছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের সব জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলা মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ অনুপ্রবেশকারীকে। তাঁদের ঠাঁই হয়েছে নবগঠিত হোল্ডিং সেন্টারে। এহেন আবহে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “এঁদের চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো। জলদি জলদি ভাগো। নাহলে এই সরকার যা করার করবে।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari) 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোর্টে পাঠানোর কোনও দরকার নেই। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হ্যান্ডওভার করবে। ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিএসএফের যে এগ্রিমেন্ট আছে, সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশি প্রমাণ করে হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের জেলে তিন মাস, ছ’মাস, কিংবা দু’বছর রেখে, আপনার চাল, আপনার ডাল, আপনার তেল, আপনার মাছ, আপনার ডিম, আপনার কাপড়, আপনার ওষুধ ওদের দেব কেন? ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। সেইজন্যই আইনটা এতদিন ছিল। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেউ বা কারা ব্যবহার করেননি। আমরা ভোটব্যাঙ্কের বাইরে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করছি (Suvendu Adhikari)।”

    হাকিমপুর চেকপোস্টে অনুপ্রবেশকারীরা

    প্রসঙ্গত, রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই ব্যাপক ভিড় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেখানেই বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন বাম-তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা। এঁদের অনেকেই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এ রাজ্যে (Suvendu Adhikari)। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর (Bangladeshi Immigrants) এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

     

  • West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    West Bengal: অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপনের নির্দেশ জেলাশাসকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করার অভিযোগে আটক বিদেশি নাগরিক ও মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের, যারা দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছে (West Bengal), তাদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ স্থাপন করতে হবে (Bangladeshi Rohingya Deportees)। এই মর্মে রাজ্যের সব জেলাশাসককে (DM) নির্দেশ দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যের নয়া সরকারের এই নির্দেশ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শুভেন্দু সরকারের নীতি (West Bengal)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শনাক্তকরণ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং বহিষ্কার নীতি নেবে। তবে সিএএ (CAA) আইনে হিন্দু শরণার্থী এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে না। ২৩ মে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে জারি করা এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, “আটক বিদেশি নাগরিক এবং দেশে ফেরা কিংবা বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশি বন্দিদের জন্য জেলায় হোল্ডিং সেন্টার স্থাপনের (West Bengal) উদ্দেশ্যে উদ্যোগ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুযায়ী হবে।”

    সরকারি নির্দেশিকা

    স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিদেশি শাখা (SAARC VISA Section) থেকে ২৩ মে জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্য সরকারের সচিব জেলাশাসকদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) নির্দেশিকা অনুসরণ করতে বলেছেন। সেখানে (Bangladeshi Rohingya Deportees) অবৈধভাবে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতির (West Bengal) কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা

    প্রসঙ্গত, বঙ্গের চালকের আসনে (West Bengal) বসার পরেই পদ্ম-নেতা শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনও অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের স্থানীয় থানায় বা প্রশাসনের কাছে না রেখে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, অনুপ্রবেশকারীদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, তাদের জেলে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র। দেশকে সুরক্ষিত করার কাজ সরকার করবে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার ফলে আগের সরকারের আমলে বিঘ্নিত হয়েছে (Bangladeshi Rohingya Deportees) দেশের নিরাপত্তা।

     

  • School Jihad: মুম্বইয়ে এবার ‘স্কুল জেহাদ’, পরিচালনায় মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’

    School Jihad: মুম্বইয়ে এবার ‘স্কুল জেহাদ’, পরিচালনায় মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ে কথিত ‘স্কুল জেহাদ’ (School Jihad) নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, সেটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বৃহন্মুবই মিউসিপাল কর্পোরেশন (BMC)-এর প্রস্তুত করা একটি তালিকার (Muslim Land Mafia) উল্লেখ করে কিরীট সোমাইয়ার দাবি, বর্তমানে শহরে ১৬৪টি অবৈধ স্কুল চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০টি স্কুল এক মুসলিম ‘ল্যান্ড মাফিয়া’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুমান। এই স্কুলগুলি সরকারি স্বীকৃতি বা অনুমতি ছাড়াই চলছে। আরও অভিযোগ, এগুলির উদ্দেশ্য দ্বিমুখী—একদিকে জমি দখল, অন্যদিকে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের প্রচার।

    সোমাইয়ার বক্তব্য (School Jihad)

    পরিসংখ্যান দেখিয়ে সোমাইয়া বলেন, “মুম্বইয়ে আগে ‘ল্যান্ড জেহাদ’, ‘কর্পোরেট জেহাদ’, ‘লাভ জেহাদ’ এবং ‘কোচিং জেহাদ’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তালিকায় নবতম সংযোজন ‘স্কুল জেহাদ’। সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে এই কার্যকলাপ চলছে এবং গোবিন্দি, মালাড ও কুর্লা এলাকার বহু স্কুল এতে জড়িত। সাধারণত প্রথমে একটি জমি দখল করা হয়। তারপর রাতারাতি সেখানে স্কুল বা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান তৈরি করে অবৈধ দখলকে স্থায়ী করা হয়। সোমাইয়ার মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ। তাঁর অভিযোগ, ল্যান্ড মাফিয়া প্রথমে বেআইনিভাবে জমি দখল করে এবং পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ধীরে ধীরে নির্মাণকাজ শুরু করে। এতে একদিকে যেমন অবৈধ দখলকে বৈধতার ছাপ দেওয়া হয়, অন্যদিকে তেমনি কঠিন হয়ে পড়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া। তাঁর আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এই স্কুলগুলির ভেতরে বা আশপাশে মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে (School Jihad)।

    এই ঘটনা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গেও যুক্ত!

    এই জাতীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমাইয়া কর্পোরেশনের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, গত দুই দশকে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হল দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অবহেলা। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত অবৈধ স্কুল গড়ে উঠত না (Muslim Land Mafia)। সোমাইয়া এই ঘটনাকে অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই স্কুলগুলির মাধ্যমে মুম্বইয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও কর্পোরেশনের কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তাঁর দাবি, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং খুব শিগগিরই তা কার্যকর হবে।

    ‘জেহাদ’ শব্দের ব্যাখ্যা

    এই বিতর্কের আবহে ‘জেহাদ’ শব্দটির ব্যাখ্যা নিয়েও জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, ‘জেহাদ’ মূলত সংগ্রাম বা আত্মসংযমের প্রতীক—নিজেকে উন্নত করা এবং নিজের দোষত্রুটির বিরুদ্ধে লড়াই করা। এটি সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত: ‘জেহাদ-আল-আকবর’ (অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম) এবং ‘জেহাদ-আল-আসগর’ (বাহ্যিক সংগ্রাম)। অধিকাংশ পণ্ডিত অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এবং শব্দটির সঙ্গে হিংসার সম্পর্ককে ভুল ব্যাখ্যা বলে মনে করেন। তবে কিছু লেখক এবং গবেষক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন (School Jihad)। কিছু লেখকের মতে, ইতিহাসে জেহাদ শুধু আধ্যাত্মিক ধারণা হিসেবে নয়, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্প্রসারণের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁদের দাবি, ইসলামের বিস্তারের জন্য বিভিন্ন উপায় (হিংসা-সহ) ব্যবহৃত হয়েছে (Muslim Land Mafia)।

    জেহাদের ইতিহাস

    অ্যানড্রিউ জি বস্টম তাঁর বই ‘দ্য লিগেসি অফ জেহাদে’ লিখেছেন, জেহাদের ইতিহাস কেবল আধ্যাত্মিক সংগ্রামে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও সামরিক সম্প্রসারণের একটি সংগঠিত প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। রবার্ট স্পেনসার তাঁর বই ‘দ্য পলিটিক্যালি ইনকারেক্ট গাইড টু ইসলামে’ বলেন, ইসলামের প্রাথমিক বিস্তার অনেকাংশে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ঘটেছিল। এমএ খান তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে জেহাদ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাট ইয়র তাঁর বই ‘দ্য ধিম্মি’তে লিখেছেন, অ-মুসলিমদের ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের ফলে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন (School Jihad)। ভারতীয় ইতিহাসের ক্ষেত্রেও কিছু গবেষণার উল্লেখ করা হয়। সীতারাম গোয়েল তাঁর গ্রন্থে মধ্যযুগে মন্দির ধ্বংসের পেছনে ধর্মীয় উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। কেএস লালের মতে, মধ্যযুগীয় যুদ্ধে বন্দিদের দাসে পরিণত করে ধর্মান্তরিত করা হত। মাইকেল বোনের জেহাদকে একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মাজিদ খাদুরি ইসলামি আইনে জেহাদকে রাষ্ট্র বিস্তারের একটি উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন (Muslim Land Mafia)। সব মিলিয়ে, মুম্বইয়ে ‘স্কুল জেহাদ’ নিয়ে ওঠা অভিযোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ, এই স্কুলগুলি অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসন কী করে, এখন সেটাই (School Jihad) দেখার।

     

  • Mamata Banerjee: ‘অনুপ্রবেশকারীরা বাঙালি নয়’, মমতার দাবি নস্যাৎ করে সাফ জানাল বিজেপি

    Mamata Banerjee: ‘অনুপ্রবেশকারীরা বাঙালি নয়’, মমতার দাবি নস্যাৎ করে সাফ জানাল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সমূলে উৎপাটিত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। এই অনুপ্রবেশকারীরাই (Bangladeshi Immigrants) জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড মায় ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে মিশে গিয়েছে ভারতের বিরাট জনারণ্যে। তাদের ধরতেই যখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে, তখন একমাত্র প্রতিবাদ করছেন তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটব্যাংকের স্বার্থেই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের ‘ত্রাতা’ হয়ে উঠেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি কেবল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে নয়, এটি একটি যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা একটি ভুয়ো এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান।

    মমতার বাঙালি সেন্টিমেন্টে সুড়সুড়ি! (Mamata Banerjee)

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মমতা অন্যান্য রাজ্যে শুরু হওয়া বাংলাদেশি মুসলিম ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো নিয়ে প্রবল আপত্তি তুলছেন। তিনি কৌশলে এই ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে অন্য রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি যে আদতে মিথ্যে একটি খবর বাঙালিদের ‘খাইয়ে’ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তা বুঝে গিয়েছেন বাংলার শিক্ষিত সমাজ। কারণ যে অভিযান চালানো হচ্ছে, তার নিশানায় বাঙালিরা নন, অবৈধ বাংলাদেশি মুসলমান এবং রোহিঙ্গারা বিশেষত যারা ভিড় করেছে ওড়িশা, অসম, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি এবং ছত্তিশগড়ে, অথচ ভারতে বসবাস করার যাদের কোনও নৈতিক অধিকারই নেই।

    শাসক দলের মদতেই চলছে অনুপ্রবেশের কারবার!

    বাংলাদেশের পাশেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এর একটা বিরাট অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। কেন্দ্রের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায়ই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই অংশে বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। দালাল ধরে সেই ফোকর গলেই পশ্চিমবাংলায় ঢুকে পড়ছে অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গারা। তার পর এ রাজ্যেরই শাসক দলের কোনও নেতাকে দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছে জাল পরিচয়পত্র। এদের অনেকেই জাল পাসপোর্টও জোগাড় করে ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গে কিনে ফেলেছে জমি-জিরেতও। যেহেতু শাসক দলের নেতাদের মদতেই দীর্ঘদিন ধরেই চলছে এই কারবার, তাই কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এরাই বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় নাগরিক সেজে শাসক দলকে জিতিয়ে চলেছে। তাই শাসক দলও নিশ্চিন্তে ভাতঘুম দিচ্ছে। এই অনুপ্রবেশকারীরা যে ভারতীয়দের পেটের ভাতে ভাগ বসাচ্ছে, তা দেখেও না দেখার ভান করছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই কারণেই শুরু হয়েছে ঝাড়াই-বাছাই অভিযান, যে অভিযানে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না এতদিন ধরে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে যেসব কার্ড (রেশন, ভোটার, আধার ইত্যাদি) দাখিল করা হয়েছে, সেগুলিকে। কারণ এসব কাগজপত্র আসলে নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণ নয়, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে। এখানকার বিভিন্ন পরিচয়পত্র হরবখত জোগাড় করা হয় জালিয়াত চক্রের কাছ থেকে। কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যেও এগুলিকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশি (Bangladeshi Immigrants) মুসলমান এবং রোহিঙ্গারা যেসব প্রমাণপত্র দাখিল করছে, তা জাল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে (Mamata Banerjee)।

    ঝুলি থেকে বেরল বেড়াল

    এতেই বেরিয়ে এসেছে ঝুলি থেকে বেড়াল। অনেক নথিপত্রই পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যারা আদতে ভারতীয়ই নন, অনুপ্রবেশকারী। মধ্যপ্রদেশের পলাশের কথাই ধরা যাক। সে নিজেকে পলাশ অধিকারি বলে পরিচয় দিয়েছিল। প্রমাণস্বরূপ দাখিল করেছিল প্যান, আধার মায় ভোটার আইডিও। বাংলাদেশি সন্দেহে তাকে আটক করে পুলিশ। টানা পুলিশি জেরায় শেষমেশ সে কবুল করে, সে পলাশ নয়, বাংলাদেশের শেখ মঈনউদ্দিন। খুলনার আহমদপুর এলাকার বাসিন্দা সে। তাহলে কীভাবে অনুপ্রবেশকারী শেখ মঈনুদ্দিন হয়ে উঠল ভারতীয় পলাশ অধিকারী? জানা গিয়েছে, শাসক দলের নেতা ও সরকারি কর্তাদের একাংশের যোগসাজশে জাল নথি তৈরি করে তাকে একজন প্রকৃত ভারতীয় হিন্দু কৃষকের সন্তান হিসেবে মিথ্যা পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছিল (Mamata Banerjee)।

    লাখ লাখ বাংলাদেশি মুসলমান

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি একটি উদাহরণ মাত্র। পশ্চিমবঙ্গে লাখ লাখ বাংলাদেশি মুসলমান রয়েছে, যারা তৃণমূল এবং তার আগে বাম সরকারের আমলে নেতা এবং এক শ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মীদের সাহায্যে জাল নথি বানিয়ে নিয়েছিল। বিএসএফের অবসরপ্রাপ্ত এক পদস্থ আধিকারিক বলেন,  “বাংলাদেশিরা এলোমেলোভাবে ভারতে প্রবেশ করে না। তারা প্রায়ই কাঁটাতারের বেড়া না থাকা এলাকায় কিংবা বিএসএফের টহল এড়িয়ে দুই দেশের পাচারকারীদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করানো হয় (Bangladeshi Immigrants)। ভারতে প্রবেশের পর তাদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির সেফ হাউসে। এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।” এর পরেই শুরু হয়ে যায় জাল নথিপত্র তৈরির কাজ। বছর কয়েক আগে কয়েকজন বিএসএফ কর্তা একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করেন, সেখানে বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছিল কীভাবে বাংলাদেশিরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং নাগরিকত্ব জোগাড় করে (Mamata Banerjee)।

    সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস এবং তার আগে কমিউনিস্ট দলগুলি এই অবৈধ অনুপ্রবেশকে উৎসাহিত করেছে এবং জাল নথি দিয়ে তাদের নাগরিকত্বের ছদ্মাবরণ দিয়েছে কেবলমাত্র একটি বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক গড়ে তুলতে।” তিনি জানান, এই কারণেই ভোটার আইডি, আধার, প্যান কার্ড বা পাসপোর্টের মতো নথিকেও ভারতীয় নাগরিকত্বের নির্ভুল প্রমাণ হিসেবে ধরা উচিত নয়।

    মমতার মিথ্যে অভিযোগ

    প্রত্যাশিতভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের এই সব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা চান না এই জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসুক। কারণ এদের চিহ্নিত করা হলে এবং দেশ থেকে বের করে দেওয়া হলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পড়ে যাবে বিশবাঁও জলে। তাই মিথ্যে অভিযোগ তুলে অযথা গলা ফাটাচ্ছেন তিনি (Bangladeshi Immigrants)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই জালিয়াতি কারবারে সাহায্যকারী রাজনীতিবিদ, পুরসভা-কর্মী এবং সরকারি কর্মচারীদেরও চিহ্নিত এবং আইনের আওতায় আনা উচিত। তাঁদেরও চিহ্নিত করে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হোক বিচারের। দিতে হবে কঠোর শাস্তিও (Mamata Banerjee)।

    বাংলাদেশি মুসলমান ও বাঙালি মুসলমান এক নয়

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি মুসলমান ও বাঙালি মুসলমান এক নয়। অনুপ্রবেশকারীরা এমন উপভাষায় কথা বলেন, যা পশ্চিমবঙ্গের বাংলার থেকে অনেকটাই আলাদা। পার্থক্য রয়েছে সাংস্কৃতিক দিক থেকেও। ভোটব্যাংকের স্বার্থে এই পার্থক্যকেই ঝাপসা করে দিয়ে বাংলাদেশি মুসলমানদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চালানোর নিরন্তর চেষ্টা করছেন মমতা। ভারতীয় বাঙালিরা এই ফারাক সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাই ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিরাই বাংলাদেশি মুসলমানদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে সাহায্য করছেন। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমোকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আপনি বাংলাদেশের একটা বই এনে পড়ুন। আর পশ্চিমবঙ্গের একটা বই এনে পড়ুন। নিজেই বুঝতে পারবেন, কোনটা সুবোধ সরকার লিখেছেন, আর কোনটা বাংলাদেশের সফিকুল ইসলাম লিখেছেন। ওই ভাষাটা পড়লেই বোঝা যায়। সুতরাং, বাংলা ভাষায় কথা বললেই যে (Bangladeshi Immigrants) কেউ ভারতবাসী হয়ে যাবে, বাংলা ভাষায় কথা বললেই যে তার নামটা ভোটার লিস্টে রেখে দিতে হবে, এটা হতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন জায়গায় নকল আধার কার্ড বানিয়ে এখন ওরা বঙ্গভবনের মধ্যেও ঢুকে পড়ছে (Mamata Banerjee)।”

  • MHA: অবৈধ বাংলাদেশি সংক্রান্ত সব মামলাকে এক ছাতার তলায় এনে বৃহৎ তদন্তের পরিকল্পনা কেন্দ্রের

    MHA: অবৈধ বাংলাদেশি সংক্রান্ত সব মামলাকে এক ছাতার তলায় এনে বৃহৎ তদন্তের পরিকল্পনা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবৈধভাবে বসবাসকারী সন্দেহে সারা দেশে গত কয়েক মাস ধরেই ধরপাকড় শুরু হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ভুয়ো নথিপত্র। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনকে এ দেশ থেকে বিতাড়নের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। এই আবহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) তরফে দেশব্যাপী সব মামলাকে এক ছাতার তলায় এনে বৃহৎ তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি বৈঠকে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এমনই নির্দেশ পাঠিয়েছে অমিত শাহের দফতর।

    কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত

    স্বারাষ্ট্রমন্ত্রক (MHA) সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই অসম, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, বাংলা-সহ সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধভাবে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিদের (Bangladeshi Immigrants) চিহ্নিত করেছে ভারত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সম্প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শুধু বাংলাদেশি নাগরিকদরে নয়, যারা তাদের এ দেশে আসতে সাহায্য করেছে তাদেরকেই আগে খুঁজে বের করতে হবে। সেইসব ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বলা হয়েছে যারা অবৈধ অভিবাসীদের আধার এবং ভারতের নাগরিকত্ব সম্পর্কিত অন্যান্য নথি তৈরি করতে সহায়তা করেছেন।

    আধার সেন্টারকে নির্দেশ

    স্বারাষ্ট্রমন্ত্রকের (MHA) এক আধিকারিক জানান, বাংলাদেশি অভিবাসীদের (Bangladeshi Immigrants) বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন, নথি তৈরির জন্য ব্যবহৃত ফাঁকফোকরগুলিও চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত সন্দেহজনক আধার কার্ড পুনঃযাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে আধার তৈরির জন্য জমা দেওয়া নথিগুলির স্ক্রুটিনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আধার কর্তৃপক্ষের সাথে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তাদের বলা হয়েছে যে, তারা যেন সমস্ত আধার সেন্টারকে নির্দেশ দেয়, যদি কোনও ব্যক্তি সন্দেহজনক নথির মাধ্যমে আধার তৈরি বা সংশোধন করার চেষ্টা করে, তারা যেন তা পুলিশকে জানায়।

    ডিটেনশন সেন্টারে রাখার নির্দেশ

    যদি কোনও ব্যক্তি অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক হন, তাহলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর, তাকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হবে। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তাদের নিরাপদ ফেরত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ফ্রিওর অফিস (FRRO)কে জানানো হবে। দিল্লি পুলিশ সম্প্রতি একটি বিশেষ অভিযানে ২০টিরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে, যারা রাজধানীতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং তাদের খোঁজার জন্য ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ডে অবৈধ অভিবাসন কোনও নতুন ঘটনা নয়। দেশে ক্রমাগত অবৈধ অভিবাসী আসতে থাকছে। ভারতীয় সৈন্যরা সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু সৈন্যরা সীমান্তে নজরদারি করা সত্ত্বেও অবৈধ অভিবাসীরা কীভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে লুকিয়ে ঢুকছে,তারই খোঁজ চলছে।

    অবৈধ অনুপ্রবেশ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মতে, ২০২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ২৬০১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করেছে । বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। কড়া নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত একীকরণের মাধ্যমে সর্বক্ষণ চলছে প্রহরা। অসমের ধুবরিতে হাবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা (CIBMS) সিস্টেমের একটি পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্পও চালু করা হয়েছে। অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের বিষয়টি তদারকি করার জন্য, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BGB) এর সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা করে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF)। এছাড়াও, ২০১১ সালে বিএসএফ এবং বিজিবি-র মধ্যে একটি সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (CBMP) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় বিএসএফ-বিজিবি নোডাল অফিসারদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সক্রিয় সরকার

    এখনও পর্যন্ত ৩০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি অভিবাসীকে পাকড়াও করে ভারত থেকে বার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীরা জাল নথিপত্র ব্যবহার করে এ দেশে থাকছিলেন বলে অভিযোগ। অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নথি জাল করে দেওয়ার একটি চক্রও সক্রিয় রয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিল্লিতে প্রায় ১৭৫ জনকে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাঁদের খুঁজে বার করতে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে চিরুনি তল্লাশিও শুরু হয়েছে।

    কেন ভারতে আসছে বাংলাদেশিরা

    নানা পরিসংখ্যান বলছে সারা ভারতে বর্তমানে কয়েক কোটি বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে। যাঁরা পদ্মাপাড় থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে এসে বসবাস শুরু করেছে। বাংলাদেশে দ্রুত জনসংখ্যার বৃদ্ধি, জমির অপর্যাপ্ততা, বেকারত্ব, বন্যা এবং সাইক্লোনসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশিরা ভারতে আসছে বলে অনুমান কূটনৈতিক মহলের। বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের ভালো অর্থনৈতিক অবস্থা এবং উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাও একটি কারণ বলে দাবি করা হয়েছে।

LinkedIn
Share