মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেআইনিভাবে বসবাসকারী বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। তাঁদের (Bangladeshi Infiltrators Detained) তৈরি করতে বলা হয়েছিল হোল্ডিং স্টেশন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের সেই নির্দেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যে শুরু হয়ে গেল অনুপ্রবেশকারীদের পাকড়াও করতে জোরদার তৎপরতা (Holding Centre)। মুর্শিদাবাদে ওপার বাংলা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়া ৩ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে ধরে পাঠানো হয়েছে লালগোলায় তৈরি নয়া হোল্ডিং সেন্টারে। একইভাবে, মালদার ইংরেজবাজারেও ধরা পড়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের পাঠানো হয়েছে ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে, জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারে।
মুর্শিদাবাদে আটক ৩ অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi Infiltrators Detained)
প্রশাসন সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ওই তিন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। তাদের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথিপত্র নেই। ধৃতদের নাম মহম্মদ সেলিম, মহম্মদ রুবেল এবং শরিফুল ইসলাম। আগে সচরাচর অনুপ্রবেশকারীদের ধরে সটান পাঠিয়ে দেওয়া হত জেলে। নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পর এবার আর মান্ধাতা আমলের সেই চেনা পথে হাঁটছে না প্রশাসন। রাজ্যে পালাবদলের সরকারের নয়া গাইডলাইন মেনে আইনি প্রক্রিয়া সেরে নেওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হয়েছে লালগোলার হোল্ডিং সেন্টারে।
‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখার ফরমান
পালাবদলের সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে রাজ্যের জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয় সম্প্রতি। তাতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ বা মায়ানমার থেকে যে সব নাগরিক বা রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বাংলায় ঢুকে পড়েছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা চলছে, সাধারণ কয়েদিদের মতো তাদের জেলে রাখা যাবে না। এই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আদালতে তোলার পর সরাসরি সরকারি ‘হোল্ডিং সেন্টারে’ রাখতে হবে। সেখান থেকেই দ্রুত তাদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নবান্নের এই নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে রাজ্যের বিভিন্ন জেলাপ্রশাসন। মুর্শিদাবাদের লালগোলার বিশেষ ক্যাম্পটিকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। রানিতলায় ধরা পড়া তিন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে এনে রাখা হয়েছে সেখানেই। বিএসএফ এবং জেলা পুলিশ যৌথভাবে এই অনুপ্রবেশকারীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে তাদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যায়।
‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের কাজ শুরু
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাতে কোমর কষে নেমেছে। মুর্শিদাবাদের এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। এই হোল্ডিং সেন্টারগুলির মাধ্যমেই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো হবে নিজেদের দেশে (Bangladeshi Infiltrators Detained)। এতে ভিটেয় ফিরতে অযথা সময় নষ্ট হবে না অনুপ্রবেশকারীদের, রেহাই পাবেন প্রশাসনিক কর্তারাও। এদিকে, মুর্শিদাবাদের লালগোলার পর মালদার ইংরেজবাজারেও ধরা পড়েছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। তাদের পাঠানো হয়েছে ইংরেজবাজার শহর লাগোয়া বাগবাড়ির চন্দনপার্কে, জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টারে। আগে এটি ছিল স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অফিস। নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পর তাকেই দ্রুত রূপ (Holding Centre) দেওয়া হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারের। সিসিটিভি এবং কড়া প্রহরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মালদার এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ৯ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে। তাদের পাকড়াও করা হয়েছে গাজোল এলাকা থেকে। এই ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৩ মহিলা এবং ৬ নাবালক-নাবালিকা।
কী বলছেন সাংসদ?
মালদা উত্তরের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু বলেন, ‘‘ভারতীয় নাগরিক নন, এমন যে সব ব্যক্তি (Bangladeshi Infiltrators Detained) আছেন, তাঁদের আমাদের দেশ থেকে ফিরতে হবে তাঁদের নিজেদের দেশে। এটা তো খুবই জরুরি। আমাদের রাজ্যকে সুরক্ষিত করব। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত করব। এতদিন ধরে তৃণমূল রাজ্যটাকে রোহিঙ্গাদের, সন্ত্রাসবাদীদের, জেহাদিদের করিডর হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছিল।” নবান্নের নির্দেশিকা পাওয়ার পরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদ এবং মালদা মিলিয়ে গ্রেফতার করা হল মোট ১২ জন অনুপ্রবেশকারীকে। তাদেরই রাখা হয়েছে দুই জেলার দুই হোল্ডিং সেন্টারে।
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রথমে বাম এবং পরে তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে বেনো জলের মতে ঘটেছে বাংলাদেশি মুসলমান এবং রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ। দালাল মারফত এরাই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলায় ঢুকে পড়ে তৎকালীন শাসক দলের ‘করিৎকর্মা’ নেতাদের ধরে জাল কাগজপত্র বানিয়ে দিব্যি বাস করছিলেন এপার বাংলায়। তাঁরাই ছিলেন বাম এবং তৃণমূল সরকারের ভোটব্যাঙ্ক। অভিযোগ, এই অনুপ্রবেশকারীরাই ওই দুই জমানায় ভোট ‘করাত’। কখনও হুমকি, কখনও আবার ছাপ্পা দিয়ে শাসক দলের প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জিতিয়ে আনতে এদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে ছাব্বিশের ‘ফিল্টার্ড’ (এসআইআরের ছাঁকনিতে বাদ গিয়েছে বহু ভোটারের নাম। এঁদের সিংহভাগই অনুপ্রবেশকারী বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।) বিধানসভা নির্বাচনে বেআব্রু হয়ে পড়ে রাজ্যের সদ্য-প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের কঙ্কালসার চেহারাটা। ২৯৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৮০টিতে জয়ী হয়ে তারা গুণছে ধরাকে সরা জ্ঞান করার মাশুল (Bangladeshi Infiltrators Detained)। আর ২০৮টি আসন পেয়ে দার্জিলিং থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত রাজ্যের সর্বত্রই পদ্ম ফুটিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। নবান্নে শুরু হয়েছে পদ্ম-রাজ। তার পরেই শুরু (Holding Centre) হয়েছে ‘অনুপ্রবেশকারী খেদাও’ অভিযান। যে অভিযানে ধরা পড়ল ১২ অনুপ্রবেশকারী।
