Tag: Bangladeshi infiltrators

  • Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া পদক্ষেপের জেরে এবার বড়সড় চাপে পড়েছেন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক ধরপাকড়, নজরদারি এবং পরিচয়পত্র যাচাই অভিযানের পর বহু বাংলাদেশি বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকা ও ট্রানজিট পয়েন্টে ভিড় জমাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। অনেকে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করার পর হঠাৎ পরিস্থিতির বদলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরোনো, সক্রিয় দালালচক্র

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সুসংগঠিত দালালচক্র সক্রিয় ছিল, যারা বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ভারতে ঢোকানোর ব্যবস্থা করত। সীমান্তের যে অংশে বিএসএফের টহলে “ফাঁক” থাকত, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হতো। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার এক কাঠমিস্ত্রি জানিয়েছেন, তিনি রাতের অন্ধকারে বিএসএফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক দালালকে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরপর সুযোগ বুঝে তাঁকে ভারতে ঢোকানো হয়। তাঁর কথায়, “কখনও পুরো রাত অপেক্ষা করতে হয়, আবার কখনও ১০ মিনিটেই সীমান্ত পার হওয়া যায়।” আরও এক অনুপ্রবেশকারী জানিয়েছেন, সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে এজেন্টের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে ট্রেনে করে বেঙ্গালুরু পৌঁছে যান।

    জাল আধার, ভোটার কার্ড ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ

    সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে পরিচয়পত্র জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক মদতের প্রসঙ্গে। একাধিক বাংলাদেশি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় তাঁদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোকজনই আমাকে ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল। এমনকি আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকাও দুই-তিন বছর পেয়েছি।”
    অন্য এক ব্যক্তি দাবি করেন, মাত্র ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁরা সহজেই ভাড়াবাড়ি নেওয়া, কাজ পাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হন।

    “বাবা ছোটবেলায় ভারতে নিয়ে এসেছিল”

    সীমান্তে অপেক্ষারত অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের খুলনার সালাম দালি নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে ৮-১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছিলেন এবং কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। আরেক ব্যক্তি বলেন, “আমি যখন ১০ বছরের মতো, তখন বাবা-মা আমাকে ভারতে নিয়ে আসে। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করত। এতদিন কেউ কিছু বলেনি। আমরা শুধু কাজ করেছি।” একটি প্রতিবেদনে খাতুন নামে এক মহিলার কথাও উঠে এসেছে, যিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু এখন আটক শিবির ও জোরপূর্বক নির্বাসনের ভয়ে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরছেন।

    বদলে যাওয়া প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বলে দাবি করছেন বহু অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের বক্তব্য, আগে প্রশাসন বা স্থানীয় স্তরে তেমন কড়াকড়ি ছিল না, কিন্তু এখন নিয়মিত নথি যাচাই, পুলিশি অভিযান এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, “তৃণমূল আমলে কেউ কিছু বলত না। এখন সরকার বদলে গেছে। বাড়ির মালিকেরাও ভয় পাচ্ছেন। বাংলাদেশি কাউকে রাখলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও জেলের ভয় দেখানো হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন, যাতে আটক হয়ে হোল্ডিং সেন্টারে যেতে না হয়।

    কঠোর অবস্থানে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে পাঠানো বা আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা জাল নথির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের তালিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াটে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সম্পত্তির মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তাঁরা বৈধ নথি ছাড়া কাউকে আশ্রয় না দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে এবং জাল পরিচয়পত্র চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তও শুরু হতে পারে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে হাজির না করে সরাসরি সীমান্তে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পান, তার জন্যও বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, প্রায় ৩০ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহু ভুয়ো পরিচয়ধারী ও অ-ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন বলে অভিযোগ। নতুন “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” প্রকল্পে এই ধরনের সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেন, “যেহেতু অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যাচ্ছে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।”

    সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের পুরনো রুট এখনও সক্রিয়

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে নদীঘেরা এলাকা, কৃষিজমি এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে এখনও সম্পূর্ণ নজরদারি বজায় রাখা কঠিন। এই দুর্বল অংশগুলিকেই কাজে লাগায় মানব পাচার ও চোরাচালান চক্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩,২৩২ কিলোমিটার অংশে বেড়া বা নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট সীমান্তের প্রায় ৭৯ শতাংশ। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের বহু নদীঘেরা ও দুর্গম অংশ এখনও অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও মানব পাচার চক্র এই রুটগুলিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ করাচ্ছে।

  • Odisha: গোয়েন্দা সতর্কবার্তা! ওড়িশায় বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

    Odisha: গোয়েন্দা সতর্কবার্তা! ওড়িশায় বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশায় বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করল রাজ্য সরকার। জগৎসিংহপুর, কেন্দ্রপাড়া, ভদ্রক ও জাজপুরসহ উপকূলীয় ও অন্তর্দেশীয় একাধিক জেলায় পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে নজরদারি, পরিচয় যাচাই ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক গ্রেফতার ও গোয়েন্দা সতর্কবার্তার পর এই অভিযান আরও তীব্র করা হয়েছে।

    জগৎসিংহপুরে উচ্ছেদ অভিযান

    জগৎসিংহপুর জেলায় শুক্রবার সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের অবৈধ বসতি উচ্ছেদে প্রশাসন জোরালো অভিযান চালায়। বিভিন্ন স্থানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একাধিক কুঁড়েঘর ও অস্থায়ী নির্মাণ। বেহেরামপুরের কাছে বেশ কিছু পরিবার সম্ভাব্য পুলিশি তৎপরতার ভয়ে নিজেরাই ঘরবাড়ি ভেঙে এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তারা বহু বছর ধরে সরকারি জমি দখল করে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ। তবে তারা কোথায় গিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। জেলাপ্রশাসন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন পর্যায়ক্রমে ডোর-টু-ডোর যাচাই অভিযান চলবে।

    মূল অভিযুক্ত সিকন্দর পলাতক

    জগৎসিংহপুরে বাংলাদেশিদের সংগঠিতভাবে বসতি স্থাপন করানোর মূল সন্দেহভাজন সিকন্দরকে ঘিরে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। তার বাড়িতে দুই ঘণ্টার তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে পুরনো ভোটার কার্ডসহ কয়েকটি নথি। পুলিশের ধারণা, সিকন্দরই বহু বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিতে ও বিভিন্ন অঞ্চলে থাকার ব্যবস্থা করে দিতেন। তার অর্থ লেনদেন খতিয়ে দেখতে কলেজ চকের কাছে একটি স্থানীয় ব্যাংকে যোগাযোগ করা হলেও তদন্তে উঠে এসেছে যে কলকাতা, চেন্নাই ও মুম্বইয়ের একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও তিনি লেনদেন করতেন। সিকন্দর সমুদ্রপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন, বলে আশঙ্কা পুলিশের। জগৎসিংহপুরের এসপি অঙ্কিত কুমার ভার্মা জানিয়েছেন, লুক-আউট নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়া চলছে। রঘুনাথপুর এলাকায় কুয়ামঙ্গায় সিকন্দরের নতুন বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে, তবে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

    মানবপাচার চক্রের সন্ধান

    পুলিশ সূত্রে খবর, সিকন্দর ও তার ভাই আব্দুলের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তারা ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে আনার মানবপাচার চক্র পরিচালনা করছিল। আনীত ব্যক্তিদের কম মজুরিতে কাজ করানো-সহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া একটি অবৈধ মাদ্রাসা পরিচালনা ও বিদেশি অর্থায়নের সন্দেহে একটি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সিকন্দরের বাংলাদেশ, কাতারসহ কয়েকটি দেশের লোকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

    জাজপুরে ডোর-টু-ডোর যাচাই অভিযান

    ব্রাহ্মবরদা থানার রসুলপুর ব্লকসহ জাজপুরের কয়েকটি এলাকায় পরিচয় যাচাই শুরু হয়েছে। রাজ্যের বাইরে বা অন্য জেলা থেকে আসা মেসন, হকার, খাবার বিক্রেতা ও শ্রমিকদের নথি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে পুরো এলাকাজুড়ে ভাড়াবাসা, কর্মস্থল ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলবে। ভদ্রকের বসুদেবপুর ব্লকের কাসিয়া মেরিন পুলিশ স্টেশন এলাকায় শুক্রবার সকাল থেকে কড়া নজরদারি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেআইনি বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও আটক করতে এই অভিযান রাজ্যজুড়ে চলবে। অন্যান্য উপকূলীয় জেলাতেও একই ধরনের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি জগৎসিংহপুরে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতারের পরই নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • Suvendu Adhikari: বাংলাদেশি মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী, সিএএ-তে তাদের স্থান নেই, সাফ জানালেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: বাংলাদেশি মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী, সিএএ-তে তাদের স্থান নেই, সাফ জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি (Bangladeshi) মুসলিমদের সিএএ-তে কোনও স্থান নেই, তাঁরা ‘অনুপ্রবেশকারী’ – বিধানসভা ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে ফের একবার এমনটাই স্পষ্ট করে জানালেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সিএএ-র আওতায় কারা পড়েন এবং কারা পড়েন না, তা কেন্দ্র আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত হয়ে আসা অমুসলিম শরণার্থীরাই এই আইনের অন্তর্ভুক্ত।

    কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)?

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) ভাষায়, “হিন্দু, শিখ, খ্রীষ্টান, জৈন, বুদ্ধিস্ট সকলেরই স্থান রয়েছে। তবে বাংলাদেশি মুসলিম নয়, পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। তাঁরা ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকবে। আর সব হিন্দু, যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এসেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ , তাঁরা সবাই শরণার্থী, তাঁদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত সরকার। হিন্দুরা আসবে, নিরাপদে থাকবে।”

    এই আইন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়

    এই আইনের আওতায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ভারতের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে শর্ত অনুযায়ী, তাঁদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করা আবশ্যক ছিল। তবে এবার নাগরিকত্বের আবেদন জানানো যাবে আরও ১০ বছর পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০২৫-এর মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে যাঁরা এসেছেন, তাঁরাও এই আইনের সুযোগ নিতে পারবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এনিয়ে জানিয়েছে, এই আইন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং নির্যাতিত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রণীত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আইন ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের জন্য একটি মানবিক পদক্ষেপ।ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকর করার সিদ্ধান্তে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,”সেকুলারিজম (ধর্মনিরপেক্ষতা), প্লুরালিজম (বহুত্ববাদ), এবং কমিউনিজম (সমাজতন্ত্র) — এই মূল্যবোধগুলো বজায় থাকবে ততক্ষণই, যতক্ষণ ভারত একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে টিকে থাকবে।”

  • Assam: সেপ্টেম্বরের পর থেকে অসমে আধার কার্ড পাবেন না প্রাপ্তবয়স্করা, নেপথ্যে রয়েছে এই বিশেষ কারণ

    Assam: সেপ্টেম্বরের পর থেকে অসমে আধার কার্ড পাবেন না প্রাপ্তবয়স্করা, নেপথ্যে রয়েছে এই বিশেষ কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশকারী রুখতে নয়া পদক্ষেপ অসম (Assam) সরকারের। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে অসমে ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও ব্যক্তি নতুন আধার কার্ড পাবেন না। তবে তফশিলি জাতি, উপজাতি এবং চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের মানুষের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। ২১ অগাস্ট অসম সরকার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, অনুপ্রবেশকারীরা যেন বেআইনি উপায়ে আধার কার্ড (AADHAAR) সংগ্রহ করতে না পারে, তাই এই পদক্ষেপ। অন্য যে কেউ, যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি, নতুন আধার কার্ড করতে চাইলে তাঁদের জেলা কালেক্টরের অনুমোদন নিতে হবে।

    সুযোগ মিলবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (Assam)

    তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই সুযোগ খোলা থাকবে, অর্থাৎ যাঁরা এখনও আধার কার্ড করেননি তাঁরা আগামী মাসের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে কোনও অনুপ্রবেশকারী অসম থেকে আধার কার্ড সংগ্রহ করতে না পারে। বর্তমানে অসমে আধার কার্ডের সংখ্যা ১০৩ শতাংশ। তাই এসসি, এসটি এবং চা-বাগান সম্প্রদায় ছাড়া অন্য কোনও প্রাপ্তবয়স্ক নতুন আবেদনকারী হলে তাঁকে অবশ্যই জেলা কালেক্টরের অনুমোদন নিতে হবে।” তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অসমে ১৮ বছরের বেশি বয়সি কোনও ব্যক্তি নতুন আধার কার্ড পাবেন না। তবে এসসি, এসটি এবং চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। যদি কেউ জেলা কালেক্টরের কাছে নতুন আধার কার্ডের জন্য আবেদন করেন, তবে জেলা কালেক্টরকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ পুলিশের রিপোর্ট ও বিদেশি ট্রাইব্যুনালের রিপোর্ট যাচাই করে তারপর অনুমোদন দিতে হবে।

    ‘চিকেন্স নেক’ এলাকায় ষড়যন্ত্র!

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতের বিরুদ্ধে একটি বড় ষড়যন্ত্র চলছে ‘চিকেন্স নেক’ এলাকায়। এই এলাকাটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে (Assam) মূল ভূখণ্ডকে যুক্ত করেছে। ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই চিকেন্স নেক অঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দা মূলত বাংলাদেশ বা পূর্ব পাকিস্তান থেকে এসেছেন। এখন তাঁরা আইন অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিক হলেও, তাঁদের মধ্যে সবসময়ই তাঁদের জন্মভূমির প্রতি একটা (AADHAAR) টান রয়ে গিয়েছে। এখন বাংলাদেশের কিছু কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী সংগঠন এঁদের উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং “স্লিপার সেল” সক্রিয় করছে। তিনি বলেন, “আমরা আগুনের ওপর বসে আছি।” যতদিন বাংলাদেশ সঙ্গে কোনও সংঘাত নেই, ততদিন সব ঠিক আছে। কিন্তু যদি কোনও সংঘাত হয়, তবে বাংলাদেশ থেকে আসা এক বড় অংশের মানুষ (AADHAAR) আসলে কোন দিকে তাঁদের আনুগত্য দেখাবেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ২০ বছর অসমের (Assam) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে এবং যে কোনও বিপদ এড়াতে খুব শক্তিশালী পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন।”

LinkedIn
Share