Tag: bank

bank

  • CBI: ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় কলকাতার পাঁচ জায়গায় সিবিআই হানা, কে কে রয়েছেন তালিকায়?

    CBI: ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় কলকাতার পাঁচ জায়গায় সিবিআই হানা, কে কে রয়েছেন তালিকায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলার (Bank Fraud Case) তদন্তে বৃহস্পতিবার কাকভোরে কলকাতার পাঁচ জায়গায় হানা দিল সিবিআই (CBI)। এদিন আলিপুর, নিউটাউন-সহ মোট পাঁচটি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই সূত্রে খবর, সকালেই শহরের ওই পাঁচ জায়গায় অভিযান চালান সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও।

    তল্লাশি চালাচ্ছেন সিবিআই আধিকারিকরা (CBI)

    প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এদিন কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন সিবিআই আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ভুয়ো নথি দেখিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আগেই দায়ের হয়েছিল মামলা। সেই মামলার সূত্রেই এদিন তল্লাশি চালায় সিবিআই। তদন্তকারীরা কার কার বাড়িতে হানা দিয়েছে, তা জানা না গেলেও, আলিপুর নিউ রোডে জনৈক নিশা কেজরিওয়ালের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    আলিপুর নিউ রোডেও অভিযান

    নিশা থাকেন ২৮ নম্বর প্লটের একটি বহুতল বিলাসবহুল আবাসনে। এদিন তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় ৬ আধা সেনাকে। ভেতরে রয়েছেন আরও দুজন। তল্লাশি অভিযানে নেমে সিবিআই দেখতে চাইছে ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় কার কার কাছে গিয়েছে টাকা। আলিপুর নিউ রোডের কাছে গণেশ কোর্ট আবাসনের পাঁচ তলায়ও এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সিবিআই। এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে (Bank Fraud Case) ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে কয়েকশো কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগেই কলকাতায় হানা দিয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা প্রথমে যান আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। খবর পেয়ে খানিকক্ষণ বাদেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্রুত পায়ে ঢুকে যান আইপ্যাকের অফিসে। খানিক পরে হনহনিয়ে তিনি চলে আসেন বাইরে, তখন তাঁর হাতে ধরা একটি সবুজ ফাইল। ইডির আধিকারিকদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে বাধা দিয়েছেন (CBI)। যদিও মমতার সাফাই, এই সবুজ ফাইলে রয়েছে তাঁর দলের প্রার্থীদের নাম, ভোট স্ট্র্যাটেজির মতো বিভিন্ন (Bank Fraud Case) বিষয়। তাই তিনি ফাইলটি দ্রুত হস্তগত করেছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (CBI)।

  • TMC: মুসলিম-তোষণের জন্য এবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের স্থান বদল! মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    TMC: মুসলিম-তোষণের জন্য এবার নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের স্থান বদল! মমতাকে তুলোধনা বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গা অঙ্গন বিতর্কে বেকায়দায় তৃণমূল (TMC)। এই ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে ফের একবার তোপ দাগল বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, এই প্রকল্প ঘিরেই সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে (Muslim Vote Bank) নতুন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তৃণমূল সরকার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা সরণির ধারে সরকারি জমিতে বৃহৎ দুর্গা অঙ্গন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পক্ষ থেকে একে মা দুর্গার প্রতি ‘সভ্যতাগত শ্রদ্ধার্ঘ্য’ বলে উল্লেখ করা হয়। দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ায় প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি নির্বাচনও করা হয়। দ্রুত টেন্ডার ডেকে তড়িঘড়ি করে চুক্তি স্বাক্ষর এবং মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়ে যায়।

    ৪ কোটি টাকা জলে (TMC)

    সরকারি নথি অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি (Muslim Vote Bank)। হঠাৎ করে পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ দাবি তোলে যে ওই জমি মুসলিম ওরিজিন এবং সেখানে একটি হিন্দু ধর্মীয় কাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা অনুচিত। এই আপত্তির পরেই অভিযোগ, রাজ্য সরকার আচমকাই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয়। সবচেয়ে (TMC) বিতর্কের বিষয় হল, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারের তরফে কোনও ব্যাখ্যা, কোনও দায়বদ্ধতা নির্ধারণ, এবং ইতিমধ্যেই ব্যয় হওয়া অর্থ ফেরতের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি (Muslim Vote Bank)। শেষ মুহূর্তে প্রকল্পের শিলান্যাস অন্য একটি জমিতে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা আদতে শিল্প প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ছিল।

    তুষ্টিকরণের রাজনীতি

    তৃণমূলের তুষ্টিকরণের এই রাজনীতিকেই নিশানা করেছে বিজেপি। পদ্ম-নেতা অমিত মালব্য এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেন, “এটি শাসনের নামে আতঙ্কজনিত তোষণ। তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক রক্ষার জন্য করদাতাদের কোটি কোটি টাকা জলে ফেলা হয়েছে।” বিজেপির আরও অভিযোগ, দুর্গা সংক্রান্ত প্রকল্পে বারবার পিছু হটা এক ভয়ঙ্কর বার্তা দিচ্ছে, যেন হিন্দু ধর্ম ও ঐতিহ্য রাজনৈতিক চাপের কাছে  আপসযোগ্য। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে আগে সমাজমাধ্যমে লেখেন, “এবার ছুঁচো গেলার অবস্থা হয় মাননীয়ার ! নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করতে গিয়ে দুর্গাঙ্গন, মহাকাল মন্দির ইত্যাদি বানানোর ঘোষণা করা হয়ে গেছে, আবার মুসলিম ভোট ব্যাংক কে চটালে সাড়ে সর্বনাশ!” নন্দীগ্রামের বিধায়ক আরও লেখেন, “অজ্ঞতা ভোট ব্যাংকের ওজনের ভারের তুলনায় হিন্দুদের ভাবাবেগ হালকা, তাই তাড়াতাড়ি স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে দুর্গাঙ্গনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে নিউটাউনের বাস স্ট্যান্ডের পাশে। এবারের চিহ্নিত জমি শিল্পের জন্যে নির্ধারিত ছিল!”

    বিজেপির অভিযোগ (TMC)

    বিজেপির দাবি, এই ঘটনা শুধুই আর্থিক অপচয় নয় (TMC), বরং রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিও অবমাননাকর। এদিকে, দুর্গাপুজো ও হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে ফের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) আক্রমণ শানাল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্তে একটি স্পষ্ট প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সাংবিধানিক সমতা ও সাংস্কৃতিক মর্যাদার বদলে ভোটের অঙ্কই প্রধান হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অধিকারকে খর্ব করছে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজনৈতিক তোষণের জন্য দুর্গাপুজোর সঙ্গে আপোস করেছেন। পোস্টে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর আপত্তি উঠলেই হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করাকে রাজ্য সরকার কার্যত স্বাভাবিক করে তুলেছে।

    হিন্দু সমাজের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ

    বিজেপির আরও অভিযোগ, এই ধরনের অবস্থান নির্বাচিত কিছু গোষ্ঠীকে বিক্ষোভে উৎসাহিত করছে এবং রাজ্যের হিন্দু সমাজের মধ্যে ভয় ও অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এর ফলে রাজ্যে ধর্মীয় সহাবস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি (TMC)। তবে দুর্গাপুজো ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, ২০১৬ সালে বীরভূম জেলার একটি গ্রামে টানা চার বছর ধরে দুর্গাপুজো করার অনুমতি পায়নি গ্রামের শতাধিক হিন্দু পরিবার। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই গ্রামের বাসিন্দারা জেলাশাসক, পুলিশ সুপার-সহ একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে বারবার আবেদন করলেও, পুজোর অনুমতি মেলেনি।

    উদ্যোক্তাদের দাবি

    উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রায় ২৫টি মুসলিম পরিবারের আপত্তির পরেই প্রশাসন দুর্গাপুজোর অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই এলাকায় পুজোর সংখ্যা আগেই চূড়ান্ত করা হয়ে গিয়েছিল (Muslim Vote Bank)। তাই নতুন করে আর কোনও পুজোর অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই (TMC)। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। কাংলাপাহাড়ি দুর্গা মন্দির কমিটির সদস্য চন্দন সাউয়ের অভিযোগ, পুজো আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ওই এলাকার মহিলা ও শিশুদের দুর্গাপুজোয় আনন্দ করতে তিন থেকে আট কিলোমিটার পর্যন্ত পথ যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি জানা সত্ত্বেও জেলা প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ করেনি। কারণ তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশকে বিরূপ করতে চায়নি।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনায় বিজেপির প্রতিক্রিয়া, এটি রাজনৈতিক চাপে পরিচালিত প্রশাসনিক পক্ষপাতের স্পষ্ট উদাহরণ (TMC)। বিজেপি এও মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০১৭ সালে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের কথাও (Muslim Vote Bank)। সেই সময় মহরমের মিছিলের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছিল এবং কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছিল।

    কী বলেছিল আদালত

    হাইকোর্ট তখন ওই সিদ্ধান্তকে খামখেয়ালি বলে আখ্যা দিয়েছিল। পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছিল, রাজ্য সরকার একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে গিয়ে অন্য সম্প্রদায়ের স্বার্থ উপেক্ষা করেছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কড়া ভাষায় দেওয়া সেই নির্দেশে আদালত স্পষ্ট জানায়, সরকার এমন কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে। আদালত আরও উল্লেখ করেছিল, পূর্ববর্তী (Muslim Vote Bank) বছরগুলিতে (TMC) এই ধরনের কোনও বিধিনিষেধ ছিল না।

  • Central Banks: আরবিআই একা নয়, বিপুল সোনা কিনছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিও, কারণ কি জানেন?

    Central Banks: আরবিআই একা নয়, বিপুল সোনা কিনছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিও, কারণ কি জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোনায় সোনা ফলে! তাই তামাম বিশ্বেই এই সোনালি ধাতুর কদর রয়েছে দীর্ঘকাল ধরে। তবে ইদানিং চাহিদা বাড়ছে সোনার। মানুষ তো বটেই, ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় তথা শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলিও (Central Banks) সোনা কিনে মজুত করছে। এ বছরে ধারাবাহির ভাবে সোনা কিনে মজুত করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের ভাণ্ডারে জমা থাকা সোনার মূল্য ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, ভারতীয় মুদ্রায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কে জমা থাকা সোনার মূল্য ৮ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০৯ কোটি টাকারও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সোনার প্রতি নস্টালজিয়া নয়, কিংবা সাময়িক বাজার উদ্বেগের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিরক্ষাও নয়, এটি আদতেই একটি কৌশল। ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠন, অনিশ্চিত বন্ডের মুনাফা এবং অসম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই বিশ্বে, সোনা ফের সর্বোচ্চ মূল্য সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    “কাঠামোগত অস্থিরতা” (Central Banks)

    এই পরিবর্তনের মূল কারণ হল “কাঠামোগত অস্থিরতা”। আন্তর্জাতিক সেটেলমেন্টস ব্যাঙ্কের মতে, উন্নত দেশগুলির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন ২ শতাংশের নীচে আটকে রয়েছে। অথচ বছরের পর বছর সুদের হার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এহেন পরিস্থিতিতে প্রচলিত নিরাপদ সম্পদ, যেমন সরকারি বন্ড থেকে লাভ পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি ডলার, ইউরো ইত্যাদির মতো ফিয়াট অ্যাসেটের ওপর আস্থা হারায়, তখন তারা বাস্তব ও দৃশ্যমান সম্পদের দিকে ঝোঁকে। সোনা, বন্ড বা মুদ্রার মতো নয়। এর কোনও কাউন্টারপার্টি রিস্ক নেই। মুদ্রাস্ফীতির কারণে এর মান কমে না, এবং নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক চাপের কারণে এটি স্থগিতও করা যায় না। এই স্থিতিশীলতাই বোঝায় কেন সোনা ফের অতীতের নিদর্শন নয়, বরং আধুনিক মজুত ব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি হিসেবে ফিরে আসছে।

    অর্থনীতিবিদের বক্তব্য

    ইনফরমেরিক্স রেটিংসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মনোরঞ্জন শর্মা বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার এই প্রবণতা (Gold Hoarding) কেবল প্রচলিত ধারণার কারণেই নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্য।” তিনি বলেন, “এই সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এসেছে ডি-ডলারাইজেশন প্রচেষ্টার কারণে, বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিগুলিতে যেমন চিন, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে।” বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সোনা সবরকম নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষা দেয়, আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায়, আর্থিক স্থিতিশীলতা মজবুত করে এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক ব্যবস্থায় স্বাধীন মুদ্রানীতি পরিচালনার জন্য নমনীয়তা দেয়।” খ্যাতনামা এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “সোনা আর্থিক দমননীতি এবং ক্রমবিবর্তিত ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধেও এক ধরনের সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে (Central Banks)।”

    ৯০০ টন সোনা

    চলতি বছর কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সম্মিলিতভাবে প্রায় ৯০০ টন সোনা কিনবে (Gold Hoarding) বলে আশা করা হচ্ছে। এটি ধারাবাহিকভাবে চতুর্থ বছর যেখানে গড়ের চেয়ে বেশি কেনাকাটা হবে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের ‘সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক গোল্ড রিজার্ভ সার্ভে ২০২৫’ অনুযায়ী, প্রায় ৭৬ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক মনে করছে আগামী পাঁচ বছরে তাদের মজুতে সোনার অংশ বৃদ্ধি পাবে। আর ৭৩ শতাংশ ব্যাঙ্ক মনে করছে বৈশ্বিক মজুতে মার্কিন ডলারের অংশ কমে যাবে। শর্মা বলেন, “এই লাগাতার অফিসিয়াল সোনা কেনা সোনার দামে একটি কাঠামোগত ভিত্তি তৈরি করেছে, এমনকি বৈশ্বিক সুদের হার বেশি থাকলেও।” তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির এই ক্রয় সোনার একটি নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হিসেবে খ্যাতিকে আরও মজবুত করেছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরো বিনিয়োগকারীদেরকে ইটিএফ, খনিশিল্পের শেয়ার, এবং সার্বভৌম গোল্ড বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করছে।”

    আইএমএফের সিওএফইআর ডেটাবেস

    আইএমএফের সিওএফইআর ডেটাবেস অনুযায়ী, বর্তমানে মার্কিন ডলার এখনও মোট বৈশ্বিক মুদ্রা মজুতের প্রায় ৫৮ শতাংশ অংশ ধরে রেখেছে। এটি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। ডলারের এই আধিপত্য এখন শুধু অর্থনৈতিক কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর আরোপিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা বহু সরকারকে মার্কিন সম্পদে অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে চিন্তিত করে তুলেছে (Central Banks)। অন্যদিকে সোনা এই ব্যবস্থার বাইরে থাকে। এটি নিজের দেশে সংরক্ষণ করা যায়, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য করা যায়, এবং কোনও নির্দিষ্ট দেশের নীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। এই কারণেই পশ্চিমি অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে নিজেদের আর্থিকভাবে সুরক্ষিত রাখতে চাওয়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির কাছে সোনা (Gold Hoarding) বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

    কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা

    শর্মা বলেন, “আগে যেখানে দামের ওঠানামা প্রধানত জল্পনামূলক প্রবাহ এবং ইটিএফের দ্বারা প্রভাবিত হত, এখন সরকারি খাতে স্বর্ণ সঞ্চয় একটি স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে কাজ করছে, যা সোনাকে আরও স্থিতিশীল এবং কম চক্রাকার করে তুলছে।” তিনি বলেন, “খনি উৎপাদন বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং পুনর্ব্যবহারের অভাবের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের শক্তিশালী ক্রয় ফিজিক্যালি সোনার বাজারকে আরও সংকুচিত করছে। তাই সাংহাই ও মুম্বইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ এশীয় কেন্দ্রগুলিতে প্রিমিয়াম প্রায়ই বেড়ে যাচ্ছে।” শর্মা বলেন, “এটি ভূরাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি সোনার ফের একটি কৌশলগত রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে আবির্ভাবকেও প্রতিফলিত করে (Central Banks)।”

LinkedIn
Share