Tag: Bay Of Bengal

Bay Of Bengal

  • Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Arnab) পরিণত হওয়ারও। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বাড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির (Weather Update)সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কখন কোথায়

    ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা: ওড়িশার গোপালপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে গোপালপুর ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই সিস্টেম। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাণ্ডবের আশঙ্কা তিন রাজ্যে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    দীঘায় সমুদ্রে নামতে মানা

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আপাতত ‘রিজার্ভ’ বা প্রভাবহীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এর ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ধাক্কায় পূর্ব মেদিনীপুর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার পূর্বাভাসের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি সৈকত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। সমুদ্রের বেশি গভীরে না যেতে এবং প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পুরো আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাবতীয় আপৎকালীন পরিকাঠামো।

    কলকাতায় দুর্যোগের প্রভাব

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতাতেও আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই কখনও হালকা আবার কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

    ওড়িশায় জারি রেড অ্যালার্ট

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা

    ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের অন্যতম প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া থেকে প্রবল ঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশা উপকূলেও দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তব, হচ্ছে না ঘূর্ণিঝড়। কলকাতার আবহাওয়া ফের খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। জোরালো নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে পুরসভার নিকাশি দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জল জমা ও নিকাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পাম্পিং স্টেশনেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

    কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি, বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আর এই নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে বাংলায়। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    বাংলায় নিম্নচাপের প্রভাব

    সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এই সিস্টেমের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা রয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কোন জেলায় কত বৃষ্টি

    বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূমে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভিজবে কলকাতাও।

    বৃহস্পতিবার থেকে আরও বাড়বে

    আগামী বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়াও থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিশেষত ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হাওড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও নিম্নচাপের দাপট

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধস বা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।

    উত্তাল সমুদ্র, নিষেধাজ্ঞা

    সমুদ্রের পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে হাওয়া জোরালো হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে।

    সতর্ক কলকাতা পুরসভা

    এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার নিকাশি দফতরকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টির সময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলিতেও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জল জমার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি পাম্প চালানো এবং জমা জল দ্রুত সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তাগুলিতে। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ বহু পুরনো এবং ভারী বৃষ্টিতে নিকাশি ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

     

     

     

     

     

  • Weather Update: পুজোর আগে ফের দুর্যোগের শঙ্কা! শক্তিশালী নিম্নচাপ, সকাল থেকেই বৃষ্টি, জেলায় জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস

    Weather Update: পুজোর আগে ফের দুর্যোগের শঙ্কা! শক্তিশালী নিম্নচাপ, সকাল থেকেই বৃষ্টি, জেলায় জেলায় দুর্যোগের পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরসুম। কেনাকাটা থেকে প্যান্ডেলের প্রস্তুতি- সর্বত্রই এখন শেষ লগ্নের ব্যস্ততা। কিন্তু এরই মধ্যে পুজোর আমেজে জল ঢালতে ফের চোখ রাঙাচ্ছে দুর্যোগ (Durga Puja weather forecast)! বঙ্গোপসাগরে বাসা বেঁধেছে এক নতুন নিম্নচাপ (Bay of Bengal depression), যা দিনে দিনে শক্তি বাড়িয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে (West Bengal weather update)। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নাগাদ এটি দক্ষিণ ওড়িশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছবে।

    পশ্চিমবঙ্গে প্রভাব

    এই নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় (West Bengal Weather)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ্যজুড়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি করা হয়েছে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা (Heavy Rain Alert)। বিশেষ করে উপকূলের জেলাগুলোতে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর- এই জেলাগুলিতে বৃষ্টির দাপট সবথেকে বেশি হতে পারে। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বাজ পড়ার সতর্কতা রয়েছে এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির পরিধি আরও বাড়বে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মেদিনীপুর জেলার পাশাপাশি বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ওই দিন হাওয়ার গতিবেগ বেড়ে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর এই দিনও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

    কলকাতার আবহাওয়া

    দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি কলকাতাতেও মেঘলা আকাশ ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির (Weather Update) সম্ভাবনা রয়েছে। ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শহরে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাদ যাচ্ছে না উত্তরবঙ্গও। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। একটানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর।

    ফের দুর্ঘটনা মন্দারমনিতে

    নিম্নচাপ, দুর্যোগের পূর্বাভাসের মধ্যেই মন্দারমণিতে বড় দুর্ঘটনা। সোমবার উত্তাল ছিল সমুদ্র। দুপুরের দিকে সপরিবারে স্নান করতে নেমে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। মন্দারমণিতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেলেন ৩ জন। উদ্ধার করা হয়েছে ১ নাবালককে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। দীঘা থেকে টোটো করে মন্দারমণিতে বেড়াতে এসে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান তিনজন। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ । মন্দারমণি কোস্টাল থানার অন্তর্গত কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। মন্দারমণি গোয়া বিচ রিসোর্টের সামনেই সপরিবারে স্নানে নামেন নদিয়া জেলার শান্তিপুরের বাসিন্দা সুমন শীল , তাঁর স্ত্রী ও শিশু। তারপর উত্তাল সমুদ্রে তলিয়ে যান তাঁরা। নিখোঁজ হয়ে যান সুমন শীল (২৪) এবং তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি শীল (১৮)। তাঁদের সঙ্গে থাকা বছর সাতেকের এক শিশুও জলে তলিয়ে যায়। শিশুটিকে তলিয়ে যেতে দেখে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় বৃষ্টি শীলের দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তাঁর স্বামী সুমন শীল। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।

  • Cargo Ship Sinks: ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

    Cargo Ship Sinks: ওড়িশা উপকূলে ডুবল পানামার পণ্যবাহী জাহাজ, নিখোঁজ ২২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশা (Odisha) উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গেল সিঙ্গাপুরগামী পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ (Cargo Ship Sinks) ‘এমভি ওশান উইনার’। জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, নিখোঁজ ২২ জন। তাঁদের সন্ধানে চলছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌসেনার তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ওড়িশা উপকূল থেকে লৌহ আকরিক বোঝাই করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল জাহাজটি। শনিবার আচমকাই জাহাজটির সঙ্গে স্থলভাগের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে জানা যায়, পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে গিয়েছে।

    নিখোঁজ বহু নাবিক (Cargo Ship Sinks)

    জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিকের মধ্যে ২০ জন চিনা নাগরিক। এ ছাড়া ছিলেন বাংলাদেশের এক জন এবং মায়ানমারের তিন জন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধারে দ্রুত তৎপর হয় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং নৌসেনা। সূত্রের খবর, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট নাগাদ আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর উদ্ধারকারী দল খবর পায় যে, ওড়িশা থেকে সিঙ্গাপুরগামী একটি জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকায় তখন একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল। সেটিকে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।রাত ৮টা নাগাদ একটি লাইফবোট থেকে দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের পরিচয়ও এখনও প্রকাশ করা হয়নি (Cargo Ship Sinks)।

    নাবিকদের সন্ধানে তল্লাশি

    এর পর নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে এলাকায় তিনটি উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানো হয়। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ‘বিজিত’ নামে একটি জাহাজ ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। এ ছাড়া ‘বরদ’ এবং ‘আনমোল’ নামে আরও দু’টি জাহাজও পাঠায় ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। রাতভর তল্লাশি চালানো হলেও, বাকি নাবিকদের সন্ধান মেলেনি। কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার সময় বঙ্গোপসাগরের ওই এলাকায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাহাজটি কীভাবে বিপদে পড়ল এবং ডুবে যাওয়ার আগে (Odisha) কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে (Cargo Ship Sinks)।

     

  • Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের জেরে ভিজছে দক্ষিণবঙ্গ, কলকাতায় কত দিন চলবে বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলছে বৃষ্টির দাপট (Rain Forecast)। রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ সোমবারও কলকাতাসহ একাধিক জেলায় স্বাভাবিক জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে। অফিস টাইমে জলজট ও যানজটের জেরে নাজেহাল হতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে (Weather Update)। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও হবে অতি ভারী বর্ষণও। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ঘনিয়েছে। ধীরে ধীরে তা উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে।

    দক্ষিণবঙ্গে চলবে বৃষ্টিপাত

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ অঞ্চলটি ঘৃনীভূত হয়ে রবিবার নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সেই সময় ওড়িশার বালেশ্বর থেকে তার অবস্থান ছিল ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব, পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিম। এটি ক্রমশ আরও পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরবে। সোমবারের মধ্যে বালেশ্বরের কাছে ওড়িশার চান্দবালি এবং দিঘার অন্তর্বর্তী অংশ দিয়ে তা স্থলভাগে প্রবেশ করতে চলেছে। তার পরেও নিম্নচাপ আরও উত্তরে সরবে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে ওড়িশা, ছত্তীসগঢ় সীমান্ত পেরিয়ে যেতে পারে নিম্নচাপ। রাজ্যে বর্ষা সক্রিয়। বর্ষাকালীন অক্ষরেখা দক্ষিণ-পশ্চিম রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে দক্ষিবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তা চলবে সোমবার পর্যন্ত। সোমবারের পর থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে উত্তরবঙ্গে।

    মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ

    নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইছে। হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার, কখনও কখনও দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যাচ্ছে ৬৫ কিলোমিটারেও। মঙ্গলবার পর্যন্ত তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে সোমবার। তালিকায় রয়েছে হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া। এ ছাড়া, সারা সপ্তাহ ধরেই দক্ষিণের জেলাগুলিতে কমবেশি বৃষ্টি চলবে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে অতি ভারী বর্ষণের কমলা সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস।

    জলমগ্ন শহরের বেশ কিছু জায়গা

    রবিবার রাত থেকে অনবরত বৃষ্টির প্রভাবে শহরের কিছু রাস্তা জলমগ্নও হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছ। যার জেরে সকাল থেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। জল জমে থাকায় ট্র্যাফিকের গতিও বেশ কিছুটা ধীর। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ দিনভর বৃষ্টি চলবে শহর কলকাতায়। আপাতত আবহাওয়ায় বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। উত্তরবঙ্গে মঙ্গলবারের পর থেকে ফের ভারী বৃষ্টি শুরু হবে। তবে উত্তরবঙ্গে গোটা সপ্তাহ জুড়েই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা এবং দুই দিনাজপুর-সহ প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

  • Weather Alert: সপ্তাহজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণে, কলকাতায় জারি হলুদ সতর্কতা, উত্তরের আবহাওয়া কেমন?

    Weather Alert: সপ্তাহজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণে, কলকাতায় জারি হলুদ সতর্কতা, উত্তরের আবহাওয়া কেমন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী এক সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার প্রকাশিত আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে এই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে। কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়ই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৫ জুলাই হতে পারে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি।

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস (Weather Alert)

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর এটি পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোবে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    চলতে পারে ভারী বৃষ্টি

    জানা গিয়েছে, ৬ জুলাইও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেওস বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা পুরো পূর্বাভাসের সময়জুড়েই থাকবে। কলকাতার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৬ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। ৭ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

     

  • Brahmos Missile: ব্রহ্মসের সফল উৎক্ষেপণ, সিঁদুর-পর্বে নজরকাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের বাড়ছে পাল্লা

    Brahmos Missile: ব্রহ্মসের সফল উৎক্ষেপণ, সিঁদুর-পর্বে নজরকাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের বাড়ছে পাল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিঁদুর অভিযান চলাকালীন শত্রুঘাঁটিতে অব্যর্থ নিশানা শানিয়েছে। তার ক্ষমতা চাক্ষুষ করেছে গোটা বিশ্ব। সেই সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। এরই মধ্যে সোমবার বঙ্গোপসাগরে পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ব্রহ্মস উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় সেনা। দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা ফের একবার পরখ করে নিল বাহিনী। ওই উৎক্ষেপণে পরীক্ষার সব মাপকাঠিতেই সফল হয়েছে ব্রহ্মস।

    বিভিন্ন মাপকাঠিতে পরখ করে দেখা হয় ব্রহ্মস

    সোমবার সেনার ব্রহ্মস ইউনিটের দক্ষিণ কমান্ড এবং তিন বাহিনীর আন্দামান-নিকোবর কমান্ড যৌথভাবে পরীক্ষাটি চালিয়েছে। ব্রহ্মসের পাল্লা, প্রযুক্তিগত নানা দিক পরীক্ষা করে নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষেত্রে আরও একবার সফল হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটি। যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের পরিস্থিতি থাকে, তারই অনুরূপ পরিস্থিতিতে ব্রহ্মসটি পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, সব ধরনের পরিস্থিতিতে এটি সফল হয়েছে। অর্থাৎ, অপারেশনাল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। ভারতীয় সেনার ব্রহ্মস ইউনিটগুলির রিয়েল টাইম প্রস্তুতি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হানায় নির্ভুলতা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্রহ্মসের পাল্লা-সহ বিভিন্ন মাপকাঠিতে পরখ করে দেখা হয় ক্ষেপণাস্ত্রটি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রহ্মসের উন্নত দিক্‌নির্দেশনা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, বেশি গতিতে ছুটে যাওয়ার সময়ে স্থিতিশীলতা, নির্ভুলতা এবং নির্দিষ্ট ভাবে নিশানায় আঘাত হানার ক্ষেত্রে ফের সফল হয়েছে ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রটি।

    নয়া ব্রহ্মস আরও আধুনিক

    সিঁদুর অভিযানের পর থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এমনকি, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তৃতাতেও উঠে এসেছিল রাশিয়ার সহযোগিতায় ভারতে তৈরি সেই ব্রহ্মস ক্রুজ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইসলামাবাদকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, সিঁদুর অভিযান শুধুই ঝলক ছিল। পাকিস্তানের প্রতিটি কোনাই ব্রহ্মসের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ চিন সাগরে ইসলামাবাদের বন্ধু বেজিঙের আগ্রাসন রুখতে ভারত থেকে কেনা সেই ক্ষেপণাস্ত্রেই ভরসা রেখেছে ফিলিপিন্স। সেখানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে তারা। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ব্রহ্মসের পাল্লা আরও বৃদ্ধি করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা ২৯০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। বিমান বা ডুবোজাহাজে ব্যবহৃত সংস্করণের কিছুটা কম। নতুন পাঁচ দফা পরিকল্পনায় ব্রহ্মসের পাল্লা এবং গতিবেগ দু’টিই বাড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, নয়া সংস্করণে স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি, সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিবেগসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রের স্তরে উন্নীত হবে ব্রহ্মস।

  • Cyclone Ditwah: শ্রীলঙ্কায় ধ্বংসলীলা চালিয়ে অন্ধ্রের দিকে এগোচ্ছে ‘দিটওয়া’, প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়িয়ে ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ ভারতের

    Cyclone Ditwah: শ্রীলঙ্কায় ধ্বংসলীলা চালিয়ে অন্ধ্রের দিকে এগোচ্ছে ‘দিটওয়া’, প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়িয়ে ‘অপারেশন সাগরবন্ধু’ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড় দিটওয়ার (Cyclone Ditwah) তাণ্ডবে লন্ডভন্ড শ্রীলঙ্কা। প্রবল বর্ষণ, ভূমিধসের কারণে ভয়াবহ পরিস্থিত দ্বীপরাষ্ট্রে। ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় প্রাণ কেড়েছে ৬৯ জনের। নিখোঁজ অন্তত ৩৪। প্রতিবেশী দেশের সংকটে পাশে দাঁড়িয়ে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’ (Operation Sagarbandhu ) শুরু করেছে ভারত (India Sri Lanka) । এবার ঘূর্ণিঝড় ভারতের উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। রবিবার ভোরে ঘূর্ণিঝড়টি তামিলনাড়ু–পুদুচেরি–দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের কাছে আছড়ে পড়তে পারে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে সতর্কতা জারি করে দিয়েছে মৌসম ভবন। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ঝড়বৃষ্টিও। তামিলনাড়ুর কয়েকটি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    দিটওয়ায় বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা

    গত সপ্তাহ থেকে প্রতিকূল পরিবেশের ধাক্কায় বিধ্বস্ত হতে শুরু করে প্রতিবেশী দেশটি। কিন্তু পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বৃহস্পতিবার থেকে। একটানা ভারী বর্ষণে পথঘাট জলের তলায় চলে যায়। ঘরবাড়ি, খেত, রাস্তা সবই ডুবে যায়। সেই সঙ্গে ভূমিধসেও প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের আকাশে ঘূর্ণিঝড় দিটওয়া পুঞ্জীভূত হতে শুরু করে। শুক্রবার শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। যার জেরে ব্যাপক ভূমিধস হয় গোটা দেশজুড়ে। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের পূর্ব ও মধ্য অংশ। সাম্প্রতিককালে প্রকৃতির এমন ভয়াল রোষ দেখেনি সিংহলিরা।

    প্রতিবেশীর পাশে ভারত

    প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দিকে ইতিমধ্যেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শ্রীলঙ্কায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে এত মানুষের মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “ঘূর্ণিঝড় দিটওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় যাঁরা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। দুর্যোগের জেরে আহত, ঘরছাড়া মানুষদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি। ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’ অভিযানে নেমেছে ভারত। জলসীমার সব চেয়ে কাছে থাকা প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে ভারত। আমরা আরও ত্রাণ ও সহযোগিতা পাঠাতে প্রস্তুত। শ্রীলঙ্কার বিপদে ভারত সর্বক্ষণ পাশে আছে।” বিদেশমন্ত্রী এস জয় জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আইএনএস বিক্রান্ত এবং আইএনএস উদয়গিরি শ্রীলঙ্কার উপকূলে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী দিনে আরও ত্রাণসামগ্রী ভারতের তরফে পাঠানো হবে।

    বহুদিন পর এমন দুর্যোগ দ্বীপরাষ্ট্রে

    শ্রীলঙ্কার (India Sri Lanka) বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, প্রায় ৪৩,৯৯১ জনকে উদ্ধার করে স্কুল-কলেজে এনে রাখা হয়েছে। এখনও বেড়ে চলেছে জলের স্তর। রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের বাজেটের অধীনে ১.২ বিলিয়ন টাকা তাৎক্ষণিক তহবিল প্রদান এবং ৩০ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনিক বিলম্ব এড়াতে একটি নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সদর দফতরে একটি নির্দিষ্ট ইউনিট এবং দশটি জরুরি হটলাইন চালু করা হয়েছে। এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী কলম্বোর প্রধান রাস্তাগুলিও জলমগ্ন। সাউথ এক্সপ্রেসওয়ের কিছু অংশে চলাচল বন্ধ রয়েছে। দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে একাধিক উড়ান তিরুঅনন্তপুরম, কোচিন এবং মাত্তালায় ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতির রোষে ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলি। মালয়েশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৯৪ জন। থাইল্যান্ডের দক্ষিণাংশে হারিয়েছেন ১৪৫ জন।

    ভারতের দিকে দিটওয়া

    মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝ়ড় দিটওয়া (Cyclone Ditwah) শ্রীলঙ্কার উপকূল ধরে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। গত ছ’ঘণ্টায় তার গতি কিছুটা বেড়েছে। ঘণ্টায় আট কিলোমিটার বেগে ভারতের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করার পর ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি আরও খানিকটা বাড়তে পারে। মৌসম ভবনের আধিকারিক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত তামিলনাড়ু ও পুদুচেরীর উপকূলে ঝড়ের গতি হতে পারে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৯০ কিলোমিটারেও। এর ফলে প্রবল বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ভারতের উপকূলে। নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কাও রয়েছে। ইতিমধ্যে তামিলনাড়ু, পুদুচেরী এবং অন্ধ্রপ্রদেশে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ১ ডিসেম্বর থেকে ঝ়ড়বৃষ্টি কিছুটা কমবে।

    বাংলায় দিটওয়ার প্রভাব

    দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের (Bay of Bengal) কোনও প্রভাব সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের উপর পড়ছে না। তবে তাপমাত্রা বেশ খানিকটা বেড়েছে। কিছু দিন আগে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। শনিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.২ ডিগ্রি কম। শুক্রবারের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি কম। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী চার দিন উত্তর বা দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রায় খুব একটা হেরফের হবে না। সর্বত্র শুকনো আবহাওয়া থাকবে। ঘূর্ণিঝড়ের রেশ কাটলে আবার দুই থেকে তিন ডিগ্রি নামতে পারে পারদ।

LinkedIn
Share