Tag: BBC Eye

  • Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    Meta: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত ঘটনা এবং শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে সরাসরি তথ্য জানানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে মেটা (Meta)। মঙ্গলবার সরকারি সূত্রেই এই তথ্য জানা গিয়েছে।

    এতদিন মেটার পক্ষ থেকে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি ছবি, ভিডিও বা অন্যান্য উপাদানের তথ্য শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন বা এনসিএমইসিকে জানানো হত (Child Sexual Abuse Case)। পরে ওই সংস্থাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করত। নতুন ব্যবস্থায় ভারত-সংক্রান্ত এই ধরনের ঘটনাগুলি সরাসরি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছেও পাঠাবে মেটা।

    সরকারের বক্তব্য (Meta)

    এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “ভারতে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা একটি মৌলিক নীতি। এই বিষয়ে কোনও আপস করা যাবে না।”

    তবে সরকারের তরফে এই পদক্ষেপকে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ওই আধিকারিকের কথায়, “শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসরকে নিরাপদ করার পথে এটি প্রথম পদক্ষেপ। এখনও আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন।”

    সরকারি সূত্রে খবর, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান শনাক্ত করে তা সরিয়ে ফেলার বিষয়ে অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা চলছে। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্রিয় পদক্ষেপ না নেওয়া সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এক আধিকারিক বলেন, “যেসব সোশ্যাল মিডিয়া শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে।”

    মেটার সঙ্গে সরকারের এই আলোচনা বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল। গত ৫ অগস্ট থেকে শুরু হওয়া একাধিক বৈঠকে মেটার শীর্ষ কর্তারা সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। সংস্থার প্রধান বৈশ্বিক বিষয়ক আধিকারিক জোয়েল কাপলানও সেই আলোচনায় অংশ নেন।

    সরকারের দুয়ারে মেটা কর্তারা

    কাপলানের সঙ্গে ছিলেন মেটার জননীতি বিভাগের সহ-সভাপতি নীল পটস, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জননীতি বিভাগের প্রধান রাফায়েল ফ্র্যাঙ্কেল, ভারতে জননীতি বিভাগের প্রধান আমান জৈন-সহ (Meta) অন্যান্য আধিকারিক।

    এর আগে জুলাই মাসে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদানের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত হওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটার আধিকারিকদের তলব করেছিল।

    ৩ জুলাই প্রকাশিত বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র নজরদারি শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইনস্টাগ্রামে শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি উপাদান প্রচারের জন্য অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।

    অনুসন্ধানে প্রায় ১০ মাসের একটি সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি শিশুদের যৌন নির্যাতনমূলক ছবি-সহ ৩৩২টি বিজ্ঞাপনের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৮৪টি বিজ্ঞাপন ভারতে দেখা গিয়েছিল। টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্টের দাবি, ভারতের ওই ৮৪টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৭৮টি এমন সময়ে প্রচারিত হয়েছিল, যখন জুলাই মাসেই সরকার মেটাকে এই ধরনের উপাদান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল।

    বিবিসির ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন নিজ উদ্যোগে বিষয়টি গ্রহণ করে। ৩ জুলাই মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এক সপ্তাহ পরে মেটার পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে জবাব দেওয়া হয়।

    কমিশনের সামনে মেটা কর্তারা

    সেই জবাব পর্যালোচনা করার পর কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে মেটা ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধানকে ৯ সেপ্টেম্বর কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে মেটা ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা কমিশনের সামনে হাজির হন।

    এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দিল্লি পুলিশকে অভিযোগগুলির তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে (Child Sexual Abuse Case) সুরক্ষা আইনের আওতায় মেটা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ তাদের তথ্য জানানোর আইনি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে (Meta)।

     

LinkedIn
Share