Tag: Belgium Football

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপ থেকে বিদায় রোনাল্ডোর! বাজিমাত স্পেনের, বালোগুনকে বোতলবন্দি করে শেষ আটে বেলজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্নই রয়ে গেল। ইচ্ছাপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ০-১ হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পর্তুগাল। একমাত্র গোল মিকেল মেরিনোর, যিনি পরিবর্ত হিসাবে নেমে নিয়মিত গোল করার কারণে ‘সুপার সাব’ নামে অভিহিত হন। তাঁর গোলেই রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল। ৪১ বছরের ফুটবলারকে অবসর নিতে হচ্ছে বিশ্বকাপ ছাড়াই। গত দু’দিন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল আমেরিকার স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বিতর্ক। বসনিয়া ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পরেও তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় ফিফা। জানা যায়, হোয়াইট হাউসের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ফিফার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় বেলজিয়াম। লিখিত আবেদনও করে তারা। তাতে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদলায়নি। কিন্তু এদিন বেলজিয়াম বুঝিয়ে দিল, জোর করে কাউকে জেতানো যায় না। মাঠের বাইরে যা-ই হোক না কেন, আসল খেলাটা হয় মাঠে। ৯০ মিনিটে। সেখানেই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল বেলজিয়াম। ৪-১ গোলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল বেলজিয়াম। সেখানে তাদের সামনে স্পেন।

    বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে

    ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তবে দলের হয়ে হয়তো খেলবেন আরও কিছুদিন। চোখে জল নিয়ে রোনাল্ডো বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।”

    দল ভালো খেলেছে, ভাগ্য খারাপ

    পর্তুগাল ভক্ত নন। অথচ অনেকেই এ দিন চাইছিলেন রোনাল্ডো জিতুন। বিশ্বকাপ হাতে তুলতে না পারুন। অন্তত আরও কিছু দিন বিশ্বকাপের মঞ্চে যেন দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু ফাইনালের দু’সপ্তাহ আগেই রোনাল্ডোর যাত্রা থেমে গেল। থামিয়ে দিল প্রতিবেশী দেশ স্পেন। এই দলের বিরুদ্ধেই ২০১৮-য় হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই রোনাল্ডো এবং এই রোনাল্ডোর মধ্যে অনেক তফাত। এই রোনাল্ডোর ক্ষিপ্রতা, আগ্রাসন, গতি— সব কিছুই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। এ দিন দু’-একটি এমন বল পেলেন যেখানে থেকে বছর দুয়েক আগেও অনায়াসে গোল করতে পারতেন। মিস্ করার পর হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে যতই বোঝাতে চান যে ইঞ্চিখানেকের ব্যবধান, রোনাল্ডো জানতেন অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা আর তাঁর নেই। অথচ পর্তুগাল যে হারার মতো খেলেছে এ কথা বলা যাবে না। বরং ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় তাদের আধিপত্য ছিল। গ্রুপ পর্বে বা নকআউট পর্বের ম্যাচগুলিতে পর্তুগালের খোলনলচে বেরিয়ে পড়লেও, স্পেনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করছিল সমানে-সমানে। সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” যতই বলুন চোখের জল বাধ মানছিল না। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

    বেলজিয়ামের সামনে দাঁড়াতে পারলেন না বালোগুন

    জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সামনে তাঁকে সপাটে জবাব দিল বেলজিয়াম। প্রতিপক্ষের সর্বাধিক গোলদাতাকে জোর করে খেলানোর সিদ্ধান্তই বোধহয় তাতিয়ে দিয়েছিল রুডি গার্সিয়ার দলকে। নইলে যে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে রাউন্ড অফ ৩২ পর্যন্ত খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জিতেছে, তারাই আমেরিকাকে উড়িয়ে দিল। গোটা ম্যাচে এক বারের জন্যও মনে হয়নি বেলজিয়াম চাপে রয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ম্যাচ খেলল তারা। উল্টে বালোগুনকেই দেখে মনে হল নিজেকে খোলসের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছেন। হয়তো লাল কার্ড বিতর্ক তাঁর মাথায় এখনও রয়েছে। বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ করলেন না। যে কয়েকটি সুযোগ পেলেন কাজে লাগাতে পারলেন না। শেষ দিকে একটি শট মারলেও তা থেকে গোল হয়নি। বালোগুনকে জোর করে খেলিয়ে খুব একটা লাভ হল না মৌরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দলের। উল্টে ৯০ মিনিট ধরে আমেরিকার খেলায় একটা অস্বস্তি চোখে পড়ল।

    ফিফাকে জবাব বেলজিয়ামের

    বেলজিয়াম যেন জবাব দেওয়ার জন্য নেমেছিল। প্রথম ১০ মিনিটেই আমেরিকার গোলে পাঁচটি শট মারে তারা। মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ হিমশিম খাচ্ছিলেন। একই অবস্থা ছিল দলের রক্ষণের। আগের ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে যে ডি কেটেলায়েরেকে দেখতে পাওয়া যায়নি, বেলজিয়ামের সেই স্ট্রাইকার এই ম্য়াচে দাপট দেখালেন। জোড়া গোল করলেন তিনি। প্রথমার্ধে ফ্রি কিক থেকে অবশ্য এক গোল শোধ করেন টিলমান। ব্যস, সে টুকুই। তার বেশি কিছু করতে দেখা যায়নি আমেরিকাকে। গোটা ম্যাচে আমেরিকার রক্ষণ সমস্যায় ফেলেছে। বেলজিয়ামের তৃতীয় গোল তারই ফসল। বক্সের বাইরে বেরিয়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পায়ে তা তুলে দেন ফ্রিজ। ভানাকেন দূর থেকেই শট মারেন। জালে জড়ায় বল। প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি রোমেলু লুকাকু। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পরিবর্ত হিসাবে নেমে গোল করলেন তিনি। বুঝিয়ে দিলেন, গোল করতে বেশি ক্ষণ সময় তাঁর লাগে না।

     

     

     

     

LinkedIn
Share