Tag: Bengal Elections 2026

  • PM Modi at Ganga: ‘বাংলার আত্মা দিয়ে বয়ে যায় গঙ্গা’, ভোরে নৌকাবিহারে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিলেন উন্নত বাংলা গড়ার শপথ

    PM Modi at Ganga: ‘বাংলার আত্মা দিয়ে বয়ে যায় গঙ্গা’, ভোরে নৌকাবিহারে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিলেন উন্নত বাংলা গড়ার শপথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে গঙ্গা (PM Modi at Ganga)। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গঙ্গা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। শুক্রবার সকালে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহারের পর এমনই অনুভব ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন গঙ্গায় নৌকাবিহারের একাধিক ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নৌকায় বসে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পিছনে দেখা যাচ্ছে হাওড়া এবং বিদ্যাসাগর সেতু। এ-ও দেখা যাচ্ছে যে, চোখে রোদচশমা পরে ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলছেন প্রধানমন্ত্রী। নৌকাবিহারের একটি ভিডিয়োও পোস্ট করেন মোদি।

    মা গঙ্গাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম

    দ্বিতীয় দফা ভোটের প্রচারে বৃহস্পতিবার বঙ্গে আগমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। শুক্রবারও দু’টি কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। তার আগে এ দিন সকালেই চমক মিলল তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। সকাল বেলা গঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে গোয়ালিয়র ঘাটে যান তিনি। সেখান থেকে একটি নৌকায় গঙ্গার বুকে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন তিনি । হাতে থাকা ক্যামেরায় নিজের জন্য ফ্রেমবন্দিও করেন কলকাতা ও হাওড়ার স্কাইলাইন। এর পরে তাঁর এক্স হ্যান্ডলে সকালের গঙ্গায় ঘোরার বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে বাংলার উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একটি পোস্টে তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাঙালির কাছে গঙ্গার মাহাত্ম্যের কথা তুলে ধরেন। লেখেন, “প্রতিটি বাঙালির কাছে গঙ্গা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রয়েছে। এটা বলাই যায় যে, গঙ্গা বাংলার আত্মা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।” সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে মোদি এ-ও লিখেছেন যে, “আজ সকালে কলকাতায় আমি হুগলি নদীর বুকে কিছু ক্ষণ সময় কাটালাম। মা গঙ্গাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর একটা সুযোগও পেলাম। পবিত্র গঙ্গা জল সমগ্র সভ্যতার চিরন্তন চেতনা বহন করে চলেছে।”

    বাঙালির উন্নতির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

    এখানেই শেষ নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi at Ganga) গঙ্গা ও বাংলার উন্নয়নের শপথের কথাও লিখেছেন। তাঁর কথায়, ‘হুগলির তীরে দাঁড়িয়ে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং মহান বাঙালি সমাজের সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করার আমাদের অঙ্গীকার আবারও নিচ্ছি।’ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে নদীর দু’ধারে ভিড় জমে যায়। গোয়ালিয়র ঘাটে আসা প্রাতর্ভ্রমনকারী ও নৌকাচালকদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল পোস্টে সে কথা জানিয়ে নৌকাচালকদের প্রশংসাও করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার হাওড়া থেকে ফেরার পথেই ব্রিজ ধরে গঙ্গা পার হওয়ার সময়েই সেই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই মনভরানো দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছিলেন তিনি।

    বেলুড় মঠে স্বামীজির ধ্যানকক্ষে প্রধানমন্ত্রী

    বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসে মথুরাপুর এবং কৃষ্ণনগরে জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর রোড শো করেন হাওড়ায়। প্রধানমন্ত্রী রাত্রিবাস করেন রাজভবন (অধুনা লোকভবন)-এ। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে সভা করবেন তিনি। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী সভা থেকে কিছু ক্ষণ বিরতি নিয়ে বেলুড় মঠে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মহারাজদের প্রণাম সেরে স্বামী বিবেকানন্দের ধ্যানস্থানের সামনে কিছুক্ষণ একান্তে সময় কাটান। পরে এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “যে স্থানে স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) ধ্যান করতেন, আজ সেখানে যেতে হতে পেরে আমি অভিভূত। নিঃস্বার্থ সেবার প্রতীক স্বামী বিবেকানন্দ।”

    রাজনীতি নয়, আত্মার যোগ! বেলুড় মঠে একাকী মোদি

    শৈশব থেকেই রামকৃষ্ণ মঠ তথা সঙ্ঘের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন মোদি। সন্ন্যাস নেওয়ার বাসনায় একাধিক বার মঠের একাধিক শাখায় গিয়েছিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসীদের পরামর্শেই সন্ন্যাস না-নিয়ে সামাজিক কাজে মন দেন। আরএসএস হয়ে বিজেপিতে যান। গুজরাটে ১৩ বছর মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু সে দীর্ঘ যাত্রাপথেও রামকৃষ্ণ সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখেন। ফলে মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বার শপথ নেওয়ার আগে বেলুড় মঠ থেকে প্রসাদী ফুল গিয়েছিল মোদির কাছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে এর আগেও একাধিকবার বেলুড় মঠে গিয়েছেন মোদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মঠে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। সঙ্ঘাধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দের সঙ্গে দেখা করেন। ঘুরে দেখেন মঠের নানা অংশ। গঙ্গার ধারের বারান্দাতেও কিছুটা সময় কাটান। তবে এই মঠ সফরকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির স্পর্শ থেকে দূরে রাখার বিষয়েও মোদি যত্নশীল ছিলেন। নিজের দলের কাউকে তিনি সঙ্গে নেননি। একাই গিয়েছিলেন বেলুড় মঠে।

    শোরগোল রাজনৈতিক ময়দানে

    ঝালমুড়ি পর্বের পরে শুক্রের সকালে প্রধানমন্ত্রী মোদির গঙ্গা বিহারে জোর শোরগোল রাজনৈতিক ময়দানে। গঙ্গার বুকে দাঁড়িয়ে বাংলার উন্নয়নের অঙ্গীকারের বার্তা রাজ্যের শাসকদলকে চিন্তায় ফেলেছে। আগেই রাজ্যের ভোট-পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে পরিবর্তনের ঝড় বইছে। প্রথম দফার ভোটে মহিলা ও যুব ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিকেই তিনি সেই পরিবর্তনের বড় দৃষ্টান্ত বলে তুলে ধরেন। মোদির কথায়, “আজ পশ্চিমবঙ্গের রেকর্ড ভোটিংই বলে দিচ্ছে, ভয় হারছে, ভরসা জিতছে। ১০ দিন পরে যখন গণনা হবে, নিশ্চিত ভাবে সবদিকে পদ্মফুল ফুটবে।” তিনি নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এখনই সময় পশ্চিমবঙ্গের নির্মম সরকারকে উপড়ে ফেলার। তাঁর দাবি, রাজ্যের মা-বোনেদের উপস্থিতিই তৃণমূলের ঘুম কাড়ছে। মহিলা নিরাপত্তা ইস্যুতে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আর জি কর হাসপাতাল ও সন্দেশখালির ঘটনার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল গুন্ডাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের মহিলা বিরোধী চেহারা সামনে এসে গিয়েছে। মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ বিল সংসদে পেশ করেছিল, কিন্তু তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, মহিলাদের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে তৃণমূলের কোনও চিন্তা নেই। ১৫ বছর ধরে মানুষ অত্যাচার সহ্য করেছে, এখন বদল চাই।”

  • Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    Amit Shah: ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী’’, শুক্র-সকালে ঘোষণা শাহ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ১৫২টি কেন্দ্রে। তার পরের দিন সকালেই নিউ টাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রথম দফার ‘রিপোর্ট-কার্ড’ প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়ে দিলেন ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। একইসঙ্গে, তাঁর ঘোষণা, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় জন্ম নেওয়া, একজন বাঙালিই হবেন।

    ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে’’

    সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’ তিনি বলেন, ‘‘৫ তারিখের পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। পশ্চিমে বিকাশ হয়েছে। পূর্ব দিক এখনও পিছিয়ে আছে। বিজেপি আসার পর সেখানেও বিকাশের গতি বাড়বে।’’ তিনি বললেন, ‘‘১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। সারা রাত ধরে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। সারা রাত ধরে বিশ্লেষণ করেছি।’’

    ‘‘রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন’’

    রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দুরবস্থা ও নারী নিরাপত্তার অবনতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিত শাহ বলেন, ‘‘প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে ফেলেছেন। এই মাটি বিকাশকে বেছে নিয়েছেন। মোদির নেতৃত্বে সারা দেশে বিকাশের যাত্রা চলছে। বাংলাও তাতে শামিল হতে চলেছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েরা কেন বাইরে বেরোচ্ছেন? তাঁর শাসন করার অধিকার নেই। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে বেরোতে পারবেন। কোনও গুণ্ডা আসবে না। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’’

    ‘‘বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন’’

    বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন বলে ঘোষণা করে দিলেন অমিত শাহ। বললেন, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে চাই, ৫ তারিখের পর বাংলা মাধ্যমে পড়া, বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।’’ তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বদলে যাবে। আর কোনও কাজের জন্য কাটমানি দিতে হবে না।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের কাছে পরিবর্তন চেয়েছি। পরিবর্তন মানে বিধায়ক বা দল বদলে দেওয়া হয়। পরিবর্তনের অর্থ দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ সমাপ্ত করা, প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক চাপ তুলে দেওয়া। পুরনো নির্বাচন ভুলে যান। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করছে কমিশন।’’

    ‘‘ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান, মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’

    অমিত শাহ বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দফার আসনগুলি আলাদা করে নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গই আমাদের জন্য কঠিন ছিল। আপাতত ৭৭টি আসনে আমরা বসে আছি। সরকার বিজেপি বানায় না। সরকার বানায় জনগণ। আমি সুনামি দেখতে পাচ্ছি।’’ শাহ বলেন, ‘‘কেউ গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ করলে কেন আপত্তি? ঝালমুড়ি তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খান। মোদিজি খেলে আপত্তি কিসের?’’ শাহ আরও বলেন, ‘‘এখানে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগেও ছিল। কিন্তু ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছিল না। এ বার পুলিশ, প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী সুরক্ষার ভাল বন্দোবস্ত করেছে। ভয়মুক্ত পরিবেশ রয়েছে। তাই আমাদের বিশ্বাস, পরিণাম আমাদের পক্ষে আসবে।’’

    ‘‘আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা’’

    মধ্যমগ্রামের রোড-শোর কথা উঠে আসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায়। অমিত শাহ বলেন, ‘‘মধ্যমগ্রামের রোড শো-তে যা ভিড় হয়েছিল, আমার কল্পনার বাইরে। এত ধাক্কাধাক্কির মধ্যে এক বয়স্ক মহিলা তার মধ্যেও দাঁড়িয়েছিলেন। এটা আমার জীবনের খুব বড় একটা অভিজ্ঞতা। আমি গাড়ি থেকে নেমে তাঁর কাছে গিয়েছি। ব্যক্তিগত জীবনেও এটা অনেক বড় শক্তি জোগায়। বিরোধীদের গালিগালাজ আর গায়ে লাগে না।’’ প্রথম দফার ভোটে কোনও কোনও বুথে ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহ জানান, এ বিষয়ে বিজেপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন।

    ‘‘নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস’’

    এর আগে, অমিত শাহ ইতিমধ্যেই শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। বাংলায় সকল ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মহোৎসবে অংশগ্রহণের সকল রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য রাজ্যের সম্মানিত ভোটারবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সকল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং আমাদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। এটি বাংলায় সুশাসনের এক নতুন যুগের সূচনার স্পষ্ট পূর্বাভাস।’’

  • Assembly Election 2026: রেকর্ড ভোটদান, ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ! নতুন মাইলফলক, অ্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    Assembly Election 2026: রেকর্ড ভোটদান, ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ! নতুন মাইলফলক, অ্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেকর্ড সংখ্যক ভোটদানের (Assembly Election 2026) নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যে প্রথম দফার ভোটে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙল বাংলা। একই সঙ্গে নির্বাচন হল মোটের উপর শান্তিপূর্ণ। অভিযোগ জমা পড়ল আগের তুলনায় অনেক কম। বঙ্গে এই নির্বাচনকে নতুন মাইলফলক অ্যাখ্যা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলায় এসে তিনি বলেন, “গত ৫০ বছরের মধ্যে এটাই সম্ভবত সবথেকে কম হিংসার নির্বাচন।”

    কেন রেকর্ড সংখ্যক ভোট

    প্রথম দফার নির্বাচনে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলিকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মনোজ বলেন, “এসআইআর-র ফলে মৃত ভোটার ও স্থানান্তরিত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় নেই। এর ফলে ভোটের হার শতাংশ তো বাড়বেই। দেশব্যাপীই এই ছবি দেখা যাচ্ছে। অসম-সহ যে সব রাজ্যে সম্প্রতি ভোট হয়েছে, সেখানে ভোটদানের হার বেড়েছে। আর বাংলায় তো ভোটদানের হার সবসময়ই বেশি থাকে। এবারও বেশি থাকবে।” ২০১১ সালের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬ সালের প্রথম দফায় ভোটের হার। ২০১১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮২.৬৬ শতাংশ। ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮১.৫৬ শতাংশ। এবার প্রথম দফাতে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায়ও ভোটের হার বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। শেষ তথা দ্বিতীয় দফায় ভোট রয়েছে কলকাতায়। এখানে ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকে। এদিন সিইও-র কাছে জানতে চাওয়া হয়, কলকাতায় কি এবার ভোটদানের হার বেশি থাকবে? তার উত্তরে সিইও বলেন, “আমরা সবাইকে ভোটদানের আবেদন করতে পারি। কলকাতাবাসীও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।”

    এক কথায় সফল নির্বাচন কমিশন

    নির্বাচন কমিশনের স্পেশ্যাল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, দিনভর বড় কোনও অশান্তির খবর নেই। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা অতীতের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুথে বুথে টহল দিচ্ছে সিআরপিএফ। এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কমিশনের কন্ট্রোল সেন্টার প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠে রয়েছেন ২০০ জন মাইক্রো-অবজারভার। ইভিএম সংক্রান্ত সমস্যা বা যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া মাত্রই প্রিসাইডিং অফিসারদের সক্রিয় করা হচ্ছে। এবার বুথ জ্যাম, ছাপ্পা ভোট কিংবা রক্তপাতের মতো ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে। ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ এবং কমিশনের কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সফল ও উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এক কথায় বলতে গেলে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের দিন ১০০ তে ১০০ না হলেও ৯৫ শতাংশ সফল নির্বাচন কমিশন।

  • Assembly Election 2026: স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে রেকর্ড বাংলার, কত ভোট পড়ল রাজ্যে?

    Assembly Election 2026: স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনের ইতিহাসে রেকর্ড বাংলার, কত ভোট পড়ল রাজ্যে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন তথ্য অনুযায়ী, ৯২.৪৭ শতাংশ ভোট (Assembly Election 2026) পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে এবার। দুই রাজ্যের ভোটারদের কুর্নিশ জানিয়েছেন তিনি। কমিশন সূত্রে মেলা শেষ তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। তামিলনাড়ুতে ভোটর হার ৮৪.২৯ শতাংশ।

    স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনে রেকর্ড

    রাজ্যে যে  ১৫২ টি আসনে প্রথম দফায় ভোট হয়েছে, সেগুলিতে ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৩.২ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৭৯.৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে। ওই বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বলছে এবারের মতো ভোট এর আগে কখনও দেখেনি পশ্চিমবঙ্গ। কারণ, এসআইআর পরবর্তী নির্বাচনে ভোট পড়ল ৯২ শতাংশ। যা গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এবারের ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার ছবিই বলে দেয়, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের এবারের নির্বাচন নিয়ে উৎসাহের অন্ত ছিল না।

    দেশের সব রাজ্যকে পিছনে ফেলল বাংলা

    চলতি বছর বিধানসভা ভোটে অসমে ভোট পড়েছে ৮৫.৩৮ শতাংশ। পুদুচেরিতে ভোটদানের হার ছিল চলতি বিধানসভা নির্বাচনে ৮৯.৯৩ শতাংশ। সেই দুই রাজ্যকে পিছনে ফেলল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোট। রাত ৯টার হিসেব অনুযায়ী প্রথম দফা নির্বাচনে ৯২ শতাংশ ভোটের মধ্যে মুর্শিদাবাদে পড়েছে ৯৩ শতাংশ, বর্ধমানে পড়েছে ৮৭ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে পড়েছে ৯২ শতাংশ ভোট, পূর্ব মেদিনীপুরে পড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট। পুরুলিয়ায় ভোট দেওয়ার শতাংশের হার ৮৯ শতাংশ। উত্তর দিনাজপুরে ভোট পড়েছে ৯১ শতাংশ। আলিপুরদুয়ারে ভোট পড়েছে ৯০ শতাংশ। বাঁকুড়ায় এই শতাংশ ৯১। বীরভূমে ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশ। কোচবিহারে ভোট পড়েছে ৯৫ শতাংশ। দক্ষিণ দিনাজপুরে এই হার ৯৫ শতাংশ। ৮৭ শতাংশ ভোট পড়েছে দার্জিলিংয়ে। জলপাইগুড়িতে ভোট পড়েছে ৯৩ শতাংশ। ঝাড়গ্রামে পড়েছে ৯২ শতাংশ ভোট। কালিম্পংয়ে পড়েছে ৮৩ শতাংশ ভোট ও মালদায় পড়েছে ৯১ শতাংশ ভোট। তবে চলতি বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ভোটদান কত হবে, সেই হার নজির গড়বে কি না, তা জানা যাবে দ্বিতীয় দফার পরেই। আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটে এর কাছাকাছি হার বজায় থাকলেই পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে দিতে পারে ভোটদানের বহু নজির।

     

     

     

     

  • Assembly Election 2026: পিংলায় বুথ ছেড়ে সদলবলে ‘লাঞ্চ’ করতে গেলেন ভোটকর্মীরা, কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

    Assembly Election 2026: পিংলায় বুথ ছেড়ে সদলবলে ‘লাঞ্চ’ করতে গেলেন ভোটকর্মীরা, কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রিজার্ভ পোলিং টিমকে পাঠিয়ে সামাল দেওয়া হল পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথের পরিস্থিতি। কাজ ছেড়ে সেই বুথের ভোটকর্মীরা খেতে গিয়েছিলেন এমনই অভিযোগ। নির্বাচনের দিন (Assembly Election 2026) মানেই বুথে চূড়ান্ত ব্যস্ততা। ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি আর ভোটকর্মীদের দম ফেলার ফুরসত নেই— এটাই হওয়ার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের দিন পশ্চিম মেদিনীপুরের (West Medinipur) পিংলা বিধানসভার ৯ নম্বর বুথের ছবিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। সেখানে ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে, কিন্তু বুথের ভেতর, চেয়ার ফাঁকা! প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার— সবাই তখন ‘মধ্যাহ্নভোজ’ সারতে বুথ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছেন।

    কমিশনের কড়া পদক্ষেপ

    ঘটনাটি শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও, বাস্তবে এমনটাই ঘটেছিল। বুথে দীর্ঘক্ষণ কর্মীদের দেখা না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধ্য হয়েই তাঁদের ফোন করেন। ওপার থেকে ভেসে এল সেই অমোঘ উত্তর— “আমরা বাইরে আছি, পরে আসছি!” যেন কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভোট নয়, পাড়ার পিকনিকে বেরিয়ে সামান্য দেরি হওয়ার কৈফিয়ত দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই সময় সেক্টর অফিসারও নাকি বুথের ধারেকাছে ছিলেন না। এই খবর কানে যেতেই নড়েচড়ে বসেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিক। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তার পরেই কমিশনের কোপে পড়ে কার্যত ছিটকে গেলেন ওই বুথের ভোটকর্মীরা। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ গোটা টিমকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    পিংলার ওসির অপসারণ দাবি শুভেন্দুর

    পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার ওসি-রও অপসারণের দাবি তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari)। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পিংলা থানার ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। শুভেন্দুর দাবি, পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার বর্তমান ওসি চিন্ময় প্রামাণিক বিজেপির পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং শাসকদলকে মদত জোগাচ্ছেন। তিনি কড়া সুরে বলেন, “পিংলার ওসিকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে।” এই মর্মে তিনি খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন। তাঁর মতে, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এমন আধিকারিকদের অবিলম্বে সরানো প্রয়োজন।

  • Assembly Election 2026: “৫ তারিখের পর বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে পারবে না”, নির্বাচনী সভা থেকে হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    Assembly Election 2026: “৫ তারিখের পর বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে পারবে না”, নির্বাচনী সভা থেকে হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটে (Assembly Election 2026) তৃণমূলের গুন্ডাদের সাহস হয়নি ভোটারদের আঙুল তুলে দেখায়। পুরশুড়ার সভা থেকে এমনই অভিমত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। বৃহস্পতিবার শাহের দু’টি জনসভা ছিল প্রথমটি হুগলির বলাগড়ে, দ্বিতীয়টি পুরশুড়ায়। সেখান থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দেন শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “৫ মে বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করার পর অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে তাড়ানো হবে। ৫ তারিখের পর বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে পারবে না।”

    দিদির যাওয়ার সময় হয়েছে

    রাজ্যে তৃণমূলের দাদাগিরি-কে ভয় না পাওয়ার কথা বলেন শাহ। তাঁর কথায়, “মহিলা মুখ্যমন্ত্রী এ রাজ্যে। কিন্তু এখানেই মহিলাদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের বোন-মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে। বিজেপি প্রার্থীদের জন্য নয়, অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে ভোট দিন। প্রথম দফায় দিদির কোনও গুন্ডার হিম্মত হয়নি, ভোটদারদের আঙুল তুলে দেখায়। যে ভাবে ৮০ শতাংশ ভোট (Assembly Election 2026) হয়েছে, এটাই স্পষ্ট দিদির যাওয়ার সময় হয়েছে। ৫ তারিখের পর আপনার এবং ভাইপোর সময় শেষ হবে। এখানে বিজেপির সরকার তৈরি হবে। এসআইআর ছাড়ুন। এক এক করে অনুপ্রবেশকারীকে বাইরে পাঠাব।”

    অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত করতে ভোট দিন

    শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করার জন্য ভোট দিন। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে নয়, অনুপ্রবেশকারীদের গোটা দেশ থেকে বেছে বেছে তাড়াবে বিজেপি। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের তরুণদের চাকরি খাচ্ছে। গরিবদের রেশন খাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। দেশের সুরক্ষার উপরও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গড়ে দিন। ৬ তারিখ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের পালানো শুরু হয়ে যাবে।” মহিলাদের উদ্দেশে শাহের বার্তা, ‘‘৫ তারিখের পর, সন্ধ্যা ৭টা তো দূর, মাঝরাতেও যদি কোনও অল্পবয়সি মেয়ে বাড়ির বাইরে বার হয়, তা হলেও কোনও গুন্ডার হিম্মত হবে না তার দিকে চোখ তুলে তাকানোর।’’

    সিন্ডিকেটবাজদের হুঁশিয়ারি

    এদিন মধ্যমগ্রামে রোড শো করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর আগে শাহ (Amit Shah) বলেন, “দিদি আমার কথা শুনে নিন। ৫ তারিখের পর বিজেপির সরকার আসবে। আপনার গুন্ডাদের বলবেন, নিজেদের এক্তিয়ারে থাকতে। না হলে ৫ তারিখের পর আমরা ঠিকঠাক হিসেবনিকেশ করে নেব।” হুঁশিয়ারির সুরে শাহ বলেন, “মমতাকে টাটা-বাই বাই করো, সিন্ডিকেটবাজদের উল্টো করে সোজা করা হবে।”

  • Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    Bengal Elections 2026: আসানসোল দক্ষিণে অগ্নিমিত্রা পালের গাড়িতে ‘হামলা’, লাভপুরে মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণে আক্রান্ত বিজেপি। দিকে দিকে বিজেপি প্রার্থী বা এজেন্টদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সবক্ষেত্রেই অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে।

    ভাঙল অগ্নিমিত্রার গাড়ির কাচ

    আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের উপর হামলার অভিযোগ। তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোল দক্ষিণের হীরাপুর থানা এলাকায়। অগ্নিমিত্রার গাড়ির পিছনের দিকের কাচ বেশির ভাগটাই ভেঙে গিয়েছে। হীরাপুর থানায় গিয়ে ইতিমধ্যে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। অগ্নিমিত্রা জানান, তিনি বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। রহমতনগর হাই স্কুলের বুথ পরিদর্শন করে বেরোন তিনি। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, সেই সময়েই চলন্ত গাড়িতে পিছন থেকে পাথর ছোড়া হয়েছে।

    রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুর

    প্রথম দফার ভোটে রক্তাক্ত বীরভূমের লাভপুরও। মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার এজেন্টের। আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থীর এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। জানা গিয়েছে, বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভ্রমরকল অঞ্চলে ৬৮ নম্বর বুথে সকাল থেকেই অশান্তির খবর আসছিল। সেই অশান্তির খবর পেয়েই বুথ পরিদর্শনে যান বিজেপির নির্বাচনী এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল। তাঁকে ঘিরে ফেলে কিছু লোকজন। অভিযোগ, মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় আক্রান্ত বিজেপি নেতাকে। অভিযোগের তির তৃণমূলের দিকে। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আজকে আমি বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ফেরার সময়ে আমার উপরে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন হামলা চালায়। আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।’ বিশ্বজিৎ বর্তমানে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশ্বজিৎ ছাড়াও লাভপুরের প্রার্থীর দেবাশিস ওঝার ছেলে বিশ্বরূপ ওঝাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে ‘বেধড়ক মার’

    দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের স্বয়ং প্রার্থীকেই মারধরের অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। পুলিশের সামনেই কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। যাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিছু আগেই তাঁর এজেন্টকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে ছাঞ্চল্য ছড়ায়! দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করতে দেখা যায় স্বয়ং বিজেপি প্রার্থীকেই। তারা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে অভিযোগ ওঠে। কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। পাল্টা অভিযুক্তদের ধাওয়া করেন প্রার্থী শুভেন্দু সরকার।

    মালদার চাঁচলে আক্রান্ত বিজেপি

    মালদার চাঁচল বিধানসভার ২২১ নম্বর বুথের ধুম সাডাগী পানপাড়া এলাকায় বিজেপির এক নির্বাচনী এজেন্টের উপর হামলার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই এজেন্টের পরনের পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল তৃণমূল। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। শেষে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সিতাই-ঘাটালে আক্রান্ত বিজেপি

    বিজেপির পোলিং এজেন্টকে ছুরি মারার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সিতাই বিধানসভার ২৭০ নম্বর বুথের ঘটনা। বিজেপির পোলিং এজেন্ট বুথ থেকে বাড়িতে খেতে যান। তখনই তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করার অভিযোগ। আহত এজেন্টকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। ঘাটালের মারিচা গ্রামে ‘আক্রান্ত’ বিজেপি প্রার্থী শীতল কপাট। ঘাটালের ৫ নম্বর অঞ্চলের ১৭০ নম্বর বুথে উত্তেজনা। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে, অভিযোগ শীতল কপাটের। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হামলাকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়েন্ত্রণে আনে।

  • Assembly Election 2026: পুলিশের সামনেই বিজেপি প্রার্থীকে মারধর! কুমারগঞ্জের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন

    Assembly Election 2026: পুলিশের সামনেই বিজেপি প্রার্থীকে মারধর! কুমারগঞ্জের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের পথে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটগ্রহণের (Assembly Election 2026) দিনে জেলায় জেলায় অব্যাহত রাজনৈতিক হিংসা। পুলিশের সামনেই দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারকে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। পোলিং এজেন্টকে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। ভাংচুর করা হয়েছে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি। সকাল থেকে একটু-আধটু গণ্ডগোল ছাড়া, সে অর্থে হিংসার ঘটনা সামনে আসেনি। তবে বেলা বাড়তেই একের পর এক হিংসার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছে।

    পুলিশের সামনেই মারধর

    কুমারগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের অভিযোগ, বুথে তাঁর পোলিং এজেন্টকে বসতে বাধা দিচ্ছিল শাসকদলের কর্মীরা। খবর পেয়ে তিনি সেখানে পৌঁছালে তৃণমূল আশ্রিত জেহাদি বাহিনী তাঁকে তাড়া করে। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে কিল, চড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁর গাড়িটিও ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ঘটনার সূত্রপাত কুমারগঞ্জের ২৪ নম্বর বুথকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের একদল কর্মী বিজেপি প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে বুথে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রার্থী শুভেন্দু সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বিজেপি প্রার্থীকে ঘিরে ধরে শারীরিক নিগ্রহ করে এবং তাঁকে মারধর করে।

    কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

    এদিকে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ওই এলাকায় হামলার সময়কার যে ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে, সেখানে উপস্থিত দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিনে প্রার্থীর ওপর এহেন আক্রমণে জেলা প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকায় বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই হিংসার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

  • Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

    Bengal Elections 2026: ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’, মথুরাপুরের সভা থেকে বিজেপিকে জেতানোর ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জোড়া জনসভা। প্রথম জনসভা হয় কৃষ্ণনগরে। সেই সভা সেরে তিনি পৌঁছে যান মথুরাপুরে। সেখানে তাঁর দ্বিতীয় জনসভা। বিজেপিকে জেতানোর ডাক দিয়ে মোদি বলেন, ‘‘সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভোট দিন। বিজেপি প্রার্থীদের জেতান।’’

    ‘‘বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে’’

    এদিন বক্তব্যের শুরুতে মথুরাপুরের জনসভায় জমায়েত দেখে মোদি বলেন, ‘‘আপনারা এখানে এসেই তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত করে দিয়েছেন। সকাল ৯টা-১০টা থেকে মানুষ চলে এসেছেন। অনেকে রোদে দাঁড়িয়ে আছেন। এত উৎসাহ! চারদিক থেকে একটাই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, গ্রাম থেকে, শহর থেকে, গলি থেকে— পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলায় পরিবর্তনের আঁধি চলছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে। যাঁরা প্রথম ভোটার, তাঁদের বলব, ভরসার পক্ষে ভোট দিন। ভয় দূর করুন। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, যে হারে ভোট পড়ছে, তাতে ভয় হারছে, ভরসা জিতছে।’’

    ‘‘তৃণমূলের মহিলা-বিরোধী রূপ প্রকাশ্যে’’

    মোদি বলেন, ‘‘কিছু দিন আগে লোকসভায় যা হয়েছে, তাতে তৃণমূল-সহ সমস্ত দলের মহিলাবিরোধী রূপ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মহিলারাই এর জবাব দেবেন। মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের প্রস্তাব সংসদে নিয়ে এসেছিল। তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে ওরা। বাংলা তো মা দুর্গার পুজো করে। তৃণমূল এখানেই মহিলাদের সম্মানকে নষ্ট করেছে, আপনাদের একটি ভোটই তার হিসাব করতে পারে। অন্যায় সহ্য করবেন না। অনেক হয়েছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘এখানে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। সব কাজে টাকা দিতে হয়। চাকরি কে পাবে, সেটাও ঘুষ খেয়ে ওরা ঠিক করে। যদি কাউকে জমি কিনতে হয়, তাতে মস্তান দাদাকে টাকা দিতে হয়। এই সিন্ডিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে এসেছে। কাটমানির খেলা আর চলবে না। মাফিয়াদের মেলা চলবে না।’’

    বাম-তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ

    মোদি বলেন, ‘‘বাংলা ৩৪ বছর ধরে বামেদের কুশাসন সহ্য করেছে। তার পর তৃণমূলকে তিন-তিন বার, ১৫ বছর ধরে সুযোগ দিয়েছেন এখানকার মানুষ। কেন্দ্রে বিজেপির ১১ বছরের শাসন রয়েছে, বাংলায় তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসন। আমরা সর্বত্র বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, পিএম আবাস দিয়েছে। ১২ কোটির বেশি শৌচালয় বানিয়ে দিয়েছি। ৫৫ কোটির বেশি মানুষের ব্যাঙ্কে জনধন অ্যাকাউন্ট খুলিয়েছি, তিন কোটি মহিলাকে লাখপতি দিদি বানিয়েছি। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র থেকে বার করে এনেছি। তালিকা দিতে দিতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যাবে। কিন্তু তৃণমূল এত বছরে কী দিয়েছে এই রাজ্যকে? শুধু মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান হয়নি। প্রতি জেলায় মেগা ফুডপার্ক তৈরির ঘোষণা হয়েছিল। সেটাও এখনও হয়নি। সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী মথুরাপুরের লোকজন।’’

    গঙ্গাসাগর-মথুরাপুর মেলা প্রসঙ্গ…

    মোদি বলেন, ‘‘সারা দেশ থেকে গঙ্গাসাগরে মানুষ আসেন। কিন্তু এখানে এখনও একটা পাকা সেতু নেই। প্রতি বছর ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার পর সব হাওয়া। ফেরির উপর মানুষকে নির্ভর করতে হয়। বান আসে, মানুষের ঘর ভেসে যায়। ফসল নষ্ট নয়। কিন্তু এই সরকারে তাতে কিছু যায় আসে না। নিজেরা কোনও কাজ করে না। কেন্দ্রকেও বাধা দেয়।’’
    মোদি বলেন, ‘‘মথুরাপুরের ভাঙা মেলা রাজ্য সরকারের সমর্থন পায়নি, যা পাওয়া উচিত ছিল। এটা রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় নিদর্শন। এই ভাঙা মেলাকে আমরা স্বচ্ছ ভারতের অংশ বানাব। মেলার প্রাঙ্গনে আমরা মার্কেট হাব তৈরি করব।’’

    অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতি

    মোদী বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীরাও এখানে সমস্যায়। চারদিকে লুট চলছে। তৃণমূল সরকার তাতে মদত দিচ্ছে। এখানকার শিশুদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারই কেন্দ্রে প্রথম মৎস্যপালনের আলাদা মন্ত্রক বানিয়েছে। সমুদ্রে যান যে মৎস্যজীবীরা, তাঁদের সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে আমাদের সরকার। তাঁদের আয় বাড়বে। তৃণমূল এখানকার সমুদ্রকে অসুরক্ষিত করে রেখেছে।’’ মোদী বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল। কাদের মদতে তারা ঢুকছে? তৃণমূলের মদতে। ওরা চায়, অনুপ্রবেশ বন্ধ না-করতে। যখনই অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলি, তখনই ওরা প্রতিবাদ করে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করব এখানে ক্ষমতায় এলে।’’

     

  • Bengal Elections 2026: ‘‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

    Bengal Elections 2026: ‘‘ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’, কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে আক্রমণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফার ভোটের দিন রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ তাঁর দু’টি জনসভা রয়েছে। প্রথম সভা বেলা সাড়ে ১২টায় কৃষ্ণনগরে। মোদির দ্বিতীয় জনসভা মথুরাপুর। তার পরে বিকেলে হাওড়ায় রোড শো রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

    কমিশনের প্রশংসা…

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ‘‘আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে। আমি সকলকে ভোটারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকলে গণতন্ত্রের উৎসব পালন করতে হবে।’’ তার পরেই মোদি বলেন, ‘‘আমি যত দিন রাজনীতিতে এসেছি, বলতে পারি গত ৫০ বছরে প্রথম এমন নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে। আগে তো লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বলত আত্মহত্যা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।’’

    ‘‘ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট’’

    মোদি বলেন, ‘‘আমি দেখতে পাচ্ছি ভয় দূর হচ্ছে। ভয় থেকে মুক্তি পেতে ভোট দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। আমি সব জায়গা দেখতে পাচ্ছি, সকলেই বলছেন পাল্টানো দরকার।’’ কৃষ্ণনগরের সভা থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের অভিনন্দন জানালেন মোদি। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভোটদানের হার সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে।’’

    ‘‘…ঝাল তৃণমূলের লেগেছে’’

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে আবার ঝালমুড়ির প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘৪ মে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়োৎসব হবে। মিষ্টি দেওয়া হবে, দেওয়া হবে ঝালমুড়িও। তবে আমি শুনেছি, ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোর ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, কিন্তু ঝাল তৃণমূলের লেগেছে।’’ মোদি বলেন, ‘‘আমি এ বার বাংলায় অনেক জায়গায় ঘুরেছি। দেখেছি মানুষ তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রীদের কাজে অতিষ্ঠ। সেই কারণে অনেক জেলার অনেক জায়গায় খাতাই খুলতে পারবে না তৃণমূল।’’

    জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে…

    মোদি বলেন, ‘‘১৫ বছর আগে বামেদের বিরুদ্ধে জনতা কেবল ফুঁ দিয়েছিল। কিন্তু এ বার তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে। আমরা ভোটে লড়ছি না। এ বারের ভোট জনতা লড়ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সরকারি কর্মচারীরা ভয় থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভাল ব্যবস্থার জন্য ভোট দিচ্ছেন। আইনজীবীরা ভোট দিচ্ছেন ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। শিক্ষক ভয়মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভোট দিচ্ছেন। জনতার সেবা করার জন্য ভোট দিচ্ছে পুলিশ।’’

    অনুপ্রবেশ নিয়ে নিশানা তৃণমূলকে

    কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করেন মোদি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পূরণ করতে ব্যর্থ। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের লোক কেবল লুট করতে ব্যস্ত।’’ মোদি বলেন, ‘‘অত্যাচারী, দুর্নীতিবাজদের কোনও জায়গা হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কেউ ছাড় পাবে না। বিচার করবে আইন। লুটের টাকা সকলে ফেরত পাবেন।’’ মোদি বলেন, ‘‘অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা।’’ অনুপ্রবেশের জন্য আবার একবার তৃণমূল সরকারকে দুষলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘সীমান্তের সুরক্ষা তখনই সম্ভব যখন পুলিশ, সেনা, বিএসএফ এবং নাগরিকেরা একসঙ্গে কাজ করবে। ৪ মে-র পর সুরক্ষার নতুন গ্যারান্টি শুরু হবে।’’

    মতুয়াদের অভয় দিলেন মোদি…

    মোদি বলেন, ‘‘মতুয়াদের তৃণমূলকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনাদের কেউ হাত লাগাতে পারবে না।’’ তিনি আরও বলেন, শরণার্থীদের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাঁরা ধর্মীয় বিভাজনের কারণে ভারতে এসেছেন তাঁদের সঙ্গে মোদী রয়েছে। মোদীর প্রতিশ্রুতি, ‘‘৪ মে-তে বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পর পরই সিএএ দিয়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজের গতি আরও বাড়বে।’’

    মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে সরব…

    আবার মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সরব হলেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল চায় না সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বাড়ুক। কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে সংসদে ওই বিল আটকে দিয়েছে তৃণমূল।’’ মোদি বলেন, ‘‘প্রতি ব্লকে মহিলা থানা হবে। রাস্তায় সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হবে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহিলাদের উপস্থিতি বাড়ানোর পদক্ষেপ করা হবে। মাতৃশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে বছরের ৩৬ হাজার টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।উচ্চশিক্ষার জন্য মেয়েদের সাহায্য করা হবে। শিশুদের লালনপালনের জন্য অতিরিক্ত ৩৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে।’’

LinkedIn
Share