Tag: Bengal Government

Bengal Government

  • Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    Suvendu Adhikari: ‘বেলডাঙার পুনরাবৃত্তি নয়’, মালদার মঞ্চ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর, এনআইএ তদন্তে আপত্তি প্রত্যাহার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Violence) ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি টানাপড়েনে নয়া মোড়। বেলডাঙা হিংসার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএর তদন্তের বিরুদ্ধে আগের রাজ্য সরকারের করা আপত্তি বর্তমান সরকার (Suvendu Adhikari) প্রত্যাহার করে নেওয়ায় মামলার তদন্তে এনআইএর রাস্তা আরও (Beldanga Violence) মসৃণ হল। একই সময়ে মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক থেকে আইন-শৃঙ্খলা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক প্রকল্প এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

    এনআইএকে দিয়ে তদন্ত (Suvendu Adhikari)

    বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলায় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত সাহায্যও চাইতে পারে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কার্যত নিরাশ হয়ে ফিরতে হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শীর্ষ আদালত এনআইএ তদন্তের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি। পরে কেস ডায়েরি এবং ধৃত অভিযুক্তদের হস্তান্তর নিয়েও রাজ্য পুলিশ এবং এনআইএর মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলে আদালতের নির্দেশে সমস্ত নথি ও অভিযুক্তদের তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে।

    বেলডাঙাকাণ্ড

    ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভা ভোটের আগে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক

    এদিকে, মালদায় প্রশাসনিক বৈঠক (Suvendu Adhikari) থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভবিষ্যতে সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি বা বেলডাঙার মতো অশান্তির পুনরাবৃত্তি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিজেও বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শনে যাবেন (Beldanga Violence)।

    সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

    প্রশাসনিক বৈঠকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৫০ লাখ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছতে শুরু (Beldanga Violence) করেছে। বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় স্থানান্তরের বিষয়েও ফের আশ্বাস দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বাইরে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধা পান।

    প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিধায়ক-সাংসদ

    উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চাঁচল ও গাজোলকে পুরসভার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে (Suvendu Adhikari)। যদিও চলতি বর্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলেও এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদেরও প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো এবং অতিরিক্ত আড়ম্বর এড়িয়ে ছিমছাম সরকারি বৈঠকের আয়োজন রাজনৈতিক মহলে নতুন বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Beldanga Violence)। গত কয়েক (Beldanga Violence) বছরের তুলনায় প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই পরিবর্তন নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা (Suvendu Adhikari)।

     

  • CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    CM Suvendu Adhikari: মমতার নেমপ্লেট সরিয়ে বিধানসভায় বসল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নাম, ১৫ বছর পর আমূল বদলের ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর সঙ্গে বিধানসভাতে (West Bengal Assembly) পরিবর্তন লক্ষ্য করে গেল। যেখানে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেমপ্লেট ছিল। সেখানে আজ বসানো হল শুভেন্দু অধিকারীর নেমপ্লেট। বাকি ঘরগুলিও খোলা হয়েছে। দফতর নির্ধারিত হওয়ার পরেই সেখানেও নেপপ্লেট বসে যাবে। এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে রাজ্য বিধানসভা চত্বরে। বিধানসভা রং করা থেকে শুরু করে সংস্কারের কাজ চলছে জোরকদমে। বিধানসভাকে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গেরুয়া আলোয়৷ ইতিমধ্যেই বসানো হচ্ছে ৩৫০টি আলোর সেট।

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল…

    ১৫ বছর পর রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। বিধানসভার ভেতর ও বাইরের সাজসজ্জাও অনেকটা বদলে গিয়েছে। এ বার আর বিরোধী দলনেতা নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন শুভেন্দু। তাঁর বসার ব্যবস্থাও মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো ঘরে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী বসবেন অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের কথা মাথায় রেখে এবং অন্য কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ঠিক হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরেই বসবেন শুভেন্দু। নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দিন তোড়জোড় দেখা গেল বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘর নতুন করে সাজানোর পাশাপাশি জিনিসপত্র গোছগাছের কাজ চলছে। শুক্রবার পর্যন্ত বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে ছিল মমতার নামে নেমপ্লেট। শনিবার, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, ওই ঘরে বসল শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেমপ্লেট। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে ঘরে বসতেন শুভেন্দু, সেখান থেকে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বিধানসভায় আমূল পরিবর্তন…

    বিধানসভায় প্রত্যেক দফতরের মন্ত্রীর জন্য বসার নির্দিষ্ট ঘর রয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মলয় ঘটক, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ফিরহাদ হাকিমরা যে ঘরগুলিতে বসতেন, সেগুলি পরিস্কার করা হয়েছে। এমনকি নেমপ্লেটও বদল করা হয়েছে। প্রায় চার বছর পর খোলা হল রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ওই ঘরটি তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। শুক্রবার তালা খুলে ঘরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বিধানসভার সব ফ্লোরেই পরিবর্তন চোখে পড়েছে। প্রাক্তন সরকারি মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন ডেপুটি চিফ গভর্নমেন্ট হুইপ দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামফলক স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোলা হয়। সরকারি প্রটোকল মেনে ঘরগুলি ‘স্যানিটাইজ’ করছে পিডব্লিউডি বা পূর্ত দফতর। নতুন আসবাবপত্র আনা হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক আমূল পরিবর্তনের ছবি ধরা পড়ছে বিধানসভার অলিন্দে।

    বিধানসভাতেই তৈরি হবে সিএমও

    এদিকে, বিধানসভাতেই তৈরি হবে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (Chief Minister’s Secretariat)। এতদিন নবান্ন থেকে সরকার পরিচালনা করতেন মমতা। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর গঙ্গার ও পারে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি জানিয়েছিলেন, বছর দশেকের মধ্যে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে সংস্কারের কাজ শেষ হলে আবার সচিবালয় ফিরবে সেখানে। যদিও তিনি ফেরেননি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এসে নবান্ন নয়, রাজ্য সচিবালয় চলবে রাইটার্স বিল্ডিংস বা মহাকরণ থেকেই। তবে, সেখানে সংস্কারের কাজ ৫০ শতাংশও হয়নি। মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জন্য নির্দিষ্ট ঘর এখনও তৈরি হয়নি। ফলে যতদিন না তা তৈরি হচ্ছে, ততদিন বিধানসভার বাইরের প্ল্যাটিনাম জুবলি কক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় কাজ করবেন তিনি। সূত্রের খবর, মহাকরণে সংস্কারের জন্য আপাতত মাস ছয়েক বিধানসভা থেকে সচিবালয় চালাতে পারেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় বা সিএমও-র আধিকারিকরা আপাতত বিধানসভার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তী স্মারক ভবনে বসবেন বলেই ঠিক হয়েছে। এই ভবনে দু’টি হল, গ্রন্থাগার ছাড়াও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। কোনও দপ্তরের মন্ত্রী বা সচিবের সেখান থেকে অফিসে করতে কোনও সমস্যা হবে না। রাইটার্স বিল্ডিংসের সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে গোটা সচিবালয় সেখানে উঠে আসার কথা। তবে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রী না–বসলেও কিছু দফতর সেখানে থাকতে পারে।

  • ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

    ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার (Bengal Government) যেভাবে পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ইসিআইয়ের নির্দেশ, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    কড়া ভাষায় চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ECI)

    ২১ জানুয়ারি তারিখে পাঠানো কড়া ভাষায় লেখা এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত মামলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের স্থায়ী নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ধরনের পরামর্শ বাধ্যতামূলক এবং এর অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ আইনের চোখে অবৈধ বলে গণ্য হবে (ECI)। এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম সংক্রান্ত। তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এক নির্দেশে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে।

    সামান্য শাস্তি!

    কমিশনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এএইআরও) সাময়িক বরখাস্ত করা, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং চুক্তিভিত্তিক এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-সহ দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথাও বলা হয়েছিল। এই নির্দেশ জারি করা হয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর বিধানের ভিত্তিতে (Bengal Government)। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনকে (ECI) জানায় যে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী রেজিস্ট্রি আধিকারিক তথাগত মণ্ডলকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এএইআরও সুদীপ্ত দাসকে সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    কমিশনের বক্তব্য

    তবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তগুলিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। ২১ জানুয়ারির চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দেয়, এক আধিকারিককে অব্যাহতি দেওয়া এবং অন্যজনকে সামান্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে করা হয়েছে, যদিও কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে এ বিষয়ে পূর্বপরামর্শ প্রয়োজন (ECI)। নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের ৩১ মে জারি করা তাদের স্থায়ী নির্দেশিকার উল্লেখ করে জানায়, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া বন্ধ বা চূড়ান্ত করার আগে ইসিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করা একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বলেও মন্তব্য করেছে কমিশন (Bengal Government)।

    প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ

    রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে “প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ” এবং “আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন” বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সরাসরি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশিকা ও আইনানুগ পদ্ধতি অনুযায়ী পুরো বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (ECI)। নির্বাচন কমিশনের আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলি সাধারণ বিভাগীয় বিষয় নয়। রাজ্য সরকার ইচ্ছে মতো কমিশনকে অন্ধকারে রেখে এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করতে পারে না। এই মামলায় যুক্ত চার আধিকারিক—তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস সকলের বিরুদ্ধে গৃহীত শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপের সম্পূর্ণ নথি নির্বাচন কমিশন চেয়েছে। পাশাপাশি, কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত (ECI) নেওয়ার জন্য দায়ী আধিকারিক বা দফতরের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যাও তলব করা হয়েছে।

    ইসিআই জানিয়েছে, এই নথি ও ব্যাখ্যাগুলি প্রয়োজনীয়, যাতে বোঝা যায় তাদের পূর্ববর্তী নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় আরও কোনও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না (Bengal Government)। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি, রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলামূলক ফাইল হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন (ECI)।

     

LinkedIn
Share