Tag: Bengal Govt

Bengal Govt

  • Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    Doctors Day 2026: জ্যোতি বসুর কথায় বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর! ‘ডক্টর ডে’-র মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় চিকিৎসক দিবস-এ রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে দুষলেন বিগত তৃণমূল সরকারকে। একই সঙ্গে ভোল বদলের আশ্বাস দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আজ ১লা জুলাই ২০২৬, প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘জাতীয় চিকিৎসক দিবস’ (National Doctor’s Day)। এই বিশেষ দিনে সল্টলেকের এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    বিধানচন্দ্র রায় -এর নামে হাসপাতাল

    সল্টলেকের বিধাননগর সাব-ডিভিশনাল হাসপাতালের ভোলবদল ও নতুন নামকরণের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল’। ডক্টর ডে-র মূল মঞ্চ থেকে আজ এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেশ কিছু অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবারও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।একই সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে একাধিক নতুন পরিষেবার সূচনা করার পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তিনি।

    বিধানচন্দ্র রায়ের কাজ শিক্ষনীয়, জ্যোতি বসুকে স্মরণ

    রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের কাজকে শিক্ষনীয় করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর একাধিক বক্তব্যকে নিজের ভিতরে আত্মস্থ করেছেন তিনি। বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিধান রায়ের ভূমিকার কথাও এদিন স্মরণ করা হয়। সেই কথা নিজেই এদিন জানিয়েছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর প্রসঙ্গও। চিকিৎসক দিবসে শুভেন্দু অধিকারীর তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য, “জ্যোতি বসু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন যেখানেই আমি হাত দিচ্ছি, দেখছি বিধানচন্দ্র রায় তা শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেখানেই হাত দিচ্ছি, দেখছি বিগত সরকারের ধ্বংসলীলা।”

    বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা

    রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৃণমূল সরকারের আমলে ভেঙে পড়েছে, লাগামছাড়া দুর্নীতিও হয়েছে, সেই অভিযোগ উঠেছে। এদিন সেই বিগত সরকারের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও তুলোধনা করেছেন তিনি। বিজেপি আমলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামোকে উন্নত করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমরা-ওরা থাকতে পারে না।” সেই কথাও শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। বাংলা থেকে বহু রোগী ভিনরাজ্যে চিকিৎসার জন্য যান। এই রাজ্যে চিকিৎসা দেওয়া যায় না? সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রাজ্যে হাসপাতালগুলোর বেহাল অবস্থা। কুকুর বেড়াল শুয়ে থাকত হাসপাতালের ভিতর। সেই প্রসঙ্গও তুলেছেন তিনি। “এই ধ্বংসলীলা থেকে বাংলাকে বার করতে হবে।” এদিন এই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাঙালি চিকিৎসকদের ইউরোপ-সহ অন্যান্য দেশে দেখা যায়। সেই কথাও মুখ্যমন্ত্রী জানান। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল ফেরাতে জোর দিয়েছেন তিনি।

  • Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর বৃদ্ধি, আয়ুষ্মান ভারত চালু, বিএসএফকে জমি হস্তান্তর, প্রথম দিনেই ৬ সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগে থেকে চলতে থাকা কোনও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না। চালু হচ্ছে আয়ুষ্মান ভারত-সহ সব কেন্দ্রীয় স্কিম, নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আগে চালু থাকা সমস্ত প্রকল্প থাকবে। তবে অভারতীয় বা মৃত কেউ এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না বলে জানান তিনি।

    নবান্নে শুভেন্দুর প্রথম দিন

    সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপর তাঁকে ভিআইপি করিডরে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। ১০-১৫ মিনিটের গার্ড অফ অনার দেওয়ার অনুষ্ঠান হয়। কলকাতা পুলিশের টিম, কলকাতা পুলিশের ব্যান্ড গার্ড অফ অনার দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। এরপর সোজা ১৪ তলায় পৌঁছন তিনি। নবান্নে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। ১৪ তলার একটি কনফারেন্স রুমে গিয়ে ৫ মন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক সারেন। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী পদে শপথ নেওয়া ৫ জন— অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক এবং দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও, এই বৈঠকে হাজির ছিলেন বেশ কিছু দফতরের আধিকারিকরাও। এর পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, জানান ৬ সিদ্ধান্তের কথা ।

    প্রথম মন্ত্রিসভায় ৬ সিদ্ধান্ত

    মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলি হল—

    ● বিজেপির নিহত কর্মীদের পাশে সরকার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপির অকালে ঝরে যাওয়া ৩২১ জনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছি, সমবেদনা জানিয়েছি। তাদের পরিবারের প্রতি এই সরকার দায়বদ্ধ। হত্যার বিচার চান তাঁরা। তা আমরা দেব। আত্ম বলিদানকারী বিজেপি কর্মীর পরিবারগুলির দায়িত্ব আমাদের। তাঁদের পরিবারের সামাজিক এবং অন্যান্য কল‍্যাণমূলক দায়িত্ব আমরা নিলাম।”

    ● ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর

    সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। প্রথম দিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিএসএফ-কে আমরা জমি হস্তান্তরে অনুমোদন দিলাম। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-এর হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ● আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ

    ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বড় ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত ( Ayushman Bharat ) প্রকল্পে যুক্ত হল। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (Pradhan Mantri Jan Arogya Yojana), প্রধানমন্ত্রী কৃষক বিমা যোজনা (Pradhan Mantri Kisan Bima Yojana), পিএম বিশ্বকর্মা (PM Vishwakarma), বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও (Beti Bachao Beti Padhao), পিএম উজ্জ্বলা (PM Ujjwala) যোজনা সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত হল রাজ্য।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিভিন্ন গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক স্তরে বহু আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, “রাজনৈতিক কারণে প্রচুর আবেদন ফেলে রেখেছিলেন জেলা শাসকরা।” তিনি জানান, অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের কাছে সেই সমস্ত আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতায় ৮ লক্ষ ৬৫ হাজার আবেদন করেছিলেন। সেগুলি আগের সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে পাঠাতে দেননি। আজ সেই আবেদন গুলি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ● আইএএস-আইপিএসদের প্রশিক্ষণ

    প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে আইএএস আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকরাও দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “আগের মুখ্যমন্ত্রীর অলিখিত নির্দেশে আইএএস, আইপিএস-রা প্রশিক্ষণ নিতে পারতেন না।” এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যসচিবকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    ● বঙ্গে চালু হল বিএনএস

    আজ থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন সংবিধান অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত অবৈধ ভাবে আগের আইপিসি, সিআরপিসি চলছিল। আজ থেকে বিএনএস-এ যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ।

    ● সরকারি চাকরিতে ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি

    সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজি বলেছিলেন, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে সরকারি চাকরিতে কোনও নিয়োগ হয়নি। তাই প্রচুর শিক্ষিত যুবক-যুবতীর বয়স চলে গিয়েছে। সে কথা মাথায় রেখে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়ঃসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হল।”

    একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, জনগণনার কাজ আজ থেকে শুরু করল রাজ্য। কেন্দ্রের নির্দেশ এখন থেকেই কার্যকর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠক। তিনি বলেন, “পরবর্তী সোমবার আমরা মন্ত্রিসভার আরও একটি বৈঠক করব। আরজি কর-সহ নারী নির্যাতন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, পে কমিশন, মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ), এরিয়ারের বিষয়ে আমরা ওই দিন আলোচনা করব।”

  • ECI: তিন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ কমিশনের

    ECI: তিন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) (ECI) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যে তিনজন ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষকের (IAS Officers) বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র মুখ্যসচিবকে লেখা চিঠিতে জানান, ওই বদলির নির্দেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।

    বদলির নির্দেশ বাতিল করতে হবে (ECI)

    সম্প্রতি রাজ্য সরকার আইএএস আধিকারিক স্মিতা পাণ্ডে, অশ্বিনী কুমার যাদব এবং রণধীর কুমারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দফতর বদলির নির্দেশ জারি করেছিল। চিঠিতে বলা হয়েছে, “বদলির নির্দেশগুলি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে নির্বাচন কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে।” এছাড়াও চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসআইআর চলাকালীন মুখ্যসচিবকে নিশ্চিত করতে হবে যে কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা যাবে না। চিঠিতে আরও বলা হয়, “কমিশন ২৭.১০.২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘোষনা করেছে। ওই চিঠির ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, এসআইআর চলাকালীন কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়া এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে বদলি করা যাবে না।”

    নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

    নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, “২৮.১১.২০২৫ তারিখের চিঠির মাধ্যমে কমিশন ডিভিশনাল কমিশনারদের সঙ্গে ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এসআইআর (IAS Officers) পরিচালনার জন্য এই আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনে ডিমড ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে।” চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশনের নজরে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ০১.১২.২০২৫, ২০.০১.২০২৬ এবং ২১.০১.২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যথাক্রমে অশ্বিনী কুমার যাদব, আইএএস উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক, রণধীর কুমার, আইএএস উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা উত্তরের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক, এবং স্মিতা পাণ্ডে, আইএএস পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষক – এই তিন আধিকারিকের দফতর বদলির নির্দেশ জারি করেছে (ECI)।

    কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই বদলি!

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “এই বদলিগুলি নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই করা হয়েছে, যা ২৭.১০.২০২৫ তারিখের কমিশনের নির্দেশের সরাসরি লঙ্ঘন। উপরোক্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী এই বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও নির্দেশ জারি করার আগে কমিশনের আগাম অনুমোদন নিতে হবে। এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের রিপোর্ট ২৮.০১.২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টার মধ্যে কমিশনে পাঠাতে হবে।” এর আগেও নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যখন মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন ফারাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এফআইআর দায়ের করেনি (IAS Officers)।

    উল্লেখ্য, গত বছর অগাস্ট মাসে নির্বাচন কমিশন বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ১২৭ জন ভুয়ো ভোটার নথিভুক্তির অভিযোগে চার সরকারি আধিকারিক এবং এক চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই চার আধিকারিকের মধ্যে ছিলেন বারুইপুর পূর্বের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, ময়নার ইআরও বিপ্লব সরকার, বারুইপুরের সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও) তথাগত মণ্ডল, ময়নার এইআরও সুদীপ্ত দাস (ECI)। চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যদিও রাজ্য সরকার সুরজিৎকে আগেই সাসপেন্ড করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

  • ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

    ECI: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার (Bengal Government) যেভাবে পদক্ষেপ করেছে, তা নিয়ে ঘোরতর আপত্তি জানিয়েছে কমিশন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ইসিআইয়ের নির্দেশ, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    কড়া ভাষায় চিঠি নির্বাচন কমিশনের (ECI)

    ২১ জানুয়ারি তারিখে পাঠানো কড়া ভাষায় লেখা এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শৃঙ্খলাজনিত মামলার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কমিশনের সঙ্গে পূর্বপরামর্শ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের স্থায়ী নির্দেশিকা অনুযায়ী এই ধরনের পরামর্শ বাধ্যতামূলক এবং এর অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপ আইনের চোখে অবৈধ বলে গণ্য হবে (ECI)। এই বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম সংক্রান্ত। তদারকি কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রাপ্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট এক নির্দেশে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকারকে।

    সামান্য শাস্তি!

    কমিশনের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (এএইআরও) সাময়িক বরখাস্ত করা, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং চুক্তিভিত্তিক এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর-সহ দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথাও বলা হয়েছিল। এই নির্দেশ জারি করা হয় জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর বিধানের ভিত্তিতে (Bengal Government)। পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশনকে (ECI) জানায় যে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী রেজিস্ট্রি আধিকারিক তথাগত মণ্ডলকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের এএইআরও সুদীপ্ত দাসকে সামান্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

    কমিশনের বক্তব্য

    তবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তগুলিকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি। ২১ জানুয়ারির চিঠিতে কমিশন জানিয়ে দেয়, এক আধিকারিককে অব্যাহতি দেওয়া এবং অন্যজনকে সামান্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের মতামত না নিয়েই একতরফাভাবে করা হয়েছে, যদিও কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে এ বিষয়ে পূর্বপরামর্শ প্রয়োজন (ECI)। নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের ৩১ মে জারি করা তাদের স্থায়ী নির্দেশিকার উল্লেখ করে জানায়, কমিশনের সুপারিশে শুরু হওয়া কোনও শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া বন্ধ বা চূড়ান্ত করার আগে ইসিআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ অমান্য করা একটি গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি বলেও মন্তব্য করেছে কমিশন (Bengal Government)।

    প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ

    রাজ্য সরকারের পদক্ষেপকে “প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ” এবং “আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন” বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সরাসরি বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের নির্দেশিকা ও আইনানুগ পদ্ধতি অনুযায়ী পুরো বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (ECI)। নির্বাচন কমিশনের আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত শৃঙ্খলামূলক মামলাগুলি সাধারণ বিভাগীয় বিষয় নয়। রাজ্য সরকার ইচ্ছে মতো কমিশনকে অন্ধকারে রেখে এই ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করতে পারে না। এই মামলায় যুক্ত চার আধিকারিক—তথাগত মণ্ডল, দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, বিপ্লব সরকার এবং সুদীপ্ত দাস সকলের বিরুদ্ধে গৃহীত শৃঙ্খলামূলক পদক্ষেপের সম্পূর্ণ নথি নির্বাচন কমিশন চেয়েছে। পাশাপাশি, কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সিদ্ধান্ত (ECI) নেওয়ার জন্য দায়ী আধিকারিক বা দফতরের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যাও তলব করা হয়েছে।

    ইসিআই জানিয়েছে, এই নথি ও ব্যাখ্যাগুলি প্রয়োজনীয়, যাতে বোঝা যায় তাদের পূর্ববর্তী নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় আরও কোনও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না (Bengal Government)। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি, রেকর্ড এবং লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলামূলক ফাইল হাতে পাওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন (ECI)।

     

LinkedIn
Share