মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের আগে রাজ্যে একাধিক রেল প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের মধ্যে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হলে রাজ্যবাসী আরও বেশি করে সুবিধা পাবেন।” তাই সাঁতরাগাছি (Santragachi) থেকে খড়্গপুর পর্যন্ত একটি নতুন করে চতুর্থ লাইন রেললাইন তৈরি করার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই নিয়ে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে।
কত কিমি প্রকল্পের রেল (Santragachi)
পণ্য পরিবহণে গতি আনতে পশ্চিমবঙ্গ (Santragachi) ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে দুটি বড় মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। বাস্তবায়িত হবে মোট ৪,৪৭৪ কোটি টাকা। পুরো কাজ হবে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম গতি শক্তি’ মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে। রেলমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রকল্পের মোট রেল লাইনের বিস্তৃতি দৈর্ঘ্যে ১১১ কিলোমিটার। আনুমানিক খরচ হবে ২,৯০৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা। এই রেল লাইনটি হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ওপর দিয়ে যাবে। এই পরিকাঠামোর প্রকল্পের অধীনে ১টি বড় ব্রিজ, ১৫টি মাঝারি ব্রিজ এবং ১০০টি ছোট ব্রিজ তৈরি করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
দক্ষিণ-পূর্ব রেলে যাত্রীদের ভোগান্তি নতুন কিছু নয়। প্রায় রোজদিনই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর শাখায় এই নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের (Indian Railways) খড়গপুর শাখায় যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ শোনা যায়। আসে প্রতিদিনই ট্রেন দেরি, অতিরিক্ত ভিড় এবং পরিষেবার অনিয়ম থেকে শুরু করে এরকম নানা বিষয়ে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে সাঁতরাগাছি (Santragachi) থেকে খড়্গপুরের মধ্যে ৩টি লাইন রয়েছে। প্রচণ্ড ট্রেনের চাপের কারণে প্রায়ই লোকাল ট্রেন দেরি করে চলে। এই চতুর্থ লাইন (Bengal-Jharkhand Rail) তৈরি হলে ট্রেনের গতিবেগ বাড়বে এবং লোকাল ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা উন্নত হবে। ট্রেন লেট হওয়ার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, কলকাতা থেকে মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে মুম্বই এবং চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি এই রুটে প্রচুর সাব-আরবান বা লোকাল ট্রেনও চলে। নতুন লাইন তৈরি হলে সেই ট্রেনগুলির জন্য অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি তৈরি হবে, ফলে আশা করা হচ্ছে লোকাল পরিষেবা আরও নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে ।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব
হলদিয়া ও কলকাতা (Bengal-Jharkhand Rail) বন্দরের মধ্যে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হবে। জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত বিভিন্ন সিমেন্ট ক্লাস্টার, শালিমার ও সাঁকরাইলের গুড শেড এবং কোলাঘাট থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো এই প্রকল্পের ফলে উপকৃত হবে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর শাখায় নিত্যযাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং মালবাহী ট্রেনের গতি বাড়াতে এই বড় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে রেলমন্ত্রক।
পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের মোট ৫টি জেলায় প্রকল্প
পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের (Bengal-Jharkhand Rail) শিল্পাঞ্চলগুলিকে যুক্ত করতে নতুন লাইন ও ডাবলিংয়ের কাজ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ (Santragachi) ও ঝাড়খণ্ডের মোট ৫টি জেলা এই প্রকল্পের অধীনে পড়বে। এর ফলে ভারতীয় রেলের মানচিত্রে নতুন করে ১৯২ কিলোমিটার পথ যুক্ত হবে। উপকৃত হবেন ৫,৬৫২টি গ্রামের মানুষ। আসানসোল এবং সীতারামপুর সংলগ্ন রেল করিডরকে আরও উন্নত করা হবে। পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত রেল রুট বলেই পরিচিত এই রুট। এই রুটে মূলত কয়লা, সিমেন্ট, লোহা পরিবহণ করা হয়। সাঁইথিয়া-পাকুর সেকশনে চতুর্থ রেললাইন নির্মাণ করা হবে। চতুর্থ রেললাইন তৈরি করা হবে সাঁতরাগাছি-খড়্গপুর সেকশনেও। নতুন ট্র্যাক তৈরি হলে খরচ বহুলাংশে কমে যাবে। গতি আসবে শিল্পক্ষেত্রে। এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
