Tag: Bengal Political News

Bengal Political News

  • Bengal Elections 2026: ভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে নালিশ বিজেপির

    Bengal Elections 2026: ভোটের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে নালিশ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাল বিজেপি। মঙ্গলবার এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) এর দফতরে হাজির হয় বিজেপির প্রতিনিধি দল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল সিইও দফতরে গিয়ে সরাসরি অভিযোগ জানায়।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি

    শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ,‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি মানছেন না। তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি দেওয়ার মতো মন্তব্য করছেন, যা অত্যন্ত গুরুতর।’’ শুধু তাই নয়, বিজেপির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী নাকি প্রকাশ্যে এমন কথাও বলেছেন, ৪ মের পর বিজেপি কর্মীদের গলায় পোস্টার ঝুলিয়ে বলতে হবে ‘‘আমরা বিজেপি করি না।’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন,‘‘একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে এমন মন্তব্য করতে পারেন? তিনি প্রার্থী হলেও তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে। এভাবে কি ভোট-পরবর্তী হিংসার ইঙ্গিত দেওয়া যায়?’’ এই সমস্ত অভিযোগই মঙ্গলবার লিখিত আকারে সিইও দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ

    প্রসঙ্গত, এর ঠিক একদিন আগেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে একই অভিযোগ জানায় বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, কিরেণ রিজিজু, অরুণ সিং ও সুকান্ত মজুমদারের স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের সভা-সমাবেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে ‘ভয় ও উস্কানিমূলক’ পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ২৫ মার্চ ময়নাগুড়ি ও নকশালবাড়ি এবং ২৬ মার্চ পাণ্ডবেশ্বরের সভার বক্তব্য। পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের ২৮ মার্চের এক সাংবাদিক বৈঠকের মন্তব্যকেও নিশানা করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই সমস্ত বক্তব্য ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে দেওয়া এবং তা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশ ‘নিষ্ক্রিয়’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’। স্পর্শকাতর এলাকায় আরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, অতিরিক্ত আইএএস ও আইপিএস পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। এমনকী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় এফআইআর দায়েরের আর্জিও জানানো হয়েছে।

  • Leander Paes: জল্পনায় সিলমোহর, পদ্ম-শিবিরে নাম লেখালেন পদ্মপ্রাপক টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ

    Leander Paes: জল্পনায় সিলমোহর, পদ্ম-শিবিরে নাম লেখালেন পদ্মপ্রাপক টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথা আগেই হয়ে গিয়েছিল। এবার পদ্ম-শিবিরে নাম লেখালেন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)। মঙ্গলবার দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতিতে ভারতীয় জনতা পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করলেন অলিম্পিক পদকজয়ী এই কিংবদন্তি। গত সপ্তাহেই কলকাতার নিউটাউনের এক অভিজাত হোটেলে বিজেপি (Bengal BJP) নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠক ঘিরে যে গুঞ্জন দানা বেঁধেছিল, এদিন তাতেই শিলমোহর পড়ল।

    নিউ টাউনের সেই ‘পাকা কথা’ (Leander Paes)

    ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। কলকাতায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সফরের সময় নিউটাউনের একটি হোটেলে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Bengal BJP) সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন লিয়েন্ডার। সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়—তবে কি ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই যোগদান করবেন টেনিস মহাতারকা (Leander Paes)? মঙ্গলবার দিল্লিতে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়ার পর সেই জল্পনাই বাস্তব রূপ পেল। পদ্ম-শিবিরে যোগদান করে পদ্মপ্রাপক (২০১৪ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার বিজয়ী) ক্রীড়াবিদ লিয়েন্ডার বলেন, “আমার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে। কিন্তু আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন ওখানে টেনিসের এত পরিকাঠামো ছিল না। আজও দেশে কোনও ইন্ডোর টেনিস কোর্ট নেই। এখন আগের চেয়ে পরিস্থিতি ভালো হয়েছে। তবে ক্রীড়া এবং ক্রীড়া প্রশিক্ষণে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।”

    কেন এই দলবদল?

    ২০২১ সালের অক্টোবরে গোয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন লিয়েন্ডার। গোয়া নির্বাচনে দলের হয়ে প্রচারও করেছিলেন। তবে গত কিছু সময় ধরে জোড়া-ফুল শিবিরের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে খবর। এদিন বিজেপিতে (Bengal BJP) যোগ দিয়ে লিয়েন্ডার (Leander Paes) বলেন, “আমি ৪০ বছর দেশের হয়ে খেলেছি। এবার দেশের যুব সমাজ ও ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নতির জন্য কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মপদ্ধতি এবং দেশের খেলাধুলার প্রসারে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”

    বঙ্গ-রাজনীতিতে লিয়েন্ডারের গুরুত্ব

    লিয়েন্ডারের যোগদানের সময় সুকান্ত মজুমদার তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes) মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের উত্তরসূরি। বাংলার মাটির সঙ্গে তাঁর এই গভীর যোগসূত্রকে আগামী নির্বাচনে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। বিশেষ করে কলকাতার শহুরে এবং শিক্ষিত ভোটারদের কাছে লিয়েন্ডারের গ্রহণযোগ্যতা দলকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে। দেশের যুবক-যুবতীদের এই খেলায় আসার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। লিয়েন্ডারের ছবি, খেলার ভিডিও, তাঁর ম্যাচ দেখে বাঙালি যুব সমাজ বড় হয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির (Bengal BJP) জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে আমার মনে হয়।” তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দল আরও শাক্তিশালী হবে।

    বিধানসভায় কি প্রার্থী হবেন?

    লিয়েন্ডারকে (Leander Paes) আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও দলের তরফে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, কলকাতার কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে তাঁকে লড়াইয়ে নামানোর কথা ভাবছে পদ্ম-শিবির। শুধুমাত্র প্রার্থী হিসেবেই নয়, রাজ্যজুড়ে বিজেপির তারকা প্রচারক হিসেবেও বড় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তাঁকে। খেলার কোর্টে বহুবার প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে এনেছেন লিয়েন্ডার। এবার রাজনীতির পিচে তিনি কতটা সফল হন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহল।

  • Calcutta High Court: সুপ্রিম কোর্টে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূলের, ঘাসফুল শিবিরের আবেদন খারিজ

    Calcutta High Court: সুপ্রিম কোর্টে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূলের, ঘাসফুল শিবিরের আবেদন খারিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের (TMC) তরফে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেটি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সাফ কথা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায় না আদালত।

    আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল (Calcutta High Court)

    মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের তরফে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিডিও, ওসি, আইসি-সহ বহু প্রশাসনিক আধিকারিককে একযোগে বদলি করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের তরফে চাওয়া হয়েছিল আদালতের হস্তক্ষেপ।

    জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, তাদের এক্তিয়ার নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তবে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক (Calcutta High Court)। আদালতও কমিশনের সেই যুক্তিতেই সায় দিয়ে জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এরপর প্রত্যাশিতভাবেই তৃণমূলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

    প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি

    প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। তার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, এমনকি ওসি এবং বিডিও পর্যায়েও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে (TMC)। এই রদবদলের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। দ্বারস্থ হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের। সেখানেই আরও একবার মুখ পুড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের (Calcutta High Court)।

     

  • West Bengal Elections 2026: আরও ১৩ আসনে নাম ঘোষণা বিজেপির, তালিকায় চমক, প্রার্থী বদল ময়নাগুড়িতে

    West Bengal Elections 2026: আরও ১৩ আসনে নাম ঘোষণা বিজেপির, তালিকায় চমক, প্রার্থী বদল ময়নাগুড়িতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নামল ভারতীয় জনতা পার্টি। মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) জন্য আরও ১৩ জন প্রার্থীর নামের চতুর্থ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে একটি পুরোনো আসনেও প্রার্থী বদল করেছে গেরুয়া শিবির (BJP Bengal)। আরও ৬ আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা এখনও বাকি।

    কারা পেলেন টিকিট (West Bengal Elections 2026)?

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির (CEC) অনুমোদিত এই তালিকায় বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলিতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:

    • সিতাই (SC): আশুতোষ বর্মা
    • নাটাবাড়ি: গিরিজা শঙ্কর রায়
    • বাগদা (SC): সোমা ঠাকুর
    • সোনারপুর উত্তর: দেবাশিস ধর
    • চৌরঙ্গী: সন্তোষ পাঠক
    • হাওড়া দক্ষিণ: শ্যামল হাটি
    • পাঁচলা: রঞ্জন কুমার পাল
    • মগরাহাট পূর্ব: উত্তম কুমার বণিক
    • ফলতা: দেবাংশু পাণ্ডা
    • চণ্ডীপুর: পীযূষ কান্তি দাস
    • গড়বেতা: প্রদীপ লোধা
    • মেমারি: মানব গুহ
    • বারাবনি: অরিজিৎ রায়

    বাগদায় ননদ-বৌদির লড়াই

    নাম ঘোষণা হতেই জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে বাগদা কেন্দ্র নিয়ে। কারণ এই কেন্দ্রে এবার ননদ বনাম বৌদির লড়াই। বাগদা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে বনগাঁর সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে। সোমা ঠাকুর কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী ছাড়াও মতুয়া মহাসঙ্ঘের মাতৃ সেনার প্রধান। মতুয়া মহাসঙ্ঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠান মঞ্চে এই বছরে তাঁকে নিয়মিত দেখা গিয়েছে৷ এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে দলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুরকে। মধুপর্ণা শান্তনু ঠাকুরের জেঠুর মেয়ে। সোমা এবং মধুপর্ণা দু’জনেই মতুয়া ঠাকুরবাড়ির সদস্য, সম্পর্কে তাঁরা ননদ-বৌদি। এ বিষয়ে তৃণমূল প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘‌ঘরের সম্পর্ক ঘরের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়াই করতে আসলে সেখানে লড়াই তো হবেই। বাগদায় তৃণমূল কংগ্রেসই জিতবে।’‌ অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সোমা ঠাকুর বলেন, ‘‌পরিবার পরিবারের মতো। ভোট অন্য বিষয়। ভারতীয় জনতা পার্টি আমাকে প্রার্থী করেছে এবং বাগদার মাটি বিজেপির মাটি। আমরা জয়লাভ করব।’‌

    ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদল

    চতুর্থ তালিকা (West Bengal Elections 2026) প্রকাশের পাশাপাশি দল তাদের আগের একটি সিদ্ধান্তে বদল এনেছে। জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি (SC) আসনে কৌশিক রায়ের পরিবর্তে এবার প্রার্থী (BJP Bengal) করা হয়েছে ডালিম রায়-কে। স্থানীয় সমীকরণ এবং সাংগঠনিক রণকৌশলের কথা মাথায় রেখেই এই রদবদল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    এক নজরে নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

    বিজেপি এখনও পর্যন্ত মোট ২৮৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে ফেলেছে। এর আগে প্রথম তালিকায় ১৪৪ জন, দ্বিতীয় তালিকায় ১১১ জন এবং তৃতীয় তালিকায় ১৯ জনের নাম জানানো হয়েছিল। উল্লেখ্য, তৃতীয় তালিকায় আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথকে পানিহাটি আসন থেকে প্রার্থী (BJP Bengal) করে বড় চমক দিয়েছিল বিজেপি। এবারের তালিকা বিশেষ চমক সন্তোষ পাঠক, প্রাক্তন পুলিশ অফিসার দেবাশিস ধর, সোমা ঠাকুর এবং সন্তোষ পাঠক।

    ভোটের নির্ঘণ্ট

    পশ্চিমবঙ্গে মোট দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে— ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। প্রথম দফার জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি টক্কর দিতে বিজেপি যেভাবে ধাপে ধাপে এবং বিচার-বিবেচনা করে প্রার্থী তালিকা (West Bengal Elections 2026) সাজাচ্ছে, তাতে এই ১৩ জনের নাম ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আরও ৬ আসনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা এখনও বাকি। ৬টি নাম নিয়ে এখনও চর্চা চলছে বিজেপির অন্দরে।

  • West Bengal elections 2026: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র দাখিল শুভেন্দুর, সঙ্গে ছিলেন দিলীপ-ধর্মেন্দ্রও

    West Bengal elections 2026: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র দাখিল শুভেন্দুর, সঙ্গে ছিলেন দিলীপ-ধর্মেন্দ্রও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র (West Bengal elections 2026) জমা দিলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার শুভেন্দু যখন মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও ছিলেন তাঁদের সঙ্গে।

    মনোনয়নপত্র জমা শুভেন্দুর (West Bengal elections 2026)

    হলদিয়ার মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দুর দাবি, এদিন রোড শোয়ে জনসমাগম এবং আবেগ দেখে মনে হয়েছে, ভোটাররা তাঁকে এখনই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘‘ধর্মেন্দ্রজি রোড-শো দেখে বলছিলেন, ‘ইস বার তিন গুণ হোগা।’ আসলে মানুষ চাইছেন এখনই গিয়ে ইভিএমের বোতাম টিপে দেন। মনে হচ্ছে যেন আগামিকালই ভোট। মানুষ আর এক মুহূর্তও অপশাসন চাইছেন না।’’ শুভেন্দু নন্দীগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক। একুশের নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘২০২১ সালে ভোটের পাটিগণিতের হিসেবে নন্দীগ্রাম কঠিন ছিল। তখন নন্দীগ্রামে ৬৪ হাজার মুসলিম ভোট ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ভুল বুঝিয়েছিলেন। তিনি সিএএ-কে এনআরসি বলেছিলেন। এখন মুসলিমরা বুঝে গিয়েছেন। তাঁরা এ-ও বুঝে গিয়েছেন, মোদিজি আছেন। অতএব (Suvendu Adhikari) সুশাসন-সুরক্ষা তাঁরা পাবেন। মুসলিমরা ওদের (তৃণমূলের) চক্করে আর পড়ছেন না। আর হিন্দুরা আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই নন্দীগ্রাম জয় এখন আরও সহজ (West Bengal elections 2026)।’’

    ‘ভবানীপুরেও লড়াই কঠিন নয়’

    নন্দীগ্রামের পাশাপাশি শুভেন্দু এবার লড়ছেন কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও। এই কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। শুভেন্দু বলেন, “ভবানীপুরে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইও আমার কাছে কঠিন নয়। এসআইআরের পরে ভবানীপুর তো বিজেপিই হয়ে গিয়েছে।” তিনি বলেন, ‘‘আমি জেতার পরে ভবানীপুরে বিজেপি এই প্রখমবার জিতবে, এমনটা নয়। ২০১৪ সালে যখন মোদিজি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, তখন (Suvendu Adhikari) দক্ষিণ কলকাতায় তথাগত রায় প্রার্থী হয়েছিলেন। তখন ভবানীপুর বিধানভায় বিজেপির লিড ছিল ২ হাজার। ওখানে অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ভোটারদের ভর করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে জিততেন। এসআইআরের পর আর সেটা আর সম্ভব নয় (West Bengal elections 2026)।’’

     

  • Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    Election Commission: তৃণমূল পার্টি অফিসে ক্যারাম খেলার মাশুল! কমিশনের নির্দেশে সাসপেন্ড ৩ সিআরপিএফ জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্তব্যে গাফিলতি এবং নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগে তিন সিআরপিএফ জওয়ানকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ, রাজ্যে শাসকদল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ানেরা ক্যারম খেলছিলেন। ভোটমুখী বাংলায় (West Bengal Assembly Election 2026) কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘নিরপেক্ষতা’ নিয়ে যখন টানাপড়েন চলছে, ঠিক তখনই বীরভূমের এই ছবি ঘিরে দানা বাঁধল নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি এমনই দৃশ্য ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। উল্লেখ্য, এর আগে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) নিমতিতাতেও এক তৃণমূল নেতার (TMC Iftar) ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সাতজন বিএসএফ জওয়ান। তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন।

    ভাইরাল ভিডিওয় কী ছবি

    সূত্রের খবর, শনিবার বীরভূমের এক এলাকায় টহল দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু ডিউটি চলাকালীন আচমকাই তিন জওয়ান ঢুকে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি স্থানীয় কার্যালয়ে। সেখানে বসে থাকা কর্মীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শুরু হয় জোরদার ক্যারাম খেলা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে সেই খেলা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একেবারে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে ঢুকে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছেন দুজন জাওয়ান। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরিহিত একজন পাশেই একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন। কোনও দিকে মন না দিয়ে ক্যারামে ফোকাস করেছেন সকলেই। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানেরা কীভাবে শাসকদলের কার্যালয়ে ঢুকে আড্ডা জমালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

    কমিশনের কড়া বার্তা

    বিজেপির তরফে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়। কমিশন সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্ত ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের পর ওই তিন জওয়ানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে আর কোনও ডিউটিতে থাকতে পারবেন না এই তিন জওয়ান। এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এমন ‘উদাসীন’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণে ক্ষুব্ধ কমিশনের কর্তারা।এর আগেও বিএসএফ-এর কয়েকজন জওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই ঘটনা থেকে যে কোনও শিক্ষাই নেওয়া হয়নি, বীরভূমের ঘটনা তারই প্রমাণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে কোনওভাবেই কালিমালিপ্ত না হয়, সে বিষয়ে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

  • Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    Supplementary list: বাদ ১৮ লক্ষ, দু’লক্ষ নাম-সহ চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের, মোট কত নাম কাটা গেল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৮ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ৪২ লক্ষ ভোটারের তথ্য নিষ্পত্তি হয়েছে। আর ২০ লক্ষের মতো ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সেগুলি নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। এবার থেকে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের করা হবে, বলে জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেইমতো রবিবার কমিশন চতুর্থ সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ করে। এদিন ২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

    ১৮ লক্ষের নাম বাদ

    গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় এনুমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয়েছিল। এরপর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেইসময় ৫৮ লক্ষের নাম বাদ যায়। এর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেখানে আরও সাড়ে ৫ লক্ষের মতো নাম বাদ যায়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন তালিকা রয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল অফিসাররা বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছে। গত ২৩ মার্চ প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary list) প্রকাশ হয়। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় ১৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। অর্থাৎ খসড়া তালিকা থেকে ধরলে এখনও পর্যন্ত ৮১ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। এখনও ১৮ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হওয়া বাকি। শেষপর্যন্ত কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

    ট্রাইবুনালে আবেদন

    কমিশন জানিয়েছে, যাঁদের নাম বাদ পড়ছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। জানা গিয়েছে, কলকাতাতেই ট্রাইবুনালের অফিস হচ্ছে। জেলা থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য কলকাতা আসার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন জানানোর জন্য, https://voters.eci.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। অফলাইনে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে ফর্ম ফিলাম করে আবেদন জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু ট্রাইবুনাল কবে কাজ শুরু করবে, স্পষ্ট করেনি হাইকোর্ট। এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯।

  • Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    Assembly Elections 2026: নির্বাচনের আগে ও পরে হিংসা আটকাতেই হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন (Assembly Elections 2026)। ভোটের মুখে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তা থেকে নিচু স্তরের কর্মীদের একগুচ্ছ নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। জামিন অযোগ্য পরোয়ানা কার্যকর করা নিয়েও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের। সূত্রের খবর, গত নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল সেগুলির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এসডিপিও-দেরও। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়েছে কমিশন। এসডিপিও-দের নিজের কর্মক্ষেত্রের পাশের মহকুমা ও জেলার পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।

    এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশিকা

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী দফতরের তরফে কড়া নির্দেশিকা, আগেরবারের ভোটের (Assembly Elections 2026) সময় দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সমস্ত জামিন-অযোগ্য ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে হবে। কোনও ওয়ারেন্ট ১০ দিনের বেশি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়া, থানায় থানায় সমস্ত ঘোষিত ‘পলাতক’ ও ‘ওয়ান্টেড’ আসামিদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তরফে সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে যে সব জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা গোলমালের ইতিহাস রয়েছে সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ করতে হবে। কারা সম্ভাব্য গোলমালকারী, তাও চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

    অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করতে হবে

    নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশ, অপরাধপ্রবণ ও মাদক কারবারিদের এলাকা চিহ্নিত করে, সেখানে সারাক্ষণ টহল ও পিকেটিং চালাতে হবে। দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীরা থাকতে পারে এমন সন্দেহজনক হোটেল, বার, ধর্মশালা ইত্যাদি জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে। নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে লুক আউট নোটিস জারি করতে হবে পুলিশকে।

    আন্তঃজেলাভিত্তিক নাকা চেকিং

    আন্তঃজেলাভিত্তিক বেআইনি কার্যকলাপ, বিশেষ করে অবৈধ মদের কারবারের তথ্য দুই জেলার পুলিশদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেইসঙ্গে আন্তঃজেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তে দিনরাত নাকা চেকিং চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে, সীমান্তবর্তী সমস্ত রাস্তা, একাধিক লিঙ্ক রোড ও কাঁচা রাস্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে নজরদারি জারি রাখতে হবে, নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। থানায় থানায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, নাকা পয়েন্টে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করতে হবে। নাকায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা সচল আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

    রাজনৈতিক সভায় নজরদারি

    রাজনৈতিক দলের সভা-জমায়েতও নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রার্থী, সভা, রোড শো, পথসভা ইত্যাদির নিরাপত্তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভোটের প্রচারে আসা হুমকির মুখে থাকা ভিআইপি বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যবেক্ষক ও নির্বাচন আধিকারিকদের সফরেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে।

    কমিশনের নিয়ন্ত্রণে

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) স্পষ্ট বার্তা, ভোটের সময় সকল সরকারি কর্মচারী কমিশনের অধীনে কাজ করেন। তাঁরা কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কমিশন। কমিশনের বার্তা, এই নির্দেশ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কঠোর ভাবে পালন করতে হবে। যদি কেউ নিজের কাজ ঠিক ভাবে না করেন, তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। শুধু ভোটের দিনেই নয়, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। গণনা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে ও প্রয়োজনে দ্রুত রিপোর্ট পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে।

    বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো

    ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা হয়েছে একাধিক নির্দেশ। প্রচারের উত্তাপে জমে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। ঠিক এই আবহেই ভোট প্রক্রিয়াকে নিখুঁত ও নিরপেক্ষ রাখতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। বুথে পাঁচ মিনিট ক্যামেরা বন্ধ থাকলে রিপোল হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই মর্মেই এবার বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

    বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব

    কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ নির্বাচন হোক বা উপনির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের উপর। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ও অশান্তি প্রবণ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। বুথভিত্তিক প্রস্তুতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোটের দিন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা অভিযোগের খবর মিললেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাও পর্যবেক্ষকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

     

     

     

     

  • West Bengal Elections 2026: “বাংলার চেয়ে অন্যান্য রাজ্যে বদলি হয়েছে বেশি”, হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Elections 2026: “বাংলার চেয়ে অন্যান্য রাজ্যে বদলি হয়েছে বেশি”, হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে প্রশাসনিক রদবদল বা আইএএস-আইপিএস অফিসারদের বদলি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের দাবি, নির্বাচনের (Election Commission India) সময় কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলোতেও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একই হারে বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে।

    আদালতে কমিশনের যুক্তি (West Bengal Elections 2026)

    শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে কমিশনের (Election Commission India) আইনজীবী জানান যে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে অফিসারদের বদলি করা একটি স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এই কাজ সবসময়েই করা হয়ে থাকে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায় জানা গিয়েছে, গত কয়েকটি নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026)  উত্তরপ্রদেশ, বিহার বা তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলোতে নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ অপেক্ষা বেশি সংখ্যক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাকে বদলি করা হয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গে কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে না।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) স্পষ্ট করেছে যে, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নির্বাচনকে ভয়মুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ করতে কমিশনের এই পদক্ষেপ। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কমিশনের এই যুক্তি খতিয়ে দেখছে। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই আকস্মিক রদবদল (West Bengal Elections 2026) নিয়ে এর আগে সরব হয়েছিল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে রাজ্য প্রশাসনকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কমিশনের এই পরিসংখ্যান সেই অভিযোগের পাল্টা জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ২০২৬-এর নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) আগে আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের দায়িত্ব পরিবর্তন অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। বিশেষ করে জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপার (SP) পদমর্যাদার অফিসারদের বদলি নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা (Election Commission)। আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

  • Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    Mamata on Ram Navami: শুভেচ্ছাতেই শেষ! সারাদিন রাজ্যে রামনবমীর কোনও অনুষ্ঠানে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা, জানেন কেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা দেশের পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে পালিত হল রাম নবমী (Mamata on Ram Navami)। নির্বাচনের আগে ঈদের নামাজ আদায় করতে রেড রোড গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু রাম নবমীর দিন কোথাও রাম নবমীর কোনও মিছিলে, পুজোয়, খুঁজে পাওয়া গেল না তাঁকে। হিন্দুদের উৎসব বাসন্তী পুজো অন্নপূর্ণা পুজো এবং রামনবমী। নির্বাচনের আগে এটা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব বলা যায়। অথচ অদ্ভুত কান্ড। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামনবমীর একটা নমো নম করে পোস্টার বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছাড়া তার আর কিছুই করলেন না।

    সংখ্যালঘু তোষণই নীতি

    নির্বাচনের আগে নিজের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে হাতে রাখার জন্য কোনও কসুর ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঈদের দিন বৃষ্টির মধ্যেই সকাল সকাল তিনি চাদর গায়ে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন রেড রোডে ঈদের মঞ্চে। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে তিনি হিন্দি ভাষায় অনর্গল বিজেপিকে আক্রমণ করে যান। তবে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু পোস্টার। দেখলে অবাক হবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রামনবমীর শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মানুষকে। কিন্তু সেখানে শ্রী রামচন্দ্রের কোন ছবি নেই। কেবলমাত্র তার হাসি হাসি মুখের একটি ছবি রয়েছে। যাই হোক এই ছবি পোস্ট করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর সেটা নিয়ে সমালোচনা হয়।

    মমতার হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস

    সমালোচকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু  ভোট ব্যাংকের জন্য চিন্তা করেন না। আর সেই জন্যই রামনবমীতে কোনও অনুষ্ঠান দেখা গেল না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আসলে, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে বাঙালি হিন্দুর মধ্যে তার জাতীয়তাবাদী সত্তাটা খানিক চাপা পড়ে গিয়েছিল, বারবারি রাজ্যে হিংসা-হানাহানি হলেও বামেদের প্রচারের কারণে নিজেদের বিপদটা বুঝতে পারতেন না বাঙালি হিন্দুরা। তারপর ক্ষমতায় এলেো তৃণমূল। বামেদের দেখানো পথেই সংখ্যালঘুতোষণ শুরু করলো তারা। পশ্চিমবঙ্গে লেগে রইল হিংসা। বাদুড়িয়া কালিয়াচক ধূলাগড় সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুরা অত্যআচারিত হল। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার বছর খানেক পর থেকে এই রাজ্যে পাল্টে যেতে শুরু করে পরিস্থিতি। হিন্দুরা তাদের হিন্দুত্ব নিয়ে গর্ব করতে শুরু করে সেই প্রথম। জাগতে শুরু করে হিন্দুরা। ধীরে ধীরে রাজ্যজুড়ে ধুমধাম করে পালন হতে শুরু করে রামনবমী। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ নানা হিন্দু সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে, জায়গায় জায়গায় ধুমধাম করে রামনবমী পালন শুরু হয়। হিন্দুরা জাগতে ধীরে ধীরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কে ধস নামে। তিনি আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরতে শুরু করেন মুসলিম ভোট ব্যাংককে। এরপর ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন পাওয়ার পর রামচন্দ্র রাতারাতি হয়ে যান বহিরাগত।

    মমতার দ্বিমুখী আচরণ

    তারপর নদী দিয়ে কত জল গড়িয়ে গিয়েছে, কত বছর পেরিয়ে গেছে। বাংলার হিন্দু সমাজ আরো বেশি করে একত্রিত হয়েছে। আর তত বেশি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরে গিয়েছেন মুসলিম ভোট ব্যাংকের কাছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে তিনি অপমান করেছেন হিন্দুদের।। কোন প্রতিবাদ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী ভয় পাননি। হিন্দুদের পবিত্রতম সমাবেশ মহাকুম্ভকে তিনি ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। কোটি কোটি পুণ্যার্থীর আধ্যাত্মিক আবেগকে এভাবে অমঙ্গলজনক শব্দের মাধ্যমে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। জনসমক্ষে দেবীর আরাধনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভুলভাবে সরস্বতী মন্ত্র পাঠ করেন। মন্ত্রের শুদ্ধতা নষ্ট করা এবং ভুল উচ্চারণ ধর্মীয় শাস্ত্রের প্রতি তাঁর উদাসীনতা ও অবজ্ঞাকেই প্রকাশ করে। আধ্যাত্মিক আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনী ও বাণী গুলিয়ে ফেলেন। এই ধরনের ভুল মহাপুরুষদের আদর্শের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন। শ্রীরামকৃষ্ণের কালজয়ী বাণী “যত মত তত পথ”-কে তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে “যত মাটি তত টাকা” বলে ব্যাখ্যা করেন। এই মহান আধ্যাত্মিক দর্শনকে অর্থের সঙ্গে তুলনা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ব্রিগেডে লক্ষকণ্ঠে গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে তিনি যাননি এবং সেটিকে রাজনৈতিক তকমা দিয়েছিলেন। অথচ রেড রোডের নামাজে নিয়মিত গিয়ে রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়া তাঁর দ্বিমুখী আচরণকেই স্পষ্ট করে।

LinkedIn
Share