Tag: bengali new year

bengali new year

  • Bengali New Year: বাংলা বর্ষপঞ্জির শুরু কোথায়? জানুন বঙ্গাব্দের জন্ম বৃত্তান্ত

    Bengali New Year: বাংলা বর্ষপঞ্জির শুরু কোথায়? জানুন বঙ্গাব্দের জন্ম বৃত্তান্ত

     জিষ্ণু বসু 

    আমাদের বাংলা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে মাসের দিনসংখ্যা অনেকটাই আলাদা বাংলাদেশে। কেন এই পার্থক্য? দেশভাগের আগে তো একটাই বাংলা ছিল। এই বঙ্গভূমিতে কোন বর্ষপঞ্জি অনুসৃত হতো? ঢাকার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ আর কলকাতার স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কি আলাদা পয়লা বৈশাখ মানতেন? সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ বা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল কোন বর্ষপঞ্জি মেনে নববর্ষ পালন করতেন?

    প্রাচীনকাল থেকে বাংলার মাটিতে চলে আসা এই যে চান্দ্র-সৌর বর্ষপঞ্জি তার শুরুটাই বা কোথায়? স্বাভাবিকভাবেই মনে হবে আজ থেকে ১৪৩০ বছর আগেই বঙ্গাব্দের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও বিতর্ক আছে। অনেকেই এখন বলছেন, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দকে শুরু ধরে সম্রাট আকবর কর্তৃক এই বঙ্গাব্দ চালু হয়েছিল।

    বাংলা মাসের দিন পালটানো বা সূচনা কাল নিয়ে বিতর্ক বড় করে উঠে এল গত শতাব্দীর ছ’য়ের দশকে। ১৯৬৪ সালে সারা বাংলাদেশ জুড়ে ভয়ানক দাঙ্গা হল। সেদেশ থেকে হিন্দুদের বিতাড়ন মানে ‘এথনিক ক্লিনসিং’ শুরু হল পাকিস্তান সরকারের তত্ত্বাবধানে। কিন্তু মানুষ তাড়ালেই তো শুধু হবে না, পূর্ব পাকিস্তান তো একটা গোটা স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। হিন্দুর পরম্পরাকে বাদ দিলে তো তার অর্ধেকের বেশিটাই খালি হয়ে যাবে। এই সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে বাংলা বর্ষপঞ্জি যার ভিত্তিটা সূর্যসিদ্ধান্তের উপরে স্থাপিত।

    বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনের জন্য পাকিস্তানের তদানীন্তন সরকার একটি কমিটি তৈরি করেছিল। যার প্রধান ছিলেন মহম্মদ শহিদুল্লাহ। ১৯৬৬ সালে শহিদুল্লাহ সাহেবের কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দেয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারে বাংলার প্রথম পাঁচটি মাস ৩১ দিন হবে ঠিক হল, আর বাকি মাসগুলি ৩০ দিনের। লিপ-ইয়ার হলে ফাল্গুন মাস ৩১ দিন ধরে নেওয়া হবে। যেহেতু তিথি নক্ষত্রের হিসাব রাখতে হবে না তাই প্রতি বছরই ১৪ এপ্রিল তারিখে হবে পয়লা বৈশাখ। এই রিপোর্টেই ৪ নম্বর পয়েন্ট হিসাবে উল্লেখ ছিল যে বঙ্গাব্দের সূচনা করেছিলেন সম্রাট আকবর খ্রিস্টীয় ১৫৮৪ সালে। তারও ২৯ বছর আগে মানে তাঁর মসনদে বসার সাল ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ ৯৬৩ হিজরি সালকে বঙ্গাব্দের শুরু হিসেবে ঘোষণা করেন।

    পাকিস্তান সরকারের এই রিপোর্ট নিয়ে বিতর্কের বিস্তর অবকাশ আছে। ১৪ এপ্রিলকেই পয়লা বৈশাখের দিন স্থির করা এককথায় অবৈজ্ঞানিক। সূর্যসিদ্ধান্ত মতে, বছরের দিনসংখ্যা ৩৬৫.২৫৮৭৫৬ আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার হিসাবে ৩৬৫.২৪২২ দিন। মানে পার্থক্য হল ০.০১৬৫৫৬ দিন। শহিদুল্লাহ সাহেব যখন রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন সেদিন থেকে আজকের মধ্যেই প্রায় একদিনের (০.৮৯৪ দিনের) পার্থক্য হয়ে গিয়েছে।

    বছরের প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিনের হিসেবটাও সমীচীন নয়। ভারতীয় বর্ষপঞ্জির অন্যতম বিশেষত্ব হল নক্ষত্রের অবস্থান। মাসেদের নামও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। বঙ্গাব্দের শুরুর বছর মানে ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে ভার্নাল ইক্যুইনক্স বা মহাবিষুবের দিন ছিল ২০ মার্চ। ঠিক তার পরেই ২৭ মার্চ ছিল অমাবস্যা। বঙ্গাব্দের প্রথম অমাবস্যার দিন রেবতী নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী ঠিক এক সরলরেখায় ছিল। রেবতীকে আদি নক্ষত্র ধরেই বঙ্গাব্দের মাসের রচনা। কিছু মাসকে ইচ্ছেমতো ৩১ দিন ধরে নিলে বঙ্গদেশের পণ্ডিত মানুষদের এতশত বছরের সাধনার ধনকে জলাঞ্জলি দেওয়া হবে।

    শহিদুল্লাহ কমিটি বলেছিলেন, সম্রাট আকবর ১৫৮৫ সালে বঙ্গাব্দ শুরু করেন। আকবর তাঁর জ্যোতির্বিদ ফতল্লাহ শিরাজিকে হিজরি সালের সঙ্গে সূর্য সিদ্ধান্তের বর্ষগণনার হিসাব মিলিয়ে বর্ষপঞ্জি রচনার কথা বলেন। তখন আকবরের রাজত্বের ২৯ বছর হয়ে গেছে। তাই তাঁর মসনদে বসার বছর অর্থাৎ ১৫৫৬ সাল বা ৯৬৩ হিজরিকে প্রথম বঙ্গাব্দ ধরতে বলেন। এরপর থেকে সৌরবর্ষ যোগ করলে বঙ্গাব্দ পাওয়া যায়। যেমন ২০২০ খ্রিস্টাব্দ মানে ৯৬৩ + (২০২০- ১৫৫৬) = ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।

    এই মিলিয়ে দেওয়া নিয়েও অনেকে আপত্তি করেছেন। বিজ্ঞানী পলাশবরন পাল তাঁর ‘সাল তারিখের ইতিহাস’ বইতে একটি সরল যুক্তি দিয়েছেন। আকবর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ১৫৮৫ সালে, তাহলে সিদ্ধান্ত তখন থেকে কার্যকরী করাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ মানে ৯৯৩ হিজরি, সেক্ষেত্রে আর উপরের ম্যাজিক সমীকরণ মিলবে না।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আজকের যুগে আকবরের রাজত্বের ২৯ বছর বাদ দেওয়া সহজ, কিন্তু আকবরের দরবারও চলত হিজরি সাল হিসাবে। হিজরি সাল হিসাবে ১২টি ২৯.৫ দিনের চন্দ্রমাসের যোগফল মানে ৩৫৪ দিনে বছর। তাই দু’টি সময়ের ব্যাবধান হিজরি সাল গণনা হিসাবে ৩০ বছরের কিছু বেশি। ফতল্লাহ শিরাজি বাদ দিলে ৩০ বিয়োগ করতেন ২৯ কখনওই নয়। তাই বাদ দিয়ে অঙ্ক মেলানোর প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে আধুনিক।

    তাছাড়া আকবরের জীবদ্দশায় মোগলরা বাংলায় রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উঠে আসেনি। ১৫৭৬ সালে রাজমহলের যুদ্ধে মোগলদের কাছে বাংলার আফগান শাসক দাউদ খান করর্নি পরাজিত হন। কিন্তু তারপরেও লাগাতার যুদ্ধ চলে। জাহাঙ্গিরের শাসনকাল পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলেছে। তাই ১৫৮৫ সালে সারা বাংলাতে শান্তিতে রাজত্ব করার অবস্থা বাদশা আকবরের ছিল না। তখন মোগল রাজত্ব কাবুল, মুলতান থেকে পূর্বে পাটনা পর্যন্ত মোট ১২টি সুবায় ভাগ ছিল। সম্রাট আকবর বেছে বেছে আপাত অস্থির বাংলাতেই তাঁর অব্দ শুরু করলেন কেন? স্বাভাবিক যুক্তিবোধে এর সঠিক উত্তর মেলে না।

    আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরিতে বঙ্গাব্দ বা বাংলায় বিশেষ সন প্রবর্তনের কোনও উল্লেখ নেই। বিভিন্ন বিষয় আলোচনার সময়ে অনেক সাল তামামি আছে কিন্তু বাংলা অব্দ নিয়ে একটি শব্দও নেই। হিজরি সাল হিসাবে ভারতবর্ষের ফসলের কর আদায়ের অসুবিধে হচ্ছে, তাই ফতল্লাহ শিরাজিকে তারিখ-ই-ইলাহি তৈরি করতে বলেছিলেন সম্রাট। এরকম হতেই পারে যে বাংলায় প্রচলিত বর্ষপঞ্জিকে দেখে এমনই একটা চান্দ্র-সৌর অব্দ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শস্যশ্যামলা বঙ্গদেশে এটি ফসলের কালের সঙ্গে মিলত, কাবুলে বা মুলতানে নিশ্চয়ই মিলত না। তাই আকবরের ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গেই দ্বীন-ই-ইলাহির মত তারিখ-ই-ইলাহিও হারিয়ে যায়।

    কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’ কবিতায় যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যের কথা বলেছেন। ‘যুদ্ধ করিল প্রতাপাদিত্য তুই কি না সেই ধন্য দেশ’, এই প্রতাপাদিত্য মোগলদের সঙ্গেই যুদ্ধ করেছিলেন। ১৫৮৪ সালে তিনিও রাজ্যপাট হাতে পান। তিনি যশোরে শিক্ষাবিস্তারের জন্য জেস্যুইট মিশনারিদের গির্জা বানাতে দিয়েছিলেন। তাঁর নৌবহরে পর্তুগিজ কুশল কারিগর ছিলেন। অর্থাৎ এক স্পন্দনশীল বাংলা সেদিন দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ছিল, রাজমহল জয় করেই বঙ্গাব্দ প্রচলনের প্রশ্নই ওঠে না।

    ভারত স্বাধীন হওয়ার পরে ‘ক্যালেন্ডার রিফর্ম কমিটি’ গঠিত হয়েছিল। অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা এই কমিটির সভাপতি হয়েছিলেন। এই কমিটির সুপারিশ অনুসারেই ‘শালিবাহন শক’ বর্ষপঞ্জিকে ভারতবর্ষের জাতীয় বর্ষপঞ্জি হিসাবে গ্রহণ করা হয়। ১৯৫৫ সালে এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এই কমিটি দেখেছিল যে ভারতীয় কালগণনা পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের পরে গ্রিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মেলামেশা হলেও গ্রিক জ্যোতির্বিদ্যা থেকে ভারতের কিছু নেওয়ার ছিল না।

    বাংলার সাল গণনার বিষয়েও এখানে আলোকপাত করা হয়েছে। চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকের শুরুর সময় পর্যন্ত বাংলা মূলত গুপ্ত সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। তারপর ৭৫০ থেকে ১১৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পাল রাজারা শাসন করেন। সেন রাজারা কর্ণাটকের ক্ষত্রিয় ছিলেন। তাঁরাই বাংলায় শকাব্দ সাল গণনা রীতি নিয়ে আসেন। মুসলমান শাসনের সময় নবাব দরবারে হিজরি সাল চলত। কিন্তু শিক্ষিত সমাজে “শক” বর্ষপঞ্জিই ব্যবহৃত হতো। বাংলার সাধারণ মানুষ ‘পরগনাতি অব্দ’ নামে একটি বর্ষপঞ্জি মানতেন। তারিখ-ই-ইলাহির পরে থেকে নবাব দরবারেও সূর্যসিদ্ধান্তই মানা হতো।

    গুপ্তযুগের পরে এবং পালযুগের আগে ছোট সামন্ত রাজারা রাজত্ব করেছেন। হর্ষচরিতে মৌখরি বংশের প্রতিনিধি শশাঙ্কের বর্ণনা আছে। কামরূপ-বিজয়ী এই শশাঙ্কের রাজধানী ছিল অধুনা মুর্শিদাবাদের কাছে কর্ণসুবর্ণতে। আজ থেকে ১৪৩০ বছর আগে শশাঙ্কই গৌড়ের রাজা ছিলেন। তাই বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রবর্তক হিসাবে শশাঙ্কের সপক্ষেই যুক্তির পাল্লাই ভারী। তবে নিশ্চয় তখন একে বঙ্গাব্দ বলা হতো না। কিন্তু, বাংলা সাল গণনা তখন থেকেই শুরু।

    নীতীশকুমার সেনগুপ্ত ১৯৫৭ সালের ব্যাচে বেঙ্গল ক্যাডারের আইএএস। দুই বাংলার প্রতি টান থেকে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ লিখেছেন তিনি, ‘ল্যান্ড অফ টু রিভার্স: এ হিস্ট্রি অফ বেঙ্গল ফ্রম দ্য মহাভারত টু মুজিব।’ লেখক দেখিয়েছেন বাঁকুড়ার ডিহারগ্রাম ও সোনাতপনে হাজার বছরের প্রাচীন শিব মন্দিরে বাংলা অব্দের উল্লেখ আছে।

    মেঘনা গুহঠাকুরতা ও উইলিয়ম ভ্যান শেন্ডোলের বই ‘দ্য বাংলাদেশ রিডার: হিস্ট্রি, কালচার, পলিটিক্স’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে। বইটিতে বাংলার বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের কৃতিত্ব গৌড়েশ্বর শশাঙ্ককেই দেওয়া হয়েছে।
    বঙ্গাব্দ নিয়ে বিস্তর গবেষণার সুযোগ আছে। বাঙালি বুদ্ধিমান, বাঙালি যুক্তিবাদী সেইসঙ্গে বাঙালির ছোঁয়া বিশ্বজুড়ে। তাই যে মতটা যুক্তিগ্রাহ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সেটিকেই মানবে আধুনিক বাঙালি। কিন্তু আরগুমেনটেটিভ তর্কবাগীশ বাঙালিও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তিবোধের থেকে আর্ষপ্রয়োগকেই বেশি মেনে নেয়। সমস্যাটা সেখানেই।

    (লেখক কলকাতার সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এ কর্মরত)

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Bengali New Year: নতুন বছরে সৌভাগ্য তুঙ্গে উঠবে এই ৫ রাশির! বাকিদেরই বা কেমন যাবে?

    Bengali New Year: নতুন বছরে সৌভাগ্য তুঙ্গে উঠবে এই ৫ রাশির! বাকিদেরই বা কেমন যাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৫ এ্রপ্রিল, শনিবার বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে নতুন বছরের শুরু। জ্যোতিষীদের মতে আজ অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তিতে মীন রাশি ত্যাগ করে মেষ রাশিতে গোচর করবে সূর্য। সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে নতুন বছর (Bengali New Year) ১৪৩০ সাল। নতুন বছরের গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে জ্যোতিষীরা জানাচ্ছেন, সৌভাগ্য তুঙ্গে থাকবে পাঁচ রাশির জাতকদের। অন্যান্য রাশির জাতকদেরই বা কেমন যাবে?

    প্রথমেই দেখে নেব কোন ৫ রাশির ক্ষেত্রে সৌভাগ্যদায়ী শুভযোগ তৈরি হচ্ছে

    মেষ রাশি​

    জ্যোতিষীদের মতে, নতুন বছর ১৪৩০ সালে সৌভাগ্যের শিখরে অবস্থান করতে চলেছেন মেষ রাশির জাতকরা। আপনি মেষ রাশির জাতক হলে নতুন বাংলা বছরে (Bengali New Year) নতুন বাড়ি বা গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে আপনার। এই সময় মেষ রাশির কোষ্ঠীর দ্বাদশ ঘরে অবস্থান করবে বৃহস্পতি। দেবগুরুর শুভ প্রভাবে উত্তরাধিকার সূত্রেও সম্পত্তি লাভ করতে পারেন এরা। বিশেষ মে মাস থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ভালো সময় চলবে আপনার।

    মিথুন রাশি

    জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান পরিবর্তনে বিশেষ ফল পাবেন মিথুন রাশির জাতকরা। নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট এবং গাড়ি কেনার স্বপ্ন নতুন বাংলা বছরে পূরণ হতে পারে মিথুন রাশির জাতকদের। এতদিন কিছুটা আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল এই রাশির জাতকদের। সেই খারাপ সময় কেটে গিয়ে বাংলা নববর্ষে (Bengali New Year) সৌভাগ্যের তারা ঝকমক করবে মিথুন রাশির জাতকদের জীবনে। বাংলা বছরের মাঝামাঝি শনির শুভ দৃষ্টি থাকবে মিথুন রাশির জাতকদের উপর। তার ফলে মনের সব ইচ্ছে এই সময় পূরণ করতে পারবেন আপনি। কর্মক্ষেত্রেও এই সময় উন্নতির যোগ আছে, আশাতীত বেতন বৃদ্ধি হতে পারে।

    কন্যা রাশি

    বাংলা নববর্ষে (Bengali New Year) কাজের প্রতি উত্‍সাহ ও উদ্যম বৃদ্ধি পাবে কন্যা রাশির জাতকদের। নিজেদের পরিশ্রম ও বুদ্ধির জোরে এই সময় বড় কোনও সাফল্য অর্জন করতে পারেন। বাবা বা মায়ের কাছ থেকে অর্থলাভ হতে পারে। কেরিয়ারেও উন্নতির যোগ আছে। বিশেষ করে যাঁরা গবেষণামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত, নতুন বাংলা বছরে তাঁরা বিশেষ সাফল্য লাভ করতে পারেন।

    তুলা রাশি

    ১৪৩০ বঙ্গাব্দে বড় কোনও সাফল্য লাভ করতে পারেন তুলা রাশির জাতকরা। এই সময় নিজের স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়ে নিতে পারবেন আপনি। মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত খুব ভালো সময় থাকবে আপনার। নতুন বছরে নতুন গাড়ি ও বাড়ি কেনার স্বপ্ন সত্যি হতে পারে। আপনি তুলা রাশির জাতক হলে এই সময় আপনার কাজ সবার প্রশংসা পাবে। কাজের সূত্রে বিদেশ সফরও হতে পারে এই সময়।

    বৃশ্চিক রাশি 

    বিনিয়োগের জন্য পয়লা বৈশাখ থেকে খুব ভালো সময় পড়ছে বৃশ্চিক রাশির জাতকদের। বিশেষ করে আর্থিক ভাবে এই সময় প্রচুর লাভ করতে চলেছেন আপনি। নতুন বছরে (Bengali New Year) আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটবেন বৃশ্চিক রাশির জাতকরা। কর্মক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট আপনার কাজে খুশি হবে। মাইনে বাড়ার সম্ভাবনা আছে। প্রেম জীবনও নতুন বছরে দারুণ কাটবে বৃশ্চিক রাশির জাতকদের।

     

    অন্যান্য রাশির জাতকদের কেমন যাবে নতুন বছর

    কর্কট রাশি – কর্কট রাশির জাতক-জাতিকারা রাগ সংবরণ করুন, তা না হলে সম্পর্কের মধ্যে চিড় ধরতে পারে। এ বছর বিবাহ যোগ রয়েছে। চাকুরিজীবীরা সতর্ক থাকুন। স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দিন।
     
    সিংহ রাশি – নতুন বছর এই জাতকদের বেশ ভালোই কাটবে। পারিবারিক জীবনে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে। আর্থিক পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো থাকবে। তবে খুব ভেবেচিন্তে ব্যয় করুন। স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো থাকবে না। চলে যাওয়া প্রেম আবার নতুন করে ফিরে আসতে পারে।

    বৃষ রাশি – বৃষ রাশির জাতক জাতিকাদের এই বছরটা বেশ ভালোই কাটবে। চাকরি ও ব্যবসায় ভালো ফল পাওয়া যাবে। এ বছর আয় খুব ভালো হবে। শিক্ষাক্ষেত্রেও ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। এই বছর কাউকে টাকা ধার দেবেন না, অন্যথায় আপনি সমস্যায় পড়বেন। নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।

    কন্যা রাশি – এই বছরটা কন্যা রাশি জাতকদের ভালো-খারাপ মিশিয়ে কাটবে। খুব সাবধানে থাকুন। আপনার উপর কোনও কারণে অপবাদ আসতে পারে। পারিবারিক পরিস্থিতি মোটামুটি থাকবে। স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। কর্মক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে তার সমাধান হয়ে যাবে। নিজের কাজে মনোযোগ দিন। খুব প্রয়োজন না হলে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।
     
    ধনু রাশি – বাইরের কাউকে খুব বেশি ভরসা করবেন না। এই বছর নিজের পরিবারের মানুষদের সঙ্গেও আপনার মনোমালিন্য হতে পারে। দাম্পত্য কলহ যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি মিটিয়ে নিন।

    মকর রাশি – পারিবারিক সমস্যা প্রবল আকার ধারণ করবে না। এই বছর নতুন কোনও ব্যবসা শুরু না করাই ভালো। চাকরির স্থানে সমস্যা থাকলেও, তা কেটে যাবে। কোনও পরিস্থিতিতেই মনে বিষাদ ভাব আসতে দেবেন না।

    কুম্ভ রাশি – নতুন বছরটা কুম্ভ রাশির জাতক-জাতিকাদের খুব একটা ভালো কাটবে না। সংসার জীবনে সুখ থাকবে, তবে কিছু কিছু সময়ে নিজেকে একা লাগবে। ঘরে-বাইরে কোথাও কোনও কিছু নিয়ে প্রতিবাদ করতে যাবেন না, সমস্যায় পড়তে পারেন। সন্তানের দিক থেকে সুখ পাবেন।

    মীন রাশি – নতুন বছরে তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না, বিপদে পড়তে পারেন। পারিবারিক ক্ষেত্রে মতবিরোধ বাড়বে। প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে এই বছরটা খুব শুভ। বন্ধু ভাগ্য ভালো থাকবে। শরীরের নিচের অংশে আঘাত লাগতে পারে। অর্থ সঞ্চয় খুব একটা ভালো হবে না। এ বছর যে কোনও কাজ খুব ভেবেচিন্তে করুন, তা না হলে বদনাম আসতে পারে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Home Minister: বাংলা নববর্ষে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে আসছেন অমিত শাহ! জোরদার করা হল নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    Home Minister: বাংলা নববর্ষে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে আসছেন অমিত শাহ! জোরদার করা হল নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৫ এপ্রিল, শনিবার বাংলা নববর্ষ। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে। ওইদিনই মন্দিরে পুজো দিতে আসছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (Home Minister) অমিত শাহ। ভিভিআইপি-র নিরাপত্তা আর ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। এমনিতেই তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস অবস্থা। তাপমাত্রা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে এখন ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছে গিয়েছে। এই গরমের মধ্যে ভক্তরা যাতে সুষ্ঠুভাবে পুজো দিতে পারেন তারজন্য সবরকম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী বলেন, সকাল পাঁচটায় মন্দিরের গেট খুলে দেওয়া হবে। গরমের জন্য নিয়মিত মন্দির চত্বরের চাতালে জল দেওয়া হবে। তাড়াতাড়ি পুজো দিয়ে ভক্তরা যাতে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে।

    মন্দিরের পুজো দিতে কখন আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী(Home Minister)?

    লক্ষাধিক ভক্ত এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (Home Minister) পুজো দিতে আসবেন বলে নিরাপত্তার বিষয়টি পুলিশ কমিশনারেটের কর্তারা মন্দিরে এসে খতিয়ে দেখে যান। জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (Home Minister) বেলা ১০টা নাগাদ আসবেন। সেই সময় মন্দির সাধারণ ভক্তদের জন্য কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হবে। ফলে, তার আগেই বেশিরভাগ ভক্ত যাতে পুজো দিতে পারেন তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ভিভিআইপি-র জন্য নিরাপত্তা অনেকটাই জোরদার করা হয়েছে। মন্দিরের কর্মকর্তাদের অনুরোধ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সকাল সকাল ভক্তরা পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

    বাংলা নববর্ষে মন্দিরে বিশেষ কী পুজো হবে?

    মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে মঙ্গলারতি দিয়ে পুজোর সূচনা হবে। সারাদিন জুড়ে নিয়মমাফিক পুজোর পাশাপাশি এদিন বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হবে। হালখাতার বিশেষ পুজো হবে। আর এই পুজো করাতেই হাজার হাজার ভক্ত লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। এবারও গরমে যাতে সমস্যা না হয় তারজন্য ঘণ্টায় ঘণ্টায় মেঝেতে জল সরবরাহ করা হবে। ভোর থেকে মায়ের কাছে পুজো দেওয়ার জন্য মন্দিরের গেট খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী আরও বলেন, লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হবে। তারজন্য প্রচুর স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।

    ভিড় সামাল দিতে কী কী করা হচ্ছে?

    পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিড় সামাল দিতে দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের মুখে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সেখানে দড়ি দিয়ে ভক্তদের আটকে দফায় দফায় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কাইওয়াকের নীচ থেকে লাইন দিয়ে হাজার হাজার ভক্ত মন্দিরের দিকে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনও যানবাহন মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। মন্দিরে যাতায়াতের একাধিক জায়গায় জলের কাউন্টার করা হবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ এই দিনে ফি বছর স্নানের ঘাটে ভক্তদের ভিড়ে তিল ধারনের জায়গা থাকে না। সেখানে এবারও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। মন্দিরের ভিতরে ঢোকার মুখে একাধিক বাঁশের ব্যারিকেড করা হবে। ভক্তদের সেই ব্যারিকেডের ভিতর দিয়ে গিয়ে মন্দিরে পুজো দিতে হবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share