Tag: Bengali news

Bengali news

  • TMC: ভাঙড়ে জলাশয় ভরাট করছে তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়ারা, অভিযোগ শুভেন্দুর

    TMC: ভাঙড়ে জলাশয় ভরাট করছে তৃণমূল আশ্রিত জমি মাফিয়ারা, অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে জলাশয় ভরাট করছে তৃণমূল (TMC) আশ্রিত জমি মাফিয়ারা (Land Mafia)। প্রকাশ্যে এই জলাশয় বোঝানোর কাজ চললেও, প্রশাসন কোনও পদক্ষেপই করেনি বলে অভিযোগ। সোমবার বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে জলাশয় ভরাট করার একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, “এই মুহূর্তে ভাঙড়ে যা ঘটছে, তা মানুষের জীবন ও পরিবেশের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। আর তৃণমূল সরকারই এর সবচেয়ে বড় সহায়ক।”

    চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন শুভেন্দু (TMC)

    শুভেন্দু জানান, ওই পুকুরটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্পত্তি। তিনি বলেন, “ঘন অন্ধকার রাতের আড়ালে তৃণমূল-মদতপুষ্ট জমি মাফিয়ারা ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ বাজারের প্রবেশপথে অবস্থিত একটি বিশাল জনসাধারণের পুকুর নির্লজ্জভাবে ভরাট করছে। এটি কোনও সাধারণ জলাশয় নয়, এই জমিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য দফতরের অধীন বলে সরকারিভাবে নথিভুক্ত।” রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “তবুও মাটি বোঝাই ডাম্পার এবং জেসিবি মেশিন সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে সেখানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে, আর প্রশাসনের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো—তারা সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে (TMC)।”

    শুভেন্দুর সতর্ক বার্তা

    বিজেপি নেতা সতর্ক করে বলেন, “এই ধরনের কার্যকলাপ মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে—যেমনটি কয়েক দিন আগে আনন্দপুরে দেখা গিয়েছিল।” শুভেন্দু বলেন, “এখানেও কার্যত বেআইনি নির্মাণ, নিয়ন্ত্রণহীন কার্যকলাপ এবং সরকারি দফতরগুলির কোনও নজরদারি ছাড়াই সব কিছু চলার জন্য ভিত গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি কোনও শাসনব্যবস্থা নয়, এটি মাফিয়ারাজ (Land Mafia)। ব্যক্তিগত মুনাফা ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পরিকল্পিত ভাবে জলাশয়, পরিবেশ এবং জন-নিরাপত্তা ধ্বংস করা হচ্ছে (TMC)।”

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মার্কিন মুলুকেও

    Bangladesh: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মার্কিন মুলুকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান কর্মসূচি শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। শনিবার দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের কেন্দ্রে বিপুল (Hindus) সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংসার প্রতিবাদে র‍্যালি করে। মার্কিন মুলুকের অন্তত ২২টিরও বেশি শহরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঘটনা প্রতিবাদের ব্যাপকতা, তীব্রতা এবং বাংলাদেশে হিংসার ভয়াবহতা ও তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক নজরদারির প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

    বিরাট জমায়েত (Bangladesh)

    ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আর্টেসিয়া শহরে অন্যতম বৃহৎ জমায়েত দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মনোযোগ দাবি করেন এবং ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহির আহ্বান জানান। কারণ তাঁর শাসন কালেই দেশে উগ্রপন্থী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে শান্তি ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে “ওম শান্তি”-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভগুলি ছিল শান্তিপূর্ণ, আইনসম্মত ও রাজনৈতিকভাবে শালীন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য গঠিত গ্লোবাল কোয়ালিশনের মিডিয়া প্রতিনিধি গীতা সিকান্দ বলেন, “এই আন্দোলনের উদ্দেশ্যই হল বিশ্ববাসীর দৃষ্টি দুর্বল ও নির্যাতিত সম্প্রদায়ের যন্ত্রণার দিকে আকর্ষণ করা। আমরা সুরক্ষা, জবাবদিহি ও শান্তি চাই।”

    সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নিদর্শন

    সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নিদর্শন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ও এই বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি তোলে (Hindus)। আমেরিকার পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে র‍্যালি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শীতপ্রধান অঞ্চলে মাইনাস তাপমাত্রার মধ্যেও মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের সাফ কথা, বাংলাদেশের সঙ্কট আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানায়। বিক্ষোভকারীরা বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হিংসার পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে এবং ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ নিরীহ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে উগ্রপন্থী উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁরা বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষারও আহ্বান জানান (Bangladesh)।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতার বক্তব্য

    মানবাধিকার সংগঠনগুলি আরও উল্লেখ করে যে, ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশে একাধিকবার সাম্প্রদায়িক হিংসা ও উগ্রপন্থী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বারবার নিশানায় এসেছে। তবে ইউনূসের রাজত্বে এই নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়ে গিয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুরেন্দ্র শর্মা বলেন,
    “সমষ্টিগত কণ্ঠস্বর তোলা হচ্ছে প্রথম ধাপ। আমরা সব সম্প্রদায়ের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা চাই।” প্রতিদিন বাংলাদেশের পরিস্থিতি যে আরও গভীর সঙ্কটে তলিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে না, তাও জানান তিনি। অভিযোগ, ইউনূস জমানায় উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলি আরও শক্তি সঞ্চয় করেছে, যার ফলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে পরিকল্পিতভাবে নিশানা করা হচ্ছে। প্রশাসনের ব্যর্থতায় দেশটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে (Hindus)। ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা বাংলাদেশকে কার্যত নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষমতালোভী গোষ্ঠীগুলি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রশ্নে নীরব রয়েছে (Bangladesh)।

    পরিস্থিতির গুরুত্ব

    বাংলাদেশে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা পরিস্থিতির গুরুত্বই প্রতিফলিত করে। গত সপ্তাহে ব্রিটেনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে লেবার সরকারের কাছে বাংলাদেশে ইউনূস প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও হিন্দু সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দাবি জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চললেও এবং ঢাকায় নতুন ক্ষমতাকাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও, হিন্দু সংখ্যালঘুদের জীবন ও অধিকার এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে—যেখানে তাঁদের ওপর হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং প্রকাশ্যে মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটছে (Bangladesh)। ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হলেও, ব্রিটেন এবং আমেরিকায় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ ও কণ্ঠস্বর বাংলাদেশে হিন্দুদের জীবনরক্ষায় একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেই (Hindus) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Census 2027: এবার জনগণনা হবে ডিজিটালি, কী সুবিধা হবে জানেন?

    Census 2027: এবার জনগণনা হবে ডিজিটালি, কী সুবিধা হবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনগণনা ২০২৭ (Census 2027) হবে সম্পূর্ণরূপে একটি ডিজিটাল কাঠামোর ওপর, যা ভারতের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও নজরদারির পদ্ধতিতে এক বড় (National Coding System) রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারের তরফে জারি করা সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী, এই জনগণনায় মাঠপর্যায়ের কাজ ও তদারকি সহজ করতে মোবাইল প্ল্যাটফর্ম, কেন্দ্রীভূত ওয়েব পোর্টাল এবং রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সমিশনের ওপর নির্ভর করা হবে।

    ডিজিটালি পরিচালনার জন্য নকশা (Census 2027)

    নথিগুলিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে জনগণনা ২০২৭, আগের জনগণনাগুলির কেবল ডিজিটাল সংস্করণ নয়, বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা শুরু থেকেই ডিজিটালি পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় তথ্যসংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, ভৌগোলিক তথ্য ও নজরদারিকে একীভূত করে একটি একক জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ করা হবে তথ্যসংগ্রাহকদের ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য স্ব-তথ্য প্রদানের ব্যবস্থাও থাকবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে সেনসাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CMMS) এবং হাউজিং লিস্টিং ব্লক ক্রিয়েশন (HLBC) ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সাহায্যে রিয়েল-টাইমে তথ্য পাঠানো, মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে কেন্দ্রীভূত তদারকি সম্ভব হবে। আধিকারিকদের মতে, এই কাঠামোর লক্ষ্যই হল, কাজের সময় কমানো, ত্রুটি হ্রাস করা এবং পুরো জনগণনা প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো।

    ডিজিটাল রোলআউট

    ডিজিটাল রোলআউটের পাশাপাশি, দেশজুড়ে প্রতিটি প্রশাসনিক ও আবাসিক একককে একরূপভাবে শনাক্ত করার জন্য একটি নতুন জাতীয় অবস্থান-কোডিং কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে (National Coding System)। এই কোডিং ব্যবস্থায় প্রতিটি এলাকাকে একটি সহজ কিন্তু স্বতন্ত্র সংখ্যাসূচক পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে, যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের সময় মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই কাঠামো অনুযায়ী, শনাক্তকারী কোডগুলি স্তরভিত্তিকভাবে নির্ধারিত হবে—রাজ্য ও জেলা থেকে শুরু করে শহর, গ্রাম, ওয়ার্ড এবং তথ্যসংগ্রহ ব্লক পর্যন্ত—যার ফলে ডিজিটাল ম্যাপিং ও তথ্যের সমন্বয় সহজ হবে (Census 2027)। সার্কুলার অনুযায়ী, শহুরে ওয়ার্ডগুলিকে “০০০১” থেকে ধারাবাহিক নম্বর দেওয়া হবে। আইনসম্মত শহরের সঙ্গে সংযুক্ত আউটগ্রোথ বা সংলগ্ন বসতিগুলিকে তাদের মূল নগর এককের সঙ্গে সংযুক্ত ক্রমান্বিত কোড দেওয়া হবে।

    ডেটাবেসে শ্রেণিবিন্যাসের স্পষ্টতা ও পুনরাবৃত্তি এড়াতে

    সামঞ্জস্য বজায় রাখতে, ২০১১ সালের জনগণনায় থাকা প্রশাসনিক এককগুলির পূর্ববর্তী শনাক্তকারী কোড অপরিবর্তিত থাকবে। নতুনভাবে গঠিত জেলা, রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলিকে একটি কেন্দ্রীভূত জুরিসডিকশন পোর্টালের মাধ্যমে তৈরি সংক্ষিপ্ত ক্রমান্বিত কোড বরাদ্দ করা হবে। জাতীয় ডেটাবেসে শ্রেণিবিন্যাসের স্পষ্টতা ও পুনরাবৃত্তি এড়াতে গ্রাম, বনগ্রাম, আইনসম্মত শহর ও সেনসাস টাউনের জন্য পৃথক সংখ্যাসূচক পরিসর নির্ধারণ করা হয়েছে (Census 2027)। গণনা সংক্রান্ত সার্কুলারগুলিতে একটি বিস্তৃত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে, যার লক্ষ্য একটি ডিজিটালি দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরি করা। এই প্রশিক্ষণ হবে ‘ক্যাসকেড মডেলে’, যেখানে জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষকরা মাস্টার ট্রেনারদের প্রশিক্ষণ দেবেন, এবং মাস্টার ট্রেনারেরা মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে তথ্যসংগ্রাহক ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

    বিশ্বাসযোগ্য জনগণনা

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, লক্ষ্য হল এমন একটি উচ্চদক্ষ ও অনুপ্রাণিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা, যারা নির্বিঘ্ন, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য জনগণনা সম্পন্ন করতে পারবে। এতে ডিজিটাল সরঞ্জাম, তথ্যের অখণ্ডতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুশীলনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে (Census 2027)। হাউস লিস্টিং ও হাউজিং পর্যায়কে জনগণনা ২০২৭-এর ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সার্কুলারে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের সকল স্তরের কর্মীদের মধ্যে জনগণনার ধারণা, সংজ্ঞা ও প্রশ্নাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ও অভিন্ন বোঝাপড়া থাকা জরুরি।তথ্যসংগ্রাহক ও সুপারভাইজারদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য পেশাদারিত্ব ও ‘সেবা ভাব’ নিয়ে পরিচালনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে নৈতিক আচরণ ও জনআস্থাকে জনগণনার মূল নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সার্কুলারে বিস্তারিত সময়সূচি ও পরিকাঠামোগত (National Coding System) প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত হয়েছে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে। মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে সব তথ্যসংগ্রাহক ও সুপারভাইজারের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে (Census 2027)।

    প্রশিক্ষণস্থলের সুবিধা

    ব্যাচের আকার, শ্রেণিকক্ষের সময়কাল এবং প্রশিক্ষণস্থলের সুবিধা—যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইন্টারনেট সংযোগ ও অডিও-ভিজুয়াল সরঞ্জাম—সব কিছুই মানসম্মত করা হয়েছে, যাতে সব রাজ্যে প্রশিক্ষণের গুণগত মান একরূপ থাকে। প্রশিক্ষণে উপস্থিতি, অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতা ডিজিটালভাবে সিএমএমএস পোর্টালের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। ফলে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটিও জনগণনা ২০২৭-এর রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে (National Coding System)।

     

  • Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইভিএম, ভি ভি প্যাটের পর এবার গণনা কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। চলতি বছর রাজ্যে যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026) হতে চলেছে তার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (ECI)। সেই মোতাবেক রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০টি গণনা কেন্দ্রকে চূড়ান্ত করতে পেরেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতর। বুধবার এই তালিকাই পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে। কমিশনের তরফে চূড়ান্ত শিলমোহর পড়লেই রাজ্যের এই গণনা কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রই নয়, কোন গণনা কেন্দ্রে কত রাউন্ড গণনা হবে তারও তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য (Assembly Election 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই রাজ্যে আসবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ফুল বেঞ্চ ঘুরে যাওয়ার পরেই অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই সব কাজ সেরে রাখছে। ইতিমধ্যেই ইভিএম, ভিভিপ্যাট থেকে শুরু করে বুথের সংখ্যা একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ছিল কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা চূড়ান্ত করার। এবার সেই সংখ্যাও চূড়ান্ত করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর পাঠাতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। সেখানে শিলমোহর পড়লেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সব রকম পদক্ষেপ করতে শুরু করবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর এই সংখ্যা বাড়তেও পারে (Assembly Election 2026)। তবে সাম্প্রতিক অতীতে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যে প্যারামিটার ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্যারামিটার ভেঙে নয়া মানচিত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভেতরে এবার থাকবে দু’টি করে ক্যামেরা, বুথের বাইরে একটি।

    নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা

    বাকি বুথগুলিতে ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেখানেও থাকবে প্রতি ক্ষেত্রে একটি করে ক্যামেরা, এর সঙ্গে থাকবে মোবাইল ভ্যান যার মাথায় লাগানো থাকবে একটি করে ক্যামেরা, আর এইসব ক্যামেরায় ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। যে পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে, তাতে এই বিধানসভা নির্বাচন সম্ভবত এক দফায়ই হতে চলেছে। আর সেই কারণেই রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গেলেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে এখনও প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আছে (ECI)। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিগত দিনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না করে নতুন আর এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানান, কমিশনের লক্ষ্য এবার একদিকে যেমন এক দফায় নির্বাচন করা, তেমনি অন্যদিকে রক্তপাতহীন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে মানুষকে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়া।

    স্পর্শকাতর, অতি-স্পর্শকাতর বুথ

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিস্তর বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের মধ্যে দিয়েই উঠে এসেছে স্পর্শকাতর থেকে শুরু করে অতি-স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার বুথের সামগ্রিক চিত্র। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর প্রতি বুথে যেমন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তেমনই এলাকায়ও টহলদারের কাজে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও নজরদারির কাজ চালাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীই। অর্থাৎ ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবার একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে চলেছে, তেমনি অন্যদিকে বিগত দিনের ইতিহাস মুছে ফেলে রাজ্যে নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, আদতে এই স্পর্শকাতর এবং অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেড়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে এবার রাজ্যে বুথের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ছুঁতে চলেছে (Assembly Election 2026)।

     

  • BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি (CPIM) গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সহনশীলতা নিয়ে তাদের আদর্শগত প্রতিপক্ষদের প্রায়ই নীতিকথা শোনায়। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেরা যে কথা বলে, তা খুব কম ক্ষেত্রেই পালন করে। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় দেওয়া এক ভাষণে বিজেপি (BJP) সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বর্ণনা করেন, কীভাবে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার বুলি আওড়ানো সেই কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)—সিপিআই(এম)—তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই তিন দশক আগে তাঁর দুই পা কেটে নিয়েছিল।

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা (BJP)

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা দেখিয়ে সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বলেন, “এই দুটোই আমার পা। একসময় আমার শক্ত দুটি স্বাভাবিক পা ছিল। কিন্তু এখন হাঁটুর নীচে আমি কৃত্রিম পা ব্যবহার করি। কেন? কারণ আমি বারবার এই সংসদে গণতন্ত্রের কথা শুনি—গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র। কিন্তু যারা সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই ৩১ বছর আগে আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “কেরালায় সিপিআই(এম)-এর নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের কর্মীরা আমার বোনের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমি যখন বাড়ি ফিরছিলাম, তখনই আক্রমণ করে। বোনের বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে ফেরার পথে, একটি বাজারে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দুষ্কৃতীরা আমায় ধরে ফেলে। তারা পেছন থেকে ধরে আমায় রাস্তায় ফেলে দেয় এবং আমার দু’পা কেটে নেয়। তারা তখন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছিল। তারা গণতন্ত্রের কথাই চিৎকার করছিল।”

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি তুলে ধরে রাজ্যসভার ওই সাংসদ বলেন, “আমি এখানে এগুলো (কৃত্রিম পা) দেখাচ্ছি কারণ আপনাদের অসহিষ্ণুতাকে জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। আমি দেশবাসীকে দেখাতে চাই, সংসদ সদস্যদের দেখাতে চাই, গণতন্ত্র আসলে কী। আপনারা (সিপিআইএম) সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলেন, সহনশীলতার কথা বলেন, মানবতার কথা বলেন, অথচ আপনাদের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে রাজনৈতিক হিংসার ওপর। রাজনৈতিক হিংসা গণতন্ত্রের পক্ষে কখনওই ভালো নয়।” সদানন্দন মাস্টারের এই কৃত্রিম পা প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ হয়ে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস সংসদের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলেন। তবে চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁকে জানান, তাঁর দলের সাংসদরা যখন সংসদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, তখনও একই ধরনের কড়াকড়ি প্রয়োগ করা উচিত (BJP)।

    জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা

    ১৯৯৪ সালে সি সদানন্দন মাস্টারের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি তখন কেরালার মাট্টানুর পুরসভার পেরিঞ্চেরিতে অবস্থিত সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত কুঝিক্কাল লোয়ার প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ‘মাশ’ নামে পরিচিত সদানন্দন কমিউনিস্ট পরিবার থেকেই উঠে এসেছিলেন। তাঁর বাবা সিপিএমের  সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর দাদা জেলা স্তরে ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। সদানন্দন নিজেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও স্কুলজীবন (CPIM) থেকেই তিনি সংঘ-সংক্রান্ত কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকলেও, আরএসএসের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ধারণা তাঁর মধ্যে রয়ে গিয়েছে। মালয়ালম কবি আক্কিথামের লেখা ‘ভারত দর্শনঙ্গল’ প্রবন্ধই তাঁর জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালেই সদানন্দন মাস্টার আরএসএসে যোগ দেন। কমিউনিস্ট আদর্শ ছেড়ে সংঘের দিকে ঝোঁক নেওয়াটা বামপন্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। প্রথমে সিপিআই(এম) কর্মীরা তাঁকে সংঘ ছেড়ে কমিউনিস্ট দলে ফেরার জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি অস্বীকার করলে তারা বেছে নেয় হিংসার পথ (BJP)।

    বোনের বিয়ের প্রস্তুতি

    ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, তাঁর বোনের বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কাকার বাড়ি থেকে ফেরার সময় বাস থেকে নামতেই কয়েকজন তাঁকে পেছন থেকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। তারা ছিল সিপিআই(এম)-এর দুষ্কৃতী। তারা শুধু মারধর করেই থামেনি, নৃশংসভাবে তাঁর দুই পা কেটে নেয়। এই বর্বরতা চালানো হয়েছিল তাঁকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভয় দেখাতে, যাতে কেউ কমিউনিস্ট শিবির ছাড়ার সাহস না পায়। কিন্তু সদানন্দন মাস্টার ভেঙে পড়েননি। বরং আরএসএস ছাড়ার বা কমিউনিস্ট দলে ফেরার বদলে তিনি জাতীয় সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে কুথুপারাম্বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান (CPIM)।

    ভারতীয় বিচার কেন্দ্রম

    তিনি কেরালায় ন্যাশনাল টিচার্স ইউনিয়নের রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘দেশীয় অধ্যাপক বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং আরএসএস-ঘনিষ্ঠ চিন্তাচর্চা প্রতিষ্ঠান ভারতীয় বিচার কেন্দ্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন। কেরালার ত্রিশূর থেকে রাজ্যসভা পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথ সাহসের প্রতীক। তিনি আজও জীবন্ত উদাহরণ, কীভাবে বাম-কমিউনিস্ট অসহিষ্ণুতা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নয়, গণতন্ত্রকেও পঙ্গু করে দেয়। কমিউনিস্টরা শুধু রাজনৈতিক হিংসায়ই লিপ্ত নয়, বরং সেই অপরাধীদের ‘নায়ক’ হিসেবেও তুলে ধরে। ২০২৫ সালের অগাস্টে সদানন্দন মাস্টারের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আটজন সিপিআই(এম) কর্মীর জন্য দলটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করে। থালাসেরি সেশন আদালতের বাইরে এবং পরে মাট্টানুরে দোষীদের মালা পরানো, স্লোগান তোলা ও উল্লাসের দৃশ্য ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই নৈতিক অধঃপতনের দৃশ্য ঘটেছিল মাট্টানুরের বিধায়ক ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার উপস্থিতিতে (BJP)। যদিও সদানন্দন মাস্টার কমিউনিস্ট হিংসার শিকার হয়ে বেঁচে আছেন, সিপিআই(এম)-এর ইতিহাস রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দলত্যাগীদের নৃশংসভাবে দমন করার। গত কয়েক দশকে কেরালায় কমিউনিস্ট ক্যাডারদের হাতে বহু বিজেপি-আরএসএস নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন (CPIM)।

     

  • Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    Bharats Frontiers: সীমান্তে বেড়া দেওয়া হয়নি কেন? রাজ্যকে ভর্ৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সীমান্তের অখণ্ডতা কেবল প্রশাসনিক মানচিত্র নির্ধারণের বিষয় (Bharats Frontiers) নয়, এটি একটি অবিরাম হাইব্রিড যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা-রেখা। ২০১৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে (Mamata Banerjee) আমরা এক উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী, আইএসআইএস এবং লস্কর-ই-তৈবার মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলি চাক্ষুষ ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর চেষ্টা করেছে।

    বিপজ্জনক হুমকি (Bharats Frontiers)

    তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক হুমকি অনেক সময় বাইরে থেকে নয়, বরং ভেতর থেকেই আসে, বিশেষ করে যখন কোনও রাজ্য সরকার জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়। পশ্চিমবঙ্গে চলমান সঙ্কট, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে বিএসএফকে সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বাধা দিয়ে এসেছে, তা সংবিধানগত দায়িত্বে গুরুতর অবহেলার শামিল। সীমান্তে বেড়া না দিয়ে ফাঁকফোকর রেখে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্য কার্যত অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সন্ত্রাসের প্রবেশদ্বার খুলে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার প্রাধান্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কঠোর বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। যে কোনও রাজ্য সরকারের পবিত্র দায়িত্ব হল দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা। অথচ পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অনুপ্রবেশ, গবাদি পশু পাচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী উপাদানের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বেড়ে চললেও, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ।

    সীমান্তে বেড়া

    সীমান্তে বেড়া, চৌকি ও অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্য জমি হস্তান্তরে এই পরিকল্পিত বিলম্ব কোনও সাধারণ প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, এটি ভারতের সার্বভৌম প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অন্তরায়। বিএসএফকে সীমান্ত সিল করার ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করে রাজ্য সরকার কার্যত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একগুঁয়ে অস্বীকৃতি রাজ্যটিকে এমন এক দুর্বল প্রবেশদ্বারে পরিণত করছে, যা প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে (Bharats Frontiers)। জাতীয় অখণ্ডতার পক্ষে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে কলকাতা হাইকোর্ট অবশেষে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিপজ্জনক টালবাহানার অবসান ঘটাতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে ভর্ৎসনা করে জানিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্ত পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি হস্তান্তর করতে হবে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, কীভাবে ন’টি সংবেদনশীল সীমান্ত জেলা জুড়ে অধিগৃহীত জমি হস্তান্তর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থা তৈরি করে রেখেছিল, যার ফলে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা

    জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বড় জয়ে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তৈরি ব্যুরোক্রেটিক অবরোধ (Mamata Banerjee) ভেঙে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর অধিগৃহীত সমস্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, প্রশাসনিক অজুহাত বা নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে জাতীয় নিরাপত্তাকে আটকে রাখা যাবে না। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য তালিকাভুক্ত করে আদালত বুঝিয়ে দিয়েছে, সীমান্ত ঝুঁকির মুখে রেখে আর কোনও বিলম্ব কৌশল সহ্য করা হবে না। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২,২১৬ কিলোমিটার পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এই সীমান্ত অত্যন্ত ছিদ্রযুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক চক্র, গবাদি পশু পাচার ও জাল নোট চক্রের প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে—যা ভারতের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি হুমকি।

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন

    ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বারবার অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধারাবাহিকভাবে গড়িমসি করেছে। যার জেরে সীমান্তের প্রায় ২৬ শতাংশ এখনও বেড়াবিহীন। রাজ্যের ন’টি জেলায় ২৩৫ কিমি জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য মাত্র ৭১ কিমি জমি হস্তান্তর করেছে। অবশিষ্ট জমি না দেওয়ায় বিএসএফ কার্যত ঠুঁটো হয়ে রয়ে গিয়েছে। যদিও ‘জমি’ রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত, তবে সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব রয়েছে। প্রায় এক দশক আগের মন্ত্রিসভা অনুমোদন কার্যকর না করা স্পষ্ট সংবিধান অবমাননা। স্থানীয় রাজনৈতিক স্বার্থকে ফেডারেল দায়িত্বের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেবল নিজের রাজ্যের নাগরিকদের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করেছে (Bharats Frontiers)। কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে সমস্ত ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত জমি বিএসএফকে দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনী তালিকা সংশোধন বা ভোটের অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়, জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অজুহাত চলবে না। বলা বাহুল্য, এই রায় প্রতিটি ভারতীয়ের জন্য একটি বড় বিজয়, যারা বিশ্বাস করেন, মাতৃভূমির নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না (Mamata Banerjee)।

    অখণ্ডতার ওপর আঘাত

    এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত অবহেলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সুব্রত সাহা, যিনি দেশরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত ও পরিশ্রমের মূল্য ভালোই বোঝেন।
    তাঁর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায়  তিনি যুক্তি দেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিষ্ক্রিয়তা সরাসরি ভারতের প্রতিরক্ষা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় অখণ্ডতার ওপর আঘাত। আবেদনে একটি উদ্বেগজনক ও দেশদ্রোহিতামূলক প্রবণতার কথা তুলে ধরা হয়, ২০১৬ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমির কেবলমাত্র একটি অংশই হস্তান্তর করেছে। সংসদীয় নথি উদ্ধৃত করে জানানো হয়, এই নির্দিষ্ট ফাঁকগুলোকেই কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারি ও অনুপ্রবেশকারীরা, যে ফাঁক কেবলমাত্র রাজ্য সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই রয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট আর অপেক্ষা করতে রাজি হয়নি। এর আগে, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ আদালত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে স্পষ্ট জবাব চায়, যে জমির পুরো অধিগ্রহণমূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা কেন এখনও হস্তান্তর করা (Mamata Banerjee) হয়নি? প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া চূড়ান্ত রায় রাজ্যের বাধাদানমূলক রাজনীতির ওপর বড় আঘাত হানে। আদালত সাফ জানিয়ে দেয়, অধিগৃহীত ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া সমস্ত জমি ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দিতে হবে।

    অজুহাত খারিজ

    ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ বা ‘আসন্ন নির্বাচন’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা আদালত খারিজ করে দেয়। জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য কেন্দ্র অর্থ জোগালে, কোনও প্রক্রিয়াগত অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না, এ কথা পরিষ্কার জানিয়ে দেয় বেঞ্চ (Bharats Frontiers)। এই রায় প্রতিটি ভারতবাসীর জয়, যাঁরা বিশ্বাস করেন যে মাতৃভূমির নিরাপত্তা কোনও রাজ্যস্তরের রাজনীতির দরকষাকষির বিষয় হতে পারে না। আইনের শক্তিতে অবশেষে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য পাতা ‘লাল কার্পেট’ গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ফেডারেল সহযোগিতার প্রতি চরম অবহেলা প্রকাশ্যে আসে। কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল সাংবিধানিক আইনের দৃষ্টান্তমূলক ব্যাখ্যা দেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৫৬, ২৫৭ ও ৩৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রের নির্দেশ মানতে আইনগত ও নৈতিকভাবে বাধ্য (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রের যুক্তি, ভারতের সার্বভৌমত্ব যখন বিপন্ন, তখন কোনও রাজ্য নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না। ভূমি অধিগ্রহণ আইনের ধারা ৪০-এর জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র স্পষ্ট করে দেয়, সন্ত্রাসবাদী, অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারিদের হাত থেকে সীমান্ত রক্ষা করা একটি স্থায়ী জরুরি অবস্থা, যা রাজ্যের ধীর আমলাতান্ত্রিক গতির ঊর্ধ্বে। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবীরা বিএসএফের জরুরি প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে তাদের ‘ডাইরেক্ট পারচেজ পলিসি (DPP)’-কে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁরা ‘স্ট্যান্ডার্ড রুল’ ও ‘মামলামুক্ত প্রক্রিয়া’র কথা বলেন, যেন রাষ্ট্রবিরোধী অনুপ্রবেশ রাজ্যের সুবিধামতো অপেক্ষা করতে পারে। জাতীয় প্রতিরক্ষাকে শুধুমাত্র একটি ‘পরিকাঠামো প্রকল্প’ হিসেবে দেখিয়ে জরুরি ক্ষমতাকে ব্যতিক্রম বলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

    বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা

    এই ফাঁপা যুক্তির ফল ছিল স্পষ্ট, অবৈধ সীমান্ত কার্যকলাপের দরজা খোলা রেখে বিএসএফকে লাল ফিতের জালে জড়িয়ে রাখা। হাইকোর্ট রাজ্যের এই গড়িমসি কৌশলে বিভ্রান্ত হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের মতো গুরুতর বিষয়ে কীভাবে ‘অচল সেতু’র জন্য তৈরি নীতি প্রয়োগ করা হচ্ছে?
    আদালত সরাসরি জানতে চায়, এত বছর আগেই কেন ধারা ৪০ প্রয়োগ করা হয়নি, যা কার্যত সীমান্ত রক্ষায় রাজ্যের সদিচ্ছার অভাবকেই তুলে ধরে (Bharats Frontiers)। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আর কোনও বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই। ‘ভোটার তালিকা সংশোধনে’র অজুহাত পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজ্যের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের দোহাই দিয়ে বন্দি করা  যাবে না (Mamata Banerjee)। রাজ্যের দীর্ঘদিনের অন্তর্ঘাত ঠেকাতে আদালত তিনটি স্পষ্ট নির্দেশ দেয়। এগুলি হল, যেসব জমির মূল্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরিশোধ করেছে, তা ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ হস্তান্তর করা। ডিপিপি প্রক্রিয়ায় থাকা জমির ক্ষেত্রে একই সময়সীমার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়া। যেখানে কোনও কাজই হয়নি, সেখানে ধারা ৪০ অনুযায়ী জরুরি অধিগ্রহণের পথ খোলা।

    স্পষ্ট সংকেত

    এতে স্পষ্ট সংকেত দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় মদতে সীমান্ত দুর্বল করার যুগের আইনি সমাপ্তি ঘটছে। এই হস্তক্ষেপ ভারতের প্রতিরক্ষার পক্ষে বড় জয় এবং টিএমসির ‘নরম সীমান্ত’ নীতির বিরুদ্ধে কড়া পরাজয়। বছরের পর বছর বেঙ্গলের অরক্ষিত সীমান্ত চোরাকারবারি, মাদকচক্র ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রাণরক্ষার পথ ছিল। আদালতের নির্দেশে এবার সেই ফাঁক বন্ধ হতে চলেছে (Bharats Frontiers)। এপ্রিল ২০২৬-এর পর্যালোচনায় স্পষ্ট হবে, রাজ্য অবশেষে দেশপ্রেম দেখাবে, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা চালিয়ে যাবে। এই সময়সীমাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের শেষ পরীক্ষা। বিচারব্যবস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির বলিতে মাতৃভূমির নিরাপত্তা আর দেওয়া হবে না। বস্তুত, আইনের শাসন অবশেষে প্রহরীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, অন্তর্ঘাতকারীকে নয়।

     

  • Ramakrishna 572: “একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না”

    Ramakrishna 572: “একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর

    শ্রীরামকৃষ্ণ—Sir Humphrey Davy ও অবতারবাদ

    ঠাকুর (Ramakrishna) মাস্টারের সহিত ডাক্তার সরকারের কথা কহিতেছেন। পূর্বদিনে ঠাকুরের সংবাদ লইয়া মাস্টার ডাক্তারের কাছে গিয়াছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — তোমার সঙ্গে কি কি কথা হল?

    মাস্টার—ডাক্তারের ঘরে অনেক বই আছে। আমি একখানা বই সেখানে বসে বসে পড়ছিলাম। সেই সব পড়ে আবার ডাক্তারকে শোনাতে লাগলাম। Sir Humphrey Davy-র বই। তাতে অবতারের প্রয়োজন এ-কথা আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— বটে? তুমি কি কথা বলেছিলে (Kathamrita)?

    মাস্টার — একটি কথা আছে, ঈশ্বরের বাণী মানুষের ভিতর দিয়ে না এলে মানুষ বুঝতে পারে না। (Divine Truth must be made human Truth to be appreciated by us)। তাই অবতারাদির প্রয়োজন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বাঃ, এ-সব তো বেশ কথা!

    মাস্টার — সাহেব উপমা দিয়েছে, যেমন সূর্যের দিকে চাওয়া যায় না, কিন্তু সূর্যের আলো যেখানে পড়ে, (Reflected rays) সেদিকে চাওয়া যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বেশ কথা, আর কিছু আছে?

    মাস্টার — আর এক যায়গায় ছিল, যথার্থ জ্ঞান হচ্ছে বিশ্বাস।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এ তো খুব ভাল কথা। বিশ্বাস হল তো সবই হয়ে গেল (Kathamrita)।

    মাস্টার — সাহেব আবার স্বপ্ন দেখেছিলেন রোমানদের দেবদেবী।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — এমন সব বই হয়েছে? তিনিই (ঈশ্বর) সেখানে কাজ করছেন। আর কিছু কথা হল?

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও ‘জগতের উপকার’ বা কর্মযোগ

    মাস্টার — ওরা বলে জগতের উপকার করব। তাই আমি আপনার কথা বললাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — কি কথা?

    মাস্টার — শম্ভু মল্লিকের কথা। সে আপনাকে বলেছিল, ‘আমার ইচ্ছা যে টাকা দিয়ে কতকগুলি হাসপাতল, ডিস্পেন্সারি, স্কুল, এইসব করে দিই; হলে অনেকের উপকার হবে।’ আপনি তাকে যা বলেছিলেন, তাই বললুম, ‘যদি ঈশ্বর সম্মুখে আসেন, তবে তুমি কি বলবে, আমাকে কতকগুলি হাসপাতাল, ডিস্পেনসারি, স্কুল করে দাও!’ আর-একটি কথা বললাম।

  • Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    Hindu Sammelan: নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে বিশাল হিন্দু সম্মেলন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাগাল্যান্ডের (Nagaland) ডিমাপুরে হয়ে গেল বিশাল হিন্দু সম্মেলন (Hindu Sammelan)। ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ডিমাপুর হিন্দু সোসাইটির উদ্যোগে ডিডিএসসি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় ওই সম্মেলনের। এই সম্মেলনে যোগ দেন নাগাল্যান্ড ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আসা হাজার পাঁচেক মানুষ। এই সম্মেলন রাষ্ট্রীয় স্বার্থ (রাষ্ট্রীয়ত)-কে সামনে রেখে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জাতীয় দায়িত্ব নিয়ে ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব (Hindu Sammelan)

    সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, আরএসএসের অখিল ভারতীয় কার্যকরিণী সদস্য মনমোহন বৈদ্য, রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির অখিল ভারতীয় সহ-সারকার্যবাহিকা সুনীতা হালদেকর, রমেশ কুমার মুনি এবং প্রখ্যাত সমাজচিন্তক থুনবাই। তাঁদের উপস্থিতি সম্মেলনকে বৌদ্ধিক গভীরতা ও জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা সাংস্কৃতিক আত্মসচেতনতা, সামাজিক সংহতি এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রেক্ষাপটে। বক্তৃতায় বলা হয়, সনাতন মূল্যবোধ ভারতের সভ্যতাগত চেতনাকে শক্তিশালী করতে এবং বহুবিধ সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (Hindu Sammelan)।

    ভারতের প্রকৃত শক্তি

    বক্তব্যে বৈদ্য বলেন, “ভারতের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে তার সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও সমষ্টিগত চেতনায়।” তিনি সমাজ বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা আরও বলেন, “জাতি গঠনে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য এবং আদিবাসী ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি।” সম্মেলনে সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও জাতীয় দায়িত্ব সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান সচেতনতার প্রতিফলন। অনুষ্ঠানের শেষে সামাজিক ঐক্য, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং একটি শক্তিশালী ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ভারত গঠনে ইতিবাচক অবদান রাখার যৌথ সংকল্প গ্রহণ করা হয় (Nagaland)।

    ডিমাপুরে অনুষ্ঠিত এই হিন্দু সম্মেলন জাতীয় সংহতি ও সাংস্কৃতিক জাগরণের আদর্শকে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই বিবেচিত হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলে। এটি ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতে’র বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ (Hindu Sammelan)।

     

  • Election Commission: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন কখনও দেখিনি”, বললেন মমতা

    Election Commission: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন কখনও দেখিনি”, বললেন মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “এরকম মিথ্যেবাদী কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহু ধিন ধরে রাজনীতি করছি, এরকম ঔদ্ধত্য আমি আগে দেখিনি (Election Commission)।” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলি হেলনেই কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানাতে সদলে দিল্লি গিয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর বৈঠক হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানের কুমারের সঙ্গে। সেই বৈঠক থেকে বেরিয়েই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

    ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম! (Election Commission)

    জানা গিয়েছে, বেঁচে থাকতেও নির্বাচন কমিশনের নথিতে মৃত বলে চিহ্নিত এমন ৫০জন ভোটারকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন মমতারা। শুধু তা-ই নয়, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে পরিবারের কোনও না কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০জনকেও দিল্লিতে নিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। এদিন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের (Mamata Banerjee)। সেখানেই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে অনিয়ম, হয়রানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে ধরে কমিশনের কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ দাবি করে তৃণমূল। যদিও খানিক পরে নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, বৈঠকের আগেই তাঁদের অসম্মান ও অপমান করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বাদ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগও করেন মমতা।

    হিন্দু-মুসলমান

    তাঁর দাবি, “যাঁরা হিন্দু-মুসলমান করেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন? এখানে দু’জন মুসলিম রয়েছেন (Election Commission)। ক’জন হিন্দু?” তাঁর আরও প্রশ্ন, “বিজেপি শাসিত অসমে কেন এই প্রক্রিয়া করা হল না?” মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআরের নামে রাজ্যে ৫৮ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব করা হয়েছে। তার নেপথ্যে রয়েছেন সীমা খন্না। কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত বড় সংখ্যায় ভোটার বাদ পড়ার পরেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যাখ্যা চাইছে না।”

    প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা

    এদিন আরও একবার প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনারা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করুন। ওঁর বাবা-মায়ের জন্ম-কুন্ডলী বের করতে বলুন।” তিনি বলেন, “লালকৃষ্ণ আডবাণীর নাগরিকত্ব এবং জন্মস্থান সংক্রান্ত প্রশ্নও এক সময় উঠেছিল।” এদিনের বৈঠকের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বলেন, “বৈঠকের সময় কমিশনের নিজস্ব ক্যামেরাম্যানরা উপস্থিত ছিলেন, অথচ বাইরের ক্যামেরাম্যানদের সেখানে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের যা ইচ্ছে, তাই করবেন, তা তো হয় না! বহুদিন ধরে রাজনীতি করছি, মন্ত্রীও ছিলাম (Election Commission)। এরকম অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন কখনও দেখিনি (Mamata Banerjee)।”

  • Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    Indus Waters Treaty: হেগের সালিশি আদালতে শুনানি ইন্দাস জলচুক্তির, অংশ নেবে না, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হেগের সালিশি আদালত (কোর্ট অফ আরবিট্রেশন) ইন্দাস জলচুক্তির (Indus Waters Treaty) কাঠামোর আওতায় নতুন শুনানি ও নথি তলবের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে গেলেও, ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার বৈধতা তারা স্বীকার করে না এবং এতে অংশও নেবে না (India)। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হল, গত সপ্তাহে ইন্দাস জলচুক্তির (IWT) অধীনে গঠিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন (CoA)-এর জারি করা একটি নির্দেশ। ওই নির্দেশে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির পরিচালনাসংক্রান্ত ‘পন্ডেজ লগবুক’ জমা দিতে বলা হয়েছে, যা আদালত ‘মেরিটস সংক্রান্ত দ্বিতীয় ধাপ’ বলে উল্লেখ করেছে।

    হেগের পিস প্যালেসে শুনানি (Indus Waters Treaty)

    আদালত জানিয়েছে, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি হেগের পিস প্যালেসে শুনানি হবে। একই সঙ্গে আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ভারত এখনও কোনও কাউন্টার-মেমোরিয়াল জমা দেয়নি এবং শুনানিতে অংশগ্রহণের কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তবে নয়াদিল্লির কাছে এই পুরো প্রক্রিয়াটাই অর্থহীন। সরকারি সূত্রের খবর, ‘অবৈধভাবে গঠিত’ এই তথাকথিত কোর্ট অব আরবিট্রেশন একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি ‘সমান্তরাল শুনানি’ চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রের ভাষায়, “আমরা যেহেতু এই আদালতের বৈধতা স্বীকার করি না, তাই তাদের কোনও যোগাযোগেরই জবাব দিই না। তাছাড়া ইন্দাস জলচুক্তি বর্তমানে স্থগিত থাকায়, ভারতের পক্ষে কোনও জবাব দেওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। এটি পাকিস্তানের একটি কৌশল—আমাদের টেনে এনে দেখানোর চেষ্টা যে আমরা এখনও প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছি।”

    পহেলগাঁওকাণ্ড

    এই নজিরবিহীন অচলাবস্থার নেপথ্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল, যখন পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ওই ঘটনার একদিন পরেই ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্দাস জলচুক্তিকে ‘স্থগিত’ ঘোষণা করে। ১৯৬০ সালের পর এই প্রথমবার ভারত জল সহযোগিতাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদ ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করল (India)। এই সিদ্ধান্ত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ভারতের পাকিস্তান নীতিতে এক সুস্পষ্ট মোড় ঘোরার ইঙ্গিত দেয়। এটি জানিয়ে দেয়, শত্রুতার আবহে সহযোগিতা কখনওই চলতে পারে না। ইসলামাবাদের প্রতিক্রিয়া ছিল আতঙ্কগ্রস্ত। পরবর্তী ন’মাসে পাকিস্তান কূটনীতিকদের তলব করেছে, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রসংঘে চিঠি দিয়েছে, ১০টিরও বেশি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (Indus Waters Treaty) করেছে। এসব কিছুর কেন্দ্রীয় বক্তব্য একটাই, ভারত তাদের সবচেয়ে সংবেদনশীল দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনেছে।

    ইন্দাস নদী

    পাকিস্তানের কৃষির প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ ইন্দাস নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দেশটির জলাধার সক্ষমতা এক মাসের প্রবাহও ধরে রাখতে পারে না। তাদের প্রধান জলাধার, তারবেলা ও মাঙ্গলা নাকি প্রায় ‘ডেড স্টোরেজে’ পৌঁছে গিয়েছে। একসময় যা ছিল নিছক একটি প্রযুক্তিগত চুক্তি, তা এখন পরিণত হয়েছে কৌশলগত চাপের হাতিয়ারে (India)। ভারতের অবস্থান সত্ত্বেও হেগ-ভিত্তিক আদালত এমনভাবে এগোচ্ছে, যেন চুক্তির কাঠামো এখনও পুরোপুরি কার্যকর। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারির এক নির্দেশে আদালত ২–৩ ফেব্রুয়ারির শুনানির বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করে এবং জানায়, ভারত উপস্থিত না থাকলে পাকিস্তান একাই পিস প্যালেসে সশরীরে যুক্তি উপস্থাপন করবে। এর পাঁচ দিন পর, পাকিস্তানের অনুরোধে জারি করা আর এক নির্দেশে আদালত ভারতকে বাগলিহার ও কিষানগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পরিচালন লগবুক জমা দিতে বলে। উদ্দেশ্য, ভারত ঐতিহাসিকভাবে পন্ডেজের হিসেব ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখিয়েছে কি না, তা যাচাই করা। আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত সহযোগিতা না করলে তারা ‘প্রতিকূল অনুমান’ টানতে পারে অথবা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান যে নথি পাবে, তা গ্রহণ করতে পারে (Indus Waters Treaty)।

    ভারতের অবস্থান

    আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, চুক্তি স্থগিত রাখার বিষয়ে ভারতের অবস্থান তাদের বিচার করার ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে না (India)। এটাই সেই অবস্থান, যা ভারত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইন্দাস জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত মতপার্থক্য নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়, আর আইনি বিরোধ যায় সালিশি আদালতে। ভারতের ধারাবাহিক দাবি, বর্তমান বিরোধগুলি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের এক্তিয়ারভুক্ত, আর পাকিস্তানের সালিশি আদালত সক্রিয় করার চেষ্টা ‘ফোরাম শপিং’য়ের শামিল। এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই কোর্ট অব আরবিট্রেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে অস্বীকার করছে নয়াদিল্লি। শুধুমাত্র নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে ভারত ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানকে এই বিরোধকে বৃহত্তর আইনি ও রাজনৈতিক মঞ্চে রূপ দিতে দেওয়া হবে না (Indus Waters Treaty)। আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশগুলি দেখাচ্ছে, তারা দুটি সমান্তরাল প্রক্রিয়ার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করার চেষ্টা করছে, যাকে ভারত সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছে (India)।

    আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা

    হেগে যা ঘটছে, তা কেবল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের হিসেবনিকেশ নিয়ে আইনি বিরোধ নয়। এটি সংযমের দীর্ঘ দশকের পর কূটনৈতিকভাবে চুক্তিকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহারের ভারতের সিদ্ধান্তের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা। পাকিস্তানের কাছে বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক ইস্যু বানানো অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর ভারতের কাছে সরে দাঁড়ানো একটি কৌশলগত পছন্দ। কোর্ট অব আরবিট্রেশন আদেশ জারি করতে পারে, শুনানির দিন ঠিক করতে পারে, প্রক্রিয়াগত নির্দেশ দিতে পারে। কিন্তু ভারতের অংশগ্রহণ ছাড়া এবং চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত থাকায়, এই কার্যক্রম একতরফা আইনি নথি হয়ে ওঠার ঝুঁকিতে রয়েছে, বাধ্যতামূলক রায়ের নয় (India)।

    সাউথ ব্লকের দৃষ্টিতে, সেটাই আসলে উদ্দেশ্য। পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর থেকে ভারতের বার্তা স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক—ভূমির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনও চুক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর পাকিস্তান যতদিন না নয়াদিল্লির ভাষায় ‘অস্বাভাবিক শত্রুতা’ বন্ধ করছে, ততদিন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জলবণ্টন চুক্তিটিও একাধিক অর্থে স্থগিতই থাকবে (Indus Waters Treaty)।

     

LinkedIn
Share