মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের ধর্না ঘিরে ক্রমেই চড়ছে রাজনীতির পারদ। এদিন রাহুল গান্ধীকে একযোগে নিশানা বিজেপির (BJP Slams Rahul Gandhi) শীর্ষ নেতৃত্বের। অভিযোগ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ বিজেপির।
কী অভিযোগ বিজেপির?
বিজেপির (BJP) দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সরকারি বাসভবনের সামনে গিয়ে ধর্নায় বসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শাসক দলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুরক্ষিত ব্যক্তিদের অন্যতম। ফলে তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে এ ধরনের কর্মসূচি নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর যে সাংবিধানিক মর্যাদা রয়েছে, সেই পদমর্যাদার সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই মানানসই নয়। রাহুল গান্ধী দিশাহীন রাজনীতি করছেন, কটাক্ষ বিজেপির। একইসঙ্গে বুধবার দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণাও করেছে গেরুয়া শিবির।
বিএল সন্তোষের কড়া আক্রমণ
রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’’, ‘‘শিশুসুলভ’’ বলেও কটাক্ষ বিজেপির (BJP Slams Rahul Gandhi) একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের। বিএল সন্তোষ বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে কংগ্রেস অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির তৈরি করেছে।’’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ি লক্ষ্য করে এ ধরনের কর্মসূচি দেশের নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ঘটনা ‘‘রাষ্ট্রদ্রোহের কাছাকাছি একটি কাজ’’।
‘‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে লজ্জাজনক দিন’’
বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, মঙ্গলবার ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি ‘‘লজ্জাজনক দিন’’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘‘কোনও অনুমতি ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মর্যাদা এবং নিরাপত্তার গুরুত্ব তাঁর অজানা নয়। তা সত্ত্বেও তিনি যে আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। নিট ইস্যুতে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত ছিল। কিন্তু কংগ্রেস সেই আলোচনার পথ ছেড়ে সংঘাতের রাজনীতি করেছে।’’ তাঁর প্রশ্ন দেশ কি রাহুল গান্ধীর ইচ্ছেমতো চলবে? সংসদে আলোচনা না করে কেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ধর্না? তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
নিশিকান্ত দুবের বিস্ফোরক অভিযোগ
সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও। রাহুলের বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন সাংসদের। রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফরগুলির তদন্তের দাবি করেছেন নিশিকান্ত। তিনি বলেন, ‘‘বিদেশে রাহুল গান্ধী কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন? কোন কোন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন? ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কোনও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না? কিংবা বিদেশি সংস্থার কোনও অর্থায়নের যোগ রয়েছে কি না?- সেই সমস্ত বিষয় সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত।’’
‘‘বিশেষ সুবিধার অপব্যবহার’’
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ ও রাজস্থানের বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোরের অভিযোগ, ‘‘লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর কিছু বিশেষ সাংবিধানিক সুযোগ- সুবিধা রয়েছে। কিন্তু তিনি সেই মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার কোনও যৌক্তিকতা ছিল না। এটি কংগ্রেসের হতাশা, দিশাহীনতা এবং শিশুসুলভ রাজনীতির পরিচয় বহন করে।’’
ঠিক কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে ধর্না দেয় কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) পদত্যাগের দাবিতে তাঁর সরকারি বাসভবনের বাইরে ধর্নায় বসে কংগ্রেস (Congress)। এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ ইন্ডি জোটের (INDI Alliance) একাধিক বিরোধী নেতাও। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। যদিও পরে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে বিজেপির প্রতিবাদ
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে আন্দোলনে বিজেপি। দলের নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের রাজ্য ও জেলা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন।
ক্রমশ তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে ধর্নাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন আরও তীব্র। বিজেপির অভিযোগ, নিট ইস্যুর আড়ালে কংগ্রেস রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে এবং বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক মর্যাদার অপব্যবহার করেছেন রাহুল গান্ধী। তাই এই ঘটনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামছে বিজেপি। শাসক দলের বার্তা, গণতন্ত্রের নামে দেশের নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক শালীনতার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। এখন দেখার এই রাজনৈতিক টানাটানি কোন দিকে মোড় নেয়?
