Tag: bengali news West Bengal corruption investigation

  • West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    West Bengal Corruption Investigation: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার দুর্নীতির তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশন, মাথায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সরকারে আসে তৃণমূল। ২০২৬ পর্যন্ত একাধারে মসনদে রাজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তৃণমূলের এই অপশাসনের রাজত্বে সামনে এসেছে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ। আর্থিক দুর্নীতি থেকে, লটারি, শিক্ষা ও কয়লা- দুর্নীতির অভিযোগে বর্তমানে জেলেও রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট। এবার পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে ওঠা একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির পাহাড় খতিয়ে দেখতে বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের (West Bengal Corruption Investigation)। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময়ের সমস্ত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে একটি ‘বিশেষ কমিশন’ (Special Commission) গঠন নবান্নের।

    নবান্নের বিজ্ঞপ্তি

    সরকারের জারি করা সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর, প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে এই কমিশন। এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশনের (Special Commission) চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।

    স্ক্যানারে কোন কোন দফতর?

    নবান্ন সূত্রের খবর, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত গত দেড় দশকে শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা, পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে ওঠা দুর্নীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে এই কমিশন। কমিশনের তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে, আমফান-পরবর্তী ত্রাণ বণ্টনে আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন কর্মসংস্থান প্রকল্পে ওঠা তছরুপের অভিযোগ। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়ম, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পের আর্থিক গরমিল। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অপব্যবহার, সরকারি হাসপাতাল এবং চিকিৎসা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বেনিয়মের অভিযোগ।

    শুধুই আর্থিক নয়, তদন্তে ক্ষমতার অপব্যবহারও

    কমিশনের তদন্তের এক্তিয়ার শুধু আর্থিক দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং এর পরিধি অনেকটাই বিস্তৃত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বেআইনি গ্রেফতার বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগগুলোও এবার খতিয়ে দেখা হবে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বেআইনি নির্মাণ রুখতে প্রশাসনের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা বা মদত ছিল কি না? তা-ও তদন্তের আওতায় থাকবে। পুরসভার নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল? তার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা হবে।

    কারা থাকছেন কমিটিতে?

    সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই বিশেষ কমিশনের (Special Commission) প্রশাসনিক কাঠামোও অত্যন্ত মজবুত করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে এই বিশেষ টিমে থাকছেন একজন প্রবীণ আইপিএস (IPS) আধিকারিক। থাকছেন একজন আইএএস (IAS) বা ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিক। প্রযুক্তিগত ও রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবেন পশ্চিমবঙ্গ রাজস্ব পরিষেবা (WBRS)-র একজন আধিকারিক। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কমিশন আরও সদস্য নিয়োগ করতে পারবে।

    সিভিল কোর্টের ক্ষমতা ও টাকা উদ্ধারের সুপারিশ

    কমিশনকে তদন্তের সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘সিভিল কোর্ট’ বা দেওয়ানি আদালতের সমতুল্য ক্ষমতা। ফলে কমিশন প্রয়োজনে, যে কোনও ব্যক্তি বা সরকারি আধিকারিককে তলব করে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রয়োজনীয় গোপন নথি তলব ও সাক্ষ্যও গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়াও তদন্তের স্বার্থে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে বসে শুনানি ও অনুসন্ধান চালানোর অবাধ অধিকার থাকবে কমিশনের কাছে। এরইমধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা অপচয় হয়েছে, তা কীভাবে উদ্ধার (Recovery) করা সম্ভব? সেই বিষয়েও সরকারকে নির্দিষ্ট সুপারিশ করতে পারবে এই কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ফলে বিগত দেড় দশকের একাধিক হেভিওয়েট দুর্নীতির তদন্তে এই বিশেষ কমিশনের ভূমিকা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মোড় ঘোরানো হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

LinkedIn
Share