Tag: Bengali news

Bengali news

  • Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Rahul Gandhi: ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর হামলা, রাহুলের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) নিশানা করলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কংগ্রেস মিথ্যা রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand Parliament) পড়ুয়াদের ওপর হিংসার ঘটনায় রাহুলের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সোমবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিবৃতি দেওয়ার দাবি করেছিলেন রাহুল। তার পরের দিনই কংগ্রেস এবং রাহুলকে নিশানা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘পড়ুয়াদের স্বার্থ নিয়ে কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা রটিয়ে চলেছে। রাহুল গান্ধীর কাছে তথ্য নেই। যে বিরোধী দলনেতা অভ্যাসগতভাবে মিথ্যা বলেন, তিনি সংসদে আসতে বা জবাব শুনতেও চান না। তাঁরা শুধু নিজেদের মিথ্যা রটাতে এবং কুমিরের কান্না কাঁদতে চান।’’

    রাহুল গান্ধী নীরব কেন?’ (Rahul Gandhi)

    অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল ও কংগ্রেস ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ তুলছে বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য, সংসদে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত। কংগ্রেস সংসদের কাজ ব্যাহত করছে এবং দেশের ও যুবসমাজের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।এর পরেই ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে রাহুলকে নিশানা করেন প্রধান। বলেন, ‘‘ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের ওপর যে বর্বরতা হয়েছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, যে রাহুল গান্ধী প্রতিটি বিষয় নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন, তিনি আজ নীরব কেন?’’ কংগ্রেস গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাছাই করা নীতি অনুসরণ করে বলেও অভিযোগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, যেখানে কংগ্রেস ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে যুবকদের বিরুদ্ধে হিংসার আশ্রয় নেওয়া হয়। আবার রাজনৈতিক নজর কাড়ার প্রয়োজন হলে মিথ্যা এবং হইচইও করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘দেশের যুবসমাজ কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা সম্পূর্ণভাবে বুঝে গিয়েছে।’’

    রাহুলকে সংসদে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান নাড্ডার

    সংসদে অচলাবস্থা নিয়ে রাহুলকে আক্রমণের একদিন পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই মন্তব্য সামনে এল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও রাহুলের বিরুদ্ধে সংসদের কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ১৫ দিন ধরে ব্যাহত করার এবং দেশকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন (Rahul Gandhi)। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডার দাবি, রাহুল গান্ধীর দাবির পর সরকার সংসদে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছিল। কিন্তু পরে রাহুল তাঁর দাবি বদলে ফেলেন। নাড্ডা বলেন, “যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করছিলেন রাহুল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দাবিতে রাজি হওয়ার পর কংগ্রেস নেতা নিজের দাবিই বদলে ফেললেন এবং রাম মন্দিরের অনুদানে কথিত আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আলোচনার দাবি তুলতে শুরু করলেন।” সংসদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাহুলকে আহ্বান জানান নাড্ডাও। তিনি বলেন, ‘‘তিনি (রাহুল) আলোচনা থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন কেন? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, রাহুল গান্ধী, আলোচনা থেকে পালাবেন না। আমরা প্রস্তুত। সংসদের ভিতরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। পালিয়ে যাবেন না।’’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলার অভিযোগও করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তাঁর বক্তব্য (Jharkhand Parliament), গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের কোনও ঠাঁই নেই। তিনি বলেন, ‘‘জরুরি অবস্থার যুগের মানসিকতা নিয়ে চলা রাহুল এবং কংগ্রেস পার্টির এটা ভালো করে বুঝে নেওয়া উচিত (Rahul Gandhi)।’’

  • NDA: ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অযথা সংসদ অচল করছেন রাহুল, অভিযোগ এনডিএ সাংসদদের

    NDA: ছাত্র আন্দোলন নিয়ে অযথা সংসদ অচল করছেন রাহুল, অভিযোগ এনডিএ সাংসদদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধীদের লাগাতার অচলাবস্থার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদের দিকে মিছিল করলেন এনডিএ (NDA) সাংসদরা। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড। সেখানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সংসদে বিতর্ক এড়িয়ে (Jharkhand) যাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

    এনডিএর বিক্ষোভ (NDA)

    সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং ঝাড়খণ্ডে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই বিক্ষোভ হল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার সংসদের অধিবেশন ব্যাহত হয়েছে। বিরোধীরা পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দাবি করছে। এদিকে, রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাবদিহি করেছেন। সরকার অবশ্য এই বিষয়ে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।সোমবার ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনায়ও রাহুলের কাছে জবাব চেয়েছেন এনডিএ সাংসদরা। বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত বলেন, “এখন ওরা আলোচনা করতে অস্বীকার করছে। এর আগে ওরাই আলোচনার দাবি জানিয়েছিল—যে পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। কিন্তু পরে ওরা পিছিয়ে গেল। ওরা দেশকে বিভ্রান্ত করছে। সংসদ চলতে দিচ্ছে না।”

    কী বলছে বিজেপি

    বিজেপি নেতা তরুণ চুঘ রাহুলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে বলেন, “এটি দ্বিচারিতার ঘটনা। ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনায় রাহুল গান্ধী সংসদ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন এবং নীরব রয়েছেন। গোটা দেশ সব কিছু দেখছে (NDA)।” বিজেপি সাংসদ সাক্ষী মহারাজ বলেন, “পুরো বিরোধী দল কোনও ধরনের আলোচনাই চায় না। ছাত্রদের বিষয়টির ক্ষেত্রে তাদের নীতি এক এক জায়গায় এক এক রকম, এবং ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা।” বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু রাহুল গান্ধী প্রস্তুত নন। তিনিই লোকসভাকে অচল করে রেখেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাব দিতে প্রস্তুত।” বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “অমিত শাহজি জবাব দেবেন, রাহুল গান্ধী পালাবেন না… রাহুল গান্ধী লজ্জা করুন, ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের উপর এতটা বর্বরতা হয়েছে…”  অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সবাই তাঁদের (বিরোধীদের) কাছে জবাব চাইছে। তাঁদের জবাব দিতেই হবে।”

    গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল

    এর আগে সোমবার রাহুল জানিয়েছিলেন, বিরোধীরা অমিত শাহের মতামত শুনতে আগ্রহী নয়। বরং পুলিশের দমন-পীড়নের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, তা জানতে চান বিরোধীরা। রাহুল বলেন, “অমিত শাহের সংসদে এসে আমাদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস নেই। গত ১৫ দিনে তাঁরা সেটাই দেখিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ—কারও সাহস নেই… তাঁর মতামত নিয়ে কারও আগ্রহ নেই। আমরা শুধু জানতে চাই, গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল। তিনি যদি নির্দেশ না দিয়ে থাকেন, তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কে সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন? আমরা জানতে চাই, এর দায় কার, নাকি এটি অদক্ষতার ফল?” টানা কয়েক দিন ধরে সরকার ও বিরোধী দলগুলির মধ্যে এই সংঘাতের জেরে (Jharkhand) সংসদের অধিবেশন ব্যাহত হওয়ার পর সরকার ফের জানিয়েছে, তারা সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। অন্যদিকে, বিরোধীরা পুলিশের পদক্ষেপের নির্দেশদাতা এবং তার দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি জবাব দাবি করছে (NDA)।

     

  • RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ বছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রেরণায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠনের বার্ষিক অখিল ভারতীয় সমন্বয় বৈঠক (RSS) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম জেলার গুডিলোভায়। আগামী ১৯ থেকে ২১ অগাস্ট এই (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak) তিন দিন ধরে হবে এই বৈঠক। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, দিনগুলি যুগাব্দ ৫১২৮, বিক্রম সংবৎ ২০৮৩ এবং শ্রাবণ শুক্ল সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী।

    বৈঠকে অংশ নেবে কারা (RSS)

    এই বৈঠকে সংঘের প্রেরণায় পরিচালিত মোট ৩২টি সংগঠন অংশ নেবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির অখিল ভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংগঠন সম্পাদক এবং নির্বাচিত পদাধিকারীরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সংগঠনগুলি দেশের সামাজিক জীবনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনগুলি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি নিজেদের কাজের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত পেশ করা হবে। সব সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হবে। জনকল্যাণ এবং নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতামত বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৈঠকে আলোচ্যসূচি

    বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচনায় ঠাঁই পাবে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা, নেশামুক্তি, যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নয়নের ধারণা (RSS)। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ এবং অখিল ভারতীয় কার্যবিভাগের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak)। বৈঠকে ভারতীয় মজদুর সংঘ, ভারতীয় কিষান সংঘ, ভারতীয় জনতা পার্টি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, সক্ষম এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা অংশ নেবেন (RSS)।

     

  • India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Talks)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে হবে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই হল এই বৈঠক। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়াদিল্লিতে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত ব্রিকসের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে বলেই আশা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংগঠনে বর্তমানে ১১টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেকের বৈঠক (India Bangladesh Talks)

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখা যায় তারেককে একটি শাল উপহার দিতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে, রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমাতেও এই বৈঠকের ভূমিকা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আলোচনায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা

    তারেকের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনও বড় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই কূটনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়েই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেককে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। অর্থাৎ শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেকের পৃথক রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়েও ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে (Tarique Rahman)।তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেকের নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি

    বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। গত বুধবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (India Bangladesh Talks)। হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও, পিছিয়ে যাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে দিতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। তবে আমি আমার জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য দেশে ফিরে যাব।” হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই ওই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তারপরেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার ওই বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

    ভারতকে ‘মহান বন্ধু’ আখ্যা হাসিনার

    তবে একই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকটের সময় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন হাসিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা নয়। বরং বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য (India Bangladesh Talks)। হাসিনার এই বক্তব্যের পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক (Tarique Rahman) পর্যবেক্ষকেরা।

    সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা কি মিলছে?

    পরপর দু’দিনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ—এই দু’টি বিষয়ই এখন ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে (India Bangladesh Talks) করা হচ্ছে। আবার তিনি সম্মেলনে না গেলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ, ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার তরফে এখনও কোনও ঘোষণা করা আসেনি। আবার, ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে হাসিনা এবং তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে (Tarique Rahman) কূটনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে এগোয় এবং ব্রিকস সম্মেলনে তারেক যোগ দেন কি না, এখন সেটাই দেখার (India Bangladesh Talks)।

     

  • Parliament Address: সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি শাহ, বাধা দেওয়া চলবে না, দেওয়া হল শর্ত

    Parliament Address: সংসদে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনায় রাজি শাহ, বাধা দেওয়া চলবে না, দেওয়া হল শর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ২০ জুলাই দিল্লিতে “সংসদ চলো” মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও অন্যদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্য (Parliament Address) রাখতে রাজি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তবে তাঁর বক্তব্য এবং পরবর্তী আলোচনা চলাকালীন বিরোধীরা কোনওরকম বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না—সরকারের পক্ষ থেকে এমনই শর্ত দেওয়া হয়েছে।

    সরকারের তরফে শর্ত (Parliament Address)

    সোমবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “সরকারের দেওয়া প্রস্তাব একেবারেই স্পষ্ট। আমি জানিয়েছি, ছাত্র আন্দোলন এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত কার্যকলাপ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত।” সংসদের কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চলে, তার ওপর জোর দিয়ে রিজিজু বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি বক্তব্য দেওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “বিরোধীদের কাছে আমার একটাই কথা, তা অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেছি। আলোচনা এবং জবাব দেওয়ার সময় তাঁরা যেন কোনওধরনের বাধা সৃষ্টি না করেন, যাতে সংসদের কাজ ব্যাহত হয় বা মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য রাখতে না পারেন। আলোচনা শুরু হলে আমাদের বিষয়টি খুঁটিনাটি পর্যন্ত আলোচনা করতে হবে।”

    সংসদের কাজে বাধায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের শশীও!

    কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করার পরেই রিজিজুর এই মন্তব্য সামনে এল (Parliament Address)। ঘটনার তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে করার দাবি জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন যেসব ছাত্রছাত্রী তাঁদের বিরুদ্ধে ছররা বন্দুক, পেরেক বসানো লাঠি এবং কাঁদানে গ্যাসের গোলা ব্যবহার করা হয়েছে। মহিলা ছাত্রছাত্রীদের পুলিশকর্মীরা মারধর করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, কয়েকজন নাবালকের হাড়ও ভেঙে গিয়েছে (Amit Shah)। ঘটনার পর থেকেই সংসদের অধিবেশন চলাকালীন বিরোধীরা বারবার প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখিয়ে কার্যকর্ম ব্যাহত করছেন। রবিবার কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরও এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। তাঁর বক্তব্য, সংসদের কাজ চলতে দেওয়া উচিত। বিরোধী সাংসদদের সংসদের ভিতরে বিক্ষোভ না দেখিয়ে রাস্তায় প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি (Parliament Address)।

     

  • Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    Chhattisgarh: শিবলিঙ্গ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, ছত্তিশগড়ে খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ছত্তিশগড় (Chhattisgarh) খ্রিস্টান ফোরামের সভাপতি অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করল রায়পুর পুলিশ (Shivling Remarks)। ৭ অগস্ট রাতে বছর পঁচাত্তরের পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে হিন্দু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ পুলিশের। অভিযোগ, হংসরাজ গোয়েল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক পোস্টে ভগবান শিবকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন পান্নালাল। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির মুখপাত্র অমিত চিনমানি সিভিল লাইনস থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও মন্তব্যের পর্দার ছবি এবং তার ঠিকানাও পুলিশের কাছে জমা দেন তিনি। এর পর পান্নালাল এবং হংসরাজ গোয়েলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কাজ করা এবং শান্তিভঙ্গের প্ররোচনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমানের মতো অভিযোগে মামলা হয়েছে।

    বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পান্নালাল (Chhattisgarh)

    সিভিল লাইনস থানার পরিদর্শক যমন দেওয়াঙ্গন জানান, শুক্রবার রাতে পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন শনিবার, ৮ অগাস্ট তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। দেওয়াঙ্গন বলেন, “শুক্রবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে।” পুলিশ কর্তা তারকেশ্বর পটেল জানান, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের কাজে সাইবার শাখা-সহ পুলিশের একাধিক দলকে কাজে লাগানো হয় (Chhattisgarh)। পটেল বলেন, “ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা একটি পোস্ট নিয়ে সিভিল লাইনস থানায় অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়। এরপর তদন্ত শুরু হয়। সাইবার শাখা এবং পুলিশের অন্যান্য দলের সহায়তায় তল্লাশি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি চালানো হয়। এই মামলায় অভিযুক্ত অরুণ পান্নালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে (Shivling Remarks)।”

    পুলিশি পদক্ষেপকে সমর্থন মুখ্যমন্ত্রীর

    পান্নালালের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। তাঁর বক্তব্য, সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব এবং শিবলিঙ্গকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। সাই বলেন, “আমাদের সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধেয় ভগবান শিব ও শিবলিঙ্গকে নিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Chhattisgarh)।” এদিকে মামলা দায়েরের পর রায়পুরে পান্নালালের বাড়ির বাইরে বজরং দলের একদল কর্মী বিক্ষোভ দেখান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

     

  • PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের (Distorted India Map) প্রতিবাদ করায় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের দেদার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ক্রীড়া সাফল্য উদ্‌যাপনের সময়ও দেশের মানচিত্রের গুরুত্বের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য লভলিনার এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবিবার নিজের বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

    ভারতের বিকৃত মানচিত্র (PM Modi)

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতেছিলেন অসমের লভলিনা। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজা করে তাঁকে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসার বিষয়টি জানতে চান মোদি। তিনি বলেন, “কী হয়েছিল, রেস্তরাঁর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?” হেসে লভলিনা জানান, গেমসে সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করছিলেন। সেখানেই তিনি ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র দেখতে পান। তাঁর কথায়, “স্যার, সেটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমরা সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলাম। কিন্তু ভারতের বিকৃত মানচিত্রটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমি তাঁদের বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম এবং তাঁরা পরে সেটি সংশোধনও করেন।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    লভলিনার এই সচেতনতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলেন এবং গেমস শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ও আপনি ওই মানচিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আমি সত্যি বলছি, ওই ভিডিওটি সাধারণ কোনও ঘটনা ছিল না। বহুদিন ধরে মানুষ একে মনে রাখবে।” ঘটনাটি সামনে আসে গ্লাসগোর ওই রেস্তরাঁয় প্রদর্শিত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত থাকার পর। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করার সময় বিষয়টি লভলিনার নজরে পড়ে। তিনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান। পরে কর্তৃপক্ষ মানচিত্রটি সংশোধন করতে সম্মত হয় (PM Modi)। গ্লাসগোতেই লভলিনা প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানুর সঙ্গে ভারতের পতাকাবাহকদের অন্যতম ছিলেন।

    কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্রীড়াবিদরা গেমসের আগে ও গেমস চলাকালীন (Distorted India Map) তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি পদকজয়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই থেকে ২ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পদক তালিকায় ভারত ছিল চতুর্থ স্থানে (PM Modi)। এদিকে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ভারতের পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কৃতিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, “যাঁরা খেলবেন, তাঁরাই এগিয়ে যাবেন। সব সময় ভারতের জন্য গলা মেলান। ভারত মাতা কি জয়!” ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের পদকসমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি খেলা এবারের সূচিতে ছিল না।

    বক্সিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য ভারতের

    গ্লাসগো থেকে ভারতের বক্সিং দল ফিরেছে মোট ১০টি পদক নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে (Distorted India Map) ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। সোনাজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি)। রুপো জিতেছেন যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর বেরওয়াল (৯০ কেজির বেশি)। ভারতের বক্সিং দলের সোনাজয়ী সাক্ষী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসের সমস্ত পদকজয়ীকে আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা খুবই আনন্দিত।” এবারের সাতটি সোনা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্যও এনে দিয়েছে।

    জুডোতেও ভারতের নজির

    জুডোতেও নিজেদের সেরা কমনওয়েলথ গেমস সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। গ্লাসগোয় ভারত ১২টি জুডো ইভেন্টে অংশ নিয়ে মোট চারটি পদক জিতেছে—দুটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় তিনটি পদক পেলেও, সেবার একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। ভারতের জুডো সাফল্যের অন্যতম প্রধান মুখ খেলো ইন্ডিয়ার ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং। তাঁরা জুডোয় কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। অস্মিতা প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। আর হর্ষ সিং প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারত (PM Modi) পেয়েছে ১০টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারতের গুলভীর সিং কমনওয়েলথ গেমসের এক আসরে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন (Distorted India Map)।গ্লাসগোর এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এমন সাফল্য আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

     

  • ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    ABVP: উমর খালিদের বই নিয়ে আলোচনা সভা বাতিল জেএনইউতে, কী বলছে এবিভিপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের তরফে অভিযুক্ত উমর খালিদকে (Umar Khalid) নিয়ে একটি বই আলোচনা সভার আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আজ ১০ অগাস্ট বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তবে (ABVP) অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) জেএনইউ শাখার তীব্র আপত্তি ও ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।

    খালিদের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ (ABVP)

    খালিদ ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৬ সালে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়িয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে নানা সময় তাঁর করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। জেএনইউয়ের এবিভিপির অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে খালিদের বইকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর পক্ষে একটি ইতিবাচক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অনুষ্ঠানের পোস্টার প্রকাশ্যে আসার পরেই সংগঠনটি এ ব্যাপারে সরব হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুষ্ঠানটি অবিলম্বে বাতিল করার দাবিও জানানো হয়।

    এবিভিপির প্রতিবাদ

    এবিভিপির পক্ষ থেকে লাগাতার প্রতিবাদ ও চাপ তৈরির পর অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। একইসঙ্গে, গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমতি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিকদেরও নিন্দা করেছে তারা। এবিভিপি (ABVP) জেএনইউয়ের সভাপতি ময়ঙ্ক পাঞ্চাল বলেন, “গুরুতর দেশবিরোধী কার্যকলাপ ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত মামলায় অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করার মঞ্চ জেএনইউ চত্বর হতে পারে না। আমরা এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্পষ্টভাবে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি। কর্মসূচি বাতিল হওয়া এবিভিপির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার জয়।”

    দেশবিরোধী মানসিকতার প্রতিবাদ

    এবিভিপির জেএনইউয়ের সম্পাদক প্রবীণ পীযূষ বলেন, “দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার পক্ষে এবিভিপি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। দেশবিরোধী মানসিকতাকে স্বাভাবিক করে তোলার যে কোনও প্রচেষ্টার আমরা তীব্র বিরোধিতা করব। এবিভিপি জেএনইউ এই কর্মসূচির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে আওয়াজ তুলেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কর্মসূচিটি বাতিল হয়েছে।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি (Umar Khalid) করা হয়, আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে অনুমতি নেওয়া (ABVP) হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আদিবাসী দিবস’ পালনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

     

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

LinkedIn
Share