Tag: Bengali news

Bengali news

  • Bangladesh: বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার হিন্দু স্বর্ণব্যবসায়ীর দেহ, খুনের সন্দেহ পুলিশের

    Bangladesh: বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার হিন্দু স্বর্ণব্যবসায়ীর দেহ, খুনের সন্দেহ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহে জল থেকে ভাসমান প্লাস্টিকের ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হিন্দু স্বর্ণব্যবসায়ীর দেহ। মৃতের নাম নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। বেগুনবাড়ি এলাকায় একটি জল কপাটের কাছে ড্রামটি ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন (Hindu Found Dead) স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, নিরঞ্জনকে খুন করার পর তাঁর দেহ ড্রামে ভরে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও শনাক্ত করতে পারেননি তদন্তকারীরা।

    জল কপাটের কাছে ভাসছিল ড্রাম (Bangladesh)

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহের বেগুনবাড়ি এলাকায় জল কপাটের কাছে একটি প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পৌঁছয় পুলিশ। ড্রামের ভিতরে মেলে এক ব্যক্তির দেহ। পরে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর। তিনি ময়মনসিংহের আঠারবাড়ি বিল্ডিং এলাকায় যৌথভাবে একটি সোনার দোকান চালাতেন। স্ত্রী সুমিতা রানী সূত্রধর এবং ছেলে জয় সূত্রধরকে নিয়ে শহরের স্টেডিয়াম এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন তিনি।

    পকেটে পাওয়া টোকেন থেকে পরিচয় উদ্ধার

    মৃতের পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন উদ্ধার করে পুলিশ। সেই সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তদন্তকারীরা।

    কোতোয়ালি মডেল থানার আধিকারিক রুহুল আমিন জানান, টোকেনটি পরীক্ষা করে সমবায় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের পরিচয় জানা যায়। পরে নিরঞ্জনের স্ত্রী এবং ছেলে দেহ শনাক্ত করেন।

    ২০ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নিরঞ্জন

    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান নিরঞ্জন। ২১ সেপ্টেম্বর স্টেডিয়াম এলাকায় তাঁকে শেষবার দেখেছিলেন তাঁর এক ভাইপো।

    এর আগেও নিরঞ্জন তিন থেকে চার দিন বাড়ির বাইরে কাটিয়ে ফিরে এসেছিলেন। সেই কারণে এবারও তিনি ফিরে আসবেন বলে মনে করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ হওয়ার পরপরই থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি তাঁরা। শেষমেশ উদ্ধার হল দেহ।

    মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

    কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, নিরঞ্জনের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। দেহের আঘাতের চিহ্ন এবং যেভাবে সেটি ড্রামে ভরে জলে ফেলা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে খুনের সন্দেহ করছেন (Bangladesh) তদন্তকারীরা।

    ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দুষ্কৃতীদের পরিচয় জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    নিরঞ্জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতেই বাংলাদেশে হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হয়।

    সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এদিকে, বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে (Hindu Found Dead)।

    তবে নিরঞ্জনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশি তদন্তেও এখনও পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়নি (Bangladesh)।

     

  • Nepal: নেপালে হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে তুষারধস, নিখোঁজ অন্তত ১০

    Nepal: নেপালে হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে তুষারধস, নিখোঁজ অন্তত ১০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের (Nepal) পশ্চিমাঞ্চলে তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমলুং হিমালের বেস ক্যাম্পে ভয়াবহ তুষারধসে (Himlung Himal Avalanche) নিখোঁজ অন্তত ১০ জন। রবিবার সকালের ঘটনা। নিখোঁজদের মধ্যে পর্বতারোহণ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও রয়েছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিযানের আয়োজক মিংমা গ্যালজে শেরপা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে তাঁর অভিযানের রান্নার কাজে নিযুক্ত দুই কর্মীও রয়েছেন। তিনি বলেন, “রবিবার সকালে তুষারধস নামে।”

    সতর্কবার্তায় পাহাড় ছেড়েছিলেন পর্বতারোহীরা (Nepal)

    গত সপ্তাহে আবহাওয়ার সতর্কবার্তা জারির পরেই পর্বতারোহণ অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্য এবং দড়ি টাঙানোর দায়িত্বে থাকা দলগুলি পাহাড়ের ঢাল থেকে নিরাপদ জায়গায় সরে যায়। তবে আবহাওয়ার ক্রমাগত অবনতি সত্ত্বেও কয়েকজন বেস ক্যাম্পে থেকে গিয়েছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে ওই অঞ্চলে ভারী তুষারপাত হচ্ছে। এর জেরে শরৎকালীন পর্বতারোহণ অভিযান মাঝপথে বন্ধ রেখে বহু পর্বতারোহীকে ফিরে আসতে হয়েছে। রবিবারের তুষারধসে নিখোঁজ ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্বতারোহণ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। নেপালের মানাং জেলায় অবস্থিত হিমলুং হিমালের উচ্চতা ৭ হাজার ১২৬ মিটার। উচ্চ শৃঙ্গ অভিযানের জন্য পর্বতটি বিশেষভাবে পরিচিত। দুর্গম এই অঞ্চলে হেলিকপ্টার নিয়ে পৌঁছতে অতিরিক্ত অনুমতির প্রয়োজন হয়। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    তুষারপাত-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত নেপাল

    বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে ভারী তুষারপাত এবং পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় একটানা বৃষ্টি চলছে। এর জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

    শুক্রবার থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের একাধিক অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার কারণে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে (Nepal) প্রশাসন।

    গত মাসে রাসুয়ায় ভয়াবহ বন্যার পর নতুন করে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেপালের পর্যটন ক্ষেত্রের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ওই বন্যায় ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী একাধিক জনবসতি ভেসে গিয়েছিল।

    এদিকে, অবিরাম বৃষ্টি ও তুষারপাতের (Himlung Himal Avalanche) জেরে নেপালের একাধিক জনপ্রিয় পর্বতারোহণ ও পদযাত্রার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মানাসলু ও ধৌলগিরিতে বেশ কয়েকটি বড় পর্বতারোহণ অভিযান বাতিল অথবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে (Nepal)।

     

  • Pakistan: ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ নিরাপত্তাকর্মীতে ছয়লাপ

    Pakistan: ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক, অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ নিরাপত্তাকর্মীতে ছয়লাপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ)। আন্দোলনকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ রুখতে ইসলামাবাদজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন (Imran Khan)। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মী। জনসমাবেশের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইসলামাবাদে প্রবেশের বিভিন্ন সড়কে এক হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী কনটেইনার বসানো হয়েছে। এগুলির অনেকগুলিতে লাগানো হয়েছে ধারালো কাঁটা। সেতুগুলিতে রাখা হয়েছে বালি ভর্তি বস্তা। রাজধানীতে প্রবেশের একটি প্রধান সড়কও বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

    ইসলামাবাদ অভিমুখী অভিযান স্থগিত পিটিআইয়ের (Pakistan)

    ইমরানের মুক্তির দাবিতে প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে অভিযানের কথা ঘোষণা করেছিল পিটিআই। তবে শুক্রবার দলের তরফে জানানো হয়, অভিযান শুরুর তারিখ পিছিয়ে ৪ অক্টোবর করা হয়েছে। দলটির দাবি, এটি সরকারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে আচরণ এবং জেলে তাঁর বন্দিদশার পরিবেশ নিয়ে সরকার উল্লেখযোগ্য ছাড় না দিলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না পিটিআই।

    সরকারের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার সমালোচনা করে আফ্রিদি বলেন, “সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই তারা ইসলামাবাদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং আমাদের মন্ত্রীদের অপহরণ করছে। কিন্তু ইমরান খান দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তাঁর জন্য মানুষ রাস্তায় নামবে।” বিপুলসংখ্যক সমর্থক নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।আফ্রিদি বলেন, “আমি জানি, আমাদের থামাতে তারা বর্বর শক্তিপ্রয়োগের যে কোনও পর্যায়ে যেতে পারে। এ নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ থাকলে তারা আমাদের ওপর গুলি চালাতে পারবে না। আমাদের পরিকল্পনা হল, এত বেশি মানুষ নিয়ে আসা, যাতে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।”

    ইসলামাবাদ-খাইবার পাখতুনখাওয়ায় কঠোর নিরাপত্তা

    পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়াতেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পাকিস্তান সরকার। পেশোয়ার থেকে ইসলামাবাদে যাওয়ার প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রদেশটিতে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী (Pakistan)। খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সরকারনিযুক্ত গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, পিটিআই দেশে অস্থিতিশীলতা ও হিংসা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কুন্দি বলেন, “কোনও সহিংস গোষ্ঠীকে ইসলামাবাদ অভিমুখে অভিযান চালানোর অনুমতি রাষ্ট্র দিতে পারে না।” এদিকে কঠোর বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে ইসলামাবাদের স্বাভাবিক জনজীবনেও। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশের পথ বন্ধ থাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পণ্য সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    ইমরানের তিন বোন আটক, গ্রেফতারি পরওয়ানা

    ইসলামাবাদ অভিমুখী কর্মসূচি ঘিরে পিটিআইয়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধরপাকড়ও জোরদার করা হয়েছে। দলের একাধিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা।

    এর মধ্যেই লাহোরে আটক করা হয়েছে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নওরিন নিয়াজিকে। পাঞ্জাবের জনশৃঙ্খলা রক্ষা আইনের আওতায় তাঁদের ৩০ দিন আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির কয়েক দিন আগেই তাঁদের আটক করা হয়।

    সরকারের দাবি, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এসব পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে, এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে পিটিআই। ইমরানের বোনদের আটকের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লাহোর হাইকোর্টেও আবেদন করা হয়েছে (Imran Khan)। ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর মুক্তির দাবিতে (Pakistan) আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে পিটিআই।

     

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দিরের জমি দখল, ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তরণের অভিযোগ, মন্দিরের সম্পত্তি দখল এবং ধর্মীয় উৎসব ঘিরে উত্তেজনার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার বিবরণে কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও তামিলনাড়ুর পাশাপাশি বাংলাদেশের সিলেট ও গোপালগঞ্জের ঘটনাও উঠে এসেছে (Hindus Under Attack)। তবে এসব ঘটনার মধ্যে বেশ কয়েকটি এখনও অভিযোগ এবং তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।

    ভারতে গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে উত্তেজনা, মহিলাদের ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ এবং মন্দিরের জমি জাল নথির মাধ্যমে দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ উঠেছে (Roundup week)।

    গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রার পথ নিয়ে অশান্তি (Hindus Under Attack)

    কর্নাটকের বিজয়নগর জেলার হুভিনাহাদাগালির ইসলাম পেঠ এলাকায় গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। কোরাভারা ওনি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত গণেশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় শোভাযাত্রার পথ নিয়ে স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানান।

    বিক্ষোভকারীরা আগের বছরের নির্ধারিত পথ অনুসরণের দাবি জানান। এদিকে, শোভাযাত্রার আয়োজকেরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত পথ ব্যবহারের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বিধায়কের হস্তক্ষেপে বিকল্প পথ নিয়ে সমঝোতা হয়, এগোয় শোভাযাত্রা।

    উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলায় রাজনৈতিক বিতর্ক

    বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে উমর খালিদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনের বিরোধিতা করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ। এই বিরোধিতার সমালোচনা করে কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিকে হরিপ্রসাদ উমর খালিদকে জাতীয়তাবাদী বলে অভিহিত করেন।

    হরিপ্রসাদ অভিযোগ করেন, নাথুরাম গডসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সংগঠনের উমর খালিদের সমালোচনা করার নৈতিক অধিকার নেই। এদিকে, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

    শ্রীরঙ্গম মন্দিরের  জমি দখলের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুতে শ্রীরঙ্গম মন্দিরের জমি জাল নথি ব্যবহার করে দখলের অভিযোগে ডিএমকের পদাধিকারী রামকুমারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ১৯৩০ সালে জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে জমিটি শ্রীরঙ্গম মন্দিরকে দান করা হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমির আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। অভিযোগ, রামকুমার ২০২২ সালে জাল নথির মাধ্যমে সম্পত্তিটি অবৈধভাবে নিজের নামে নথিভুক্ত করেন এবং পরে জমিটি দখল করেন।

    তরুণীর ধর্মান্তরণ ঘিরে বিতর্ক

    উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর জেলার এক তরুণীকে ঘিরে ধর্মান্তরণের অভিযোগ সামনে এসেছে। আজমগড় থেকে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি দৃশ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

    ভাইরাল হাওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, এক তরুণীকে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে এবং নমাজ পড়ার জায়গা খুঁজতে।

    ঘটনাটি ঘিরে ধর্মান্তরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলেও, তরুণীর ধর্মান্তরণ হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি (Hindus Under Attack)।

    ধর্মান্তরণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায় বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত ছয় মহিলা সইফ পাঠান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর।

    অভিযোগ, বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্ত তাঁদের অনুসরণ করতেন, হেনস্তা করতেন এবং ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। পাশাপাশি তাঁদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন ওই মহিলারা।

    বিষয়টি নিয়ে আমাহিয়া থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

    বন্দে মাতরম বাজানো বন্ধের নির্দেশ ঘিরে উত্তেজনা

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার উপ্পিনাঙ্গাডিতে গণেশ বিসর্জনের শোভাযাত্রা চলাকালীন বন্দে মাতরম বাজানো নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় (Roundup week)।

    সার্বজনিক শ্রী গণেশোৎসব সমিতি সেবা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত বিসর্জনের সময় এক পুলিশ কর্তা বন্দে মাতরম বাজানোয় হস্তক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ। তিনি গানটি প্রথম দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

    নাবালিকাকে অশ্লীল দৃশ্য দেখানোর অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের পুরনো হুবলিতে এক নাবালিকাকে মোবাইলে অশ্লীল দৃশ্য দেখানো এবং তার সঙ্গে অনুপযুক্ত আচরণের চেষ্টার অভিযোগে বছর আটত্রিশের মাজিদ নাদাফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, শিশুটি বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের পুরো ঘটনাটি জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা পুরনো হুবলি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় (Hindus Under Attack)।

    উত্তরাখণ্ডে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের অভিযোগে যুবক আটক

    উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের লাকসার এলাকায় ছত্তিশগড়ের এক হিন্দু মহিলাকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার অভিযোগে আশিফ নামে এক মুসলিম যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    অভিযোগ, ওই যুবক মহিলাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে প্ররোচিত করেন এবং পরে তাঁকে বিয়ে করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে ধর্মান্তরণ ও বিয়ের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনার অভিযোগে সাব্বির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাপুজিনগরের বাসিন্দা।

    অভিযোগ অনুযায়ী, দেশে বড় ধরনের হিংসাত্মক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন অভিযুক্ত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিশানা করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে

    (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশের ছবি

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সিলেটে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর এবং গোপালগঞ্জে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ সামনে এসেছে।

    দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর

    সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম বাজার নবীনগর সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, সাইদুজ্জামান শিমুল নামে বছর ঊনত্রিশের এক যুবক বঁটি নিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করেন এবং প্রতিমার বিভিন্ন অংশে আঘাত করে।

    পূজা কমিটির সদস্যরা পুলিশে খবর দিলে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত (Hindus Under Attack)।

    হিন্দু পরিবারের কারখানা দখলের অভিযোগ

    বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার বড় ভাটরা গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের কারখানা জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযোগকারী নীলকণ্ঠ মণ্ডলের দাবি, ২০০৩ সালে তাঁর পরিবার এস শেখের কাছ থেকে সাড়ে ৩৪ শতাংশ জমি কিনেছিল। প্রথমে জমিটি তাঁর মায়ের নামে নথিভুক্ত করা হয়। মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির মালিকানা তাঁর তিন ছেলের কাছে যায়।

    নীলকণ্ঠের দাবি, জমি তাঁদের নামেই করা হয়েছিল। নিয়মিত ট্যাক্সও দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও হাসিনা বেগম নামে এক মহিলা সশস্ত্র লোকজন নিয়ে কারখানা দখল করেন বলে অভিযোগ।

    পরিবারের দাবি, নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাঁরা এখন নিজেদের কারখানাতেও যেতে পারছেন না। তবে জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত ও বাংলাদেশের এসব ঘটনা ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সম্পত্তির অধিকার এবং ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের বিষয়গুলি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর সংখ্যা হ্রাস এবং সংখ্যালঘুদের জমি দখলের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকত। তাঁর গবেষণায় বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি একটি গবেষণাভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নয়।

    এদিকে (Hindus Under Attack), ভারতে ধর্মীয় উৎসবের উপর বিধিনিষেধ, ধর্মান্তরণসংক্রান্ত অভিযোগ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রশ্নও উঠে এসেছে (Roundup week)।

     

  • Adani Group: রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে, খরচ হতে পারে ১০০ কোটি টাকারও বেশি

    Adani Group: রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে, খরচ হতে পারে ১০০ কোটি টাকারও বেশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৩ বছরেও শেষ হয়নি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের কাজ। এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এবার ঔপনিবেশিক আমলের এই ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) হাতে তুলে দিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে রাজ্য। সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের কাজ করা হবে। প্রকল্পটি শেষ করতে ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হতে পারে বলে খবর (Writers Building Restoration)।

    রাজ্য সরকারের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার সম্পূর্ণ করতে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় এই কাজ করবে। সংস্কার শেষ করতে তাদের ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হতে পারে।

    আদানি গোষ্ঠীর বক্তব্য (Adani Group)

    আদানি গোষ্ঠী জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে তারা। একটি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের জন্য। অন্যটি ‘আদানি পুজো প্রিভিউে’র মাধ্যমে কলকাতার দুর্গাপুজোর শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য।

    রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন কোনও ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারের দায়িত্ব এই প্রথম কোনও বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হল। প্রশাসনের একটি সূত্রের কথায়, “এত দিন সমস্ত ঐতিহ্যবাহী ভবনের সংস্কার করত পূর্ত দফতর অথবা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ। এই প্রথম কোনও ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারের দায়িত্ব পাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা।”

    বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে, এমন একটি রাজ্যের পক্ষে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তাদের মতে, রাজ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি বড় বেসরকারি সংস্থাগুলির আগ্রহ বাড়ছে।

    তবে রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের একটি সূত্রের বক্তব্য, “রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ কার্যত থমকে গিয়েছিল। প্রায় ১৩ বছরে রাজ্য সরকার মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছে। রাইটার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সংস্কারে এত বিলম্ব হলে তা ভাল বার্তা দেয় না।”

    পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    ২০১৩ সালের মাঝামাঝি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিবপুরের ভারতীয় প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরে নির্মিত আটটি অংশ ভেঙে ফেলার কথা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, রাইটার্স বিল্ডিংকে ব্রিটিশ আমলের পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনা (Adani Group)।

    মূল ভবনের পাশাপাশি এক, দুই, তিন, চার ও পাঁচ নম্বর অংশ অক্ষত রেখে সেগুলির সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পরে অতিরিক্ত সরকারি দফতরের জায়গা তৈরি করতে নির্মিত তৃতীয় তলগুলি সরিয়ে ভবনগুলিকে স্বাধীনতার আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। পাশাপাশি এ, বি, সি, ডি, ই, এফ এবং জি অংশ ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।

    এক সরকারি আধিকারিকের কথায়, “স্বাধীনতার পরে অতিরিক্ত নির্মাণের ফলে ভবনগুলির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। সেই কারণেই অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ সরিয়ে ভবনের উপর চাপ কমানো জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় সংস্কারের কাজ কখনও ঠিক মতো গতি পায়নি।”

    গত ১৩ বছরে রাজ্য সরকার কেবল এ, বি, ই এবং এফ অংশ ভেঙেছে। পাশাপাশি এক ও দুই নম্বর অংশের উপরের তলগুলিও সরানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এক নম্বর অংশ এবং মূল ভবনের একটি অংশের সংস্কার সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সব মিলিয়ে মোট কাজের মাত্র ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে (Adani Group)।

    একসময় রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই পরিচালিত হত রাজ্য প্রশাসনের যাবতীয় কাজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে ২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স থেকে নবান্নে স্থানান্তরিত হয়। তার পর থেকেই ঐতিহাসিক ভবনটির সংস্কারের কাজ চলছে।

    কাজ করবে আদানি গোষ্ঠী

    প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আমলা জানিয়েছেন, সংস্কারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীকে মূল পরিকল্পনা মেনেই কাজ করতে হবে। প্রায় এক বছরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই আদানি গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধিদল রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শন করেছে। ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কলকাতায় সংস্থার উপদেষ্টা তথা পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক সঞ্জয় থাড়ে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরাও।

    পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সংস্কারের বাকি কাজ কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে (Adani Group)।”

    প্রাথমিকভাবে রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যেই কাজের একটি অংশ শেষ হয়েছে। ফলে বাকি সংস্কারের জন্য আদানি গোষ্ঠীকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে বলে প্রশাসনের একাংশের অনুমান (Writers Building Restoration)।

     

  • Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানিকতলার কেশব ভবন থেকে নিউ টাউনের নবনির্মিত কেশব স্মৃতি ভবনে আরএসএসের কার্যালয় স্থানান্তরকে বাংলায় হিন্দু সমাজ ও চেতনার জাগরণের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করলেন সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল (Hosabale)। শনিবার নতুন কার্যালয়ের (Keshav Smriti Bhavan) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ভবন নির্মাণকে কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর জাগরণের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন কার্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হোসেবল বলেন, “কার্যালয় বসবাসের জায়গা নয়। সংঘের প্রচারকরা কার্যকর্তাদের বাড়িতে থাকবেন।” তাঁর বক্তব্য, কোনও ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে না। সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনযাপন, আচরণ, নিষ্ঠা ও আদর্শই সেই ভবনকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্রে পরিণত করে। সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য তুলে ধরতে তামিলনাড়ুর একটি ঘটনার উল্লেখ করেন হোসেবল। তিনি জানান, বোমা হামলায় তামিলনাড়ুতে সংঘের একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজ্য সরকার সেটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্বয়ংসেবকরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা আগের চেয়ে বড় একটি ভবন নির্মাণ করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় সাংগঠনিক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

    কেশব রাও দীক্ষিতের স্মৃতিতে নতুন ভবন (Keshav Smriti Bhavan)

    মানিকতলার পুরনো কেশব ভবনটি নির্মিত হয়েছিল আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিতে। নিউ টাউনের নতুন ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রবীণ সংঘ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিতের স্মরণে। সাংগঠনিক কাজের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন এবং এই রাজ্যেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

    অনুষ্ঠানে কেশব রাও দীক্ষিত এবং পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা প্রয়াত সংঘ প্রচারক শ্যামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করেন হোসবালে। তিনি বলেন, তাঁদের জীবন এবং কাজ আজও সংঘের স্বয়ংসেবকদের অনুপ্রাণিত করে। কোনও পদ বা দায়িত্বের কারণে নয়, বরং সংগঠন ও সমাজের প্রতি আজীবন নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেই তাঁরা মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

    সংঘের সাংগঠনিক সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন সরকার্যবাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে সংঘের শাখা, স্বয়ংসেবক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সামাজিক উদ্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। সাংগঠনিক কাজের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। তবে কার্যালয় নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    প্রত্যাশা নয়, লক্ষ্য সমাজসেবা

    হোসেবল বলেন, সংঘের কোনও প্রচারক পদ, স্বীকৃতি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাংগঠনিক কাজে যোগ দেন না। তাঁর কথায়, “একজন স্বয়ংসেবক বা প্রচারক কখনও ভাবেন না, তিনি কোন দায়িত্ব বা পদ পাবেন। তিনি এই ভাবনা নিয়েই কাজ করেন যে, তিনি কয়েক দিন থাকুন বা না থাকুন, দেশের উন্নতি হওয়া উচিত।”

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারকদের পাঠানোর ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রচারকরা নিজেদের কর্মস্থলকেই কর্মভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই তাঁরা সমাজের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।

    সংঘের কার্যালয়গুলি সম্পর্কে হোসবালে বলেন, সেগুলিকে কেবল প্রচারকদের আবাসস্থল হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কার্যালয় শুধু প্রচারকদের বসবাসের জন্য নয়। এটি (Keshav Smriti Bhavan) কাজের জায়গা।”

    তিনি জানান, সেখানে কর্মরত স্বয়ংসেবকদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও সাধনার মাধ্যমেই একটি কার্যালয় অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘের কার্যালয়গুলির ইতিহাস সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং স্বয়ংসেবকদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, “কোনও কার্যালয় বা ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণা দেয় না। সেখানে যাঁরা থাকেন, কাজ করেন এবং আসেন, সেই স্বয়ংসেবক ও কার্যকর্তারাই ভবনটিকে শক্তি ও প্রাণশক্তি জোগান।”

    সংঘের কাজের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা

    আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা ও নিষ্ঠা বলে মন্তব্য করেন হোসবালে। তিনি জানান, সংগঠনের স্বয়ংসেবকরা কোনও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেন।

    “তন সমর্পিত, মন সমর্পিত অউর ইয়ে জীবন সমর্পিত”—অর্থাৎ মাতৃভূমির জন্য শরীর, মন ও জীবন উৎসর্গ করার আদর্শই সংঘের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকরা গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

    হোসেবলের বক্তব্য, স্বয়ংসেবকদের অবদান কেবল কার্যালয় নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের নিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজসেবা, সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে।

    গত এক শতাব্দীতে সংঘের দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বীকার করেন, এখনও বহু সমস্যা ও প্রতিকূলতা রয়েছে। তাঁর কথায়, “সব প্রশ্নের সমাধান হয়নি এবং সব সমস্যাও দূর হয়ে যায়নি। এখনও নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকট রয়েছে (Keshav Smriti Bhavan)।”

    তবে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করলে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোসেবলের কথায়, “সংকল্প যত বড় হয়, সমস্যা তত ছোট হয়ে যায় (Hosabale)।”

    বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, কেশব স্মৃতি ভবনকে এমন একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে, যা স্বয়ংসেবক ও সমাজকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করবে। ডাঃ হেডগেওয়ার এবং কয়েক প্রজন্মের নিবেদিতপ্রাণ স্বয়ংসেবকদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী শতাব্দীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংঘের কাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার উপর গুরুত্ব দেন।

    রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান অনুষ্ঠানে হোসেবল

    এদিন কলকাতার আলিপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে রাম-শরদ কোঠারি স্মৃতি সংঘ আয়োজিত ‘রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান ২০২৬’ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন দত্তাত্রেয় হোসেবলে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কলকাতার বাসিন্দা দুই ভাই রামকুমার ও শরদকুমার কোঠারি ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় রামমন্দির আন্দোলনের সময় নিহত হন। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাজের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

    এবারের অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ার বিদ্যাসাগর শিশু শিক্ষা নিকেতনের (Hosabale) প্রধান শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র হেমব্রম, ওড়িশার পরিবেশকর্মী রমেশচন্দ্র মিশ্র এবং ঝাড়খণ্ডের ধ্যান ফাউন্ডেশনকে সমাজে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় (Keshav Smriti Bhavan)।

     

  • EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    EC: এসআইআর নিয়ে সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, মতবিরোধের জল্পনা ওড়াল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের জল্পনা খারিজ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (EC)। দেশজুড়ে এসআইআর কার্যকর করা-সহ এ সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার এসএস সান্ধু ও বিবেক জোশীর বৈঠকের পর এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয় (SIR)। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। এসআইআর চলাকালীন ভোটারদের নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁদের শুনানির প্রক্রিয়া সহজ করার কথাও ঘোষণা করেছে কমিশন।

    সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত, দাবি কমিশনের (EC)

    কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার দিয়ে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর পরিচালনার নির্দেশ সর্বসম্মতিক্রমে জারি করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, ২০২৬ সালের ২৭ মে সুপ্রিম কোর্টও ওই নির্দেশ বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআরের সময়সূচি ঘোষণার সিদ্ধান্তও সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের জন্য ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত ঘোষণাপত্রও সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন পেয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার বাইরে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে।

    কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের নীতি সংক্রান্ত ছিল না। সেটি নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে কর্মরত এক আধিকারিকের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    কমিশন আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের জারি করা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের নির্দেশ দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পর বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকির দায়িত্বও কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।

    গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৮১ জনের আবেদন

    এসআইআর প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)।

    কমিশনের দাবি, গোয়ায় সংশ্লিষ্ট ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৮১ জন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন (EC)।

    আপত্তি জমার সময়সীমা বৃদ্ধি

    দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের আবেদনের ভিত্তিতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবি ও আপত্তি জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের অনুরোধ বিবেচনা করেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    বাড়িতেই যাবেন বিএলও

    এসআইআর চলাকালীন যেসব ভোটারের তথ্যের সঙ্গে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার তথ্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা নথিতে যৌক্তিক অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

    এই ধরনের ভোটারদের নোটিশ পাঠানো হলেও সাধারণত তাঁদের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (AERO) দফতরে শুনানির জন্য হাজির হতে হবে না।

    পরিবর্তে বুথ লেভেল অফিসাররা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং সেগুলি ইসিআইনেট পোর্টালে আপলোড করবেন। ওই নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট ইআরও।

    কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইআরও প্রয়োজন মনে করলে শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। সেক্ষেত্রেও অনলাইন শুনানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ভোটার তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে নিজের হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে পারবেন। অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।

    পাশাপাশি, রাত্রিকালীন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষ, শ্রমিক, দরিদ্র ও গৃহহীনদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হেল্প ডেস্ক এবং বিশেষ শিবির আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নির্বাচনী (EC) আধিকারিকদের।

    ২০টি অঞ্চলে এসআইআর সম্পূর্ণ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন বা পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নিয়মিত তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানাতে পারবেন।

    একই সুযোগ পাবেন নতুন এবং প্রথমবারের ভোটাররাও। সংশ্লিষ্ট ইআরও-র কাছে আবেদন জানাতে হবে তাঁদের। বাদ পড়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য অবিলম্বে বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (SIR)।

    পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটি

    নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইসিআইনেটের কার্যকারিতা ও আইনি বিধি মেনে পরিচালনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি আইআইটি বা আইআইআইটি থেকে একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকেও কমিটিতে রাখা হবে।

    কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী আধিকারিকরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যবহার করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের পরামর্শের ভিত্তিতে পোর্টালে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তন করা হবে।

    ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কোনও নতুন মডিউল বা পোর্টাল চালু করার আগে আধিকারিকদের কমিটিতে আলোচনা হবে। তার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে (EC)।

    কমিশনের বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজেও নতুন নির্দেশ

    নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি বৈঠকের আলোচ্যসূচি আগাম সদস্যদের কাছে পাঠানো হবে। বৈঠকের কার্যবিবরণীও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিলি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    পাশাপাশি, কমিশনের সমস্ত আধিকারিকের বার্ষিক কর্মমূল্যায়ন রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করতে হবে আধিকারিকদের।

    এর আগে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর কমিশন জানিয়েছিল, এটি একটি বহুসদস্যবিশিষ্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (SIR)। লিখিত পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিশনের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে শনিবারের বৈঠকের পর এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়ার কথা পুনরায় জানাল কমিশন (EC)।

     

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘সেনাবাহিনীর পুতুল’ বলে কটাক্ষ ভারতের, সন্ত্রাস চালালে পরিণতি ভোগের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিল ভারত। কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার নিয়ে ইসলামাবাদের অবস্থানের (India Slams Pakistan) তীব্র সমালোচনা করল নয়াদিল্লি। পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থাকে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে পাকিস্তানকে।

    শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের (UN) সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে ভারত। রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গহলৌত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সেনাবাহিনীর প্রভাব, সন্ত্রাসবাদ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি।

    পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব নিয়ে সরব ভারত (India Slams Pakistan)

    গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে পাকিস্তানের বক্তব্যকে দ্বিচারিতা বলে অভিহিত করেন গহলৌত। তাঁর অভিযোগ, যে দেশের রাজধানীকে নিজেদের নাগরিকদের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হয়, সেই দেশের সরকারের মুখে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা মানায় না।

    পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রভাব বোঝাতে সে দেশের ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর প্রসঙ্গও তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানে নির্বাচিত সরকার বদলালেও প্রকৃত ক্ষমতা সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে।

    ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে গৃহীত ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। তাঁকে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেসের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আজীবন আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীর ফলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতাও সীমিত হয়েছে।

    এই সংশোধনীর উল্লেখ করে গহলৌত দাবি করেন, পাকিস্তানে প্রকৃত ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।

    সংঘর্ষ থামাতে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা শরিফের

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শরিফের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়োচিত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করেছে।

    প্রায় ২৩ মিনিটের ভাষণে কাশ্মীর সমস্যার কথাও তোলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়াকে ভবিষ্যতে ২০২৫ সালের মতো সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতে কাশ্মীর সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন (India Slams Pakistan)।

    শরিফের এই বক্তব্যেরও বিরোধিতা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট করে গহলৌত জানান, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সমালোচনার জবাবে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন ভারতীয় প্রতিনিধি। রাওয়ালাকোটে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগের দিকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিতর্কিত ১২টি শরণার্থী আসনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেখানকার আইনসভার সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপি এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে ভারত। রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন গহলৌত। তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে ভারত পিছপা হবে না।

    এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখ করা হয়। ওই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামোকে নিশানা করেছিল ভারত। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ওই সামরিক অভিযান চালানো হয়।

    গহলৌত সতর্ক করে জানান, পাকিস্তানের তরফে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের উপরও পড়বে। পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বোঝাপড়াও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

    ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ তুলে আক্রমণ

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রসঙ্গ তোলেন ভারতীয় কূটনীতিক। ওই হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালনের মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।

    গহলৌত মনে করিয়ে দেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের সামরিক অ্যাকাডেমির কাছেই দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি।

    ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে শরিফের মন্তব্যেরও জবাব দেয় ভারত। গহলৌতের অভিযোগ, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এবং ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগের ইতিহাস বিবেচনা করলে সে দেশের সরকারের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা নিয়ে বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (UN) মিথ্যা তথ্য প্রচার ও দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, একই অভিযোগ বছরের পর বছর পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। সন্ত্রাসবাদ এবং প্রতারণার নীতি পাকিস্তান কিংবা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, কারও স্বার্থই রক্ষা করবে না।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দুই দেশের এই জবাব-পাল্টা জবাবের মধ্যে দিয়ে আরও একবার সামনে এল কাশ্মীর, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের অবস্থানগত বিরোধ (India Slams Pakistan)।

     

  • Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। ফের ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল শ্রীনগরের হাব্বা কদল এলাকার ঐতিহাসিক (Kashmir) শীতলনাথ মন্দির। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ হয়ে পড়েছিল প্রাচীন এই মন্দির। সংস্কারের পর মন্দিরটি ফের চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুজো দিতে আসেন বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত। তাঁদের স্বাগত জানান স্থানীয় কাশ্মীরি মুসলিমরাও। মন্দির পুনরায় (Sheetalnath Mandir) চালু হওয়ার দিন ঘণ্টাধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত এই ধর্মস্থানে ফিরে আসেন বহু কাশ্মীরি হিন্দু। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিমদের উপস্থিতি কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

    অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের পুনর্নির্মাণ (Kashmir)

    ১৯৯০ সালে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিপুলসংখ্যক কাশ্মীরি পণ্ডিতের চলে যাওয়ার পর শীতলনাথ মন্দিরে নিয়মিত পুজো বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অযত্নে পড়ে থাকা মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপত্যকায় অশান্তির সময় অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও মন্দির চত্বরের ক্ষতি হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের সংস্কৃতি দফতরের সহযোগিতায় মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব নেয় শ্রীনগর স্মার্ট সিটি লিমিটেড (SSCL)। সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং যজ্ঞশালার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাঠামোগত পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মন্দিরটি আবার ভক্তদের প্রবেশ ও পুজোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২১ সালের বসন্ত পঞ্চমীতে মন্দিরে পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় মন্দিরের কাঠামো অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় নিয়মিত দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

    কাশ্মীরি শৈবধর্মের প্রাচীন উপাসনাস্থল

    কাশ্মীরের ধর্মীয় ইতিহাসে শীতলনাথ মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কাশ্মীরি শৈবধর্মের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দিরকে প্রাচীন অষ্টভৈরবের অন্যতম বলে মনে করা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীনগরের রক্ষাকর্তা আট দেবতার মধ্যে শীতলনাথ অন্যতম (Kashmir)। স্থানীয় লোককথায় ঋষি কশ্যপ এবং সতীসর সংক্রান্ত পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গেও এই মন্দিরের সম্পর্ক রয়েছে।

    একই চত্বরে পড়াশোনা করত হিন্দু ও মুসলিম শিশুরা

    ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি শ্রীনগরের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেও শীতলনাথ মন্দিরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০ সালের আগে মন্দির চত্বরে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। সেখানে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের শিশুরা একসঙ্গে পড়াশোনা করত। বিংশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল এই মন্দির চত্বর। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো জাতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য

    উপত্যকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির কাছে শীতলনাথ মন্দিরের পুনরায় চালু হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর তাঁদের পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, শীতলনাথ মন্দিরের সংস্কার জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলি সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। দীর্ঘ অশান্তির সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা অবহেলিত হয়ে পড়া মন্দিরের (Sheetalnath Mandir) পাশাপাশি সুফি দরগা, গুরুদ্বার ও মসজিদের সংস্কারও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর শীতলনাথ মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ায় শ্রীনগরের একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আবার জনজীবনের অংশ হয়ে উঠল (Kashmir)।

     

  • Suvendu Adhikari: বিদ্যুৎ বিলে বছরে ৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয়, ধানের দাম কুইন্টালে ২৭০০ টাকা! বর্ধমানে কল্পতরু শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: বিদ্যুৎ বিলে বছরে ৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয়, ধানের দাম কুইন্টালে ২৭০০ টাকা! বর্ধমানে কল্পতরু শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেচের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ইউনিট পিছু দু’টাকা ভর্তুকি, ধান কেনার দাম বৃদ্ধি এবং কৃষকদের বার্ষিক আর্থিক সহায়তায় অতিরিক্ত বরাদ্দ (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষিক্ষেত্রের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের চার লাখেরও বেশি কৃষক বিদ্যুৎ ভর্তুকির আওতায় আসবেন। পাশাপাশি, সরকারি ব্যবস্থায় কুইন্টাল প্রতি ২৭০০ টাকায় ধান কেনা হবে। কৃষকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত বার্ষিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০০০ টাকা।

    সেচের বিদ্যুতে ভর্তুকি (Suvendu Adhikari)

    কৃষিকাজে বৈদ্যুতিক পাম্পসেট ব্যবহারকারী কৃষকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে দু’টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, এই সুবিধার ফলে একজন কৃষকের বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে। পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে এই ভর্তুকি কার্যকর বলে গণ্য করা হবে। রাজ্যজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার।

    ধানের দাম ২৭০০ টাকা, সরাসরি কিনবে সরকার

    ধানচাষিদের জন্যও নতুন আর্থিক সুবিধার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুইন্টাল প্রতি নির্ধারিত ২৫০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য আরও ২০০ টাকা যোগ করবে। ফলে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করে কৃষকেরা কুইন্টাল প্রতি মোট ২৭০০ টাকা পাবেন। পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ধান কেনার প্রক্রিয়ায় ফড়ে বা অন্য কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা থাকবে না বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    পিএম কিষানে বছরে ৯০০০ টাকা, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন

    কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিমাণও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। পিএম কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে কেন্দ্রের বার্ষিক ৬০০০ টাকার সঙ্গে আরও ৩০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মাধ্যমে নতুন আবেদনকারীদেরও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন (Power Bill) তিনি।

    আলুচাষিদের জন্য ডিসেম্বরে বিশেষ প্যাকেজ

    ধানচাষিদের পাশাপাশি আলুচাষিদের সমস্যার কথাও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সারের কালোবাজারি, আন্তঃরাজ্য সীমানায় বিধিনিষেধ এবং হিমঘর মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব কারণে অতীতে আলুচাষিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। আসন্ন আলুচাষের মরশুমের আগে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। ডিসেম্বরের মধ্যেই ভর্তুকিযুক্ত সার এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    পূর্ব বর্ধমানে পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন

    কৃষকদের জন্য আর্থিক ঘোষণা ছাড়াও এ দিনের সভা থেকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাতারে প্রায় ১২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পৃথক প্রকল্পের উদ্বোধনের কথাও জানানো হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর ও বিষ্ণুপুরে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চৌবেরিয়ায় ইডেন খালের উপর নতুন সেতুর উদ্বোধনও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং সূর্যঘর প্রকল্পের চেক তুলে দেওয়া হয় (Power Bill)।

    ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতি

    কৃষি ও পরিকাঠামোর পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি প্রকল্প নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অন্নপূর্ণা, আবাস, আয়ুষ্মান ভারত এবং জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যে দুর্নীতি রোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা এবং ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ প্রতিরোধে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। পূর্ব বর্ধমানকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, সেচের খরচ কমানো এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে তাঁর সরকার (Suvendu Adhikari)।

     

LinkedIn
Share