মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিছু দিন আগ অবধিও দোলের মিষ্টি (Dol Utsav 2026) মানেই ছিল মট। এখন যদিও অনেক রকম মিষ্টির (Dol Utsav Traditional Sweets) সমাগম হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতিতে। কিন্তু আগে বাঙালির দোল মট ছাড়া অপূর্ণ থাকত। সঙ্গে থাকত ফুটকড়াই ও তার সঙ্গে সাদা মুড়কি। দেবতার পায়ে ‘আবির’ দিয়ে পরিবারের সকল বয়স্কদের পায়ে আবির মাখিয়ে শুরু হত বাঙালির দোল উৎসব। দুদিন ধরেই চলত সেই দোল।
মট মূলত পর্তুগিজ মিষ্টি!
মট আদতে চিনির মণ্ড। চিনিকে গলিয়ে বিভিন্ন ছাঁচে, বিভিন্ন আকার দিয়ে তৈরি হয় এই মিষ্টি। মোমবাতি, ফুল, পাখি-সহ বিভিন্ন আকারের হয়। বিভিন্ন রঙও দেওয়া হয় এই মিষ্টিতে। রঙ খেলার ফাঁকে একে অপরের মুখে মট ও ফুটকড়াই গুঁজে দেওয়া ছিল বাংলার রেওয়াজ। একটি বড় থালায় প্রচুর মট সাজানো থাকত আর পাশে থাকত ফুটকড়াই। দোল খেলার সময়ে এগুলি ছিল আবশ্যিক। কিন্তু জানেন কি, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিকভাবে (Dol Utsav 2026) মিশে যাওয়া এই মিষ্টি আদেও বাঙালি সংস্কৃতির অংশই ছিল না। মটের ইতিহাস বেশ পুরনো। মট মূলত পর্তুগিজ মিষ্টি। হুগলির ব্যান্ডেল চার্চে প্রথম এই মিষ্টি প্রভু যিশুর প্রসাদী থালায় দেওয়া হত। পরে বাঙালি ময়রারা মটকে আপন করে নেন। তাকে গোলাপি, হলুদ, লাল নানান রঙে রাঙিয়ে দোলের (Dol Utsav Traditional Sweets) অঙ্গ করে তোলেন।
কীভাবে তৈরি হয় মট
চিনির কড়া পাক দিয়ে সেই সান্দ্র তরল কাঠের ছাঁচে (Dol Utsav 2026) জমিয়ে বা ফুটো পাত্রের ভিতর দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা ফেলে এই মট প্রস্তুত করা হয়। এটি ৫-৬ সেন্টিমিটার উঁচু একটি শুকনো ও অত্যন্ত পরিচিত মিষ্টি (Dol Utsav Traditional Sweets)। এই মট তৈরির এই ধারা আজও বর্তমান রেখেছেন হাওড়ার উনসানি শিউলি পাড়ার স্বপন মণ্ডল ও তাঁর পরিবার। কিন্তু এখন এই মিষ্টিগুলি শুধুই নস্ট্যালজিয়া। অনেকে জানেনও না মট-ফুটকড়াই-কদমা-সাদা মুড়কির নাম। দোকানে অনেক খুঁজলে তবেই মিলবে নানা আকৃতির মট। অবশ্য স্বাস্থ্যের কথা ভেবেও অনেকে মিষ্টি খান না। যাই হোক বছরের এই একটা দিনে সেই মট, কদমা, ফুটকড়াই দেবতার প্রসাদ হয়ে কোনওক্রমে বেঁচে আছে বাঙালির নসট্যালজিয়ায়।
