Tag: Bengali Traditions

  • Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহাধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয়। হিন্দুশাস্ত্রমতে বসন্তকালে চৈত্র শুক্লপক্ষে আয়োজিত হয় বাসন্তী পুজো। পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আদি দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়।

    কবে থেকে পুজো, দেবীর আগমন কিসে

    সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। চলতি বছরে বাসন্তীপুজোর সপ্তমি পড়েছে আজ, বুধবার ২৫ মার্চ। এই পুজোর ষষ্ঠীই হল অশোক ষষ্ঠী। মূলত, সপ্তমী তিথিতে বাসন্তী পুজো, অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা হয়, নবমী পালিত হয় রামনবমী হিসেবে। দেশের নানান জায়গায় যখন চৈত্র নবরাত্রির পার্বনে অনেকে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন বাংলা এই চৈত্রের শুক্লপক্ষে দেবী বাসন্তীর আরাধনায় মেতে ওঠে। চলতি বছরের বাসন্তী পুজোয় দেবী দুর্গার আগমন ও গমন শাস্ত্র মতে বিশেষ বার্তাবাহক। পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে পালকিতে (মতান্তরে নৌকায়) এবং গমন হবে গজে বা হাতিতে (মতান্তরে ঘোড়ায়)। পালকিতে আগমন অস্থির সময়, মড়ক বা রোগব্যাধির ইঙ্গিত দিলেও গজে গমন অতিবৃষ্টি ও শস্যহানিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    রাজা সুরথের কাহিনী

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না।

    বাসন্তী পুজোর সূচনা

    এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তাঁরা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্লপক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

LinkedIn
Share