Tag: benjamin netanyahu

benjamin netanyahu

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলে এখনও ঝুলে রয়েছে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলে এখনও ঝুলে রয়েছে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। কোনও রাজনৈতিক শিবিরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলির ভূমিকা। এরই মধ্যে নির্বাচনে (Israel Election 2026) বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইজরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ (Netanyahu) নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে।

    নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন (Israel Election 2026)

    ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদ নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আরব রাজনৈতিক দলগুলি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। গত নির্বাচনের তুলনায় তাদের আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি অর্থের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে কাতার বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ, আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষে ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করতেই এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর দল লিকুদ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ইজরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর বড়সড় আঘাত। তাঁর দাবি, এই ঘটনার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিপদের মুখে পড়তে পারে।

    লিকুদের অভিযোগ

    লিকুদের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশি শক্তির উদ্দেশ্য হল ইজরায়েলের সংসদে প্রভাব বিস্তার করা, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং দক্ষিণপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। দলের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে কোনও জায়নবাদী রাজনৈতিক দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে সহযোগিতায় যাওয়া উচিত নয়। অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করে সংসদের নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা নতুন সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে (Israel Election 2026) দলটি।

    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ। বুধবার শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের গুরুতর সন্দেহ তাঁর নজরে এসেছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবুও বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

    চিঠিতে শিন বেত প্রধানকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন সোলবার্গ। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফল জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    ইজরায়েলের এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা বুঝতে পারছি, বিষয়টির মধ্যে কিছু সমস্যাজনক দিক রয়েছে। তাই সমস্ত তথ্য সামনে আনার জন্য গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালানো হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।”

    অভিযোগের বিরোধিতা

    তবে এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রশাসনিক প্রধান ডিন লিভনে। তিনি নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোট চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। শিন বেতের তরফেও জানানো হয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের পরিধি সীমিত এবং এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে।

    এদিকে, হিব্রু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির একাধিক সূত্রের দাবি, আরব সংগঠনগুলির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিপুল অর্থ পাঠানোর চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, এই অর্থ স্থানান্তরের জন্য যে আর্থিক মাধ্যমগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, অতীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও সেগুলির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মাধ্যম ব্যবহারের নজির রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনের (Israel Election 2026) পর সরকার গঠনের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাতারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিংবা নির্বাচনে অনিয়মের দাবিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার (Netanyahu) অবকাশ নেই। তদন্তের ফল এবং রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী অবস্থানই এখন ইজরায়েলের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহুর! ভোটে কারচুপি ও ঘুষের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কাতারকে। ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কোনও রাজনৈতিক দলই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী,  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও ৮টি আসন দূরে রয়েছে নেতানিয়াহুর শিবির। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

    শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, ভোটারদের ঘুষ দেওয়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইজরায়েলের রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির (CEC) চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ‘গুরুতর সন্দেহ’ খতিয়ে দেখার জন্য ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি ভোটে কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করেছে।

    ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সমাজমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু লেখেন, “রামগেট কাণ্ড একটি ভূমিকম্পের সমান। ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। আরব দলগুলির পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে বিচারপতি সোলবার্গের মন্তব্য নজিরবিহীন ধাক্কা।” লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এর উদ্দেশ্য বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নেসেটে প্রভাব বিস্তার, ইজরায়েলের ইসলামিকরণ এবং দক্ষিণপন্থী শাসনের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি, ইরান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে (IDF) পিছিয়ে আসতে বাধ্য করার চক্রান্তও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায়

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ সামনে আসার পর কোনও জায়নবাদী দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন কিংবা ইজরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে লিকুদ পার্টি। এই ঘটনায় অবিলম্বে শিন বেট ও পুলিশকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। বুধবার শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনিকে চিঠি দিয়ে বিচারপতি সোলবার্গ জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের স্বার্থবিরোধী নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তাঁর কাছে গুরুতর সন্দেহের তথ্য এসেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি চিঠিতে শিন বেট প্রধানকে সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার

    এদিকে, ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টিতে কিছু সমস্যাজনক তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং সমস্ত তথ্য সামনে আনতে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে। তা সত্ত্বেও ইজরায়েলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    আরব সংগঠনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার

    নিরাপত্তা সংস্থা এবং নির্বাচনী কমিশনের একাধিক সূত্রের দাবি, আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার নামে বিভিন্ন আরব সংগঠনের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। এর মাধ্যমে ভোটের হার ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অতীতে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ফলে ইজরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল (Israel Election Results) ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে (Netanyahu) পারেনি। এদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা এবং তাদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি দল মিলিয়ে পেতে পারে ১৯টি আসন, যা তাদের সরকার গঠনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

    নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগে তাই দু’টি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু কি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন? নাকি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করবে? শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইজরায়েলের রাজনীতি, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উপর।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে নেতানিয়াহুর জোট (Israel Election Results)

    প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলির জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে তারা আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বর্তমান জোটের বাইরে অন্য কোনও দলের সমর্থন আদায় করা নেতানিয়াহুর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিল দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনের ফল বলছে, এই দলগুলির সম্মিলিত শক্তি দিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্য দলগুলির সমর্থন পাওয়া অথবা নতুন কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছনো ছাড়া তাঁর সামনে বিকল্প সীমিত।

    তবে সরকার গঠনের দৌড় থেকে নেতানিয়াহু এখনই ছিটকে গিয়েছেন, এমনটা বলা যায় না। তিনি আরও বিস্তৃত জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, বিরোধী শিবিরের কোনও অংশের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পারেন অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলাকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (Israel Election Results)।

    বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলি যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তা হলে তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই সুযোগে নেতানিয়াহু নতুন করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন।

    আরব দলগুলির সমর্থনে কি বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব?

    নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১২টি আসন এবং রা’আম পেতে পারে সাতটি আসন। সব মিলিয়ে ১৯টি আসন তাদের হাতে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

    বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ১৯টি আসন যোগ হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ, এই দলগুলি একযোগে সমর্থন দিলে ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। কিন্তু সংখ্যার এই সমীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়।

    বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাঁদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে সমঝোতা করতে হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব নাগরিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিরোধী সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারাও নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন আটকানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকার গঠনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট (Israel Election Results)।

    তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেই যে আরব দলগুলি সরকারে যোগ দেবে, তা নয়। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও সংসদে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে। এই ধরনের সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর নির্ভর করতে হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি?

    এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের হিসাব জটিল হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আরব দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছুক বিরোধী নেতাদের উপরও চাপ বেড়েছে।

    আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বিরোধীদের কাছে এই দলগুলির সমর্থন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি এবং আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সেই সম্ভাবনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে (Netanyahu)।

    ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলি কি তাঁকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হতে পারবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্যের কারণে বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে (Israel Election Results)?

    কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

    নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অন্য কোনও নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। অর্থাৎ, সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন চললেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    আলোচনার মাধ্যমে কোনও কার্যকর জোট তৈরি করা সম্ভব না হলে ইজরায়েলে ফের সাধারণ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

    কোন তিনটি সম্ভাবনা সামনে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির আরব দলগুলির সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফের নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে (Netanyahu)।

    তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোন রাজনৈতিক শিবির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারছে। ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যেই (Israel Election Results)।

     

  • US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    US House Honour Indian Pilot: ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা ঠেকানো ভারতীয় পাইলটকে সম্মান জানাতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছন থেকে আসছিল একের পর এক আঘাত। প্রথমে ভেবেছিলেন, বিমানের বড় কোনও ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পর পর আঘাত আসতেই বুঝতে পারেন, বিমানে কিছু হয়নি। ককপিটে তাঁর সঙ্গে যিনি আছেন, তিনি কিছু করছেন। এর পর সহকারী পাইলটকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন ফ্লাইদুবায়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। কিন্তু মাথায় আঘাতের কারণে তাঁর চোখ ঝাপসা হয়ে যায়। প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনে মনে আওড়াচ্ছিলেন হনুমান চল্লিশা। হঠাতই সঞ্জীবনী মন্ত্রে তাঁর মাথায় কাজ করে উপস্থিত বুদ্ধি। কোনওরকমে খুলে দেন ককপিটের দরজা। বেঁচে যায় ১৭৪ জন বিমানযাত্রীর জীবন। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন স্মিত। এবার, ভারতীয় পাইলটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানাতে উদ্যোগী হল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস।

    মার্কিন কংগ্রেসে সাহসিকতার পুরস্কার

    স্মিতের সাহসিকতার পাশাপাশি ফ্লাইটের ক্রু ও যাত্রীদের ভূমিকাকেও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে মার্কিন কংগ্রেসে। গত ৫ অক্টোবর কংগ্রেসম্যান জোশ গটহাইমার এইচ রেস ১৬১২ নামে প্রস্তাবটি হাউসে উত্থাপন করেন। এতে মাইকেল ম্যাককল এবং ডন বেকন সহ-প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রস্তাবটি হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনও তা পূর্ণাঙ্গ হাউসে পাস হয়নি। প্রস্তাবটির শিরোনাম— ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এবং ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩-এর ক্রু ও যাত্রীদের সম্মান জানানো এবং বিমানটিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো (Honouring Captain Smit Machchhar and the crew and passengers of Flydubai Flight 1073)।

    মাঝ আকাশে ককপিটে সন্ত্রাসী হামলা

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড়ে যায় ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট ১০৭৩। বিমানে ছিলেন প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু এবং চারজন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। উড়ানের মাঝপথে বিমানের ফার্স্ট অফিসার বা সহকারী পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের ওপর জরুরি ব্যবহারের কুঠার দিয়ে হামলা করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং বিমানটি একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার প্রতিরোধ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই পদক্ষেপই পরিস্থিতি বদলে দেয়। বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকতে পারেন এবং কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। বিমানে থাকা সমস্ত যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে মাটিতে নামতে সক্ষম হন।

    ‘অসাধারণ সাহসিকতার’ প্রশংসা

    মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত প্রস্তাবে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার বিশেষভাবে প্রশংসা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে তিনি বিমানে থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবন রক্ষায় “অসাধারণ সাহসিকতা” দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং যাত্রীদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই ককপিট সুরক্ষিত করা এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়েছিল।

    ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে চিহ্নিত

    ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মার্কিন প্রস্তাবে। ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে যে ফার্স্ট অফিসার বিমানটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানানো হয়। তবে হামলার উদ্দেশ্য, ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন হাউসের প্রস্তাবে ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” হিসেবে নিন্দা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর এই হামলাকে গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের দাবি

    ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের এই প্রস্তাব। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

    গুরুতর আহত অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি

    ঘটনার পর ক্যাপ্টেন মচ্ছারের সাহসিকতার আরও কিছু বিবরণ সামনে আসে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি বুঝতে পারেন, ককপিটের দরজা খুলতে পারলে অন্যরা সেখানে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নিজেকে সামলে দরজার কাছে পৌঁছন এবং সেটি খুলতে সক্ষম হন। তাঁর এই সিদ্ধান্তই অন্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটি ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়। হাসপাতালের শয্যা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলার সময় মচ্ছার সেই মুহূর্তের কথা জানান। আহত অবস্থাতেও কীভাবে নিজেকে উঠে দাঁড়িয়ে দরজার কাছে পৌঁছনোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা তিনি তুলে ধরেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছার সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর সাহসিকতার জন্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকেও প্রশংসা এসেছে।

    আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে ভারতীয় পাইলট

    ফ্লাইট ১০৭৩-এর ঘটনা শুধু একজন পাইলটের ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়। এটি আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। একজন ভারতীয় ক্যাপ্টেন, অফ-ডিউটি পাইলট, কেবিন ক্রু এবং সাধারণ যাত্রীরা একসঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সম্ভাব্য বড় ধরনের প্রাণহানি রুখে দেন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত হাউসে পাস হলে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসের স্বীকৃতি পাবে। তবে সেই স্বীকৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মচ্ছার হাল ছাড়েননি। তিনি ককপিটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আর সেই কয়েক মুহূর্তের সাহসই ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচানোর পথ খুলে দিয়েছিল।

  • Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    Netanyahu: বিমানের ককপিটে হামলা ঠেকিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো পাইলটকে ‘নায়ক’ আখ্যা নেতানিয়াহুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার পরেও অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরকে ‘নায়ক’ বলে প্রশংসা করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। শনিবার টেলিফোনে পাইলটের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য (Israel Independence Day) আমন্ত্রণও জানান নেতানিয়াহু। স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ফোনালাপে নেতানিয়াহু বলেন, “আপনি ইজরায়েল, ভারত এবং গোটা বিশ্বের কাছে একজন নায়ক।”

    নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণ (Netanyahu)

    এর পরেই তিনি মচ্ছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “আমি আপনাকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তাঁর কথায়, স্বাধীনতা দিবসে মশাল প্রজ্বলন ইজরায়েলের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মানগুলির একটি। তিনি বলেন, “সাধারণত এই সম্মান ইজরায়েলের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু আমি মনে করি, এই ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সমস্ত নাগরিক আপনাকে আপন করে নেবেন।”

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটে নজিরবিহীন ঘটনা। অভিযোগ, ওমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি কুঠার দিয়ে পাইলট স্মিত মচ্ছরকে আঘাত করেন এবং বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। হামলার জেরে মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নীচে নেমে যায়। এর পরেই বিমান ছিনতাইয়ের জরুরি সংকেত পাঠানো হয়।

    হামলার পরেও মচ্ছর ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। ফলে অন্য যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে সহ-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করেন। তাঁর এই সাহসিকতার প্রশংসা হয়েছে বিশ্বজুড়ে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীও।

    ঠিক কী ঘটেছিল

    ফোনে নেতানিয়াহু মচ্ছরের কাছে জানতে চান, ঠিক কী ঘটেছিল। জবাবে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট গোটা ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি জানান, সহ-পাইলট নমাজ আদায়ের জন্য তাঁর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সরে গিয়েছিলেন। আচমকাই মাথার পিছনে প্রচণ্ড আঘাত অনুভব করেন (Netanyahu) তিনি।

    মচ্ছর বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, বিমানে কোনও সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তার পর একের পর এক আঘাত আসতে থাকে। তখন বুঝতে পারি, বিমানে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে ককপিটে থাকা অন্য ব্যক্তিই আমাকে আক্রমণ করছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে আঘাতের কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেও প্রথমে সফল হননি তিনি। একবার ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করলে আক্রমণকারী তা বন্ধ করে দেন।

    এর পর নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দরজা খোলার সিদ্ধান্ত নেন মচ্ছর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে যদি শেষ লড়াইটুকুও না থাকে, তাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজার দিকে ধাক্কা দিই। আমার যা শক্তি ছিল, সবটুকু দিয়ে (Netanyahu) দরজা খুলে ফেলি।”

    পাইলটের মুখে পুরো ঘটনা শুনে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, অসম্ভব পরিস্থিতির মধ্যে আপনার সাহস এবং ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে আমি (Israel Independence Day) অভিভূত।”

    নেতানিয়াহুর সমবেদনা

    নেতানিয়াহু আরও বলেন, “আপনি এত মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আমার এবং আমার স্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনার স্ত্রীকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাবেন। আমি জানি, আপনার একটি পরিবার রয়েছে এবং আপনি বিভিন্ন দেশের মানুষের বৃহত্তর পরিবারেরও অংশ। যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।”

    এর আগে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আহত পাইলট (Israel Independence Day), যাত্রী এবং বিমানের অন্য কর্মীরা মিলে “৯/১১-এর মতো একটি ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন (Netanyahu)।”

     

  • Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    Flydubai Hijacking: ‘ফ্লাইদুবাই বিমানে হামলা চালিয়েছিল ওমানি সহ-পাইলট একাই’, দাবি প্রাক্তন মোসাদ কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানের ককপিটে ভারতীয় পাইলটকে ছুরি দিয়ে (Flydubai Hijacking) আঘাত এবং বিমানটিকে বিপজ্জনকভাবে নীচে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার পর ইজরায়েলের প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক শীর্ষ কর্তা রামি ইগ্রা দাবি করেছেন, ওমানি সহ-পাইলট একাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

    প্রাক্তন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তার দাবি (Flydubai Hijacking)

    ২ অক্টোবর সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, “এটি একজনের একক হামলা বলেই মনে হচ্ছে। আমার বিশ্বাস, ওই ব্যক্তি একাই ইসলামি উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করেছিলেন।” তাঁর বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত এমন কোনও তথ্য সামনে আসেনি যাতে বোঝা যায় যে সহ-পাইলট কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন। ইগ্রার দাবি, ওমানি সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে ইজরায়েলে প্যালেস্তাইন পক্ষের সমর্থনে লেখা কিছু প্রচারপত্র পাওয়া গিয়েছিল বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অন্য একটি সাক্ষাৎকারে ইগ্রা বলেন, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ওই সহ-পাইলট অন্য কোনও ব্যক্তি, দেশ বা সংগঠনের নির্দেশে কাজ করেছিলেন, তাহলে ঘটনার তাৎপর্য অনেক বড় হবে। তাঁর কথায়, “তিনি কি একাই এই কাজ করেছিলেন, যেমনটা আমি মনে করি, নাকি অন্য কোনও দেশ বা সংগঠন তাঁকে পাঠিয়েছিল—তার উপরেই এই ঘটনার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য নির্ভর করবে।”

    ইগ্রা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটেই এই ধরনের ‘একক হামলা’কে দেখতে হবে। তাঁর মতে, ধর্মীয় উগ্রপন্থায় প্রভাবিত কোনও ব্যক্তি আত্মঘাতী হামলাকে ‘শহিদি’র পথ হিসেবে দেখলে এমন ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর এই বক্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব বিশ্লেষণ; তদন্তকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে (Flydubai Hijacking) না।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের (ইজরায়েলের রাজধানী) উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি। বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। মাঝ আকাশে ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছারের উপর ওমানি সহ-পাইলট হামলা চালান বলে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি। এরপর বিমানটি অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। আহত অবস্থাতেও ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দায়িত্ব নেন বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। ঘটনার পর ভারতীয় পাইলট এবং ওমানি সহ-পাইলট—দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওমানি সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাঁর পরিচয় ও নাম সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Flydubai Hijacking)।

    নেতানিয়াহুর দাবি

    ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, ওই ওমানি সহ-পাইলট ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সহ-পাইলটের ব্যক্তিগত তথ্য থেকেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাইলটকে ছুরি দিয়ে আক্রমণের পর সহ-পাইলট বিমানটি ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে আত্মঘাতী মিশনে ছিলেন।

    নেতানিয়াহুর আরও দাবি, হামলাকারীকে যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর তিনি বিমানের কর্মীদের তাঁকে হত্যা করতে বলেছিলেন। নেতানিয়াহু বলেন, “এতে স্পষ্ট যে তিনি আত্মঘাতী ছিলেন।” তাঁর মতে, বিমানটি ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। তবে এই উদ্দেশ্য ও হামলার পেছনে অন্য কারও নির্দেশ ছিল কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে (Flydubai Hijacking)।

    বৃহত্তর ষড়যন্ত্র?

    ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের সামনে অন্যতম বড় প্রশ্ন—ওমানি সহ-পাইলট কি নিজের সিদ্ধান্তেই হামলা চালিয়েছিলেন, নাকি কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ ছিল?

    ইজরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, তিনি ‘একক হামলাকারী’। যদিও সম্ভাব্য বৃহত্তর যোগসূত্রের বিষয়টি নিয়েও তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ হামলার অভিযোগ উঠেছে বিমানের এমন এক কর্মীর বিরুদ্ধে, যাঁর ককপিটে সরাসরি প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা পরীক্ষার পাশাপাশি বিমানকর্মীদের নিয়োগ, যাচাই এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য উগ্রপন্থী যোগ এবং কোনও সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। ওমানি সহ-পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন (Flydubai Hijacking) সৌদি কর্তৃপক্ষ।

     

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    Netanyahu: ‘ভারত থেকে বিপুল সমর্থন পাচ্ছে ইজরায়েল’, ভান্সের মন্তব্যের জবাবে মোদির দেশের প্রশংসায় নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের কাছ থেকে ইজরায়েল অভূতপূর্ব সমর্থন পায়।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্সের (JD Vance Ally Claim) ‘‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’’ মন্তব্যের জবাবে এমনই দাবি করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, আমেরিকা ছাড়াও ইজরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার রয়েছে। ভারতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের আরও কিছু বন্ধু রয়েছে। যেমন, ভারত নামে একটি ছোট দেশ, যার জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। আর সেখান থেকে আমরা বিপুল সমর্থন পাই।’’

    নেতানিয়াহুর ভারত-প্রশস্তি (Netanyahu)

    তিনি জানান, ফেসবুকে ভারতীয় ইউজারদের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সমর্থন দেখতে পান। তিনি জানান, গত এক দশকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন এবং বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘‘ব্যক্তিগত বন্ধু’’ বলে উল্লেখ করেছিলেন, এবং ভারতকে ‘‘বিশ্বশক্তি’’ আখ্যা দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই দু’দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স বলেছিলেন, ‘ইজরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’।

    ভান্সের দাবি

    সাংবাদিক সম্মেলনে ভান্স দাবি করেছিলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই বর্তমানে এমন বিশ্বনেতা, যিনি ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছেন।’’ তিনি এও জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইজরায়েলের ব্যবহৃত অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, করেছে অর্থায়নও। ভান্সের প্রতি সম্মান জানিয়েই নেতানিয়াহু (Netanyahu) বলেন, ‘‘আমি তাঁকে সম্মান করি, কিন্তু তাঁর মূল্যায়নের প্রতিটি বিষয়ে আমি একমত নই।’’

    ইজরায়েলের বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর 

    নেতানিয়াহুর দাবি, বিশ্বের বহু দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইয়ের মতো ক্ষেত্রে ইজরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “সামরিক উদ্ভাবন ও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতারা নিয়মিত ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।” নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ইরান-ইস্যু এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য কৌশল নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যদিও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে সময়ে সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ দেখা যায়, তবুও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (JD Vance Ally Claim) এখনও ইজরায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এর পাশাপাশি ভারত-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে নেতানিয়াহুর (Netanyahu) ইজরায়েল।

     

  • US Team in Pakistan: পাকিস্তানে নামল মার্কিন বিমান, অচিরেই যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা!

    US Team in Pakistan: পাকিস্তানে নামল মার্কিন বিমান, অচিরেই যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের জেরে যখন কার্যত জ্বলছে এশিয়ার একাংশ, বিশ্ববাসী নজর রাখছেন (US Team in Pakistan) এই জটিল যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ার দিকে, তখন সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি মার্কিন বিমান পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবতরণ (Hormuz Strait) করেছে। ইরানের প্রতিনিধি দল মধ্যরাতের পর সেখানে পৌঁছয়। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার এমবি গালিবাফ। মার্কিন দলে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার।

    ইরানি দলের বিমানের অবতরণ (US Team in Pakistan)

    গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ৮ এপ্রিল জানিয়েছিল, আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক’ বা ‘সবকিছু নির্ধারণকারী’ বলে উল্লেখ করেন।ইরানি দলের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করলে, তাদের চারপাশে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়, যার মধ্যে ছিল এডাব্লুএসিএস নজরদারি বিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ বিমান এবং এমন যুদ্ধবিমান, যা তাঁদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত পৌঁছে দেয় (Hormuz Strait)।

    প্রতিনিধি দলে কারা

    ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্যালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি পৌঁছয় ইসলামাবাদে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি আকবর আহমাদিয়ান, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান আব্দোলনাসের হেম্মাতি এবং আরও কয়েকজন আইনপ্রণেতা (US Team in Pakistan)। তাঁদের স্বাগত জানান পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস আসিম মুনির, বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। এই উপলক্ষে ইসলামাবাদের রেড জোন এলাকার (যেখানে পার্লামেন্ট ভবন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, বিলাসবহুল হোটেল, দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিস রয়েছে) সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় নিরাপত্তার জন্য (Hormuz Strait)।

    ইরানের ১০ দফা দাবি

    এই আলোচনার মূল বিষয় হল ইরানের ১০ দফা দাবি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় একটি চুক্তি করতে, হরমুজ প্রণালী খোলা রাখতে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে (US Team in Pakistan)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে ‘কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও ইরান আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবকে ‘অত্যধিক কঠোর’ বলে অভিহিত করেছে। তারা পাল্টা ১০ দফা দাবি করেছে। ইরানের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, আগ্রাসন না করা, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অনুমোদন, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত বাতিল, ক্ষতিপূরণ দেওয়া, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা (Hormuz Strait)।

    আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাব

    অন্যদিকে, আমেরিকার ১৫ দফার প্রস্তাবে রয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে, বর্তমানে মজুত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করবে, সমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেবে, হরমুজ প্রণালী ফের খোলা হবে, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে (US Team in Pakistan)। এই প্রস্তাবগুলির ইংরেজি ও ফার্সি সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য থাকায় খানিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প জানান, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্য শর্তগুলিই গোপন আলোচনায় বিবেচনা করা হবে। এদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, যুদ্ধবিরতিকে তাঁরা স্বাগত জানালেও, লেবাননে হামলা বন্ধ হবে না। শুধু তা-ই নয়, হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করার অভিযানও চলবে। প্রসঙ্গত, এর আগে, দক্ষিণ লেবাননের মায়ফাদাউন শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইজরায়েলি বিমান (Hormuz Strait) হামলায় তিনজন নিহত হন, ধ্বংস হয় ভবনটিও (US Team in Pakistan)।

     

LinkedIn
Share