Tag: Bharats Kumbh

  • Tribeni of Bengal: হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমে রয়েছে সুপ্রাচীন কুম্ভ মেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রবাহ

    Tribeni of Bengal: হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমে রয়েছে সুপ্রাচীন কুম্ভ মেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রবাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মস্থলের ভৌগলিক অবস্থান সর্বদা বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেখানেই তিনটি নদীর মিলন ঘটে—বিশেষ করে গঙ্গা তাদের মধ্যে একটি। হিন্দু ঐতিহ্যে অত্যন্ত পবিত্রস্থান বলে মনে করা হয় গঙ্গার প্রবাহকে। হুগলি জেলার ত্রিবেণী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই মানদণ্ড পূরণ করে। এখানে গঙ্গা (জাহ্নবী), যমুনা এবং সরস্বতী এক সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তবে প্রয়াগরাজের মতো, এখানেও সরস্বতীকে অন্তঃসলিলা হিসেবে ধরা হয়। এই ত্রিবেণী (Tribeni of Bengal) ‘মুক্তবেণী’ হিসেবে পরিচিত, নদীগুলো স্পষ্টভাবে প্রবহমান।

    উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য (Tribeni of Bengal)

    সঙ্গমস্থলকে আলাদা করে আবিষ্কার করতে হয়না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিন্দুরা ত্রিবেণীতে (Tribeni of Bengal) স্নান করে আসছেন। ঠিক যেমন প্রয়াগ, ঋষিকেশ, নাসিক বা উজ্জয়িনীতে করেন, তেমনি ভাবে পালন করে আসছে হিন্দু সমাজ। ত্রিবেণীর এই স্নান কোনও পুনরুজ্জীবিত প্রথা নয়; এটি একটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুণ্যার্থীরা এই বিশ্বাস নিয়ে এখানে এসেছেন যে, সঙ্গমে স্নান করলে পাপ ক্ষয় হয়, ধর্ম পুনরুজ্জীবিত (Bharats Kumbh) হয় এবং ব্যক্তি মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত হয়। মকর এই সময় দক্ষিণে অবস্থান করে, গ্রহ, নক্ষত্র এবং জাগতিক জীবনে পরিবর্তন আসে। তাই শুধু স্নান স্নান নয়, প্রাকৃতিক পরিবর্তনও কাজ করে।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী

    হুগলির ত্রিবেণীকে (Tribeni of Bengal) ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কোনও আধুনিক মত নয়। এটি ধ্রুপদী বাঙালি পণ্ডিতদের লেখায় স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ আছে। প্রখ্যাত স্মার্ত পণ্ডিত রঘুভট্ট তাঁর ‘প্রায়শ্চিত্ত তত্ত্ব’-এ অদ্ব্যর্থহীনভাবে লিখেছেন— “দক্ষিণ প্রয়াগে তার মুক্তবেণী সাতটি গ্রামকে অলঙ্কৃত করে। দক্ষিণ দেশ এটিকে ত্রিবেণী হিসেবে স্বীকার করে।” এখানে ‘সাতটি গ্রাম’ বলতে সপ্তগ্রামকে বোঝানো হয়েছে, যা ত্রিবেণীর ধর্মীয় ভূখণ্ডের মূল কেন্দ্র। এই দক্ষিণ প্রয়াগ পরিচিতিই এখানে কুম্ভ (Bharats Kumbh) সংক্রান্তির মতো বিশেষ সময়ে স্নান এবং মেলার শাস্ত্রীয় ভিত্তি প্রদান করেছে।

    শাস্ত্রের ও স্মৃতি মিলিত হয়

    ত্রিবেণীকে (Tribeni of Bengal) সপ্তগ্রাম থেকে আলাদা করে বোঝা সম্ভব নয়, যা মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। বৈষ্ণব সাহিত্যে এই অঞ্চলের পবিত্রতা স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত। বৃন্দাবন দাস তাঁর ‘চৈতন্য ভাগবত’-এ বর্ণনা করেছেন, সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটে সপ্তর্ষি তপস্যা করেছিলেন এবং এখানেই গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী মিলিত হয়েছেন।

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বৃন্দাবন দাস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নিত্যানন্দ মহাপ্রভু নিজে এই ঘাটে আনন্দভরে স্নান করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলার ভক্তি আন্দোলনের সময়েও ত্রিবেণী একটি জীবন্ত তীর্থস্থান ছিল। কবি মাধবাচার্য তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ নিজেকে ত্রিবেণীর নিবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এই অঞ্চলকে পরাশর মুনি ও যজ্ঞের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    কুম্ভের জ্যোতির্বিজ্ঞানিক গুরুত্ব

    কুম্ভ (Bharats Kumbh) মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞানিক ঘটনা। উনিশ শতকে ‘কুম্ভ মেলা’ শব্দটি জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই পবিত্র সঙ্গমগুলোতে বড় ধরনের স্নান উৎসব পালিত হতো। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিচারে কুম্ভ (Tribeni of Bengal) পালন কয়েক প্রকার। যেমন- ১> মহাকুম্ভ ও অর্ধকুম্ভ: যা গ্রহের বিশেষ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। ২> অনু কুম্ভ: যা প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি বা কুম্ভ সংক্রান্তিতে পালিত হয়। প্রয়াগরাজে প্রতি বছর মাঘ মাসে যেমন মেলা হয়, একই যুক্তিতে দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণীতেও ঐতিহাসিকভাবে কুম্ভ স্নান ও মেলা হয়ে আসছে। তবে মাঝের কিছু সময় বহিরাগত মুসলমান আক্রমণের জন্য এখানে মেলা বন্ধ হয়ে যায়।

    অবিরাম ঐতিহ্য

    বাংলার মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা মন্দির ধ্বংসের ইতিহাসের মধ্যেও ত্রিবেণীর (Bharats Kumbh) ধর্মীয় গুরুত্ব কখনো ম্লান হয়নি। নৃবিজ্ঞানী অ্যালান মরিনিস বলেন, গঙ্গাসাগর ছাড়া বাংলার একমাত্র ত্রিবেণীই প্রাচীনত্বের শক্তিশালী দাবিদার এবং এটি প্রয়াগের দক্ষিণ প্রতিরূপ। প্রয়াগ যদি হয় ‘যুক্তবেণী’ (যেখানে সরস্বতী অদৃশ্য), ত্রিবেণী তবে ‘মুক্তবেণী’ (Tribeni of Bengal) (যেখানে সরস্বতী দৃশ্যমান)।

    ভারতের কুম্ভ ঐতিহ্য কোনও একক স্থানের নয়

    কেরলের মামাঙ্কম থেকে প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা এবং বাংলার ত্রিবেণীর কুম্ভ স্নান (Tribeni of Bengal)—সবই প্রমাণ করে ভারতের কুম্ভ ঐতিহ্য কোনো একক স্থানের নয়। এটি একটি বিস্তৃত সংস্কৃতি। যার সবটাই স্থানীয় নদী, পঞ্জিকা এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির দ্বারা একটি সুশৃঙ্খলিত সাংস্কৃতিক প্রবাহ মাত্র। ত্রিবেণী কোনো ধার করা ঐতিহ্য বা আধুনিক উদ্ভাবন নয়; এটি ভূগোল, শাস্ত্র, কাব্য এবং নিরবচ্ছিন্ন আচারের দ্বারা সমৃদ্ধ ভারতের সনাতন সভ্যতার (Bharats Kumbh) এক জীবন্ত অংশ।

LinkedIn
Share