Tag: Bhojshala Case

  • Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বহু বিতর্কিত ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ চত্বর নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ। শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, উপলব্ধ ঐতিহাসিক নথি, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI)-এর বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুয়ায়ী, এই স্থাপনাটি আসলে দেবী সরস্বতীর মন্দির এবং সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই রায়কে ভোজশালা (Dhar Bhojshala Verdict) বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বহু দশক ধরে হিন্দু ও মুসলিম— দুই সম্প্রদায়ই এই স্থাপনার উপর নিজ নিজ ধর্মীয় দাবি জানিয়ে এসেছে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?

    হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোজশালার মূল চরিত্র ছিল একটি সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র বা মহাবিদ্যালয়। আদালতের মতে, প্রত্নতত্ত্ব একটি বিজ্ঞান এবং আদালত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, খনন রিপোর্ট ও ঐতিহাসিক উপাদানের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালত এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্টের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভোজশালা চত্বরে প্রাপ্ত ভাস্কর্য, মন্দিরসদৃশ স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ, স্তম্ভ, শিলালিপি এবং অন্যান্য নিদর্শন এই স্থাপনার প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ। রায়ে আরও বলা হয়েছে, প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ধর্মীয় স্থানগুলির সংরক্ষণ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। শুধু সংরক্ষণই নয়, দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সরকারের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

    ২০০৩ সালের এএসআই আদেশ বাতিল

    ২০০৩ সালে এএসআই জারি করা সেই আদেশ শুক্রবার বাতিল করেছে হাইকোর্ট, যেখানে হিন্দুদের উপাসনার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শুক্রবার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতের মতে, ওই নির্দেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করেছিল। আদালত উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত স্থানে হিন্দুদের পূজা-অর্চনার ধারাবাহিকতা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে এএসআই এই সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআই-কে ভোজশালা কমপ্লেক্সের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুসলিম পক্ষকে পৃথক জমির আবেদন করার স্বাধীনতা

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়েও মন্তব্য করেছে। আদালত জানিয়েছে, মুসলিম পক্ষ চাইলে ধার জেলায় নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক জমির আবেদন করতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত একদিকে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে।

    ভোজশালা বিতর্কের ইতিহাস

    ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ধার অঞ্চল একসময় পারমার রাজবংশের অধীনে ছিল। রাজা ভোজ, যিনি ১০০০ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন, ছিলেন দেবী সরস্বতীর একনিষ্ঠ ভক্ত। ১০৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি এখানে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ভোজশালা নামে পরিচিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এটি শুধু শিক্ষাকেন্দ্রই নয়, দেবী সরস্বতীর মন্দিরও ছিল। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ১৩০৫ সালে আলাউদ্দিন খিলজির সময় ভোজশালার একাংশ ধ্বংস হয়। পরে ১৪০১ সালে দিলাওয়ার খান ঘোরি এবং ১৫১৪ সালে মাহমুদ শাহ খিলজি এখানে মসজিদের অংশ নির্মাণ করেন বলে দাবি করা হয়। ১৮৭৫ সালে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালানো হলে দেবী সরস্বতীর একটি মূর্তি উদ্ধার হয়, যা পরবর্তীতে বিতর্ককে আরও জোরদার করে।

    এএসআই-এর রিপোর্টে কী উঠে এসেছিল?

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এএসআই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে তাদের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিতরে মন্দিরসদৃশ ধ্বংসাবশেষ, খোদাই করা স্তম্ভ, দেবদেবীর ভাস্কর্য এবং প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের উল্লেখ করা হয়। এই রিপোর্টই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়?

    ভোজশালা মামলা শুধু একটি সম্পত্তি বা ধর্মীয় স্থানের বিতর্ক নয়, এটি ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্ন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠল। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারকে উপেক্ষা করা যায় না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংবিধানের চেতনার অংশ এবং সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই রায় ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিতর্কিত ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থাপনা সংক্রান্ত মামলাগুলিতেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

LinkedIn
Share