Tag: Bilateral Trade

  • India New Zealand FTA: ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত হবে ভারতের ১০০ শতাংশ পণ্য

    India New Zealand FTA: ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, শুল্কমুক্ত হবে ভারতের ১০০ শতাংশ পণ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India New Zealand FTA)। দুই দেশই চুক্তিটি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে। সোমবার নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে এবং নিউজিল্যান্ডে ভারতের হাইকমিশনার মুআনপুই সাইয়াওই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের নথি বিনিময় করেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পথে শেষ প্রক্রিয়াটিও সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, “দুই দেশের জন্যই বিজয়। ২০ অক্টোবর ২০২৬, বিজয়া দশমীর দিন থেকে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হচ্ছে (Vijay Dashami)।”

    চুক্তি সই হয়েছিল এপ্রিলে (India New Zealand FTA)

    গত ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির আওতায় নিউজিল্যান্ড ভারত থেকে আমদানি করা ১০০ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক তুলে নেবে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। বস্ত্র ও পোশাক, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, গাড়ি, রত্ন ও গয়না, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, চা, কফি এবং মশলার মতো একাধিক ভারতীয় পণ্য এর আওতায় আসবে।

    অন্যদিকে, ভারত নিউজিল্যান্ড থেকে বর্তমান আমদানির প্রায় ৯৫ শতাংশের উপর শুল্ক তুলে নেবে অথবা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫৭ শতাংশ রফতানি ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর মধ্যে রয়েছে ভেড়ার মাংস, উল, কয়লা এবং বনজ ও কাঠজাত পণ্য।

    ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আরও এক দফা শুল্ক হ্রাসের কথা রয়েছে। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের জন্য ভারতের বাজারে নির্বাচিত কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক কোটা ব্যবস্থাও থাকবে। আপেল, কিউই এবং অ্যালবুমিনের মতো পণ্য এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে ভারতের দুগ্ধশিল্পের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুরক্ষা বজায় রাখা হয়েছে।

    বাড়বে সুবিধার পরিসর

    শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, চুক্তিতে পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মানুষের যাতায়াত সংক্রান্ত ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে রফতানিকারী, বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য নিয়ম ও বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিশ্চয়তা তৈরি হবে (India New Zealand FTA)।

    দুই দেশের সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং দুই দেশের বাজারে পারস্পরিক প্রবেশাধিকার আরও সহজ করা। নিউজিল্যান্ডের ব্যবসাগুলি এর মাধ্যমে ভারতের বিরাট বাজারে আরও বেশি সুযোগ পাবে। একইভাবে ভারতীয় রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে বিস্তৃত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন (Vijay Dashami)।

    সলতে পাকানো শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালে

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ২০২৫ সালের মার্চে নতুন করে শুরু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ হয় এবং ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডের সংসদ চুক্তিটি কার্যকর করার প্রয়োজনীয় আইন অনুমোদন করে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের নথি বিনিময় করে (India New Zealand FTA) দুই দেশ।

     

  • India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    India new Zealand Trade Deal: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের পথে আরও এক ধাপ, আইন পাস নিউজিল্যান্ডের সংসদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করেছে নিউজিল্যান্ডের (India new Zealand Trade Deal) সংসদ। বুধবার ৯৩-২৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধী লেবার পার্টিও বিলটির পক্ষে (Tariff Relief) ভোট দিয়েছে।

    চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে ভারতে রফতানি করা নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক হয় তুলে দেওয়া হবে, নয়তো তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ডের মোট রফতানির ৫৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। পরবর্তী সময়ে এই সুবিধার ক্ষেত্র আরও বাড়বে।

    নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে বলেন, “রফতানিকারীদের জন্য এর সুফল তাৎক্ষণিক এবং উল্লেখযোগ্য। আমরা আশা করছি, এই উচ্চমানের চুক্তি চলতি বছরেই কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে এই মেয়াদে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।”

    শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা (India new Zealand Trade Deal)

    চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে নিউজিল্যান্ডে আমদানি করা পণ্যের উপরও চুক্তি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম কমার সুযোগ তৈরি হবে।

    চুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টিও রয়েছে। নিউজিল্যান্ড আগামী ১৫ বছরে ভারতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। এই বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা ব্যবস্থাও গড়ে তুলবে (India new Zealand Trade Deal)।

    ভারত ও নিউজিল্যান্ড চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিটি কার্যকর করার আগে দুই দেশকেই নিজেদের আইনি ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

    দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ

    দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯৯ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার, যা ভারতকে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ও পরিষেবার নবম বৃহত্তম রফতানি বাজারে পরিণত করেছে।

    নতুন চুক্তির ফলে ফল, মধু, কাঠ, উল, মৎস্যজাত পণ্য, মদ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের পণ্য ভারতে আরও সুবিধাজনক বাজার-প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে, ভারতীয় পণ্যও নিউজিল্যান্ডের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে।

    উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের সংসদে চুক্তি কার্যকরের জন্য আইন পাস হলেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। দুই দেশের নিজ (Tariff Relief) নিজ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই তা কার্যকর হবে (India new Zealand Trade Deal)।

     

  • India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে ভারতের (India-Canada Ties)। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থেকে ভারত পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কানাডা থেকে ভারতের (India-Canada Bilateral Trade) আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে ভারতের রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্যের ভিত্তিতে রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডা থেকে ভারতের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৬.১ শতাংশ কমে ৩৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, কানাডায় ভারতের রফতানি ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং দুদেশের মধ্যে শুরু হওয়া ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে বড় সুযোগ খুলল। দুদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অনেকটাই এগোল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোচনা।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর কানাডা সফর

    এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও আমেরিকা সফর করছেন। কানাডার অর্থ ও ন্যাশনাল রেভিনিউ মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সঙ্গে প্রথম ভারত-কনাডা অর্থনৈতিক ডায়ালগ (India-Canada Economic and Financial Dialogue)-এও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এই বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    বাণিজ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত—কীভাবে?

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যের (India-Canada Bilateral Trade) এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ রফতানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানির উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৩৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও পরের বছর বেড়ে ৪২০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে তা ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছয়। অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬-এর মধ্যে ভারতের রফতানি বেড়েছে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ২০২১-২২ সালে ৩১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ৪৪০ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ সালে বড় ধাক্কা খেয়ে নেমে আসে ৩৩০ কোটি ডলারে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ছিল ৭০ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ২০ কোটি ডলার, সেখান থেকে ২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৪০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য কমে ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি যতটা কমেছে, রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণ তার তুলনায় কম।

    কানাডায় কী বিক্রি করছে ভারত?

    ভারতের কানাডা-রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠেছে ওষুধ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে। ২০২১-২২ সালে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়াও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, হিরে, মূল্যবান ধাতুর গয়না এবং ক্রাস্টেশিয়ান জাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য—প্রতিটি পণ্যশ্রেণি ভারতের রফতানিতে প্রায় ৩ শতাংশ করে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডাল ও অন্যান্য শুকনো শুঁটি জাতীয় খাদ্যশস্য। ২০২৫-২৬ সালে কানাডা থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল এই পণ্যগুলি। ২০২১-২২ সালে যা ছিল ১৩ শতাংশ। কানাডা থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ ও মহাকাশযান-সংক্রান্ত পণ্যের অংশও বেড়েছে—৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে। পটাশিয়াম-ভিত্তিক সারের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। তবে কয়লার ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। ভারতের মোট কানাডিয় আমদানিতে কয়লার অংশ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটের অংশ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

    আমেরিকা-কানাডা শুল্কযুদ্ধ

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হয়ে উঠতে পারে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে চলা শুল্ক সংঘাত। ২২ আগস্ট থেকে আমেরিকা কানাডার প্রায় ২৭৬০ কোটি ডলারের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডাও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের উপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ইস্পাত, কৃষি সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন পণ্য এই শুল্কের আওতায় রয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্য কানাডায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে কানাডিয় আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুবিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পণ্যশ্রেণিগুলিতে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের রফতানি ছিল প্রায় ৩৭৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য থেকে এসেছে ২৯২.৫১ মিলিয়ন ডলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে ২২৬.০১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া লোহা ও ইস্পাতের রফতানি ছিল ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং কাগজ ও পেপারবোর্ডের রফতানি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

    ১০০ কোটি ডলারের সুযোগ অনিশ্চিত

    আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাতের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে সরাসরি ১০০ কোটি ডলারের নতুন বাজার খুলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, এই হিসেব করা হয়েছে পণ্যের বৃহৎ দুই-অঙ্কের হারমোনাইজড সিস্টেম (HS) ধরে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রায় ৬২৯টি নির্দিষ্ট ট্যারিফ লাইনের উপর কার্যকর হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাস্তবে কতটা লাভবান হবে তা নির্ভর করবে কোন পণ্য শুল্কের আওতায় পড়ছে, মার্কিন পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের মূল্য কতটা প্রতিযোগিতামূলক, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, কানাডার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের উপর। তবে আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যখন ভারত ও কানাডা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    ভারত ও কানাডা (India-Canada Ties) দুই দেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (Comprehensive Economic Partnership Agreement বা CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৫০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারত-কানাডা বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যে ভারত কিছুদিন আগেও কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিতে ছিল, এখন সেই ভারতই কানাডায় অনেক বেশি পণ্য বিক্রি করছে, আমদানি করছে তুলনামূলকভাবে কম। সিইপিএ এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক-সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যে আগামী দিনে এই বাণিজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

  • India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই। মঙ্গলবার কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিন দিনের (Investment Protection Pact) কানাডা সফরের প্রথম দিনেই টরন্টোয় পৌঁছন তিনি। তাঁর এই সফর গত দশ বছরে কানাডায় প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর। টরন্টোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীতারামন জানান, দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা চুক্তিটি শেষ করার চেষ্টা করব।”

    বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি (India Canada)

    তবে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ভর করবে কানাডার অর্থ ও জাতীয় রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সম্মতির উপর। সীতারামনের সফরে তাঁর সঙ্গে একদল আধিকারিকও রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার টরন্টোয় দুই দেশের অর্থমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপের সূচনা করবেন। মঙ্গলবার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেনও জানিয়েছিলেন যে তিনি সীতারামনকে আতিথ্য দেবেন। টরন্টোয় ভারতের কনসুলেট জেনারেল আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের কর্পোরেট ও পেশাজীবী মহলের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন সীতারামন। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

    যদিও সীতারামন সরাসরি উল্লেখ করেননি, তাঁর বলা বছরের শেষের সময়সীমাটি ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়সীমার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথভাবে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সীতারামন জানান, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তার পর থেকে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও উদার, অগ্রসর এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের আর্থিক সুরক্ষা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় (India Canada)।”

    কী বলছেন সীতারামন

    অনুষ্ঠানে সীতারামনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও (Investment Protection Pact) তুলে ধরেন সীতারামন। ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীতারামনের কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অভূতপূর্ব গতিশীল পারস্পরিক সফর ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।” ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের স্বাভাবিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। আমরা দু’টি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় কাঠামো এবং একই সরকারি ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে (India Canada)।”

    ভারত-কানাডার সম্পর্ক

    এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন সীতারামন। মঙ্গলবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে কানাডা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পুঁজি যখন নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সন্ধান করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ওঠানামা সামলানোর পথ খুঁজছে, তখন ভারত ও কানাডার সামনে আরও গভীর এবং বহুমুখী আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সীতারামন বলেন, এই সম্ভাবনা কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, আর্থিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি, উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও কানাডার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই এগিয়ে নিতে পারে (India Canada)।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    এদিকে টরন্টোয় সীতারামনের বুধবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কানাডার কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। কানাডা-ভারত ব্যবসায়িক পরিষদ এবং ভারতের শিল্প মহলের শীর্ষ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি—দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে (Investment Protection Pact)। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, তখন ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অগ্রগতি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার (India Canada)।

    ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

    অন্যদিকে, কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ভারত-কানাডা (India Canada) আর্থিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গিফট সিটি এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বুধবার টরন্টোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন সীতারামন। সেখানে তিনি বলেন, পরিসর, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই সবকিছুর এমন সমন্বয় ভারতকে তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অন্যদের পক্ষে কঠিন (Investment Protection Pact)।ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র গিফট সিটির গুরুত্ব তুলে ধরে সীতারামন বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এটি ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্তপারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তৈরি নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং করব্যবস্থা গিফট সিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, “কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে না, ভারতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে।”

    ইউপিআই

    ভারত-কানাডা সহযোগিতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইউপিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India Canada)। সীতারামন বলেন, “এখানে কানাডার ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। শুধু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে (Investment Protection Pact)।”

     

  • PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    PM Modi: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর, কৃষক থেকে পেশাজীবী—সব ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি। আজ, বুধবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় গেল এই দুই চুক্তি। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই দুই চুক্তির ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ব্যবসা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি, পরিষেবা ও দক্ষ পেশাজীবীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি ভারত-ইউকে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি এবং সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এই চুক্তিগুলি আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দেবে এবং দুই দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।” তিনি এও বলেন, “এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতের কৃষক, উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য নতুন গতি এনে দেবে। ভারতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্র ব্রিটেনের বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পাবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি, পেশাদার পরিষেবা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বিস্তৃত হবে।”

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

    প্রধানমন্ত্রী জানান, সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তিটি বিশেষভাবে সেই সব ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কাজ করতে যান। তাঁর কথায়, “সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই চুক্তি ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা নিয়ে আসবে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বাড়াবে। এই পদক্ষেপ আমাদের দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনভিত্তিক ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের প্রতিফলন (PM Modi)।” প্রসঙ্গত, প্রায় তিন বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরে গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার থেকে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি কার্যকর হয়েছে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত দ্বৈত অবদান সংক্রান্ত চুক্তিও। এই ব্যবস্থার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয় কর্মীদের একই সময়ে দুই দেশের সামাজিক সুরক্ষা তহবিলে অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে। ফলে তাঁদের আর্থিক সাশ্রয় হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলিও কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পারবে (FTA)। ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হওয়া হাজার হাজার পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, পরিষেবা খাত, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পেশাজীবীদের চলাচল, মেধাস্বত্ব এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ও এই চুক্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (PM Modi)।

    কী কী সুবিধে মিলবে

    চুক্তি অনুযায়ী, মূল্যমানের নিরিখে ভারতের প্রায় ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্য ব্রিটেনের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে দেশের বস্ত্রশিল্প, রেডিমেড পোশাক শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জুতো শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক পণ্য, টেক-সামগ্রী, রাসায়নিক শিল্প এবং কৃষিজ পণ্যের রফতানিতে বড় ধরনের সুবিধা মিলবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (FTA)। অন্যদিকে, ভারত ধাপে ধাপে ব্রিটেন থেকে আমদানি হওয়া কিছু নির্বাচিত পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্কচ হুইস্কি, জিন এবং কিছু বিলাসবহুল গাড়ি। এর ফলে আগামী দিনে ভারতীয় বাজারে এই পণ্যগুলির দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও শুল্ক হ্রাস ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, তাই এর প্রভাবও পর্যায়ক্রমে দেখা যাবে (PM Modi)।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে শুধু পণ্য রফতানিই নয়, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদের আদানপ্রদানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পেশাদার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির জন্য ব্রিটেনের বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

    শিল্প-বাণিজ্য মহলের প্রতিক্রিয়া

    ভারত ও ব্রিটেনের শিল্প ও বাণিজ্য মহলও এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তির ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৮ বিলিয়ন পাউন্ড। অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই অঙ্ক দ্বিগুণ হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (PM Modi)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই আরও সুদৃঢ় করবে না, বরং ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, শিক্ষা, পরিষেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদ বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি করবে। ফলে ভারত ও ব্রিটেনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও (FTA) শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিও নতুন গতি পাবে বলে আশা (PM Modi)।

     

  • India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    India Indonesia: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে নয়া পদক্ষেপ, রুপি-রুপিয়ায় বাণিজ্য জোরদার করছে ভারত-ইন্দোনেশিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল ভারত ও ইন্দোনেশিয়া (India Indonesia)। দুই দেশ নিজেদের মুদ্রায় বাণিজ্য দ্রুত বাড়ানোর সিদ্ধান্তে জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং (Local Currency Settlement Framework) গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ককে ‘সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বে’র পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। ৬ ও ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরের সময় এই উদ্যোগ নতুন করে গতি পায়। ওই সফরেই দুই দেশ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তারের রূপরেখা তৈরি করে।

    স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন (India Indonesia)

    এই অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়ন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের রফতানিকারী ও আমদানিকারীরা সরাসরি ভারতীয় টাকা (রুপি) এবং ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় বাণিজ্যিক লেনদেন করতে পারবেন। ফলে মার্কিন ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হয় ২০২৪ সালের ৭ মার্চ দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ের (MoU) মাধ্যমে। সেটাই গতি পেল প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জাকার্তা সফরের পর। এর লক্ষ্য, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করা এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো। স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ফলে ব্যবসায়ীরা ডলারে অর্থ রূপান্তরের অতিরিক্ত খরচ এড়াতে পারবেন। পাশাপাশি বিনিময় হারের ওঠানামার ঝুঁকিও কমবে, যার ফলে সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে (Local Currency Settlement Framework)।

    মোদির জাকার্তা সফর

    সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দু’মাসে ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৬৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৮৪৫ কোটি মার্কিন ডলারে। এতে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থার প্রতি ব্যবসায়িক আস্থারও প্রতিফলন ঘটেছে। এই উদ্যোগের উল্লেখ প্রথম করা হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ভারত সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে। ২০২৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়া যৌথ কমিশনের বৈঠকেও বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সেই বৈঠক থেকেই মোদির জাকার্তা সফর, এবং আর্থিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয় (India Indonesia)। ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের ডেপুটি চিফ ইউধো সাসোংকো জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংহতি, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকেও একসূত্রে বাঁধার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদান ব্যবস্থা এবং ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দ্রুত প্রতিক্রিয়া কোডভিত্তিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে সংযুক্ত করার কাজ এগোচ্ছে।

    কী সুবিধে হবে

    এই সংযোগ চালু হলে দুই দেশের পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভারতীয় টাকা বা ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়ায় খুচরো লেনদেন করতে পারবেন। এতে ডলারের ওপর নির্ভরতা আরও কমবে এবং সীমান্ত পেরিয়ে ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার ব্যবহার বাড়বে (India Indonesia)। একই সঙ্গে দুই দেশই নিজেদের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভারত পরীক্ষামূলকভাবে ই-রুপি চালু করেছে, অন্যদিকে ব্যাঙ্ক ইন্দোনেশিয়া তাদের ডিজিটাল রুপিয়া প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ালেও ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ডলারকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার পথে হাঁটছে না। বরং লেনদেনের খরচ কমানো, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করা এবং আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দুই দেশই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কৌশলগত ও আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখছে (Local Currency Settlement Framework)।

    ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি

    ভারত যেমন বেসরকারি ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রে সতর্ক নীতি অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রার ওপর জোর দিচ্ছে, তেমনই ইন্দোনেশিয়াও বিকেন্দ্রীভূত ক্রিপ্টোকারেন্সির বদলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতীয় টাকা-ইন্দোনেশীয় রুপিয়া ভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল পরিকাঠামো, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আর্থিক সংযোগকে কেন্দ্র করে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া চাইছে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে (India Indonesia)।

     

  • PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়ীদের ভারতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপরও জোর দেন (India Backs CECA Deal) তিনি।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়া-ভারত প্রধান এক্সিকিউটিভ কর্তাদের ফোরাম এবং অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে যৌথভাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি, প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠান শেষে এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দু’হাজার তেইশ সাল থেকে এই ফোরাম উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি এই আলোচনায় যোগ দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।”

    ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান

    মোদি জানান, বৈঠকে বিমান চলাচল, পরিবহণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা, আর্থিক পরিষেবা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতা উন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভারত প্রবৃদ্ধি ও উদ্ভাবনের জন্য অতুলনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ এবং নতুন উদ্ভাবনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি (PM Modi)।” ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নীতিগত সংস্কার, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দ্রুত বিস্তৃত উদ্ভাবনভিত্তিক পরিবেশের কথা তুলে ধরে বলেন, এগুলি অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে (India Backs CECA Deal)।

    ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি

    প্রধানমন্ত্রী এও জানান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক। উৎপাদন শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, খনিশিল্প, পরিকাঠামো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), আর্থিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বিশাল বাজার এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষতার সমন্বয় উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি লগ্নির সুযোগ কাজে লাগাতে অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান মোদি (PM Modi)। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতে কার্যক্রম সম্প্রসারণ ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ কাজে লাগানোয় জোর

    অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে থাকা স্বাভাবিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, অর্ধপরিবাহী, এআই, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং প্রতিরক্ষা খাতে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের দু’শোরও বেশি প্রধান এক্সিকিউটিভ আধিকারিক ও শিল্পোদ্যোগী অংশ নেন। মোদি বলেন, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় জনসংযোগ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক বোঝাপড়া ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে মজবুত ভিত তৈরি করেছে (PM Modi)।” ব্যবসায়িক নেতাদের রেয়ার আর্থ খনিজ, লিথিয়াম, ব্যাটারি, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক যানবাহন, অর্ধপরিবাহী, এআই এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রে উভয় দেশের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

    বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতি

    দু’হাজার বাইশ সালে কার্যকর হওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমন্বিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।” তিনি আরও জানান, দ্বিপাক্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে নিজ নিজ বিশেষ দক্ষতাকে ভিত্তি করে গতিশীল অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা প্রয়োজন। বর্তমানে দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃত যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। দু’হাজার পঁচিশ-ছাব্বিশ অর্থবর্ষে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দু’হাজার চারশো দশ কোটি মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে (India Backs CECA Deal) ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি যাবেন নিউজিল্যান্ডে।

     

  • PM Modi: ঐতিহাসিক সফরে মোদিকে বিশেষ সম্মান, ভারতীয় তেরঙায় আলোকিত স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্লাভা দুর্গ

    PM Modi: ঐতিহাসিক সফরে মোদিকে বিশেষ সম্মান, ভারতীয় তেরঙায় আলোকিত স্লোভাকিয়ার ব্রাতিস্লাভা দুর্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) ঐতিহাসিক স্লোভাকিয়া সফর স্মরণীয় করে রাখতে ভারতীয় জাতীয় পতাকার রঙে আলোকিত করা হল ঐতিহাসিক ব্রাতিস্লাভা দুর্গকে (Bratislava Castle)। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়া সফরে যাওয়ায় বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে এই সফর।

    তেরঙায় আলোকিত স্লোভাকিয়ার ক্যাসেল (PM Modi)

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ব্রাতিস্লাভা ক্যাসেলের আলোকসজ্জার ছবি শেয়ার করে একে “ইতিহাসের ছোঁয়ায় উদযাপিত এক ঐতিহাসিক সফর” বলে উল্লেখ করেন। দানিউব নদীর তীরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই বিখ্যাত দুর্গকে গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রঙে সাজিয়ে ভারত-স্লোভাকিয়া বন্ধুত্বের উষ্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর মধ্যে ব্রাতিস্লাভা ক্যাসেলেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাস বহনকারী এই দুর্গ বর্তমানে স্লোভাক ন্যাশনাল মিউজিয়ামের অংশ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।

    কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য

    কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতের জাতীয় পতাকার রঙে ক্যাসেলকে আলোকিত করার সিদ্ধান্ত শুধু আনুষ্ঠানিক সম্মান নয়, বরং ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করার রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও দেয় (PM Modi)। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রথমবার ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চৌকাঠ পেরোয়। পরের বছর সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যার মধ্যে ভারতের রফতানি ১.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানি ২৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে স্লোভাকিয়ায় প্রায় ১১ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, যা ইউক্রেনীয়দের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাসী সম্প্রদায়। ব্রাতিস্লাভা, কোশিচে ও নিত্রার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ ভারতীয় ছাত্রছাত্রী চিকিৎসা, টেকনোলজি ও কমার্স নিয়ে পড়াশোনা করে।

    ভারত-স্লোভাকিয়ার সম্পর্ক

    এই সফরে ভারত ও স্লোভাকিয়া তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপে’ উন্নীত করেছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি লেটার অব ইনটেন্ট সই এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সদস্য এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পোন্নত দেশ স্লোভাকিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বেশি করে কৌশলগত গুরুত্ব পাবে (Bratislava Castle)। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ এবং নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ার্স গ্রুপে ভারতের সদস্যপদের দাবিতে স্লোভাকিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ইতিবাচক অবস্থান (PM Modi) বজায় রেখেছে।

     

  • India South Korea: ভারতের সঙ্গে এআই-সহ ১৫টি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করল দক্ষিণ কোরিয়া

    India South Korea: ভারতের সঙ্গে এআই-সহ ১৫টি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষর করল দক্ষিণ কোরিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জেই মাইয়াং (India South Korea)। সোমবার তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য একটি রূপরেখাও তুলে ধরেন।

    ১৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর (India South Korea)

    ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া মোট ১৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জাহাজ নির্মাণ এবং এআই (AI)-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে এই চুক্তিগুলি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য মন্ত্রিস্তরের একটি শিল্প সহযোগিতা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “বর্তমানে বার্ষিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যকে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চাই।” দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “এখন এই বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব নতুন এক দশকে প্রবেশ করছে।” দুই নেতা বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

    ভারত ‘গ্লোবাল সাউথে’র নেতা

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভারতকে ‘গ্লোবাল সাউথে’র নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন (India South Korea)। “বিকশিত ভারত ২০৪৭” ভিশনের অধীনে দেশের দ্রুত উন্নয়নের প্রশংসাও করেন তিনি। অভ্যর্থনার জন্য ভারতকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমায় এবং আমার প্রতিনিধিদলকে যে উষ্ণ আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই (India South Korea)।” প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি দেশ। আট বছর পর এই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।”

    প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

    তিনি বলেন, “আমরা একটি শিল্প সহযোগিতা কমিটি গঠন করব, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রথম মন্ত্রিস্তরের প্ল্যাটফর্ম হবে।” এই কমিটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সম্পর্ক শক্তিশালী করার ওপর জোর দেবে (India South Korea)। প্রেসিডেন্ট লি এও বলেন, “আমরা গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন— গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, পারমাণবিক শক্তি এবং ক্লিয়ার এনার্জিতে সহযোগিতা বাড়াব।” এই খাতগুলি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মজবুত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জ্বালানি নিরাপত্তাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জ্বালানি সম্পদ ও ন্যাফথার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”

    প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সিইপিএ (CEPA) চুক্তি আপগ্রেড করার আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজি হয়েছি, যাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় (India South Korea)।” ছোট ও মাঝারি ব্যবসার সহায়তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ (India South Korea) দিক। তিনি বলেন, “আমরা এসএমই খাতে সহযোগিতার জন্য এমওইউ সংশোধন করব।” বক্তৃতার একেবারে শেষে তিনি আবারও বলেন, “এই সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে চাই (India South Korea)।”

     

  • Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    Russia: সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী, কী নিয়ে আলোচনা হবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুদিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভ (Deputy PM Manturov)। আজ, ২ এপ্রিল ভারত সফরে এসেছেন তিনি, যা দুই দিনের একটি সরকারি সফর। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা। তিনি ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন, যা আদতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক্স-এ (X) একটি পোস্টে জানায়, “রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রথম উপ-চেয়ারম্যান এবং ভারত–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের সহ-সভাপতি ডেনিস মান্তুরভকে নয়াদিল্লিতে আন্তরিক স্বাগত। সফরের সময় তিনি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অংশ নেবেন অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়ও।”

    দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা (Russia)

    ভারতে রাশিয়ার দূতাবাসের তরফেও তাঁর আসার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, চলতি সফরে রুশ নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক আলোচনা হবে। সফরের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে মান্তুরভ বলেন, “এই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সামগ্রিক সম্প্রসারণ (Deputy PM Manturov)।” তিনি এও বলেন, “পারস্পরিক অর্থপ্রদান ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, লজিস্টিক চেন শক্তিশালী করা, বাজারে প্রবেশের সুযোগ উন্নত করা এবং নতুন বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পকে উৎসাহিত করা—এই বিষয়গুলি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গৃহীত ২০৩০ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হবে।”

    সফরের বহুমুখী গুরুত্ব

    নয়াদিল্লতে থাকার সময় মান্তুরভ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন, যা এই সফরের বহুমুখী গুরুত্বকে তুলে ধরে। এই সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে (Deputy PM Manturov)। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য প্রায় ৬৮.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে রাশিয়ার রফতানি ছিল ৬৩.৮ বিলিয়নেরও বেশি, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ বিলিয়নের কম। এই ভারসাম্যহীনতার প্রধান কারণ ভারতীয় বাজারে সস্তা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি বৃদ্ধি।

    ভারতের তেল আমদানির পরিমাণ

    ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের তেল আমদানির মাত্র ২.৫ শতাংশ আসত রাশিয়া থেকে। ২০২৪–২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৮ শতাংশ হয়েছে। এটি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা মোকাবিলা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের একটি কৌশলের অংশ (Deputy PM Manturov)। ভারত ও রাশিয়া এখন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা। এছাড়া বাণিজ্যের কাঠামোগত বাধা দূর করা এবং ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের (EAEU) সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারত একই সঙ্গে তার জ্বালানি আমদানির উৎস ২৭ দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১ দেশে সম্প্রসারণ করেছে, যাতে নির্ভরতা কমে।

    ব্রিকস সম্মেলন

    রাশিয়ার উপ-বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রে রুডেনকো জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তিনি জানান, মস্কো এই সম্মেলনে ঐকমত্য গঠনে ভারতের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে। তিনি আরও জানান, রাশিয়া ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পেট্রোল রফতানি নিষিদ্ধ করলেও বর্তমানে যে তেল চুক্তি রয়েছে, তাকেও সম্মান করবে (Deputy PM Manturov)। রুডেনকো বলেন, “ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে নিয়মিত এবং ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে রাশিয়া সফর করবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে এসেছিলেন। এবার পরবর্তী সম্মেলন মস্কোয় হবে। সেখানেই ফের একবার মুখোমুখি হতে পারেন পুতিন-মোদির (Deputy PM Manturov)।

     

LinkedIn
Share