Tag: BJP Govt

BJP Govt

  • PM Modi: শ্যামাপ্রসাদের সহযোগী মাখনলাল সরকারকে প্রণাম প্রধানমন্ত্রীর, জানুন তাঁর অবদানের কথা

    PM Modi: শ্যামাপ্রসাদের সহযোগী মাখনলাল সরকারকে প্রণাম প্রধানমন্ত্রীর, জানুন তাঁর অবদানের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরে পূরণ হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন! পশ্চিমবঙ্গের কুর্সিতে বসল বিজেপি। আজ, শনিবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হল ব্রিগেডে। মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ছিলেন আরও অনেকে। এই ভিড়েই ছিলেন শ্যামাপ্রসাদের সহযোগী মাখনলাল সরকারও। তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করলেন প্রণামও। নবতিপর মাখনলালের চোখেমুখে তখন স্পষ্ট আত্মতুষ্টির ছাপ (BJP History)।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (PM Modi)

    ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পরে এই সংগঠনই বিজেপি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই শ্যামাপ্রসাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মাখনলাল। ১৯৫২ সালে যখন শ্যামাপ্রসাদ কাশ্মীরে ভারতীয় ত্রিবর্ণ রঞ্জিত পতাকা উত্তোলনের আন্দোলন করছিলেন, তখনও তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাখনলাল। তার  জেরে গ্রেফতার হন তিনি। দেশাত্মবোধক গান গাওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় দেশে রাজ করছে কংগ্রেস। আদালতে তোলা হয় মাখনলালকে। বিচারপতি তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

    মাখনলালের সাফ কথা 

    মাখনলাল সাফ জানিয়ে দেন, “ক্ষমা চাইব না, কারণ কোনও অপরাধ করিনি (PM Modi)।” বিচারপতি তাঁকে সেই গানটি গাইতে বলেন। মাখনলাল গানটি গেয়ে শোনান বিচারপতিকে। তারপরেই পুলিশকে বিচারপতির নির্দেশ, এঁকে ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কেটে দিন, সঙ্গে দিন ১০০ টাকাও। বঙ্গ বিজেপির সবচেয়ে প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে অন্যতম মাখনলাল। এই প্রথম বঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হল বিজেপি শাসন। সেখানেই তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    শ্যামাপ্রসাদের শেষ সময়ের সঙ্গী মাখনলাল

    মাখনলাল বিজেপি-অনুগত প্রাণ। শ্যামাপ্রসাদের জীবনের শেষের দিনগুলিতেও তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাখনলাল। কাশ্মীরে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় শ্যামাপ্রসাদের। তাঁর শেষ সময়েও সঙ্গী ছিলেন এই মাখনলাল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মাখনলালের শিলিগুড়ির বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে (BJP History) এ পর্যন্ত কীভাবে বিজেপিতে অবদান রেখেছেন মাখনলাল, এদিনের অনুষ্ঠানে তা স্মরণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (PM Modi)।

     

  • Brigade Rally: ‘জাতে’ তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, শনিবারের ব্রিগেডে দেদার বিকোল ঝালমুড়ি, দোসর কমলাভোগ

    Brigade Rally: ‘জাতে’ তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, শনিবারের ব্রিগেডে দেদার বিকোল ঝালমুড়ি, দোসর কমলাভোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গের গ্রামাঞ্চলে ঝালমুড়িই রোজকার ব্রেকফাস্ট। প্রচারে বেরিয়ে ঝাড়গ্রামে সেই ঝালমুড়ি খেয়েই বাঙালির এই অতি পরিচিত খাবারটিকে ‘জাতে’ তুলে (Brigade Rally) দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নিল বিজেপি সরকার (Jhalmuri)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের ব্রিগেডে চাঁদের হাটে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। সেখানেও হটকেকের মতো বিকোল ঝালমুড়ি।

    হাতে হাতে ঘুরছে ঝালমুড়ির ঠোঙা (Brigade Rally)

    ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তৈরি হয়েছে শপথ গ্রহণ মঞ্চ। সেখানে ঢোকার মুখে মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে ঝালমুড়ির ঠোঙা। ঝালমুড়ি খেয়ে রীতিমতো সেলিব্রেশন মুডে পদ্ম কর্মী-সমর্থকরা। এক বিজেপি সমর্থক বলেন, “প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন। এবার আমরাও খাচ্ছি।” তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আরও একজন (Brigade Rally)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “ঝালমুড়ি খেয়ে খুব আনন্দ পাচ্ছি। ঝালে দিদি জ্বলুক। আমরা দিদির উদ্দেশ্যেও ঝালমুড়ি পাঠাতে চাই।” ঝালমুড়ির পাশাপাশি দেদার বিকোচ্ছে সীতাভোগ, মিহিদানাও। সব স্টলেই ভিড়। এসব খেতে খেতেই মাঝে মধ্যে ব্রিগেড কেঁপে উঠছে জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে।

    কমলা মিষ্টিতে রঙিন ব্রিগেড

    এদিন ব্রিগেডে সব মিলিয়ে কেবল ঝালমুড়ির স্টলই ছিল ২০টি। মাঠেও লাগাতার ঝালমুড়ি বিক্রি করে চলেছেন ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা। ঝালমুড়ির পাশাপাশি স্টল ছিল কমলা রংয়ের বিভিন্ন মিষ্টিরও। ট্রে-তে থরে থরে সাজানো কমলা রসগোল্লা, কমলাভোগ, লাড্ডু, পদ্মছাপ সাদা সন্দেশ, শঙ্খ মিষ্টি ইত্যাদি। এদিন রবীন্দ্রজয়ন্তী। তাই সকাল থেকেই ময়দানে বেজেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত। তারই পাশাপাশি দর্শকদের মুখে শোনা গিয়েছে জয় শ্রীরাম ধ্বনিও (Jhalmuri)। প্রসঙ্গত, এটি পশ্চিমবঙ্গের অষ্টদশ বিধানসভা। বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাও শুভেন্দুই। তাঁরই কাঁধে তুলে দেওয়া হল বাংলার শাসন ভার। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ২৩টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিজেপির তাবড় নেতা-নেত্রীরা (Brigade Rally)।

     

  • Jal Jeevan Mission: কাজ শুরু হয়ে গেল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের! বিরাট বরাদ্দ মিলল জল জীবন মিশন প্রকল্পে

    Jal Jeevan Mission: কাজ শুরু হয়ে গেল ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের! বিরাট বরাদ্দ মিলল জল জীবন মিশন প্রকল্পে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারে বাংলায় এসে বারংবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজ্যবাসীকে বুঝিয়েছিলেন ‘ডাবল ইঞ্জিন’ (BJP) সরকারের গুরুত্বের কথা। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকার থাকলে যে বিশেষ সুবিধা হয় (Jal Jeevan Mission), তাও জানিয়েছিলেন তিনি। সেই মতো আজ, শনিবার বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির নয়া সরকার শপথ নেওয়ার আগেই মিলল চমক। জানা গিয়েছে, জল জীবন মিশন প্রকল্পের বকেয়া ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কয়েকদিন আগেই, রাজ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা করে রেলও।

    রাজ্যের কোষাগারে ঢুকছে বিপুল টাকা (Jal Jeevan Mission)

    সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের পরেই রাজ্যের কোষাগারে ঢুকবে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, গত দুবছর ধরে জল জীবন মিশনের টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। অভিযোগ ছিল, রাজ্য সরকার বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা টাকার সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। কখনও ফেরত গিয়েছে কেন্দ্রের বরাদ্দ টাকা, কখনও আবার হিসেব দেওয়া হয়নি খরচের, আবার কখনও কেন্দ্রের বরাদ্দ এক খাতের টাকা খরচ করা হয়েছে খয়রাতি এবং তুষ্টিকরণের রাজনীতি করতে গিয়ে। তার জেরে তৃণমূলের জমানায় সেই অর্থে বাংলায় কোনও উন্নয়নই হয়নি বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগেই এবার ইতি পড়তে চলেছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    প্রস্তুতি-পর্বেই দরাজহস্ত এনডিএ সরকার

    যদিও নয়া সরকার গঠিত হওয়ার প্রস্তুতি-পর্বেই দরাজ হস্ত (Jal Jeevan Mission) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। কেন্দ্রীয় জল-শক্তিমন্ত্রকের সচিব ভিএল কান্থা রাওয়ের সঙ্গে রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের সচিবের বৈঠক হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর নয়া সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই কেন্দ্র থেকে রাজ্যের জন্য বড় অঙ্কের বকেয়া বরাদ্দ মঞ্জুর করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, জল জীবন মিশন প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের জন্য প্রায় ২৭০০ কোটি টাকার বকেয়া বরাদ্দ অনুমোদন করেছে কেন্দ্র (BJP)। সূত্রের খবর, বকেয়া বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির সঙ্গে রাজ্যের বৈঠকও হয়েছে। নয়া সরকার গঠন ও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা ছাড়ার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর (Jal Jeevan Mission)।

    রাজ্যে ৮৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পকে গ্রিন সিগন্যাল রেলের

    এর আগে, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কলকাতা মেট্রো আপগ্রেড এবং পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য মোট ৮৯৫ কোটি টাকার প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় রেল। এই সিদ্ধান্তকে রাজ্যের নগর পরিবহণ ও শিল্প পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য একদিকে কলকাতা মেট্রোর যাত্রী পরিষেবা উন্নত হবে, অন্যদিকে পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী রুটকে আরও নিরাপদ ও কার্যকর করে তোলা হবে।

  • Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি হল পরিবার, ব্যক্তি নয় (Family Over Individual)। একাকী বাঁচা যায় না, সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নকশা ও বাস্তবায়ন এই নীতির উপরই গঠিত। প্রকল্পগুলির দিকে নজর রাখলে স্পষ্ট হয় যে বিজেপি সরকারের সামাজিক কল্যাণ দর্শন পশ্চিমি উদারবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মডেলের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে একটি সচেতন আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন—যেখানে ব্যক্তি নয়, পরিবারকেই সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের মৌলিক একক হিসেবে দেখা হয়।

    সরকারি প্রকল্পগুলির পরিকল্পনায় পরিবার

    বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলিতে এই আদর্শের প্রতিফলন স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY 2.0)-এর আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা বা গৃহঋণের উপর সুদের ছাড় দেওয়া হয়। এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির পরিবারগুলিকে। প্রকল্পটি ব্যক্তিকে নয়, সম্পূর্ণ পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত। একইভাবে জল জীবন মিশন, উজ্জ্বলা যোজনা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতেও পরিবারকেই মূল ফোকাস হিসেবে ধরা হয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ করা হয় বাড়িতে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়। পরিষ্কার রান্নার গ্যাস পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। স্যানিটেশনকেও ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে গৃহস্থালির স্তরে শৌচালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দৈনন্দিন অভ্যাস, সামাজিক আচরণ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই সমস্ত উদ্যোগ মিলিয়ে একটি স্পষ্ট নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে—যেখানে পরিবারকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান একক হিসেবে দেখা হয়।

    আদর্শিক স্পষ্টতা, কাকতালীয় নকশা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতি কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক স্পষ্টতার ফল। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘ইন্টিগ্রাল হিউম্যানিজম’ দর্শনে পরিবারকে সেই স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি প্রথম সামাজিক মূল্যবোধ—দায়িত্ব, সহযোগিতা এবং প্রজন্মগত সম্মান—শেখে। এই দর্শন অনুযায়ী, কল্যাণমূলক নীতি মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করবে, কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠবে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, এই দর্শন ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী নয়; বরং স্বাধীনতাকে দায়িত্ব ও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে।

    কেন পরিবারকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার?

    পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পশ্চিমি সমাজে চরম ব্যক্তি-স্বাধীনতার ধারণার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতা পারিবারিক বন্ধন দুর্বল করে এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ক্ষয় করে। এর ফলে পরিবার তার কার্যকর ভূমিকা হারায় এবং যত্ন ও দায়িত্বের ভার রাষ্ট্রের উপর পড়ে। এর বিপরীতে, ‘ধর্ম’-ভিত্তিক জীবনদর্শনের মাধ্যমে পরিবারকে সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কল্যাণ কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া দান নয়, বরং সেই পরিবারগুলিকে সহায়তা করা, যারা সামাজিক সামঞ্জস্য ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে। বিজেপির মতে, পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতির মাধ্যমে সরকার একটি গভীর সভ্যতাগত বার্তা দিচ্ছে—উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, বরং শক্তিশালী পরিবারের মাধ্যমে সামাজিক সামঞ্জস্য পুনর্গঠন।

    বসুধৈব কুটুম্বকম ও একীভূত ভারত ভাবনা

    বিজেপি সরকারের পরিবার-কেন্দ্রিক (Family Over Individual) দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—বিশ্ব এক পরিবার—এই ধারণা। এই ভাবনায় পরিবারই সামাজিক জীবনের কেন্দ্র, যেখানে মূল্যবোধ, দায়িত্ব ও অন্যের প্রতি যত্নের শিক্ষা শুরু হয়। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভারতকে একটি সমন্বিত পরিবার হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন, যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য বজায় থাকে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনসংঘের নেতৃত্বে থাকা এই চিন্তাবিদ তাঁর দার্শনিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে বিজেপির আদর্শিক দিশা নির্ধারণ করে গিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামো সেই দর্শনেরই আধুনিক রূপ—যেখানে নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন।

LinkedIn
Share