Tag: border security force

border security force

  • Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া পদক্ষেপের জেরে এবার বড়সড় চাপে পড়েছেন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক ধরপাকড়, নজরদারি এবং পরিচয়পত্র যাচাই অভিযানের পর বহু বাংলাদেশি বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকা ও ট্রানজিট পয়েন্টে ভিড় জমাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। অনেকে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করার পর হঠাৎ পরিস্থিতির বদলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরোনো, সক্রিয় দালালচক্র

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সুসংগঠিত দালালচক্র সক্রিয় ছিল, যারা বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ভারতে ঢোকানোর ব্যবস্থা করত। সীমান্তের যে অংশে বিএসএফের টহলে “ফাঁক” থাকত, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হতো। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার এক কাঠমিস্ত্রি জানিয়েছেন, তিনি রাতের অন্ধকারে বিএসএফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক দালালকে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরপর সুযোগ বুঝে তাঁকে ভারতে ঢোকানো হয়। তাঁর কথায়, “কখনও পুরো রাত অপেক্ষা করতে হয়, আবার কখনও ১০ মিনিটেই সীমান্ত পার হওয়া যায়।” আরও এক অনুপ্রবেশকারী জানিয়েছেন, সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে এজেন্টের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে ট্রেনে করে বেঙ্গালুরু পৌঁছে যান।

    জাল আধার, ভোটার কার্ড ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ

    সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে পরিচয়পত্র জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক মদতের প্রসঙ্গে। একাধিক বাংলাদেশি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় তাঁদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোকজনই আমাকে ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল। এমনকি আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকাও দুই-তিন বছর পেয়েছি।”
    অন্য এক ব্যক্তি দাবি করেন, মাত্র ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁরা সহজেই ভাড়াবাড়ি নেওয়া, কাজ পাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হন।

    “বাবা ছোটবেলায় ভারতে নিয়ে এসেছিল”

    সীমান্তে অপেক্ষারত অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের খুলনার সালাম দালি নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে ৮-১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছিলেন এবং কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। আরেক ব্যক্তি বলেন, “আমি যখন ১০ বছরের মতো, তখন বাবা-মা আমাকে ভারতে নিয়ে আসে। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করত। এতদিন কেউ কিছু বলেনি। আমরা শুধু কাজ করেছি।” একটি প্রতিবেদনে খাতুন নামে এক মহিলার কথাও উঠে এসেছে, যিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু এখন আটক শিবির ও জোরপূর্বক নির্বাসনের ভয়ে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরছেন।

    বদলে যাওয়া প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বলে দাবি করছেন বহু অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের বক্তব্য, আগে প্রশাসন বা স্থানীয় স্তরে তেমন কড়াকড়ি ছিল না, কিন্তু এখন নিয়মিত নথি যাচাই, পুলিশি অভিযান এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, “তৃণমূল আমলে কেউ কিছু বলত না। এখন সরকার বদলে গেছে। বাড়ির মালিকেরাও ভয় পাচ্ছেন। বাংলাদেশি কাউকে রাখলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও জেলের ভয় দেখানো হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন, যাতে আটক হয়ে হোল্ডিং সেন্টারে যেতে না হয়।

    কঠোর অবস্থানে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে পাঠানো বা আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা জাল নথির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের তালিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াটে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সম্পত্তির মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তাঁরা বৈধ নথি ছাড়া কাউকে আশ্রয় না দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে এবং জাল পরিচয়পত্র চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তও শুরু হতে পারে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে হাজির না করে সরাসরি সীমান্তে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পান, তার জন্যও বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, প্রায় ৩০ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহু ভুয়ো পরিচয়ধারী ও অ-ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন বলে অভিযোগ। নতুন “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” প্রকল্পে এই ধরনের সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেন, “যেহেতু অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যাচ্ছে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।”

    সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের পুরনো রুট এখনও সক্রিয়

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে নদীঘেরা এলাকা, কৃষিজমি এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে এখনও সম্পূর্ণ নজরদারি বজায় রাখা কঠিন। এই দুর্বল অংশগুলিকেই কাজে লাগায় মানব পাচার ও চোরাচালান চক্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩,২৩২ কিলোমিটার অংশে বেড়া বা নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট সীমান্তের প্রায় ৭৯ শতাংশ। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের বহু নদীঘেরা ও দুর্গম অংশ এখনও অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও মানব পাচার চক্র এই রুটগুলিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ করাচ্ছে।

  • CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশ রুখতে বড় পদক্ষেপ! ৯ জেলায় বিএসএফের হাতে জমি তুলে দিল রাজ্য, কোথায় কত, ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও সীমান্ত চৌকি (আউটপোস্ট) তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই মোট ১৪২.৭৯ একর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দিয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠনের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতিরই অংশ হিসেবে এই জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট করে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিএসএফ আউটপোস্ট এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে বিএসএফ আউটপোস্ট ও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত হস্তান্তরের পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত জমি হস্তান্তরের ফলে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়াল ১৪২.৭৯ একর।”

    কোন জেলায় কত জমি দেওয়া হয়েছে

    মুখ্যমন্ত্রী জেলা-ভিত্তিক জমির পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকা অনুযায়ী—

    • ● কোচবিহার – ২২.৯৫ একর
    • ● জলপাইগুড়ি – ৩৫.১৬৫ একর
    • ● দার্জিলিং – ৮.৮১৫ একর
    • ● উত্তর দিনাজপুর – ২.৮৪ একর
    • ● দক্ষিণ দিনাজপুর – ২০.১৭০১ একর
    • ● মালদা – ১০.৯০ একর
    • ● মুর্শিদাবাদ – ৩৮.৮০৫ একর
    • ● নদিয়া – ০.৫৫ একর
    • ● উত্তর ২৪ পরগনা – ২.৬ একর

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফকে মোট ৫০০ একর জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর হওয়াকে সেই লক্ষ্যপূরণের পথে “গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন” বলে বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নতুন সরকারের প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলির একটি

    গত ১১ মে নতুন সরকার গঠনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে, পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে জমি আটকে রেখেছিল, যার ফলে সীমান্তে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমান সরকার দ্রুত প্রশাসনিক জট কাটিয়ে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে। সরকারের মতে, সীমান্তে বেড়া নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার ও সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।

    কলকাতা হাইকোর্টের কড়া অবস্থান

    এর আগে, এই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টও তৃণমূল পরিচালিত বিগত রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এপ্রিল মাসে প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ একটি মামলার শুনানিতে জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার জমি অধিগ্রহণের টাকা দিলেও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়নি। আদালত (তৎকালীন) রাজ্য সরকারের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের যুগ্ম অধিকর্তার উপর ব্যক্তিগতভাবে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনিক গাফিলতি গ্রহণযোগ্য নয়। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করার বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে ওঠে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার।

    ফাঁসিদেওয়ায় শুরু বেড়া নির্মাণের কাজ

    এরই মধ্যে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার পর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, বহু বছর ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই কাজ আটকে ছিল। নতুন সরকারের হস্তক্ষেপের পর সেই জট কাটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

    রাজ্যের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি

    এদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির জেরে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকায় বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ওই আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে অনথিভুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। বর্তমান সরকারের অনুপ্রবেশ বিরোধী কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে গিয়েছে। বাংলাদেশিদের দাবি, আইনি জটিলতা ও পুলিশি অভিযানের ভয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বাড়ির মালিকরা এখন সতর্ক। যে সমস্ত বাড়ি বা বস্তি এলাকায় এই বাংলাদেশিরা এতদিন ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন, ভারতীয় বাড়ির মালিকরা আইনি ঝামেলার ভয়ে তাঁদের আর আশ্রয় দিতে চাইছেন না।

    ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন পেতাম’’ বলছেন অবৈধ বাংলাদেশিরা!

    হাওড়ায় মোটরসাইকেল মেকানিক হিসেবে কাজ করা এক বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ পাওয়া যাচ্ছে না এবং স্থানীয়ভাবে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই তিনি দেশে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “এখানে এখন অনেক সমস্যা চলছে। কাজ পাচ্ছি না, কেউ থাকতে দিচ্ছে না। দুই-তিন বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলাম। আধার বা রেশন কার্ড কিছুই ছিল না।” তিনি আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে মোট দশজন এসেছিলেন, তবে বর্তমানে তিনিই একমাত্র ফিরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা মণিরুল শেখ বলেন, ‘‘চব্বিশে ভোট দিয়েছি। কিন্তু ছাব্বিশে সালে ভোট হল না। বাতিল হয়ে গেল। কিন্তু, আমার স্ত্রীর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড হয়েছে৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রেশন সমস্ত কিছুই পেতাম। এবার সরকার পরিবর্তন হল। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের তারা থাকতে দেবে না। কারণ আমরা অনুপ্রবেশকারী। আমাদের এখন ভালোভাবে দেশে ফেরত পাঠালেই খুশি।’’

    জেলাগুলিতে তৈরি হবে হোল্ডিং সেন্টার

    এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর সমস্ত জেলা শাসকদের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে ধৃত বিদেশি নাগরিক এবং সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও এখনও দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি— এমন বিদেশিদের জন্য বিশেষ হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়।
    ২৩ মে জারি হওয়া সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) নির্দেশিকা মেনে বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গা সহ অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের শনাক্তকরণ, আটক, পুনর্বাসন এবং প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি সূত্রে দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের উপর এর প্রভাব পড়ছে। সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক তৎপরতা— এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

  • Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অনির্দিষ্ট কারণের ফলে হওয়া ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ (Demographic Shifts) যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন শাহ। তিনি এই বিষয়টিকে ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং আদিবাসী সমাজের সংরক্ষণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

    কী লিখলেন শাহ? (Amit Shah)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্যানেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শাহ লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য যে কোনও দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ১৫ অগাস্ট, ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার এখন এই কমিটি গঠন করেছে।”

    কমিটির সদস্য কারা?

    শাহ জানান, এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব, অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি এবং জনগণনা কমিশনার। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স-গ্রেড ওয়ান বিভাগের যুগ্মসচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কমিটি অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করে এজন্য একটি পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করবে (Amit Shah)।

    সীমান্তবর্তী গ্রামে নিবিড় নজরদারি

    শাহের এই ঘোষণাটি হয়েছে এমন এক দিনে, যেদিন তিনি রাজস্থানের বিকানের জেলার বিএসএফের সাঞ্চু আউটপোস্ট পরিদর্শন করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে মাদক পাচারের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে বিএসএফের কার্যক্ষেত্র বাড়িয়েছে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত (Amit Shah)। তিনি বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের কারণে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের (Demographic Shifts) বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের কার্যকলাপের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে।”

     

  • BSF Women Expedition Team: এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’! ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুনমুন সহ বিএসএফ-এর ৪ মহিলা জওয়ান

    BSF Women Expedition Team: এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’! ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুনমুন সহ বিএসএফ-এর ৪ মহিলা জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়লেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর (Border Security Force) চার মহিলা কনস্টেবল। বিএসএফ এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘মিশন বন্দে মাতরম’। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ইতিহাসে এটিই বিএসএফ-এর প্রথম সর্ব-মহিলা এভারেস্ট অভিযান। দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই বিএসএফ-এর এই কৃতিত্ব নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই সাফল্য শুধু পর্বতারোহণ নয়, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও সক্ষমতারও প্রতীক।

    চার সাহসিনী কারা?

    এই চার সাহসী আরোহী হলেন লাদাখের কাউসার ফাতিমা, পশ্চিমবঙ্গের মুনমুন ঘোষ, উত্তরাখণ্ডের রেবেকা সিং এবং কার্গিলের সেরিং চোরোল। গত ৬ এপ্রিল নয়াদিল্লি থেকে বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমার অভিযানের সূচনা করেছিলেন। বিএসএফ-এর ডায়মন্ড জুবিলি বর্ষ এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই এই বিশেষ অভিযান সংগঠিত হয়। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গেয়ে নজির সৃষ্টি করেন তাঁরা।

    এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’

    বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শৃঙ্গে পৌঁছনোর পর চার মহিলা কনস্টেবল একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গেয়ে ওঠেন। এত উচ্চতায় দাঁড়িয়ে এই প্রথমবার জাতীয় গান পরিবেশিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প থেকে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে দলের সঙ্গে কথা বলেন বিএসএফ ডিজি প্রবীণ কুমার। তিনি অভিযাত্রীদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের এই সাফল্যকে গোটা দেশের গর্ব বলে উল্লেখ করেন।

    অমিত শাহের অভিনন্দনবার্তা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বিএসএফ-এর সর্ব-মহিলা দলের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “নারীশক্তি বিএসএফ-এর অদম্য ক্ষমতার প্রমাণ দিল। বাহিনীর ডায়মন্ড জুবিলি উপলক্ষে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে এবং আকাশে বন্দে মাতরম ধ্বনি তুলে তাঁরা সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মনিবেদনের এক বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।” এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, বিএসএফ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ।

    বাংলার মুনমুন ঘোষের এভারেস্ট-জয়

    চারজনই দেশের চার ভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। কাউসার ফাতিমা এবং সেরিং চোরোল উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই কম অক্সিজেনের পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম। হিমালয় অভিযানে এই অভিজ্ঞতা বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুনমুন ঘোষ এবং উত্তরাখণ্ডের রেবেকা সিং বিএসএফ-এর সর্বভারতীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চারজনই কনস্টেবল পদমর্যাদার জওয়ান। ভারতীয় সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে উচ্চতর পর্বতারোহণ অভিযানে সাধারণত উচ্চপদস্থ বা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরই দেখা যায়। সেই জায়গায় কনস্টেবল পদে থাকা মহিলা জওয়ানদের এই সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএসএফ-এর পর্বতারোহণ ইতিহাস

    বিএসএফ-এর দীর্ঘদিনের পর্বতারোহণ ঐতিহ্য রয়েছে। বাহিনীটি ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ জয় করেছে। এর আগে ২০০৬ এবং ২০১৮ সালে বিএসএফ-এর পুরুষ সদস্যদের দল সফলভাবে এভারেস্ট অভিযান সম্পন্ন করেছিল। ভারতীয় মহিলা পর্বতারোহণের ইতিহাসে প্রথম বড় মাইলফলক আসে ১৯৮৪ সালে, যখন বচেন্দ্রী পাল প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। পরে ১৯৯২ সালে সাত ভারতীয় মহিলার একটি দল একসঙ্গে এভারেস্টে ওঠেন। ২০১৩ সালে ৪৮ বছর বয়সে প্রেমলতা আগরওয়ালও এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়েছিলেন। বিএসএফ-এর এই নতুন সাফল্য সেই দীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্যেরই নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২৬ মরশুমে এভারেস্টে ভিড়

    এ বছর নেপালের দিক থেকে এভারেস্ট অভিযানে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেপাল সরকার রেকর্ড সংখ্যক ক্লাইম্বিং পারমিট ইস্যু করেছে। ফলে ২০২৬ সালের মরশুমকে এভারেস্ট ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ত মরশুম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এবার লক্ষ্য লোৎসে

    মহিলা দলের এভারেস্ট জয়ের পর এবার বিএসএফ-এর একটি সর্ব-পুরুষ দল বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে (৮,৫১৬ মিটার) জয়ের চেষ্টা করবে। এভারেস্ট এবং লোৎসের রুট অনেকটাই এক হলেও ক্যাম্প ৩-এর পর পথ আলাদা হয়ে যায়। লোৎসে ফেস পেরিয়ে আলাদা কুলোয়ার ধরে শৃঙ্গে পৌঁছতে হয়।

  • Border Security Force: বাংলাদেশে অস্থিরতার জেরে সীমান্তে হাই অ্যালার্ট, চিকেন’স নেকে ১২ ফুট উঁচু নতুন বেড়া বসাল বিএসএফ

    Border Security Force: বাংলাদেশে অস্থিরতার জেরে সীমান্তে হাই অ্যালার্ট, চিকেন’স নেকে ১২ ফুট উঁচু নতুন বেড়া বসাল বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে চলমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে (India-Bangladesh Border) উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মোদি সরকার। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিকেন’স নেক (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (Border Security Force) প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে নতুন নকশার সীমান্ত বেড়া (নিউ ডিজাইন ফেন্সিং বা এনডিএফ) স্থাপন করেছে।

    বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষভাবে সংবেদনশীল সীমান্ত অংশগুলিতে ১২ ফুট উচ্চতার নতুন ধরনের বেড়া বসানো হয়েছে, যা কাটা ও টপকানো অত্যন্ত কঠিন। এই বেড়া কাটতে কয়েক মিনিট সময় লাগে, ফলে অনুপ্রবেশ ও পাচার কার্যকলাপ কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এলাকা আধিপত্য কৌশলে পরিবর্তন

    সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলাকা আধিপত্যের লক্ষ্যে বিএসএফ তাদের পরিকল্পনায় বড়সড় বদল এনেছে। নতুন কৌশলের আওতায় সীমান্তের (India-Bangladesh Border) কাছে গবাদিপশু সংগ্রহ ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে পাচার চক্রের মূল শিকড়ে আঘাত হানতে বিএসএফ দলগুলি ভারতের অভ্যন্তরে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান চালাচ্ছে বলেও সূত্রের দাবি।

    অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়া পদক্ষেপ

    সাম্প্রতিককালে ভুলবশত অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা একাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ (Border Security Force)। পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পটভূমি যাচাইয়ের পর তাঁদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের আঙুলের ছাপ ও ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে, যাতে কোনও অপরাধমূলক বা রাষ্ট্রবিরোধী যোগসূত্র রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

    পাচারবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফ (Border Security Force) প্রায় ৮৫ কোটি টাকার পাচারকৃত সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, সোনা, রুপো, বন্যপ্রাণীর অংশ, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য। এই সময়ে ৪৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিক (পাচারকারী ও দালালসহ), ১৫২ জন ভারতীয় এবং ১১ জন অন্যান্য ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ১৮৭ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    আগামী দিনের পরিকল্পনা

    বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনে সীমান্তে (India-Bangladesh Border) বেড়ার আওতা আরও বাড়ানো হবে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সীমান্ত অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। যে কোনও পরিস্থিতিতে চিকেন’স নেক অঞ্চলের নিরাপত্তা আপস করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

  • BSF Chief: জঙ্গি অনুপ্রবেশের জের! বিএসএফের প্রধান এবং উপপ্রধানকে অপসারণ করল কেন্দ্র

    BSF Chief: জঙ্গি অনুপ্রবেশের জের! বিএসএফের প্রধান এবং উপপ্রধানকে অপসারণ করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল (BSF Chief) নিতীন আগরওয়াল এবং তাঁর ডেপুটি স্পেশাল ডিজি (পশ্চিম) ওয়াই বি খুরানিয়াকে শুক্রবার পদ থেকে অপসারণ করল কেন্দ্র। পদস্থ এই দুই অফিসারকে অবিলম্বে তাদের রাজ্য ক্যাডারে ফেরত পাঠানোর নির্দেশও জারি করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। জম্মু ও কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমানা (Border Security Force) পেরিয়ে বার বার জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং উপত্যকায় অশান্তির কারণে এই পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। আবার অনেকের অনুমান বাহিনীর মধ্যে বোঝাপড়া ঘটাতে ব্যর্থ এই দুই অফিসার। সামনেই স্বাধীনতা দিবস। দেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে তাই এই পদক্ষেপ করল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

    কেন অপসারণ (Border Security Force) 

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের খবর, বিএসএফ প্রধানের (BSF Chief) বিরুদ্ধে সমন্বয়ের অভাব সহ গুরুতর বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ক্রমাগত অনুপ্রবেশ এবং একের পর এক জঙ্গি হামলার জেরে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ। মন্ত্রকের এক অফিসারের কথায়,”বাহিনীর মধ্যে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই ওই দুই অফিসারকে পদ খোয়াতে হল।” বিএসএফের প্রায় ২.৬৫ লাখ কর্মী রয়েছেন যাঁরা পশ্চিমে পাকিস্তান এবং পূর্বে বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারা দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে সীমান্তে (Border Security Force) একের পর এক জঙ্গি হামলার জেরে বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। এবার বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র।  

    আরও পড়ুন: বিপর্যস্ত ওয়েনাড়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে রাহুল গান্ধী

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা

    বিএসএফের ডিজির (BSF Chief) পদে ছিলেন নীতিন আগরওয়াল। তিনি গত বছরের জুন মাসে ওই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সময়ের আগেই তাঁকে অপসারিত করে রাজ্য স্তরের ক্যাডারে ফেরত পাঠানো হল। অন্য দিকে, স্পেশাল ডিজি (পশ্চিম) পদে এত দিন ছিলেন ওয়াইবি খুরানিয়া। তাঁকেও রাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ১৯৮৯ সালের কেরল ক্যাডারের আধিকারিক ছিলেন নীতিন। খুরানিয়া ছিলেন ১৯৯০ সালের ওড়িশা ক্যাডারে। দু’জনকেই সময় শেষ হওয়ার আগেই পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। শুক্রবার পৃথক ভাবে দু’টি বিজ্ঞপ্তিতে সেই নির্দেশিকা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করতেও বলা হয়েছে। তবে ওই দুই পদের দায়িত্বে কাদের আনা হচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট করেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nadia: সীমান্তে কাঁটাতার কেটে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিএসফের গুলিতে হত পাচারকারী

    Nadia: সীমান্তে কাঁটাতার কেটে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিএসফের গুলিতে হত পাচারকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিএসএফের সঙ্গে পাচারকারীর গুলির লড়াই! বিএসএফের (Nadia) গুলিতে মৃত্যু এক পাচারকারীর। ঘটনাটি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার নোনাগঞ্জ বর্ডার এলাকার। জানা যায়, গতকাল গভীর রাতে নোনাগঞ্জ বর্ডার এলাকায় এক পাচারকারী সীমান্তে থাকা কাঁটাতার কাটছিল। তখন বিএসএফের তরফ থেকে তাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, ঠিক তখনই ওই পাচারকারী বিএসএফকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর বিএসএফের তরফ থেকেও তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ওই পাচারকারীর গায়ে গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। যদিও পরবর্তীকালে তাকে উদ্ধার করে কৃষ্ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    পরিচয় জানার চেষ্টা

    তবে মৃত ওই পাচারকারীর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিএসএফ এবং কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশের যৌথ উদ্যোগে ওই ব্যক্তির পরিচয় এবং ঠিকানা জানার চেষ্টা চলছে। মূলত ওই ব্যক্তি কী পাচার করত এবং কোন গ্যাঙের সঙ্গে যুক্ত, তাও জানার চেষ্টা করছে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (Nadia)। অন্যদিকে ওই পাচারকারীর মৃতদেহ আজ ময়নার তদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

    আগেও একই ধরনের ঘটনা

    প্রসঙ্গত এর আগেও ধানতলা থানার (Nadia) দত্তপুলিয়ায় ফেন্সিং না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইছামতী নদীর ব্রিজের নিচ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ৬ থেকে ১০ টি গরু পাচার করার চেষ্টা করেছিল পাচারকারীরা। অভিযোগ, বিএসফের জওয়ানরা গরু পাচারকারীদের আটকাতে গেলে পাচারকারীরা বিএসএফকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোমা ছোড়ে। পরে বিএসএফ কাউন্টার ফায়ার করলে বেশ কয়েকজন গরু পাচারকারী আহত হয়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশ পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে যায় এক গরু পাচারকারী। তাকে পরবর্তীকাল ধানতলা পুলিসের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ।

    পিছনে বড় বড় গাং

    বিএসএফের পাচারকারীদের এটা কোনও প্রথম ঘটনা নয়। গরু পাচার থেকে শুরু করে সোনার বিস্কুট সহ একাধিক জিনিস কখনও বাংলাদেশ থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে (Nadia), আবার কখনও ভারতের বর্ডার পার করে বাংলাদেশে পাচার হয়। বড় বড় গ্যাং কাজ করে এইসব পাচার চক্রের পিছনে। এর আগেও বিএসএফের তরফ থেকে পাচার চক্র রোধে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • BSF: ভারতের আকাশে ফের পাক ড্রোন, গুলি করে নামাল বিএসএফ, উদ্ধার চিনের তৈরি অস্ত্র

    BSF: ভারতের আকাশে ফের পাক ড্রোন, গুলি করে নামাল বিএসএফ, উদ্ধার চিনের তৈরি অস্ত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার পাকিস্তানি ড্রোনের সাহায্যে অস্ত্র, মাদক দ্রব্য পাচার করা হচ্ছিল ভারতে। তবে ব্যর্থ প্রচেষ্টা। বুধবার মধ্যরাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পাকিস্তানি ড্রোনের সাহায্যে পাচার করা হচ্ছিল একাধিক চিনের তৈরি অস্ত্র। কিন্তু সেই অস্ত্র পাচারের আগেই দুষ্কৃতীদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করল বিএসএফ (Border Security Force)। জওয়ানদের তৎপরতায় উদ্ধার হল একাধিক মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র। বিএসএফ (BSF) সূত্রের খবর, চিনের তৈরি পিস্তল, একাধিক ম্যাগাজিন সহ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৪৭ টি লাইভ রাউন্ড। ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবের গুরদাসপুরের উনচা টাকালা গ্রামে।

    পাকিস্তানি দুষ্কৃতিদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ

    বিএসএফ সূত্রে খবর, গতকাল পাঞ্জাবের গুরদাসপুরের উনচা টাকালা গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল একটি বিএসএফ দল। অন্ধকার কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে পাকিস্তানের দিক থেকে আসা একটি ড্রোনের শব্দ শুনতে পান জওয়ানরা। তারপর তাঁরা সেই ড্রোনের দিকে গুলি চালায়। গুলি চালানোর সময়, কিছু পড়ে যাওয়ারও শব্দ পেয়েছিলেন তাঁরা।

    বিএসএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, এলাকাটির প্রাথমিক তদন্তের সময়, টাকালা গ্রামের এক চাষজমিতে কাঠের ফ্রেম দিয়ে প্যাকেজ করা একটি সন্দেহজনক প্যাকেট উদ্ধার করেছে তাঁরা। সেই প্যাকেট থেকেই উদ্ধার করা হয় ৪টি চিনের তৈরি পিস্তল, ৮টি ম্যাগাজিন এবং ৪৭ রাউন্ড গুলি।

    বিএসএফ-এর বড় সাফল্য

    সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবের ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তের ৩,৩২৩ কিলোমিটার জুড়ে এখনও তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস থেকে ভারত-পাক সীমান্তে পাকিস্তানি ড্রোনের উৎপাত বেড়েই চলেছে। এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে, বিএসএফ পাঞ্জাবের গুরদাসপুর সেক্টরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর পাকিস্তানের দিক থেকে ভারতে প্রবেশকারী একটি ড্রোনকে দেখে গুলি চালিয়েছিল। তার আগে সেপ্টেম্বরেও, গুরদাসপুরের সীমান্তের কাছে পাকিস্তান থেকে আসা একটি ড্রোনের অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেছিল। ফলে বারবার পাকিস্তানি ড্রোন এ দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও প্রত্যেকবারই বিএসএফ-এর জওয়ানরা দুষ্কৃতিদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে সক্ষম হয়েছে। এবারও তাই ঘটল। ফলে এটি এক বড় সাফল্য বিএসএফ-এর।

     
  • Indo Bangladesh Border: পাচার সহ নানা অপরাধ রুখতে দিনে রাতে এক যোগে টহল দেবে বিএসএফ-বিজিবি!

    Indo Bangladesh Border: পাচার সহ নানা অপরাধ রুখতে দিনে রাতে এক যোগে টহল দেবে বিএসএফ-বিজিবি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথায় বলে, বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো! ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত (Indo Bangladesh Border) রয়েছে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা। ভারতের (India) দিকে সীমান্তে শ্যেন দৃষ্টি হানে বিএসএফ (BSF)। আর উল্টো দিকে কড়া নজরদারি রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (BGB)। তার পরেও নিরাপত্তার ফোকর গলে নিরন্তর চলে পাচারের কাজ। কখনও গরু, কখনও বা জালনোট, আবার কখনও বা মাদক পাচার হয়ে যায় ক্যারিয়ারদের হাতফের হয়ে। জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে (Indo Bangladesh Border) নানা অপরাধ মূলক কাজকর্মও চলে বলে অভিযোগ। এসব বন্ধে উদ্যোগী হল বিএসএফ এবং বিজিবি। দুই দেশের রক্ষীদের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারত বাংলাদেশ দুই দেশের প্রহরীরাই দিনের রাতে টহল দেবে সীমান্তে।

    বৈঠকে রয়েছেন…

    রবিরার সন্ধেয় শুরু হয়েছে ইনসপেক্টর জেনারেল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স-রিজিওনাল কমান্ডার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ লেভেল বর্ডার কোঅর্ডিনেশন কনফারেন্স। চলবে বুধবার পর্যন্ত। এই বৈঠকেই দুই দেশের সীমান্তপারের অপরাধ কমাতে তথ্য আদানপ্রদানের সিদ্ধান্তও হয়েছে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে। জানা গিয়েছে, ১১ সদস্যের বিএসএফ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন অতুল ফুলঝেলে, আইপিএস, আইজি, বিএসএফ, সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার, অজয় সিং, আইজি, বিএসএফ, নর্থ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার, কমলজিৎ সিং বন্যাল, আইজি, বিএসএফ, গুয়াহাটি ফ্রন্টিয়ার এবং আটজন অন্য প্রতিনিধি। আর ১১ সদস্যের বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবিএম নওরোজ এহসান, বিএসপি, পিএসসি, অতিরিক্ত মহা পরিচালক, এরিয়া কমান্ডার, উত্তর পশ্চিমাঞ্চল, রংপুর।

    আরও পড়ুন: মোদিকে দেখে এগিয়ে এলেন বাইডেন! আলিঙ্গন বন্ধু মাক্রঁর, শুরু জি-২০ বৈঠক

    বিএসএফের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দু পক্ষই অ্যাজেন্ডা পয়েন্টস শেয়ার করেছে। কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যেই রয়েছে দিনে রাতে বিএসএফ ও বিজিবি সমান্তরালভাবে টহল দেবে। তথ্য আদানপ্রদানও করবে দুই দেশের রক্ষীবাহিনী। রক্ষীস্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকও করবে দুই দেশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বন্ধে যৌথ প্রচেষ্টা চলবে বলেও আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সীমান্তপারের অবৈধ কাজকর্ম রুখতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে ২ হাজার ২১৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ। এই সীমান্ত পেরিয়েই চলে অবৈধ নানা কাজকর্ম। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

LinkedIn
Share