মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালোচিস্তানে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী (Baloch Women BLF) তৎপরতায় নয়া মাত্রা যোগ! বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের পক্ষ (Pakistan) থেকে তাদের সদ্য গঠিত মহিলা সশস্ত্র ইউনিট ‘কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনে’র প্রথম সশস্ত্র অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ২২ সেপ্টেম্বর তুরবতের কাছে পাক সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে হামলা চালায় ওই ইউনিট। হামলায় ৯ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, তিনটি গাড়ির একটি সেনা কনভয় চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সেটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। গাড়িগুলির মধ্যে একটি সাঁজোয়া গাড়িও ছিল। ভিডিওর একটি অংশে এক মহিলা কমান্ডারকে অভিযানের আগে সদস্যদের নির্দেশ দিতে দেখা যায়। এরপর সশস্ত্র সদস্যরা পজিশন নিয়ে খুব কাছ থেকে কনভয় লক্ষ্য করে গুলি চালান।
বিএলএফের দাবি (Baloch Women BLF)
বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্টের মুখপাত্র মেজর ঘওহরাম বালোচের দাবি, হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একাধিক গাড়ি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনটির কুরবান ইউনিটের সদস্যরা মহিলা ইউনিটটিকে অভিযানে সহায়তা করেন। হামলার পর পাকিস্তানি বাহিনী হামলাকারীদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করলে কুরবান ইউনিটের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে লড়াই করেন এবং মহিলা ইউনিটের সদস্যদের এলাকা থেকে সরে যেতে সাহায্য করেন। ওই অভিযানে কুরবান ইউনিটের যোদ্ধা চকোর মুরাদ, যিনি দিলীপ জান নামেও পরিচিত, নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। ভিডিওটির আর একটি অংশে কালাতের মাংচার এলাকায় কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনের সদস্যদের গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা যায়। এর মাধ্যমে সংগঠনটি বোঝাতে চেয়েছে, নয়া মহিলা ইউনিটটিকে শুধু সশস্ত্র হামলা নয়, অন্যান্য সশস্ত্র তৎপরতাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনের নামকরণ করা হয়েছে বালোচ স্বাধীনতাকামী কর্মী কারিমা বালোচের নামে। তিনি বালোচ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন-আজাদের প্রথম মহিলা চেয়ারপার্সন ছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাডার টরন্টোয় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কানাডীয় কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুকে দুর্ঘটনাজনিত বলে জানিয়েছিল (Baloch Women BLF)।
ডেরা বুগতিতে জ্বালানি সংস্থার স্থাপনায়ও হামলার দাবি
এদিকে আর এক বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ রিপাবলিকান আর্মি ডেরা বুগতি জেলার বেহ লোটি এলাকায় মারি এনার্জিস লিমিটেডের একটি স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির মুখপাত্র সরবাজ বালোচের দাবি, হামলায় রকেট ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এতে সংস্থাটির তিন কর্মী নিহত এবং আরও কয়েকজন জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সরবাজের আরও দাবি, হামলার পর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। ওই গোষ্ঠীকে বালোচ রিপাবলিকান আর্মি রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, সংঘর্ষে ৯ জন পাকিস্তানি সেনা এবং ওই গোষ্ঠীর তিন সদস্য নিহত হন। পাশাপাশি তাদের ছয় যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ রিপাবলিকান আর্মি।
সরকারি স্থাপনা দখলের দাবিও
অন্যদিকে, বালোচ রিপাবলিকান গার্ডসের দাবি, তাদের যোদ্ধারা হাজি শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি পুলিশ স্টেশন বিস্ফোরক ব্যবহার করে ধ্বংস করেছেন। সংগঠনটির দাবি, তারা শহরের প্রবেশ ও বেরোনোর পথে নাকা চেকিং বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালায়।
বালোচ রিপাবলিকান গার্ডসের আরও দাবি, বালোচ রিপাবলিকান আর্মির যোদ্ধারা এরি শহরে ঢুকে সরকারি স্থাপনাগুলির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং অভিযান শেষ হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে যায়।
বালোচিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পাক নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো বিভিন্ন হামলার টার্গেট হয়েছে। কারিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশনের আত্মপ্রকাশ সেই ঘটে চলা সশস্ত্র সংঘাতের পরিসরে (Pakistan) মহিলা সদস্যদের পৃথক সশস্ত্র ইউনিট হিসেবে সংগঠিত করার একটি নতুন দাবি হিসেবে সামনে এসেছে (Baloch Women BLF)।
