Tag: Brahmos missile

Brahmos missile

  • BrahMos-II Hypersonic Missile: ছোট হাইপারসনিক ব্রহ্মস বানাতে হাত মেলাল ভারত-রাশিয়া, কাঁপছে শত্রুশিবির

    BrahMos-II Hypersonic Missile: ছোট হাইপারসনিক ব্রহ্মস বানাতে হাত মেলাল ভারত-রাশিয়া, কাঁপছে শত্রুশিবির

    সুশান্ত দাস

    ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম সফল প্রকল্প ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবার আরও আধুনিক রূপ পেতে চলেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ব্রহ্মসের ছোট আকারের হাইপারসনিক সংস্করণ (BrahMos-II) তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দ্রুত, দূরপাল্লার এবং বহুমাত্রিক আঘাত হানার সক্ষমতা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রহ্মসের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলিপভ বলেন, “ব্রহ্মস ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক প্রতীকী উদাহরণ। বর্তমানে এর ছোট এবং হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে, যা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মাল্টি-ডোমেন স্ট্রাইক ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

    কী এই ব্রহ্মস?

    ব্রহ্মস হল ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ব্রহ্মপুত্র এবং মস্কভা নদীর নামের সংমিশ্রণ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ব্রহ্মস’। বর্তমানে এটি বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অন্যতম। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং সাবমেরিন— সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা— তিন বাহিনীর কাছেই এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মসের বিমান-উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণ সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকেও এর বিভিন্ন সংস্করণ ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ঘণ্টায় প্রায় ম্যাক ৩, অর্থাৎ শব্দের গতির তিনগুণ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

    অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ ব্রহ্মসের ব্যবহার

    ডেনিস আলিপভ স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত স্বল্পস্থায়ী সামরিক সংঘর্ষ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর দাবি, ওই সংঘর্ষে ভারত ১৫ থেকে ২০টি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সব তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কী?

    সাধারণভাবে ম্যাক ৫ বা তার বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রকে হাইপারসনিক বলা হয়। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের ভবিষ্যৎ প্রকল্প ‘ব্রহ্মস ২’-কে একটি হাইপারসনিক অস্ত্র হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ব্রিদিং স্ক্র্যামজেট’ ইঞ্জিন প্রযুক্তি।

    এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মূল সুবিধা হল—

    • ● লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে অত্যন্ত কম সময় লাগে।
    • ● প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ কমে যায়।
    • ● আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে আটকানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।
    • ● উচ্চ গতি, নির্ভুলতা এবং বেঁচে থাকার ক্ষমতার সমন্বয় তৈরি হয়।

    সামরিক কৌশলবিদদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে হাইপারসনিক অস্ত্রই বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ যৌথ উন্নয়নের এই সিদ্ধান্ত?

    সম্প্রতি ভারত ব্রহ্মস-২ প্রকল্পকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে নিজস্ব হাইপারসনিক প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা চলছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এত ব্যয়বহুল অস্ত্র সাধারণ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সবসময় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। এছাড়া স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছিল। ফলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির আওতায় দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। তবে নতুন করে যৌথ উন্নয়নের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে।

    ছোট ব্রহ্মস কেন বড় পরিবর্তন আনতে পারে?

    এমনিতে, ব্রহ্মসের ছোট সংস্করণ নিয়ে আগে থেকেই কাজ করছে ভারত। এই আরও ছোট, হালকা, পরবর্তী প্রজন্মের ‘ব্রহ্মস-এনজি’কে (BrahMos-NG) বুদ্ধিমান এবং স্টেলথ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র করে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। মূলত, এয়ার লঞ্চড ভার্সান বা যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সংস্করণ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ব্রহ্মস সুখোই সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেইকে নিক্ষেপ করা যায়। কারণ, এত ভারী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সুখোইয়ের মতো ভারী যুদ্ধবিমানের রয়েছে। কিন্তু ভারত চাইছে, কেবলমাত্র সু-৩০ নয়, ব্রহ্মস যাতে বাকি যুদ্ধবিমান যেমন তেজস, রাফাল সর্বত্র প্ল্যাটফর্মেই বহনযোগ্য হয়। সেই জন্য হালকা, ছোট সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে।

    এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সুবিধাগুলি হল—

    • ● একাধিক ধরনের যুদ্ধবিমানে সহজে বহন করা যাবে।
    • ● একই বিমানে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা সম্ভব হবে।
    • ● দ্রুত মোতায়েন করা যাবে।
    • ● রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমবে।
    • ● সামরিক অভিযানে আরও বেশি নমনীয়তা তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্রই ভবিষ্যতের চাহিদা।

    ১৯৯৮ থেকে আজ: ব্রহ্মসের যাত্রাপথ

    ১৯৯৮ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠিত হয়। গত আড়াই দশকে প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত ‘ক্রেতা-বিক্রেতা’ মডেল থেকে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ গবেষণা এবং যৌথ উৎপাদনের স্তরে উন্নীত করেছে। আলিপভ বলেন, ব্রহ্মস প্রকল্পই পরবর্তীকালে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান এবং টি-৯০ ট্যাঙ্কের ভারতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি একে-২০৩ রাইফেলের যৌথ উৎপাদনকেও এই সহযোগিতার সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সু-৫৭ যুদ্ধবিমান ও এস-৪০০ উৎপাদনের ইঙ্গিত

    রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, ভবিষ্যতে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সু-৫৭-ভিত্তিক প্রকল্প এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন ক্ষেত্রেও ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা বাড়তে পারে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাশিয়াও কিনতে চায় ব্রহ্মস

    এক সময় রাশিয়া ছিল ব্রহ্মস প্রকল্পের প্রযুক্তিগত অংশীদার। এবার সেই রাশিয়াই নিজ সেনাবাহিনীতে ব্রহ্মস অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়তীর্থ জোশী জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যৌথ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলেকজান্ডার ম্যাকসিচেভ জানান, রুশ নৌবাহিনী এবং স্থলবাহিনীর জন্য ব্রহ্মস সরবরাহ করতে কোম্পানি প্রস্তুত।

    বিশ্ববাজারে বাড়ছে ব্রহ্মসের চাহিদা

    শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্রহ্মস। ২০২২ সালে ফিলিপাইনস ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম ব্যাচ সরবরাহ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় ব্যাচ পৌঁছে যায়। সম্প্রতি ভিয়েতনামের সঙ্গে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির কথাও নিশ্চিত করেছে ভারত। এমনকি, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উন্নত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদার ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের আয় প্রায় ৪৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন মুখ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মস এখন আর শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কৌশলগত কূটনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ছোট আকারের ব্রহ্মস-এনজি এবং ভবিষ্যতের হাইপারসনিক ব্রহ্মস-২ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু নিজের সামরিক শক্তিই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারেও আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারবে। ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে এই প্রকল্পগুলির দিকে এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    PM Modi: ‘‘ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা বুমেরাং হবে”, সতর্ক করে দিলেন পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করার যে কোনও চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হবে।” শুক্রবার এমনই মন্তব্য করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin)। ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে সমর্থন করেন তিনি। বলেন, “সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলির নিজেদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশীদার বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত।” সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, ভারত সবসময় নিজের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে নীতি নির্ধারণ করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বাইরের কোনও চাপ এলেও ভবিষ্যতেও তাই করবে।

    নিষেধাজ্ঞার হুমকি বুমেরাং হতে পারে (PM Modi)

    তিনি বলেন, “ভারত সবসময় একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার হুমকি ততক্ষণাৎ বুমেরাং হয়ে যাবে।” পুতিন জানান, রাশিয়া আগে ভারতের সঙ্গে Su-57 যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সহযোগিতা বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়া একাই বিমানটি তৈরি করে। ভারত-রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু যে কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাও জানান পুতিন। বলেন, “আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কের বিশেষত্ব হল পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে আমরা শুধু কেনাবেচা নয়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিই।”

    ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগ

    উদাহরণ হিসেবে (PM Modi) তিনি ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “ভারতীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং তা সফল হয়েছে।” আমেরিকা যদি ভারত Su-57 বা S-500 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনতে চায়, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে কি? এই (Putin) প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, “ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং নিজেদের জন্য সবচেয়ে আধুনিক ও উপযুক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে। অন্যরা যা-ই বলুক, ভারত সবসময় এই ভাবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি জানান, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চাপের বদলে সামরিক প্রয়োজন ও কার্যকারিতার ভিত্তিতেই নেওয়া হবে (PM Modi)।

    পুরানো সেই দিনের কথা

    পুতিন মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে একসময় নরেন্দ্র মোদিকে আমেরিকায় প্রবেশের ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বর্তমানে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সবাই সেই সময়ের কথা মনে করি যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, সব নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক সফলভাবেই এগোচ্ছে।” তিনি জানান, মোদি নিশ্চয়ই সেই অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাননি এবং এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ভারত পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল নয় বলেও জানান পুতিন (Putin)। বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতা, অন্য সব অংশীদারের মতোই, রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে না। কেউ আমাদের নির্দেশ দিতে পারে না যে, ভারতের কাছে এটা সরবরাহ করো না।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের অংশীদারদের, বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সবসময় রক্ষা করব (PM Modi)।”

  • India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    India Brahmos Missile Deal: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি বাড়াতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ভারতের, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা উপস্থিতি আরও প্রসারিত করার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং জানান, ভিয়েতনামের (Vietnam Indonesia Agreement) সঙ্গে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চুক্তি (India Brahmos Missile Deal) ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে। একই রকম আরও একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে।

    সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (India Brahmos Missile Deal)

    শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত সাংগ্রি-লা ডায়ালগ (Shangri-La Dialogue)-এর ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠকে রাজেশ জানান, হ্যানয় ইতিমধ্যেই ওই মিসাইল কেনা সংক্রান্ত চুক্তিটি সই করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ভিয়েতনামের এক প্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমার ধারণা, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম—উভয় দেশের ক্ষেত্রেই চুক্তিগুলি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যদিও এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে ব্রহ্মোস প্যাকেজের মূল্য প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা। এতে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং লজিস্টিক সাহায্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অগ্রগতি ভারতের একটি বড় প্রতিরক্ষা রফতানিকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রচেষ্টা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্য

    জানা গিয়েছে, ফিলিপিন্স ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম বিদেশি ক্রেতা। ২০২৪ সালে ম্যানিলা প্রথম ব্যাচের ক্ষেপণাস্ত্র কেনে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় চালান পায়। এর মাধ্যমে বৃহৎ প্রতিরক্ষা রফতানি চুক্তি বাস্তবায়নে ভারতের ক্ষমতা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রতিরক্ষা সচিব জানান, ভারত আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তাদের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখে। তিনি বলেন, “আমরা আপনাদের সবাইকে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করি, যাদের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া যায়।” তিনি জানান,  সাধারণত উন্নত সামরিক প্রযুক্তি কেবল সেইসব দেশের সঙ্গেই ভাগ করা হয় যাদের ওপর গভীর আস্থা এবং কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে উন্নত ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির একটি হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি কৌশলের অন্যতম প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে (India Brahmos Missile Deal)। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করতে আগ্রহী বিভিন্ন দেশের মধ্যে ব্রহ্মোসের প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজেশ বলেন, “ভারত এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অংশের অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব, নিরাপদ সামুদ্রিক পরিবেশ এবং উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে প্রস্তুত।” তিনি জানান, বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিবেশে স্থিতিস্থাপকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রয়োজনীয়তাগুলির একটি হয়ে উঠেছে (Vietnam Indonesia Agreement)।

    দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করায় জোর

    প্রতিরক্ষা সচিবের এই ঘোষণার আগে আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি হ্যানয় সফর করে এসেছেন। সেখানে তিনি ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফান ভানন জিয়াংয়ের (Phan Van Giang) সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন (India Brahmos Missile Deal)। শাংরি-লা ডায়ালগের পাশাপাশি রাজেশ অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং নেদারল্যান্ডসের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এর মাধ্যমে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক ও ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা কূটনীতি আরও জোরদার করছে।

    ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সচিব মেঘান কুইন (Meghan Quinn)-এর সঙ্গে আলোচনায় উভয়পক্ষই ইন্ডিয়া-অস্ট্রেলিয়া কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ (India-Australia Comprehensive Strategic Partnership)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে। অনুসন্ধান করে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রও। ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য ব্রহ্মোস চুক্তিগুলি ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এমন একটা সময়ে এই (Vietnam Indonesia Agreement) অগ্রগতি হচ্ছে, যখন অঞ্চলটিতে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে (India Brahmos Missile Deal)।

     

  • 800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত ব্রহ্মোস-এলআর (লং রেঞ্জ) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য বড় অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সেনা, প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস?

    বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে স্থল, নৌ ও বায়ু—তিন বাহিনীতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াতে এবার ৮০০ কিমি পাল্লার সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মোসের এই উন্নত ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ডিআরডিও (DRDO) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন সংস্করণটি মাক ৩ (শব্দের তিনগুণ বেশি) গতিবেগ বজায় রেখেই শত্রুপক্ষের গভীর এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে, এই মিসাইলের একাধিক উড়ান পরীক্ষা চলছে।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠক শীঘ্রই!

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খুব শিগগিরই এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে এই বড় ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে এটি হবে দীর্ঘ-পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৃহৎ অর্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ‘স্ট্যান্ড-অফ ডিটারেন্স’ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ তৈরি করে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজসেও তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সংঘাত কী শেখাচ্ছে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছিল। ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ ভারতীয় বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানে। একই সঙ্গে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাতও দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থার উপর। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি মানবসম্পৃক্ততার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

    সেনাবাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন

    এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত নিজেদের বাহিনী কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছে। বড় সংখ্যায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আর্টিলারি ও পদাতিক রেজিমেন্টে বিশেষ ড্রোন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনকি সেনার নিজস্ব কর্মশালায় বড় আকারে ড্রোন উৎপাদনও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পৃথক মিসাইল ফোর্স গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে একত্রিত করে একটি আধুনিক, নেটওয়ার্কভিত্তিক মাল্টি-ডোমেইন স্ট্রাইক ফোর্স গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।

    কৌশলগত বার্তা কী?

    ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা—ভারত ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, যেখানে গতি, নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার আঘাতই হবে মূল নির্ধারক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের অনুমোদন মিললে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ এগোবে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোসের দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ শুধু একটি অস্ত্র নয়—এটি ভারতের সামরিক চিন্তাধারার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের প্রতীক।

  • BrahMos Deal: দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংকে রোখাই উদ্দেশ্য! ভারত থেকে ব্রহ্মস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, চুক্তি স্বাক্ষর

    BrahMos Deal: দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংকে রোখাই উদ্দেশ্য! ভারত থেকে ব্রহ্মস কিনছে ইন্দোনেশিয়া, চুক্তি স্বাক্ষর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে প্রায় এক দশক ধরেই কাজ করছে ভারত। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি কমিয়ে, দেশেই প্রয়োজনীয় অস্ত্র উৎপাদন হচ্ছে বলে বারবার জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। শুধু অস্ত্র তৈরিতে স্বনির্ভরতাই নয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতেও মোদি সরকারের আমলে কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। অস্ত্রের বাজারে বাড়ছে ভারতের ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা। এ বার ভারতের থেকে সেই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয় চূড়ান্ত করে ফেলল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন, ‘ব্রহ্মস’ কেনার ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে ইন্দোনেশিয়া।

    ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি

    এক সূত্রের দাবি, ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। যদিও রিকো এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি। রিকার্ডো জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বিশেষত সমুদ্রপথে আধুনিকীকরণের অংশ। রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন ব্রহ্মস কেনা নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি তাঁদের সমরাস্ত্র সম্ভার ও প্রতিরক্ষা শক্তিকে সমৃদ্ধ করবে। তাঁর কথায়, এই চুক্তিটি ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর সামরিক হার্ডওয়্যার এবং প্রতিরক্ষা ক্ষমতার আধুনিকীকরণের অংশ। যদিও তিনি চুক্তির মোট মূল্য জানাতে রাজি হননি। ব্রহ্মস এবং ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও একটি দেশ ‘ব্রহ্মস’ নিয়ে চুক্তি করে ভারতের সঙ্গে। ২০২২ সালে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ৩৭ কোটি ৪০ লক্ষ আমেরিকার ডলারের চুক্তি হয় ভারতের। ২০২৪ সালে সেই ডেলিভারিও হয়ে যায়। যা পাওয়ার পর ফিলিপিন্স সেনার তরফে ভারত থেকে আগামী দিনে আরও এমন সমরাস্ত্র কেনার কথা জানানো হয়েছিল। এবার ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়া হল দ্বিতীয় দেশ যারা ভারত থেকে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তি করল।

    প্রচণ্ড গতি সম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র

    ব্রহ্মস একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। যা ভারতীয় সমরাস্ত্রের অন্যতম ভরসা। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়ার যৌথ উদ্যোগে গঠিত। ব্রহ্মস নামটি দু’টি নদীর নাম থেকে তৈরি ব্রহ্মপুত্র (ভারত) এবং মস্কোভা (রাশিয়া)। এটি শব্দের প্রায় ২.৮ থেকে ৩ গুণ গতিতে ভ্রমণ করে। যার ফলে বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে এটিকে আটকানো প্রায় অসম্ভব। এখানে বলে রাখা দরকার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হল এমন এক ক্ষেপণাস্ত্র যা মাটির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যায়। প্রচণ্ড গতি সম্পন্ন। মাটির কাছ দিয়ে ওড়ায় তাকে রেডারে ধরা মুশকিল। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি নয়াদিল্লির ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি মূল শ্রেণি রয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং স্থলে থাকা লঞ্চার থেকে একে শত্রুর উপর ছুড়তে পারে সেনা। এর নির্মাণকারী সংস্থার নাম ‘ব্রহ্মস এরোস্পেস লিমিটেড’। ক্ষেপণাস্ত্রটি সাধারণ বোমা থেকে পারমাণবিক বোমা নিয়ে উড়ে যেতে পারে। এটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ নীতিতে কাজ করে যার সার্কুলার এরর প্রবাবিলিটি (CEP) মাত্র ১ মিটার। এর পাল্লা ২৯০ কিমি। যা ৪৫০ থেকে ৮০০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

    কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি ‘ব্রহ্মস’-এ আগ্রহী

    কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি তাদের অস্ত্রভান্ডারে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র রাখতে চাইছে? দক্ষিণ চিন সাগরের একটি কাল্পনিক সামুদ্রিক রেখা হল বেজিংয়ের ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’। এই রেখার মধ্যে পড়ছে একাধিক দ্বীপ এবং দেশ। কাল্পনিক রেখাটির উপরে থাকা সমস্ত এলাকাকেই নিজেদের বলে দাবি করে বেজিং। ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের সঙ্গে চিনের সীমান্ত সংঘাত লেগেই থাকে। এই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার জন্য ভারতের ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকর হবে বলে মনে করছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সেনাকর্তারা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধর সময় “অপারেশন সিঁদুর”-এ ভারত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছিল বলে সূত্রের দাবি।

    অনেকদিন ধরেই চলছে পরিকল্পনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়া সম্ভবত ব্রহ্মসের নৌবাহিনীর সংস্করণে আগ্রহী। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ আলি (Muhammad Ali) ভারতে এসে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের কারখানা পরিদর্শন করেন। এর আগে ২০১৮ সালেই ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেসের একটি দল সুরাবায়ার শিপইয়ার্ডে গিয়ে ইন্দোনেশিয়ার যুদ্ধজাহাজে এই ক্ষেপণাস্ত্র বসানো সম্ভব কি না তা পরীক্ষা করে দেখেছিল। এছাড়া ভারত ইন্দোনেশিয়াকে আরও কয়েকটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে, যেমন— উপকূলীয় প্রতিরক্ষা রেডার, সামুদ্রিক যানের ইস্পাত, রুশ নির্মিত সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান সার্ভিসিং।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    এক সময়ে ভারত অস্ত্র বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানিতে প্রথম সারিতে ছিল। মূলত রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল ভারত। হেলিকপ্টার, ব্রহ্মস মিসাইল, সাবমেরিন, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রাশিয়া থেকে পেয়েছে ভারত। রাশিয়াকে বাদ দিলে ফ্রান্স থেকেও বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। সম্প্রতি আমেরিকা থেকেও অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে ভারত। তবে গত এক দশকে আমদানির ছবিটা ক্রমশ বদলে গিয়েছে। এই সেক্টরে ক্রমশ আমদানি কমিয়েছে ভারত। গত এক দশকে অস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি প্রায় ৩০ গুণ বাড়িয়েছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্লোগানে ভর করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ভারত ক্রমশ ‘আত্মনির্ভর’ হয়ে উঠছে দেশ। একসময়ে বিশ্বের উন্নত দেশগুলির অস্ত্রের জন্য মুখাপেক্ষী থাকা ভারত বর্তমানে বিশ্বের ৯০টি দেশকে অস্ত্র বিক্রি করছে। বেসরকারি অর্থানুকুল্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনও বাড়ছে দ্রুত গতিতে। মূলত আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি ভারতীয় অস্ত্রের ক্রেতা। ফিলিপিন্সের সঙ্গে সম্প্রতি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করেছে ভারত।

  • Brahmos Missile: ব্রহ্মসের সফল উৎক্ষেপণ, সিঁদুর-পর্বে নজরকাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের বাড়ছে পাল্লা

    Brahmos Missile: ব্রহ্মসের সফল উৎক্ষেপণ, সিঁদুর-পর্বে নজরকাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের বাড়ছে পাল্লা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিঁদুর অভিযান চলাকালীন শত্রুঘাঁটিতে অব্যর্থ নিশানা শানিয়েছে। তার ক্ষমতা চাক্ষুষ করেছে গোটা বিশ্ব। সেই সুপারসনিক (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মসকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। এরই মধ্যে সোমবার বঙ্গোপসাগরে পরীক্ষামূলক ভাবে একটি ব্রহ্মস উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় সেনা। দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা ফের একবার পরখ করে নিল বাহিনী। ওই উৎক্ষেপণে পরীক্ষার সব মাপকাঠিতেই সফল হয়েছে ব্রহ্মস।

    বিভিন্ন মাপকাঠিতে পরখ করে দেখা হয় ব্রহ্মস

    সোমবার সেনার ব্রহ্মস ইউনিটের দক্ষিণ কমান্ড এবং তিন বাহিনীর আন্দামান-নিকোবর কমান্ড যৌথভাবে পরীক্ষাটি চালিয়েছে। ব্রহ্মসের পাল্লা, প্রযুক্তিগত নানা দিক পরীক্ষা করে নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হানার ক্ষেত্রে আরও একবার সফল হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রটি। যুদ্ধক্ষেত্রে যে ধরনের পরিস্থিতি থাকে, তারই অনুরূপ পরিস্থিতিতে ব্রহ্মসটি পরীক্ষা করা হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, সব ধরনের পরিস্থিতিতে এটি সফল হয়েছে। অর্থাৎ, অপারেশনাল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। ভারতীয় সেনার ব্রহ্মস ইউনিটগুলির রিয়েল টাইম প্রস্তুতি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হানায় নির্ভুলতা খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষাটি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ব্রহ্মসের পাল্লা-সহ বিভিন্ন মাপকাঠিতে পরখ করে দেখা হয় ক্ষেপণাস্ত্রটি। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ব্রহ্মসের উন্নত দিক্‌নির্দেশনা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, বেশি গতিতে ছুটে যাওয়ার সময়ে স্থিতিশীলতা, নির্ভুলতা এবং নির্দিষ্ট ভাবে নিশানায় আঘাত হানার ক্ষেত্রে ফের সফল হয়েছে ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্রটি।

    নয়া ব্রহ্মস আরও আধুনিক

    সিঁদুর অভিযানের পর থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এমনকি, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তৃতাতেও উঠে এসেছিল রাশিয়ার সহযোগিতায় ভারতে তৈরি সেই ব্রহ্মস ক্রুজ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কথা। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ইসলামাবাদকে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, সিঁদুর অভিযান শুধুই ঝলক ছিল। পাকিস্তানের প্রতিটি কোনাই ব্রহ্মসের নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে সম্প্রতি দক্ষিণ চিন সাগরে ইসলামাবাদের বন্ধু বেজিঙের আগ্রাসন রুখতে ভারত থেকে কেনা সেই ক্ষেপণাস্ত্রেই ভরসা রেখেছে ফিলিপিন্স। সেখানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে তারা। অপারেশন সিঁদুরের পর থেকে ব্রহ্মসের পাল্লা আরও বৃদ্ধি করতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা ২৯০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। বিমান বা ডুবোজাহাজে ব্যবহৃত সংস্করণের কিছুটা কম। নতুন পাঁচ দফা পরিকল্পনায় ব্রহ্মসের পাল্লা এবং গতিবেগ দু’টিই বাড়ানো হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, নয়া সংস্করণে স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি, সুপারসনিক থেকে হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিবেগসম্পন্ন) ক্ষেপণাস্ত্রের স্তরে উন্নীত হবে ব্রহ্মস।

  • BrahMos Strike: ‘স্রেফ ৩০ সেকেন্ড সময় ছিল’! ব্রহ্মস হামলায় কাঁপে পাক সেনার ‘নার্ভ সেন্টার’, স্বীকার শেহবাজের উপদেষ্টার

    BrahMos Strike: ‘স্রেফ ৩০ সেকেন্ড সময় ছিল’! ব্রহ্মস হামলায় কাঁপে পাক সেনার ‘নার্ভ সেন্টার’, স্বীকার শেহবাজের উপদেষ্টার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) সময় চাপে ছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এতদিনে সেই কথা মানলেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিশেষ উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতের নিক্ষিপ্ত ব্রহ্মস সুপারসনিক মিসাইল (BrahMos Strike) যখন পাকিস্তানের চট্টগ্রামের নুর খান এয়ারবেসে আঘাত হানে, তখন পাকিস্তানের কাছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড। মিসাইলটি পারমাণবিক কিনা তা নির্ধারণ করাই ছিল লক্ষ্য।

    ব্রহ্মস আক্রমণের প্রেক্ষাপট

    চলতি বছর ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় পাকিস্তান ঘেঁষা সন্ত্রাসীরা ২৬ জন পর্যটককে হত্যা করে। এই ঘটনার জবাবে ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বাহিনী। নিহত হয় ১০০-র বেশি জঙ্গি। পাকিস্তান পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালালে সেগুলি প্রতিহত করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা। এরপর ভারত সোজাসুজি পাক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্রহ্মস হামলা চালায়। ৯ মে রাত থেকে ১০ মে ভোর পর্যন্ত একযোগে ১১টি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়— যার মধ্যে ছিল সর্গোধা, রফিকি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চকলালার নুর খান এয়ারবেস।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ নুর খান ঘাঁটি?

    নুর খান এয়ারবেস পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ভিআইপি ফ্লিট, তুরস্ক থেকে কেনা উন্নত ড্রোন (Bayraktar TB2), এবং স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড সেন্টারের কেন্দ্রবিন্দু। এটি রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদর দফতরের পাশেই। এমন স্পর্শকাতর স্থানে ভারতের এই সুপারসনিক হামলা ছিল নজিরবিহীন।

    ব্রহ্মসের গতি এবং পাকিস্তানের বিভ্রান্তি

    ব্রহ্মস একটি ইন্দো-রাশিয়ান যৌথভাবে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। এটি মাক ২.৮–৩.০ (প্রায় ৩৪৫০ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে ছুটে আসে এবং মাটির কাছাকাছি উড়ে আসায় সহজে ধরা যায় না। রানা সানাউল্লাহ বলেন, “এই মিসাইল যদি পারমাণবিক হতো, পাকিস্তানের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ছিল মাত্র ৩০ সেকেন্ড। পরিস্থিতিটা ছিল সত্যিই ভয়ানক।” তিনি এটিকে বিশ্ব যুদ্ধের প্রেক্ষাপট তৈরি করার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি বলেও মন্তব্য করেন। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, নুর খান ঘাঁটিতে রানওয়ে ভাঙা, হ্যাঙ্গার বিধ্বস্ত, রাডার ইনস্টলেশন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। একই ধ্বংসের ছবি দেখা যায় সর্গোধা, ভোলারি, রহিম ইয়ার খান, ও সুক্কুর ঘাঁটিতে। এই হামলায় পাকিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা কার্যত বিপর্যস্ত হয়। পাকিস্তান শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার স্বীকার করেন— “ভারত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা করেছে।”

    যুদ্ধবিরতির বিতর্ক

    পাকিস্তান দাবি করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতা করে যুদ্ধবিরতি করান এবং তাঁকে শান্তির নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথাও বলেন রানা সানাউল্লাহ। তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক তা খণ্ডন করে জানায়, পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন (DGMO) নিজেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠান। আসলে ভারতের হামলায় দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল ইসলামাবাদ। রানা সানাউল্লাহ-এর কথা থেকেই তা স্পষ্ট। তবে পারমাণবিক হামলায় যে আশঙ্কার কথা রানা সানাউল্লাহ উল্লেখ করছেন, তা অমূলক। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নীতির (No First Use) ভিত্তিতে পাকিস্তানের বোঝা উচিত ছিল, ব্রহ্মসে পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকার সম্ভাবনা কম। এই কথা বলে পাকিস্তান পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে সহানুভূতি আদায় করতে চাইছে।

    পাকিস্তানের আতঙ্ক

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সম্প্রতি স্বীকার করে নিয়েছিলেন ভারতের ব্রহ্মস মিসাইলে বিপর্যস্ত হয়েছিল পাক বায়ুসেনা ঘাঁটি। যার মধ্যে ছিল রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর। আজারবাইজানে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, পাক বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল ভারত। পাকিস্তান তার আগেই হামলার মতলব কষেছিল। কিন্তু তাদের হতভম্ব করে আগেই হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের সব রণকৌশল ব্যর্থ করে দিয়েছিল নয়াদিল্লি। এবার সেই পাক আতঙ্কের কথা জানালেন সানাউল্লাহও। এই ব্রহ্মস হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কতটা অসহায় করে দিয়েছিল, রানা সানাউল্লাহর স্বীকারোক্তি থেকে তা জলের মতো পরিষ্কার।

  • BrahMos Missile: ‘অপারেশন সিঁদুরে’ বাজিমাত, কীভাবে বিশ্বের নয়নের মণি হয়ে উঠল বাজপেয়ী-কালামের ‘মানসপুত্র’ ব্রহ্মোস

    BrahMos Missile: ‘অপারেশন সিঁদুরে’ বাজিমাত, কীভাবে বিশ্বের নয়নের মণি হয়ে উঠল বাজপেয়ী-কালামের ‘মানসপুত্র’ ব্রহ্মোস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৯ মে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভারতের ১৬টি জায়গায় হামলার চেষ্টা চালায় পাক সেনা। এর প্রত্যাঘাত হিসেবে ১০ মে ভোররাতে পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে আকাশপথে পিন-পয়েন্ট অভিযান চালায় ভারত (Operation Sindoor)। প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের গভীরে ঢুকে রফিকি, মুরিদ, নূর খান, রহিম ইয়ার খান, সুক্কুর, সারগোধা এবং চুনিয়ান বিমানঘাঁটির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। অভিযান চালানো হয় স্কার্দু, ভোলারি, জাকোবাবাদ এয়ারবেস এবং সিয়ালকোট ও পারসুরে অবস্থিত রেডার স্টেশনেও।

    প্রথমবার লড়াইতেই বাজিমাত ব্রহ্মোসের

    একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কার্দু থেকে শুরু করে ভোলারি, জাকোবাবাদ এবং সারগোধার এয়ারবেসগুলিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবেদনগুলিতে এও দাবি করা হয়, ওই ক্ষতির নেপথ্যে ছিল নাকি ভারতের ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos Missile)। সেখানে বলা হয়, প্রথমবারের মতো ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহার করেছে ভারতীয় সামরিক বাহিনী। যদিও, ভারত সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে খোলসা করা হয়নি। কিন্তু, ১১ তারিখ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরাসরি জানান, ব্রহ্মোসের ক্ষমতা টের পেয়েছে পাকিস্তান। এর পরই, একাধিক সংবাদমাধ্যমে জোরালো হতে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ সাফল্যের নেপথ্যে ব্রহ্মোসের ভূমিকার কথা।

    আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘শব্দভেদী’ ব্রহ্মোস

    পাকিস্তানে মোতায়েন চিনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘এইচকিউ-০৯’ এবং ‘এইচকিউ-১৬’ ব্রহ্মোসের উপস্থিতি টেরই পায়নি। যদিও এই প্রথম নয়। মিয়াঁ চান্নুর কথা অনেকেরই মনে থাকার কথা। ২০২২ সালে ভারতের ব্রহ্মোস ভুলবশতঃ পাকিস্তানে গিয়ে আছড়ে পড়ে। ভারত জানিয়েছিল, ওটা ‘মিসফায়ার’ হয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমার ভিতরে মিসাইলটি প্রায় দেড় মিনিট ছিল। কিন্তু, ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) কোনও মিসফায়ার নয়। উল্টে এটা ছিল একেবারে ক্যালকুলেটেড, প্রিশিসন স্ট্রাইক। নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই আঘাত। যাতে সম্পূর্ণ সফল ভারতের ব্রহ্মোস। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে একদিকে বিশ্বে চিনা প্রতিরক্ষা সিস্টেমের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে, চিনা যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র যেমন বিশ্বে হাসির পাত্র হয়ে উঠেছে। তেমন উল্টোদিকে, এখন তামাম বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ভারতের ‘শব্দভেদী’ ব্রহ্মোস (BrahMos Missile)। চিনা এয়ার ডিফেন্সকে ভূপতিত করে রাতারাতি জায়ান্ট-কিলার হয়ে উঠে এসেছে ভারত-রাশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় তৈরি এই সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এতদিন বিশ্ববাসী শুধু ব্রহ্মোসের গুণগান শুনেছিল। এবার প্রথমবার তারা এই ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করল। আর হাড়ে হাড়ে টের পেল পাকিস্তান। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এও বলা হচ্ছে, ব্রহ্মোসে ঘায়েল হয়েই পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বুঝে যান, ভারতকে রোখা অসম্ভব। আর কোনও উপায় নেই দেখে সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউস নিবাসীকে ফোন করেন।

    ১৭টি দেশ কিনতে চায় ব্রহ্মোস

    ব্রহ্মোস নিয়ে যে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশ মেতে উঠেছে, তা নিছক কল্পনা নয়, ঘোর বাস্তব। এর প্রমাণ মিলতে শুরু করে দিয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশ ব্রহ্মোস কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা সকলেই ব্রহ্মোসকে ঘরে তুলতে চায়। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, এদের অনেককেই চিনের মোকাবিলা করতে হয়। ফলে, বিশ্বে স্পষ্ট বার্তা চলে গিয়েছে— চিনের মোকাবিলা করতে একমাত্র ভরসা ভারত, মায় ভারতের ব্রহ্মোস (BrahMos Missile)। ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সের মতো দেশকে ৩৭.৫ কোটি ডলারে ব্রহ্মোস বিক্রি করেছে ভারত। এবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ-আফ্রিকা থেকে লাতিন আমেরিকা— সকলেই ব্রহ্মোস কেনার বিষয়ে বিপুল উৎসাহ প্রকাশ করেছে। কে নেই সেই তালিকায়— ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, মিশর, সৌদি আরব, আমিরশাহি, কাতার, ওমান, ব্রাজিল, চিলি, আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ও বুলেগেরিয়া।

    উপসাগরীয় যুদ্ধ দেখায় প্রয়োজনীয়তা

    তবে, ব্রহ্মোসের এই বিশ্ব-জয় একদিনে আসেনি। আজকের এই সাফল্য ভারতের দুই ভবিষ্যৎদ্রষ্টার চিন্তাভাবনা এবং কয়েক দশকের প্রচেষ্টার ফসল। ব্রহ্মোসের (BrahMos Missile) ভাবনার পত্তন হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। সে বছর শুরু হয় ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ এপিজে আবদুল কালামের নেতৃত্বে এই প্রোগ্রাম চলাকালীন, ভারতীয় রকেট বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীরা পৃথ্বী এবং অগ্নি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করেছিলেন, যা বর্তমানে দেশের পারমাণবিক-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় অবদান রাখে। তবে, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ, ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাশাপাশি অস্ত্রাগারে ক্রুজ মিসাইল থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। ভারতীয় নৌসেনা এই প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিল। ভারত মহাসাগীয় অঞ্চলে সামরিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্য অর্জন করা ভারতের মতো দ্রুত উন্নয়নশীল নৌবাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। সেই সময়ে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করাকে পাখির চোখ করেছিল, অবশ্যই তৎকালীন জোটনিরপেক্ষ নীতির সুক্ষ্ম ভারসাম্যকে ভেঙে না ফেলে।

    বাজপেয়ী-কালামের মানসপুত্র ব্রহ্মোস

    অতঃপর, ১৯৯৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, ভারত ও রাশিয়ার সরকার যৌথ সংস্থা ব্রহ্মোস প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ব্রহ্মোস হল দুই দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নদী, ভারতের ব্রহ্মপুত্র এবং রাশিয়ার মস্কোর নামের প্রাথমিক অক্ষরের সংমিশ্রণ। রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া এবং ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) মধ্যে একটি আন্তঃসরকারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য একটি সমবায় সংস্থা গঠন হয় এবং ব্রহ্মোস এরোস্পেস প্রাইভেট লিমিটেড (বিএপিএল) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালের ৯ জুলাই, প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে ব্রহ্মোস (BrahMos Missile) প্রকল্পের জন্য প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিশিষ্ট ভারতীয় রকেট বিজ্ঞানী ডঃ এপিজে আবদুল কালাম, যিনি তখন ডিআরডিও-র দায়িত্বে ছিলেন।

    ২০০১ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    সেই সময় এই সংস্থার মূলধন হিসেবে ২৫ কোটি ডলার অনুমোদিত হয়েছিল, যার বর্তমান মূল্য ২,১৩৫ কোটি টাকারও বেশি। গবেষণার জন্য অনুমোদিত অর্থের ৫০.৫ শতাংশ ভারত থেকে এসেছিল, বাকি ৪৯.৫ শতাংশ রাশিয়া সরবরাহ করেছিল। অর্থাৎ, রুশ এবং ভারত সরকার যথাক্রমে ১২.৩৭৫ কোটি ডলার এবং ১২.৬২৫ কোটি ডলার অনুদান দেয়। প্রকল্পটি সেই বছরই একাধিক ডিআরডিও এবং এনপিওএম ল্যাবে শুরু হয়েছিল। ঠিক ২ বছর পর, ২০০১ সালের ১২ জুন, প্রথমবার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয় ব্রহ্মোসের (BrahMos Missile)। ওড়িশার চাঁদিপুরের মিসাইল টেস্ট রেঞ্জের একটি ফিক্সড লঞ্চার থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। সেই বছরের অগাস্ট মাসে মস্কোর আন্তর্জাতিক এভিয়েশন শোয়ে আত্মপ্রকাশ করে ব্রহ্মোস। আরও ২ বছর পর, ২০০৩ সালে বঙ্গোপসাগরে একটি জাহাজ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নৌ-সংস্করণের প্রথম পরীক্ষা হয়। পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৪ সালে, মোবাইল গ্রাউন্ড লঞ্চার থেকে প্রথমবার উৎক্ষেপণ করা হয় ব্রহ্মোস।

    আর ফিরে তাকাতে হয়নি…

    ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রে ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ও মোতায়েনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্দেজ। ভারতীয় সেনাবাহিনী ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (BrahMos Missile) প্রথম অর্ডার দিয়েছিল। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো আইএনএস রণবীর থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে উল্লম্বভাবে (ভার্টিক্যাল লঞ্চ) উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। আর ফিরে তাকাতে হয়নি ব্রহ্মোসকে। ২০০৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে, ২০০৭ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এবং ২০১২ সালে ক্ষেপণাস্ত্রের বিমান থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য (এয়ার-লঞ্চ) সংস্করণটি অন্তর্ভুক্ত হয় বায়ুসেনায়।

  • India BrahMos Missile: ব্রহ্মোসের গর্জনে কাঁপবে চিন! ফিলিপিন্সের পর ভিয়েতনামের সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির পথে ভারত

    India BrahMos Missile: ব্রহ্মোসের গর্জনে কাঁপবে চিন! ফিলিপিন্সের পর ভিয়েতনামের সঙ্গে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দাপট দেখাচ্ছে ভারত। আমেরিকা-রাশিয়ার মতো এবার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির খেলায় ময়দানে নেমে পড়েছে ভারতও। ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (India BrahMos Missile) রফতানিতে ভারতের পরবর্তী গন্তব্য হতে চলেছে ভিয়েতনাম। ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এই চুক্তি কয়েক মাসের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। ফিলিপিন্সের মতোই ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের উপকূলীয় ব্যাটারি সিস্টেম ভারত থেকে সংগ্রহ করতে চায় ভিয়েতনাম।

    চিনকে টক্কর দিতেই ব্রহ্মস

    ব্রহ্মোসের (India BrahMos Missile) ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষমতা ভিয়েতনামকে দক্ষিণ চিন সাগরে তার সামুদ্রিক সীমানা সুরক্ষিত করতে সহায়তা করবে। এতে করে চিনা যুদ্ধজাহাজের হুমকির মোকাবিলায় ভিয়েতনাম আরও প্রস্তুত থাকবে, বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদের। যদি ভারত-ভিয়েতনাম ব্রহ্মস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে ফিলিপিন্সের পর ভিয়েতনাম হবে দ্বিতীয় দেশ, যারা তাদের নৌবাহিনীতে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রসঙ্গত, ভারত ২০২২ সালে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের একটি ব্রহ্মোস চুক্তি করেছিল, যা ছিল এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম আন্তর্জাতিক বিক্রি। ভিয়েতনামের এই সম্ভাব্য চুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে জড়িত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ব্রহ্মোসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোস নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই নয়, মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশও ব্রহ্মোস সংগ্রহে আগ্রহ দেখিয়েছে।

    ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব কী?

    ব্রহ্মোস (India BrahMos Missile) ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২৯০ কিলোমিটার এবং এটি শব্দের গতির চেয়ে আড়াই গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে। এটি বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি। এটি যৌথভাবে রাশিয়ার ডিআরডিও এবং এনপিওএম দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি, ভারতীয় বিমান বাহিনী সুখোই বিমান থেকে ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মোস সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিনটি শাখাই ব্রহ্মোস ব্যবহার করে। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তার গতি ও নির্ভুল আক্রমণের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে। পদাতিক সেনা তো বটেই, বায়ুসেনা এবং নৌবাহিনীও এই ক্ষেপণাস্ত্রে ভরসা রেখে আসছে।

    আরও উন্নত ব্রহ্মোস

    ২০১৬ সালে ভারত মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর সদস্য হওয়ার পর, ব্রহ্মোসের পাল্লা ৩০০ কিমির বেশি বাড়ানোর পথ খুলে যায়। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, ৩০০ কিমির বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। ফলে প্রথমে ভারত ও রাশিয়ার যৌথভাবে তৈরি ব্রহ্মোসের পাল্লা সীমিত ছিল ২৯০ কিমি পর্যন্ত। বর্তমানে ভারত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪০০ থেকে ৬০০ কিমি পর্যন্ত বাড়ানোর কাজ করছে। সম্প্রতি ভারতীয় বায়ুসেনা একটি সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেকে ৪০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোসের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানিতে এগোচ্ছে ভারত

    মেক-ইন-ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় বেড়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, ‘চলতি বছরে ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করা হবে। আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৩ লক্ষ কোটি টাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করবে ভারত।’ একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের। যা চলতি বছরে এসে ঠেকেছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রসঙ্গত, ফিলিপিন্সকে ব্রহ্মোস পাঠিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ভারত। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের সঙ্গে ব্রহ্মোস-চুক্তি সাক্ষর করতে চলেছে নয়াদিল্লি।

    চিন্তায় চিন

    ব্রহ্মোসের (India BrahMos Missile) প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধিতে চিন্তিত চিন। বিশেষ করে দক্ষিণ চিন সাগরের ওপর তার দাবিকে ঘিরে ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে চিনের সম্পর্ক উত্তপ্ত। এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ব্রহ্মোস এক প্রতিরক্ষা কৌশলের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠছে। দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য থাকবে কার, এই নিয়ে উত্তর-পূর্ব দেশগুলির মধ্যে বিরোধ নতুন নয়। চিনের ‘দাদাগিরি’ আটকাতে প্রায়ই ফিলিপিন্স, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া লড়াই করে। দক্ষিণ চিন সাগরে একাধিপত্য বিস্তার করতে সব সময়ই আগ্রাসী ভূমিকা নেয় বেজিং। এই সাগরে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ তারা। ফিলিপিন্স-সহ অন্য দেশগুলিও যে পিছু হটতে নারাজ তা বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে। তাই এই সব দেশগুলির সঙ্গে সংঘাত লেগেই রয়েছে চিনের। সেই সংঘাতেই এবার জড়িয়ে পড়ল ভারতও। এ দেশে তৈরি দূরপাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সে পৌঁছেছে। এবার পালা ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ার।

     

     

     

  • BrahMos Missile: সফল উৎক্ষেপণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের, ট্যুইট নৌসেনার

    BrahMos Missile: সফল উৎক্ষেপণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের, ট্যুইট নৌসেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার মুকুটে জুড়ল নয়া পালক। রবিবার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের (BrahMos Missile) সফল উৎক্ষেপণ করেছে ভারতীয় নৌসেনা। আরব সাগরে কলকাতা ক্লাস ডেস্ট্রয়ার থেকে এই ব্রহ্মোস অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এটি তৈরি করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গনাইজেশন বা ডিআরডিও। রবিবার একটি ট্যুইট করে ভারতীয় নৌসেনা এই মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণের বিষয়ে জানায়। ট্যুইট বার্তায় লিখেছে, “আরব সাগরে যুদ্ধজাহাজ থেকে একেবারে সঠিকভাবে একটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে ভারতীয় নৌসেনা। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে ডিআরডিও সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে।”

    ব্রহ্মোস মিসাইল (BrahMos Missile)…

    ব্রহ্মোস (BrahMos Missile) হল একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই মিসাইল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। এখন ভারত নিজের প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এই মিসাইল তৈরি করতে শুরু করেছে। ভারত এখন ব্রহ্মোস মিসাইল বিদেশেও রপ্তানি করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবেগ শব্দের গতিবেগের থেকেও দ্রুত। যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও ডুবোজাহাজ, বিমান এবং স্থলভাগ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষপণ করা সম্ভব।

    আরও পড়ুন:চিনকে কড়া বার্তা! ভারতীয় সেনায় প্রথম মিডিয়াম রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল রেজিমেন্ট

    উল্লেখ্য, যখন প্রথম এই ক্ষেপণাস্ত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, সেই মুহূর্তে এই ব্রহ্মোসই ছিল বিশ্বের দ্রুততম সুপারসোনিক (শব্দের থেকেও বেশি দ্রুত গতিসম্পন্ন) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। শব্দের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বা ২.৮ মাখ গতিতে ছুটতে পারে ব্রহ্মোস মিসাইল (BrahMos Missile)। সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলের অ্যান্টি-শিপ সংস্করণ গত বছরের এপ্রিলে ভারতীয় নৌসেনা এবং আন্দামান ও নিকোবর কমান্ড যৌথভাবে সফলভাবে পরীক্ষা করেছিল।

    ভারতের সঙ্গে চুক্তি ফিলিপিন্সের

    সূত্রের খবর, অন্য দেশেও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে ভারত। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ফিলিপিন্সের সঙ্গে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয় ভারতের। এই চুক্তি অনুযায়ী ফিলিপিন্সকে মিসাইল পাঠাবে ভারত। এই প্রথম ভারতে তৈরি অস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করা হবে। দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের আগ্রাসনের মধ্যে ফিলিপিন্সের কাছে এই মিসাইলগুলি গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share