Tag: Budget 2026

  • Nirmala Sitharaman: বাজেটে স্বদেশি-প্রথম অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী

    Nirmala Sitharaman: বাজেটে স্বদেশি-প্রথম অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার সংসদে বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। বাজেট ২০২৬–২৭ পেশ করে তিনি এদিন একটি বিস্তৃত স্বদেশি-প্রথম (Swadeshi First Strategy) অর্থনৈতিক রোডম্যাপ তুলে ধরেন। এতে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতা এবং ভ্যালু-চেন সংহতকরণ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী ছ’দফার একটি কাঠামোর কথা ঘোষণা করেন, যার লক্ষ্য স্বদেশি শিল্পকে প্রধান চালিকাশক্তি করে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ত্বরান্বিত করা। এই কাঠামোর মাধ্যমে কেবল সংযোজন বা আমদানি-বিকল্পের বাইরে গিয়ে গভীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, রফতানি প্রতিযোগিতা ও দেশীয় মেধাস্বত্ব (IP) গড়ে তোলার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ছ’টি স্তম্ভ (Nirmala Sitharaman)

    অর্থমন্ত্রী যে ছ’টি স্তম্ভের কথা বলেছেন, সেগুলি হল, সাতটি কৌশলগত ও অগ্রগামী খাতে স্বদেশি উৎপাদনের ব্যাপক সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতি রক্ষায় ঐতিহ্যবাহী শিল্পক্ষেত্রের পুনরুজ্জীবন, লক্ষ্যভিত্তিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে ‘চ্যাম্পিয়ন’ এমএসএমই গড়ে তোলা, পরিকাঠামোয় বড়সড় বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং নগরভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রথম তিনটি স্তম্ভে স্বদেশি উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত গভীরতা (Swadeshi First Strategy), দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল এবং কর্মসংস্থাননির্ভর বৃদ্ধির প্রতি সরকারের অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দেয়। স্বদেশি উদ্যোগের অন্যতম বড় ঘোষণা হল ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশন (ISM) ২.০, যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০,০০০ কোটি টাকা। আইএসএম ১.০–এর মাধ্যমে ভারতে সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি (Nirmala Sitharaman) ও ফ্যাব্রিকেশন ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছিল। নতুন পর্যায়ে শিল্পনির্ভর গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

    সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি

    এই পর্যায়ে ভারতীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। লক্ষ্য হল, পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় মেধাস্বত্বভিত্তিক যন্ত্র ও উপকরণ উৎপাদন। এর মাধ্যমে কেবল অ্যাসেম্বলির সীমা ছাড়িয়ে সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু-চেনের প্রতি স্তরে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতকে বৈশ্বিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বাজেটে বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এ জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা (Swadeshi First Strategy)। এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে তিনটি নতুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফার্মাসিউটিক্যাল  (Swadeshi First Strategy)এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (NIPER) স্থাপন, সাতটি এনআইপিইআরের পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ১,০০০টি স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল কেন্দ্র গঠন এবং সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)–কে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা।

    ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টে আমদানি

    স্মার্টফোন, অটোমোবাইল ও প্রতিরক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টে আমদানি নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল গভীর করা এবং স্বদেশি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।গুরুত্বপূর্ণ খনিজের কৌশলগত প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে রেয়ার আর্থ করিডর স্থাপনের কথা (Nirmala Sitharaman) ঘোষণা করা হয়েছে। এই করিডরগুলিতে খনন, প্রক্রিয়াকরণ, গবেষণা ও স্থায়ী চুম্বক উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া হবে, যা বৈদ্যুতিক যান, উইন্ড টারবাইন ও প্রতিরক্ষা খাতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Swadeshi First Strategy)। বিশেষায়িত ও বাল্ক কেমিক্যাল উৎপাদনে ভারতের অবস্থান মজবুত করতে তিনটি বিশেষ কেমিক্যাল পার্ক স্থাপনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। শিপিং কন্টেইনার উৎপাদনের জন্য নতুন একটি প্রকল্পও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০,০০০ কোটি টাকা। লক্ষ্য হল, আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক স্বদেশি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

    উচ্চাভিলাষী সমন্বিত কর্মসূচি

    বস্ত্র খাতে বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি উচ্চাভিলাষী সমন্বিত কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে (Swadeshi First Strategy)। ‘চ্যালেঞ্জ মোড’-এ বড় টেক্সটাইল পার্ক গড়ে তোলা হবে, যেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলি দরপত্রের মাধ্যমে পার্ক নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পাবে, টেকনিক্যাল টেক্সটাইল ও মূল্য সংযোজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং বস্ত্র খাতের জন্য পাঁচ দফার সহায়তা প্যাকেজ। এগুলি হল, প্রাকৃতিক, কৃত্রিম ও আধুনিক ফাইবারে আত্মনির্ভরতা (Nirmala Sitharaman), টেক্সটাইল এক্সপ্যানশন অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট স্কিমে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষণের সুবিধা, ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্প কর্মসূচি, টেক্স-ইকো উদ্যোগে (Swadeshi First Strategy) পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন, সামারাথ ২.০ (SAMARTH 2.0) শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ দক্ষতা উন্নয়ন। এছাড়াও মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য খাদি, হ্যান্ডলুম ও হস্তশিল্পকে ব্র্যান্ডিং, বাজার সংযোগ, প্রশিক্ষণ ও মান নির্ধারণের মাধ্যমে শক্তিশালী করা।

    ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্লাস্টার

    আঞ্চলিক বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের সমস্যা মোকাবিলায় ২০০টি ঐতিহ্যবাহী শিল্প ক্লাস্টার পুনরুজ্জীবনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এমএসএমইদের জন্য ১০,০০০ কোটি টাকার ‘চ্যাম্পিয়ন ফান্ড’, এবং দুটি হাই-টেক টুল রুম স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। মজবুত উৎপাদনের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে কার্বন ক্যাপচার, ইউটিলাইজেশন অ্যান্ড স্টোরেজ (CCUS) প্রযুক্তির জন্য (Nirmala Sitharaman)। বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা ও ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই স্বদেশির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ আগেই ইলেকট্রনিক্স ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে (Swadeshi First Strategy) আমদানি নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল (Swadeshi First Strategy)। বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা বলেন, “আত্মনির্ভরতাকে পথপ্রদর্শক হিসেবে রেখে আমরা দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ আমদানি নির্ভরতা কমিয়েছি।” পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় মেধাস্বত্ব, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিকাঠামো, রেয়ার আর্থ প্রক্রিয়াকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্প পুনরুজ্জীবনের ওপর জোর দিয়ে সরকার ভ্যালু-চেনের উচ্চ স্তরে ওঠার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিয়েছে (Nirmala Sitharaman)।

     

  • Durgapur Industry Corridor: বেকার সমস্যার সমাধান থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন! শিল্প করিডর প্রস্তাবে আশাবাদী দুর্গাপুর

    Durgapur Industry Corridor: বেকার সমস্যার সমাধান থেকে পরিকাঠামো উন্নয়ন! শিল্প করিডর প্রস্তাবে আশাবাদী দুর্গাপুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ শিল্পঐতিহ্যের শহর দুর্গাপুর (Durgapur Industry Corridor) আসন্ন বাজেটে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর থেকে বড়সড় সুবিধা পেতে পারে। ‘পুর্বোদয়া স্টেটস’ উদ্যোগের আওতায় গড়ে ওঠা এই করিডরের একটি সুসংযুক্ত নোড দুর্গাপুরে হলে শিল্পখাতে খরচ কমবে বলে মনে করছেন শহরের শিল্পপতিরা। রবিবার বাজেটে দুর্গাপুরে নয়া শিল্প করিডরের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট ভাষণে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের জন্য বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই রেশ ধরে ইন্টিগ্রেটেড ইস্ট-কোস্ট করিডর তৈরি করা হবে। আর তার একটি কেন্দ্র তৈরি করা হবে দুর্গাপুরে।

    পূর্বোদয় পরিকল্পনার অংশ দুর্গাপুর শিল্প করিডর

    ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন৷ পূর্বোদয়, অর্থাৎ পূর্বের উদয় নামে একটি পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি৷ বাজেট বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, ‘‘আমি একটি সুসংযুক্ত দুর্গাপুর নোড-সহ একটি সমন্বিত পূর্ব উপকূল শিল্প করিডর (ইস্ট-কোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর) গড়ে তোলা, পূর্বোদয় প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি রাজ্যে পাঁচটি পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন এবং চার হাজার ই-বাসের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করছি।’’এই ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শিল্পশহর দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর তৈরি করা, যার মাধ্যমে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নতিও করা যাবে৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর অত্যন্ত আশাবাদী দুর্গাপুর বণিক সভা।

    শিল্প-মানচিত্রে ফের শক্ত জায়গায় দুর্গাপুর

    অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এই করিডর উৎপাদন, লজিস্টিক্স ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। দুর্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী শিল্প পরিকাঠামো এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে সামনে রেখে এই অঞ্চলকে শিল্প মানচিত্রে আরও শক্তপোক্ত জায়গা করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। ইস্পাত শিল্পের জন্য পরিচিত দুর্গাপুরে সেলের (SAIL) অন্যতম পুরনো কারখানা দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (DSP) অবস্থিত। শ্যাম স্টিলের ডিরেক্টর ললিত বেরিওয়ালা বলেন, এই করিডর চালু হলে এলাকার লজিস্টিক ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। তাঁর কথায়, দুর্গাপুরের অধিকাংশ শিল্পই বাইরে থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ প্রস্তুত পণ্য রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়। সে ক্ষেত্রে একটি শিল্প করিডর শিল্পগুলির জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। অন্ডালের বিমানবন্দর পরিচালনাকারী বেঙ্গল অ্যারোট্রোপলিস (BAPL)-এর ডিরেক্টর উৎসব পারেখ জানান, এই প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহী। তিনি বলেন, “এখানে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছি।”

    দক্ষিণবঙ্গের অলিখিত রাজধানী হতে পারে দুর্গাপুর

    দুর্গাপুর (Durgapur Industry Corridor) চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি চন্দন দত্ত বলেন, ‘‘দুর্গাপুর শিল্পনগরী থেকে স্বাস্থ্য নগরী এবং শিক্ষা নগরীতেও পরিণত হয়েছে। যদিও দুর্গাপুরে একের পর এক ভারী শিল্প বন্ধ হওয়ার পর, তা আর খোলা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই দুর্গাপুর তার গৌরব অনেকখানি হারিয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অলিখিত রাজধানী হয়ে যেতে পারে দুর্গাপুর।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পাশাপাশি অন্ডাল বিমাননগরীতে যে কারগো পরিষেবা চালু হয়েছে, তার আরও উন্নতি হলে আশপাশের জেলা বীরভূম, বাঁকুড়া, নদিয়া , পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান এমনকী প্রতিবেশী রাজ্য বিহার, ঝাড়খণ্ড দারুণভাবে উপকৃত হবে। মুম্বইয়ের পুনে এবং নয়াদিল্লির নয়ডা যেভাবে উন্নয়ন ঘটছে, কলকাতা থেকে মাত্র ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরে সেই উন্নয়নে জরুরি।’’

    দুর্গাপুরের কী কী সুবিধা

    দুর্গাপুরকে এই করিডোরের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে লৌহ-ইস্পাত এবং ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। বার্জার পেইন্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও অভিজিৎ রায় বলেন, দুর্গাপুর সংলগ্ন পানাগড়ে তাঁদের প্রস্তাবিত উৎপাদন কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই শিল্প করিডর লজিস্টিক ও সংযোগ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, আসানসোল চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক শম্ভু ঝা বলেন, দুর্গাপুরকে বড় শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত এবং এই করিডর পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের সময়কালে দুর্গাপুরে ডিভিসির ৮০০ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন পরিবেশবান্ধব নতুন ইউনিট গড়ার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় বাজেটে দুর্গাপুরকে নিয়ে নতুন করে শিল্প করিডর গড়ার ঘোষণা অত্যন্ত আশাবাদী দুর্গাপুরের আমজনতা।

    শিল্পের জোয়ার আসবে জেলায় জেলায়

    দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঘিরে যে প্রশ্ন উঠছিল পশ্চিমবঙ্গে, বাজেটের এই ঘোষণায় তারই একটি সম্ভাব্য উত্তর মিলেছে বলে মনে করছেন শিল্প ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রাজ্য সরকার যেখানে বারবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে এসেছে, সেখানে দুর্গাপুরে শিল্প করিডরের প্রস্তাব বাংলাকে ঘিরে কেন্দ্রের আগ্রহই স্পষ্ট করছে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। যদিও বাজেটে এই প্রকল্পের আর্থিক পরিমাণ বা নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও শিল্প মহলের মতে এটি বাংলার শিল্প পুনরুজ্জীবনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন,‘‘আমরা বলেছিলাম, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে শিল্পায়ন হবে। ক্ষমতায় আসার আগেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দুর্গাপুরে শিল্পের কথা ঘোষণা করলেন। এ বার আর দুর্গাপুর ও আশপাশের যুবকদের ভিন রাজ্যে কাজে যেতে হবে না।’’ বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘এই রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা দেখা দিল আবার দুর্গাপুরকে সামনে রেখেই। তৃণমূল কংগ্রেসের ইউনিয়ন তাদের জঙ্গিপনার কারণে এ রাজ্যে শিল্প আসেনি। আবার নতুন করে শিল্প আসবে, এটা বেকার যুবকদের কাছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এই রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠিত হলে শিল্পের জোয়ার আসবে জেলায় জেলায়।’’

     

     

     

     

     

  • Budget 2026: বাংলাদেশে অশান্তির জের, বিদেশি অনুদানে ভারত কমাল বরাদ্দ

    Budget 2026: বাংলাদেশে অশান্তির জের, বিদেশি অনুদানে ভারত কমাল বরাদ্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিরার সংসদে বাজেট (Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বাজেটে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বিদেশি দেশগুলির জন্য অনুদান বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি টাকা। এই তালিকায় ভুটান-ই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া দেশ হিসেবে (Bangladesh Aid Cut) উঠে এসেছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বিদেশমন্ত্রক (MEA)-এর জন্য মোট ২২,১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে বাজেট অনুমানের ২০,৫১৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত অনুমানের ২১,৭৪২ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। মোট বরাদ্দের মধ্যে ‘কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের প্রকল্প দেশগুলিকে সহায়তা’ খাতে রাখা হয়েছে ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি টাকা।

    উন্নয়ন সাহায্য (Budget 2026)

    উন্নয়ন সাহায্য হিসেবে ভুটান পেয়েছে সর্বোচ্চ ২,২৮৮ কোটি টাকা, যা ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর প্রতি দেশের অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। নেপাল পেয়েছে ৮০০ কোটি টাকা, আর মলদ্বীপ এবং মরিশাস পেয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা করে। বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। এটি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেট অনুমানের ১২০ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যদিও চলতি অর্থবর্ষের সংশোধিত অনুমান ৩৪.৪৮ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ভারতীয় কূটনৈতিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে হওয়া বিক্ষোভের জেরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Budget 2026)। সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য এ বার কানাকড়িটিও বরাদ্দ করা হয়নি। অথচ ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা পরে সংশোধিত অনুমানে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

    ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে এবং চাবাহার প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ওয়াশিংটনের ছাড় (waiver) অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল (Budget 2026)। ভারত ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা চাবাহার বন্দরকে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। এটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের (INSTC) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দরের জন্য কোনও বরাদ্দ না রাখায় কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। কংগ্রেসের এই নেতার অভিযোগ, সরকার “কারও চাপে নতি স্বীকার করছে”। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বিদেশি উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির মোট পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬,৯৯৭ কোটি টাকা, যা বিদেশমন্ত্রকের মোট বরাদ্দের ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।

    কোন দেশ কত পেল

    সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই অর্থ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, আবাসন, সড়ক ও সেতুর মতো বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের সমাজ উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে শ্রীলঙ্কার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা, আর মায়ানমার পেয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। আফগানিস্তানের জন্য সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে ছিল ১০০ কোটি টাকা, ফলে দেশটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা অব্যাহত থাকছে। আফ্রিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে ২২৫ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে (Bangladesh Aid Cut)। আর লাতিন আমেরিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। বিদেশি দেশগুলিতে দুর্যোগ ত্রাণ সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা (Budget 2026)।

     

  • Union Budget 2026: দেশের চার রাজ্যে পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর গড়ার প্রস্তাব নির্মলার

    Union Budget 2026: দেশের চার রাজ্যে পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর গড়ার প্রস্তাব নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার সংসদে পেশ হল কেন্দ্রীয় বাজেট (Union Budget 2026)। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরালায় পৃথক রেয়ার আর্থ করিডর (Rare Earth Corridors) গঠনের প্রস্তাব দেন। এর লক্ষ্য হল, রেয়ার আর্থ উপাদান ও স্থায়ী চুম্বকের খনন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনে ভারতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা জোরদার করা। অর্থমন্ত্রী বলেন, “খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ রাজ্যগুলিকে কেন্দ্রীয় সরকার লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেবে, যাতে খনন ও পরিশোধন থেকে শুরু করে গবেষণা এবং উচ্চমানের উৎপাদন পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলকে উন্নত করা যায়। এই খাতগুলি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স, প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও ইলেকট্রিক মোবিলিটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম (Union Budget 2026)

    বাজেট ভাষণে সীতারামন বলেন, “এই বাজেটে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিমের বরাদ্দ ২২,৯৯৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০,০০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি আইএসএম ২.০, রেয়ার আর্থ করিডর এবং পৃথক কেমিক্যাল পার্কের মতো নতুন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।” এই প্রস্তাবটি (Union Budget 2026) ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চালু হওয়া রেয়ার আর্থ পার্মানেন্ট ম্যাগনেট স্কিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সরকারের মতে, নতুন করিডরগুলি বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের বদলে খনন, প্রক্রিয়াকরণ, উদ্ভাবন ও উৎপাদনকে একসূত্রে যুক্ত করে সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলে সহায়তার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। রেয়ার আর্থ উপাদান মোট ১৭টি খনিজের একটি গোষ্ঠী, যা ইলেকট্রিক যানবাহনের মোটর, বায়ু টারবাইন, স্মার্টফোন, সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চ-নির্ভুল ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনের একটি বড় অংশ আমদানি করে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পক্ষেত্রগুলি বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকিতে রয়েছে।

    চিনের আধিপত্য

    বিশ্বব্যাপী রেয়ার আর্থ উৎপাদন ও পরিশোধন ক্ষমতায় (Union Budget 2026) চিনের আধিপত্য রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিন গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানিতে কড়াকড়ি করেছে। এর ফলে ভারত-সহ বিভিন্ন উৎপাদননির্ভর অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে (Rare Earth Corridors)। প্রস্তাবিত করিডরগুলির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রে ভারতের কৌশলগত স্বনির্ভরতা গড়ে তোলা, আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং ভূ-রাজনৈতিক ও সরবরাহ শৃঙ্খলজনিত ধাক্কা থেকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া হবে বলেই আশা। চিহ্নিত চারটি রাজ্যের মধ্যে তামিলনাড়ু ও কেরালায় বিস্তৃত উপকূলীয় খনিজ ভান্ডার রয়েছে, বিশেষত মনাজাইটসমৃদ্ধ বালু, যেখানে রেয়ার আর্থ উপাদান মেলে। বাজেটের এই প্রস্তাব বিনিয়োগ প্রবাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্প সম্প্রসারণে সম্ভাব্য প্রভাবের দিক থেকে নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত হবে, বিশেষ করে নির্বাচনের আগে।

    ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ মডেল

    একটি বৃহত্তর শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল কৌশলের অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাজ্যগুলিকে সহায়তা দিতে একটি চ্যালেঞ্জ-ভিত্তিক প্রকল্প ঘোষণাও করেছেন, যার আওতায় তিনটি বিশেষায়িত রাসায়নিক পার্ক স্থাপন করা হবে। এই পার্কগুলি ক্লাস্টারভিত্তিক, ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ মডেলে গড়ে তোলা হবে, যার লক্ষ্য দেশীয় রাসায়নিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানি-নির্ভরতা আরও কমানো (Union Budget 2026)। রেয়ার আর্থ করিডর ও রাসায়নিক পার্ক—এই দুই উদ্যোগ একত্রে মূলধনী পণ্য উৎপাদন জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে সরকারের লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করে, এমন একটা সময়ে যখন কৌশলগত খনিজের জন্য বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। এই বাজেট প্রস্তাব আগামী দশকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও উন্নত উৎপাদনের ক্ষেত্রে (Rare Earth Corridors) ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বনির্ভর কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অভিপ্রায় স্পষ্ট করে (Union Budget 2026)।

     

  • Budget 2026: বাজেট পেশ নির্মলার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

    Budget 2026: বাজেট পেশ নির্মলার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করাই লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি লোকসভায় ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। এটি তাঁর টানা নবম বাজেট। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশে’র সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত ও মজবুত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে।

    বাজেটে বিশেষ জোর (Budget 2026)

    এই বাজেটে পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাত সংস্কার, রাজস্ব সংহতি এবং বাজারের গভীরতার (market deepening) ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নীতিগত ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সীতারামনের বাজেট বক্তৃতার প্রধান দিকগুলি হল, পরিকাঠামোকে প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে অর্থমন্ত্রী ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেন। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে এই বরাদ্দ ছিল ১১.২ লক্ষ কোটি টাকা। ক্রিসিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি বছরে ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি, যা বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। পরিবহণ খাতে বড় উদ্যোগ হিসেবে সাতটি নয়া হাই-স্পিড রেল করিডরের কথাও ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। এগুলি হল, মুম্বই–পুণে, পুণে–হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ–বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ–চেন্নাই, চেন্নাই–বেঙ্গালুরু, দিল্লি–বারাণসী এবং বারাণসী–শিলিগুড়ি। এই করিডরগুলির লক্ষ্য পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহণে উৎসাহ দেওয়া এবং শহরগুলির মধ্যে সংযোগ আরও মজবুত করা।

    ভারতের বন্ড বাজার

    ভারতের বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করতে কর্পোরেট বন্ড সূচকের ওপর তহবিল ও ডেরিভেটিভ ব্যবহারের সুযোগ-সহ একটি মার্কেট-মেকিং কাঠামোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে মূল্য নির্ধারণ আরও স্বচ্ছ হবে এবং সংস্থাগুলির দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে (Budget 2026)। ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্য পূরণে সহায়তার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যাঙ্কিং কমিটি গঠনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি গোটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার পর্যালোচনা করে আগামী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কারের সুপারিশ করবে (Nirmala Sitharaman)। বিদেশি পুঁজি আকর্ষণের লক্ষ্যে ভারতীয় শেয়ারবাজারে ব্যক্তিগত এনআরআই বিনিয়োগ সীমা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোট বিনিয়োগ সীমা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।

    বন্ড বাজার সংস্কার

    অর্থমন্ত্রী রাজস্ব শৃঙ্খলার প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৪.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Budget 2026)। তুলনায়, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে সংশোধিত অনুমান ছিল ৪.৪ শতাংশ। এই ধাপে ধাপে ঘাটতি কমানোর রূপরেখা প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ইঙ্গিত দেয়। কর সংক্রান্ত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে অপশন ট্রেডিংয়ের ওপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) ০.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব ডেরিভেটিভস ব্যবসায়ীদের ওপর পড়তে পারে, তবে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি পুঁজিকে আকৃষ্ট করবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে (Nirmala Sitharaman)। বন্ড বাজার সংস্কার এবং এনআরআই বিনিয়োগ সীমা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপগুলি ভারতীয় আর্থিক বাজারকে আরও গভীর, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ (Budget 2026)।

    মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস

    সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, ২০২৬ সালের বাজেটে বড় কোনও নীতিগত পরিবর্তনের বদলে ধারাবাহিকতা ও পরিমিত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মাঝারি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে সরকার পরিকাঠামো-কেন্দ্রিক সম্প্রসারণ, রাজস্ব সংহতি এবং আর্থিক খাত শক্তিশালী করার পথ বেছে নিয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্মলা সীতারামনের নবম বাজেট উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সতর্কতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিকাঠামো, বাজার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে ভারতের মধ্যমেয়াদি (Nirmala Sitharaman) প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে (Budget 2026)।

     

  • Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    Economic Survey: রবিবার বাজেট, তার আগে সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলার, কী এর গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশন (Budget 2026) । আজ, বৃহস্পতিবার সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ (Economic Survey) করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার কথা ১৩ ফেব্রুয়ারিতে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার আগের ধাপ হল অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ। ফি বছর অর্থনৈতিক সমীক্ষার দিকে অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারক বিশ্লেষকদের বিশেষ নজর থাকে। কারণ এই নথিতে গত এক বছরে ভারতীয় অর্থনীতির সামগ্রিক পারফরম্যান্সের বিস্তারিত মূল্যায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা মেলে।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা কী (Economic Survey)

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা একটি বিস্তৃত বাৎসরিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা, যা অর্থ মন্ত্রকের অধীন অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) অর্থনৈতিক বিভাগ প্রস্তুত করে। এই সমীক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ভি অনন্ত নাগেশ্বরন। এই নথিতে অর্থনৈতিক সূচক, গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব ও আর্থিক সূচকগুলির গভীর বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতমুখী মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স নথি হিসেবে কাজ করে, যা প্রায়ই আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কী ধরনের নীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারিত হতে পারে, তার ইঙ্গিত দেয় (Economic Survey)।

    বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করা হবে বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬-এ, সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে। এর পরেই প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে হবে সাংবাদিক বৈঠক। অর্থনৈতিক সমীক্ষা সাধারণত দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবণতার সার্বিক ছবি তুলে ধরে। চলতি বছরে এতে বৈশ্বিক প্রতিকূলতার মধ্যেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্থিতিস্থাপকতা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির সম্ভাব্য প্রভাব, কর্মসংস্থানে এআইয়ের প্রভাব এবং মার্কিন ডলারের তুলনায় রুপির মূল্য হ্রাস নিয়ে আলোচনার কথা থাকতে পারে। এই সমীক্ষায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য নতুন নীতি-ভাবনাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।

    অর্থনৈতিক সমীক্ষা প্রথম চালু হয় ১৯৫০–৫১ অর্থবর্ষে বাজেট নথির অংশ হিসেবে। পরবর্তী সময়ে এটি একটি স্বতন্ত্র নথি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যা কেন্দ্রীয় বাজেটের আগে সংসদে পেশ করা হয়। প্রতি বছর সমীক্ষার মূল থিম নীতিনির্ধারক ও পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে (Budget 2026)। এই সমীক্ষায় খাতভিত্তিক বিশদ পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাদা অধ্যায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে (Economic Survey)।

LinkedIn
Share