Tag: Calcutta

Calcutta

  • TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    TMC Inner Clash: তৃণমূলের পদ ছাড়লেন কাকলি, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা পুরসভার আরও দুই কাউন্সিলরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতা খোয়াতেই টলোমলো হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল নেত্রীর আসন (TMC Inner Clash)। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে রোজকার যে ভিড়টা দেখা যেত, সেই চেনা ছবিটাও তো দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আর দেখা যাচ্ছে না। রাজ্যে বিপুল জনাদেশ নিয়ে (Calcutta Municipal Corporation) বিজেপি নবান্নের কুর্সিতে বসতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে গিয়েছে স্তাবকের দল। আক্ষরিক অর্থেই একা মমতা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন ‘নকল বুঁদি গড়’ রক্ষা করতে। তবে তিনি সেই ‘গড়’ কতদিন আগলে রাখতে পারবেন, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। কারণ, ছাব্বিশের নির্বাচনে দল খাদে পড়ে যেতেই তৃণমূল নেত্রীর পাশ থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন এক এক করে বহু প্রবীণ নেতাও।

    পদ ছাড়লেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি (TMC Inner Clash)

    এই যেমন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে গিয়েছেন কাকলি। ইদানিং তিনিই শুরু করেছেন বেসুরো গাইতে। দিন তিনেক আগে কাকলি ছেড়েছিলেন জেলা সভাপতির পদ। এবার তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন-সহ সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলীয় নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন কাকলি। কারণ, কাকলির ‘বিলম্বিত বোধদয়’! শুধু তা-ই নয়, তৃণমূল জমানায় রাজ্যে হওয়া একের পর এক কেলেঙ্কারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। নাম না করে কাকলি আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলেরই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কাকলিকে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে কল্যাণকে। তার জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাকলি লেখেন, “’৭৬ থেকে পরিচয়, ‘৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।”

    কাকলির বিলম্বিত বোধদয়!

    তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে কাকলি লিখেছেন, ‘দুর্নীতি থেকে আরজিকরকাণ্ড তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।’ বুধবার তিনি লেখেন, “আমার বিবেক আজ গভীরভাবে আলোড়িত। রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।’ কাকলি জানান (TMC Inner Clash), ২০২৪ সালে আরজিকর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনাকে ‘সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ’ সমাজকে স্তম্ভিত করেছে। তার অভিঘাত তিনি অনুভব করেছেন। তৃণমূলের সাংসদ লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের ওপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা-সহানুভূতি পাওয়া যায় না, তখন আর সে পদে থাকার মানে হয় না।”

    কাকলির নিশানায় আইপ্যাক

    ওই চিঠিতেই কাকলি চাঁদমারি করেছেন আইপ্যাককে। নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে এই সংস্থাই ছিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা। তিনি জানান, আইপ্যাক নিয়ে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। সেগুলিও তাঁকে বিচলিত করেছে (Calcutta Municipal Corporation)। কাকলি লিখেছেন, “যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলেই আমি মনে করি।” তৃণমূলের এই প্রবীণ নেত্রী জানান, তিনি তৃণমূলের সাধারণ কর্মী। কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেননি। দল, গণতন্ত্র এবং মানুষের প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিলেন তিনি।

    পদ ছাড়লেন সুশান্ত-অরূপ

    এদিকে, মঙ্গলবারই কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন ঝাঁপিয়ে পড়ে কাজ করতে। তৃণমূল সুপ্রিম সেই নির্দেশের পর ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, গুরুত্বপূর্ণ পদে ইস্তফা দিলেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর – সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। বুধবার ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দেন সুশান্ত। আর মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির পদে ইস্তফা দেন অরূপ চক্রবর্তী (TMC Inner Clash)। সুশান্ত এবং অরূপ যথাক্রমে ১০৮ এবং ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

    বিজেপিকে ধন্যবাদ সুশান্তর

    সুশান্ত বলেন, “মানুষ যাঁদের ক্ষমতায় এনেছেন, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। দলের যেসব মন্ত্রী জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস সিকিউরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন, গত কয়েকদিনে তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এঁদের জন্যই মমতার ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। বিজেপিকে ধন্যবাদ। ওদের জন্য আমাদের দলের অনেককে ঘরে ফেরাতে পেরেছি। বাকিদের ফিরিয়ে আনলে আমাদের দায়িত্ব শেষ।” তিনি বলেন, “২০২০ সালে আমার ওপর আক্রমণ হয়। ২০২৪ সালেও ফের আক্রমণ হয়। অবাক করা ব্যাপার হল, আমার সরকার ঠিক করে তদন্তটাও করেনি। অদ্ভুতভাবে মূল দুষ্কৃতীর জামিন হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীর ব্যবস্থা করে বাকি অভিযুক্তদের আটকে রেখেছি। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, এই তদন্তটা দেখতে (Calcutta Municipal Corporation)।”

    কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়?, প্রশ্ন অরূপের

    অরূপ বলেন, “মমতাদি-অভিষেক ছাড়া বাকি নেতৃত্ব কই? বাকি কেষ্টু-বিষ্টুরা কোথায়? যাঁদের কনভয়ের আগে চার-পাঁচটা করে গাড়ি থাকত? জনাদেশ আমাদের বিপক্ষে গিয়েছে। এটা আমাদের মানতে হবে। হার স্বীকার করতে হবে। ছাব্বিশের হার না মানা মানে বাকি সব জয় মিথ্যে হয়ে যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায়কে মান্যতা দিতেই হবে।” তিনি বলেন, “কেউ ক্ষমতায় সারাজীবন থাকে না। সিপিএম ভেবেছিল থাকবে, নেই। এখন আমরা নেই। মমতার বাড়িতে রবীন্দ্র-জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যেসব সেলিব্রিটি ছিলেন, তাঁরা কোথায় (TMC Inner Clash)?” এদিন দুপুরে পুর-কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন সুশান্ত-অরূপ। পরে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়েও।

    জনাদেশ মাথা পেতে নিয়ে ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন (Calcutta Municipal Corporation)। ঘাসফুল শিবির সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবলীনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলনেত্রী স্বয়ং গোহারা হারতেই আর ‘রিস্ক’ নেননি তিনি (TMC Inner Clash)।

     

  • WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

    WB Municipal Crisis: পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা, পদত্যাগের হিড়িক রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে বইছে পরিবর্তনের সুপবন! তৃণমূল সরকারের পতন ঘটতেই পদ্ম-জোয়ারে ভাসছে বাংলা (WB Municipal Crisis)। বহু পুরসভার বোর্ড ভেঙে গিয়েছে। পরিস্থিতি যে দিকে এগোচ্ছে, তাতে পুরভোটের আগেই ভেঙে যেতে পারে রাজ্যের আরও বহু পুরবোর্ড। তৃণমূলের (TMC) একটি অসমর্থিত সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা সদ্য মন্ত্রিত্ব খোয়ানো তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যদিও খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাড়িতে কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ পদত্যাগ করবেন না। তারপরেও বদলায়নি রাজ্যের পুর-পরিস্থিতির ছবি। শুধু তা-ই নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পুরনিগমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা।

    কাউন্সিলরদের ইস্তফার হিড়িক (WB Municipal Crisis)

    দিন দুই আগেই হালিশহর পুরসভার ১৬ জন কাউন্সিলর একযোগে ইস্তফা দিয়েছেন। কাঁচরাপাড়ায়ও গণইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলররা। হালিশহরে তো খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষই ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন। গণইস্তফা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ভাটপাড়া পুরসভায়ও। সেখানে একসঙ্গে ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। ওই পুরসভায় কাউন্সিলর ছিলেন ৩৫ জন। তাঁর মধ্যে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন ৩০ জনই। চেয়ারপার্সন রেবা সাহা স্বয়ং ইস্তফা দিয়েছেন। তাই ভাটপাড়া পুরসভা এলাকায়ও পরিষেবা দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাটপাড়ার বিধায়ক বিজেপির অর্জুন সিংয়ের দাবি, সরকারি আধিকারিকরা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করতে থাকবেন।

    যোগাযোগ রাখেননি তৃণমূল নেতারা!

    ভাটপাড়া পুরসভার পদত্যাগী উপ-পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষ বলেন, “আমার কাছে কোনও বিকল্প পথ ছিল না। আমি যখন শুনলাম, আমাদের কয়েকজন কাউন্সিলর রিজাইন দিয়ে দিচ্ছেন, চেয়ারম্যানও রিজাইন দিয়ে দিয়েছেন, তাই আমার কাছে আর কোনও অলটারনেটিভ ছিল না। তাছাড়া, আমি দেখছি, শহরবাসী কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না। কর্মচারীরা মাইনে পাচ্ছেন না (WB Municipal Crisis)। দলের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই। দল কোনও সাজেশনও দেয়নি। দুর্ভাগ্য এরকম একটা পরিস্থিতিতে দলের কোনও সাহায্য পাইনি। কেউই আমাদের কোনও সাজেশন দেয়নি। কেউ গাইড করেনি। কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আমায় কেউ কোনও চাপ দেয়নি। একদম ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত (TMC)।”

    তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

    এদিকে, দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই সঞ্জয় আবার তৃণমূলের দাপুটে নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। মেলা দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। স্বাভাবিকভাবেই সঞ্জয়ের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার উত্তর দমদম পুরসভায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুরসভার গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান অস্থায়ী কর্মীরা। চেয়ারম্যানকে আসতে হবে বলেও দাবি জানান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে যায় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাসের পর মাস তাঁরা মাইনে পাচ্ছেন না। এক এক সময় এক এক রকমভাবে বেতন দেওয়া হচ্ছে (WB Municipal Crisis)।

    অচলাবস্থার সৃষ্টি কলকাতা পুরসভায়ও

    অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কলকাতা পুরসভায়ও (TMC)। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, মেয়র পদে ইস্তফা দিতে চাইছেন খোদ ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার এখানে হাউসের বাইরে হাউস বসাতে হয় মেয়র-সহ সব তৃণমূল কাউন্সিলরকে। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, অভিযোগ তৃণমূলের। ফিরহাদ বলেন, “আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একটা চরম অপমান। একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হঠ করে আমার ইচ্ছে হল, আমি হাউস বন্ধ করলাম, হাউস খুললাম, এটা সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং অ্যাক্ট অনুযায়ী চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, তেমনি, আজ যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখের। তাই আমার যাঁরা কলিগ, যাঁরা কাউন্সিলররা এখানে এসেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে অভিনন্দন জানাই। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াইয়ে আপনারা শামিল হয়েছেন, সেই গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।” মেয়রের বার্তা, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়, একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    হাওড়াবাসীকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    দুয়ারে বর্ষা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে জুনের ১০ থেকে ১৬ তারিখের মধ্যেই গোটা বাংলায় বর্ষা ঢুকে যাবে (WB Municipal Crisis)। তার আগে পুরসভাগুলির অচলাবস্থায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। যদিও রাজ্যে পালাবদলের পরেই যে অবস্থা তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। হাওড়া পুরনিগমের নির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া প্রকৃত পরিষেবার স্বাদ মানু‌ষ পেতে পারে না। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডের হাতে হাওড়া পুরনিগম এবং বালি তুলে দিতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।’

    কী বলছেন রাজ্যের নয়া মন্ত্রী?

    পুরসভাগুলির এই অবস্থা নিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক, পুর কমিশনার, রাজ্যের অন্য পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। মন্ত্রী বলেন, “হাতে আমাদের ১৮ দিন আছে (বর্ষা আসতে)। এবার যাতে বাংলার মানুষের অসুবিধা না হয়, সেটা দেখা হবে। আগের বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল। সে রকম যদি এবার হয়, তাহলে কীভাবে সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হবে, সেসব বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সমস্যাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।”

    বিজেপির বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, ভাটপাড়ার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনারই কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি, গারুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের বহু পুরসভায় যাঁরা জনপ্রতিনিধি ছিলেন (TMC), তাঁরাও স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিজেপির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হবে। অভিযোগ করবেন ইও, এফওরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করবেন যাতে এই পুরসভাগুলিতে পাঁচজনের একটি কমিটি করা হয় এবং বসানো হয় একজন প্রশাসক (WB Municipal Crisis)।

     

  • OBC Quota Row: ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের নীতি বাতিলে সিলমোহর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    OBC Quota Row: ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূল সরকারের নীতি বাতিলে সিলমোহর শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাতিল করে দেওয়া হল ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Quota Row) নিয়ে রাজ্যের পূর্বতন তৃণমূল সরকারের নীতি। নজিরবিহীন এই পদক্ষেপ করল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভা। ওবিসি সংরক্ষণ কমিয়ে করা হল ৭ শতাংশ (TMC Govt Policy)। আগে ওবিসি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সুযোগ মিলত। ওবিসি ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ছিল ৭ শতাংশ সংরক্ষণের সুবিধা। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে ২০১০-সালের আগের সংরক্ষণ নীতিই বহাল রাখল রাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু জাতি তাদের নায্য অধিকার ফিরে পাবে। ৭ শতাংশ সংরক্ষণের জন্য অনগ্রসর হিসেবে ৬৬টি জাতির তালিকাও প্রকাশ করেছে রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত প্রথম সরকার।

    ওবিসি সংরক্ষণের হার (OBC Quota Row)

    নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে একলপ্তে রাজ্যের ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্তও নেয় রাজ্যের নয়া মন্ত্রিসভা। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য থাকা ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত বাতিল করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে এই মন্ত্রিসভা। জানা গিয়েছে, কেবল তফশিলি জাতি এবং উপজাতির বাইরে থাকা প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দু সম্প্রদায়ই পাবেন নয়া সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুবিধা। সরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে অবিলম্বে কার্যকর হতে চলেছে এই নয়া নিয়ম। মঙ্গলবারই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। রাজ্যপালের নির্দেশে প্রকাশ করা হয়েছে সেই তালিকাও।

    ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ!

    বাম রাজত্বের শেষ পর্বে এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের প্রথম দিকে ২০১০-এর মার্চ থেকে ২০১২-র মে মাসের মধ্যে রাজ্যে ৭৭টি সম্প্রদায়ের নাম তোলা হয়েছিল ওবিসির তালিকায়। বাম জমানায় ৪২টি মুসলিম সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত হয়েছিল। এদের ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মামলা দায়ের হয় (OBC Quota Row)। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে তুষ্টিকরণে রাজনীতি করতে গিয়ে আরও ৩৫টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় জায়গা দেয়। ২০২৩ সালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ওবিসি সংরক্ষণ আইন জারি করে এই ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওই তালিকায় নিয়ে আসে। ফলে সব মিলিয়ে মোট ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা পৌঁছয় ১৭৯-এ।

    শুভেন্দুর সরকারের ফরমান

    ক্ষমতায় এসেই তৃণমূল সরকারের আমলে যত ওবিসি শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ফের যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছিল শুভেন্দুর সরকার। সোমবারের বৈঠকে সেই তালিকা যাচাই এবং উপ-শ্রেণিবিভাগের তালিকা বাতিল করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় ক্যাবিনেট। তার পর মঙ্গলবারই জারি করা হয় বিজ্ঞপ্তি। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ৬৬টি সম্প্রদায়কে রেখে বাকি ১১৩টি সম্প্রদায়কে ওই তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়েছিল। আদালতের যুক্তি ছিল, ধর্মের ভিত্তিতে এই সম্প্রদায়গুলিকে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ২০১০ থেকে বিলি হওয়া ৫ লাখের মতো ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত (TMC Govt Policy) রাজ্য সরকার। সেই মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলেই অসমর্থিত সূত্রের খবর (OBC Quota Row)।

  • Calcutta High Court: বাইকবাহিনীর দাপট রুখতে নির্বাচন কমিশনের আবেদনে সাড়া হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: বাইকবাহিনীর দাপট রুখতে নির্বাচন কমিশনের আবেদনে সাড়া হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাইক বাহিনীর (Bike Rides) দাপট রুখতে নির্বাচন কমিশনের আবেদনে সাড়া দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বাইক সফর নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ের একাংশ সংশোধন করে দিল বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ১২ ঘণ্টা আগে নয়, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে কোনও প্রকার ‘বাইক ব়্যালি’ ও ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না। তবে, পারিবারিক সফর, কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং ইমার্জেন্সি সার্ভিসের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে আদালত।

    সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন (Calcutta High Court)

    প্রসঙ্গত, শেষ দফার নির্বাচনের আগে বাইক আরোহীদের নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন৷ কমিশনের নির্দেশ ছিল ভোটের ৩৬ ঘণ্টা আগে একমাত্র জরুরি পরিষেবা ছাড়া আর কোনও প্রকার বাইক সফর করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলার শুনানিতে গত শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছিলেন, “১২ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক ব়্যালি করা যাবে না৷ তবে ভোটের দিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়া যাবে৷”

    আদালতের নির্দেশ

    আদালত নির্দেশে এ-ও বলেছিল, “চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিষেবা বা পারিবারিক কারণে বাইক নিয়ে বেরোনো যাবে। অ্যাপ বাইক-সহ খাবার ডেলিভারি পরিষেবা ও অফিসযাত্রীরা নিজের পরিচয়পত্র নিয়ে বাইক চালাতে পারবেন।” সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলায় কমিশনের তরফে আইনজীবীর মন্তব্য, “৩৬ ঘণ্টা আগে থেকে আমরা বাইক চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলাম। কিন্তু, হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তা খারিজ করে দিয়েছে (Calcutta High Court)।” এদিন বিচারপতি শম্পা সরকারের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, “সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে সমস্যা কোথায়? আদালত কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না।” কমিশনের তরফে আইনজীবী বলেন, “বাইক বাহিনীর দাপট নিয়ে কমিশনের কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে (Bike Rides)৷ তা রুখতে গেলে, অবিলম্বে বাইক সফর বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হোক।” কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, “ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ‘বাইক ব়্যালি’ ও ‘গ্রুপ রাইডিং’ করা যাবে না। দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না। তবে, আদালত কারও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না (Calcutta High Court)।”

     

  • West Bengal Assembly Election: ট্রাইবুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জট কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গড়ল হাইকোর্ট

    West Bengal Assembly Election: ট্রাইবুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জট কাটাতে তিন সদস্যের কমিটি গড়ল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ট্রাইবুনালের বিবেচনাধীন প্রক্রিয়ার জট কাটাতে তিন প্রাক্তন বিচারপতির কমিটি গড়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এই কমিটি গঠনের কথা সোমবারই জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো গড়া হল কমিটি। সোমবারই শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল (West Bengal Assembly Election), ১৯টি আপিল ট্রাইবুনালেরই প্রয়োজন একই রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। সেই প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্যই কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্ট (Calcutta High Court) জানিয়েছে, কমিটিতে থাকবেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপ্ত রায় এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার দেব। ট্রাইবুনালের ১৯ জন বিচারপতি কোন পদ্ধতি মেনে কাজ করবেন, সেটাই নির্ধারণ করবে এই কমিটি।

    এসআইআরের তালিকা প্রকাশ (West Bengal Assembly Election)

    প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআরের তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেখানে ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ ভোটারের নাম ছিল বিবেচনাধীনের তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই সব ভোটারের তথ্য যাচাই নিষ্পত্তির কাজ করেছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সোমবার রাতেই সেই কাজ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার কমিশনের তরফে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন। বিবেচনাধীন তালিকা থেকে ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের (West Bengal Assembly Election)।

    ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ

    এই বাদ পড়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ১৯ জন বিচারপতি আপিল ট্রাইবুনালে ‘বিচার’ করবেন। কোন পদ্ধতিতে বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি করবেন ওই  বিচারপতিরা, তা ঠিক করার জন্যই গড়া হল কমিটি। প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ট্রাইবুনাল চালু হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত দিনে তা চালু না হলেও, পরে হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের আবেদনেরও নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইবুনাল। উল্লেখ্য যে, যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁরা কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতেই (Calcutta High Court) তাঁদের সমস্যার নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইবুনাল। যদিও সাধারণ মানুষের কোনও সুরাহা হয়নি। তাই বাদ পড়া ভোটাররা এবারের নির্বাচনে আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়ে গিয়েছে সংশয় (West Bengal Assembly Election)।

    প্রসঙ্গত, এ রাজ্যে নির্বাচন হবে দুদফায়। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল। পরের দফায় ভোট গ্রহণ হবে ওই মাসেরই ২৯ তারিখে। তার মধ্যে যাতে সমস্যার নিষ্পত্তি হয়ে যায়, তারই চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন।

     

  • Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    Supreme Court: রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের, হাইকোর্টে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যসচিব (Chief Secretary) দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুধু তা-ই নয়, ওইদিনের ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। মালদার কালিয়াচকের ঘটনার দিন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের জল গড়ায় দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, সোমবার ভার্চুয়াল শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। সেখানেই তীব্র ভর্ৎসনার শিকার হন নারিয়ালা। প্রসঙ্গত, ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার দিন রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব পদ থেকে সরানো হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর বদলে নয়া মুখ্যসচিব হন নারিয়ালা।

    রিপোর্ট পেশ এনআইএর (Supreme Court)

    গত বুধবার কালিয়াচকের ঘটনায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ। এনআইএর টিম যে তদন্ত করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই রিপোর্ট জমা করা হয়েছে। মুখবন্ধ খামে সেই রিপোর্ট জমাও পড়েছে শীর্ষ আদালতে। সেখানে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলেও খবর। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, যদি আরও অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ থাকার প্রমাণ মেলে, অথবা অন্য কোনও দিক উন্মোচিত হয়, তাহলে এনআইএ প্রয়োজনে আরও এফআইআর দায়ের করতে পারে। কলকাতায় এনআইএ আদালতে তদন্তের বিষয় জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে শীর্ষ আদালতে।

    এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ

    সুপ্রিম কোর্টের তরফে স্থানীয় পুলিশকে তদন্তের যাবতীয় কাগজ এবং এফআইআর অবিলম্বে এনআইএকে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশকে সবরকম সাহায্য করতেও বলা হয়েছে। জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাদা হলফনামা জমা দিয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশন কমিশন (Chief Secretary)। এদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে দেওয়া হয়েছে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট। এদিন মুখ্যসচিবকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘কেন প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি?’ মুখ্যসচিব জানান, তিনি দিল্লিতে কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরে বিমানে ছিলেন তিনি। তাঁর ফোনে কোনও কল যায়নি (Supreme Court)। এরপর প্রধান বিচারপতি ফের বলেন, “আপনি মোবাইল নম্বর কেন শেয়ার করেননি? আপনার কাছে রাতে ফোন এসেছে, যখন আপনি প্লেন থেকে নেমে গিয়েছেন। আপনাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।”

    হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যসচিবকে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনাকে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।” এই সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মুখ্যসচিবকে ভর্ৎসনা করে বলেন, “নিষ্ক্রিয়তারও একটা লিমিট থাকা উচিত।” সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রে নয়, অন্যান্য জায়গায়ও তাঁদের যেভাবে প্যাম্পার করা হচ্ছে তাতে সবকিছু ঠিকঠাক নেই। এই ঘটনা আপনি এবং আপনার প্রশাসনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার প্রতিফলন। আপনার নিষ্ক্রিয়তার কারণেই নির্বাচন কমিশনকে ওই অবস্থায় পড়তে হয়েছে। আপনারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। কমিশনকে এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদের নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই যোগাযোগের ঘাটতিই রাজ্যে এত সমস্যা ও অশান্তির সৃষ্টি করেছে। এটা আপনাদের কী ধরনের ক্রেডিবিলিটি (Chief Secretary)?”

    ‘নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন’

    আইনজীবী লুথরা বলার চেষ্টা করেন যে ওই দিন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেই একটি বৈঠকে ছিলেন। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, “দয়া করে এদের ডিফেন্ড করবেন না। এই ধরনের অত্যন্ত একগুঁয়ে আমলাতান্ত্রিক মনোভাব আমরা অন্যান্য রাজ্যেও দেখছি (Supreme Court)।” প্রধান বিচারপতি মুখ্যসচিবকে বলেন, “আপনার পদমর্যাদা এতটাই বেশি যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির মতো ছোট মানুষরা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। দয়া করে নিজেকে একটু নীচে নামিয়ে আনুন, যাতে প্রধান বিচারপতির মতো সাধারণ নগণ্য মানুষরা অন্তত আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।”

    এদিন শুনানি হয়েছে ভার্চুয়ালি। সেই সময় আধিকারিকদের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং অন্য আধিকারিকরা অনলাইনে উপস্থিত রয়েছেন। আমরা আশা করি, অফিসাররা এখন তাঁদের দায়িত্ব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছেন। যে পরিস্থিতিতে তাঁদের সাড়া দেওয়া এবং হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করা প্রত্যাশিত ছিল, তা তাঁরা করেননি।” আদালতের তরফে এনআইএকে (Chief Secretary) পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১৩ এপ্রিল (Supreme Court) ।

     

  • Calcutta High Court: সুপ্রিম কোর্টে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূলের, ঘাসফুল শিবিরের আবেদন খারিজ

    Calcutta High Court: সুপ্রিম কোর্টে ফের একবার মুখ পুড়ল তৃণমূলের, ঘাসফুল শিবিরের আবেদন খারিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের (TMC) তরফে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেটি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সাফ কথা, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায় না আদালত।

    আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল (Calcutta High Court)

    মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তৃণমূলের তরফে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিডিও, ওসি, আইসি-সহ বহু প্রশাসনিক আধিকারিককে একযোগে বদলি করা হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের তরফে চাওয়া হয়েছিল আদালতের হস্তক্ষেপ।

    জনস্বার্থ মামলা দায়ের

    এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। ২৩ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। মামলাকারীর হয়ে সওয়াল করেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি, তাদের এক্তিয়ার নিয়েও আপত্তি জানানো হয়। তবে শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া স্বাভাবিক (Calcutta High Court)। আদালতও কমিশনের সেই যুক্তিতেই সায় দিয়ে জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। এরপর প্রত্যাশিতভাবেই তৃণমূলের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

    প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি

    প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে নির্বাচনী আচরণবিধি। তার পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, এমনকি ওসি এবং বিডিও পর্যায়েও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে (TMC)। এই রদবদলের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। দ্বারস্থ হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের। সেখানেই আরও একবার মুখ পুড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের (Calcutta High Court)।

     

  • Calcutta High Court: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে কড়া নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ নিয়ে রাজ্যের গাফিলতিতে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে সীমান্তবর্তী ন’টি জেলায় কাঁটাতার বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফের (BSF) হাতে তুলে দিতে হবে। আদালত জানিয়েছে, এই জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই টাকা মিটিয়ে দিয়েছে এবং অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। অথচ এখনও পর্যন্ত সেই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। অবিলম্বে জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাত আর গ্রহণযোগ্য নয়।

    জমি অধিগ্রহণ (Calcutta High Court)

    এছাড়া যে সব জমির অধিগ্রহণ এখনও রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, সে সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে আইন অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় জমি অধিগ্রহণ সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী সুব্রত সাহা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে অবস্থিত ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের একাংশ দিয়ে অবাধে বেআইনি চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ চলছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় তার দায় রাজ্যের ওপরই বর্তায়। এর আগের শুনানিতে রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। মঙ্গলবার রাজ্য সরকার জানায়, সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে কাঁটাতার বসানোর জন্য কেন্দ্র যে ১৮১ কিলোমিটার জমির অধিগ্রহণ বাবদ অর্থ দিয়েছে, সেই জমি আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ৩১ মার্চকে ডেডলাইন হিসেবে স্থির করে দেয়।

    আদালতের প্রশ্ন

    এই মামলায় অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতে জানান, বিষয়টি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। আইন অনুযায়ী জেলা কালেক্টর জরুরি পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মামলাকারীর আইনজীবী তখন উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনের ৪০ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণ করা যায়। তবে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “যতই জরুরি অবস্থা হোক, কালেক্টর কি এককভাবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? (BSF)” রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান (Calcutta High Court), ২০১৩ সালের নির্দিষ্ট জমি অধিগ্রহণ নীতিকে অগ্রাহ্য করে রাজ্যের পক্ষে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা সত্ত্বেও অধিগ্রহণ না হলে কেন ৪০ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে না?”

    জমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ টাকা পাওয়া সত্ত্বেও বিএসএফের হাতে জমি হস্তান্তর না হওয়ার বিষয়ে রাজ্যের আইনজীবী জানান, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। যদিও কিছু জেলায় এক–দু’মাস অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। দক্ষিণ দিনাজপুরে মে মাসে, জলপাইগুড়িতে জুনে এবং মুর্শিদাবাদে জুন মাসের মধ্যে জমি হস্তান্তরের কথা জানানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ঘন ঘন জমির মালিকানা বদলের কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে বলে আদালতে দাবি করে রাজ্য। পাশাপাশি, বাকি যে জমিগুলি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন, সেগুলিও বর্তমানে প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Calcutta High Court)।

     

  • Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: বেলডাঙায় পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে ব্যবহার করতে রাজ্যকে নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে থাকা পাঁচ কোম্পানি বিএসএফকে (BSF) ব্যবহার করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশও দিতে পারে।

    উত্তাল হয়েছিল বেলডাঙা (Calcutta High Court)

    প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্র ও শনিবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল মুসলিম অধ্যুষিত বেলডাঙা। পথ অবরোধ, ভাঙচুর-সহ নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। এই অশান্তির ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় জনস্বার্থ মামলা। মঙ্গলবার সেই মামলারই শুনানি হয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে। এই মামলার শুনানি হয় দু’দফায়। দুপুর দুটোর পর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার শুনানি। সেই সময়ই একাধিক নির্দেশ দেয় উচ্চতর আদালত। আদালত জানিয়েছে, বেলডাঙায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে গত বছরের অশান্তির পর ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছিল, সেই নির্দেশই আপাতত বহাল থাকবে। এর অর্থ হল, ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

    আদালতের নির্দেশ

    আদালতের নির্দেশ, এলাকায় যাতে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলাশাসককে। নতুন করে যাতে কোথাও অশান্তির আগুন জ্বলে না ওঠে, তার ওপরও নজর রাখতে হবে জেলা প্রশাসনকে। আদালত এও জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে এনআইএ তদন্তের প্রয়োজন, তাহলে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে। এ ছাড়া দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। এই সময়সীমার মধ্যে পাল্টা বক্তব্য জানাতে পারবেন মামলাকারীরা (Calcutta High Court)।

    এদিন শুনানির প্রথম দফায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলা সাম্প্রদায়িক দিক থেকে রাজ্যের অন্যতম সংবেদনশীল জায়গা। ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদের নামে জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং ভাঙচুর করা হয়। কর্তব্যরত এক সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগে স্বতঃস্ফূর্ত মামলা দায়ের করে  পুলিশ। ওই ঘটনায় গ্রেফতারও করা হয়েছে চারজনকে। জেলার পুলিশ সুপার স্বয়ং জানিয়েছেন, হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছিল পূর্ব পরিকল্পনা মতোই।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশের দাবি 

    আইনজীবী বিল্বদল আদালতে জানান, মুর্শিদাবাদ জেলার সামসেরগঞ্জ এবং ধুলিয়ানে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও, বেলডাঙায় অশান্তির সময় তাদের কাজে লাগায়নি রাজ্য। এই অশান্তির জেরে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ। বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নর্থ-ইস্টের রাজ্যগুলির সঙ্গে যোগাযোগও। এর পরেই তিনি আদালতের (BSF) কাছে আর্জি জানান, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হোক। সাধারণ মানুষের সম্পত্তি এবং সরকারি সম্পত্তি যাতে নষ্ট না হয়, তাই এলাকায় জারি করা হোক ১৬৩ নম্বর ধারা। রাজ্যে ব্যর্থ হলে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হোক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ। রাজ্যের তরফে আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর কাছে প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা নিয়ে রাজ্যের কী মতামত? কল্যাণ বলেন, “আমাদের কোনও আপত্তি নেই। ইতিমধ্যেই এলাকায় টহল দিচ্ছে পাঁচ কোম্পানি। আরও পাঁচ কোম্পানি লাগলে দেওয়া হোক, আমাদের (BSF) কোনও আপত্তি নেই (Calcutta High Court)।”

     

  • Calcutta High Court: “রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে?” পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: “রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে?” পশ্চিমবঙ্গের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার হাইকোর্টের (Calcutta High Court) কাছে মুখ পুড়ল রাজ্যের! রাজ্যের সব আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের। রাজ্যের উচ্চ ও নিম্ন আদালতগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন খাতে পর্যাপ্ত অর্থের বরাদ্দ নিয়ে আরও একবার আদালতের ক্ষোভের মুখে পড়ল তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার (West Bengal Govt)। এর আগেও মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ভর্ৎসনা করেছিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।

    অর্থ চেয়েও না মেলায় ক্ষোভ আদালতের (Calcutta High Court)

    পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ প্রয়োজনীয় নানা কাজে অর্থ চেয়ে রাজ্যের দ্বারস্থ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশাসন। অর্থের জন্য হন্যে হলেও, অর্থ তো মেলেইনি, বরং এ সংক্রান্ত অন্তত ৫৩টি ফাইল আটকে রয়েছে। এর সমাধান হওয়া তো দূর অস্ত, পেপারলেস অবস্থায় চলছে আদালতের কাজকর্ম। হাইকোর্ট এবং জেলা আদালতগুলিতে প্রয়োজনীয় কর্মী নেই। লাখ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে যে  সংস্থা আদালতে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়েছে, তাদের। এনিয়ে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরেও পরিস্থিতি যথা পূর্বং, তথা পরং। পুজোর ছুটির মধ্যে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে রাজ্যের অর্থ দফতরের সচিবের বৈঠকে সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আদালতের তরফে। তাতেও সুরাহা হয়নি। এদিকে সোমবার রাজ্যের পক্ষে ফের সময় চাওয়া হয়। এর পরেই ক্ষোভ উগরে দেন দেবাংশু বসাক এবং মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ।

    কী বলছে আদালত

    বিচারপতি বসাক বলেন, “বিএসএনএলের তিন বছরের বিল বাবদ বাকি ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। হাইকোর্টের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিলে কী হবে? আজ সরকারি ছুটি মানেই তো আর ইন্টারনেট হলি-ডে নয়! রাজ্য কি কনসলিডেলেট ফান্ড রিজার্ভ ব্যাঙ্কে রাখে? তাহলে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন। অ্যাটাচ করে দেব। সব লেনদেন বন্ধ রাখুন তাহলে! আরবিআইকে বলছি লেনদেন বন্ধ করতে।” তিনি বলেন, “রাজ্যের প্রশাসনিক (Calcutta High Court) মাথা, মুখ্যসচিব, অর্থসচিব – তাঁরা এক মাসেও কিছু করতে পারলেন না। রাজ্যের ভূমিকায় আমরা বাকরুদ্ধ। আমরা এগুলি রাজ্যের নজরে আনছি।” এই মামলায় এর আগে দু’বার (West Bengal Govt) ভার্চুয়াল হাজিরা দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। এদিন সে প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বসাক বলেন, “উনি (মুখ্যসচিব) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পরেও কেন টাকা দেওয়া হল না?” এর পরেই তিনি বলেন, “রাজ্যে কি আর্থিক জরুরি অবস্থা চলছে? আপনারা তো প্রথম লাইনেই মিথ্যে কথা বলছেন!” প্রসঙ্গত, বছর তিনেক ধরে বকেয়া থাকায় ৩৬টি প্রকল্পের কাজ আটকে রয়েছে। মেটানো হয়নি বিএসএনের প্রাপ্য বকেয়া বিলও।

    রাজ্য সরকার মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে!

    বেঞ্চের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “হাইকোর্টের কাজে অর্থ বরাদ্দ করা কি প্রশাসনিক কাজের মধ্যে পড়ে না? গত তিন বছর যথেষ্ট সময়। বিল দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি? দেখে তো মনে হচ্ছে শামুক আর কচ্ছপের দৌড় প্রতিযোগিতা হচ্ছে।” বিচারপতি দেবাংশু বসাক বলেন, “এই যদি হাইকোর্টের অবস্থা হয়, তাহলে নিম্ন আদালতগুলির কী অবস্থা!” এদিন রাজ্যের তরফে আইনজীবী জানান, ৬০ লাখ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ৩০ তারিখের মধ্যে (West Bengal Govt) বাকি টাকা দেওয়া হবে। অর্থ দফতরের আধিকারিক বলেন, “আমরা দু’দিনের মধ্যে অর্ধেক টাকা মিটিয়ে দিচ্ছি।” বিচারপতি (Calcutta High Court) বসাকের ফের প্রশ্ন, “কেন দু’দিন সময় লাগবে? এখন তো সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাঠানো যায়!” রাজ্যের তরফে জানানো হয় রাজ্য সরকারের ছুটি রয়েছে। এর পরেই বেঞ্চ বলে, “এখন তো অনলাইনেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া যায়। ছুটি বলে তো আর ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ নয়! আদালত মনে করে, রাজ্য সরকার এই বিষয়ে মিথ্যের আশ্রয় নিচ্ছে।”

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর দিন

    এদিন শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন রাজ্যের অর্থ দফতরের এক আধিকারিক। বেঞ্চ তাঁর কাছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট নম্বর জানতে চাইলে তিনি জানান, আরবিআইয়ের অ্যাকাউন্ট নম্বর জানা নেই তাঁর। এর পরেই আদালত (Calcutta High Court) বলে, “আমরা বসে আছি। এখনই মুখ্যসচিবকে ফোন করে অ্যাকাউন্ট নম্বর জেনে জানান।” এদিন রাজ্যের তরফে উপস্থিত আইনজীবী বলেন, “দয়া করে একটু সময় দেওয়া হোক। বিলের ২.৯ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।” বেঞ্চের প্রশ্ন, “কিন্তু সেই টাকা কি আদৌ আদালতের হাতে এসেছে?”

    আদালতের নির্দেশ

    এর পরেও রাজ্যের তরফে এক সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১০ নভেম্বর। বেঞ্চের নির্দেশ, তার আগে ২৯ অক্টোবর এবং ৬ নভেম্বর বিষয়টি (West Bengal Govt) নিয়ে ফের বৈঠকে বসতে হবে রাজ্য এবং হাইকোর্ট (Calcutta High Court) প্রশাসনকে। মুখ্যসচিবের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে হবে অর্থসচিবকেও।

LinkedIn
Share