Tag: cancer prevention

  • Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    Brain Tumor: নীরব ঘাতক ব্রেন টিউমার! সময়মতো শনাক্ত না হলে কেন কঠিন হয়ে পড়ে চিকিৎসা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আগাম উপসর্গ দেখা দিলেও, অসচেতনতার জেরে অনেক সময়েই তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বিপদ বাড়লেও অসতর্কতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মস্তিষ্কের টিউমার ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সঙ্কট। দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক সময়েই প্রাণ সংশয় বাড়ছে। চিকিৎসার সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে ভারতের পাশপাশি বিশ্বের একাধিক দেশেই এই সমস্যা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার দেরি। তাই চলতি বছরে ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-র মূল বার্তা, নিবিড় পর্যবেক্ষণেই কমবে বিপদ!

    কেন নিবিড় পর্যবেক্ষণে বাড়তি গুরুত্ব?

    ওয়ার্ল্ড ব্রেন টিউমার ডে-তে বিশ্ব জুড়ে মস্তিষ্কের টিউমার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নিবিড় পর্যবেক্ষণের উপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। জার্মান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশন-র এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ু ঘটিত সমস্যাকে অবহেলা করলে, পরবর্তী সময়ে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই এ বছরে সেই দিকে গুরুত্ব দিয়েই বলা হচ্ছে, ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি রুখতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি। অর্থাৎ, শিশু হোক বা মধ্য বয়সি, যেকোনো মানুষ যদি বারবার কোনো ধরনের স্নায়বিক সমস্যায় ভোগেন, তাহলে সেই উপসর্গকে অবহেলা করা চলবে না। বরং, তাঁর ঠিকমতো শারীরিক পরীক্ষা জরুরি। মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। সকলেই এই বিষয়ে অবগত হলে, রোগ নির্ণয় সহজ হবে।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সাধারণ সমস্যা, অনেক সময়েই অবহেলা করা হয়। যা পরবর্তীতে নানান জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অনেকেই প্রবল মাথা যন্ত্রণার কাবু হন, আবার অনেকে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, খিঁচুনির মতো উপসর্গ ও দেখা দেয়‌। এই ধরনের সমস্যা বারবার হলে, তা কখনোই এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ নয়। এগুলো মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। আবার, চোখে ঠিকমতো দেখতে না পাওয়া, লক্ষ্য অস্পষ্ট হওয়া, স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে অর্থাৎ খুব সাধারণ তথ্য ও মনে রাখতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিলে, একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে টিউমার হলে, তা খালি চোখে বোঝা যাবে না। কিন্তু শরীর নানান ভাবে তা জানান দেবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ সেই উপসর্গকে অবহেলা করেন। অসচেতনতার জেরে খিঁচুনি, জ্ঞান হারানো কিংবা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যাকেও অন্যান্য সমস্যা ভেবে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করান না। যার ফলে রোগ নির্ণয় হয় না। তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি।

    কাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের টিউমার একটি স্নায়বিক সমস্যার জেরে হয়। যেকোনো বয়সে, মহিলা কিংবা পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু জিনগত একটা ইতিহাস মস্তিষ্কের টিউমারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হলে বংশানুক্রমিক ভাবে তা পরবর্তী প্রজন্মে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, টিউমারের সঙ্গে স্নায়বিক সমস্যার যোগাযোগ রয়েছে। স্নায়বিক সমস্যা কিন্তু অনেক সময়েই জিনগত হয়। তাছাড়া, বেশ কিছু বিরল স্নায়বিক রোগ রয়েছে, যেগুলো জিনগত সমস্যা। সেগুলোও মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে, জিনগত এই জটিলতার পাশপাশি অতিরিক্ত মাথায় উচ্চ মাত্রায় রেডিয়েশন থেরাপি টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক জীবনে বিভিন্ন রকম রেডিয়েশনের ঝুঁকি বাড়ছে। এগুলো কিন্তু মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যারা প্রত্যক্ষ ধূমপান করেন, তাদের মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি, পরোক্ষভাবে এই ধূমপানের ধোঁয়ার মধ্যে থাকেন তাঁদের ও ঝুঁকি বেশি। অর্থাৎ, পরিবারের কেউ ধূমপান করলে, তার অন্যান্য সদস্যদেরও অনেক সময় সেই ধোঁয়া সহ্য করতে হয়। পরোক্ষভাবে হলেও এই ধোঁয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। তামাকের এই ধোঁয়া, স্নায়বিক সমস্যা তৈরি করে। তাই ধূমপান মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতনতাই রোগের ঝুঁকি কমাবে। রোগ নির্ণয় প্রাথমিক পর্বে হলে, তবেই চিকিৎসা ঠিকমতো করা যাবে। মস্তিষ্কের টিউমার চিকিৎসার মূল অন্তরায় হলো চিকিৎসার বিশেষ সুযোগ থাকে না। তাই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তবে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকি কমাতে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম নেওয়া, মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক এড়িয়ে চলা ও ক্ষতিকারক রশ্মি এড়িয়ে চললেছবি নানান শারীরিক বিপদ কমবে। ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি। এগুলো স্নায়ু সুস্থ রাখতে সাহায্য করে‌। ফলে মস্তিষ্কের টিউমারের ঝুঁকিও কমে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Cervical Cancer: ৪০ পেরোলেই বাড়ছে বিপদ! ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, বাঁচার বড় অস্ত্র এই টিকা

    Cervical Cancer: ৪০ পেরোলেই বাড়ছে বিপদ! ভারতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সার, বাঁচার বড় অস্ত্র এই টিকা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠ পেরোলেই বাড়তে পারে বিপদ! দেশ জুড়ে ক্রমশ মহিলা স্বাস্থ্য নিয়ে তাই উদ্বেগ বাড়ছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই রুখতে না পারলে সমস্যা বাড়বে! ভারতে বাড়ছে জরায়ুর ক্যান্সারের দাপট। তাই ভারতীয় মহিলাদের এই জটিল রোগ থেকে বাঁচাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার টিকাকরণ! দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নার্স এবং স্বাস্থ্য কর্মীরাও সম্প্রতি টিকা দেওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এ রাজ্যের মহিলাদের জরায়ুর ক্যান্সার রুখতেও তাই ভরসা টিকাকরণে!

    ভারতে জরায়ুর ক্যান্সার কতখানি বিপজ্জনক?

    প্রত্যেক বছরেই জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সময় মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে জরায়ুর ক্যান্সার সম্পূর্ণ সেরে ওঠা সম্ভব। কিন্তু তারপরেও দেশে যে হারে প্রতি বছর জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু বাড়ছে, তা যথেষ্ট উদ্বেগের। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৭৯ হাজার মহিলা নতুন করে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতি বছর প্রায় ৭০ হাজার মহিলা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই মৃত্যুর সংখ্যা খুবই উদ্বেগজনক।‌ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জরায়ুর ক্যান্সার শরীরে তৈরি হতে সময় নেয় আনুমানিক ১০ বছর। অর্থাৎ তরুণীর শরীরে সেই রোগের সূচনা হলেও, আক্রান্ত টের পায় মধ্য বয়সে। ভারতে অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্তের বয়স ৪০-৪৫ বছর। এই রোগ রুখতে এবং মৃত্যু হার কমাতে মূল হাতিয়ার লাগাতার রোগ পরীক্ষা এবং টিকাকরণ। কারণ, সময় মতো রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করতে পারলে এই রোগের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

    কেন ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে?

    ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ, স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা তৈরি জরুরি। কতখানি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন, সেই স্বাস্থ্যবিধি না মানলে কোন ধরনের সংক্রমণ হতে পারে, কোন ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে, সে সম্পর্কে জানানো জরুরি। কিন্তু সেই সম্পর্কে আলোচনা হয় না। নানান সামাজিক ছুৎমার্গের জেরে খোলামেলা ভাবে স্কুল স্তর থেকে এই ধরনের আলোচনা হয় না। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ সচেতন নয়। যার ফলে এ দেশে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। ভারতে জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু হওয়ার অন্যতম কারণ, টিকাকরণের হার কম এবং লাগাতার স্ক্রিনিং নিয়েও অসচেতনতা। ক্যান্সার প্রাথমিক পর্বেই চিহ্নিত হলে, জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। কিন্তু রোগ নির্ণয় ঠিক সময়ে না হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদিও সম্প্রতি দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে লাগাতার স্ক্রিনিং এবং টিকাকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, টিকাকরণ কর্মসূচি লাগাতার চালালে আগামী কয়েক দশকে তার ফল পাওয়া যাবে! উল্লেখযোগ্য হারে মৃত্যু হার কমবে।

    কেন জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণ জরুরি?

    দেশ জুড়ে জরায়ুর ক্যান্সার মোকাবিলায় মূল হাতিয়ার হয়ে উঠছে টিকাকরণ। বাদ নেই পশ্চিমবঙ্গ! সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মীদের এই নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণেই সবচেয়ে বেশি ভরসা করছেন।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, এইচপিভি (HPV) সংক্রমণের জেরেই মহিলাদের শরীরে জরায়ুর ক্যান্সার হয়। তাই এইচপিভি টিকাকরণ হলে এই ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমবে। এই টিকা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি শরীরে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতেও সক্ষম হবে। ফলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। পাশপাশি এই টিকরণে ভরসা রাখার আরেকটি কারণ হলো, প্রি-ক্যান্সার ক্ষত কমবে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ক্যান্সার হওয়ার আগে অস্বাভাবিক হারে কোষের পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন রুখতেও টিকা সাহায্য করবে। টিকাকরণ হলে দেশ জুড়ে জরায়ুর ক্যান্সারের বোঝা কমবে। মৃত্যু হার কমবে। ফলে দেশের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও কমবে।

    টিকাকরণ হলেই কি সব বিপদ মুক্ত?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জরায়ুর ক্যান্সার রুখতে টিকাকরণ জরুরি। টিকাকরণ হলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাও পাওয়া যাবে। কিন্তু টিকাকরণ হলেই যে সব বিপদ ঠেকানো যাবে এমনটা নয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগ ঠেকাতে টিকা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কিন্তু জরায়ুর ক্যান্সারের বিপদ কমাতে অন্যতম বড় অস্ত্র হলো, লাগাতার শারীরিক পরীক্ষা। শরীরে রোগ বাসা বাঁধছে কিনা, সে সম্পর্কে প্রাথমিক পর্বেই নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্তের চিকিৎসা অনেক দেরিতে শুরু হয়। এর ফলে, রোগ আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই জরায়ুর ক্যান্সারে মৃত্যু হার কমাতে লাগাতার স্ক্রিনিং নিয়ে সচেতনতা জরুরি। তিরিশ উর্ধ্ব মহিলাদের বছরে অন্তত একবার শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। যাতে তাঁদের ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কিনা, কোষে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি। তাহলেই এই জটিল রোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

  • Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    Fight Against Cancer: ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্য! কেন এই বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্যান্সার (Cancer) রোগ নির্ণয় আর তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া জুড়ে শুধুই রোগী থাকেন না। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া জুড়ে থাকেন তাঁর পরিবার। ক্যান্সার শুধুই একজন ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে না। বরং ক্যান্সারের প্রকোপ সমাজ জুড়ে। তাই ক্যান্সার রুখতেও সামাজিক ঐক্য (Social Unity in Cancer Prevention) জরুরি। একা নয়। ক্যান্সার রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা প্রয়োজন। বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে (World Cancer Day) এই কথাই জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)। ভারত সহ বিশ্বের একধিক দেশে ক্যান্সারের দাপট বাড়ছে। বয়সের সীমারেখায় এই রোগ আটকে নেই। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফুসফুস, লিভার কিংবা অগ্নাশয়ের ক্যান্সার গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্ত ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে তরুণ প্রজন্মের হার যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পুরুষদের মধ্যে যেমন ফুসফুস, গলার ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে, মহিলাদের মধ্যে স্তন এবং জরায়ুর ক্যান্সারের প্রকোপ মারাত্মক। বিশেষত খুব কম বয়সি মহিলারা অর্থাৎ তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই বহু মহিলা স্তন ক্যান্সার কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা খুবই উদ্বেগজনক। তাই ক্যান্সার রুখতে (Fight Against Cancer) সার্বিক সক্রিয়তা জরুরি। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

    ক্যান্সার রুখতে সামাজিক ঐক্যের প্রয়োজনে বাড়তি গুরুত্ব কেন?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হচ্ছে, ক্যান্সার রুখতে হলে শুধুই আক্রান্তের চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক পরিবর্তন (Social Action)। বিশ্ব জুড়ে বাড়তে থাকা ক্যান্সারের দাপট রুখতে তাই দুই দিকে জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, একদিকে যেমন আক্রান্তের চিকিৎসা জরুরি। তাঁর পরিবারের পাশে থাকা প্রয়োজন। তেমনি ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে একসঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন। গত কয়েক দশকে বিশ্ব জুড়ে স্থূলতার সমস্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। লিভার, কিডনি, অগ্নাশয় কিংবা জরায়ুর ক্যান্সারের কারণ হয়ে উঠছে এই স্থূলতা। দেহের ওজন অতিরিক্ত হয়ে গেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। আবার লিভার, পাকস্থলী, অগ্নাশয়ের ওপরেও খারাপ প্রভাব পড়ে‌। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমে। তাই ওজন নিয়ে সামগ্রিকভাবে সচেতনতা জরুরি (Fight Against Cancer)। স্কুল স্তর থেকেই ওজন নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

    ওজন নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়মিত শারীরিক কসরত করা দরকার। খাদ্যাভ্যাসেও নজরদারি প্রয়োজন। এগুলো সামাজিক শিক্ষা। অর্থাৎ, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া খারাপ অভ্যাস, অনিয়মিতভাবে খাওয়া উচিত নয়, নিয়মিত শারীরিক কসরত করার অভ্যাস থাকা জরুরি, এই সবগুলোই সব সময় আলোচনায় থাকা প্রয়োজন। যাতে মানুষ‌ এই সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে সক্ষম হয়। তাহলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি (Fight Against Cancer) অনেকটা কমবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকে ‘উদযাপন’ কিংবা ‘প্রমোশন’-র পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনকেই উদযাপনের মাপকাঠি করার কথাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কু-অভ্যাস ত্যাগ

    ওজনের পাশপাশি ধুমপানের মতো খারাপ অভ্যাস নিয়েও সামাজিক সচেতনতা (Fight Against Cancer) জরুরি। মদ্যপান, ধুমপানের অভ্যাস কখনোই কোনো আনন্দ উদযাপনের অংশ নয়। বরং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। ফুসফুস, গলা রং, মুখ , লিভার সহ একাধিক ক্যান্সারের কারণ। এই সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা (Cancer Awareness) জরুরি। তাই আক্রান্তের পাশে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সার রুখতে সামাজিক জোটবদ্ধ সচেতনতাকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    ভারতে কোন কোন ক্যান্সার বিপজ্জনক? কোন ক্যান্সার আটকানো সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে গত কয়েক বছরে অগ্নাশয়, লিভার রং, ফুসফুসের ক্যান্সার মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তবে সতর্কতাকে হাতিয়ার করে এই ক্যান্সার আক্রান্তের পরিসংখ্যান পরিবর্তন সম্ভব। এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। ক্যান্সার চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, লিভার, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান। এই দুই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ ধূমপান ও মদ্যপানে আসক্ত। এই আসক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, গলা ও মুখের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ ধূমপানে অভ্যস্ত। লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্তের প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীরা মদ্যপানে আসক্ত। তাই এই দুই অভ্যাস ছাড়তে পারলেই ক্যান্সারের বোঝা (Fight Against Cancer) কমবে।

    সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার

    এছাড়া পরিবেশ দূষণ নিয়েও সচেতনতা জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে কলকাতা, দিল্লি সহ দেশের একাধিক বড়‌ শহরে উল্লেখযোগ্য ভাবে বায়ুদূষণ বেড়েছে। এই নিয়ে প্রশাসনের তরফেও আরও বেশি সক্রিয়তা জরুরি। সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশপাশি প্রশাসনের সক্রিয়তা থাকলে তবেই দূষণ রোধ সম্ভব। বায়ুদূষণ ফুসফুস এবং শ্বাসনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই দিকেও নজরদারি জরুরি। তাছাড়া ঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় হলে ক্যান্সারের জটিলতা এড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন ক্যান্সার এবং জরায়ুর ক্যান্সার অনেক সময়েই দেরিতে নির্ণয় হয়। তাই জটিলতা বাড়ে। তাঁদের পরামর্শ, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা (Cancer Awareness) থাকা প্রয়োজন। তাহলে এই দেশে এই রোগ আটকানো (Fight Against Cancer) আরও সহজ হবে।

     

LinkedIn
Share