Tag: CAPF Deployment

  • Delhi Protest Update: ইট-পাথর, কাচের বোতল, লাঠি…! দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আহত দুই এসিপি, নিশানায় র‌্যাফ-ও

    Delhi Protest Update: ইট-পাথর, কাচের বোতল, লাঠি…! দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আহত দুই এসিপি, নিশানায় র‌্যাফ-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যত অশান্ত রাজধানী (Delhi Protest)। টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভে একের পর এক হিংসার অভিযোগ সামনে আসছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একাংশের ইট-পাথর, কাচের বোতল ও লাঠি দিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন দিল্লি পুলিশের দুই এসিপি এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দুই জওয়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লিতে মোতায়েন অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইতিমধ্যেই ১০টি এফআইআর দায়ের করে ২৫০-র বেশি সিসিটিভি ও মোবাইলের ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

    পুলিশের উপর হামলা (Connaught Place Violence)

    আন্দোলনের আঁচ এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছে যে পুলিশের উপরও হামলা চালানো হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে ৮টা নাগাদ কনট প্লেসের টলস্টয় মার্গ এলাকার আচমকাই পুলিশের উপর হামলায় চালায় বেশ কিছু দুষ্কৃতী। পুলিশকে লক্ষ্য় করে ছোড়া হয় ইট-পাথর (Stone Pelting) ও কাচের বোতল। সেই হামলায় আহত হন কনট প্লেসের এসিপি বিবেক ভগত। তাঁকে দ্রুত ড. রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর হাত, পা ও কাঁধে একাধিক আঘাত রয়েছে। মাথার পিছনের অংশেও চোট লেগেছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    যন্তর মন্তরেও সংঘর্ষ (Delhi Protest)

    এদিকে, এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভেও (Jantar Mantar Protest) পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সংসদ মার্গের দিকে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এরপরই শুরু হয় ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি (Stone Pelting)। একটি পাথর এসে লাগে পাঞ্জাবি বাগের এসিপি জয় প্রকাশের কপালে। আহত অবস্থায় তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকেই এসিপি জয় প্রকাশ জানান, “পুলিশ মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের দিকে বোতল ও পাথর ছোড়া হয়।”

    র‌্যাফ-এর জওয়ানদের উপর হামলার অভিযোগ

    শুধু দিল্লি পুলিশই নয়, কনট প্লেসে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর দুই জওয়ানের উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনা থামাতে গেলে র‌্যাফ-এর জওয়ানদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা শুরু হয়। সেই সময় এক জওয়ান নিজের দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ, এরপর তলোয়ার ও লাঠি হাতে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করে। তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে আরও এক জওয়ানও আক্রান্ত হন। এরইমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল বেশকিছু ভিডিও। সেখানেই না কি দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত জওয়ান প্রাণ বাঁচাতে দৌড়চ্ছিলেন। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নয়াদিল্লি) আনন্দ কুমার মিশ্র।

    ২৫০-র বেশি ভিডিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    গোটা ঘটনার তদন্তে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২৫০-রও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ার ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Investigation)-র সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন? কারা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন? কোথা থেকে ভিড়কে উস্কানি দেওয়া হয়েছিল? সেই সব তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও, তদন্তকারীরা BitChat নামে একটি ইন্টারনেট ছাড়াই চলতে সক্ষম মেসেজিং অ্যাপের কথোপকথনও খতিয়ে দেখছেন। সংঘর্ষটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, সেই দিকটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    ১০টি এফআইআর, একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা

    ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তার মধ্যে- ৪টি সংসদ মার্গ থানায়, ৩টি কনট প্লেস থানায়, এবং মন্দির মার্গ, বারাখম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে আক্রমণ, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অস্ত্র আইনে অপরাধ, সংসদ অধিবেশন চলাকালীন অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ানো- সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

    রাজধানীতে বাড়ানো হল নিরাপত্তা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দিল্লিতে অতিরিক্ত ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। ফলে আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের হাতে মোট ৪৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, অর্থাৎ প্রায় ৪,৫০০ জওয়ান থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে-  ২৪ কোম্পানি সিআরপিএফ, ১৫ কোম্পানি র‌্যাফ, ৩ কোম্পানি বিএসএফ, ১ কোম্পানি আইটিবিপি ও ২ কোম্পানি এসএসবি। পাশাপাশি পার্লামেন্ট স্ট্রিট, যন্তর মন্তর, কনট প্লেস-সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ত্রিপুরা রাইফেলস এবং BSF-এর অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

    কেন এই আন্দোলন?

    নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরাও অংশ নিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের নির্ধারিত স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদ মার্গের দিকে এগোনোর চেষ্টা করে এবং বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। এরপর পুলিশের উপর ইট-পাথর, বোতল ও অন্যান্য বস্তু ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী ও আধিকারিক আহত হয়েছেন।

    কী বলছেন জে পি নাড্ডা?

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ জে পি নাড্ডা (J P Nadda) বলেন, ‘‘প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে রাজনৈতিক রং দেওয়া উচিত নয়। এই ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত। আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সংলাপের পথ খোলা রয়েছে।’’

    সরকারের সাফ বার্তা

    এদিকে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং তা নিয়ে রাজনীতি না করে তথ্যভিত্তিক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার নেতা জে পি নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকার এই ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত এবং আন্দোলনকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংলাপের দরজা খোলা রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারের স্পষ্ট বার্তা, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদের অধিকার সকলের থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার মতো ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা হিংসায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ, বৃহস্পতিবার ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার। আগামী ২৪ মে ভোটগণনা হবে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২৯ এপ্রিলের ভোটে একাধিক অনিয়ম ও ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের জেরে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভোটে অনিয়মের অভিযোগ

    গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। সেই দিন ফলতা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ থেকে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানো হয়েছিল। কোথাও বুথ দখল, কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ জমা পড়ে। ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং ভুয়ো ভোটারের মাধ্যমে অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও বেশ কিছু বুথে সিসিটিভি বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কোথাও দীর্ঘ সময় নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু বুথে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অযাচিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত

    ফলতা থেকে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশনের উচিত পুনরায় ভোট করানো। পরে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন সকালে কয়েকটি বুথে ক্যামেরা বন্ধ ছিল এবং পরে “টেপ রিমুভড” বলে তথ্য দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেই বিপুল ভোট পড়ে যায় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন জানায়, ফলতায় “স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়া” বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্রের সবকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, আগের ভোটের তুলনায় নিরাপত্তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এবার প্রতিটি বুথে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। গত ২৯ এপ্রিল বুথপিছু মাত্র ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। মোট ২৮৫টি বুথের জন্য প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    ওয়েবকাস্টিং ও ড্রোন নজরদারি

    প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটা ভোটপ্রক্রিয়ার লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হচ্ছে, যা জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তিন জন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির

    পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। নিজেকে “ফলতার ভূমিপুত্র” উল্লেখ করে জাহাঙ্গির বলেন, তিনি চান ফলতায় শান্তি ও উন্নয়ন বজায় থাকুক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রাজনৈতিক সমীকরণে বদল

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খানের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এলাকায় তৃণমূল বিরোধী সুর জোরালো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, প্রচারের পুরো পর্বে জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই তাঁর ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।

  • Assam Election: অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছাড়লেন প্রার্থী

    Assam Election: অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছাড়লেন প্রার্থী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বিরাট ধাক্কা খেল কংগ্রেস (Congress)। অসমের (Assam Election) উদালগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সুরেন দাইমারি দল ছেড়ে দিয়েছেন। ভোটের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের আগে নিজের প্রার্থীপদও প্রত্যাহার করেছেন তিনি। বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়ন (বিটিআর)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে কংগ্রেস প্রার্থীর এহেন আচরণ দলের পক্ষে এক বিরাট ধাক্কা বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

    কংগ্রেসকে আক্রমণ (Assam Election)

    দল ছাড়ার আগে দাইমারি কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়ে জানান, “মুসলিম তোষণ রাজনীতিই তাঁর দলত্যাগের কারণ। তিনি বলেন, “দল আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কারণ কোনও শীর্ষ নেতা আমার হয়ে প্রচারে আসেননি।” তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে তফশিলি উপজাতি (ST)-বিরোধী মনোভাব রয়েছে। তারা ব্যস্ত সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতিতে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, উদালগুড়ি ও আশপাশের অঞ্চলের নির্বাচনী সমীকরণে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

    অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি

    এদিকে, নির্বাচন কমিশন অসম বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রাজ্যে ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার হবে ভোটগ্রহণ। অসমের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল জানান, সংশ্লিষ্ট সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন (Congress)। আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ব্যয়-সহ সব বিষয় কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে (Assam Election)। এসভিইইপি কর্মসূচির আওতায় রাজ্যজুড়ে ভোটারদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারও চালানো হয়েছে। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩১,৪৯০টি ভোটকেন্দ্রেই (৩১,৪৮৬টি প্রধান ও ৪টি সহায়ক কেন্দ্র) এই সুবিধা চালু রয়েছে। এর ফলে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, প্রধান নির্বাচন আধিকারিক এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে রিয়েল-টাইমে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা হবে।

    জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, যার মধ্যে রয়েছেন সিআরপিএফ (CRPF) কর্মীরাও, মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তাই সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলিতে নিয়োগ করা হয়েছে মাইক্রো-অবজারভারও (Assam Election)। সব ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, ব্যবস্থা করা হয়েছে পানীয় জল, অপেক্ষা করার জায়গা, শৌচাগার এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইলচেয়ার। ভোটারদের লাইনের পাশে বসার ব্যবস্থা (বেঞ্চ) এবং মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে (Congress)। নির্বাচন পরিচালনায় মোট ১,৫১,১৩২ জন ভোটকর্মী নিয়োজিত। ভোটগ্রহণের জন্য ৪১,৩২০টি ব্যালট ইউনিট, ৪৩,৯৭৫টি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৪৩,৯৯৭টি ভিভিপ্যাট মেশিন রাখা হয়েছে।

    চুম্বকে ভোট তত্ত্ব

    সব মিলিয়ে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২,৫০,৫৪,৪৬৩ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১,২৫,৩১,৫৫২ জন পুরুষ, ১,২৫,২২,৫৯৩ জন মহিলা এবং ৩১৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ৬৩,৪২৩ জন সার্ভিস ভোটারও রয়েছেন। ভোটারদের মধ্যে ১৮–১৯ বছর বয়সী রয়েছেন ৬,৪২,৩১৪ জন, ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে রয়েছেন ২,৫০,০০৬ জন এবং ২,০৫,০৮৫ জন প্রতিবন্ধীও রয়েছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ৬০(সি) অনুযায়ী ৮৫ বছরের বেশি বয়স্ক নাগরিক ও চিহ্নিত প্রতিবন্ধীদের জন্য বাড়ি থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৬,০৩২ জন প্রবীণ (৮৫+) এবং ৮,৩৭৩ জন প্রতিবন্ধী এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন (Congress)। প্রধান নির্বাচন আধিকারিক অনুরাগ গোয়েল সব পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে প্রত্যেক নাগরিক তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন (Assam Election)।

     

LinkedIn
Share