Tag: CBI investigation

CBI investigation

  • Kolkata Illegal Construction: শহরে বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা? সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    Kolkata Illegal Construction: শহরে বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা? সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় একের পর এক বেআইনি বহুতল নির্মাণের নেপথ্যে কি কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার কারবার চলেছে? এই বিস্ফোরক অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে (CBI) নামাল কলকাতা হাই কোর্ট। শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি বহুতল নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসার পর জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে সিবিআইকে।

    ৫০টি বেআইনি বহুতল আদালতের নজরে

    কলকাতার রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। সেই তালিকায় ক্যানাল স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। আদালতের নজরে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই সমস্ত এলাকায় অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

    জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসতেই নির্মাণের ধরন এবং তার পিছনে থাকা আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি শুধু পুরসভার বিল্ডিং রুল বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পিছনে বিপুল অঙ্কের বেআইনি অর্থের লেনদেন এবং সেই অর্থকে বৈধ করার চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

    রিয়েল এস্টেটের আড়ালে কালো টাকা সাদা?

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ। বেআইনি ভাবে বহুতল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রিয়েল এস্টেট কারবারকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

    এই অভিযোগের সত্যতা কতটা, কোথা থেকে টাকা এসেছে, কারা সেই অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং নির্মাণ ব্যবসার মাধ্যমে কীভাবে সেই অর্থের লেনদেন হয়েছে—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবে সিবিআই। একইসঙ্গে এই বেআইনি নির্মাণের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আসছে।

    কাঠগড়ায় কলকাতা পুরসভাও

    বেআইনি নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভা কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। অভিযোগ সম্পর্কে পুরসভার আধিকারিকরা অবগত ছিলেন কি না এবং জানার পরেও কেন নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার কোনও আধিকারিকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবে সিবিআই। অর্থাৎ শুধু নির্মাণকারী বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নয়, সরকারি স্তরে কোনও সহযোগিতা বা মদত ছিল কি না, তদন্তে সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের তরফে আগে একটি ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাস্ক ফোর্স বাস্তবে কতটা কাজ করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট।

    প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চায়, বেআইনি নির্মাণ রুখতে টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুধু কমিটি বা টাস্ক ফোর্স গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—মাঠে তার কার্যকরী ভূমিকা কতটা ছিল, সেই প্রশ্নও শুনানিতে উঠে আসে।

    অনুমতি না মেলায় তদন্ত করতে পারেনি সিবিআই

    শুনানির সময় সিবিআইয়ের তরফেও তাদের অবস্থান আদালতকে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলাকারীর তরফে আগেই সিবিআইকে সরাসরি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় তারা সেই সময় কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি।

    তবে বর্তমান মামলার প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে যদি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং সংগঠিত অপরাধের যোগ থাকে, তাহলে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তে নামতে পারে। সেই অনুযায়ী সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্তের জন্য পূর্ণ আইনি এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট

    এখন সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তের দিকেই নজর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। বেআইনি বহুতল নির্মাণ, তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন, কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ এবং কলকাতা পুরসভার কোনও আধিকারিকের ভূমিকা—সবকটি বিষয়ই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। ফলে কলকাতার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে এই মামলায় আগামী দিনে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan Resignation: নিট-ইউজি বিতর্কে বড় সিদ্ধান্ত! কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যু এবং তা ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার দেশের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা দুই পাতার একটি খোলা চিঠিতে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং বিষয়টি যাতে আরও রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না হয়, সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ছাত্রজীবন, শিক্ষকতা এবং শিক্ষা সংস্কারের সঙ্গে তাঁর চার দশকের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্বচ্ছ শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, দেশের যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল।

    ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করে। তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়, পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং পুনরায় পরীক্ষার ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজি সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পরীক্ষা (CBT) পদ্ধতিতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি, যাতে স্বচ্ছতা আরও বাড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য পুনঃপরীক্ষা নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই ছিল সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, কেন্দ্র, রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২১ জুন সফলভাবে পুনঃপরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

    নিজের দায়িত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন এবং কখনও দায় এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে যাতে কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নষ্ট না হয় এবং কোনও যোগ্য পরীক্ষার্থী বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করেছে। ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি ফলাফলে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রীর সাফল্যে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    তবে একই সঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারের একাধিক পদক্ষেপের পরও কিছু ‘দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি’ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং নানা বাধা তৈরি করেছেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর ইঙ্গিত, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত স্বার্থ থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু সরে গিয়েছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার দায় নির্ধারণের দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রসঙ্গও চিঠিতে উল্লেখ করেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি আবেদন জানান, দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্তি, দীর্ঘ আইনি লড়াই বা রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি তাঁর দাবি, দেশের বিরোধী শক্তিগুলিকে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেওয়া উচিত নয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের দিকেই মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য নয়, বরং দেশের যুবসমাজের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের প্রতি নিজের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, উন্নত ভারতের প্রকৃত নির্মাতা দেশের তরুণ প্রজন্মই।চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রকের আধিকারিক এবং সকল সহকর্মীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওডিশার মানুষ এবং দেশের যুবসমাজের সেবায় যে কোনও ভূমিকায় কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

  • RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের নয়া বিতর্ক তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুন মামলায়। রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট বা বদলে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আরজি করকাণ্ডে (RG Kar) নির্যাতিতার পরিবার। প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই এই অভিযোগ (Rape Murder Case) প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবারের দাবি, চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পরিবর্তন বা নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    বদলে ফেলা হয়েছিল ভিসেরা নমুনা! (RG Kar)

    পরিবারের বক্তব্য, কয়েক দিন আগে নির্যাতিতার বাবার নামে ওই চিঠি পৌঁছয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর ভিসেরা নমুনা পরে বদলে ফেলা হয়। সাধারণত মৃত্যুর আগে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে এই নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণই পরে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারেই নয়, সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর সময়ও নমুনা বদল করা হয়েছে। তাই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    এই পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিলোত্তমার পরিবার। আদালতের কাছে তাদের আবেদন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, “এত গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না এবং (RG Kar) বিচারপ্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়বে।” চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি এবং সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও ওই তিন ফরেনসিক কর্মী ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। এদিকে, তিলোত্তমার পরিবারের করা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুললেও, সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগ বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ (Rape Murder Case) বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন রাজ্যবাসী তাকিয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে (RG Kar)।

     

  • RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের নতুন মোড়। নিহত চিকিৎসকের পরিবার এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা চিকিৎসক আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে পাওয়া গিয়েছিল। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র উচিত তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

    কী অভিযোগ রত্না দেবনাথের?

    নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ বৃহস্পতিবার এই দাবি তুলে বলেন, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সময় হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সম্প্রতি প্রাক্তন পানিহাটি বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে তলব করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন এখনও ডাকা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    ‘মৃত্যুর সময়সীমার মধ্যে উপস্থিত সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক’

    রত্না দেবনাথ দাবি করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। ফলে ওই সময় হাসপাতাল চত্বরে কারা ছিলেন, কারা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছেন, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আজ নির্মল ঘোষকে সিবিআই ডেকেছে, সঙ্গে ডাকা হয়েছে সোমনাথ দে-কে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। তাহলে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন ডাকা হবে না? তাঁর টাওয়ার লোকেশনও সেখানে পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।”

    প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

    নিহত চিকিৎসকের মা আরও অভিযোগ করেন, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান গবেষণাগার (সিএফএসএল)-এর রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালের সেমিনার রুমে খুন করা হয়নি। রত্না দেবনাথের অভিযোগ, প্রকৃত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল হাসপাতালের পিজিটি (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি) রুমে, যেখানে চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন। পরে মৃতদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে সেমিনার রুমের সামনে ফেলে রাখা হয়, যাতে তদন্তকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় এবং প্রকৃত অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য, “এত বড় মাত্রার প্রমাণ লোপাট ও ঘটনাস্থল পরিবর্তনের ঘটনা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ‘ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব’ আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল।

    নিহত চিকিৎসকের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ

    শুক্রবার নিহত চিকিৎসকের বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথও একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। তাঁর দাবি, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালের একটি বাথরুমে স্নান করেছিলেন, কারণ তাঁর শরীরে রক্তের ছিটে লেগেছিল। শেখরবাবুর দাবি, ওই বাথরুমটিই পরবর্তীকালে দ্রুত ভেঙে ফেলা হয়।

    বাথরুম ও বিশ্রামকক্ষ ভাঙার ঘটনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পরদিনই হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ চিকিৎসকদের একটি বিশ্রামকক্ষ এবং কর্মীদের ব্যবহৃত একটি শৌচাগার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এই দুটি ঘরই সেই সেমিনার হলের কাছাকাছি ছিল, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিনই ওই অংশ ‘সংস্কারের’ নির্দেশ কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্ত চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন তদন্তকারীরা এবং বিভিন্ন মহল।

    ‘ঘটনাস্থলে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা’

    শেখর রঞ্জন দেবনাথ আরও দাবি করেন, ঘটনার রাতভর তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অপরাধ প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের সেমিনার রুমে অসংখ্য মানুষ প্রবেশ করেছিলেন, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, সিবিআইয়ের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২,০০০ মানুষের পদচিহ্নের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

    এখনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অনড় পরিবার

    ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। চিকিৎসক মহল, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশ। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় গ্রেফতার হন এবং পরে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবার দাবি করে আসছে, শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় নয়, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং প্রকৃত দোষীদের অনেকেই আইনের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছেন।

    প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে, অভিযোগ নিহতের পরিবারের

    রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপান্তরিত করে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিহত চিকিৎসকের পরিবারের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সিবিআই, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তকারী সংস্থাও এই নতুন অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিবারের উত্থাপিত নতুন অভিযোগ তদন্তের গতিপথে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন দেখার।

  • NEET Paper Leak: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল সিবিআই, গ্রেফতার ‘কিংপিন’ পুণের রসায়নের অধ্যাপক!

    NEET Paper Leak: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল সিবিআই, গ্রেফতার ‘কিংপিন’ পুণের রসায়নের অধ্যাপক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলায় বড় অগ্রগতি দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া এই কেলেঙ্কারিতে সিবিআই জানিয়েছে, তারা গোটা চক্রের ‘কিংপিন’কে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তি হলেন পুনের রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নি (PV Kulkarni), যিনি প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস বলে তদন্তকারীদের দাবি। সিবিআই সূত্রে খবর, কুলকার্নি মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা এবং পুনেতে বসবাস করতেন। তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র (National Testing Agency বা NTA) হয়ে পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে নিট-এর প্রশ্নপত্রে অ্যাক্সেস পান। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তিনি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেন বলে অভিযোগ।

    কীভাবে ফাঁস হল প্রশ্ন?

    তদন্তে উঠে এসেছে, পিভি কুলকার্নি নিজের বাড়িতে ‘রাজ কোচিং ক্লাসেস’ (Raj Coaching Classes) নামে ব্যক্তিগত কোচিং চালাতেন। নিট পরীক্ষার ঠিক আগে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তাঁর কোচিং সেন্টারে একটি বিশেষ ক্লাস নেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই ক্লাসে তিনি পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন, অপশন এবং সঠিক উত্তর ছাত্রছাত্রীদের ডিক্টেট করেন। পড়ুয়ারা সেগুলি নিজেদের খাতায় লিখে নেয়। পরে তদন্তকারীরা ছাত্রদের খাতায় লেখা প্রশ্নের সঙ্গে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখেন। দেখা যায়, বহু প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। এর থেকেই সিবিআই নিশ্চিত হয় যে প্রশ্নফাঁসের উৎস পরীক্ষার অভ্যন্তরীণ কোনও ব্যক্তি।

    জড়িত আরও এক অভিযুক্ত

    এই মামলায় বৃহস্পতিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে মনীষা বাঘমারে (Manisha Waghmare) নামে এক মহিলাকে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি একটি বিউটি পার্লার চালাতেন এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে ফাঁস হওয়া মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। প্রতিটি ছাত্রের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এরপর তাদের পিভি কুলকার্নির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হতো।

    দেশজুড়ে তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত নথি ও মোবাইল

    সিবিআই গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। তদন্তকারীরা বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। এগুলির ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চলছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্যপ্রমাণ থেকে আরও বড় চক্রের হদিশ মিলতে পারে। সিবিআই জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন উচ্চশিক্ষা দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মামলা রুজু করা হয়। তারপরই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।

    ৮ জন গ্রেফতার, একাধিক রাজ্যে ছড়ানো নেটওয়ার্কের খোঁজ

    এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুনে এবং আহিল্যানগর থেকে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। ধৃত পাঁচ অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে ৭ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই প্রশ্নফাঁস চক্র কতটা বিস্তৃত ছিল এবং একাধিক রাজ্যে এর নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল কি না।

    ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

    নিট হল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবার গভীর উদ্বেগে। ইতিমধ্যেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা, এনটিএ-র ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

  • NEET UG 2026: নিট ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, জানুন বিশদে

    NEET UG 2026: নিট ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট ইউজি ২০২৬ (NEET UG 2026)-এর কথিত প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে প্রকাশ্যে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৩ মে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) পরিচালিত এই পরীক্ষায় বসেছিলেন ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী। “লিক-প্রুফ” পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এনটিএ এমন একটি “গেস পেপার” রুখতে পারেনি, যার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের (Sikar Coaching Hub) অনেক মিল ছিল। পরীক্ষার কয়েকদিন আগেই হোয়াটস অ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে বিক্রি হচ্ছিল ওই গেস পেপার।

    “গেস পেপারে”ই কারিকুরি! (NEET UG 2026)

    কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয় তখন, যখন একটি হাতে লেখা “গেস পেপারে”র সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের বিশেষ করে বায়োলজি ও কেমিস্ট্রির অংশের উল্লেখযোগ্য মিল দেখা যায়। প্রায় ৪১০টি প্রশ্ন-সহ একটি নোট, যার মধ্যে ২৮১টি প্রশ্নের সেট ছিল, তা হোয়াটস অ্যাপ ও টেলিগ্রাম গ্রুপে এবং কোচিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে রাজস্থানের সিকার ও উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। সিবিআই তদন্তভার নেওয়ার আগে রাজস্থান পুলিশের এসওজি (SOG) দেখতে পায়, আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে গেস পেপারের ১২০–১৪০টি প্রশ্ন হুবহু এক। প্রায় ১৩৫টি প্রশ্ন মিলে যাওয়ায় মোট ৭২০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬০০ নম্বর নিশ্চিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কারণ প্রতিটি প্রশ্নের মান ৪ নম্বর।

    কীভাবে ছড়াল প্রশ্নপত্র?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে ছড়াল প্রশ্নপত্র? জানা গিয়েছে, “প্রাইভেট মাফিয়া” (Private Mafia) নামের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে সদস্যপদ পেতে ৫,০০০ টাকা নেওয়া হত (NEET UG 2026)। সদস্যদের প্রশ্নপত্র শেয়ার করতে না বলা হলেও, সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভরকেন্দ্র হতে পারে মহারাষ্ট্রের নাসিক। পরে নাসিক পুলিশ শুবহম খৈরনার নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাকে তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। কে এই শুবহম খৈরনার? জানা গিয়েছে, সে ভোপালের এক বিএএমএসের ছাত্র। পুণে থেকে প্রশ্নপত্র জোগাড় করে হার্ড কপি থেকে হোয়াটসঅ্যাপে সফট কপি ছড়ায়। ১০ লাখে প্রশ্ন কিনে সে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। সে গুরগাঁও-সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশ্নপত্র পাঠায়। সেখান থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে (NEET UG 2026)। প্রসঙ্গত, রাজস্থানের সিকার (যা এখন “মিনি-কোটা” নামে পরিচিত) এই কাণ্ডের মূল কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। এখানে অসংখ্য নিট/জেইই (NEET/JEE) কোচিং সেন্টার, পিজি ও হস্টেল রয়েছে।

    এনটিএর ডিরেক্টরের দাবি

    তদন্তে জানা গিয়েছে, এমবিবিএস কাউন্সেলর রাকেশ মাণ্ডাওয়ারিয়া প্রশ্নপত্র বিক্রি করতেন ৩০,০০০ টাকায়। বিভিন্ন কোচিং নেটওয়ার্ক ও দালালরা এতে জড়িত ছিল। ২০২৪ সালের নিটে রেজাল্টেও সন্দেহের (Sikar Coaching Hub) কেন্দ্রে ছিল সিকার। ২০২৪ সালে ৬৫০-এর বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়ার মধ্যে বিপুল সংখ্যক ছিল সিকার থেকে। ১৪৯ জন পরীক্ষার্থী ৭০০-এর বেশি নম্বর পেয়েছিল। এক ছাত্র পেয়েছিল পুরোপুরি ৭২০ নম্বরই। ১২ মে এনটিএ নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করে। জানিয়ে দেয়, ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে (NEET UG 2026)।এনটিএর ডিরেক্টর অভিষেক সিং বলেন, “সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়নি।” তবে তিনি স্বীকার করেন যে কিছু প্রশ্ন আগে থেকেই সার্কুলেটিং গেস পেপারে ছিল, যা পরীক্ষার বৈধতাই নষ্ট করেছে।

    গুচ্ছের প্রশ্ন

    এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ফেডারেল অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোশিয়েশন। তাদের দাবি, এটিএকে পুনর্গঠন করতে হবে বা বদলে দিতে হবে, বিচারপতির তত্ত্বাবধানে নিতে হবে ফের পরীক্ষা, চালু করতে হবে কম্পিউটার-বেসড টেস্ট এবং প্রয়োগ করতে হবে ডিজিটাল লকিং সিস্টেম (NEET UG 2026)। প্রশ্ন হল, কীভাবে বাইলে এল প্রশ্নপত্র? ভেতরের কেউ জড়িত ছিল কি? প্রিন্টিং পর্যায় থেকেই কি ফাঁস হয়? কেন এখনও সিবিটি চালু করা হয়নি? কবে বন্ধ হবে প্রশ্নফাঁস–বাতিল–পুনঃপরীক্ষার চক্র (Sikar Coaching Hub)?

     

  • Chandranath Rath Murder Case: চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়, তদন্তভার নিল সিবিআই, গঠন বিশেষ সিট

    Chandranath Rath Murder Case: চন্দ্রনাথ রথ খুনে বড় মোড়, তদন্তভার নিল সিবিআই, গঠন বিশেষ সিট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের (Chandranath Rath Murder Case) তদন্তভার আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে নিল সিবিআই। রাজ্য পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সিবিআই তদন্তের (CBI Investigation) দায়িত্ব গ্রহণ করছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক পঙ্কজ কুমার সিং।

    সিবিআই সিট গঠন

    সিবিআই সূত্রে খবর, দিল্লি, পটনা, রাঁচি, ধানবাদ ও লখনউ-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মোট সাতজন অভিজ্ঞ অফিসারকে নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশেষ টিম। কলকাতা জ়োনের যুগ্ম নির্দেশকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে দলটি। তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও আধিকারিক যুক্ত করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম থানার পাশাপাশি সিআইডি-র হাতে থাকা সমস্ত নথি দ্রুত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত

    উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর গাড়ির সামনে আচমকা একটি চারচাকা গাড়ি এসে দাঁড়ায়, ফলে তাঁর গাড়ি থেমে যায়। ঠিক সেই সময় দুই দিক থেকে বাইকে চেপে আসে হামলাকারীরা এবং চন্দ্রনাথ ও তাঁর চালককে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের। গুরুতর জখম চালক এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ময়ঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য ও রাজ সিং। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মধ্যে অন্তত একজন পেশাদার শুটার। ময়ঙ্ক ও ভিকিকে বিহারের বক্সার জেলা থেকে এবং রাজকে উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ধরা হয়েছে। আদালত ধৃতদের ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

    ৮ থেকে ৯ জন জড়িত!

    প্রথমে মামলার তদন্তে রাজ্য পুলিশ একটি সিট গঠন করেছিল, যেখানে এসটিএফ ও সিআইডি-র আধিকারিকরাও যুক্ত ছিলেন। সেই টিমই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় মোট ৮ থেকে ৯ জন জড়িত থাকতে পারে। খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল বলেও সন্দেহ। ওই গাড়ি থেকে বালি টোল প্লাজ়ায় অনলাইনে পেমেন্টের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের হদিশ মেলে বলে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং একাধিক সূত্রের ভিত্তিতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে অভিযান চালানো হয়েছিল। এবার এই বহুচর্চিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে সিবিআই।

  • Sandeshkhali: সন্দেশখালির ৩ বিজেপি কর্মী খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

    Sandeshkhali: সন্দেশখালির ৩ বিজেপি কর্মী খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে ২০১৯ সালে তিন বিজেপি কর্মীকে হত্যার ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আদালত সিবিআইকে এই মামলার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৯ সালের ৮ জুন সন্দেশখালির (Sandeshkhali) বাসিন্দা তথা বিজেপি প্রদীপ মণ্ডল, দেবদাস মণ্ডল এবং সুকান্ত মণ্ডলকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তিনজনই বিজেপি কর্মী ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে। প্রথম পর্যায়ে তার নাম চার্জশিটে থাকলেও পরে সিআইডির হাতে তদন্ত যাওয়ার পর তার নাম বাদ পড়ে যা নিয়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহায়তায় হাইকোর্টে যায় নিহতদের পরিবার

    প্রদীপ মণ্ডলের পরিবারের অভিযোগ, সেদিন একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে গুলি করে খুন করে। তার তুতো ভাই সুকান্ত এবং প্রতিবেশী দেবদাস মণ্ডলকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। ঘটনায় দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেছিলেন সুপ্রিয়া মণ্ডল এবং পদ্মা মণ্ডল। দুই মামলাতেই মূল অভিযুক্ত ছিল শেখ শাহজাহান (Sandeshkhali)। একটি মামলায় ২৮ জন এবং অন্যটিতে ২৪ জন অভিযুক্ত ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে, দুই মামলার চার্জশিট থেকেই বাদ যায় শেখ শাহজাহানের (Sandeshkhali) নাম। এরপর ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সহায়তায় নিহতদের পরিবার ফের হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের দাবি জানায়।

    তদন্তকারী আধিকারিককে ভর্ৎসনা বিচারপতির (Calcutta High Court)

    মামলার শুনানির সময় তদন্তকারী আধিকারিককে প্রশ্ন করেন বিচারপতি, ‘‘সাক্ষীর গোপন জবানবন্দিতে শেখ শাহজাহানকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন তার নাম চার্জশিটে নেই?’’ উত্তরে আধিকারিক (Sandeshkhali) বলেন, ‘‘সাক্ষীকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।’’ তখন বিচারপতি পাল্টা বলেন, ‘‘আপনি ঠিক করবেন কে বিশ্বাসযোগ্য আর কে নয়?’’ বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, তদন্ত যথাযথভাবে হয়নি, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদেও গাফিলতি রয়েছে। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “যখন বছরের পর বছর মূল অভিযুক্তের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তখন হঠাৎ এখন অতিরিক্ত চার্জশিট দেওয়ার তোড়জোড় কেন? চার-পাঁচ বছর ধরে চুপ ছিলেন, আর এখন সক্রিয়তা মানুষ এসব বুঝতে পারে।”

LinkedIn
Share