Tag: Cervical Cancer Prevention

  • Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জরায়ুমুখ ক্যানসার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচপিভি (Human Papillomavirus, HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই রাজ্যব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে জাতীয় এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এবার সেই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গও।

    প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছেছে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা। সরকারের লক্ষ্য, শহর থেকে গ্রাম—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে ধাপে ধাপে (Phased Expansion Plan) টিকাকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি নতুন শয্যারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কারা এই টিকা পাবে?

    বর্তমান পর্যায়ে এই বিনামূল্যের টিকাকরণ কর্মসূচি শুধুমাত্র ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কৈশোরের এই বয়সকে এইচপিভি টিকা নেওয়ার জন্য ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। কারণ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যেসব পরিবারের কন্যাসন্তানের বয়স ১৪ বছর, তারা নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করে টিকা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এইচপিভি টিকা?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এইচপিভির কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেন জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এইচপিভি ভ্যাকসিন এই ভাইরাসজনিত ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার ছাড়াও গলা, মলদ্বার এবং অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    বিধাননগরে উদ্বোধন

    শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মহিলাদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভাইক্যাল ক্যানসার) অন্যতম মারাত্মক, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লক্ষ মহিলাকে আক্রান্ত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ পরিসরে এইচপিভি টিকাকরণ চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কিশোরী দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।

LinkedIn
Share