Tag: Chabahar

  • Budget 2026: বাংলাদেশে অশান্তির জের, বিদেশি অনুদানে ভারত কমাল বরাদ্দ

    Budget 2026: বাংলাদেশে অশান্তির জের, বিদেশি অনুদানে ভারত কমাল বরাদ্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিরার সংসদে বাজেট (Budget 2026) পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। এই বাজেটে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বিদেশি দেশগুলির জন্য অনুদান বাবদ বরাদ্দ করা হয়েছে ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি টাকা। এই তালিকায় ভুটান-ই সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাওয়া দেশ হিসেবে (Bangladesh Aid Cut) উঠে এসেছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে বিদেশমন্ত্রক (MEA)-এর জন্য মোট ২২,১১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে বাজেট অনুমানের ২০,৫১৬ কোটি টাকা এবং সংশোধিত অনুমানের ২১,৭৪২ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। মোট বরাদ্দের মধ্যে ‘কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের প্রকল্প দেশগুলিকে সহায়তা’ খাতে রাখা হয়েছে ৫,৬৮৫.৫৬ কোটি টাকা।

    উন্নয়ন সাহায্য (Budget 2026)

    উন্নয়ন সাহায্য হিসেবে ভুটান পেয়েছে সর্বোচ্চ ২,২৮৮ কোটি টাকা, যা ভারতের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর প্রতি দেশের অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। নেপাল পেয়েছে ৮০০ কোটি টাকা, আর মলদ্বীপ এবং মরিশাস পেয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা করে। বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। এটি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেট অনুমানের ১২০ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যদিও চলতি অর্থবর্ষের সংশোধিত অনুমান ৩৪.৪৮ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং ভারতীয় কূটনৈতিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে হওয়া বিক্ষোভের জেরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Budget 2026)। সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হল ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য এ বার কানাকড়িটিও বরাদ্দ করা হয়নি। অথচ ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা পরে সংশোধিত অনুমানে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়।

    ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

    এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে এবং চাবাহার প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ওয়াশিংটনের ছাড় (waiver) অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৬ এপ্রিল (Budget 2026)। ভারত ও ইরানের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা চাবাহার বন্দরকে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও সংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। এটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক উত্তর–দক্ষিণ পরিবহণ করিডরের (INSTC) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দরের জন্য কোনও বরাদ্দ না রাখায় কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। কংগ্রেসের এই নেতার অভিযোগ, সরকার “কারও চাপে নতি স্বীকার করছে”। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের বিদেশি উন্নয়ন সহযোগিতা কর্মসূচির মোট পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬,৯৯৭ কোটি টাকা, যা বিদেশমন্ত্রকের মোট বরাদ্দের ৩১ শতাংশের কিছু বেশি।

    কোন দেশ কত পেল

    সরকারি আধিকারিকদের মতে, এই অর্থ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, আবাসন, সড়ক ও সেতুর মতো বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্প থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের সমাজ উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে শ্রীলঙ্কার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা, আর মায়ানমার পেয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। আফগানিস্তানের জন্য সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবর্ষে ছিল ১০০ কোটি টাকা, ফলে দেশটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়নমূলক সহযোগিতা অব্যাহত থাকছে। আফ্রিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ অপরিবর্তিত রেখে ২২৫ কোটি টাকাই রাখা হয়েছে (Bangladesh Aid Cut)। আর লাতিন আমেরিকার দেশগুলির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি টাকা। বিদেশি দেশগুলিতে দুর্যোগ ত্রাণ সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা (Budget 2026)।

     

  • Union Budget 2026: চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থই বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র, কেন জানেন?

    Union Budget 2026: চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থই বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) ভারত সরকার চাবাহার বন্দর (Chabahar Port) প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে নয়াদিল্লি ইরানের সিস্তান–বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত এই চাবাহার বন্দরের উন্নয়নের জন্য বছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে আসছিল। চাবাহার ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এটি একটি কানেক্টিভিটি প্রকল্প, যেখানে ভারত অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া ও তার বাইরের অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করতে এই বন্দরকে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    চাবাহার ইরানের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর (Union Budget 2026)

    ওমান উপসাগরের মুখে অবস্থিত চাবাহার ইরানের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর, যা দেশটিকে সরাসরি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সঙ্গে যুক্ত করে। ইরান–পাকিস্তান সীমান্তের পশ্চিমে অবস্থিত এই বন্দরটির অবস্থান অনেকটাই পাকিস্তানের পূর্ব সীমান্তে থাকা গ্বাদর বন্দরের প্রতিচ্ছবি। গ্বাদর বন্দরটি চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর আওতায় উন্নয়ন করেছে। ফলে চাবাহার কেবল একটি অর্থনৈতিক প্রকল্পই নয়, বরং এই অঞ্চলে চিনা প্রভাবের মোকাবিলায় ভারতের কৌশলগত পাল্টা ভারসাম্য হিসেবেও বিবেচিত হয় (Chabahar Port)। ইরানের কাছে চাবাহার পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমানোর একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ভারতের জন্য এই বন্দর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সুগম করে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে স্থলপথে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করতে বাধা দিয়ে আসছে।

    চাবাহারে ভারতের সম্পৃক্ততার ইতিহাস

    চাবাহারে ভারতের সম্পৃক্ততার ইতিহাস দু’দশকেরও বেশি পুরানো। ২০০২ সালে বন্দরের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়, যখন তৎকালীন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা তথা বর্তমান রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রজেশ মিশ্রের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরের বছর, ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সঈদ মোহাম্মদ খাতামির ভারত সফরের সময় তিনি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী সহযোগিতার একটি রোডম্যাপে সই করেন, যেখানে চাবাহারকে অন্যতম প্রধান প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয় (Union Budget 2026)। দেশভাগের পর পাকিস্তান একটি শত্রু প্রতিবেশী হিসেবে আবির্ভূত হওয়ায় ইরান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের স্থলপথ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী প্রায় চার দশক ধরে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল, কারণ ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতি তখন অনেকটাই স্থবির হয়ে গিয়েছিল।

    ভারত ও ইরানের সহযোগিতা

    ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখল করার পর ভারত ও ইরানের সহযোগিতা আরও গভীর হয়। পাকিস্তান-সমর্থিত এই সুন্নি ইসলামি গোষ্ঠীর বিরোধিতা করে উভয় দেশই আহমদ শাহ মাসুদের নেতৃত্বাধীন নর্দান অ্যালায়েন্সকে সমর্থন করে। পাকিস্তানের কারণে আফগানিস্তানে স্থলপথে প্রবেশাধিকার না পাওয়ায় বিকল্প যোগাযোগপথ খোঁজা ভারতের কাছে ক্রমশ জরুরি হয়ে পড়ে। চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় পাকিস্তানে গ্বাদর বন্দর উন্নয়নের কাজ শুরু হওয়ার পর চাবাহারের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। নয়াদিল্লির চোখে চাবাহার শুধু অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যম নয়, বরং এই অঞ্চলে চিনের প্রভাব খর্ব করার একটি কৌশলগত হাতিয়ার (Chabahar Port)। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও চাবাহার বন্দরে ভারতের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ছ’মাসের ছাড় দেয়। সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২৬ এপ্রিল (Union Budget 2026)।

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের বক্তব্য

    গত মাসে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার ইস্যুতে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পরেই এই মন্তব্য ভেসে আসে। সেই প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লি নিজেদের বিকল্প পথ খতিয়ে দেখছে বলেও খবর। জয়সওয়াল বলেন, “আপনারা জানেন, ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি দফতর একটি চিঠির মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষ নিষেধাজ্ঞা ছাড় সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল, যার মেয়াদ ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত। এই ব্যবস্থাটি কার্যকর রাখতে আমরা আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছি।”

    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে চাবাহার প্রকল্পের জন্য দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ছাড় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেও পরে ভারতকে ছ’মাসের জন্য ছাড় দেয়। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ফের বাড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা (Chabahar Port) দেশগুলির ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার কথা ঘোষণা করেন (Union Budget 2026)।

     

  • Indian Pressure: চাবাহার বন্দর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল আমেরিকা, ভারতের চাপেই নতি স্বীকার!

    Indian Pressure: চাবাহার বন্দর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল আমেরিকা, ভারতের চাপেই নতি স্বীকার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ ভারতের চাপের (Indian Pressure) কাছে নতি স্বীকার করল ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা! তুলে নিল ইরানের কৌশলগত চাবাহার (Chabahar) বন্দরের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ পরিকল্পনার জন্য নয়াদিল্লির একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হল। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ভারতের একটি বড় কূটনৈতিক জয়। কারণ এই বন্দরের নির্মাণ ও পরিচালনায় ইতিমধ্যেই মোটা অঙ্কের লগ্নি করে ফেলেছে ভারত। বন্দরটি সম্পূর্ণভাবে রয়েছে ভারতের নিয়ন্ত্রণেই।

    নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার (Indian Pressure)

    ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত চাবাহার একটি গভীর সমুদ্রবন্দর। এটি পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারতকে সরাসরি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে। গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বন্দরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তার জেরে ভারত সাময়িকভাবে কাজকর্ম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। ভারত সব সময়ই দাবি করে এসেছে যে, চাবাহার বন্দর আফগানিস্তানের জন্য একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক জীবনরেখা। এটি খাদ্যশস্য, ওষুধ-সহ নানা জরুরি পণ্য পরিবহণে সাহায্য করে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থলবেষ্টিত দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এই বন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানা গিয়েছে, ভারতের লাগাতার কূটনৈতিক চাপের জেরে ওয়াশিংটন (আমেরিকার রাজধানী) এখন আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিয়েছে। এর ফলে চাবাহার বন্দরে ফের জোর কদমে কাজকর্ম শুরু করবে ভারত।

    আঞ্চলিক কৌশলের কেন্দ্রে চাবাহার

    চাবাহার বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আঞ্চলিক কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে (Indian Pressure)।  ২০১৮ সালে আমেরিকা প্রথমবারের মতো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তখন ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জেরে চাবাহার বন্দরের ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হয়নি। এই ছাড়ের ফলে নয়াদিল্লি তেহরানের সঙ্গে তার যোগাযোগ বজায় রাখতে পারে, পারে এই এলাকায় সংযোগমূলক প্রকল্পগুলিকে এগিয়ে নিতে যেতে (Chabahar)। ২০১৬ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তেহরান সফরের সময় ভারত–ইরান–আফগানিস্তান ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারত আরও বেশি করে মনোযোগ দেয়। এই চুক্তির উদ্দেশ্যই ছিল চাবাহারের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডর তৈরি করা, যা আফগানিস্তান এবং তার বাইরের বাজারগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াবে। ২০১৮ সালে ভারত ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেডে’র মাধ্যমে শাহিদ বেহেশতি টার্মিনালের কাজকর্মের দায়িত্ব নেয়। এর ফলে চাবাহারে ভারতের উপস্থিতি আরও মজবুত হয়। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের বাজেটে ভারত চাবাহার বন্দর সম্প্রসারণের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর এই বিনিয়োগ আপাতত নিরাপদ (Chabahar)।

    বড় পরিকল্পনা ভারতের

    চাবাহার বন্দরের পরিকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ নিয়ে বড় পরিকল্পনা করেছে ভারত। বর্তমানে এই বন্দরের পণ্য পরিচালন ক্ষমতা ১ লাখ টিইইউ (২০ ফুটের ইউনিট)। অর্থাৎ, ২০ ফুটের এক লক্ষ ইউনিট। একে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টিইইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। ইরানের ভিতর দিয়ে চলা ৭০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেললাইনও নির্মাণ করা হচ্ছে, যার ফলে উন্নত হবে আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া এবং রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ (Indian Pressure)। প্রসঙ্গত, বন্দর ও রেল দুটি প্রকল্পই ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়ার কথা। এটি ভারতের আঞ্চলিক বাণিজ্যিক প্রভাবকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

    চাবাহার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব

    ভারতের কাছে চাবাহার বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই বন্দর পাকিস্তানের চিন নিয়ন্ত্রিত গদর বন্দর থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে। চিন ও পাকিস্তান যেখানে চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডরের অধীনে গদরের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে, সেখানে ভারতের চাবাহার বন্দরের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সেই আধিপত্যকে ভারসাম্যপূর্ণ করে বলেও দাবি কূটনীতিবিদদের একাংশের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার জেরে এক সময় ভারতের আঞ্চলিক প্রভাব কিছুটা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে আরব সাগরের বুকে স্থিতিশীল ও প্রভাবশালী একটি শক্তি হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত হল ভারত (Indian Pressure)।

    ইসলামাবাদের উদ্বেগ

    এদিকে, সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বালুচিস্তানের পাশনি এলাকায় একটি নতুন বন্দর নির্মাণ করবেন বলে। চাবাহার থেকে এই এলাকার দূরত্ব মাত্র ১৫০ কিলোমিটার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ ভারতের পুনরুজ্জীবিত কৌশলগত সুবিধা নিয়ে ইসলামাবাদের উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এখনও পাকিস্তানের এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এ থেকে স্পষ্ট, ওয়াশিংটন ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ভূমিকা সম্পর্কে যথেষ্টই ওয়াকিবহাল (Chabahar)।

    প্রসঙ্গত, ট্রাম্প সরকারের এহেন সিদ্ধান্ত শুধু ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই সুরক্ষিত করে না, বরং ভারত মহাসাগর ও মধ্য এশিয়ার যোগাযোগপথে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে ভারতের অবস্থানকেও শক্তিশালী করে (Indian Pressure)।

LinkedIn
Share